Skip to main content

কলিঙ্গদেশে ঝড়-বৃষ্টি/মুকুন্দ চক্রবর্তী/নবম শ্রেণি

          দেবরাজ ইন্দ্র চার মেঘকে আদেশ করলেন যে কলিঙ্গদেশে গিয়ে ঝড়-বৃষ্টির মাধ্যমে তারা যেন ভয়ংকর প্রলয় কাণ্ড ঘটায়। দেবরাজ ইন্দ্রের কথামতো হলােও তাই। আকাশ ঘন মেঘে আচ্ছন্ন। অন্ধকারে কেউ নিজের শরীরও দেখতে পাচ্ছে না। ঘনঘন বিদ্যুৎ চমকাচ্ছে। অপরদিকে ঈশানে মেঘ উড়ছে। উত্তরদিকে মেঘ ডাকছে। কলিঙ্গদেশের আকাশে মেঘ উড়ে এসে উচ্চনাদে গর্জন শুরু করেছে। আসন্ন প্রলয়ের প্রমাদ গণে কলিঙ্গ প্রজারা বিষাদমগ্ন এবং সকলেই ভয়ে তটস্থ।

              আকাশজুড়ে দেবরাজ আদিষ্ট চারি মেঘের সম্মেলন ও বর্ষণ। হুড়হুড় দুড়দুড় শব্দে ঝড় বইছে। কলিঙ্গদেশের মানুষ বিপদ বুঝে ঘর ছেড়ে পালাচ্ছে। সবুজ ঘাস, গাছ ও মাঠের শস্য ধুলােয় ঢাকা পড়ছে। ঝড়ে উলটে-পড়া শস্য দেখে প্রজারা মর্মাহত হয়ে চমকে উঠছে। চারি মেঘের বাহক হয়ে আট দিগহস্তী জল বর্ষণ করছে। ব্যাং-এর মতন থেকে থেকে তােক করে লাফিয়ে লাফিয়ে বাজ পড়ছে। মেঘগর্জনে কেউ কারও কথা শুনতে পাচ্ছে না। বৃষ্টির বিরাম নেই। সাতদিন একনাগাড়ে অবিরাম বৃষ্টি ঝরছে। বৃষ্টির সঙ্গে ঝড়ের ও বজ্রপাতের আওয়াজ শোনা যায় হুড়হুড় দুড়দুড় ঝনঝনিয়ে। বৃষ্টির সঙ্গে শিলও পড়ছে ভাদ্র মাসের পাকা তালের মতাে বিশালাকার। ঘরের চাল ভেদ করে ঘরের মেঝেতে পড়ছে শিল।এমনি এক ভয়ানক অবস্থা কলিঙ্গদেশে নেমে এসেছে।

             এমনই ভয়ংকর দুর্যোগে দিন, রাত্রি, সন্ধ্যা সব যেন একাকার, আলাদা করে বােঝা যাচ্ছে না । কলিঙ্গের সকল বাসিন্দা বজ্রবারক জৈমিনি মুনির নাম স্মরণ করছে মুক্তি পাওয়ার আশায়। অবিরাম বর্ষণে জল ও স্থল বলে আলাদা কোনাে অস্তিত্বই নেই বা বোঝা যাচ্ছে না। সব একাকার। গর্ত জলের তলে চলে যাওয়ায় আশ্রয়হীন সাপ জলে ভেসে বেড়াচ্ছে। মাঠে চাষের কাজ বন্ধ। ঘরে জল ঢুকেছে। তা ছাড়া মা চণ্ডীর আদেশ পেয়ে হনুমান মঠ-অট্টালিকা ভেঙে খানখান করছে। চারিদিকে বিশাল পর্বতপ্রমাণ উঁচু ঢেউ উঠেছে। তাতে ডুবে যাওয়া ঘরগুলি দলিত-মথিত হচ্ছে। সেই সঙ্গে মহাপ্লাবনের বিপর্যয় নিয়ে ধেয়ে আসছে মা চণ্ডীর আদেশে নদনদী। শ্রীকবিকঙ্কণ মুকুন্দরাম চক্রবর্তী গাইছেন অম্বিকামঙ্গল গান

Comments

Popular posts from this blog

একটি সার্থক গীতিকাব্যের পরিচয়।

  একটি সার্থক গীতিকাব্যের পরিচয়-সারদা মঙ্গল               গীতিকাব্য হলো এক ধরনের কবিতা, যার মধ্যে দিয়ে ব্যক্তির আবেগ, অনুভূতি এবং অভিজ্ঞতাগুলিকে ছন্দ ওর সংগীতের মাধ্যমে প্রকাশ করা হয়। তবে এখানে কবিতাগুলি খুবই ছোট আকারের হয়, আর সেখানে কবির ব্যক্তিগত অনুভূতির গভীরতা ও আন্তরিকতা প্রকাশ পায়। আর এই প্রেক্ষিতে আমরা বলতে পারি গীতি কবিতার সংকলন হলো গীতিকাব্য। ব্যঞ্জনাময় ও সংহত ।  গীতিকাব্যের বৈশিষ্ট্য  গীতিকাব্যের কিছু প্রধান বৈশিষ্ট্য নিচে আলোচনা করা হলো: ১. ব্যক্তিগত অনুভূতি ও আবেগ প্রকাশ: এটি গীতিকাব্যের প্রধান বৈশিষ্ট্য। এখানে কবি নিজের ব্যক্তিগত অনুভূতি, প্রেম, বিরহ, আনন্দ বা বিষাদের কথা তুলে ধরেন। ২. সংক্ষিপ্ততা: গীতিকাব্য সাধারণত দীর্ঘ হয় না। অল্প কয়েকটি স্তবকের মধ্যে কবি তাঁর ভাবনা সম্পূর্ণভাবে প্রকাশ করেন। ৩. সুর ও ছন্দের প্রাধান্য: গীতিকাব্য মূলত সুর করে আবৃত্তি করার জন্য রচিত হয়। তাই এতে সুর ও ছন্দের প্রতি বিশেষ মনোযোগ দেওয়া হয়। ৪. আত্মগতভাব: গীতিকাব্যে বাইরের জগতের বর্ণনা না দিয়ে কবির নিজের মনের ভেতরের জগতের প্রতি মনোযোগ ...

চতুর্থ সেমিস্টার জেনারেল ইতিহাস ছোট প্রশ্ন ২০২১

 *১) সুজাউদ্দৌলা কে ছিলেন বা মুর্শিদকুলি খাঁর মৃত্যুর পর কে বাংলার নবাব হন?  উত্তর - সুজা উদ্দৌলা আয়ুধের সুবেদার নবাব ছিলেন। মুর্শিদকুলি খাঁর মৃত্যুর পর তার জামাতা বাংলার নবাব  হন ১৭৫৪-১৭৭৫ খ্রীস্টাব্দ পর্যন্ত। নবাব থাকাকালীন তিনি বক্সারের যুদ্ধ এবং পানিপথের তৃতীয় যুদ্ধে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেছিলেন। *২) কোন সালে রেগুলেটিং আইন জারি করা হয়েছিল? উত্তর - ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির দুর্নীতি দূরীকরণ, গঠন বিন্যাস ও নিয়ন্ত্রণের জন্য ব্রিটিশ সরকার ১৭৭৩ খ্রিস্টাব্দে রেগুলেটিং আইন প্রণয়ন করেন। আর সেই আইনে বলা হয় বাংলা বোম্বাই ও মাদ্রাজে ১ করে কাউন্সিল থাকবে। *৩) শ্রী রঙ্গপত্তমের সন্ধিতে স্বাক্ষরকারী কারা কারা ছিলেন ?কখন এই সন্ধিটি স্বাক্ষরিত হয়েছিল? উত্তর - তৃতীয় ইঙ্গ মহীশূর যুদ্ধের অবসান হয়েছিল শ্রীরঙ্গপত্তমের সন্ধির দ্বারা। আর এই সন্ধিতে ঠিক হয় টিপু সুলতান ইংরেজদের তিন কোটি টাকা এবং জামিন স্বরূপ তার দুই পুত্রকে দিতে বাধ্য হবেন। এছাড়া বিজিত অঞ্চল ইংরাজ, মারাঠা ও নিজামের মধ্যে বন্টিত হল। যে সন্ধির দুটি পক্ষ ছিল একদিকে ছিলেন টিপু সুলতান এবং অপরদিকে ছিলেন ইংরেজ। সময়কালটি ছি...

পঞ্চম সেমিস্টার ইতিহাস মাইনর সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর ।

পঞ্চম সেমিস্টার ইতিহাস মাইনর সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর  ১) শিল্প বিপ্লব কবে কোথায় প্রথম ঘটেছিল?         উত্তর - প্রথম শিল্প বিপ্লব শুরু হয়েছিল ইংল্যান্ডে (গ্রেট ব্রিটেন)। এটি প্রধানত অষ্টাদশ শতকের মাঝামাঝি সময়ে শুরু হয়ে প্রায় ১৭৬০ থেকে ১৮৪০ খ্রিস্টাব্দ-এর মধ্যে ঘটেছিল। ২) কৃষ্ণমৃত্যু কী?            • কৃষ্ণমৃত্যু (Black Death) হলো মানব ইতিহাসের এক ভয়াবহ মহামারি।এটি ছিল মূলত প্লেগ (Plague) রোগ, যা Yersinia pestis নামক ব্যাকটেরিয়ার কারণে সৃষ্টি হয়েছিল।এটি প্রধানত ১৩৪৬ থেকে ১৩৫৩ খ্রিস্টাব্দের মধ্যে ইউরোপ, এশিয়া (ইউরেশিয়া) এবং উত্তর আফ্রিকাজুড়ে ছড়িয়ে পড়েছিল। ৩) কে বলেছিলেন মানুষই সবকিছুর মানদণ্ড?        •এই বিখ্যাত উক্তিটি যিনি করেছিলেন তিনি হলেন প্রাচীন গ্রিসের একজন প্রখ্যাত দার্শনিক, যার নাম প্রোটাগোরাস (Protagoras)।তাঁর মূল বক্তব্যটি ছিল-"মানুষই সবকিছুর মানদণ্ড, যা আছে তারও, আর যা নেই তারও।” ৪) পেত্রাক কেন বিখ্যাত?         •পেত্রাক (Francesco Petrarca) ছিলেন ১৪ শতকের (১৩০৪-১৩৭৪) একজন ...