Skip to main content

Posts

  মাইকেল মধুসূদন দত্তের 'কৃষ্ণকুমারী' নাটকটি পশ্চিমবঙ্গ রাষ্ট্রীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের (WBSU) পঞ্চম সেমিস্টার বাংলা অনার্সের (DSE-1 পেপার) জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আপনার অনুরোধ অনুযায়ী, গত ৫ বছরের (২০১৯-২০২৩) উপলব্ধ প্রশ্নপত্র বিশ্লেষণ করে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নগুলি নিচে সাল অনুযায়ী সাজিয়ে দেওয়া হলো। উল্লেখ্য যে, সিবিসিএস (CBCS) পদ্ধতিতে প্রশ্নগুলো সাধারণত ১০ নম্বর (বিভাগ-ক) এবং ৫ নম্বরের (বিভাগ-খ) মানদণ্ডে আসে। ২০২৩ সাল  * ১০ নম্বরের প্রশ্ন:    * ট্র্যাজেডি হিসেবে 'কৃষ্ণকুমারী' নাটকের সার্থকতা বিচার করো।    * কৃষ্ণকুমারী নাটকের নামকরণের সার্থকতা আলোচনা করো।  * ৫ নম্বরের প্রশ্ন:    * কৃষ্ণকুমারী নাটকে 'মদনিকা' চরিত্রের গুরুত্ব সংক্ষেপে লেখো।    * "রাজপুত কুলের কলঙ্ক আমি"— উক্তিটির তাৎপর্য বিশ্লেষণ করো। ২০২২ সাল  * ১০ নম্বরের প্রশ্ন:    * 'কৃষ্ণকুমারী' নাটকের ঐতিহাসিকতা ও মৌলিকতা আলোচনা করো।    * নাটকের অন্যতম নারী চরিত্র অহল্যা দেবীর চরিত্র বৈশিষ্ট্য বিশ্লেষণ করো।  * ৫ নম্বরের প্রশ্ন:    * "এ কি ভ...
Recent posts

দেবী অন্নদা মঙ্গলকাব্যের এক ব্যতিক্রমী দেবচরিত্র আলোচনা করো।

দেবী অন্নদা মঙ্গলকাব্যের এক ব্যতিক্রমী দেবচরিত্র আলোচনা করো(পশ্চিমবঙ্গ রাষ্ট্রীয় বিশ্ববিদ্যালয়/কলিকাতা বিশ্ববিদ্যালয়,পঞ্চম সেমিস্টার বাংলা, মেজর সিলেবাস)।            আমি জানি যে,মধ্যযুগের বাংলা সাহিত্যে মঙ্গলকাব্য মূলত দেব মহিমা প্রচারের কাব্য। চণ্ডীমঙ্গল বা মনসামঙ্গলের দেবীরা সাধারণত উগ্র, প্রতিহিংসাপরায়ণ এবং নিজ পূজা প্রচারের জন্য মর্ত্যে ভক্তদের ওপর অবর্ণনীয় কষ্ট দিতে দ্বিধা করেন না।কিন্তু ভারতচন্দ্র রায়ের ‘অন্নদামঙ্গল’ কাব্যের প্রধানা দেবী অন্নদা এই গতানুগতিক ছক থেকে অনেকটাই আলাদা। অর্থাৎ-মঙ্গলকাব্যের গতানুগতিক দেবচরিত্রের তুলনায় দেবী অন্নদার স্বাতন্ত্র্য ও ব্যতিক্রমী বৈশিষ্ট্যময়ী।আর সেখানে-        • দেবী অন্নদা প্রতিহিংসার পরিবর্তে মাতৃরূপ ও করুণাময়ী। অন্যান্য মঙ্গলকাব্যে দেবী চণ্ডী বা মনসা ভয় দেখিয়ে পূজা আদায় করেন। ব্যাধ কালকেতু বা বণিক চাঁদ সদাগরকে দেবী পূজা দিতে বাধ্য করেছিলেন চরম লাঞ্ছনার মাধ্যমে। কিন্তু দেবী অন্নদা অনেক বেশি নমনীয় ও করুণাময়ী।তাঁর চরিত্রে প্রতিহিংসার চেয়ে বাৎসল্য ও মমতা বেশি প্রকট। তিনি কাউকে ধ্বংস করে নয়,...

বঙ্গভূমির প্রতি/মাইকেল মধুসূদন দত্ত।

১. রেখো মা, দাসেরে মনে"— এখানে 'দাস' বলতে কাকে বোঝানো হয়েছে? তিনি কেন নিজেকে 'দাস' বলেছেন?         উত্তরঃ আলোচ্য বঙ্গভূমির প্রতি কবিতায় 'দাস' বলতে স্বয়ং কবি মাইকেল মধুসূদন দত্তকে বোঝানো হয়েছে। তার কারণ-         কবি মধুসূদন দত্ত নিজেকে বঙ্গমাতার (দেশমাতার) একজন অনুগত ও নগণ্য সন্তান মনে করেছেন। তিনি একসময় পাশ্চাত্য সংস্কৃতির মোহে পড়ে নিজের দেশ ও ভাষাকে অবজ্ঞা করেছিলেন। সেই ভুলের অনুশোচনা থেকে এবং দেশমাতার প্রতি বিনয় ও ভক্তি প্রকাশ করতেই তিনি নিজেকে 'দাস' হিসেবে সম্বোধন করেছেন। ২. মক্ষিকাও গলে না গো পড়িলে অমৃত-হ্রদে"- পঙক্তিটির তাৎপর্য কী?         আলোচ্য পঙক্তিটির মাধ্যমে কবির আশাবাদ ফুটে উঠেছে। অমৃত পানে যেমন অমরত্ব লাভ করা যায়, তেমনি মা যদি তাঁর সন্তানকে ক্ষমা করে হৃদয়ে স্থান দেন, তবে সেই সন্তান ধন্য হয়ে যায়। কবির মতে, অমৃতের হ্রদে পড়লে সাধারণ মাছিও (মক্ষিকা) যেমন মরে না বা পচে যায় না, তেমনি বঙ্গমাতার স্নেহ-স্মৃতিতে স্থান পেলে তিনিও চিরকাল বেঁচে থাকবেন—তাঁর কোনো সৃষ্টিই ব্যর্থ হবে না। ৩.শ্যামা জন্মদে'- মা-কে কেন 'শ্যামা জন্মদ...

মনসামঙ্গল কাব্যে বেহুলা চরিত্র নির্মাণে বিপ্রদাস পিপলাই-এর কবি-ভাবনার পরিচয় দাও।

মনসামঙ্গল কাব্যে বেহুলা চরিত্র নির্মাণে বিপ্রদাস পিপলাই-এর কবি-ভাবনার পরিচয় দাও (পশ্চিমবঙ্গ রাষ্ট্রীয় বিশ্ববিদ্যালয় পঞ্চম সেমিস্টার বাংলা মেজর সিলেবাস)।           আমরা জানি যে,মধ্যযুগের বাংলা সাহিত্যের অন্যতম শ্রেষ্ঠ নারী চরিত্র হলো বেহুলা। বিপ্রদাস পিপলাই তাঁর 'মনসামঙ্গল' (১৪৯৫ খ্রি.) কাব্যে বেহুলা চরিত্রটিকে কেবল সতীত্বের প্রতীক হিসেবেই নয়, বরং অদম্য সাহস, বুদ্ধি এবং মানবিক দৃঢ়তার এক অনন্য বিগ্রহ হিসেবে নির্মাণ করেছেন। শুধু তাই নয় এই বেহুলা চরিত্রটি নির্মাণে কবি ভাবনার মৌলিকতার পরিচয় পাই।আর সেখানে আমরা দেখি-             বিপ্রদাসের বেহুলা প্রথাগত লাজুক বধূ নয়, বরং অত্যন্ত তেজস্বিনী। লখিন্দরের মৃত্যুর পর যখন সমাজ ও পরিজন তাঁকে 'মৃতের সাথে সহমরণ'-এর পরামর্শ দেয় অথবা বিধবা হিসেবে ঘরে থাকার কথা বলে, তখন বেহুলা সেই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেন। তিনি মৃত স্বামীকে নিয়ে ভেলায় ভেসে যাওয়ার যে দুঃসাহসিক সিদ্ধান্ত নেন, তা কবির বলিষ্ঠ জীবন-ভাবনারই বহিঃপ্রকাশ। শুধু তাই নয়-         বিপ্রদাস বেহুলার চরিত্রে অসামান্য বুদ্ধিম...

মনসামঙ্গল কাব্যে চাঁদ সদাগর চরিত্র নির্মাণে বিপ্রদাস পিপলাই-এর স্বাতন্ত্র্যতার পরিচয় দাও।

মনসামঙ্গল কাব্যে চাঁদ সদাগর চরিত্র নির্মাণে বিপ্রদাস পিপলাই-এর স্বাতন্ত্র্যতার পরিচয় দাও (পশ্চিমবঙ্গ রাষ্ট্রীয় বিশ্ববিদ্যালয়/ কলিকাতা বিশ্ববিদ্যালয় পঞ্চম সেমিস্টার বাংলা মেজর সিলেবাস)।            আলোচনার শুরুতেই আমরা বলে রাখি যে,বিপ্রদাস পিপলাই-এর ‘মনসামঙ্গল’ কাব্যে চাঁদ সদাগর চরিত্রটি এক অনন্য সৃষ্টি। কারণ বিজয়গুপ্ত বা মুকুন্দরামের চাঁদ সদাগরের তুলনায় বিপ্রদাসের চাঁদ চরিত্রটি স্বতন্ত্র পরিচয়বাহী।   মনসামঙ্গল কাব্যের কেন্দ্রীয় পুরুষ চরিত্র চাঁদ সদাগর পৌরুষ, আত্মমর্যাদা এবং শিবভক্তির এক মূর্ত প্রতীক। আসলে বিপ্রদাস পিপলাই (১৪৯৫ খ্রি.) তাঁর কাব্যে চাঁদ চরিত্রটিকে চিরাচরিত ছাঁচে ফেললেও কিছু নিজস্ব বৈশিষ্ট্যে উজ্জ্বল করে তুলেছেন। আর সেখানে আমরা দেখি-         • আপসহীন আভিজাত্য ও পৌরুষে পরিপূর্ণ চাঁদ সদাগর চরিত্রটি। আসলে বিপ্রদাসের চাঁদ কেবল একজন ব্যবসায়ী নন, তিনি আভিজাত্যের প্রতীক। মনসা যখন একের পর এক আঘাত হেনে তাঁর সাত পুত্র ও সপ্তডিঙা বিনাশ করছেন, তখনও চাঁদ নত হননি। বিপ্রদাস দেখিয়েছেন, চাঁদের এই লড়াই কেবল জেদ নয়, বরং উচ্...

ব্রিটিশ শাসনে ভারতবর্ষে প্রাশ্চ্যশিক্ষা ও পাশ্চাত্য শিক্ষা বিষয়ক দ্বন্দ্ব আলোচনা করো।

ব্রিটিশ শাসনে ভারতবর্ষে প্রাশ্চ্যশিক্ষা ও পাশ্চাত্য শিক্ষা বিষয়ক দ্বন্দ্ব আলোচনা করো (পশ্চিমবঙ্গ মধ্যশিক্ষা পর্ষদ দশম শ্রেণি ইতিহাস প্রথম সেমিস্টার দশম শ্রেণি)           আলোচনার শুরুতেই আমরা বলে রাখি যে,ঊনবিংশ শতাব্দীর শুরুতে ভারতে শিক্ষার মাধ্যম ও বিষয় নিয়ে যে বিবাদ দেখা দিয়েছিল, তা 'প্রাচ্যবাদী-পাশ্চাত্যবাদী দ্বন্দ্ব' নামে পরিচিত। ১৮১৩ সালের সনন্দ আইনে ভারতীয়দের শিক্ষার জন্য ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানিকে প্রতি বছর ১ লক্ষ টাকা ব্যয়ের নির্দেশ দেওয়া হয়। এই টাকা কোন ধরণের শিক্ষার জন্য খরচ হবে, তা নিয়ে জনশিক্ষা কমিটির সদস্যদের মধ্যে দুটি দল তৈরি হয়, যা দীর্ঘ দুই দশকের দ্বন্দ্বের জন্ম দেয়।আর সেখানে-       ১)প্রাচ্যবাদী  গোষ্ঠী র সদস্যরা মনে করতেন, ভারতের প্রাচীন ঐতিহ্যবাহী সংস্কৃত, আরবি ও ফারসি ভাষা এবং সাহিত্যের উন্নতিতে এই টাকা ব্যয় করা উচিত।যার সমর্থক ছিলেন এইচ. টি. প্রিন্সেপ, কোলব্রুক, উইলসন প্রমুখ।আর তাঁদের যুক্তি- তাঁরা মনে করতেন ভারতীয়দের নিজস্ব সংস্কৃতিতে শিক্ষিত করা হলে তারা ব্রিটিশ শাসনের প্রতি অনুগত থাকবে।        ২)পাশ্চ...

বিপ্রদাস পিপলাই-এর মনসামঙ্গল কাব্য অবলম্বনে সমাজ-ভাবনা ও সামাজিক অনুষঙ্গ আলোচনা করো।

বিপ্রদাস পিপলাই-এর মনসামঙ্গল কাব্য অবলম্বনে সমাজ-ভাবনা ও সামাজিক অনুষঙ্গ আলোচনা করো (পশ্চিমবঙ্গ রাষ্ট্রীয় বিশ্ববিদ্যালয় পঞ্চম সেমিস্টার বাংলা মেজর সিলেবাস)।            আলোচনার শুরুতেই আমরা বলে রাখি যে,পঞ্চদশ শতাব্দীর শেষভাগে (১৪৯৫ খ্রিষ্টাব্দ নাগাদ) বিপ্রদাস পিপলাই তাঁর 'মনসামঙ্গল' কাব্য রচনা করেন। লৌকিক দেবী মনসার প্রতিষ্ঠার আড়ালে এই কাব্যে তৎকালীন জলপথ-কেন্দ্রিক বাণিজ্য, হিন্দু-মুসলিম সম্পর্ক এবং বাঙালি সমাজের সাধারণ জীবনযাত্রার এক জীবন্ত দলিল ফুটে উঠেছে।আর সেখানে আমরা দেখি-           •মনসামঙ্গল কাব্যে বণিক সমাজ ও সমুদ্র বাণিজ্যের প্রভাব। বিপ্রদাসের কাব্যে চাঁদ সদাগরের যে বাণিজ্য যাত্রার বর্ণনা রয়েছে, তা তৎকালীন বাংলার সমৃদ্ধ নৌ-বাণিজ্যের পরিচয় দেয়। আর সেই পরিচয়ে দেখি সপ্তগ্রামের মাহাত্ম্য। বিপ্রদাস উত্তর ২৪ পরগনার বসিরহাট অঞ্চলের অধিবাসী ছিলেন। তাঁর কাব্যে তৎকালীন বাণিজ্যনগরী সপ্তগ্রাম ও গঙ্গার বিভিন্ন ঘাটের নিখুঁত বর্ণনা পাওয়া যায়। এছাড়াও  চণ্ডী বা মনসার নির্দেশে সপ্তরত্ন বা ডিঙা তৈরির বিস্তারিত বিবরণ থেকে সমকালীন...