' এ আমল সে আমল' রচনায় অবীন্দ্রনাথ ঠাকুর দুই কালের যে তুলনামূলক চিত্র এঁকেছেন তার পরিচয় দাও (পশ্চিমবঙ্গ রাষ্ট্রীয় বিশ্ববিদ্যালয় পঞ্চম সেমিস্টার বাংলা মেজর সিলেবাস) আলোচনার শুরুতেই আমরা বলে রাখি যে, অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুরের 'এ আমল সে আমল' স্মৃতিচারণমূলক প্রবন্ধটি মূলত পরিবর্তনের এক শিল্পরূপ। জোড়াসাঁকো ঠাকুরবাড়ির অন্দরমহলকে কেন্দ্র করে লেখক তাঁর শৈশবের 'সে আমল' এবং বর্তমানের 'এ আমল'-এর মধ্যে যে আমূল বিবর্তন দেখেছেন, তা এখানে ফুটে উঠেছে।আর সেই দুই কালের তুলনামূলক চিত্র নিম্নে আলোচনা করা হলো- • গৃহসজ্জা ও আসবাবপত্রের ক্ষেত্রে আমরা সে আমলে দেখি-সেকালে ঘর সাজানোর প্রধান উপকরণ ছিল শুভ্রতা ও সারল্য। লেখক জানিয়েছেন, তখন বসার ঘরে থাকত- " পুরু জাজিমের উপরে ধবধবে সাদা ফরাস পাতা, চার ধারে বড় বড় তাকিয়া।" আসবাব বলতে ছিল দু-চারটে মেহগনি কাঠের আলমারি। দেওয়ালে থাকত বিলিতি ঝাড়লণ্ঠন এবং রঙিন কাঁচের ঝাড়। আবার- এ আমলে দেখা যায়-বর্তমান সময়ে সেই খোলামেলা ভাব হা...
ইসলামিক শিক্ষায় ধর্মীয় ও জাগতিক বিদ্যার সমন্বয় ঘটেছে-আলোচনা করো পশ্চিমবঙ্গ রাষ্ট্রীয় বিশ্ববিদ্যালয় পঞ্চম সেমিস্টার এডুকেশন মাইনর সিলেবাস মধ্যযুগীয় ভারতের শিক্ষা ধারায় ধর্মীয় বিদ্যা (Manqulat) ও জাগতিক বা ইহলৌকিক বিদ্যার (Maqulat) সমন্বয় একটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বিষয়। যেখানে মধ্যযুগীয় ভারতে ইসলামিক শিক্ষা ব্যবস্থা কেবল ধর্মতত্ত্বের মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল না। সুলতানি এবং বিশেষ করে মুঘল সম্রাট আকবরের আমলে এই শিক্ষা ব্যবস্থায় ধর্মীয় আদর্শের পাশাপাশি বাস্তববাদী ও জাগতিক বিষয়গুলির এক চমৎকার সমন্বয় ঘটেছিল। ১. পাঠ্যক্রমের বিভাজন: 'মাকুলাত' ও 'মানকুলাত' ইসলামিক শিক্ষার পাঠ্যক্রমকে প্রধানত দুটি ভাগে ভাগ করা হয়েছিল: * মানকুলাত (ধর্মীয় বিদ্যা): এতে কুরআন শরিফ পাঠ, হাদিস, ইসলামি আইন (শারিয়ত) এবং সুফিবাদ অন্তর্ভুক্ত ছিল। এর লক্ষ্য ছিল আধ্যাত্মিক মুক্তি। * মাকুলাত (জাগতিক বিদ্যা): এতে যুক্তিশাস্ত্র, দর্শন, গণিত, বিজ্ঞান, ইতিহাস এবং চিকিৎসা বিজ্ঞান অন্তর্ভুক্ত ছিল। এর লক্ষ্য ছিল জাগতিক উন্নতি ও প্রশাসনিক দক্ষতা অর্জন। ২. প্রাথমিক স্তরে সমন্বয় (মক্তব) মক্তবগুলিতে শিশুদের কেবল কুরআন পা...