Skip to main content

Posts

১৮৫৭ সালের মহাবিদ্রোহের প্রকৃতি বা চরিত্র আলোচনা করো।

১ ৮৫৭ সালের মহাবিদ্রোহের প্রকৃতি বা চরিত্র আলোচনা করো। পশ্চিমবঙ্গ মধ্যশিক্ষা পর্ষদ দশম শ্রেণি দ্বিতীয় সেমিস্টার ইতিহাস।        ১৮৫৭ খ্রিস্টাব্দের মহাবিদ্রোহ ছিল আধুনিক ভারতের ইতিহাসের অন্যতম তাৎপর্যপূর্ণ ঘটনা। এই বিদ্রোহের চরিত্র বা প্রকৃতি নিয়ে ইতিহাসবিদ ও গবেষকদের মধ্যে তীব্র মতভেদ রয়েছে। কেউ এটিকে নিছক সিপাহি বিদ্রোহ বলেছেন, আবার কেউ এটিকে ভারতের প্রথম স্বাধীনতা সংগ্রাম হিসেবে ব্যাখ্যা করেছেন। আর সেখানে ১৮৫৭ সালের মহাবিদ্রোহের প্রকৃতি বা চরিত্র হলো-       • সিপাহি বিদ্রোহ। ব্রিটিশ ইতিহাসবিদ স্যার জন লরেন্স, চার্লস রেইকস, স্যার জন কে এবং ভারতীয় শিক্ষাবিদ ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত, কিশোরীচাঁদ মিত্র প্রমুখ এই বিদ্রোহকে ‘কেবলমাত্র সিপাহিদের অসন্তোষের বহিঃপ্রকাশ’বা ‘সিপাহি বিদ্রোহ’হিসেবে চিহ্নিত করেছেন।           এনফিল্ড রাইফেলের টোটো ব্যবহার কেন্দ্র করে বিদ্রোহের সূচনা হলেও, পরবর্তীতে এটি সিপাহিদের গণ্ডি ছাড়িয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ে। ফলে এটি শুধু সিপাহি বিদ্রোহের মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল না।      • সামন্ততান্ত্রিক প্র...
Recent posts

রাশিয়ার চিঠি।বলশেভিক অর্থনীতি অবলম্বনে আমার মত কি , একথা অনেকে আমায় জিজ্ঞাসা করে থাকেন। রাশিয়ার চিঠিতে এই প্রসঙ্গে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর যে মতামত ব্যক্ত করেছেন তা লেখো?

রাশিয়ার চিঠি।বলশেভিক অর্থনীতি অবলম্বনে আমার মত কি , একথা অনেকে আমায় জিজ্ঞাসা করে থাকেন। রাশিয়ার চিঠিতে এই প্রসঙ্গে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর যে মতামত ব্যক্ত করেছেন তা লেখো? পশ্চিমবঙ্গ রাষ্ট্রীয় বিশ্ববিদ্যালয় ষষ্ঠ সেমিস্টার বাংলা মেজর।        আলোচনা শুরুতেই আমরা বলতে পারি যে,রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর তাঁর 'রাশিয়া-র চিঠি'(১৯৩০) গ্রন্থে বলশেভিক বা সোভিয়েত অর্থনীতির নীতি, সফলতা ও সীমাবদ্ধতা নিয়ে অত্যন্ত গভীর, নিরপেক্ষ এবং বস্তুনিষ্ঠ মতামত প্রকাশ করেছেন। রাশিয়ার নবগঠিত সমাজতান্ত্রিক ব্যবস্থা দেখে তিনি যেমন অভিভূত হয়েছিলেন, তেমনই এর কিছু সম্ভাব্য বিপদ সম্পর্কেও সতর্ক করেছিলেন। সেখানে বলশেভিক অর্থনীতি সম্পর্কে রবীন্দ্রনাথের মূল বক্তব্য ও দৃষ্টিভঙ্গি হলো-      • শিক্ষাপ্রসার ও সর্বসাধারণের উন্নতি। রবীন্দ্রনাথ বলশেভিক অর্থনীতির সবচেয়ে বড় সাফল্য হিসেবে দেখেছেন সর্বসাধারণের সার্বিক উন্নতিকে। অল্প সময়ের মধ্যে বলশেভিক সরকার কীভাবে কোটি কোটি নিরক্ষর ও দরিদ্র মানুষকে শিক্ষিত ও সচেতন করে তুলেছে, তা দেখে তিনি বিস্ময় প্রকাশ করেছেন।তবে-         ইতিপূর্বে...

ছেলেবেলা।আমি জন্ম নিয়েছিলুম সেকেলে কলকাতায় - ছেলেবেলা গ্রন্থে অবলম্বনে সেকালের কলকাতার পরিচয় দাও।

ছেলেবেলা।আমি জন্ম নিয়েছিলুম সেকেলে কলকাতায় - ছেলেবেলা গ্রন্থে অবলম্বনে সেকালের কলকাতার পরিচয় দাও। পশ্চিমবঙ্গ রাষ্ট্রীয় বিশ্ববিদ্যালয় ষষ্ঠ শ্রেণির বাংলা মেজর।           আলোচনার শুরুতেই বলে রাখা ভালো যে,রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের 'ছেলেবেলা'গ্রন্থের একেবারে সূচনাতেই কবি লিখেছেন- "আমি জন্ম নিয়েছিলুম সেকেলে কলকাতায়।" তৎকালীন কলকাতার রূপ, মানুষের জীবনযাত্রা এবং পরিবেশ আজকের আধুনিক ও ব্যস্ত কলকাতার চেয়ে ছিল সম্পূর্ণ আলাদা। 'ছেলেবেলা' অনুসরণে সেই সেকালের কলকাতার এক বাস্তব ও মনোরম পরিচয় নিচে তুলে ধরা হলো। আর সেখানে আমরা দেখতে পাই-       • ধীরগতির যাতায়াত ও যানবাহন।  সেকালের কলকাতায় আজকের মতো তীব্র যানজট, হর্ন বা যান্ত্রিক কোলাহল ছিল না। যাতায়াতের প্রধান বাহন ছিল ঘোড়ার গাড়ি এবং পালকি।রাস্তায় খুব কমই ঘোড়ার গাড়ি চলত এবং সেগুলোর চাবুকের আওয়াজ ও ধুলো উড়িয়ে যাওয়া দূর থেকেই টের পাওয়া যেত।তবে-       বিত্তশালী বা সম্ভ্রান্ত ঘরের মহিলাদের পাশাপাশি পুরুষদের চলাচলের জন্যও পালকিব্যবহৃত হতো।রাস্তাঘাট ছিল কাঁচা বা ইট বিছানো, আর সেগুলোতে নিয়মিত ঝাঁট দ...

ছেলেবেলা।আমার জীবনে বাইরের খোলার ছাদ ছিল প্রধান ছুটির দেশ"- ছেলেবেলা অনুসরণে এই মুক্তির রাজ্যটিকে ঘিরে রবীন্দ্রনাথের বিচিত্র অভিজ্ঞতার পরিচয় দাও।

ছেলেবেলা। আমার জীবনে বাইরের খোলার ছাদ ছিল প্রধান ছুটির দেশ"- ছেলেবেলা অনুসরণে এই মুক্তির রাজ্যটিকে ঘিরে রবীন্দ্রনাথের বিচিত্র অভিজ্ঞতার পরিচয় দাও। পশ্চিমবঙ্গ   রাষ্ট্রীয় বিশ্ববিদ্যালয় ষষ্ঠ সেমিস্টার বাংলা মেজর।        আলোচনা শুরুতেই আমরা বলে রাখি যে,রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের আত্মজীবনীমূলক গ্রন্থ 'ছেলেবেলা'-তে তাঁর শৈশবের নানা স্মৃতির মধ্যে জোড়াসাঁকোর বাড়ির ছাদটি ছিল অন্যতম প্রধান আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দু। তৎকালীন রক্ষণশীল ও কড়া পাহারা ঘেরা গৃহবন্দি জীবনে এই ছাদই ছিল তাঁর প্রধান "ছুটির দেশ" ও অবাধ মুক্তির রাজ্য।আর এই ছাদকে ঘিরে রবীন্দ্রনাথের বিচিত্র অভিজ্ঞতা, আর সেই অভিজ্ঞতা নিম্ন সূত্রাকারে আমরা বলতে পারি-        • মুক্তির রাজ্য ও বাইরের জগৎ। জোড়াসাঁকোর ঠাকুরবাড়িতে শিশুদের ওপর কাজের লোকদের (বিশেষ করে ভৃত্য শ্যামের) কড়া শাসন ছিল। ঘরের বাইরের জগতে সহজে যাওয়ার অনুমতি তাদের ছিল না। এই গৃহবন্দি জীবন থেকে রেহাই পাওয়ার একমাত্র উপায় ছিল এই ছাদ। ছাদে পা দেওয়া মাত্রই বালক রবি এক পরম স্বাধীনতার স্বাদ পেতেন। ওপর থেকে দেখা খোলা আকাশ, আশপাশের বাড়ির ...

প্রথম সেমিস্টার ইতিহাস

 পশ্চিমবঙ্গ রাষ্ট্রীয় বিশ্ববিদ্যালয় (WBSU) সহ পশ্চিমবঙ্গের অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ের (যেমন—CU, JU, BU, KNU ইত্যাদি) ইতিহাস মাইনর ও মেজর/অ নার্স প্রথম সেমিস্টারের সিলেবাস অনুযায়ী বৈদিক যুগ থেকে পরীক্ষা-সংক্রান্ত প্রশ্নাবলী নিচে সাজিয়ে দেওয়া হলো। সাধারণত ৩টি ক্যাটাগরিতে প্রশ্ন আসে: **১২ নম্বরের বড় প্রশ্ন (Long Question)**, **৬ নম্বরের মাঝারি প্রশ্ন (Semi-Long/Short Note)** এবং **২ নম্বরের সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন (Short Question)**। ## ১. দীর্ঘ উত্তরভিত্তিক প্রশ্ন (Marks: 12) > *এগুলি পরীক্ষার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন।* >   1. **ঋগ্বৈদিক ও পরবর্তী বৈদিক যুগের সমাজ ব্যবস্থার একটি তুলনামূলক আলোচনা কর।** *(সবচেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ)*  2. **বৈদিক যুগের রাজনৈতিক সংগঠন ও শাসনব্যবস্থার বিবর্তন আলোচনা কর।** *(রাজা, সভা ও সমিতির ভূমিকা সহ)*  3. **ঋগ্বৈদিক ও পরবর্তী বৈদিক যুগের অর্থনৈতিক জীবনের তুলনামূলক চিত্র তুলে ধর।** *(কৃষি, পশুপালন ও ব্যবসার রূপান্তর)*  4. **বৈদিক যুগের ধর্মীয় ভাবনা ও দেব-দেবীর রূপান্তরের ইতিহাস আলোচনা কর।** ## ২. মাঝারি উত্তরভিত্তিক প্রশ্ন ...

বৈদিক যুগের সমাজ ব্যবস্থা আলোচনা করো।

বৈদিক যুগের সমাজ ব্যবস্থা আলোচনা করো।পশ্চিমবঙ্গ রাষ্ট্রীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের (WBSU) প্রথম সেমিস্টার ইতিহাস মাইনর (History Minor )।          আলোচনা শুরুতেই আমরা বলে রাখি যে,ইতিহাসে বৈদিক যুগকে মূলত দুটি ভাগে ভাগ করে আলোচনা করা হয়- ১)ঋগ্বৈদিক বা আদি বৈদিক যুগঃ(আনুমানিক ১৫০০ - ১০০০ খ্রিষ্টপূর্বাব্দ) ২)পরবর্তী বৈদিক যুগঃ (আনুমানিক ১০০০ - ৬০০ খ্রিষ্টপূর্বাব্দ)      •পারিবারিক কাঠামোঃবৈদিক সমাজে পরিবারের ভূমিকা ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বৈদিক সমাজ ছিল মূলত পিতৃতান্ত্রিক। পরিবারের জ্যেষ্ঠ পুরুষ সদস্যকে ‘গৃহপতি’বা‘কুলপ’ বলা হতো। পরিবারের ওপর তাঁর পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ ছিল।       একান্নবর্তী পরিবারঃপিতা, মাতা, সন্তান, ভাই-বোন সকলে মিলে একসাথে বসবাস করত। সমাজ ব্যবস্থার সর্বনিম্নে ছিল পরিবার (কুল) এবং একাধিক পরিবার নিয়ে গঠিত হতো গ্রাম।       •বর্ণপ্রথা ও শ্রেণীবিভাগঃবৈদিক সমাজের অন্যতম প্রধান বৈশিষ্ট্য ছিল বর্ণপ্রথার বিকাশ-         •আদি বৈদিক যুগঃঋগ্বৈদিক যুগে সমাজ ছিল অপেক্ষাকৃত মুক্ত ও উদার। গায়ের রঙ বা বর্ণের ...
 পশ্চিমবঙ্গ রাষ্ট্রীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের (WBSU) ৫ নম্বরের প্রশ্নের ধাঁচ অনুযায়ী, **‘সজারুর কাঁটা’** উপন্যাস থেকে লাইন তুলে (ব্যাখ্যামূলক / প্রসঙ্গ নির্দেশক) কিছু অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সম্ভাব্য প্রশ্ন নিচে দেওয়া হলো: ## 📌 লাইন তুলে ৫ নম্বরের সম্ভাব্য প্রশ্নাবলী ### ১. *"সংসার জিনিসটা কেবল হৃদয়ের আদান-প্রদান নয়, আরো অনেক কিছু।"*  * **(ক)** মন্তব্যটি কার এবং কাকে উদ্দেশ্য করে বলা?  * **(খ)** উক্তিটির প্রেক্ষাপট ব্যাখ্যা করো এবং বক্তার এই মন্তব্যের মধ্য দিয়ে কোন বাস্তব অভিজ্ঞতা ফুটে উঠেছে তা আলোচনা করো। ### ২. *"আজ আমার সত্যই ভয় হচ্ছে ব্যোমকেশ, কোন অনর্থ না ঘটে।"*  * **(গ)** উক্তিটি কার? 'অনর্থ' বলতে বক্তা কিসের ইঙ্গিত দিয়েছেন?  * **(ঘ)** কেন বক্তার মনে এই ভয়ের সঞ্চার হয়েছিল? সংক্ষেপে বুঝিয়ে লেখো। ### ৩. *"সজারুর কাঁটা একটা যন্ত্র মাত্র, আসল ঘাতক অন্য কেউ।"*  * **(ক)** বক্তব্যটি কার?  * **(খ)** 'সজারুর কাঁটা' কীভাবে হত্যার হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছিল এবং বক্তা কেন একে কেবল ‘যন্ত্র’ হিসেবে দেখছেন তা বুঝিয়ে দাও। ### ৪. *"কিন্তু দীপা যদ...