Skip to main content

Posts

রামরাজ্য

  রামরাজ্য মহাত্মা গান্ধীর 'রামরাজ্য' কোনো ধর্মীয় গোঁড়ামি বা নির্দিষ্ট কোনো দেবতার শাসন নয়, বরং এটি ছিল তাঁর একটি আদর্শ সমাজ ও রাষ্ট্রের রাজনৈতিক দর্শন। তাঁর দৃষ্টিতে রামরাজ্য মানে হলো ' জনগণের সার্বভৌমত্ব' যেখানে নৈতিকতা ও ন্যায়ের শাসন প্রতিষ্ঠিত থাকবে। নিচে গান্ধীর রামরাজ্যের মূল বৈশিষ্ট্যগুলো সংক্ষেপে আলোচনা করা হলো: ১. নৈতিক ও আদর্শ রাষ্ট্র গান্ধীজির কাছে রামরাজ্য ছিল একটি ' আদর্শ গণতন্ত্র'। যেখানে রাজা বা শাসক জনগণের সেবক হিসেবে কাজ করবেন। এখানে 'রাম' মানে দশরথ পুত্র রাম নয়, বরং রাম বলতে তিনি বুঝিয়েছেন অন্তরাত্মার বিবেক বা ঈশ্বরকে। তাঁর মতে, যে শাসনব্যবস্থায় সত্য ও অহিংসা প্রধান ভিত্তি, সেটাই রামরাজ্য। ২. বিকেন্দ্রীকরণ ও গ্রাম স্বরাজ গান্ধীজি বিশ্বাস করতেন যে সত্যিকারের ভারত তার গ্রামগুলোতে বাস করে। তাই রামরাজ্যের মূলে ছিল 'গ্রাম স্বরাজ'।  * প্রতিটি গ্রাম হবে স্বয়ংসম্পূর্ণ এবং স্বশাসিত।  * ক্ষমতা কোনো নির্দিষ্ট কেন্দ্রে কুক্ষিগত না থেকে পঞ্চায়েতি ব্যবস্থার মাধ্যমে সাধারণ মানুষের হাতে থাকবে। ৩. সামাজিক সাম্য ও অন্ত্যোদয় রামরাজ্যে উঁচু-নিচু, ...
Recent posts

ইতিহাস মাইনর প্রথম সেমিস্টার সাজেশন ২০২৬

  বিভাগ-খ,যেকোনো ২টি প্রশ্নের উত্তর দাও ৫×২=১০ ** * ক্ষুদ্রাশ্মীয় আয়ুধের উপর একটি সংক্ষিপ্ত টীকা লেখ  *** হরপ্পা বাসীদের ধর্মীয় জীবনের উপর মন্তব্য করো/ হরপ্পা সভ্যতার বিস্তৃতি *** জৈন ও বৌদ্ধধর্মের পার্থক্য লেখো। *** ঋক বৈদিক যুগের সমাজব্যবস্থা নিয়ে সংক্ষিপ্ত প্রবন্ধ লেখো/ ঋক বৈদিক যুগে নারীদের অবস্থা কেমন ছিল /  *** বৈদিক যুগের বর্ণ ব্যবস্থার ওপর একটি সংক্ষিপ্ত টীকা লেখ *** মৌর্য যুগের গুপ্তচর ব্যবস্থা সম্পর্কে একটি টীকা লেখ।  *** অশোকের ধম্মের মূল নীতিগুলি কি ছিল  ** কলিঙ্গ যুদ্ধের ঐতিহাসিক গুরুত্ব লেখো  ** ষোড়শ মহাজনপাদ সম্পর্কে একটি সংক্ষিপ্ত টীকা লেখ *সাতবাহনদের উৎপত্তি সম্পর্কে তুমি কী জানো? *চন্দ্রগুপ্ত মোর্য কে ছিলেন? বিভাগ -গ, যেকোনো দুটি প্রশ্নের উত্তর দাও  ১০×২=২০ *** ৭) প্রাচীন ভারতের ইতিহাস রচনার উপাদান হিসেবে লিপি ও মুদ্রার গুরুত্ব আলোচনা কর   *** হরপ্পা সভ্যতা কতটা নগরাশ্রয়ী ছিল?  আর্যদের আদি বাসস্থান নির্ণয়ের সমস্যাটি পর্যালোচনা কর  *** প্রাচীন ভারতে প্রতিবাদীর ধর্ম আন্দোলন গড়ে ওঠার সামাজিক অর্থনৈতিক ও ধর্মী...

ইতিহাস মাইনর প্রথম সেমিস্টার প্রশ্নাবলী

 ২০২৪ বিভাগ-ক  উত্তর পশ্চিম ভারতের দুটি গুরুত্বপূর্ণ নব্য প্রস্তরযুগীয় প্রত্নক্ষেত্রের নাম উল্লেখ করো   হরপ্পা সভ্যতার সমকালীন দুটি অ-ভারতীয় সভ্যতার নাম করো।  মঞ্জোদারোর বৃহৎ স্নানাগারের গুরুত্ব কি?  রামায়ণ ও মহাভারত এই দুই মহাকাব্যের ঐতিহাসিক গুরুত্ব কি?  ঋক বৈদিক যুগে সভ্য ও সমিতি বলতে কী বোঝো?  ত্রিরত্ন কি?  কতজন জৈন তীর্থঙ্করের উল্লেখ পাওয়া যায়? শেষ দুজন তীর্থঙ্করের নাম লেখো।  অর্থশাস্ত্র এর রচয়িতা কে?এর মূল বিষয়বস্তু কী?  বিন্দুসার কে ছিলেন?  মৌর্য যুগে মহা ধর্ম মহামাত্রদের কাজ কি ছিলো?  কে এবং কখন মৌর্য বংশের পতন ঘটান? শেষ মৌর্য সম্রাট কে ছিলেন?  খ্রিস্টীয় প্রথম শতকে আবিষ্কৃত কোন প্রাকৃতিক ঘটনা, ভারত-রোম সামুদ্রিক বাণিজ্যের বৃদ্ধিতে সাহায্য করেছিল?  কুষান বংশের সর্বশ্রেষ্ঠ শাসক কে ছিলেন? তার রাজধানী কোথায় ছিল? কে কখন শক যুগের সূচনা করেছিলেন? কে নাসিক প্রশস্তি রচনা করেন এবং কেন?  ২০২৩   ভারতবর্ষের দুটি প্রত্ন ক্ষেত্রের নাম কর যেখান থেকে পুরাপ্রস্তর যুগের প্রস্তরচিত্র পাওয়া গেছে।  হরপ...

ঝুমুর দল ও ঝুমুর গান এই উপন্যাসে আঞ্চলিক এই শিল্পধারাগুলো কেবল বিনোদনের মাধ্যম নয়, বরং কাহিনির চালিকাশক্তি- আলোচনা করো

ঝুমুর দল ও ঝুমুর গান এই উপন্যাসে আঞ্চলিক এই শিল্পধারাগুলো কেবল বিনোদনের মাধ্যম নয়, বরং কাহিনির চালিকাশক্তি- আলোচনা করো পশ্চিমবঙ্গ রাষ্ট্রীয় বিশ্ববিদ্যালয় ষষ্ঠ সেমিস্টার বাংলা মেজর।            আলোচনা শুরুতেই আমরা বলে রাখি যে,তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়ের 'কবি' উপন্যাসে ঝুমুর দল ও ঝুমুর গান কোনো অলঙ্কার মাত্র নয়; বরং এটি উপন্যাসের মূল ঘটনার বুনন, চরিত্রের রূপান্তর এবং জীবনদর্শনের প্রধান চালিকাশক্তি। বীরভূমের রুক্ষ লাল মাটির সংস্কৃতির সাথে মিশে থাকা এই লোকশিল্পটি কীভাবে কাহিনিকে গতিদান করেছে। আর সেই গতিদানে আমরা লক্ষ্য করি যে-      ঝুমুর দল হলো নিম্নবর্গের জীবন সংগ্রামের দর্পণ ইতিহাস।উপন্যাসের শুরুতেই আমরা দেখি-নিতাই তার চোর-ডাকাতের বংশীয় পরিচয় মুছে ফেলে একজন 'কবি' হতে চায়। তার এই শিল্পীসত্তার উত্তরণ ঘটে ঝুমুর দলের সংস্পর্শে আসার মাধ্যমে। ঝুমুর দলগুলো তৎকালীন বীরভূমের প্রান্তিক মানুষের এক বিচিত্র জীবিকা ছিল। তারা মেলায় মেলায় ঘুরে গান গেয়ে বেড়াত। এই দলগুলোর যাযাবর জীবন এবং তাদের ভেতরের নৈতিক ও সামাজিক সংকট নিতাইয়ের জীবনের মোড় ঘুরিয়ে দেয়। ঝুমুর দ...

সমাজ ও সভ্যতার সংজ্ঞা দাও। সমাজ ও সভ্যতার মধ্যে পার্থক্য লেখো।

সমাজ ও সভ্যতার সংজ্ঞা দাও। সমাজ ও সভ্যতার মধ্যে পার্থক্য লেখো। পশ্চিমবঙ্গ রাষ্ট্রীয় বিশ্ববিদ্যালয় ষষ্ঠ সেমিস্টার দর্শন মাইনর  সমাজঃসাধারণ অর্থে 'সমাজ' বলতে একদল মানুষের সমষ্টিকে বোঝায় যারা নির্দিষ্ট উদ্দেশ্য সাধনের জন্য একত্রিত হয়। সমাজবিজ্ঞানী ম্যাকাইভার ও পেজ (MacIver and Page) -এর মতে- ​" সমাজ হলো সামাজিক সম্পর্কের একটি জাল" (Society is the web of social relationships )।"           অর্থাৎ, যখন একাধিক ব্যক্তি পারস্পরিক ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়া এবং সম্পর্কের ভিত্তিতে একটি সুসংগঠিত কাঠামো গড়ে তোলে, তাকেই সমাজ বলে। সমাজের মূল ভিত্তি হলো চেতনা এবং সহযোগিতা। ​২. সম্প্রদায়ঃ সম্প্রদায় হলো সমাজের একটি নির্দিষ্ট অংশ যেখানে মানুষ একটি নির্দিষ্ট ভৌগোলিক এলাকায় বসবাস করে এবং তাদের মধ্যে এক গভীর একাত্মবোধ বা 'আমরা-বোধ' (We-feeling) কাজ করে।সমাজবিজ্ঞানী বোগার্ডাস (Bogardus) -এর মতে- ​" সম্প্রদায় হলো এমন একটি সামাজিক গোষ্ঠী যেখানে কিছুটা হলেও 'আমরা-বোধ' কাজ করে এবং যারা একটি নির্দিষ্ট স্থানে বসবাস করে।" • সমাজ ও সভ্যতার পার্থক্য• ১. নির্দিষ্ট ...

রাঢ়ী উপভাষা কি? রাঢ়ী উপভাষা প্রচলিত অঞ্চল গুলির নাম লেখো।এই উপভাষার রূপতাত্ত্বিক এবং ধ্বনিতাত্ত্বিক বৈশিষ্ট্য গুলি আলোচনা করো

রাঢ়ী উপভাষা কি? রাঢ়ী উপভাষা প্রচলিত অঞ্চল গুলির নাম লেখো।এই উপভাষার রূপতাত্ত্বিক এবং ধ্বনিতাত্ত্বিক বৈশিষ্ট্য গুলি আলোচনা করো (পশ্চিমবঙ্গ রাষ্ট্র বিশ্ববিদ্যালয় চতুর্থ সেমিস্টার বাংলা মেজর  রাঢ়ী উপভাষাঃ পশ্চিমবঙ্গের মধ্য-ভাগ বা প্রাচীন রাঢ় অঞ্চলের উপভাষাই হলো রাঢ়ী উপভাষা। এই উপভাষার মার্জিত রূপটিই বর্তমানে আমাদের 'মান্য চলিত বাংলা' হিসেবে স্বীকৃত।প্রাচীন ‘রাঢ়’ অঞ্চল (অধুনা পশ্চিমবঙ্গের দক্ষিণ-পশ্চিম অংশ) থেকে এই উপভাষার নামকরণ হয়েছে।আর সেখানে-      • প্রচলিত অঞ্চল এই উপভাষাটি মূলত পশ্চিমবঙ্গের নিম্নলিখিত জেলাগুলিতে প্রচলিত। প্রচলিত সেই অঞ্চল গুলি হল-কলকাতা, উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগণা।•হাওড়া, হুগলি, নদিয়া ও মুর্শিদাবাদ।•পূর্ব বর্ধমান এবং বাঁকুড়া ও বীরভূম জেলার পূর্বাংশ। • রাঢ়ী উপভাষার সীমা নির্ধারণ • রাঢ়ী উপভাষার চতুর্দিকের সীমানা বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়- ​ উত্তরেঃ বরেন্দ্রী উপভাষার সীমানা (মালদহ ও দক্ষিণ দিনাজপুরের কিছু অংশ)। ​ দক্ষিণেঃ বঙ্গোপসাগর এবং উড়িষ্যা সংলগ্ন মেদিনীপুরের কিছু অংশ (যেখানে ঝাড়খণ্ডী ও রাঢ়ীর মিশ্রণ লক্ষ্য করা যায়)। ​পূর্বেঃ বঙ্গীয় বা...
 WBSU ১ম সেমিস্টার: চার্বাক দর্শন (২ নম্বরের প্রশ্ন-উত্তর) ​• ঋণ কাকে বলে? ঋণ কয় প্রকার ও কি কি? • ভারতীয় দর্শনের স্বীকৃত পঞ্চকোষসমূহের নাম লেখো। • চার্বাক দর্শনে ভূত কয়টি ও কি কি? ১. চার্বাক মতে 'প্রমাণ' কয়টি ও কী কী? উত্তর: চার্বাক মতে প্রমাণ একটিই, তা হলো প্রত্যক্ষ। চার্বাকরা প্রত্যক্ষ ছাড়া অন্য কোনো প্রমাণ (যেমন— অনুমান, শব্দ বা উপমান) স্বীকার করেন না। ​২. চার্বাকরা কেন 'আকাশ' বা 'ব্যোম'-কে স্বীকার করেন না? উত্তর: চার্বাকরা কেবল সেই বস্তুগুলোকেই স্বীকার করেন যা প্রত্যক্ষ করা যায়। আকাশ বা ব্যোম প্রত্যক্ষযোগ্য নয় (অপ্রতক্ষ্য), তাই চার্বাক মতে এটি মৌলিক ভূত পদার্থ নয়। ​৩. চার্বাক দর্শনের অপর নাম 'লোকায়ত দর্শন' কেন? উত্তর: 'লোকেষু আয়ত' অর্থাৎ সাধারণ মানুষের মধ্যে এই দর্শনের ব্যাপক প্রচার ছিল। সাধারণ মানুষ ইহজাগতিক সুখ ও ভোগবাদে বিশ্বাসী বলে এই দর্শনকে লোকায়ত দর্শন বলা হয়। ​৪ . 'ভূচৈতন্যবাদ' বা 'দেহাত্মবাদ' বলতে কী বোঝায়? উত্তর: চার্বাক মতে, চৈতন্য হলো দেহের ধর্ম। ক্ষিতি, অপ, তেজ ও মরুৎ—এই চার ভূতের মিলনে দেহে চৈতন্যের উদয় ...