Skip to main content

Posts

 শিক্ষার্থীদের বোঝার সুবিধার্থে এবং পরীক্ষায় সর্বোচ্চ নম্বর পাওয়ার উপযোগী করে দুটি প্রশ্নের উত্তরই আরও বিস্তারিত এবং গভীর ভাবার্থসহ নিচে উপস্থাপন করা হলো। ## ১. ‘কাবুলিওয়ালা’ গল্প অবলম্বনে প্রশ্নের উত্তর ### উক্তিটির উৎস ও বক্তা: বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের অন্যতম শ্রেষ্ঠ ও মানবিক রসাত্মক ছোটগল্প ‘কাবুলিওয়ালা’। আলোচ্য উক্তিটি এই গল্পের মূল চরিত্র **রহমত কাবুলিওয়ালা**র। দীর্ঘ কারাবাসের পর মুক্তি পেয়ে রহমত যখন মিনির বিয়ের দিন তার সাথে দেখা করতে আসে, তখন মিনির বাবা তাকে কিছু টাকা দিতে চান। সেই মুহূর্তে এক পরম আত্মমর্যাদা ও অপত্য স্নেহে আপ্লুত হয়ে রহমত এই চিরন্তন উক্তিটি করেছিল। ### বক্তার চরিত্রে পিতৃসত্তার বিস্তারিত পরিচয়: রবীন্দ্রনাথ এই গল্পে দেখিয়েছেন যে, মানুষের ভেতরের পিতৃত্ব কোনো ভৌগোলিক সীমানা, ভাষা বা সংস্কৃতির বেড়াজালে আটকে থাকে না। রহমতের এই একটিমাত্র উক্তির গভীরে যে পিতৃসত্তার রূপ লুকিয়ে আছে, তা নিচে কয়েকটি পয়েন্টে বিস্তারিত আলোচনা করা হলো:  * **ব্যবসায়িক সম্পর্কের রূপান্তর ও নিঃস্বার্থ স্নেহ:** রহমত আফগানিস্তানের কাবুলের এক পাহাড়িয়া অঞ্চলের মানুষ। কলকাতায় সে এসেছিল ম...
Recent posts

আখ্যান কাব্য কাকে বলে? আখ্যান কাব্যের বৈশিষ্ট্য লেখো। একটি সার্থক আখ্যান কাব্যের পরিচয় দাও।

আখ্যান কাব্য কাকে বলে? আখ্যান কাব্যের বৈশিষ্ট্য লেখো। একটি সার্থক আখ্যান কাব্যের পরিচয় দাও। পশ্চিমবঙ্গ রাষ্ট্রীয় বিশ্ববিদ্যালয় চতুর্থ সেমিস্টার বাংলা মেজর।      • আখ্যান কাব্যঃ যে কাব্যে কোনো পৌরাণিক, ঐতিহাসিক, কাল্পনিক বা সামাজিক গল্প বা কাহিনীকে পদ্যের (কবিতার) ছন্দে ও সুরে ব্যক্ত করা হয়, তাকে আখ্যান কাব্য বলা হয়। সরল কথায়, এটি হলো কবিতায় লেখা গল্প। এখানে গীতিকবিতার মতো কবির ব্যক্তিগত আবেগ-অনুভূতির চেয়ে কাহিনীর গতিময়তা ও চরিত্রের কর্মকাণ্ডই প্রধান হয়ে ওঠে। ​   • আখ্যান কাব্যের বৈশিষ্ট্য ​     ১) আখ্যান কাব্য হলো কাহিনী-প্রধান। আখ্যান কাব্যের মূল ভিত্তিই হলো একটি সুসংবদ্ধ গল্প বা কাহিনী। শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত একটি নির্দিষ্ট কাহিনীর ধারা বজায় থাকে।      ২) ​চরিত্র সৃষ্টি।কাহিনীর প্রয়োজনে এতে বিভিন্ন চরিত্রের আগমন ঘটে। চরিত্রগুলোর সংলাপ, দ্বন্দ্ব ও আচরণের মধ্য দিয়ে গল্পটি এগিয়ে যায়। ​      ৩) বস্তুনিষ্ঠতা।এখানে কবির নিজস্ব সুখ-দুঃখের চেয়ে চরিত্রের জীবনের ঘটনাপ্রবাহ বেশি গুরুত্ব পায়। কবি নিজে আড়ালে থেকে গল্পটি...
‘চৈতন্যভাগবত’ ও ‘শ্রীচৈতন্যচরিতামৃত’ কাব্যের তুলনামূলক আলোচনা করো।পশ্চিমবঙ্গ রাষ্ট্রীয় বিশ্ববিদ্যালয়, প্রথম সেমিস্টার বাংলা মেজর, ইউনিট৪।        বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে শ্রীচৈতন্যদেবের জীবনী নিয়ে একাধিক কাব্য রচিত হলেও বৃন্দাবন দাসের ‘চৈতন্যভাগবত’ এবং কৃষ্ণদাস কবিরাজের ‘শ্রীচৈতন্যচরিতামৃত’ অনন্যসাধারণ খ্যাতির অধিকারী। এই দুটি গ্রন্থ কেবল দুটি ভিন্ন কবির রচনা নয়, বরং চৈতন্যজীবনী রচনার দুটি ভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গি ও যুগের প্রতিনিধি। কৃষ্ণদাস কবিরাজ স্বয়ং বৃন্দাবন দাসের কাব্যকে ভিত্তি করে নিজের লেখনী ধারণ করলেও, দুটি কাব্যের রচনাশৈলী, বিষয়বস্তু এবং লক্ষ্যের মধ্যে গভীর পার্থক্য ও নিজস্বতা রয়েছে। আর সেখানে আমরা দেখি-  ১) যুগের পার্থক্য এবং রচনার প্রেক্ষাপট।চৈতন্যভাগবত (১৬শ শতাব্দী)শ্রীচৈতন্যদেবের তিরোধানের মাত্র কয়েক দশকের মধ্যে রচিত হয়েছিল। তখনো চৈতন্য-পরিকরদের অনেকেই জীবিত ছিলেন। ফলে এই কাব্যে চৈতন্যদেবের সমসাময়িক জীবনের আবেগ, উত্তেজনা এবং প্রত্যক্ষ অভিজ্ঞতার ছোঁয়া অনেক বেশি সতেজ।কিন্তু-        শ্রীচৈতন্যচরিতামৃত (১৭শ শতাব্দীর সূচনালগ্ন)। এটি চৈতন্য...

চৈতন্য জীবনী সাহিত্য।লোচন্য দাসের ‘চৈতন্যমঙ্গল’ কাব্যের গুরুত্ব ও তাঁর কবি-প্রতিভার পরিচয় দাও।

চৈতন্য জীবনী সাহিত্য।লোচন্য দাসের ‘চৈতন্যমঙ্গল’ কাব্যের গুরুত্ব ও তাঁর কবি-প্রতিভার পরিচয় দাও।পশ্চিমবঙ্গ রাষ্ট্রীয় বিশ্ববিদ্যালয় বাংলা মেজর প্রথম সেমিস্টার। ইউনিট৪।            আলোচনার শুরুতেই আমরা বলে রাখি যে,চৈতন্য জীবনী সাহিত্যের ধারায় বৃন্দাবন দাস ও কৃষ্ণদাস কবিরাজের পাশাপাশি আর এক বিশিষ্ট প্রতিভার নাম লোচন দাস (আসল নাম লোচনানন্দ দাস)। ষোড়শ শতকে রাঢ় অঞ্চলের কাটোয়ার কোগ্রামের বৈদ্য পরিবারে তাঁর জন্ম। তাঁর রচিত ‘চৈতন্যমঙ্গল’ কাব্যটি চৈতন্য জীবনী সাহিত্যের অন্যতম জনপ্রিয় গ্রন্থ। কবি তাঁর দীক্ষাগুরু নরহরি সরকারের আদেশে এই কাব্যটি রচনা করেন। জীবনীগ্রন্থ হলেও এটি মূলত গান বা সংগীতের রূপ ধরে পরিবেশিত হয়েছিল।আর সেখানে আমারা দেখি-      • লোচন দাসের কবি-প্রতিভা র প্রধান বৈশিষ্ট্যসমূহ।লোচন দাস কেবল একজন জীবনীকার ছিলেন না, তিনি ছিলেন উচ্চমানের পদকর্তা ও সঙ্গীতজ্ঞ। তাঁর কবি-প্রতিভার মূল দিকগুলি নিচে আলোচনা করা হলো-         গীতিময়তা ও সঙ্গীতধর্মিতাঃ লোচন দাসের অন্যতম প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো তাঁর গীতি-প্রতিভা। 'চৈতন্যমঙ্গল' কাব্যে বর্ণনা...

সমস্যামূলক আচরণ বলতে কি বোঝায়?শিক্ষার্থীর সমস্যামূলক আচরণ নিয়ন্ত্রণে শিক্ষকদের ভূমিকা আলোচনা করো।

সমস্যামূলক আচরণ বলতে কি বোঝায়?শিক্ষার্থীর সমস্যামূলক আচরণ নিয়ন্ত্রণে শিক্ষকদের ভূমিকা আলোচনা করো। পশ্চিমবঙ্গ রাষ্ট্রীয় বিশ্ববিদ্যালয় ষষ্ঠ সেমিস্টার এডুকেশন মাইনর।       • সমস্যামূলক আচরণঃ শিক্ষার্থীর বা শিশুর যে সমস্ত আচরণ সামাজিক ও প্রাতিষ্ঠানিক নিয়মের পরিপন্থী এবং যা তার নিজের এবং আশেপাশের অন্য সবার স্বাভাবিক বিকাশ বা শিক্ষণ প্রক্রিয়ায় বাধা সৃষ্টি করে, সেগুলোকে সমস্যামূলক আচরণ বলা হয়। আরোও সহজ কথায়,        সমস্যা মূলক আচরণ এমন এক ধরনের অস্বাভাবিক আচরণ যা সাধারণ নিয়মকানুন ভেঙে ফেলে এবং ক্লাসের পরিবেশ নষ্ট করে।উদাহরণ হিসেবে আমরা বলতে পারি-অতিরিক্ত রাগ বা হিংস্রতা, ক্লাসে মনোযোগ না দেওয়া, অবাধ্যতা, স্কুল পালানো, মিথ্যা বলা, চুরি করা, ক্লাসের মাঝপথে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করা বা অতিরিক্ত গুটিয়ে থাকা (উদাসীনতা)। • শিক্ষার্থীর সমস্যামূলক আচরণ নিয়ন্ত্রণে শিক্ষকের ভূমিকা-          শ্রেণিকক্ষে বা বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের এই ধরনের আচরণ নিয়ন্ত্রণে একজন শিক্ষকের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। শিক্ষকরা কেবল কঠোর প্রশাসক নন, বরং একজন পথপ্রদর্শ...

চৈতন্য জীবনী সাহিত্যের আদি কবি হিসেবে বৃন্দাবন দাসের বিস্তারিত কৃতিত্ব আলোচনা করো।

চৈতন্য জীবনী সাহিত্যের আদি কবি হিসেবে বৃন্দাবন দাসের বিস্তারিত কৃতিত্ব আলোচনা করো। পশ্চিমবঙ্গ রাষ্ট্রীয় বিশ্ববিদ্যালয়, প্রথম সেমিস্টার, বাংলা মেজর ইউনিট ৪।          আলোচনা শুরুতেই আমরা বলে রাখি যে, চৈতন্য জীবনী সাহিত্যের আদি পথপ্রদর্শক হিসেবে বৃন্দাবন দাসের অবদান বহুমুখী। বাংলা চৈতন্যজীবনী সাহিত্যে  আবির্ভাব এক যুগান্তকারী ঘটনা। চৈতন্যদেবের মহিমান্বিত জীবন ও আদর্শকে কেন্দ্র করে বাংলা সাহিত্যে যে নতুন ধারার সূচনা হয়, তা-ই ' চৈতন্য জীবনী সাহিত্য ' নামে পরিচিত।তবে-          এই ধারায় প্রথম ও শ্রেষ্ঠ আদি কবি হলেন বৃন্দাবন দাস। তাঁর রচিত 'চৈতন্যভাগবত' (পূর্বনাম: 'চৈতন্যমঙ্গল') বাংলা ভাষায় রচিত প্রথম সম্পূর্ণ চৈতন্য জীবনীকাব্য। কবি নিজে শ্রীচৈতন্যদেবকে সরাসরি না দেখলেও, চৈতন্য-পরিকরদের সাহচর্যে এসে তিনি এই অনন্য গ্রন্থটি রচনা করেন। আর সেখানে আমরা দেখি-        • প্রথম পূর্ণাঙ্গ বাংলা জীবনীকাব্যের স্রষ্টা বৃন্দাবন দাস।  বৃন্দাবন দাসের পূর্বে সংস্কৃতে মুরারি গুপ্ত বা স্বরূপ দামোদর কড়চা (সংক্ষিপ্ত ডায়েরি বা বিবরণী...

একজন মা কীভাবে একটি শনাক্তকরণ নম্বরের মাধ্যমে পরিচিত হয়ে উঠেছেন , উপন্যাসের প্রেক্ষাপটে আলোচনা করো।

একজন মা কীভাবে একটি শনাক্তকরণ নম্বরের মাধ্যমে পরিচিত হয়ে উঠেছেন , উপন্যাসের প্রেক্ষাপটে আলোচনা করো। পশ্চিমবঙ্গ রাষ্ট্রীয়, বিশ্ববিদ্যালয় ষষ্ঠ সেমিস্টার,বাংলা মাইনর।      মহাশ্বেতা দেবীর কালজয়ী রাজনৈতিক উপন্যাস ' হাজার চুরাশির মা'- এর প্রেক্ষাপটে এই মন্তব্যটি অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক এবং গভীর অর্থবহ। এখানে একজন সাধারণ মা কীভাবে তাঁর পারিবারিক ও সামাজিক পরিচয় হারিয়ে একটি হিমশীতল ' শনাক্তকরণ নম্বর'(১০৮৪)- এর মাধ্যমে পরিচিত হয়ে উঠলেন এবং সেই যন্ত্রণাদায়ক রূপান্তর কীভাবে তাঁকে এক অনন্য প্রতিবাদী সত্তায় পরিণত করল-তা নিচে বিস্তারিতভাবে আলোচনা করা হলো।   সনাক্তকরণ নম্বর '১০৮৪' এবং ব্রতীর নির্মম পরিণতি। উপন্যাসের কেন্দ্রীয় চরিত্র সুজাতা চ্যাটার্জি। তিনি কলকাতার এক উচ্চবিত্ত, সুবিধাবাদী এবং আত্মকেন্দ্রিক পরিবারের গৃহবধূ। সুজাতার কনিষ্ঠ ও প্রিয় পুত্র ব্রতী সত্তরের দশকের গোড়ার দিকে নকশাল আন্দোলনের আদর্শে উদ্বুদ্ধ হয়ে রাষ্ট্রবিরোধী লড়াইয়ে শামিল হয়েছিল। ১৯৭১ সালের এক রাতে ব্রতী ও তার কমরেডদের অত্যন্ত নির্মমভাবে হত্যা করে পুলিশ।          পুলিশের খাতায় ব্রতীর মর...