Skip to main content

Posts

সামাজিক গোষ্ঠী কাকে বলে? সামাজিক গোষ্ঠীর বৈশিষ্ট্য ও গুরুত্ব লেখো।

সামাজিক গোষ্ঠী কাকে বলে? সামাজিক গোষ্ঠীর বৈশিষ্ট্য ও গুরুত্ব লেখো। পশ্চিমবঙ্গ রাষ্ট্রীয় বিশ্ববিদ্যালয় কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় ষষ্ঠ সেমিস্টার দর্শন মাইনর। ( প্রথম ইউনিট )। ​      •সামাজিক গোষ্ঠীর সংজ্ঞাঃ সাধারণভাবে যখন দুই বা ততোধিক ব্যক্তি সাধারণ কোনো উদ্দেশ্য চরিতার্থ করার জন্য একে অপরের সংস্পর্শে আসে এবং পারস্পরিক মিথস্ক্রিয়ার মাধ্যমে একটি সংহতি গড়ে তোলে, তখন তাকে সামাজিক গোষ্ঠী বলে।সমাজতাত্ত্বিক ম্যাকাইভার ও পেজ-এর মতানুসারে বলা যায়-   " সামাজিক গোষ্ঠী বলতে এমন এক জনসমষ্টিকে বোঝায় যারা একে অপরের সাথে সামাজিক সম্পর্কের সূত্রে আবদ্ধ।"             আবার অগবার্ন ও নিমকফ মনে করেন- "যখন দুই বা ততোধিক ব্যক্তি একত্রে মিলিত হয় এবং একে অপরের ওপর প্রভাব বিস্তার করে, তখনই একটি সামাজিক গোষ্ঠী গঠিত হয়।" সামাজিক গোষ্ঠীর দশটি প্রধান বৈশিষ্ট্যগুলি (Ten Main Characteristics of Social Group) আলোচনা। ​       ১)দুই বা ততোধিক ব্যক্তিঃ একটি সামাজিক গোষ্ঠী গঠনের প্রাথমিক শর্ত হলো একের অধিক ব্যক্তির উপস্থিতি। একক কোনো ব্যক্তি নিয়ে গোষ্ঠী গ...
Recent posts

রবীন্দ্র মুক্ত বিদ্যালয় ২০২৬

  ভিডিও স্ক্রিপ্ট: রবীন্দ্র মুক্ত বিদ্যালয় সংসদ (WBCROS) জুন ২০২৬ আপডেট ​১. ভূমিকা (Intro):         •"নমস্কার বন্ধুরা, SHESHER KOBITA SUNDARBAN চ্যানেলে আপনাদের স্বাগত। আজ আমি রবীন্দ্র মুক্ত বিদ্যালয় সংসদের মাধ্যমিক এবং উচ্চমাধ্যমিক ছাত্র-ছাত্রীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ খবর নিয়ে এসেছি।        বিশেষ করে যারা আগামী জুন ২০২৬ সেশনে পরীক্ষা দেবেন বা নতুন ভর্তি হতে চাইছেন, তাদের জন্য সংসদের পক্ষ থেকে নতুন বিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়েছে। ভিডিওটি শেষ পর্যন্ত দেখুন সব তথ্য পাওয়ার জন্য।" ​২. মূল খবর - ১: মাধ্যমিক জুন ২০২৬ ফর্ম ফিলাপ (Main News 1):        "প্রথমেই আসি জুন ২০২৬ সেশনের মাধ্যমিক পরীক্ষার ব্যাপারে। আপনারা জানেন, এই পরীক্ষার ফর্ম ফিলাপের প্রক্রিয়া ইতিমধ্যে শুরু হয়েছে। তবে সম্প্রতি ৩১ মার্চ একটি সংশোধিত বিজ্ঞপ্তি প্রকাশিত হয়েছে।        এই বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, আপনাদের স্টাডি সেন্টারগুলোতে যোগাযোগ করে দ্রুত ফর্ম ফিলাপ সম্পন্ন করতে হবে। যারা কোনো কারণে আগে মিস করেছিলেন, এটাই কিন্তু আপনাদের জন্য বড় সুযোগ।" ...
 ভিডিওর শিরোনাম (Title Ideas): ​ব্রেকিং নিউজ: কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষা স্থগিত! | CU Semester 1 Exam Postponed 2026 ​CU Update: সেমিস্টার ১-এর পরীক্ষা নিয়ে জরুরি বিজ্ঞপ্তি | অ্যাডমিট কার্ড ও নতুন তারিখ। ​ভিডিও স্ক্রিপ্ট (Script Outline): ​১. সূচনা (Intro) - [০:০০ - ০:৩০ সেকেন্ড] ​"নমস্কার বন্ধুরা, আশা করি আপনারা সবাই ভালো আছেন। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের সেমিস্টার-১ এর পরীক্ষার্থীদের জন্য এই মুহূর্তে একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং ব্রেকিং আপডেট নিয়ে হাজির হয়েছি।          •আজকের নোটিশে পরীক্ষা স্থগিত হওয়া থেকে শুরু করে অ্যাডমিট কার্ড এবং পরীক্ষার তারিখ পরিবর্তন— একাধিক বিষয় জানানো হয়েছে। যারা এই বছর পরীক্ষা দিচ্ছেন, তারা ভিডিওটি একদম স্কিপ করবেন না।" ​২. মূল বিষয়: পরীক্ষা স্থগিত (Main News) - [০:৩০ - ১:৩০ মিনিট] ​"প্রথমেই জানাই, বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে আজ অর্থাৎ ৬ই এপ্রিল একটি অফিসিয়াল নোটিশ জারি করা হয়েছে। সেখানে জানানো হয়েছে যে,           • B.A./B.Sc./B.Com. সেমিস্টার-১ (CCF এবং CBCS উভয় সিস্টেমের) থিওরিটিক্যাল পরীক্ষা অনিবার্য ক...

তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়ের 'কবি' উপন্যাসে 'বসন' এবং 'ঠাকুরঝি'—এই দুই নারী চরিত্র বীরভূমের লৌকিক পটভূমিতে দুটি ভিন্ন মেরুর প্রতিনিধি। একজন বসন্তের ঝোড়ো হাওয়ার মতো উত্তাল, অন্যজন শ্রাবণের ধারার মতো শান্ত ও স্নিগ্ধ। নিচে তাদের চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য ও ট্র্যাজেডির তুলনামূলক আলোচনা করো।

  তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়ের 'কবি' উপন্যাসে 'বসন' এবং 'ঠাকুরঝি'—এই দুই নারী চরিত্র বীরভূমের লৌকিক পটভূমিতে দুটি ভিন্ন মেরুর প্রতিনিধি। একজন বসন্তের ঝোড়ো হাওয়ার মতো উত্তাল, অন্যজন শ্রাবণের ধারার মতো শান্ত ও স্নিগ্ধ। নিচে তাদের চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য ও ট্র্যাজেডির তুলনামূলক আলোচনা করো।           আলোচনার শুরুতেই আমরা বলে রাখি যে,বসন চরিত্রটি কবি উপন্যাসের একটি বিশিষ্ট নারী চরিত্র, যে বীরভূমের সেই ভ্রাম্যমাণ 'ঝুমুর' দলের প্রতিনিধি, যাদের জীবন মানেই হলো গান, নাচ আর অনিশ্চয়তা।তবে-তার জীবনের রূঢ় বাস্তবতা ও দহন পাঠক মহলের বিশেষ দৃষ্টি আকর্ষণ করে। আসলে বসন চরিত্রের ধরনটি হলো-        বসন চঞ্চল, স্পষ্টভাষী এবং কিছুটা উদ্ধত। তার জীবনে দারিদ্র্য আর লাঞ্ছনা নিত্যসঙ্গী, তাই তার উপরিভাগে এক ধরনের কঠোরতা দেখা যায়।কিন্তু এই কঠোরতার আড়ালে লুকিয়ে ছিল এক তৃষ্ণার্ত হৃদয়।যেখানে নিতাইয়ের প্রতি তার আকর্ষণ ছিল তীব্র ও জাগতিক।সে নিতাইয়ের কবিত্বকে ভালোবেসেছিল এবং তার মধ্যেই খুঁজে পেয়েছিল এক টুকরো আশ্রয়ের ভালোবাসা। তবুও আমরা দেখি-          ব...

অনার্য সর্প সংস্কৃতির স্ফূরণ ঘটেছে মনসামঙ্গল কাব্য।

অনার্য সর্প সংস্কৃতির স্ফূরণ ঘটেছে মনসামঙ্গল কাব্য।মন্তব্যটির গ্রহণযোগ্যতার সমাজতাত্ত্বিক ও সাহিত্যিক বিশ্লেষণ। প্রথম সেমিস্টার বাংলা মেজর।         আলোচনার শুরুতেই আমরা বলে রাখি যে,মধ্যযুগের বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে মঙ্গলকাব্যগুলি আর্য ও অনার্য সংস্কৃতির মিলন ও সংঘাতের এক অনন্য দলিল। বিশেষ করে মনসামঙ্গল কাব্যে এই সংঘাত অত্যন্ত প্রকট। লৌকিক সর্পদেবী মনসাকে উচ্চবর্ণের আর্য সমাজে প্রতিষ্ঠিত করার যে ব্যাকুলতা এই কাব্যে দেখা যায়, তা মূলত বাংলার আদিম অনার্য সর্প সংস্কৃতিরই এক শৈল্পিক বহিঃপ্রকাশ।আর সেখানেই আমারা দেখি-       • অনার্য পটভূমি ও সর্পপূজার আদিমতা উল্লেখ মনসামঙ্গল কাব্যে।বাংলার আদিম নিয়াড বা অস্ট্রিক গোষ্ঠীর মানুষেরা ছিল প্রকৃতির উপাসক। সর্পসঙ্কুল এই বদ্বীপ অঞ্চলে সর্পভীতি থেকেই সর্পপূজার জন্ম। ঐতিহাসিক নীহাররঞ্জন রায়ের মতে, আর্যরা আসার আগে থেকেই বাংলায় সর্পদেবীর আরাধনা প্রচলিত ছিল। মনসামঙ্গল কাব্যে মনসা কোনো বৈদিক দেবী নন; তিনি মূলত হাড়ি, ডোম, বাগদি ও জেলে সম্প্রদায়ের আরাধ্য।তাই আমরা কাব্যে দেবী মনসাকে বলতে শুনি-  " মোর পূজা প্রচারিবি মর্ত্যল...
  শ্মশানযাত্রায় খই ছড়ানোর প্রথাটি বাঙালি সনাতন সংস্কৃতির এক গভীর ও প্রাচীন অঙ্গ। এই প্রথার পেছনে বৈজ্ঞানিক, সামাজিক এবং আধ্যাত্মিক—তিনটি বিশেষ দৃষ্টিভঙ্গি কাজ করে          •জীবন থেকে মহাজীবনের পথে খই"—এই শিরোনামে একটি অংশ রাখতে পারেন। সেখানে বলতে পারেন যে, চাল থেকে যেমন চাল ফিরে পাওয়া যায় না, তেমনি দেহ থেকে প্রাণ চলে গেলে আর ফিরে আসে না। খই হলো সেই 'অপরিবর্তনীয়' সত্যের প্রতীক। "ঋণ মুক্তি"র প্রতীক ​একটি প্রচলিত ধারণা হলো, মানুষ জন্ম থেকে মৃত্যু পর্যন্ত প্রকৃতির কাছ থেকে যা কিছু গ্রহণ করে, শেষ যাত্রায় খই বা শস্য ছড়ানোর মাধ্যমে সে তার ক্ষুদ্র অংশ প্রকৃতিকে ফিরিয়ে দেয়। এটি প্রকৃতির কাছে মানুষের কৃতজ্ঞতা প্রকাশের একটি চূড়ান্ত মাধ্যম। ঐতিহাসিক ও নির্দেশনামূলক কারণ: পথনির্দেশ (Wayfinding) ​প্রাচীনকালে যখন বর্তমানের মতো উন্নত পরিবহন ব্যবস্থা বা কংক্রিটের রাস্তা ছিল না, তখন শ্মশানযাত্রা চলত মেঠো পথ বা গভীর জঙ্গলের মধ্য দিয়ে। মৃতদেহ নিয়ে যাওয়ার সময় খই বা ফুল ছড়ানো হতো যাতে শ্মশান থেকে ফেরার সময় পরিবারের লোকেরা বা গ্রামবাসীরা সেই চিহ্ন দেখে সহজে গ্রামে ফিরতে পারেন। ...

বাংলা সাহিত্যে চৈতন্য সংস্কৃতির অবদান আলোচনা করো।

বাংলা সাহিত্যে চৈতন্য সংস্কৃতির অবদান আলোচনা করো। পশ্চিমবঙ্গ রাষ্ট্রীয় বিশ্ববিদ্যালয় প্রথম সেমিস্টার বাংলা মেজর।       আলোচনার শুরুতেই আমরা বলতে পারি যে,বাঙালি জাতির ইতিহাস ও সাহিত্যের ধারায় শ্রীচৈতন্যদেব (১৪৮৬-১৫৩৩) এক বিস্ময়কর ও বৈপ্লবিক ব্যক্তিত্ব।আসলে ষোড়শ শতাব্দীতে তাঁর আবির্ভাব কেবল ধর্মীয় আন্দোলন নয়, বরং বাংলা ভাষা, সাহিত্য ও সংস্কৃতিতে এক নবজাগরণের সূচনা করেছিল। চৈতন্য সংস্কৃতির প্রভাবে বাংলা সাহিত্য মধ্যযুগের সংকীর্ণতা কাটিয়ে এক বিশাল মানবিক ও নান্দনিক রূপ পরিগ্রহ করে। ড. সুকুমার সেনের মতে- "চৈতন্যদেবই প্রথম বাঙালি, যিনি সারা ভারতে বাঙালি সংস্কৃতি ও প্রতিভাকে প্রতিষ্ঠিত করেছিলেন।"         • জীবনী সাহিত্য বা চরিত-সাহিত্যের উদ্ভবের দৃষ্টিতে বলা যায়-চৈতন্য সংস্কৃতির সর্বশ্রেষ্ঠ দান হলো চরিত-সাহিত্য। শ্রীচৈতন্যের মহাজীবনের আদর্শকে ধরে রাখার জন্য তাঁর সমকালীন ও পরবর্তী ভক্তরা একের পর এক জীবনী গ্রন্থ রচনা করেন।এর আগে বাংলা সাহিত্যে দেবদেবীর বন্দনা থাকলেও কোনো রক্ত-মাংসের মানুষকে নিয়ে সাহিত্য সৃষ্টির প্রবণতা ছিল না। মুরারি গুপ্তের 'কড়চা', বৃন্দা...