Skip to main content

Posts

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ছোটগল্পে সমকালীন গ্রামীন সমাজ ও ব্যক্তি মানুষের মনস্তাত্ত্বিক টানাপোড়েন কিভাবে চিত্রিত হয়েছে আলোচনা করো।পশ্চিমবঙ্গ রাষ্ট্র বিশ্ববিদ্যালয় ষষ্ঠ শ্রেণির বাংলা মাইনর। পশ্চিমবঙ্গ রাষ্ট্র বিশ্ববিদ্যালয়ের (WBSU) ষষ্ঠ সেমিস্টারের বাংলা মাইনর (Minor) পাঠ্যক্রমের দৃষ্টিভঙ্গি থেকে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ছোটগল্পে সমকালীন গ্রামীণ সমাজ ও ব্যক্তি মানুষের মনস্তাত্ত্বিক টানাপোড়েনের চিত্রায়ণ একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং আকর প্রশ্ন। উনিশ শতকের শেষভাগে শিলাইদহ, সাজাদপুর ও পতিসরের জমিদারি দেখাশোনার সূত্রে রবীন্দ্রনাথ বাংলার পল্লীপ্রকৃতি এবং গ্রামীণ সমাজকে খুব কাছ থেকে দেখেছিলেন। 'গল্পগুচ্ছ'-এর গল্পগুলোতে রোমান্টিক ভাবালুতা নয়, বরং উনিশ শতকের গ্রামীণ সমাজব্যবস্থার এক জীবন্ত দলিল এবং তার সমান্তরালে মানুষের মনের জটিল মনস্তাত্ত্বিক রূপটি অসাধারণ শিল্পসুষমায় ফুটে উঠেছে। নিচে এই দুটি দিক উদাহরণসহ বিশদভাবে আলোচনা করা হলো: ## ১. সমকালীন গ্রামীণ সমাজের চিত্রায়ন রবীন্দ্রনাথের গল্পে তৎকালীন গ্রামীণ সমাজের জাতিভেদ, পুরুষতান্ত্রিক নিষ্ঠুরতা এবং কুসংস্কারের বাস্তব রূপটি অত্যন্ত নির্মমভাবে ...
Recent posts
মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপন্যাসে সমাজ বাস্তবতা ও মনস্তাত্ত্বিক বিশ্লেষণের বৈশিষ্ট্য গুলি উদাহরণসহ আলোচনা করো। পশ্চিমবঙ্গ রাষ্ট্র বিশ্ববিদ্যালয় ষষ্ঠ সেমিস্টার বাংলা মাইনর। পশ্চিমবঙ্গ রাষ্ট্র বিশ্ববিদ্যালয়ের (WBSU) ষষ্ঠ সেমিস্টারের বাংলা মাইনর (Minor) পাঠ্যক্রমের নিরিখে মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপন্যাসে সমাজ বাস্তবতা ও মনস্তাত্ত্বিক বিশ্লেষণের মেলবন্ধন একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। বাংলা কথাসাহিত্যে মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় (১৯০৮-১৯৫৬) ছিলেন এক যুগান্তকারী ব্যক্তিত্ব। রবীন্দ্র-শরৎ পরবর্তী যুগে তিনি রোমান্টিক ভাবালুতা বর্জন করে ফ্রয়েডীয় মনস্তত্ত্ব এবং পরবর্তীকালে মার্ক্সীয় সমাজবাদী দর্শনের ওপর ভিত্তি করে এক নতুন ঘরানার উপন্যাস সৃষ্টি করেন। তাঁর উপন্যাসে **সমাজ বাস্তবতা** এবং **মনস্তাত্ত্বিক বিশ্লেষণ** একে অপরের পরিপূরক হিসেবে কাজ করেছে। নিচে উদাহরণসহ এই দুই বৈশিষ্ট্যের পুঙ্খানুপুঙ্খ আলোচনা করা হলো: ## ১. সমাজ বাস্তবতার বৈশিষ্ট্য ও উদাহরণ মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় সমাজকে ওপর থেকে দেখেননি, দেখেছেন ভেতরের রূঢ় ও নগ্ন রূপটিকে। তাঁর সমাজ বাস্তবতার প্রধান দিকগুলো হলো:  * **শ্রেণি সংগ্রাম ও ...

নেপোলিয়নের পতনের জন্য মহাদেশীয় অবরোধ ব্যবস্থা বা প্রথা কতটা দায়ী ছিল বিশদে আলোচনা করো।

নেপোলিয়নের পতনের জন্য মহাদেশীয় অবরোধ ব্যবস্থা বা প্রথা কতটা দায়ী ছিল বিশদে আলোচনা করো। পশ্চিমবঙ্গ রাষ্ট্রীয় বিশ্ববিদ্যালয় ইতিহাস মাইনর।      আলোচনার শুরুতেই আমরা বলে রাখি যে,ফরাসি সম্রাট নেপোলিয়ন বোনাপার্টের জীবনের অন্যতম বড় রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক ভুল ছিল মহাদেশীয় অবরোধ ব্যবস্থা (Continental System)। ১৮০৬ সালে বার্লিন ডিক্রি এবং ১৮০৭ সালে মিলান ডিক্রির মাধ্যমে তিনি এই প্রথা চালু করেন, যার মূল উদ্দেশ্য ছিল সমসাময়িক শ্রেষ্ঠ নৌ-শক্তি ইংল্যান্ডকে সরাসরি যুদ্ধে হারাতে না পেরে অর্থনৈতিকভাবে পঙ্গু করে দেওয়া। কিন্তু ইতিহাসবিদদের মতে, এই ব্যবস্থা ইংল্যান্ডের যতটা না ক্ষতি করেছিল, তার চেয়ে বেশি ডেকে এনেছিল খোদ নেপোলিয়নের নিজে। আর সেখানে তার পতনের কারণ হিসেবে আমরা দেখতে পাই-  ১)মারাত্মক আত্মঘাতী অর্থনৈতিক নীতিঃইংল্যান্ডকে বয়কট করতে গিয়ে ইউরোপের মূল ভূখণ্ডের দেশগুলো ব্রিটিশ পণ্য, বিশেষ করে সস্তা শিল্পজাত সামগ্রী এবং উপনিবেশ থেকে আসা নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিস (যেমন- চিনি, কফি, চা, বস্ত্র) থেকে বঞ্চিত হয়। ফ্রান্সের শিল্পকারখানাগুলো এই বিপুল চাহিদা মেটাতে সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়। ফলে স...

আইন অমান্য, ভারত ছাড়ো আন্দোলন, তেভাগা আন্দোলন তেভাগা আন্দোলন, ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলনে বামপন্থীদের ভূমিকা।

 ১)আইন অমান্য আন্দোলন (কৃষক) দের ভূমিকা:- ২)ভারত ছাড়ো আন্দোলন (কৃষক) দের ভূমিকা:- ৩)ভারতের স্বাধীনোত্তর পর্বে (কৃষক)অভূথ্যান তেভাগা আন্দোলন:- ৪)বিংশ শতকের ভারতে উপনিবেশ - বিরোধী আন্দোলনে বামপন্থী রাজনীতির অংশগ্রহণ :- ১) আইন অমান্য আন্দোলনে কৃষকদের ভূমিকাঃ ১৯৩০ সালে গান্ধীজির নেতৃত্বে শুরু হওয়া আইন অমান্য আন্দোলনে ভারতের কৃষক সমাজ স্বতঃস্ফূর্তভাবে যোগ দিয়েছিল। বিভিন্ন অঞ্চলে কৃষকদের প্রধান ভূমিকা ছিল নিম্নরূপ-       •কর ও খাজনা বন্ধ আন্দোলনঃএই আন্দোলনের মূল হাতিয়ার ছিল কর না দেওয়া। উত্তরপ্রদেশে জওহরলাল নেহেরুর নেতৃত্বে কৃষকরা 'খাজনা বন্ধ' (No-rent) এবং জমিদারি কর বন্ধের (No-revenue) আন্দোলন শুরু করে।       •চৌকিদারি কর বয়কটঃ বিহার, বাংলা (বিশেষত মেদিনীপুর, আরামবাগ) এবং উড়িষ্যায় কৃষকরা স্থানীয় প্রশাসনকে 'চৌকিদারি কর' দিতে অস্বীকার করে। মেদিনীপুরে এই আন্দোলন তীব্র আকার ধারণ করেছিল।       •বর্দোলি ও গুজরাটঃ গুজরাটের বর্দোলি এবং খেদা অঞ্চলের পতিদার কৃষকরা সরকারের রাজস্ব বয়কট করে। সরকার তাদের জমি ও গবাদিপশু বাজেয়াপ্ত করলেও তারা আন্দোলন থেকে প...

অলঙ্কার নির্ণয়।

  •হাওয়ায় মুখে ছুটল ভাঙ্গা কুঁড়ের চাল  শিকল ছেঁড়া কয়েদি ডাকাতের মত। • চোখে চোখে কথা নয় গো বন্ধু আগুনে আগুনে কথা। • স্বাধীনতা হীনতায় কে বাঁচিতে চায় হে  কে বাঁচিতে চায়? • এখনো খাদের পাশে রাত্তিরে দাঁড়ালে  চাঁদ ডাকে; আয়,আয় আয়। • আবরিছে  দিননাথে ঘন ঘনরূপে। • ডুব দে রে মন কালী বলে  হৃদি রত্নাকরের অগাধ জলে। • এ পুরীর পথমাঝে যত আছে শিলা  কঠিন শ্যামার মত কেহ নাহি আর। • বৈরাগ্যসাধনে মুক্তি সে আমার নয়  অসংখ্য বন্ধন মাঝে মহানন্দময়  লভিব মুক্তির স্বাদ। • এ জগতে হায়, সেই বেশি চায় আছে যার ভূরি ভূরি  রাজার হস্ত করে সমস্ত কাঙালের ধন চুরি। • কালো জল ঢালতে সই কালা পড়ে মনে। • তাহার দুটি পালন করা ভেড়া   চড়ে বেড়ায় মোদের বটমূলে  যদি ভাঙ্গে আমার ক্ষেতের বেড়া  কোলের পরে নিই তাহারে তুলে। • লুটায় মেঘলাখানি ত্যাজি কটিদেশ  মৌন অপমানে।  • লঙ্কার পঙ্কজ রবি গেলা অস্তাচলে।  দুই ধারে এ কি প্রাসাদের সারি? অথবা তরুর মূল?  অথবা এ শুধু আকাশ জুড়িয়া আমারি মনের ভুল? • এখনি অন্ধ বন্ধ করো না পাখা। • বসুন্ধরা, দিবসের...

সঙ্গতিবিধান। ভালো বা উত্তম সঙ্গতি বিধানের শর্তগুলি আলোচনা করো।

সঙ্গতিবিধান। ভালো বা উত্তম সঙ্গতি বিধানের শর্তগুলি আলোচনা করো। পশ্চিমবঙ্গ রাষ্ট্রীয় বিশ্ববিদ্যালয় ষষ্ঠ সেমিস্টার এডুকেশন মাইনর। • ভালো বা উত্তম সংগতি বিধান (Good Adjustment)       আলোচনার শুরুতেই আমরা বলতে পারি-সংগতিবিধান বা অ্যাডজাস্টমেন্ট হলো একটি গতিশীল প্রক্রিয়া, যার মাধ্যমে ব্যক্তি তার অভ্যন্তরীণ চাহিদা এবং বাহ্যিক পরিবেশের প্রতিকূলতার মধ্যে একটি সামঞ্জস্য বজায় রাখে। যখন কোনো ব্যক্তি মানসিক চাপ, দ্বন্দ্ব বা হতাশার মুখে না পড়ে তার চারপাশের সামাজিক, প্রাতিষ্ঠানিক ও ব্যক্তিগত পরিবেশের সাথে সফল ও স্বাস্থ্যকরভাবে মানিয়ে নিতে পারে, তখন তাকে উত্তম বা ভালো সংগতি বিধান বলা হয়।আসলে এটি সুসংহত ব্যক্তিত্ব এবং সুস্বাস্থ্যের লক্ষণ। আর এই আলোচনার পরিপ্রেক্ষিতে আমরা বলতে পারি- • উত্তম সংগতি বিধানের প্রধান শর্ত বা লক্ষণসমূহ       মনোবিজ্ঞানীদের মতে, একজন ব্যক্তির সংগতি বিধান কতটা 'উত্তম' বা 'ভালো' তা কিছু নির্দিষ্ট শর্ত, মানসিক লক্ষণ এবং আচরণের ওপর ভিত্তি করে মূল্যায়ন করা হয়। এই প্রধান শর্তগুলি নিচে আলোচনা করা হলো-      ১) আত্মসচেতনতা এবং আত্মস্ব...

প্রত্যক্ষ সংগতি বিধান কৌশল এবং পরোক্ষ সংগতি বিধান কৌশলের মধ্যে পার্থক্য লেখো

প্রত্যক্ষ সংগতি বিধান কৌশল এবং পরোক্ষ সংগতি বিধান কৌশলের মধ্যে পার্থক্য লেখো। পশ্চিমবঙ্গ রাষ্ট্রীয় বিশ্ববিদ্যালয় ষষ্ঠ সেমিস্টার এডুকেশন মাইনর।      আমরা জানি যে,ব্যক্তিত্বের ভারসাম্য বজায় রাখতে এবং মানসিক চাপ থেকে মুক্তি পেতে মানুষ মূলত দু-ধরনের কৌশল ব্যবহার করে।আর সেই কৌশলগুলি হলো-      ১) •প্রত্যক্ষ কৌশলঃযখন কোনো ব্যক্তি সচেতনভাবে, বাস্তবসম্মত উপায়ে সরাসরি সমস্যার মুখোমুখি হয়ে তা সমাধানের চেষ্টা করে, তখন তাকে প্রত্যক্ষ কৌশল বলে।        •পরোক্ষ কৌশলঃযখন কোনো ব্যক্তি সরাসরি সমস্যার সমাধান না করে, অবচেতনভাবে নিজের মনকে সান্ত্বনা দিতে বা মানসিক গ্লানি লুকাতে বিভিন্ন মনস্তাত্ত্বিক ছলাকলা বা প্রতিরক্ষণ কৌশলের (যেমন-প্রক্ষেপণ, যৌক্তিকতা প্রতিপাদন) আশ্রয় নেয়, তাকে পরোক্ষ কৌশল বলে।  ২)•প্রত্যক্ষ কৌশল সম্পূর্ণ সচেতনভাবে (Consciously) এবং চিন্তাভাবনা করে প্রয়োগ করা হয়।কিন্তু -       পরোক্ষ কৌশল মূলত অবচেতনভাবে (Unconsciously)বা স্বতঃস্ফূর্তভাবে ঘটে থাকে।  ৩)•প্রত্যক্ষ কৌশল এর দৃষ্টিভঙ্গি বাস্তবসম্মত ও যুক্তিপূর্ণ। ব্যক্...