Skip to main content

Posts

সমস্যামূলক আচরণ বলতে কি বোঝায়?শিক্ষার্থীর সমস্যামূলক আচরণ নিয়ন্ত্রণে শিক্ষকদের ভূমিকা আলোচনা করো।

সমস্যামূলক আচরণ বলতে কি বোঝায়?শিক্ষার্থীর সমস্যামূলক আচরণ নিয়ন্ত্রণে শিক্ষকদের ভূমিকা আলোচনা করো। পশ্চিমবঙ্গ রাষ্ট্রীয় বিশ্ববিদ্যালয় ষষ্ঠ সেমিস্টার এডুকেশন মাইনর।       • সমস্যামূলক আচরণঃ শিক্ষার্থীর বা শিশুর যে সমস্ত আচরণ সামাজিক ও প্রাতিষ্ঠানিক নিয়মের পরিপন্থী এবং যা তার নিজের এবং আশেপাশের অন্য সবার স্বাভাবিক বিকাশ বা শিক্ষণ প্রক্রিয়ায় বাধা সৃষ্টি করে, সেগুলোকে সমস্যামূলক আচরণ বলা হয়। আরোও সহজ কথায়,        সমস্যা মূলক আচরণ এমন এক ধরনের অস্বাভাবিক আচরণ যা সাধারণ নিয়মকানুন ভেঙে ফেলে এবং ক্লাসের পরিবেশ নষ্ট করে।উদাহরণ হিসেবে আমরা বলতে পারি-অতিরিক্ত রাগ বা হিংস্রতা, ক্লাসে মনোযোগ না দেওয়া, অবাধ্যতা, স্কুল পালানো, মিথ্যা বলা, চুরি করা, ক্লাসের মাঝপথে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করা বা অতিরিক্ত গুটিয়ে থাকা (উদাসীনতা)। • শিক্ষার্থীর সমস্যামূলক আচরণ নিয়ন্ত্রণে শিক্ষকের ভূমিকা-          শ্রেণিকক্ষে বা বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের এই ধরনের আচরণ নিয়ন্ত্রণে একজন শিক্ষকের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। শিক্ষকরা কেবল কঠোর প্রশাসক নন, বরং একজন পথপ্রদর্শ...
Recent posts

চৈতন্য জীবনী সাহিত্যের আদি কবি হিসেবে বৃন্দাবন দাসের বিস্তারিত কৃতিত্ব আলোচনা করো।

চৈতন্য জীবনী সাহিত্যের আদি কবি হিসেবে বৃন্দাবন দাসের বিস্তারিত কৃতিত্ব আলোচনা করো। পশ্চিমবঙ্গ রাষ্ট্রীয় বিশ্ববিদ্যালয়, প্রথম সেমিস্টার, বাংলা মেজর ইউনিট ৪।          আলোচনা শুরুতেই আমরা বলে রাখি যে, চৈতন্য জীবনী সাহিত্যের আদি পথপ্রদর্শক হিসেবে বৃন্দাবন দাসের অবদান বহুমুখী। বাংলা চৈতন্যজীবনী সাহিত্যে  আবির্ভাব এক যুগান্তকারী ঘটনা। চৈতন্যদেবের মহিমান্বিত জীবন ও আদর্শকে কেন্দ্র করে বাংলা সাহিত্যে যে নতুন ধারার সূচনা হয়, তা-ই ' চৈতন্য জীবনী সাহিত্য ' নামে পরিচিত।তবে-          এই ধারায় প্রথম ও শ্রেষ্ঠ আদি কবি হলেন বৃন্দাবন দাস। তাঁর রচিত 'চৈতন্যভাগবত' (পূর্বনাম: 'চৈতন্যমঙ্গল') বাংলা ভাষায় রচিত প্রথম সম্পূর্ণ চৈতন্য জীবনীকাব্য। কবি নিজে শ্রীচৈতন্যদেবকে সরাসরি না দেখলেও, চৈতন্য-পরিকরদের সাহচর্যে এসে তিনি এই অনন্য গ্রন্থটি রচনা করেন। আর সেখানে আমরা দেখি-        • প্রথম পূর্ণাঙ্গ বাংলা জীবনীকাব্যের স্রষ্টা বৃন্দাবন দাস।  বৃন্দাবন দাসের পূর্বে সংস্কৃতে মুরারি গুপ্ত বা স্বরূপ দামোদর কড়চা (সংক্ষিপ্ত ডায়েরি বা বিবরণী...

একজন মা কীভাবে একটি শনাক্তকরণ নম্বরের মাধ্যমে পরিচিত হয়ে উঠেছেন , উপন্যাসের প্রেক্ষাপটে আলোচনা করো।

একজন মা কীভাবে একটি শনাক্তকরণ নম্বরের মাধ্যমে পরিচিত হয়ে উঠেছেন , উপন্যাসের প্রেক্ষাপটে আলোচনা করো। পশ্চিমবঙ্গ রাষ্ট্রীয়, বিশ্ববিদ্যালয় ষষ্ঠ সেমিস্টার,বাংলা মাইনর।      মহাশ্বেতা দেবীর কালজয়ী রাজনৈতিক উপন্যাস ' হাজার চুরাশির মা'- এর প্রেক্ষাপটে এই মন্তব্যটি অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক এবং গভীর অর্থবহ। এখানে একজন সাধারণ মা কীভাবে তাঁর পারিবারিক ও সামাজিক পরিচয় হারিয়ে একটি হিমশীতল ' শনাক্তকরণ নম্বর'(১০৮৪)- এর মাধ্যমে পরিচিত হয়ে উঠলেন এবং সেই যন্ত্রণাদায়ক রূপান্তর কীভাবে তাঁকে এক অনন্য প্রতিবাদী সত্তায় পরিণত করল-তা নিচে বিস্তারিতভাবে আলোচনা করা হলো।   সনাক্তকরণ নম্বর '১০৮৪' এবং ব্রতীর নির্মম পরিণতি। উপন্যাসের কেন্দ্রীয় চরিত্র সুজাতা চ্যাটার্জি। তিনি কলকাতার এক উচ্চবিত্ত, সুবিধাবাদী এবং আত্মকেন্দ্রিক পরিবারের গৃহবধূ। সুজাতার কনিষ্ঠ ও প্রিয় পুত্র ব্রতী সত্তরের দশকের গোড়ার দিকে নকশাল আন্দোলনের আদর্শে উদ্বুদ্ধ হয়ে রাষ্ট্রবিরোধী লড়াইয়ে শামিল হয়েছিল। ১৯৭১ সালের এক রাতে ব্রতী ও তার কমরেডদের অত্যন্ত নির্মমভাবে হত্যা করে পুলিশ।          পুলিশের খাতায় ব্রতীর মর...

শিক্ষার কার্যাবলী আলোচনা করো।

শিক্ষার কার্যাবলী আলোচনা করো। পশ্চিমবঙ্গ রাষ্ট্রীয় বিশ্ববিদ্যালয় প্রথম সেমিস্টার এডুকেশন মাইনর।ইউনিক১            আমরা জানি যে,শিক্ষা হলো একটি গতিশীল ও জীবনব্যাপী প্রক্রিয়া, যা মানুষের অন্তর্নিহিত সম্ভাবনার পরিপূর্ণ বিকাশ ঘটায়। মানবসভ্যতার সূচনা থেকে আজ পর্যন্ত সমাজ ও ব্যক্তির উন্নয়নে শিক্ষা সবচেয়ে শক্তিশালী হাতিয়ার হিসেবে কাজ করে আসছে। বিখ্যাত শিক্ষাবিদ ও সমাজবিজ্ঞানীদের মতে, শিক্ষার কার্যাবলীকে প্রধানত দুটি দৃষ্টিকোণ থেকে আলোচনা করা যায়- ১.ব্যক্তিতান্ত্রিক কার্যাবলী এবং- ২.সমাজতান্ত্রিক কার্যাবলী। ১. শিক্ষার ব্যক্তিতান্ত্রিক কার্যাবলী (Individual Functions of Education)         শিক্ষার প্রাথমিক ও প্রধান কাজ হলো ব্যক্তির নিজস্ব গুণাবলী ও ক্ষমতার বিকাশ ঘটানো। এই প্রসঙ্গে কার্যাবলীগুলি নিচে আলোচনা করা হলো-       • অন্তর্নিহিত সম্ভাবনার বিকাশঃ স্বামী বিবেকানন্দের মতে, " শিক্ষা হলো মানুষের অন্তর্নিহিত পূর্ণতার প্রকাশ।" প্রতিটি শিশুর মধ্যে কিছু সুপ্ত সম্ভাবনা বা প্রতিভা থাকে। শিক্ষা সেই সুপ্ত প্রতিভাকে জাগ্রত ও বিকশিত করতে সা...

ইতিহাসের সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর।পশ্চিমবঙ্গ রাষ্ট্রীয় বিশ্ববিদ্যালয় ষষ্ঠ শ্রেণির তার ইতিহাস মাইনর।

ইতিহাসের সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর।পশ্চিমবঙ্গ রাষ্ট্রীয় বিশ্ববিদ্যালয় ষষ্ঠ শ্রেণির তার ইতিহাস মাইনর। ১. সাঁ-কুল্যৎ (Sans-culottes) কাদের বলা হয়?       •ফরাসি বিপ্লবের সময় ফ্রান্সের দরিদ্র শ্রমজীবী, কারিগর, দোকানদার ও খেটে খাওয়া সাধারণ মানুষদের 'সাঁ-কুল্যৎ'বলা হতো।  ২. ফিজিওক্রাট (Physiocrats) কারা ছিলেন?       •অষ্টাদশ শতকে ফরাসি বিপ্লবের আগে ফ্রান্সে একদল অর্থনীতিবিদদের আবির্ভাব ঘটে, যারা ফিজিওক্রাট বা 'প্রকৃতিবাদী' নামে পরিচিত ছিলেন। ফ্রাঁসোয়া কুয়েসনে ছিলেন এই মতবাদের প্রধান প্রবক্তা। ৩. ক্রিমিয়ার যুদ্ধের (১৮৫৩–১৮৫৬) কারণগুলো আলোচনা করো।        ১৮৫৩ থেকে ১৮৫৬ সাল পর্যন্ত রাশিয়া এবং ওসমানের সাম্রাজ্য (তুরস্ক)-এর মধ্যে এই যুদ্ধ হয়, যেখানে তুরস্কের পক্ষে যোগ দেয় ব্রিটেন ও ফ্রান্স। যুদ্ধের প্রধান কারণগুলো ছিল:      •পবিত্র স্থানসমূহের বিতর্কঃজেরুজালেমের খ্রিস্টান পবিত্র স্থানগুলোর রক্ষণাবেক্ষণের অধিকার নিয়ে ফ্রান্সের ক্যাথলিক এবং রাশিয়ার অর্থোডক্স চার্চের মধ্যে বিরোধ তৈরি হয়।        •রুশ সাম্রাজ্যবাদ...

নেপোলিয়ন ছিলেন ফরাসি বিপ্লবের ধ্বংসকারী ও রক্ষাকর্তা উভয় উক্তিটি বিশ্লেষণ করো।

নেপোলিয়ন ছিলেন ফরাসি বিপ্লবের ধ্বংসকারী ও রক্ষাকর্তা উভয় উক্তিটি বিশ্লেষণ করো।পশ্চিমবঙ্গ রাষ্ট্রীয় বিশ্ববিদ্যালয়, ষষ্ঠ সেমিস্টার,ইতিহাস মাইনর।         আলোচনা শুরুতেই আমরা বলে রাখি যে,ফরাসি ইতিহাসের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি অধ্যায় ফরাসি বিপ্লব। আর ঐতিহাসিক লুই মাদেলিন প্রথম এই মন্তব্যটি করেছিলেন। নেপোলিয়ন বোনাপার্ট ১৭৯৯ সালে ফ্রান্সে ক্ষমতা দখল করেন। একদিকে তিনি বিপ্লবের মূল আদর্শগুলোকে আইনি ও প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেন, আবার অন্যদিকে নিজের স্বার্থে বিপ্লবের রাজনৈতিক স্বাধীনতাকে গলা টিপে হত্যা করেন। এই কারণেই তাকে ফরাসি বিপ্লবের 'রক্ষাকর্তা'এবং 'ধ্বংসকারী' উভয়ই বলা হয়।      • নেপোলিয়নকে বিপ্লবের 'রক্ষাকর্তা'। নেপোলিয়ন ফরাসি বিপ্লবের সামাজিক ও অর্থনৈতিক আদর্শগুলোকে ধ্বংসের হাত থেকে রক্ষা করেছিলেন এবং সেগুলোকে স্থায়িত্ব দিয়েছিলেন। আর সেখানে-       আইনের চোখে সমতা (কোড নেপোলিয়ন)।তিনি ফ্রান্সের জন্য একটি অভিন্ন দেওয়ানি আইনগ্রন্থ বা'কোড নেপোলিয়ন'প্রবর্তন করেন। এর মাধ্যমে সমাজে জন্মগত বা বংশগত সমস্ত সুযোগ-সুবিধা বাতিল করা হয় এবং আইনের...

ষষ্ঠ সেমিস্টার ইতিহাস সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর।ইউরোপীয় ইতিহাস।

ষষ্ঠ সেমিস্টার ইতিহাস সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর।ইউরোপীয় ইতিহাস ১. বিসমার্কের রক্ত ও লৌহ নীতি এবং জার্মানির একত্রীকরণ 'রক্ত ও লৌহ নীতি' (Blood and Iron Policy)।১৮৬২ সালে প্রুশিয়ার প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর অটো ফন বিসমার্ক উপলব্ধি করেছিলেন যে, কেবল বক্তৃতা বা সংখ্যাগরিষ্ঠের প্রস্তাব দিয়ে জার্মানির একত্রীকরণ সম্ভব নয়। এর জন্য প্রয়োজন সামরিক শক্তি ও কঠোর সিদ্ধান্ত। ১৮৬২ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর প্রুশিয়ান পার্লামেন্টের বাজেট কমিটির সামনে তিনি তাঁর বিখ্যাত ঘোষণাটি দেন- "আমাদের যুগের মহান সমস্যাগুলো বিতর্ক বা সংখ্যাগরিষ্ঠের প্রস্তাবের মাধ্যমে সমাধান হবে না... বরং তা সমাধান করতে হবে রক্ত ও লৌহ (Blut und Eisen) দিয়ে।"        এখানে 'লৌহ' বলতে সামরিক শক্তি ও অস্ত্রশস্ত্র এবং 'রক্ত'বলতে যুদ্ধ ও বীরত্বপূর্ণ আত্মত্যাগকে বোঝানো হয়েছে। বিসমার্ক গণতান্ত্রিক পথ পরিহার করে সম্পূর্ণ রাজতান্ত্রিক ও সামরিক শক্তির জোরে জার্মানিকে ঐক্যবদ্ধ করার যে নীতি গ্রহণ করেন, তাই 'রক্ত ও লৌহ নীতি' নামে পরিচিত।   এই নীতি যেভাবে জার্মানির একত্রীকরণে সাহায্য করেছিল? বিসমার্কে...