বাংলা সাহিত্যের আদিপর্বে বৌদ্ধধর্ম ও সংস্কৃতি চর্চা কিভাবে প্রভাব বিস্তার করেছিল, তার পরিচয় দাও (পশ্চিমবঙ্গ রাষ্ট্র বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলা মাইনর, প্রথম সেমিস্টার) । আলোচনা শুরুতেই আমরা বলে রাখি যে, বাংলা সাহিত্যের আদি পর্বে বৌদ্ধ ধর্ম ও সংস্কৃতি চর্চার গভীর প্রভাব পরিলক্ষিত হয়। এই প্রভাব সাহিত্য এবং সমাজের বিভিন্ন দিককে বিশেষভাবে প্রভাবিত করেছিল।প্রভাবিত সেই বিষয়গুলির নিম্নসূত্রাকারে আলোচনা করা হলো- ক) চর্যাপদঃ বাংলা সাহিত্যের প্রাচীনতম নিদর্শন হলো চর্যাপদ। এই পদগুলো মূলত বৌদ্ধ সহজিয়া সাধকদের ধর্মীয় গান। চর্যাপদের ভাষা, ভাব, এবং দার্শনিক চিন্তাভাবনা বৌদ্ধ ধর্ম ও সংস্কৃতির দ্বারা গভীরভাবে প্রভাবিত। • সহজিয়া বৌদ্ধ ধর্মের প্রতিফলন হিসেবে চর্যাপদে সহজিয়া বৌদ্ধধর্মের দর্শন ও সাধন পদ্ধতির স্পষ্ট চিত্র দেখা যায়। কায়া-সাধন, শূন্যবাদ, এবং সহজ পথের অনুসারীদের জীবনযাত্রা ও আধ্যাত্মিক উপলব্ধি এই পদগুলোতে বর্ণিত হয়েছে। • প্রতীক ও রূপকের ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমরা দেখি-চর্যাপদের ভাষা আলো-আঁধারির ভ...
বৈদিকযুগ।। ঋগ্বৈদিক যুগের 'দশ রাজার যুদ্ধ' সম্পর্কে সংক্ষেপে আলোচনা করো।পশ্চিমবঙ্গ রাষ্ট্রীয় বিশ্ববিদ্যালয় - সেমিস্টার ১ ইতিহাস মাইনর। ঋগ্বৈদিক যুগের ইতিহাস ও রাজনৈতিক বিবর্তনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা হলো ' দশ রাজার যুদ্ধ' (দাশরাজ্য যুদ্ধ)। ঋগ্বেদের সপ্তম মণ্ডলে এই ঐতিহাসিক যুদ্ধের বিশদ বিবরণ পাওয়া যায়। তৎকালীন ভরত গোষ্ঠীর রাজা সুদাসের সাথে অন্যান্য দশটি উপজাতির রাজাদের মধ্যে পরুষ্ণী (বর্তমান রবি বা রাভি) নদীর তীরে এই যুদ্ধ সংঘটিত হয়েছিল।আর সেই যুদ্ধের কারণ হলো- পুরোহিত কেন্দ্রিক বিরোধ। যুদ্ধের প্রধান কারণ ছিল রাজপুরোহিত নির্বাচন নিয়ে বিতর্ক। ভরত রাজ সুদাস তাঁর প্রধান পুরোহিত বিশ্বামিত্র-কে পদচ্যুত করে বিজ্ঞ ও প্রজ্ঞাবান বশিষ্ঠ-কে রাজপুরোহিত পদে নিযুক্ত করেন। এতে বিশ্বামিত্র চরম অপমানিত বোধ করেন এবং সুদাসের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে উদ্যোগী হন। আঞ্চলিক আধিপত্য বিস্তার । ভরত গোষ্ঠী ছিল অত্যন্ত শক্তিশালী ও সমৃদ্ধশীল। পঞ্জাব ও সপ্তসিন্ধু অঞ্চলে রাজনৈতিক আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে অন্যান্য আয ও অনার্য উপজাতিগুলির...