Skip to main content

Posts

কোনি উপন্যাস, মতি নন্দী।

কোনি উপন্যাসের শুরুর অংশ (১-৩২ পৃষ্ঠা বা প্রথম দিকের পরিচ্ছেদগুলো) থেকে কাহিনী ও মূল বিষয়বস্তু উদ্ধৃতিসহ আলোচনা পশ্চিমবঙ্গ মাধ্যমিক শিক্ষা পর্ষদ দশম শ্রেণী প্রথম সেমিস্টার।          • আলোচ্য কোনি উপন্যাসের কাহিনী শুরু হয় গঙ্গার ঘাটে। আর সেখানে ' বারুণী' উৎসবের পুণ্যস্নানের দৃশ্য আমরা দেখতে পাই।যেখানে আমরা উপন্যাসের কেন্দ্রীয় চরিত্র ক্ষিতীশ সিংহের পরিচয় পাই। এই ক্ষিতীশ সিংহ একজন জাত কোচ।গঙ্গার ঘাটে আম কুড়োনোর হিড়িকে তিনি লক্ষ্য করেন একটি মেয়ে (কোনি) অদ্ভুত ক্ষিপ্রতায় এবং জেদের সাথে অন্যদের টেক্কা দিয়ে আম সংগ্রহ করছে।আর এই ঘটনার মধ্যে দিয়ে-           কোনির শারীরিক ক্ষমতা এবং হার না মানা মানসিকতা প্রথমবার ক্ষিতীশের চোখে পড়ে। তিনি কোনির মধ্যে লুকিয়ে থাকা আগামীর চ্যাম্পিয়নকে চিনতে পারেন।তাই ক্ষিতীশ বলেন-  " তোর আসল লজ্জা জ্বলে, আসল গর্বও জ্বলে।"         আসলে এই উক্তিটির মধ্যে দিয়ে আমরা বলতে পারি-ক্ষিতীশ সিংহের এই দর্শনটি উপন্যাসের মূল ভিত্তি।তবে -         ক্ষিতীশ সিংহ ' জুপিটার ক্লাবে'র ট্রে...
Recent posts
 আপনার পরীক্ষার প্রস্তুতির সুবিধার্থে WBSU-এর পঞ্চম সেমিস্টার রাষ্ট্রবিজ্ঞান মাইনর সিলেবাসের অন্তর্ভুক্ত 'Party System in India' এবং 'Issues in Indian Politics' থেকে সম্ভাব্য সকল গুরুত্বপূর্ণ ২ নম্বরের প্রশ্ন ও উত্তর নিচে একত্রিত করে দেওয়া হলো। বিভাগ ১: ভারতে দলীয় ব্যবস্থা (Party System in India) ১. ' একদলীয় প্রধান্য' (One-Party Dominance) বলতে কী বোঝায়?  * উত্তর: স্বাধীনতার পর থেকে ১৯৬৭ সাল পর্যন্ত ভারতের রাজনীতিতে জাতীয় কংগ্রেসের যে নিরঙ্কুশ আধিপত্য ছিল এবং কেন্দ্রে ও প্রায় সব রাজ্যে কংগ্রেস একাই শাসন করত, তাকেই রজনী কোঠারী 'একদলীয় প্রাধান্য' বা 'কংগ্রেস সিস্টেম' বলেছেন। ২. ভারতে 'বহুদলীয় ব্যবস্থা' (Multi-Party System) বলতে কী বোঝায়?  * উত্তর: ভারতে জাতীয় স্তরে এবং আঞ্চলিক স্তরে অসংখ্য রাজনৈতিক দল সক্রিয়। কোনো একটি বা দুটি দলের পরিবর্তে যখন বহু দল নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে এবং সরকার গঠনে ভূমিকা রাখে, তাকে বহুদলীয় ব্যবস্থা বলে। ৩. ' আঞ্চলিক দল' (Regional Party) কাকে বলে? একটি উদাহরণ দিন।  * উত্তর: যে রাজনৈতিক দলের প্রভাব...
 পশ্চিমবঙ্গ রাষ্ট্রীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের (WBSU) বিগত কয়েক বছরের (২০২১-২৪) সেমিস্টার পরীক্ষার প্রশ্নপত্র বিশ্লেষণ করে গুরুত্বপূর্ণ কিছু সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন ও উত্তর নিচে দেওয়া হলো। এই প্রশ্নগুলো আপনার ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের মাইনর কোর্সের প্রস্তুতির জন্য অত্যন্ত সহায়ক হবে। বিগত বছরের সমাধানকৃত সংক্ষিপ্ত প্রশ্নাবলী (মান: ২) ১. ভারতীয় সংবিধানের ৩২৬ নং ধারার গুরুত্ব কী?  * উত্তর: এই ধারায় 'সার্বজনীন প্রাপ্তবয়স্কের ভোটাধিকার' (Universal Adult Franchise) স্বীকৃত হয়েছে। অর্থাৎ, ১৮ বছর বা তার বেশি বয়সের প্রত্যেক ভারতীয় নাগরিক জাতি-ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে ভোট দেওয়ার অধিকার পান। ২. ' প্রতীকী ছাঁটাই' (Token Cut) প্রস্তাব কী?  * উত্তর: যখন সংসদ সদস্যরা সরকারের কোনো নির্দিষ্ট নীতি বা দাবির বিরুদ্ধে অসন্তোষ প্রকাশ করতে চান, তখন তাঁরা ব্যয়ের পরিমাণ থেকে ১০০ টাকা কমানোর প্রস্তাব দেন। একেই প্রতীকী ছাঁটাই বলা হয়। ৩. বন্দি-প্রত্যক্ষীকরণ (Habeas Corpus) বলতে কী বোঝায়?  * উত্তর: এটি একটি ল্যাটিন শব্দ যার অর্থ 'সশরীরে হাজির করা'। কোনো ব্যক্তিকে অবৈধভাবে আটকে রাখা হলে আদালত এই লেখ জারির মাধ্যমে সং...

পরোপকারী শ্রেষ্ঠ ধর্ম": 'বিড়াল' প্রবন্ধের আলোকে তাৎপর্য বিশ্লেষণ করো।

" পরোপকারী শ্রেষ্ঠ ধর্ম": 'বিড়াল' প্রবন্ধের আলোকে তাৎপর্য বিশ্লেষণ করো (পশ্চিমবঙ্গ রাষ্ট্রীয় বিশ্ববিদ্যালয় পঞ্চম সেমিস্টার বাংলা মেজর সিলেবাস)।       আলোচনার শুরুতেই আমরা বলে রাখি যে,বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের 'বিড়াল' প্রবন্ধটি একটি শ্লেষাত্মক ও সমাজতাত্ত্বিক রচনার অনন্য নিদর্শন। " পরোপকারী শ্রেষ্ঠ ধর্ম।" আর এখানে বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের 'কমলাকান্তের দপ্তর'-এর অন্তর্গত 'বিড়াল' প্রবন্ধটি আপাতদৃষ্টিতে একটি বিড়াল ও আফিমখোর কমলাকান্তের কথোপকথন মনে হলেও, এটি আসলে তৎকালীন সমাজব্যবস্থার এক তীব্র ব্যঙ্গাত্মক রূপক। বিড়ালটির মুখে বঙ্কিমচন্দ্র যে সাম্যবাদী দর্শনের অবতারণা করেছেন, তার অন্যতম কেন্দ্রবিন্দু হলো- " পরোপকারী শ্রেষ্ঠ ধর্ম"। আর এই উদ্ধৃতিটির প্রেক্ষাপট হলো-           প্রবন্ধে দেখা যায় যে, বিড়ালটি কমলাকান্তের জন্য রাখা দুধ খেয়ে ফেলায় কমলাকান্ত তাকে লাঠি নিয়ে মারতে উদ্যত হন। ঠিক সেই মুহূর্তে বিড়ালের মুখ দিয়ে বঙ্কিমচন্দ্র এক গভীর জীবনদর্শন ব্যক্ত করিয়েছেন। বিড়ালটি যুক্তি দেয় যে, বিত্তবানদের অতিরিক্ত খাবার যদি ক্ষুধার্তের ...

একা' প্রবন্ধটি অবলম্বনে কমলাকান্তের নিঃসঙ্গতার স্বরূপ আলোচনা করো

' একা' প্রবন্ধটি অবলম্বনে কমলাকান্তের নিঃসঙ্গতার স্বরূপ আলোচনা করো (পশ্চিমবঙ্গ রাষ্ট্রীয় বিশ্ববিদ্যালয় পঞ্চম সেমিস্টার বাংলা মেজর সিলেবাস)।      আলোচনার শুরুতেই আমরা বলে রাখি যে,বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের 'কমলাকান্তের দপ্তর' গ্রন্থের 'একা' প্রবন্ধটি এক গভীর জীবনদর্শন ও তীব্র নিঃসঙ্গতার দলিল। আর এই প্রবন্ধে কমলাকান্তের এই "একা" হওয়ার বোধ কেবল আক্ষরিক নির্জনতা নয়, বরং এটি একটি দার্শনিক ও মনস্তাত্ত্বিক অবস্থা।আর সেই অবস্থায় আমরি দেখি-     • ব্যক্তিক নিঃসঙ্গতা ও আফিমখোর কমলাকান্ত। আসলে কমলাকান্ত একজন আফিমখোর হিসেবে আমাদের কাছে অতি পরিচিত। সমাজের মূলধারার মানুষের কাছে তিনি ব্রাত্য বা অপ্রকৃতিস্থ। তার চারপাশের মানুষ যখন বস্তুগত সুখে মত্ত, কমলাকান্ত তখন তার কাল্পনিক জগতের বাসিন্দা। এই নেশা তাকে বাহ্যিক জগৎ থেকে বিচ্ছিন্ন করে এক অনন্য মানসিক নির্জনতায় পৌঁছে দিয়েছে। তার অন্যতম কারণ-       •  সংসারের অনিত্যতা ও শূন্যতা য় ভরা।কমলাকান্তের দৃষ্টিতে এই বিশাল জগত এক 'রঙ্গালয়'। এখানে সবাই আসছে, নিজের ভূমিকা পালন করছে এবং চলে যাচ্ছে। তিনি দেখেছেন- যাদের...

ভালোবাসিতে না পারিলে কেহই সুখী হয় না"— কমলাকান্তের এই উক্তির মধ্য দিয়ে লেখক কী বোঝাতে চেয়েছেন?

ভালোবাসিতে না পারিলে কেহই সুখী হয় না"— কমলাকান্তের এই উক্তির মধ্য দিয়ে লেখক কী বোঝাতে চেয়েছেন? আলোচনা করো (পশ্চিমবঙ্গ রাষ্ট্রীয় বিশ্ববিদ্যালয় পঞ্চম সেমিস্টার)।        আলোচনার শুরুতেই আমরা বলে রাখি যে,বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের 'কমলাকান্তের দপ্তর' গ্রন্থের ' একা' প্রবন্ধে কমলাকান্তের জবানিতে ফুটে উঠেছে এক চিরন্তন মানবিক সত্য।আর সেই সত্যটি হলো-" ভালোবাসিতে না পারিলে কেহই সুখী হয় না।"         আসলে এই উক্তিটি কেবল একটি আবেগপ্রবণ কথা নয়, বরং এটি মানুষের অস্তিত্ব ও সার্থকতা নিয়ে এক গভীর জীবনদর্শনের পরিচয়বাহী।আর সেই পরিচয়ে আমরা পাই-        •মনুষ্যত্বের মূল ভিত্তি হিসেবে ভালোবাসা। আর সেখানে কমলাকান্তের মতে, মানুষের জীবন কেবল খেয়ে-পরে বেঁচে থাকার নাম নয়। বুদ্ধি বা জ্ঞান মানুষকে শ্রেষ্ঠত্ব দিতে পারে, কিন্তু পূর্ণতা দেয় হৃদয়বৃত্তি। ভালোবাসা হলো সেই সেতুবন্ধন যা একজন মানুষকে অন্য মানুষের সাথে, এমনকি প্রকৃতির সাথে যুক্ত করে। এই সংযোগ ছাড়া মানুষের অস্তিত্ব মরুভূমির মতো শুষ্ক।যে মরুভূমিতে ফুটে উঠেছে-         •...

বিড়াল' প্রবন্ধ বঙ্কিমচন্দ্র হাস্যরসের অন্তরালে গভীর সমাজতত্ত্ব ও শ্লেষ প্রকাশ করেছেন তা আলোচনা করো।

'বিড়াল' প্রবন্ধ বঙ্কিমচন্দ্র হাস্যরসের অন্তরালে গভীর সমাজতত্ত্ব ও শ্লেষ প্রকাশ করেছেন তা আলোচনা করো (পশ্চিমবঙ্গ রাষ্ট্রীয় বিশ্ববিদ্যালয় পঞ্চম সেমিস্টার বাংলা মেজর সিলেবাস)       আমরা জানি যে,বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের 'বিড়াল' প্রবন্ধটি রসাত্মক রচনার ছদ্মবেশে এক তীক্ষ্ণ সামাজিক দলিল। আপাতদৃষ্টিতে একটি বিড়াল ও আফিমখোর কমলাকান্তের কথোপকথন মনে হলেও, এর আড়ালে লুকিয়ে আছে উনিশ শতকের বাংলার ঘুণে ধরা সমাজব্যবস্থার প্রতি তীব্র শ্লেষ এবং মানবিক সাম্যবাদের জয়গান। আছে হাস্যরসের অন্তরালে গভীর সমাজতত্ত্ব ও শ্লেষ। আর সেখানে আমরা দেখতে পাই-          বঙ্কিমচন্দ্র মূলত 'ইউটিলিটারিয়ান' বা উপযোগবাদ এবং সাম্যবাদী দর্শনের সংমিশ্রণে এই প্রবন্ধটি রচনা করেছেন। হাস্যরসের মোড়কে তিনি যে গভীর সত্যগুলো তুলে ধরেছেন বিড়াল প্রবন্ধে। আর সেখানে তুলে ধরেছেন রূপকের অন্তরালে শ্রেণিসংগ্রাম। প্রবন্ধের শুরুতেই বিড়াল যখন কমলাকান্তের জন্য রাখা দুধটুকু খেয়ে ফেলে, তখন থেকেই সংঘাতের শুরু। এখানে 'বিড়াল' হলো বঞ্চিত, সর্বহারা শ্রমজীবী শ্রেণির প্রতীক এবং 'কমলাকান্ত' তথা সমাজপতিরা হল...