আমার দুর্গোৎসব ।।' আমার দুর্গোৎসব' প্রবন্ধটি বাঙালি জাতি এবং মাতৃভূমির প্রতি বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের গভীর ভালোবাসার এক মর্মস্পর্শী দলিল-কমলাকান্তের গ্ৰন্থ অবলম্বনে আলোচনা করো (পশ্চিমবঙ্গ রাষ্ট্রীয় বিশ্ববিদ্যালয়/কলিকাতা বিশ্ববিদ্যালয়,পঞ্চম সেমিস্টার, বাংলা মেজর)DS9, Unit 1. আলোচনার শুরুতেই আমরা বলে রাখি যে, আমার দুর্গোৎসব' প্রবন্ধটি বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের 'কমলাকান্তের দপ্তর' (১৮৭৫) গ্রন্থের একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও আবেগঘন রচনা।আর এই প্রবন্ধটি আফিংখোর ব্রাহ্মণ কমলাকান্তের জবানিতে রচিত হলেও, এটি কেবলমাত্র রম্য-ব্যঙ্গ নয়, বরং গভীর দেশপ্রেম, জাতীয়তাবোধ এবং দার্শনিক ভাবনার এক অপূর্ব মিশ্রণ। তাই আমরা বলতে পারি-এটি কেবল একটি প্রবন্ধ নয়, বরং একটি পরাধীন জাতির হৃদয়ের স্পন্দন।আর সেই স্পন্দনে স্পন্দিত হয়ে - আমরা বলতে পারি যে,' আমার দুর্গোৎসব ' প্রবন্ধটি অবশ্যই বাঙালি জাতি ও মাতৃভূমির প্রতি ভালোবাসার দলিল।আসলে 'আমার দুর্গোৎসব' প্রবন্ধটি বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের 'কমলাকান্তের দপ্তর' (১৮৭৫) গ্রন্থের অন্তর্গত...
পশ্চিমবঙ্গ রাষ্ট্রীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ৫ম সেমিস্টার বাংলা মেজরের জন্য 'কেবল মন বাঁধা দিতেই আসি' উক্তিটির প্রেক্ষিতে পরাধীন বাঙালির দাসত্ববৃত্তি ও গদ্যশৈলী সম্পর্কিত ১০ নম্বরের উপযুক্ত উত্তরটি তৈরি করে দাও। উত্তর: ভূমিকা: ঊনবিংশ শতাব্দীর অন্যতম শ্রেষ্ঠ সাহিত্যিক ও সমাজচিন্তক বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের হাস্যরসাত্মক ও ব্যঙ্গাত্মক গদ্যসংকলন ‘কমলাকান্তের দপ্তর’ -এর একটি অন্যতম প্রধান ভাবাশ্রয়ী রচনা হলো ‘আমার মন’ । পরাধীন ভারতে পাশ্চাত্য শিক্ষা ও সভ্যতার অন্ধ অনুকরণে রত বাঙালি বুদ্ধিজীবী সমাজের আত্মিক পরাধীনতা, নৈতিক অবক্ষয় এবং তীব্র দাসত্ববৃত্তিকে বঙ্কিমচন্দ্র তাঁর আফিমখোর রূপক চরিত্র কমলাকান্তের মাধ্যমে পরম নিপুণতায় উন্মোচিত করেছেন। প্রবন্ধে কমলাকান্তের ক্ষোভ ও খেদমিশ্রিত উচ্চারণ— "আমরা কি করিতে আসি, তাহা ঠিক বলিতে পারি না—কিন্তু বোধ হয়, কেবল মন বাঁধা দিতেই আসি।" — তৎকালীন বঙ্গীয় সমাজের দাসমনোবৃত্তির ওপর এক তীব্র চাবুক এবং একই সঙ্গে বঙ্কিমী গদ্যশৈলী ও শ্লেষাত্মক (Satire) রূপকের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। ১. 'মন বাঁধা দেওয়া' এবং পরাধীন বাঙালির দাসত্ববৃত্তি ...