Skip to main content

Posts

পঞ্চম সেমিস্টার দর্শন সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর।

পঞ্চম সেমিস্টার দর্শনের সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর (পশ্চিমবঙ্গ রাষ্ট্রীয় বিশ্ববিদ্যালয়/কলিকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের)। ব্যবহারিক নীতিবিদ্যার স্বরূপ বা প্রকৃতি আলোচনা করো।          আলোচনার শুরুতেই আমরা বলে রাখি যে,ব্যবহারিক নীতিবিদ্যা (Applied Ethics) হলো সাধারণ বা তাত্ত্বিক নীতিবিদ্যার একটি প্রয়োগমূলক শাখা। এটি কোনো বিমূর্ত নৈতিক তত্ত্ব নয়, বরং বাস্তবের জটিল সমস্যার সমাধান খোঁজে। • প্রধান বৈশিষ্ট্যসমূহ•      • প্রয়োগশীলতা : এটি কেবল 'ভালো' বা 'মন্দ' কী তা নিয়ে আলোচনা করে না, বরং চিকিৎসা, পরিবেশ বা পেশাগত ক্ষেত্রে উদ্ভূত নৈতিক সংকটের সমাধান দেয়।      •  আন্তঃবিভাগীয় চরিত্রঃ এটি দর্শন, আইন, বিজ্ঞান এবং সমাজতত্ত্বের সঙ্গে যুক্ত। যেমন—'ইচ্ছুক মৃত্যু' নিয়ে আলোচনা করতে গেলে চিকিৎসাশাস্ত্র ও আইনের জ্ঞান প্রয়োজন।       • বিতর্কমূলক বিষয়: গর্ভপাত, আত্মহত্যা, মৃত্যুদণ্ড বা প্রাণী হত্যার মতো বিতর্কিত বিষয়গুলো এর প্রধান আলোচ্য।      • মানবিক দৃষ্টিভঙ্গিঃ  মানুষের অধিকারের পাশাপাশি প্রকৃতি ও প্রাণীর অধিকার রক্ষা কর...
Recent posts
 পশ্চিমবঙ্গ রাষ্ট্রীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের (WBSU) পঞ্চম সেমিস্টার দর্শন মাইনর (Minor) পরীক্ষার জন্য এই দুটি পার্থক্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। নিচে সহজ ভাষায় ও পয়েন্ট আকারে উত্তর দুটি আলোচনা করা হলো: •  সক্রিয় ও নিষ্ক্রিয় করুণা হত্যার মধ্যে পার্থক্য লেখো।        আমরা জানি যে,করুণা হত্যা বা ইউথানেসিয়া হলো যন্ত্রণাকাতর মুমূর্ষু রোগীকে যন্ত্রণামুক্তি দিতে মৃত্যুর পথে এগিয়ে দেওয়া।এর দুটি প্রধান রূপ হলো সক্রিয় ও নিষ্ক্রিয়।আর এই সক্রিয় করুণা হত্যা (Active) ও নিষ্ক্রিয় করুণা হত্যা (Passive)র পার্থক্য হলো -    • সক্রিয় করুণা হত্যাসরাসরি কোনো পদক্ষেপের মাধ্যমে রোগীর মৃত্যু ঘটানো।•  কিন্তু নিষ্ক্রিয় করুণা হত্যারোগীকে বাঁচিয়ে রাখার কৃত্রিম ব্যবস্থাগুলি বন্ধ করে দেওয়া। |     • সক্রিয় করুণা হত্যারোগীকে প্রাণঘাতী ইনজেকশন বা বিষাক্ত ওষুধ দেওয়া হয়।• কিন্তু- নিষ্ক্রিয় করুণা হত্যা ভেন্টিলেটর খুলে নেওয়া, অক্সিজেন বন্ধ করা বা ওষুধ দেওয়া বন্ধ করা।     • সক্রিয় করুণা হত্যা জেমস র‍্যাচেলস মনে করেন এটি অনেক সময় বেশি মানবিক, কারণ এতে মৃত্যু দ্রুত হয়।...
মনসামঙ্গল কাব্যের উদ্ভব,৪জন প্রাক চৈতন্য যুগের কবি ও শ্রেষ্ঠ কবির কবি-কৃতিত্ব (পশ্চিমবঙ্গ রাষ্ট্রীয় বিশ্ববিদ্যালয়/কলিকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের,প্রথম সেমিস্টার বাংলা মেজর)       • মনসামঙ্গল কাব্যের উদ্ভব ও পটভূমিঃ  মনসামঙ্গল কাব্যধারার উদ্ভব মূলত আর্য ও অনার্য সংস্কৃতির মিশ্রণের ফল। মধ্যযুগের বাংলায় মনসা ছিলেন সর্পভয়ের হাত থেকে মুক্তি পাওয়ার লৌকিক দেবী।আর সেখানে -     •  সামাজিক প্রেক্ষাপট : পাল ও সেন যুগের পরবর্তী সময়ে যখন বাংলার হিন্দু সমাজ নানা প্রতিকূলতার মধ্য দিয়ে যাচ্ছিল, তখন লৌকিক দেব-দেবীদের মাহাত্ম্য প্রচার শুরু হয়।      •  ধর্মীয় প্রেক্ষাপট : আর্য পুরাণের 'জরৎকারু' বা 'কদ্রু-বিনতা'র কাহিনীর সঙ্গে অনার্য ব্রতকথা ও কৃষিজীবী মানুষের বিশ্বাস মিলেমিশে এই কাব্যের জন্ম দেয়। মূলত চাঁদ সদাগরের মতো একনিষ্ঠ শিবভক্তের দর্প চূর্ণ করে মনসার পূজা প্রতিষ্ঠার কাহিনীই এর মূল উপজীব্য।   প্রাক-চৈতন্য যুগের চারজন কবির নাম মনসামঙ্গল কাব্যধারার আদি কবিদের অধিকাংশই চৈতন্যপূর্ব যুগের। তাঁদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য চারজন হলেন-       ...
 পশ্চিমবঙ্গ মধ্যশিক্ষা পর্ষদের সপ্তম শ্রেণির দ্রুতপঠন 'মাকু' উপন্যাসের প্রথম ৩ পৃষ্ঠায় (প্রথম অধ্যায়) গল্পের চমৎকার সূচনা ও প্রধান চরিত্রদের পরিচয় দেওয়া হয়েছে। এর মূল বিষয়বস্তু নিচে আলোচনা করা হলো: ১. আম্মা ও দয়াময়ীর কথা গল্পের শুরু হয় দুই বোন আম্মা ও দয়াময়ী (যাদের আমরা সোনা ও টিয়া হিসেবে চিনি)-র কথোপকথন দিয়ে। তারা তাদের প্রিয় পুতুলগুলোকে নিয়ে খেলছিল। বড়দের শাসনে থাকা এই দুই ছোট্ট মেয়ের মনে তখন চলছে রোমাঞ্চকর অভিযানের পরিকল্পনা। ২. কালিয়ার বনের রহস্য সোনা ও টিয়া তাদের মেজমামার কাছে শুনেছে যে কালিয়ার বনে গেলেই নাকি সব অদ্ভুত কাণ্ড ঘটে । সেই বনে বাঘ আছে, ভাল্লুক আছে, আর আছে হরেক রকমের মজার মানুষ। তাদের বাড়ির চাকর পাচু বারবার সাবধান করে যে কালিয়ার বনে গেলে আর ফেরা যায় না, কিন্তু ছোটদের মন তো আর বাধা মানে না! ৩. নোটো মাস্টারের সার্কাস পার্টি সোনা ও টিয়া জানতে পারে যে তাদের পরিচিত নোটো মাস্টার কালিয়ার বনে এক বিরাট সার্কাস পার্টি খুলে বসেছেন। সেখানে জাদুকর আছে, সঙ আছে, আর আছে আশ্চর্য সব জানোয়ার। সোনা ও টিয়া ঠিক করে যে তারা লুকিয়ে সেই বনে যাবে এবং এই অদ্ভুত জগতটা স্বচক্ষে দেখবে।...
 পশ্চিমবঙ্গ মধ্যশিক্ষা পর্ষদের সপ্তম শ্রেণির পাঠ্যসূচির অন্তর্ভুক্ত শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়ের 'পাগলা গণেশ' একটি চমৎকার বিজ্ঞানধর্মী (Science Fiction) গল্প। নিচে গল্পের সংক্ষিপ্তসার ও প্রয়োজনীয় তথ্য দেওয়া হলো: মূল তথ্য  * লেখক: শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়।  * গল্পের প্রেক্ষাপট: ভবিষ্যৎ পৃথিবী, সাল ৩৫৮৯।  * মূল উপজীব্য: যান্ত্রিক সভ্যতার যুগে মানবিকতা, শিল্পকলা এবং সৃজনশীলতার গুরুত্ব। গল্পের সংক্ষিপ্তসার ১. যান্ত্রিক ভবিষ্যৎ ও বিজ্ঞানের জয়জয়কার: ৩৫৮৯ সালে পৃথিবী বিজ্ঞানে চরম উন্নতি করেছে। মানুষ অমরত্ব লাভ করেছে (মৃত্যুঞ্জয়ী টনিক আবিষ্কারের ফলে), মহাকাশ ভ্রমণ সহজ হয়ে গেছে। কিন্তু এই অতি-আধুনিক যুগে মানুষের মন থেকে মায়া, দয়া, ভালোবাসা এবং বিশেষ করে কবিতা, গান ও ছবির মতো সুকুমার বৃত্তিগুলো হারিয়ে গেছে। লোকে মনে করে এসব ‘অপ্রয়োজনীয় সময় নষ্ট’। ২. গণেশ ও তার ব্যতিক্রমী অবস্থান: গল্পের নায়ক গণেশ একজন ২০০ বছরের বৃদ্ধ। তিনি বিজ্ঞানের এই যান্ত্রিকতা মেনে নিতে পারেননি। যখন পৃথিবী থেকে শিল্প-সাহিত্য বিলুপ্তপ্রায়, তখন গণেশ হিমালয়ের নির্জন গুহায় বসে কবিতা লেখেন, ছবি আঁকেন আর গান গান। ত...

স্বামী বিবেকানন্দের শিক্ষাদর্শ ও শিক্ষার লক্ষ্য আলোচনা করো।

স্বামী বিবেকানন্দের শিক্ষাদর্শ ও শিক্ষার লক্ষ্য আলোচনা করো (পশ্চিমবঙ্গ রাষ্ট্রীয় বিশ্ববিদ্যালয় প্রথম সেমিস্টার এডুকেশন মাইনর সিলেবাস)।         আলোচনার শুরুতেই আমরা বলে রাখি যে,যুগনায়ক স্বামী বিবেকানন্দ ছিলেন একজন মহান দার্শনিক এবং জাতীয়তাবাদী শিক্ষাগুরু। তাঁর মতে, শিক্ষা কেবল তথ্য সংগ্রহ করা নয়, বরং চরিত্রের বিকাশ। এই প্রসঙ্গে তিনি বলেন- " Education is the manifestation of the perfection already in man"           অর্থাৎ, মানুষের মধ্যে আগে থেকেই যে পূর্ণতা বিদ্যমান, তার বহিঃপ্রকাশই হলো শিক্ষা।     • বিবেকানন্দের মতে শিক্ষার প্রধান লক্ষ্যসমূহ•        ১)   চরিত্র গঠনঃ  বিবেকানন্দের মতে, শিক্ষার প্রধান ও প্রথম লক্ষ্য হলো চরিত্র গঠন। তিনি মনে করতেন, এমন শিক্ষা প্রয়োজন যা মানুষকে নিজের পায়ে দাঁড়াতে শেখায় এবং কঠোর পরিশ্রমী ও নীতিবান করে তোলে। তাঁর কথায়-         "যে শিক্ষা মানুষকে নিজের পায়ে দাঁড়াতে সাহায্য করে না, তাকে শিক্ষা বলা যায় না।"         ২) মান...

প্রমথ চৌধুরীর ‘ভারতচন্দ্র’ প্রবন্ধের উদ্দেশ্য ও সাহিত্যিক বিচার করো।

প্রমথ চৌধুরীর ‘ভারতচন্দ্র’ প্রবন্ধের উদ্দেশ্য ও সাহিত্যিক বিচার করো (পশ্চিমবঙ্গ রাষ্ট্রীয় বিশ্ববিদ্যালয় পঞ্চম সেমিস্টার বাংলা মেজর সিলেবাস)।         আলোচনার শুরুতেই আমরা বলে রাখি যে,প্রমথ চৌধুরীর ' ভারতচন্দ্র' প্রবন্ধে মধ্যযুগের শেষ বড় কবি ভারতচন্দ্র রায়গুণাকরকে আধুনিক মননশীল ও যুক্তিগ্রাহ্য দৃষ্টিভঙ্গিতে বিচার করেছেন। যেখানে প্রমথ চৌধুরী তাঁর 'ভারতচন্দ্র' প্রবন্ধের মাধ্যমে গতানুগতিক সমালোচনার ধারা ভেঙে এক নতুন সাহিত্যিক চেতনার উন্মেষ ঘটাতে চেয়েছেন। উনিশ শতকীয় সমালোচকরা ভারতচন্দ্রকে কেবল ‘অশ্লীল’ বা ‘কুরুচিপূর্ণ’ বলে দেগে দিলেও, প্রমথ চৌধুরী তাঁর প্রবন্ধে কয়েকটি বিশেষ উদ্দেশ্য সিদ্ধ করেছেন।আর সেই দিকগুলি হলো-           ভারতচন্দ্রের কাব্যশৈলী ও শিল্পরূপের পুনরুদ্ধার করেন প্রমথ চৌধুরী।প্রবন্ধটির অন্যতম প্রধান উদ্দেশ্য হলো ভারতচন্দ্রের কাব্যের আঙ্গিক বা 'Form'-এর প্রশংসা করা। মধ্যযুগের অন্য কবিরা যখন ধর্মের আবেগে আপ্লুত ছিলেন, ভারতচন্দ্র তখন ছিলেন সচেতন শিল্পী। প্রমথ চৌধুরী দেখিয়েছেন-  ভারতচন্দ্রই প্রথম বাংলা কাব্যে 'আর্ট' বা পরিম...