রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের শিক্ষা দর্শন এবং তাঁর মতে শিক্ষার প্রধান লক্ষ্যগুলি কী কী? বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর কেবল একজন সাহিত্যিক ছিলেন না, তিনি ছিলেন বিশ্বশিক্ষার ইতিহাসে এক অনন্য শিক্ষাবিদ ও ভাবুক। তাঁর শিক্ষার মূল ভিত্তি ছিল **প্রকৃতিবাদ (Naturalism), মানবতাবাদ (Humanism) এবং আন্তর্জাতিকতাবাদ (Internationalism)**-এর এক অভূতপূর্ব সংমিশ্রণ। তাঁর মতে, শিক্ষা কোনো চার দেয়ালের বন্দিশালা হতে পারে না; প্রকৃত শিক্ষা ঘটে প্রকৃতির উন্মুক্ত কোলে, জীবনের গতিময়তায়। ## রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের শিক্ষা দর্শনের মূল ভিত্তি রবীন্দ্রনাথের শিক্ষা দর্শন তিনটি প্রধান স্তম্ভের ওপর দাঁড়িয়ে আছে: 1. **প্রকৃতির সাহচর্য:** প্রকৃতি হলো সর্বশ্রেষ্ঠ শিক্ষক। বাঁধাধরা শ্রেণীকক্ষের বাইরে প্রকৃতির স্বাধীন পরিবেশে শিশু সহাজভাবে শিখতে পারে। 2. **স্বাধীনতা (Freedom):** শিক্ষার মূল শর্ত হলো শিশুর শারীরিক, মানসিক ও প্রাক্ষোভিক স্বাধীনতা। ভয় বা শাসনের মাধ্যমে শিক্ষা দেওয়া যায় না। 3. **আত্মসক্রিয়তা ও সৃষ্টিশীলতা:** মুখস্থবিদ্যার বদলে ছবি আঁকা, গান, নাটক, হস্তশিল্প ও কাজের মাধ্যমে আনন্দের সাথে শিক্ষালাভ...
রাধাকৃষ্ণাণের মতে শিক্ষার লক্ষ্যসমূহ উল্লেখ করো। স্বাধীন ভারতের প্রথম শিক্ষা কমিশন — **বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষা কমিশন (১৯৪৮–৪৯)**-এর সভাপতি ড. সর্বপল্লী রাধাকৃষ্ণান ছিলেন একজন বিশ্বখ্যাত দার্শনিক ও শিক্ষাবিদ। তাঁর মতে, শিক্ষা কেবল ডিগ্রি অর্জন বা কিছু তথ্য মুখস্থ করা নয়; শিক্ষার প্রকৃত কাজ হলো মানুষের আত্মিক, নৈতিক ও মানবিক গুণাবলীর বিকাশ ঘটানো। ## ড. রাধাকৃষ্ণানের মতে শিক্ষার মূল লক্ষ্যসমূহ ### ১. আত্মিক ও নৈতিক বিকাশ (Spiritual and Moral Development) রাধাকৃষ্ণান মনে করতেন, নীতিহীন জ্ঞান বিপজ্জনক। শিক্ষার অন্যতম প্রধান লক্ষ্য হলো মানুষের হৃদয়ের পরিশীলন ঘটিয়ে তার মধ্যে সত্য, দয়া, সততা ও আধ্যাত্মিক মূল্যবোধ জাগ্রত করা। ### ২. গণতান্ত্রিক সুনাগরিক গঠন (Democratic Values and Citizenship) স্বাধীন ভারতের প্রেক্ষাপটে শিক্ষার একটি প্রধান কাজ হলো যোগ্য সুনাগরিক তৈরি করা। শিক্ষার্থীদের মনে স্বাধীনতা, সমতা, ন্যায়বিচার, সহনশীলতা ও সামাজিক দায়িত্ববোধ গড়ে তোলা শিক্ষার লক্ষ্য। ### ৩. সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের সংরক্ষণ ও নবায়ন (Preservation and Renewal of Culture) শিক্ষার কাজ কেবল অতীত সংস্কৃতিকে ...