Skip to main content

Posts

 ভূগোল বা ভূতত্ত্বের ভাষায় ইয়ারদাঙ (Yardang) হলো মরুভূমি অঞ্চলে বায়ুর ক্ষয়কার্যের ফলে সৃষ্ট এক বিশেষ ধরনের ভূমিরূপ। সহজ কথায়, মরুভূমিতে কঠিন ও কোমল শিলাস্তর যদি একে অপরের সঙ্গে সমান্তরালভাবে বা লম্বালম্বিভাবে অবস্থান করে, তবে বায়ুর ঘর্ষণজনিত ক্ষয়ের (Abrasion) ফলে এই ভূমিরূপ তৈরি হয়। ১. সৃষ্টির প্রক্রিয়া যখন মরুভূমির ওপর দিয়ে প্রবল বেগে বাতাস বয়ে যায়, তখন বাতাসের সাথে থাকা বালুকণা কোমল শিলাকে দ্রুত ক্ষয় করে দেয়। কিন্তু কঠিন শিলাগুলো সহজে ক্ষয় হয় না। ফলে কোমল শিলাস্তর ক্ষয় হয়ে সরু গর্ত বা খাতের মতো তৈরি হয় এবং কঠিন শিলাস্তরগুলো খাড়াভাবে দাঁড়িয়ে থাকে। এই সমান্তরাল শৈলশিরাগুলোকেই ইয়ারদাঙ বলা হয়। ২. প্রধান বৈশিষ্ট্যসমূহ  * আকৃতি: এগুলো দেখতে অনেকটা উল্টানো নৌকার খোলের মতো হয়।  * উচ্চতা: এদের উচ্চতা সাধারণত ৫ মিটার থেকে ১৫ মিটার পর্যন্ত হতে পারে।  * বিচ্ছেদ: দুটি ইয়ারদাঙের মাঝখানের যে নিচু অংশ বা করিডোর থাকে, তাকে অনেক সময় 'গ্রোভ' বলা হয়।  * অবস্থান: এগুলি বায়ুপ্রবাহের সমান্তরালে অবস্থান করে। জিউগেন (Zeugen) ও ইয়ারদাঙের পার্থক্য অনেকে জিউগেন ও ইয়ারদাঙকে গুলিয়ে ফেলেন। ...
Recent posts

প্রথম সেমিস্টার বাংলা মেজর CC-1 সাজেশন ২০২৫-২৬

      West Bengal State University               BENGALI MAJOR CC-1             1st. Semester Suggestion                            2025-26                   একক-১ ১।       ক) •••চর্যাপদের গূঢ় ধর্মীয় সাধনতন্ত্রের প্রকাশ ঘটলেও তারই মধ্যে গানগুলিতে তৎকালীন সমাজ জীবন যেভাবে পরিলক্ষিত হয় তার পরিচয় দাও। / চর্যাপদের প্রতিফলিত ব্রাত্য জীবনকথার পরিচয় দাও  ••কে, কবে,কোথা থেকে চর্যাপদ আবিস্কার করেন? চর্যাপদের কাব্যমূল্য আলোচনা করো।                               •অথবা•        খ) •••শ্রীকৃষ্ণকীর্তন কাব্যের আবিষ্কার সম্পর্কিত তথ্য সংক্ষেপে লেখো। কাব্যটির কাব্যমূল্য সম্পর্কে সংক্ষেপে আলোচনা করো।২২ ••• শ্রীকৃষ্ণকীর্তন কাব্যে কয়টি খন্ড?এই কাব্যের কাহিনী ও আঙ্গিক আলোচনা করো।২১ •••শ্...

কোনি উপন্যাসের প্রথম অধ্যায় অবলম্বনে কোনি চরিত্রের আলোচনা।

' কোনি' উপন্যাসের প্রথম অধ্যায় অবলম্বনে কোনি চরিত্রটির সংক্ষিপ্ত পরিচয় নিচে দাও (পশ্চিমবঙ্গ মধ্যশিক্ষা পর্ষদের দশম শ্রেণী)       আলোচনার শুরুতেই আমরা বলে রাখি যে,মতি নন্দীর 'কোনি' উপন্যাসের প্রথম অধ্যায়ে বারুণীর গঙ্গা স্নানের ঘাটে আমরা প্রথম কনকচাঁপা পাল বা কোনি-কে দেখতে পাই। প্রথম দর্শনেই তার সংগ্রামী ও হার-না-মানা মানসিকতা ফুটে ওঠে।আর সেখানেই তার শারীরিক গঠন ও বেশভূষায় দেখতে পাই-        প্রথম অধ্যায়ে কোনিকে তেরো-চৌদ্দ বছরের এক কিশোরী হিসেবে দেখা যায়। তার গায়ের রং কালো, চোখ দুটি বড় বড় এবং সে অত্যন্ত রোগা। তার পরনে ছিল একটি ময়লা ত্যানাটে শাড়ি। এই সামান্য বর্ণনা থেকেই তার দরিদ্র পরিবারের অভাব-অনটনের ছবি স্পষ্ট হয়ে ওঠে।সেই ছবিতে দেখি-       কোনির অদম্য জেদ ও হার-না-মানা মনোভাব ।গঙ্গার ঘাটে আম কুড়ানোর প্রতিযোগিতায় কোনির চারিত্রিক দৃঢ়তা লক্ষ্য করা যায়। গঙ্গার প্রবল স্রোতে পঙ্কজ ও তার বন্ধুদের সাথে পাল্লা দিয়ে সে আম সংগ্রহ করে। ঘাটের ছেলেদের সাথে টক্কর দিয়ে আম ছিনিয়ে নেওয়ার মধ্য দিয়ে তার ভেতরে লুকিয়ে থাকা এক লড়াকু মানসিকতার পরিচয় পাওয়া যায়।...
 ‘যখন ছোট ছিলাম’ গ্রন্থে সত্যজিৎ রায়ের জীবনে ঘটে যাওয়া দুটি বিচিত্র ঘটনা : বিশ্লেষণ ও তাৎপর্য Satyajit Ray–এর আত্মস্মৃতিমূলক রচনা ‘যখন ছোট ছিলাম’ কেবল শৈশবস্মৃতির সরল বর্ণনা নয়; এটি এক শিল্পীমনের ক্রমবিকাশের দলিল। স্মৃতিচারণের আড়ালে লেখক তাঁর বোধ, কৌতূহল, পর্যবেক্ষণশক্তি এবং যুক্তিচেতনার উন্মেষকে সূক্ষ্মভাবে প্রকাশ করেছেন। গ্রন্থে উল্লিখিত বহু ঘটনার মধ্যে বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য— (১) ছোটদাদুর ‘অদৃশ্য’ হওয়ার ম্যাজিক এবং (২) ছাপাখানা দেখার অভিজ্ঞতা। এই দুটি ঘটনাকে কেবল বিচিত্র অভিজ্ঞতা হিসেবে দেখলে চলবে না; বরং এগুলির মধ্যেই ভবিষ্যৎ শিল্পীর মানসগঠনের ভিত্তি নিহিত। ১. ছোটদাদুর ‘অদৃশ্য’ হওয়ার ম্যাজিক : রহস্য থেকে যুক্তির দিকে শৈশবে ছোটদাদুর প্রদর্শিত ‘অদৃশ্য’ হওয়ার ম্যাজিক শিশুমনে তীব্র বিস্ময় সৃষ্টি করে। ঘটনাটি প্রথমে অলৌকিক বলে প্রতীয়মান হলেও পরবর্তীতে বোঝা যায়, এটি কৌশল ও দৃষ্টিভ্রমের ফল। এখানে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো— লেখক অন্ধ বিস্ময়ে থেমে থাকেননি; বরং ঘটনাটির অন্তর্নিহিত কারণ অন্বেষণের চেষ্টা করেছেন। এই অনুসন্ধিৎসাই তাঁর যুক্তিবাদী মানসিকতার সূচনা নির্দেশ করে। শিশুমনের কৌত...
 যখন ছোট ছিলাম গ্রন্থে সত্যজিৎ রায় তাঁর শৈশব জীবনের নানা স্মৃতি অত্যন্ত সহজ ও সাবলীল ভাষায় তুলে ধরেছেন। এই গ্রন্থে তাঁর জীবনে ঘটে যাওয়া দুটি বিচিত্র ঘটনা বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। ঘটনাগুলি তাঁর কৌতূহলী মন, পর্যবেক্ষণ ক্ষমতা এবং ভবিষ্যৎ শিল্পীসত্তার বিকাশের ইঙ্গিত বহন করে। নিচে ২০ নম্বরের উপযোগী বিস্তারিত নোট আকারে আলোচনা করা হলো। ✅ ভূমিকা ‘যখন ছোট ছিলাম’ গ্রন্থটি মূলত সত্যজিৎ রায়ের আত্মস্মৃতিমূলক রচনা। এখানে তাঁর শৈশব জীবনের পরিবেশ, পারিবারিক ঐতিহ্য, মানসিক বিকাশ এবং বিভিন্ন বাস্তব অভিজ্ঞতার বর্ণনা পাওয়া যায়। ছোটবেলায় ঘটে যাওয়া কিছু অদ্ভুত ও বিচিত্র ঘটনা তাঁর জীবনে গভীর প্রভাব বিস্তার করেছিল। বিশেষত ডাকাত দেখার অভিজ্ঞতা এবং ছাপাখানার প্রতি তাঁর আকর্ষণের ঘটনা তাঁর জীবনের গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হিসেবে বিবেচিত। ⭐ প্রথম বিচিত্র ঘটনা — ডাকাত দেখার অভিজ্ঞতা ● ঘটনার বিবরণ সত্যজিৎ রায় ছোটবেলায় তাঁর মামাবাড়িতে থাকাকালীন একবার ডাকাত পড়ার ঘটনা প্রত্যক্ষ করেন। একদিন হঠাৎ খবর আসে যে এলাকায় ডাকাত প্রবেশ করেছে। এই সংবাদে বাড়ির সকল সদস্য ভয়ে আতঙ্কিত হয়ে পড়েন এবং নিরাপত্তার জন্য নানা ব্...

ঈশ্বর পৃথিবী ভালোবাসা গ্রন্থে শিবরাম চক্রবর্তীর রাজনৈতিক আন্দোলনের যোগদান ও কারাবাসের অভিজ্ঞতার পরিচয় দাও।

  ঈ শ্বর পৃথিবী ভালোবাসা গ্রন্থে শিবরাম চক্রবর্তীর রাজনৈতিক আন্দোলনের যোগদান ও কারাবাসের অভিজ্ঞতার পরিচয় দাও (পশ্চিমবঙ্গ রাষ্ট্রীয় বিশ্ববিদ্যালয় পঞ্চম সেমিস্টার বাংলা মেজর)          শিবরাম চক্রবর্তীর আত্মজীবনী 'ঈশ্বর পৃথিবী ভালোবাসা' কেবল হাস্যকৌতুক বা নিরাসক্ত জীবনের আখ্যান নয়, এটি তাঁর দেশপ্রেম এবং ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামের এক উজ্জ্বল অধ্যায়কেও ধারণ করে আছে। এই গ্রন্থে তিনি তাঁর রাজনৈতিক আন্দোলনে যোগদান এবং জেল খাটার অভিজ্ঞতাকে অত্যন্ত নির্লিপ্ত অথচ শাণিত ভাষায় বর্ণনা করেছেন। আর সেই বর্ণনায় উঠে এসেছে  শিবরামের রাজনীতি ও কারাবাস। যেখানে আমরা দেখি-          শিবরাম চক্রবর্তীর জীবনে রাজনীতি ছিল এক আকস্মিক কিন্তু গভীর ঝোড়ো হাওয়ার মতো। তাঁর আত্মজীবনীতে তিনি দেখিয়েছেন কীভাবে মালদহের এক কিশোর দেশমাতৃকার টানে ঘর ছেড়ে কলকাতার ফুটপাতে আস্তানা গেড়েছিলেন এবং জড়িয়ে পড়েছিলেন অসহযোগ আন্দোলনের সঙ্গে।রাজনীতিতে যোগদান ও দেশবন্ধু চিত্তরঞ্জনের সান্নিধ্য। সেখানে -          শিবরাম যখন ছোট, তখন সারা ভারতে গান্ধীজির নেতৃ...

যখন ছোট ছিলাম গ্রন্থে সত্যজিৎ রায়ের শৈশব ভ্রমণ বর্ণনা করো।

যখন ছোট ছিলাম গ্রন্থে সত্যজিৎ রায়ের শৈশব ভ্রমণ বর্ণনা করো (পশ্চিমবঙ্গ রাষ্ট্রীয় বিশ্ববিদ্যালয় পঞ্চম সেমিস্টার বাংলা মেজর)          'যখন ছোট ছিলাম' গ্রন্থটি সত্যজিৎ রায়ের শৈশব ও কৈশোরের এক অসামান্য চিত্রশালা। এই গ্রন্থে তাঁর শৈশব ভ্রমণের যে বর্ণনা পাওয়া যায়, তা কেবল ভ্রমণের বিবরণ নয়, বরং এক ভবিষ্যৎ শিল্পীর চোখ দিয়ে দেখা বিশ্বপ্রকৃতি ও মানুষের চালচিত্র।সত্যজিৎ রায়ের শৈশব ছিল বৈচিত্র্যময় অভিজ্ঞতায় ভরপুর। তাঁর আত্মজীবনীমূলক গ্রন্থ 'যখন ছোট ছিলাম'-এ আমরা দেখি, অল্প বয়সেই তিনি ভারতের বিভিন্ন প্রান্তে ভ্রমণের সুযোগ পেয়েছিলেন। এই ভ্রমণগুলি তাঁর পর্যবেক্ষণ ক্ষমতা ও শৈল্পিক চেতনার বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিল। আর সেখানে-           সত্যজিতের শৈশব স্মৃতির এক উজ্জ্বল অংশ জুড়ে আছে ওড়িশার পুরী। সমুদ্রের বিশালতা তাঁকে প্রথমবার প্রকৃতির অসীমতার সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেয়। তিনি লিখেছেন- " পুরীতে গিয়ে আমার প্রথম যে জিনিসটা মনে হয়েছিল সেটা হল সমুদ্রের গর্জন। বালির ওপর দিয়ে হাঁটতে গিয়ে পায়ের আঙুলের ফাঁক দিয়ে বালি ঢোকার সেই শিরশিরে অনুভূতি আজও ম...