Skip to main content

Posts

রবীন্দ্র সমালোচনা সাহিত্য DS15,6th semester

 পশ্চিমবঙ্গ রাষ্ট্রীয় বিশ্ববিদ্যালয় (WBSU)-এর বাংলা মেজর বা অনার্স কোর্সে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের **'প্রাচীন সাহিত্য'** প্রবন্ধগ্রন্থটি একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পাঠ্য। বিগত বছরগুলির (CBCS এবং বর্তমান NEP শিক্ষাক্রম) পরীক্ষার প্রশ্নপত্র বিশ্লেষণ করলে দেখা যায় যে, এই গ্রন্থটি থেকে প্রধানত তিনটি স্তরের প্রশ্ন আসে— **১০ নম্বরের বড় প্রশ্ন (Broad Questions)**, **৫ নম্বরের মাঝারি বা ব্যাখ্যামূলক প্রশ্ন (Analytical/Explanation)** এবং **২ নম্বরের অতিসংক্ষিপ্ত প্রশ্ন (SAQ)**। বিগত বছরগুলিতে ঠিক কেমন ধরনের প্রশ্ন এসেছিল এবং কোন কোন প্রবন্ধের ওপর বেশি জোর দেওয়া হয়, তার একটি সম্পূর্ণ রূপরেখা নিচে দেওয়া হলো: ## ১. ১০ নম্বরের দীর্ঘ উত্তরধর্মী প্রশ্ন (Broad Questions) এই বিভাগে রবীন্দ্রনাথের সমালোচনার দৃষ্টিভঙ্গি, কাব্যের রসবিচার এবং তাঁর মৌলিক কবি-মানসের প্রকাশ নিয়ে প্রশ্ন আসে।  * **'কাদম্বরীচিত্র' প্রবন্ধ:**    * "কাদম্বরীচিত্র প্রবন্ধে রবীন্দ্রনাথ বাণভট্টের রচনার যে রসগ্রাহী আলোচনা করেছেন, তা নিজের ভাষায় লেখো।"    * মহাশ্বেতা ও কাদম্বরী— এই দুই চরিত্রের তুলনামূলক আলোচনা ...
Recent posts

শেষের কবিতা,কেতকীঃ অমিত ও লাবণ্যর সম্পর্কের ক্ষেত্রে কেতকী চরিত্রের ভূমিকা এবং তার সাথে অমিতের সম্পর্কের জটিলতা বিশ্লেষণ করো

কেতকীঃ অমিত ও লাবণ্যর সম্পর্কের ক্ষেত্রে কেতকী চরিত্রের ভূমিকা এবং তার সাথে অমিতের সম্পর্কের জটিলতা বিশ্লেষণ করো।পশ্চিমবঙ্গ রাষ্ট্রীয় বিশ্ববিদ্যালয় ষষ্ঠ সেমিস্টার বাংলা মেজর।          আলোচনা শুরুতেই আমরা বলতে পারি যে,রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘শেষের কবিতা’ উপন্যাসটি বাংলা উপন্যাস সাহিত্যে অন্যতম সেরা একটি মনস্তাত্ত্বিক উপন্যাস। যে উপন্যাসে অমিত, লাবণ্য ও কেতকী-এই তিনটি চরিত্র মিলে একটি সূক্ষ্ম মনস্তাত্ত্বিক আবর্ত তৈরি করে। কেতকী চরিত্রটি অমিত ও লাবণ্যর সম্পর্কের ক্ষেত্রে কেবল একটি বাহ্যিক বাধা নয়, বরং এটি অমিতের ব্যক্তিসত্তার দ্বান্দ্বিকতাকে প্রকট করার একটি মাধ্যম।কেতকী চরিত্র এবং অমিত-লাবণ্য-কেতকী ত্রিকোণ সম্পর্কের জটিলতা বিশ্লেষণের ওপর ভিত্তি করে তৈরি করা হয়েছে। আর সেখানে আমরা দেখি-           কেতকী হলো অমিতের অক্সফোর্ড জীবনের পরিচিতা, আধুনিক এবং কিছুটা বিলাসী এক নারী। সে লাবণ্যর সম্পূর্ণ বিপরীত মেরুর মানুষ । লাবণ্য যেখানে শান্ত ও গভীর, কেতকী সেখানে সরব, চঞ্চল ও অনেকটা অমিতেরই সমগোত্রীয়। সে জানে কীভাবে নিজের দাবি আদায় করতে হয়। অমিতের কাছে ...
 লাবণ্য: লাবণ্য চরিত্রটি অমিত থেকে কতটা আলাদা? তার ব্যক্তিত্বের গভীরতা ও ধৈর্য কীভাবে উপন্যাসে ফুটে উঠেছে?  পশ্চিমবঙ্গ রাষ্ট্রীয় বিশ্ববিদ্যালয় ষষ্ঠ সেমিস্টার বাংলা মেজর এই প্রশ্নটি উদ্ধৃতি সহ তথ্যমূলকভাবে ৬০০ শব্দের মধ্যে নোটটি বিস্তারিতভাবে প্রয়োজন ছাত্রছাত্রীদের জন্য নিশ্চয়ই। এবার উদ্ধৃতিগুলিকে আলোচনার মূল প্রবাহের সঙ্গে এমনভাবে গ্রথিত করছি যাতে ছাত্র-ছাত্রীরা বুঝতে পারে কেন উদ্ধৃতিটি সেই নির্দিষ্ট চরিত্রের বৈশিষ্ট্যকে ফুটিয়ে তুলছে। এটি পরীক্ষার খাতায় সরাসরি ব্যবহারের উপযোগী। ### **শেষের কবিতা: অমিত ও লাবণ্যর তুলনামূলক চরিত্রচিত্রণ ও লাবণ্যর ব্যক্তিত্বের গভীরতা** রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের 'শেষের কবিতা' উপন্যাসের মূল সুর অমিত ও লাবণ্যর প্রেম। এই উপন্যাসে অমিত এবং লাবণ্য দুটি ভিন্ন জীবনদর্শনের প্রতিনিধি। অমিতের চরিত্র যেখানে অস্থির, আড়ম্বরপূর্ণ এবং বুদ্ধির দ্বারা পরিচালিত, সেখানে লাবণ্যর চরিত্র স্থির, গভীর এবং অনুভূতির দ্বারা চালিত। #### **১. অমিত ও লাবণ্য: দৃষ্টিভঙ্গির সংঘাত** অমিত রায় অক্সফোর্ড-ফেরত ব্যারিস্টার, যার প্রতিটি আচরণে ‘আর্বানিটি’ বা নাগরিক আভিজাত্যের ছাপ স্পষ্ট। সে...

শেষের কবিতাঃঅমিত রায় চরিত্রটির মধ্যে তৎকালীন রবীন্দ্রমানসের যে আধুনিকতার প্রতিফলন ঘটেছে, তা আলোচনা করো।"

"অমিত রায় চরিত্রটির মধ্যে তৎকালীন রবীন্দ্রমানসের যে আধুনিকতার প্রতিফলন ঘটেছে, তা আলোচনা করো।" পশ্চিমবঙ্গ রাষ্ট্রীয় বিশ্ববিদ্যালয় ষষ্ঠ সেমিস্টার বাংলা মেজর।         আলোচনার শুরুতেই আমরা বলে রাখি যে,‘শেষের কবিতা’ উপন্যাসে অমিত রায় রবীন্দ্রমানসের আধুনিকতার বিচ্ছুরণ হিসেবে বিবেচিত। আর সেকারণেই রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘শেষের কবিতা’ (১৯২৯) বাংলা সাহিত্যের এক অসাধারণ সৃষ্টি। এই উপন্যাসের কেন্দ্রীয় চরিত্র অমিত রায় কেবল এক রোমান্টিক প্রেমিক নয়, সে তৎকালীন রবীন্দ্রমানসের এক প্রখর আধুনিকতার প্রতিনিধি।আসলে-           অক্সফোর্ড-ফেরত ব্যারিস্টার অমিত রায়ের চরিত্রটি প্রথাগত বাঙালির মানসলোক থেকে সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন। তার আধুনিকতার স্বরূপ প্রধানত তার বুদ্ধিদীপ্ত সংলাপ, ফ্যাশন-সচেতনতা এবং জীবনদর্শনের মধ্য দিয়ে ফুটে উঠেছে।শুধু তাই নয়-সেখানে আমরা দেখি-       অমিতের মধ্যে বুদ্ধিবৃত্তিক আভিজাত্য ও ব্যক্তিস্বাতন্ত্র্য। আসলে অমিত রায় প্রথাগত আবেগসর্বস্ব বাঙালি যুবক নয়। তার আধুনিকতার মূল ভিত্তি হলো তার তীক্ষ্ণ বুদ্ধি ও রসবোধ। সে সবকিছুকে যুক্তির কষ্টিপাথরে...

শেষের কবিতা’ উপন্যাসে বর্ণিত প্রেমতত্ত্বের স্বরূপ ব্যাখ্যা করো। ‘ঝরনার জল’ ও ‘ঘড়ায় তোলা জল’-এর রূপকটি প্রেমের বিচারে কতটা তাৎপর্যপূর্ণ?" আলোচনা করো।

‘ শেষের কবিতা’ উপন্যাসে বর্ণিত প্রেমতত্ত্বের স্বরূপ ব্যাখ্যা করো। ‘ঝরনার জল’ ও ‘ঘড়ায় তোলা জল’-এর রূপকটি প্রেমের বিচারে কতটা তাৎপর্যপূর্ণ?" আলোচনা করো।পশ্চিমবঙ্গ রাষ্ট্রীয় বিশ্ববিদ্যালয় ষষ্ঠ সেমিস্টার বাংলা মেজর।         আলোচনা শুরুতেই আমরা বলতে পারি যে,রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘শেষের কবিতা’ উপন্যাসের মূল উপজীব্য হলো প্রেমের নবমূল্যায়ন।  আসলে এখানে প্রেম কেবল হৃদয়ের আবেগ নয়, বরং বুদ্ধির সঙ্গে তার এক অপূর্ব মিলন ঘটেছে। এই উপন্যাসের প্রেমতত্ত্ব বুঝতে হলে অমিত রায়ের দুটি বিখ্যাত রূপক বোঝা জরুরি। আর সেখানে আমরা দেখতে পাই যে -      ১' ঘড়ায় তোলা জল' যা সামাজিক ও অভ্যস্ত প্রেম হিসেবে চিহ্নিত।আসলে অমিতের জীবনে কেতকীর সঙ্গে যে সম্পর্ক, তাকে সে ‘ঘড়ায় তোলা জল’হিসেবে চিহ্নিত করেছে। যেখানে-       ঘড়ায় তোলা জল যেমন পাত্রের মধ্যে স্থির থাকে, তেমনি সামাজিক গণ্ডিতে আবদ্ধ প্রেম বা দাম্পত্য জীবন একসময় অভ্যাসের দাস হয়ে পড়ে। সেখানে উত্তেজনার চেয়ে নিরাপত্তার বোধ বেশি থাকে।তবে সেখানে অমিতকে বলতে শোনা যায়-  "আমাদের অভ্যস্ততা হচ্ছে ঘড়ায় তোলা জল। সেটাকে...
 পশ্চিমবঙ্গ রাষ্ট্রীয় বিশ্ববিদ্যালয় (WBSU)-এর প্রথম সেমিস্টারের ইতিহাস মাইনর (History Minor) কোর্সের সিলেবাস, প্রশ্নপত্রের ধরণ এবং প্রয়োজনীয় বইপত্রের তালিকা নিচে বিস্তারিত আলোচনা করা হলো। সোশ্যাল মিডিয়া বা ব্লগে শেয়ার করার জন্য প্রয়োজনীয় গুরুত্বপূর্ণ হ্যাশট্যাগগুলোও নিচে জুড়ে দেওয়া হয়েছে। ​১. সিলেবাস (Syllabus) ​WBSU-এর নতুন চার বছরের স্নাতক (CCFUP/NEP) শিক্ষাক্রম অনুযায়ী প্রথম সেমিস্টারের ইতিহাস মাইনর কোর্সের মূল বিষয় হলো "ভারতের ইতিহাস: প্রাচীনকাল থেকে ১২০৬ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত" (History of India: From Earliest Times to 1206 CE)। ​প্রধান আলোচ্য বিষয়সমূহ: ​ঐতিহাসিক উপাধান: প্রত্নতাত্ত্বিক এবং সাহিত্যিক উপাদানের গুরুত্ব। ​প্রাগৈতিহাসিক ভারত: প্রস্তর যুগ (প্রাচীন, মধ্য ও নব্য প্রস্তর যুগ), হরপ্পা সভ্যতা (উৎস, বিস্তার, নগর পরিকল্পনা ও পতন)। ​বৈদিক যুগ: ঋগ্বৈদিক ও পরবর্তী বৈদিক যুগের সমাজ, অর্থনীতি, রাজনীতি ও ধর্ম। ​প্রতিবাদী ধর্ম আন্দোলন: জৈনধর্ম ও বৌদ্ধধর্মের উত্থান ও নীতি। ​সাম্রাজ্য গঠন: ষোড়শ মহাজনপদ, মগধের উত্থান, মৌর্য সাম্রাজ্য (চন্দ্রগুপ্ত মৌর্য ও অশোকের ধম্ম)। ​মৌর্য-পর...

প্রাচীন ভারতের ইতিহাস রচনায় সাহিত্যিক উপাদানের গুরুত্ব আলোচনা করো।

প্রাচীন ভারতের ইতিহাস রচনায় সাহিত্যিক উপাদানের গুরুত্ব আলোচনা করো।পশ্চিমবঙ্গ রাষ্ট্রীয় বিশ্ববিদ্যালয়। প্রথম সেমিস্টার ইতিহাস মাইনর।       আলোচনা শুরুতেই আমরা বলে রাখি যে,প্রাচীন ভারতের ইতিহাস পুনর্গঠনে প্রত্নতাত্ত্বিক উপাদানের পাশাপাশি সাহিত্যিক উপাদানের গুরুত্ব অপরিসীম।কারণ ইতিহাস কেবল শাসক বা যুদ্ধের বিবরণ নয়, বরং তৎকালীন সমাজ, ধর্ম, দর্শন এবং মানুষের জীবনযাত্রার প্রতিফলন। আর সেখানে-      প্রাচীন ভারতের ইতিহাস রচনায় সাহিত্যিক উপাদানের গুরুত্ব আমরা দেখতে পাই-প্রাচীন ভারতের ইতিহাস রচনার উপাদান হিসেবে সাহিত্যিক সাহিত্যিক উৎসকে প্রধানত দুই ভাগে ভাগ করা যায়। আর সেই ভাগ গুলি হলো- দেশীয় সাহিত্য এবং বিদেশি বিবরণ । এই উপাদানগুলি প্রাচীন ভারতের রাষ্ট্রব্যবস্থা, সামাজিক কাঠামো, অর্থনৈতিক ক্রিয়াকলাপ এবং সাংস্কৃতিক বিবর্তনের অমূল্য তথ্য প্রদান করে।  ১.দেশীয় সাহিত্যিক উপাদানঃ দেশীয় সাহিত্যকে আবার কয়েকটি ভাগে বিভক্ত করা যায়।যার মধ্যে অন্যতম হলো ধর্মীয় সাহিত্য।আর সেই ধর্মীয় সাহিত্যের মধ্যে আছে-       • বৈদিক সাহিত্যঃ ঋগ্বেদ, সাম, যজু, অথর...