Skip to main content

Posts

ষোড়শ মহাজনপদের নাম লেখো।

  ষোড়শ মহাজনপদের নাম লেখো।          প্রাচীন ভারতের খ্রিস্টপূর্ব ষষ্ঠ শতকে গঙ্গা অববাহিকা ও তার আশেপাশের অঞ্চলে ষোলোটি প্রধান রাজ্য ও প্রজাতন্ত্র গড়ে উঠেছিল, যা ইতিহাসে ষোড়শ মহাজনপদ নামে পরিচিত।সেই ষোলোটি মহাজনপদের নাম হলো-  •অঙ্গ (রাজধানী: চম্পা)•মগধ (রাজধানী: রাজগৃহ/গিরিব্রজ, পরবর্তীতে পাটলিপুত্র)•কাশী (রাজধানী: বারাণসী)•কোশল (রাজধানী: শ্রাবস্তী/অযোধ্যা)• বজ্জি / ব্রিজি (রাজধানী: বৈশালী) — এটি একটি গণসংঘ বা প্রজাতন্ত্র ছিল• মল্ল (রাজধানী: কুশীনগর ও পবা)-এটিও একটি প্রজাতন্ত্র ছিল •চেদি (রাজধানী: শুক্তিমতী)•বৎস (রাজধানী: কৌশাম্বী)       •কুরু (রাজধানী: ইন্দ্রপ্রস্থ)•পাঁচাল (রাজধানী: অহিচ্ছত্র ও কম্পিল্য)• মৎস্য (রাজধানী: বিরাটনগর)• শূরসেন (রাজধানী: মথুরা)• অশ্মক / অসক (রাজধানী: পোতালি/পোতন) -দক্ষিণ ভারতের একমাত্র মহাজনপদ• অবন্তী (রাজধানী: উজ্জয়িনী ও মহিষ্মতী)•গান্ধার (রাজধানী: তক্ষশীলা)• কম্বোজ (রাজধানী: রাজপুর/হাটক)
Recent posts

বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে ষোড়শ শতককে কেন স্বর্ণযুগ বলা হয় কেন?

বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে ষোড়শ শতককে কেন স্বর্ণযুগ বলা হয় কেন? আলোচনা করো।      বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে ষোড়শ শতককে (১৫০১–১৬০০ খ্রিষ্টাব্দ) শ্রীচৈতন্যদেবের আবির্ভাব ও চৈতন্যদেব-পরবর্তী সাহিত্যের এক অসামান্য বিকাশকাল হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। এই সময়ের সাহিত্যিক সমৃদ্ধির কারণে একে বাংলা সাহিত্যের স্বর্ণযুগ বলা হয়।তর মূল কারণগুলো হলো-       • চৈতন্যদেবের প্রভাব ও বৈষ্ণব সাহিত্য। ষোড়শ শতকে শ্রীচৈতন্যদেবের উদার মানবতাবাদী বৈষ্ণব আন্দোলনের প্রভাবে বাংলা সাহিত্য অপ্রতিরোধ্য গতি লাভ করে। তাঁর ভাবাদর্শ কেন্দ্র করে বাংলা ভাষায় প্রথমবারের মতো জীবনী সাহিত্য (যেমন-কৃষ্ণদাস কবিরাজের শ্রীশ্রীচৈতন্যচরিতামৃত ও বৃন্দাবন দাসের চৈতন্যভাগবত) রচনার ধারা শুরু হয়।      • বৈষ্ণব পদাবলীর চরম উৎকর্ষ। এই শতকে পদাবলী সাহিত্য ভাব, ভাষা ও রস পরিবেশনায় চরম শিখরে পৌঁছায়। বিদ্যাLine (পূর্বসূরি), জ্ঞানদাস ও গোবিন্দদাসের মতো কবিদের পদাবলীতে রাধাকৃষ্ণের প্রেমকে কেন্দ্র করে প্রেম ও ভক্তির অপূর্ব সুর ঝংকৃত হয়।      • মঙ্গলকাব্যের রূপায়ন। ষোড়শ শতকেই মনসামঙ্গল...
 প্রাপক,                                                                        মাননীয় শুভেন্দু অধিকারী                                          মুখ্যমন্ত্রী,                                                                  পশ্চিমবঙ্গ সরকার। দ্বারা-                                                                        সভাপতি,          ...

ফলিত বা ব্যবহারিক নীতিশাস্ত্র কি? ফলিত বা ব্যবহারিক নীতিশাস্ত্রের প্রকৃতি আলোচনা করো।

ফলিত নীতিশাস্ত্র।। ফলিত বা ব্যবহারিক নীতিশাস্ত্র কি? ফলিত বা ব্যবহারিক নীতিশাস্ত্রের প্রকৃতি আলোচনা করো।পশ্চিমবঙ্গ রাষ্ট্রীয় বিশ্ববিদ্যালয় সপ্তম সেমিস্টার দর্শন মাইনর।       • ফলিত বা ব্যবহারিক নীতিশাস্ত্রঃ নীতিশাস্ত্রের যে শাখায় তাত্ত্বিক নীতির ভিত্তিতে মানবজীবনের বাস্তব, দৈনন্দিন ও নির্দিষ্ট ক্ষেত্রগুলির নৈতিক সমস্যা, সংকট ও দ্বন্দ্বে সঠিক সিদ্ধান্ত গ্রহণের আলোচনা করা হয়, তাকে ফলিত বা ব্যবহারিক নীতিশাস্ত্র (Applied Ethics) বলা হয়।আর এক্ষেত্রে ঐতিহ্যবাহী নীতিশাস্ত্র হলো-উপযোগবাদ, কর্তব্যবাদ। আর সেই শাস্ত্রে মূল নীতি নির্ধারণ করে- " সত্য কথা বলা উচিত" বা "সুখ বৃদ্ধি করা উচিত"। কিন্তু-          ফলিত নীতিশাস্ত্র এই সাধারণ নীতিগুলিকে বাস্তব জীবনের জটিল পরিস্থিতিতে প্রয়োগ করে।যেমন—ইচ্ছামৃত্যু,গর্ভপাত, পরিবেশ দূষণ, চিকিৎসাবিজ্ঞানের প্রযুক্তিগত ব্যবহার কিংবা ব্যবসায়িক আচরণের মতো বিষয়গুলিতে কোনো সিদ্ধান্ত নৈতিকভাবে গ্রহণযোগ্য কি না, তা বিচার করাই ফলিত নীতিশাস্ত্রের কাজ।      •ফলিত নীতিশাস্ত্রের প্রকৃতিঃ ফলিত নীতিশাস্ত্র আধুনি...

প্রতিবাদী ধর্মীয় আন্দোলন।।ভারতে প্রতিবাদীর ধর্ম আন্দোলন গড়ে ওঠার সামাজিক অর্থনৈতিক ও ধর্মীয় প্রেক্ষাপট আলোচনা করো।

প্রতিবাদী ধর্মীয় আন্দোলন।।ভারতে প্রতিবাদীর ধর্ম আন্দোলন গড়ে ওঠার সামাজিক অর্থনৈতিক ও ধর্মীয় প্রেক্ষাপট আলোচনা করো।পশ্চিমবঙ্গ রাষ্ট্রীয় বিশ্ববিদ্যালয়, প্রথম সেমিস্টার, ইতিহাস মাইনর।          আমরা জানি যে,প্রাচীন ভারতের ইতিহাসে খ্রিষ্টপূর্ব ষষ্ঠ শতক একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও যুগান্তকারী সময়।কারণ এই সময় গঙ্গারিডাই বা গাঙ্গেয় উপত্যকায় বৈদিক ব্রাহ্মণ্যধর্ম ও তার জটিল আচার-অনুষ্ঠানের বিরুদ্ধে এক ব্যাপক বুদ্ধিবৃত্তিক ও ধর্মীয় বিপ্লব সূচিত হয়, যা ‘প্রতিবাদী ধর্ম আন্দোলন’ নামে পরিচিত। এই আন্দোলনের ফলে জৈনধর্ম, বৌদ্ধধর্ম সহ প্রায় ৬২টি ভিন্ন মতবাদের উত্থান ঘটেছিল।আর সেখানে-         প্রাচীন ভারতে প্রতিবাদী ধর্ম আন্দোলন গড়ে ওঠার প্রেক্ষাপট হিসেবে আমারা দেখতে পাই-খ্রিষ্টপূর্ব ষষ্ঠ শতকে প্রতিবাদী ধর্ম আন্দোলনের উত্থান কোনো আকস্মিক ঘটনা ছিল না। তৎকালীন সমাজের আর্থ-সামাজিক, রাজনৈতিক ও ধর্মীয় ক্ষেত্রে পুঞ্জীভূত অসন্তোষই এই আন্দোলনের মূল ভিত্তি রচনা করেছিল। ১. সামাজিক প্রেক্ষাপটঃ পরবর্তী বৈদিক যুগে সমাজে চতুর্বর্ণ প্রথা (ব্রাহ্মণ, ক্ষত্রিয়, বৈ...

চর্যাপদ।।র্যাপদের গূঢ় ধর্মীয় সাধনতন্ত্রের প্রকাশ ঘটলেও তারই মধ্যে গানগুলিতে তৎকালীন সমাজ জীবন যেভাবে পরিলক্ষিত হয় তার পরিচয় দাও।

চর্যাপদ।।র্যাপদের গূঢ় ধর্মীয় সাধনতন্ত্রের প্রকাশ ঘটলেও তারই মধ্যে গানগুলিতে তৎকালীন সমাজ জীবন যেভাবে পরিলক্ষিত হয় তার পরিচয় দাও।পশ্চিমবঙ্গ রাষ্ট্রীয় বিশ্ববিদ্যালয় প্রথম সেমিস্টার বাংলা মেজর/মাইনর।।       আমরা জানি যে,বাংলা সাহিত্যের আদি নিদর্শন চর্যাপদ মূলত সহজিয়া বৌদ্ধ সিদ্ধাচার্যদের ধর্মীয় সাধনসংগীত। সাধনমার্গের গূঢ় সংকেত ও সন্ধ্যাভাষার (সন্ধ্যাভাষা বা আলীয়-কালীয় ভাষা) আবরণে এটি রচিত হলেও, তৎকালীন বাস্তব সমাজচিত্রের প্রতিফলনে এটি অনন্য। সিদ্ধাচার্যরা তাঁদের অমূর্ত সাধনতত্ত্বকে বোঝাতে গিয়ে তৎকালীন বাংলার মানুষের প্রাত্যহিক জীবনের নানা রূপক ও চিত্রকল্প ব্যবহার করেছিলেন। ফলে চর্যাপদে দশম থেকে দ্বাদশ শতকের অবহেলিত ও নিম্নবিত্ত সাধারণ মানুষের জীবনচ্ছবি অত্যন্ত স্পষ্টভাবে ফুটে উঠেছে।আর সেখানে আমরা দেখি-       • ভৌগোলিক পরিবেশ ও পেশাগত জীবন । চর্যাপদের সমাজ মূলত নদীমাতৃক বাংলার আবহমান জীবনধারাকে ফুটিয়ে তোলে। নদীর পাড়ে সাধারণ মানুষের বসবাস, নৌকা বা সাঁকো দিয়ে নদী পারাপার এবং দৈনন্দিন খেয়াঘাটের দৃশ্য এতে প্রচুর দেখা যায়।আর সেই চিত্রে আমরা দেখতে পাই-...

ইসলামিক সাহিত্য।। মধ্যযুগের দেবমহাত্ম্যপূর্ণ কাব্য রচনা পরিবর্তে মানুষের রোমান্টিক প্রেমগাঁথা রচনা করলেন আরাকানের রাজসভার কবিরা- মন্তব্যটি বিচার করো।

ইসলামিক সাহিত্য।। মধ্যযুগের দেবমহাত্ম্যপূর্ণ কাব্য রচনা পরিবর্তে মানুষের রোমান্টিক প্রেমগাঁথা রচনা করলেন আরাকানের রাজসভার কবিরা- মন্তব্যটি বিচার করো।পশ্চিমবঙ্গ রাষ্ট্রীয় বিশ্ববিদ্যালয় প্রথম সেমিস্টার বাংলা মেজর।        আলোচনার শুরুতেই আমরা বলে রাখি যে,বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে মধ্যযুগ মূলত দেবকেন্দ্রিক সাহিত্যধারার যুগ। মঙ্গলকাব্য, শ্রীকৃষ্ণকীর্তন কিংবা বৈষ্ণব পদাবলীতে দেবতার মাহাত্ম্য প্রচার ও অলৌকিকতাই ছিল কাব্য রচনার মূল অনুপ্রেরণা। এই ধারার সম্পূর্ণ বিপরীত মেরুতে দাঁড়িয়ে সপ্তদশ শতকে আরাকান (রোসাঙ্গ) রাজসভার কবিরা কাব্যের মূল চালিকাশক্তি হিসেবে দেবকাহিনীর পরিবর্তে মর্ত্যের মানুষের রক্ত-মাংসের রূপ, আবেগ ও প্রেমকে প্রতিষ্ঠা করেন।যেখানে -        বাংলা সাহিত্যের মধ্যযুগে মূলভূখণ্ডের সাহিত্য পরিবেশ ছিল দেবতাকেন্দ্রিক। চণ্ডীমঙ্গল, মনসামঙ্গল বা ধর্মমঙ্গলের মতো কাব্যে দেখা যায়, দেব-দেবীর কৃপা বা কোপ লাভই ছিল কাহিনীর প্রধান বিষয়। মানুষের সুখ-দুঃখ, ন্যায়-অন্যায় বা প্রেমের মূল্য ছিল গৌণ। কিন্তু সপ্তদশ শতকে বঙ্গভূমির সীমানা ছাড়িয়ে আরাকান বা রোসাঙ্গ...