পদ্মা নদীর মাঝি উপন্যাসে কুবের ও কপিলা—এই দুই চরিত্রের জটিল মনস্তাত্ত্বিক সম্পর্কটি বিশ্লেষণ করো। পশ্চিমবঙ্গ রাষ্ট্রীয় বিশ্ববিদ্যালয়, ষষ্ঠ সেমিস্টার বাংলা মেজর। আলোচনা শুরুতেই আমরা বলে রাখি যে,মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের 'পদ্মানদীর মাঝি' উপন্যাসে কুবের ও কপিলার সম্পর্ক কেবল দেহজ আকর্ষণ নয়, বরং এটি সমাজতত্ত্ব এবং ফ্রয়েডীয় মনস্তত্ত্বের এক চমৎকার মিশ্রণ। পদ্মার ঢেউয়ের মতো চঞ্চল আর রহস্যময় এই সম্পর্ক। আর এই নিরিখে তাদের সম্পর্কের মধ্যে আমরা দেখতে পাই- পদ্মা নদী মাঝি উপন্যাসে কুবের এবং কপিলা চরিত্রের মধ্যে আছে অবদমিত বাসনা ও ফ্রয়েডীয় তত্ত্ব। আসলেকুবেরের জীবনে তার স্ত্রী মালা হলো স্থিরতা ও কর্তব্যের প্রতীক। কিন্তু মালা পঙ্গু হওয়ার কারণে কুবেরের দাম্পত্য জীবনে এক ধরণের অপূর্ণতা কাজ করত। এই অবদমিত বাসনার প্রতিফলন ঘটে শ্যালিকা কপিলার প্রতি আকর্ষণে। কপিলা সেই প্রাণশক্তির প্রতীক, যা কুবেরের ধূসর জীবনে বৈচিত্র্য আনে। কুবের যখন কপিলার দিকে তাকায়, তখন সে কেবল এক নারীকে দেখে না, বরং সে নিজের না পাওয়া আকাঙ্ক্ষাগুলোকে খু...
সুকুমার রায়ের ‘নোটবুক' কবিতার মূল বিষয়বস্তু আলোচনা করো। পশ্চিমবঙ্গ মধ্যশিক্ষা পর্ষদ সপ্তম, শ্রেণী দ্বিতীয় সেমিস্টার বাংলা। সুকুমার রায়ের ‘নোটবুক’ কবিতাটি মূলত একটি কৌতূহলোদ্দীপক এবং হাস্যরসাত্মক কবিতা।‘নোটবুক’ কবিতার প্রধান চরিত্র হলো একটি শিশু (বা একজন কৌতূহলী মানুষ), যার হাতে সবসময় একটি নোটবুক থাকে। সে তার চারপাশের জগতের তুচ্ছাতিতুচ্ছ বিষয় নিয়ে প্রচণ্ড কৌতূহলী। যখনই সে নতুন কোনো তথ্য পায় বা তার মনে কোনো অদ্ভুত প্রশ্ন জাগে, তখনই সে সেটি তার নোটবুকে লিখে রাখে। কবিতাটির মূল সুর হলো অহেতুক কৌতূহল এবং অসংলগ্ন তথ্যের সংকলন। লেখক এখানে দেখিয়েছেন যে, অনেক সময় আমরা গুরুত্বহীন বিষয় নিয়ে মাথা ঘামাই, অথচ সেগুলোর বৈজ্ঞানিক বা যুক্তিনির্ভর কারণ না খুঁজে কেবল সেগুলোকে সংগ্রহ করতেই ব্যস্ত থাকি। আর সেখানে আমরা দেখি- তুচ্ছ বিষয়ে মনোযোগ হিসেবে নোটবুকের মালিক ফড়িংয়ের ক’টি পা কিংবা আরশোলা কী খায়, তা জানার জন্য ছটফট করে। তার কাছে এসব তথ্য অত্যন্ত মূল্যবান।আবার- বিচিত্র সব প্রশ্নে দেখা যায় কামড়ালে কেন আঙ...