Skip to main content

Posts

কার দৌড় কদ্দুর/শিবতোষ মুখোপাধ্যায়।

সপ্তম শ্রেণীর পাঠ্য 'কার দৌড় কদ্দুর' প্রবন্ধটি থেকে কিছু গুরুত্বপূর্ণ ছোট প্রশ্ন ও তার উত্তর নিচে আলোচনা করা হলো।  ১. অ্যামিবা কীভাবে চলাচল করে? উত্তরঃ অ্যামিবা তার দেহ থেকে বের হওয়া অস্থায়ী এক ধরণের পা বা 'ক্ষণপদ'-এর সাহায্যে চলাচল করে। ২. প্যারামেশিয়ামের চলন অঙ্গের নাম কী? উত্তরঃ প্যারামেশিয়ামের চলন অঙ্গ হলো সিলিয়া (Cilia), যা দেখতে অসংখ্য ছোট ছোট রোঁয়ার মতো। ৩. লেখক কাকে 'গমনশীলতার সবথেকে আদিম উদাহরণ' বলেছেন? উত্তরঃলেখক অ্যামিবার চলনকে গমনশীলতার সবথেকে আদিম বা পুরনো উদাহরণ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। ৪. শামুক কত দ্রুত চলতে পারে? উত্তরঃ শামুক অত্যন্ত ধীরগতিতে চলে। লেখকের মতে, শামুক এক ঘন্টায় মাত্র ০.০৫ মাইল পথ যেতে পারে। ৫. ক্যাঙ্গারুর চলন পদ্ধতি কেমন? উত্তরঃ  ক্যাঙারু মূলত তার শক্তিশালী পেছনের দুটি পায়ের সাহায্যে লাফিয়ে লাফিয়ে চলে। এক এক লাফে সে অনেকটা পথ পার হতে পারে। ৬. চিতা বাঘের গতিবেগ কত? উত্তরঃস্থলচর প্রাণীদের মধ্যে অত্যন্ত দ্রুতগামী চিতা বাঘ ঘন্টায় প্রায় ৭০ মাইলের কাছাকাছি দৌড়াতে পারে। ৭. মানুষ কীভাবে তার গতির সীমাবদ্ধতাকে জয় করেছে? উত্তরঃমানুষ তার বুদ্ধি...
Recent posts
•পড়াশোনায় মন বসানোর ৫টি বৈজ্ঞানিক উপায়• ​১. ভূমিকা (ইন্ট্রো): ​শুভেচ্ছা: নমস্কার, 'শেষের কবিতা সুন্দরবন' চ্যানেলে আপনাদের স্বাগত। আমি আপনাদের শিক্ষক [আপনার নাম]। ​হুক (Hook): পরীক্ষার রুটিন দিলেই আমরা পড়ার টেবিলে বসি, কিন্তু মনটা যেন জানলার বাইরে বা মোবাইলের স্ক্রিনে ঘুরে বেড়ায়। কেন এমন হয়? আজ আমি ৫টি বৈজ্ঞানিক পদ্ধতির কথা বলব, যা মেনে চললে পড়া মনে থাকবে পাথরের দাগের মতো। ​২. মূল ৫টি পয়েন্ট (বৈজ্ঞানিক উপায়): ​১. পোমোডোরো টেকনিক (Pomodoro Technique): ​বিষয়: একটানা ৩-৪ ঘণ্টা না পড়ে বিরতি দিয়ে পড়া। ​পদ্ধতি: ২৫ মিনিট মন দিয়ে পড়ুন, তারপর ৫ মিনিটের একটা ছোট ব্রেক নিন। বিজ্ঞানের মতে, মানুষের মস্তিষ্ক একটানা ৪৫ মিনিটের বেশি পূর্ণ মনোযোগ ধরে রাখতে পারে না। এই ছোট ব্রেক আপনার মস্তিষ্ককে রিচার্জ করবে। ​২. সক্রিয় স্মরণ বা অ্যাক্টিভ রিকল (Active Recall): ​বিষয়: শুধু রিডিং না পড়ে নিজেকে প্রশ্ন করা। ​পদ্ধতি: এক পাতা পড়ার পর বই বন্ধ করে ভাবুন কী পড়লেন। নিজে নিজেকে শিক্ষক ভেবে আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে পড়াটা বুঝিয়ে দিন। এতে পড়া মস্তিষ্কের 'লং টার্ম মেমোরি'তে চলে যায়। ​৩. 'টু-মিনিট' রু...
 মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের **'পদ্মা নদীর মাঝি'** কেবল কাহিনি বা চরিত্রের জন্য নয়, বরং তার ভাষাশৈলীর জন্যও বাংলা সাহিত্যে অনন্য। বিশেষ করে এই উপন্যাসে পূর্ববঙ্গের (বিক্রমপুর ও ঢাকা অঞ্চল সংলগ্ন) আঞ্চলিক ভাষার সার্থক প্রয়োগ ধীবর সমাজের জীবনচর্যাকে এক গভীর বিশ্বাসযোগ্যতা দান করেছে। পশ্চিমবঙ্গ রাষ্ট্রীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ষষ্ঠ সেমিস্টারের পাঠ্যসূচির নিরিখে আঞ্চলিক ভাষার গুরুত্ব নিচে বিস্তারিত আলোচনা করা হলো: # 'পদ্মা নদীর মাঝি' উপন্যাসে আঞ্চলিক ভাষার প্রয়োগ ও বিশ্বাসযোগ্যতা ### ভূমিকা: আঞ্চলিক ভাষা বা উপভাষা (Dialect) কোনো নির্দিষ্ট ভূখণ্ডের মানুষের প্রাণের স্পন্দন। মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় যখন পদ্মাপাড়ের অশিক্ষিত, শোষিত ও সংগ্রামী জেলেদের কথা লিখতে বসেছেন, তখন তিনি ড্রয়িংরুমের মার্জিত সাধু বা চলিত ভাষাকে বর্জন করেছেন। তিনি বুঝেছিলেন, কুবের-কপিলাদের সুখ-দুঃখ, রাগ-অভিমান এবং আদিম জীবনবোধকে ফুটিয়ে তুলতে হলে তাদের মুখের ভাষাকেই হাতিয়ার করতে হবে। এই ভাষাগত সততাই উপন্যাসটিকে একটি সার্থক 'আঞ্চলিক উপন্যাস' হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে। ### ১. স্থান ও পরিবেশের সাথে ভাষার সামঞ্জস্য: উপন্যা...

পদ্মা নদীর মাঝি" উপন্যাসে নদী কেবল পটভূমি নয়, বরং ভাগ্যবিধাতা,যেখানে আছে প্রকৃতি মানুষের দ্বন্দ্ব,সেখানে পদ্মার ভাঙন এবং প্রাচুর্য কীভাবে জেলেদের জীবনকে নিয়ন্ত্রণ করেছে?আলোচনা করো।

" পদ্মা নদীর মাঝি" উপন্যাসে নদী কেবল পটভূমি নয়, বরং ভাগ্যবিধাতা,যেখানে আছে প্রকৃতি  মানুষের দ্বন্দ্ব,সেখানে  পদ্মার ভাঙন এবং প্রাচুর্য কীভাবে জেলেদের জীবনকে নিয়ন্ত্রণ করেছে?আলোচনা করো। ( পশ্চিমবঙ্গ রাষ্ট্রীয় বিশ্ববিদ্যালয় ষষ্ঠ সেমিস্টার বাংলা মেজর)। ​        আলোচনার শুরুতেই আমরা বলে রাখি যে,বাংলা কথাসাহিত্যের ইতিহাসে মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের 'পদ্মা নদীর মাঝি' একটি অনন্য সৃষ্টি। ১৯৩৬ সালে প্রকাশিত এই উপন্যাসে পদ্মা নদীর তীরের কেতপুরি গ্রামের ধীবর সমাজের যে জীবনচিত্র চিত্রিত হয়েছে, তার প্রতিটি ছত্রে মিশে আছে প্রকৃতির আদিম ও অজেয় রূপ। পদ্মা এখানে কেবল মানুষের বেঁচে থাকার অবলম্বন নয়, বরং তাদের সুখ-দুঃখ, জন্ম-মৃত্যু এবং নৈতিকতার চূড়ান্ত নিয়ন্ত্রক।শুধু তাই নয়- ​        • অন্নদাত্রী ও সংহারিণী পদ্মা। পদ্মাপাড়ের জেলেদের কাছে নদীই ঈশ্বর, নদীই জীবন।আসলে বর্ষার মরসুমে যখন পদ্মা ইলিশের প্রাচুর্যে ভরে ওঠে, তখন জেলেদের দারিদ্র্যপীড়িত জীবনে ক্ষণিকের আনন্দের সঞ্চার হয়। কিন্তু এই অন্নদাত্রী রূপের আড়ালেই লুকিয়ে থাকে সংহারিণী মূর্তি। মাঝিরা জানে, পদ্মা ...

অধিকারের কী? অধিকারের প্রকৃতি ও শ্রেণিবিভাগ এবং আলোচনা করো।

অধিকারের কী? অধিকারের প্রকৃতি ও শ্রেণিবিভাগ এবং আলোচনা করো। পশ্চিমবঙ্গ রাষ্ট্র বিশ্ববিদ্যালয় কলিকাতা বিশ্ববিদ্যালয় প্রথম সেমিস্টার রাষ্ট্রবিজ্ঞান মাইনর। ​        অধিকারের সংজ্ঞা : অধিকার হলো সমাজ কর্তৃক স্বীকৃত এবং রাষ্ট্র কর্তৃক সংরক্ষিত এমন কিছু সুযোগ-সুবিধা, যা মানুষের ব্যক্তিত্ব বিকাশের জন্য অপরিহার্য।অধ্যাপক ল্যাস্কির মতে-  অধিকার হলো মানুষের ব্যক্তিত্ব বিকাশের অপরিহার্য শর্ত। তাঁর ভাষায়- ​" অধিকার হলো সমাজ জীবনের সেই সকল শর্তাবলি, যা ছাড়া মানুষ সাধারণভাবে তার ব্যক্তিত্বের পূর্ণ বিকাশ ঘটাতে পারে না।" (Rights are those conditions of social life without which no man can seek, in general, to be himself at his best.) ​ অধিকারের বৈশিষ্ট্য: ​•অধিকার কেবল সমাজেই ভোগ করা যায়। ​•এটি অবাধ নয় (সীমাবদ্ধতা আছে)। ​•অধিকার ও কর্তব্য একে অপরের পরিপূরক। ​ শ্রেণিবিভাগ ​• নৈতিক অধিকার- (যেমন: বড়দের শ্রদ্ধা করা)। ​• আইনগত অধিকার- যাকে তিন ভাগে ভাগ করা যায়— সামাজিক, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক)। ​       • অধিকারের রক্ষাকবচঃ   সংবিধান বা বিচারবিভাগ আমাদে...

সামাজিক চুক্তি মতবাদের খসড়া।

           নমস্কার, শেষের কবিতা সুন্দরবন চ্যানেলে আপনাদের সকলকে স্বাগত। আজ আমরা পশ্চিমবঙ্গ রাষ্ট্র বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম সেমিস্টারের রাষ্ট্রবিজ্ঞান মাইনর কোর্সের একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে আলোচনা করব। সেটি হলো—         সামাজিক চুক্তি মতবাদ। হবস, লক এবং রুসো—এই তিন জন দার্শনিকের হাত ধরে রাষ্ট্র কিভাবে বিবর্তিত হয়েছে, তা আজ আমরা খুব সহজ ভাষায় বুঝে নেব। চলুন শুরু করা যাক।" ​ পদ্ধতি ২: কৌতূহল উদ্দীপক (Curiosity Driven) ​     " আচ্ছা, আপনারা কি কখনো ভেবে দেখেছেন এই যে রাষ্ট্র বা সরকার আমাদের শাসন করছে, এর জন্ম হলো কিভাবে? মানুষ কি জন্ম থেকেই রাষ্ট্রের অধীনে ছিল, নাকি কোনো এক বিশেষ প্রয়োজনে মানুষ নিজেই রাষ্ট্র তৈরি করেছে? এই রহস্যের সমাধান লুকিয়ে আছে সামাজিক চুক্তি মতবাদে।                 আজ WBSU-এর ফার্স্ট সেমিস্টার সিলেবাস অনুযায়ী আমরা এই মতবাদটি নিয়ে বিস্তারিত কিন্তু সংক্ষেপে আলোচনা করব। আমি আপনাদের সঙ্গে আছি [আপনার নাম], আপনারা দেখছেন শেষের কবিতা সুন্দরবন।" ​ পদ্ধতি...

মহাকাব্যের সংজ্ঞা ও লক্ষণগুলি/বৈশিষ্টগুলি আলোচনা করো। বাংলা সাহিত্যে একটি সার্থক মহাকাব্যের পরিচয় দাও।

মহাকাব্যের সংজ্ঞা ও লক্ষণগুলি/বৈশিষ্টগুলি আলোচনা করো। বাংলা সাহিত্যে একটি সার্থক মহাকাব্যের পরিচয় দাও।(পশ্চিমবঙ্গ রাষ্ট্রীয় বিশ্ববিদ্যালয় চতুর্থ সেমিস্টার,বাংলা মেজর ডি এস ৫)। মহাকাব্যের সংজ্ঞাঃ সংস্কৃত অলঙ্কার শাস্ত্রবিদদের মতে, মহাকাব্য হলো সর্গবদ্ধ এমন এক দীর্ঘ বর্ণনাধর্মী কাব্য, যেখানে দেবতা বা উচ্চবংশীয় কোনো ধীরোদাত্ত নায়কের জীবন ও মহত্ত্ব বর্ণিত হয়।তবে পাশ্চাত্য মতে, এটি একটি সুদীর্ঘ কাহিনীকাব্য যা গম্ভীর ও উদাত্ত শৈলীতে মহিমান্বিত কোনো বিষয়বস্তু নিয়ে রচিত হয়।আর এই আলোচনার পরিপ্রেক্ষিতে আমরা মহাকাব্যের যে বৈশিষ্ট্যগুলি পাই তা হলো- ​     ১)বিষয়বস্তুর ব্যাপকতার নিরিখে মহাকাব্যের কাহিনী কোনো তুচ্ছ বিষয় নিয়ে হয় না। এটি কোনো ঐতিহাসিক বা পৌরাণিক বীরত্বপূর্ণ বড় ঘটনাকে কেন্দ্র করে আবর্তিত হয়।      ২) মহাকাব্যের নায়ককে হতে হবে অসাধারণ চারিত্রিক গুণাবলি র অধিকারী, উচ্চবংশীয় বা দিব্য গুণসম্পন্ন।     ৩) মহাকাব্যে বীর রস, করুণ রস বা শান্ত রসের প্রাধান্য থাকে। তবে বীর রসই মূলত প্রধান হয়ে ওঠে।       ৪) সংস্কৃত নিয়ম অনুযায়ী মহাকাব্যকে কয়...