Skip to main content

Posts

অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুরের 'আপনকথা' গ্রন্থটির শ্রেণি বিচার বা সাহিত্যিক প্রকরণ আলোচনা করো (

অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুরের 'আপনকথা' গ্রন্থটির শ্রেণি বিচার বা সাহিত্যিক প্রকরণ বা আত্মজীবনী বা স্মৃতিকথা   আলোচনা করো (পশ্চিমবঙ্গ রাষ্ট্রীয় বিশ্ববিদ্যালয় পঞ্চম সেমিস্টার বাংলা মেজর সিলেবাস)।          আলোচনার শুরুতেই আমরা বলে রাখি যে,শিল্পাচার্য অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘আপনকথা’ (১৯৪৬) বাংলা সাহিত্যের একটি অনন্যসাধারণ সৃষ্টি। এটি মূলত লেখকের শৈশব ও কৈশোরের স্মৃতিকথা। তবে গ্রন্থটি কেবল ব্যক্তিগত ইতিহাসের দলিল নয়, বরং এর শিল্পগুণ, ভাষা এবং চিত্রধর্মিতা একে এক বিশেষ সাহিত্যের শ্রেণিতে উন্নীত করেছে। নিচে বিভিন্ন দিক থেকে গ্রন্থটির শ্রেণি বিচার করা হলো-        • স্মৃতিকথা বা আত্মজৈবনিক রচনা হিসেবে আপনকথা।‘আপনকথা’র প্রধান শ্রেণিগত পরিচয় হলো এটি একটি স্মৃতিকথা (Memoirs)। লেখক এখানে তাঁর জীবনের প্রথম দিককার স্মৃতিগুলিকে রোমন্থন করেছেন। জোড়াসাঁকোর ঠাকুরবাড়ির অন্দরমহল, বাবা গুণেন্দ্রনাথ, দাদা ফটিক (গগনেন্দ্রনাথ), এবং দক্ষিণ বারান্দার জীবন—সবই এখানে স্মৃতির পটে ধরা পড়েছে। এটি বিশুদ্ধ আত্মজীবনী নয়, কারণ এতে ঘটনাক্রমের চেয়ে স্মৃতির আবেগ বেশি প্রাধান্য প...
Recent posts

অন্বয়ী ব্যাতিরেকী বা মিশ্র পদ্ধতির সাংকেতিক ও বাস্তব উদাহরণসহ আলোচনা করো।

অন্বয়ী ব্যাতিরেকী বা মিশ্র পদ্ধতির সাংকেতিক ও বাস্তব উদাহরণসহ আলোচনা করো (পশ্চিমবঙ্গ রাষ্ট্রীয় বিশ্ববিদ্যালয় তৃতীয় সেমিস্টার দর্শন মাইনর ) • অন্বয়ী-ব্যতিরেকী পদ্ধতির সংজ্ঞা ও সূত্র        যদি দুই বা ততোধিক ক্ষেত্রে একটি ঘটনা (কার্য) উপস্থিত থাকে এবং তাদের মধ্যে কেবল একটি সাধারণ অবস্থা (কারণ) বর্তমান থাকে, আবার দুই বা ততোধিক ক্ষেত্রে সেই ঘটনাটি অনুপস্থিত থাকে এবং সেখানে কেবল সেই নির্দিষ্ট অবস্থাটিও অনুপস্থিত থাকে—তবে সেই অবস্থাটিই হবে ঘটনাটির কারণ বা কার্য। • সাংকেতিক উদাহরণ এই পদ্ধতিটি দুটি দৃষ্টান্তের প্রয়োজন- সার্থক দৃষ্টান্ত ও নঞর্থক দৃষ্টান্ত।     • সদর্থক দৃষ্টান্তগুচ্ছ   এখানে আমরা দেখি 'A' থাকলে 'a' ঘটে। •পূর্বগামী ঘটনা(কারণ)         অনুগামী ঘটনা(কার্য)   ABC       —                                  abc   ADE       —                  ...

কোণী,মতি নন্দী দশম শ্রেণি বাংলা প্রথম সেমিস্টার।

মতি নন্দীর 'কোণী' উপন্যাসের প্রথম ৪টি পরিচ্ছেদ (১-৩২ পৃষ্ঠা) দশম শ্রেণির প্রথম পর্যায়ক্রমিক মূল্যায়নের (First Summative) জন্য (পশ্চিমবঙ্গ মধ্যশিক্ষা পর্ষদ দশম শ্রেণি প্রথম সেমিস্টার )  (এই অংশের প্রধান বিষয় মূলত ক্ষিতীশ সিংহের লড়াই, কোণীর দারিদ্র্য এবং তাদের প্রথম সাক্ষাতের প্রেক্ষাপট তৈরি হয়)।           •১-৩২ পৃষ্ঠার মূল বিষয়বস্তু•          কোণী উপন্যাসের শুরুতেই আমরা দেখি- বারুণী উৎসব ও গঙ্গার ঘাটের চিত্র ।আর সেখানে উপন্যাসের শুরু গঙ্গার ঘাটে বারুণীর আম কুড়ানোকে কেন্দ্র করে। এখানেই আমরা পরিচিত হই স্থূলকায় বিষ্ণুচরণ ধর এবং জেদি সাঁতার শিক্ষক ক্ষিতীশ সিংহ-এর সঙ্গে। অতঃপর কোণী নজরে আসে ক্ষিতীশের  সাথে। যেখানে গঙ্গার প্রবল স্রোতে একটি আম কুড়ানোর জন্য এক কিশোরীর (কোণী) অদম্য লড়াই ক্ষিতীশের নজর কাড়ে।আর ক্ষিতীশ তার মধ্যে আগামীর চ্যাম্পিয়নকে দেখতে পান। আসলে-      ‌  ক্ষিতীশ জুপিটার ক্লাবের ট্রেনার ছিলেন। কিন্তু ক্লাবের দলাদলি এবং আলস্যের বিরুদ্ধে কথা বলায় বিনোদ ভরভাজ ও ধীরেন ঘোষরা তাঁকে চক্রান্ত করে ক্লাব থেকে...

মনসামঙ্গল কাব্যে পৌরাণিক ও লৌকিক উপাদানের সমন্বয়

মনসামঙ্গল কাব্যে পৌরাণিক ও লৌকিক উপাদানের সমন্বয় কীভাবে ঘটেছে তার আলোচনা করো (পশ্চিমবঙ্গ রাষ্ট্রীয় বিশ্ববিদ্যালয় পঞ্চম সেমিস্টার বাংলা মেজর সিলেবাস ডিএস১০)            আলোচনার শুরুতেই আমরা বলে রাখি যে,মনসামঙ্গল কাব্য হলো বাংলার লোকায়ত ধর্মের সঙ্গে আর্য বা পৌরাণিক সংস্কৃতির এক বিচিত্র সমন্বয় দেখতে পাই।আর সেখানে মধ্যযুগের বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে মঙ্গলকাব্যগুলি আসলে উচ্চকোটির পৌরাণিক দেবকুলের সঙ্গে অন্ত্যজ শ্রেণির লৌকিক দেব-দেবীর সংঘাত ও পরিণতির আখ্যান। মনসামঙ্গল কাব্যে দেবী মনসা একদিকে যেমন পুরাণের মহিমা অর্জন করতে চেয়েছেন, অন্যদিকে তাঁর স্বভাব-আচরণে মিশে আছে বাংলার লৌকিক সমাজের মাটির গন্ধ।         পৌরাণিক উপাদান হিসেবে মনসাকে পৌরাণিক দেবীর মর্যাদা দেওয়ার জন্য কবিরা বিভিন্ন সংস্কৃত পুরাণের (যেমন: পদ্মপুরাণ বা ব্রহ্মবৈবর্ত পুরাণ) সাহায্য নিয়েছেন।আর সেখানে আমরা মনসার জন্মবৃত্তান্ত দেখি-কাব্যে মনসাকে শিবের মানসকন্যা হিসেবে দেখানো হয়েছে। এই 'মানস'জাত হওয়ার কারণেই তাঁর নাম মনসা, যা তাঁকে শিবের মতো এক শক্তিশালী পৌরাণিক দেবতার সঙ্গে যুক্ত করে। ...

নবান্ন' নাটকের প্রধান সমাদ্দার চরিত্রটির পরিচয়

' নবান্ন' নাটকের প্রধান সমাদ্দার চরিত্রটির পরিচয়       আলোচনার শুরুতেই আমরা বলে রাখি যে,বিজন ভট্টাচার্যের 'নবান্ন' (১৯৪৪) নাটকটি পঞ্চাশের মন্বন্তরের পটভূমিতে রচিত। এই নাটকের কেন্দ্রীয় চরিত্র প্রধান সমাদ্দার কেবল একজন ব্যক্তি নয়, বরং সে তৎকালীন বাংলার শোষিত ও সর্বস্বান্ত কৃষক সমাজের এক জীবন্ত প্রতীক। আমিনিয়া গ্রামের এই বৃদ্ধ চাষির চরিত্রের বিবর্তন ও বৈশিষ্ট্যগুলো হলো - প্রধান সমাদ্দারের ভূমির প্রতি নাড়ির টান এ নাটকে অতি প্রকট।আর সেখানে প্রধান সমাদ্দার বাংলার সেই চিরন্তন কৃষক, যার কাছে জমিই হলো মা। পঞ্চাশের মন্বন্তর এবং যুদ্ধের কালো ছায়া যখন তার সব কেড়ে নেয়, তখনও সে তার ভিটেমাটি আগলে রাখার আপ্রাণ চেষ্টা করে। তার কাছে কৃষিকাজ কেবল পেশা নয়, বরং একটি ধর্ম। সে বলে-       " জমি আমার মা, আর ধান হল ঘরের লক্ষ্মী।"        প্রধান সমাদ্দার চরিত্রটিতে মন্বন্তর ও চরম অসহায়তা   লক্ষ্যণীয়। র্দুভিক্ষের লেলিহান শিখা যখন প্রধানের সাজানো সংসার তছনছ করে দেয়, তখন তার চরিত্রের দৃঢ়তা ও অসহায়তা সমান্তরালে ফুটে ওঠে। খাবারের অভাবে নিজের নাতনি ও পরিজনদের ধুঁক...
 পশ্চিমবঙ্গ রাষ্ট্রীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের (WBSU) পঞ্চম সেমিস্টারের (CC-11 পেপার) সিলেবাস অনুযায়ী 'কমলাকান্তের দপ্তর' থেকে ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের পরীক্ষার জন্য যে প্রবন্ধগুলি এবং প্রশ্নগুলি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ, তার একটি তালিকা নিচে দেওয়া হলো। সাধারণত ডব্লিউবিএসইউ-তে 'একা', 'বিড়াল' এবং 'আমার মন'—এই তিনটি প্রবন্ধ থেকে সবচেয়ে বেশি প্রশ্ন আসে। ১. বিড়াল (অতি গুরুত্বপূর্ণ) এই প্রবন্ধটি থেকে বড় প্রশ্ন আসার সম্ভাবনা প্রবল।  * প্রশ্ন ১: "আমি চোর বটে, কিন্তু আমি কি সাধ করিয়া চোর হইয়াছি?"— বিড়াল প্রবন্ধ অবলম্বনে বিড়ালের জবানবন্দিতে যে সাম্যবাদী দর্শনের পরিচয় পাওয়া যায় তা আলোচনা করো। (১০ নম্বর)  * প্রশ্ন ২: বিড়াল প্রবন্ধে বঙ্কিমচন্দ্র হাস্যরসের অন্তরালে যে গভীর সমাজতত্ত্ব ও শ্লেষ প্রকাশ করেছেন, তা বিশ্লেষণ করো। (১০ নম্বর)  * প্রশ্ন ৩: "পরোপকারই পরম ধর্ম"— বিড়াল প্রবন্ধের প্রেক্ষিতে কমলাকান্তের এই উপলব্ধির তাৎপর্য ব্যাখ্যা করো। (৫ নম্বর) ২. একা (অতি গুরুত্বপূর্ণ) ব্যক্তিগত বেদনা ও দর্শনের জন্য এই প্রবন্ধটি খুব গুরুত্বপূর্ণ।  * প্রশ্ন ১: "এই সংসারে...

আপন কথা, প্রবন্ধ সংগ্রহ পঞ্চম সেমিস্টার বাংলা

 Bengali Question Paper 2022to       • ইউনিট-৩ প্রবন্ধ সংগ্রহ/প্রমথ চৌধুরী।• •••১) তেল নুন লকড়ি প্রবন্ধ অনুসরণে দুই সভ্যতার তুলনা উদাহরণসহ আলোচনা করো। ••• সাহিত্যিক চেতনায় উদ্বুদ্ধ প্রাবন্ধিক  প্রমথ চৌধুরী 'ভারতচন্দ্র' প্রবন্ধটি কোন্ উদ্দেশ্য সিদ্ধ করে- তা আলোচনা করো। • প্রমথ চৌধুরীর 'রায়তের কথা' প্রবন্ধে 'বেহারের রায়তেরা' মজঃফরপুরের সভায় যে প্রস্তাবগুলি পাশ করেছেন তা আলোচনা করো।২০২৩ ••• ১) "সাহিত্যচর্চা যে শিক্ষার সর্বপ্রধান অঙ্গ সে বিশেষ সন্দেহ নেই।"- বই পড়া প্রবন্ধে প্রমথ চৌধুরী কেন এ কথা বলেছেন তা আলোচনা করো। বর্ষাপ্রকৃতি মানবের প্রাণে যে সজীবতা ও আনন্দানুভূতি সঞ্চার করে তা বর্ষা প্রবন্ধে কিভাবে অভিভক্ত হয়েছে? ••• "ইংরেজি শিক্ষার গুনেই আমরা দেশের লুপ্ত অতীতের পুনরুদ্ধারে ব্রতী হয়েছি।'সবুজপত্রের মুখপত্র প্রবন্ধে লেখকের এই মন্তব্যটির ব্যাখ্যা করো।২০২২ •••২)  ' ভারতচন্দ্র' প্রবন্ধে প্রমথ চৌধুরী ভারতচন্দ্রের শিল্পী প্রতিভার যে মূল্যায়ন করেছেন,তা আলোচনা করো। সাহিত্যিক প্রমথ চৌধুরী সমাজ বীক্ষার অন্যতম পরিচয় 'রায়তের কথা...