শ্রীকৃষ্ণকীর্তন কাব্যের বড়ু চণ্ডীদাসের কবিত্ব শক্তি বিচার করো। পশ্চিমবঙ্গ রাষ্ট্রীয় বিশ্ববিদ্যালয় প্রথম সেমিস্টার বাংলা মেজর। আলোচনার শুরুতেই আমরা বলে রাখি যে,বাংলা সাহিত্যের মধ্যযুগের উন্মেষপর্বে বড়ু চণ্ডীদাস এক কালজয়ী প্রতিভা। তাঁর আবিষ্কৃত একমাত্র গ্রন্থ 'শ্রীকৃষ্ণকীর্তন' (বসন্তরঞ্জন রায় বিদ্বদ্বল্লভ কর্তৃক ১৯১৬ সালে প্রকাশিত) বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে একটি যুগান্তকারী ঘটনা। জয়দেবের 'গীতগোবিন্দম্' বা ভাগবতের মতো পৌরাণিক আধ্যাত্মিক উৎস থেকে কাহিনীর মূল উপাদান গ্রহণ করলেও, বড়ু চণ্ডীদাস তাঁর অসাধারণ কবিত্ব শক্তির জোরে রাধাকৃষ্ণের অলৌকিক প্রেমলীলাকে বাংলার মাটির রস, লৌকিক সমাজ ও রক্ত-মাংসের মানুষের অনুভূতির রসে সিক্ত করেছেন। এইখানেই কবি হিসেবে তাঁর সার্থকতা ও মৌলিকতা।যেখানে আছে- ১. নাটকীয়তা ও অনন্য সংলাপ শৈলী র দিক থেকে শ্রীকৃষ্ণকীর্তন কাব্যের অবয়বটি লক্ষ্য করলে দেখা যায়, এটি কোনো সরল বর্ণনাত্মক কাব্য নয়, বরং এর রন্ধ্রে রন্ধ্রে নাট্যরস লুকিয়ে রয়েছে। কাব্যটি মূলত তিনটি প্রধান চরিত্র-কৃষ্ণ, রাধা এবং মধ্যস্থতাকারিণী 'বড়াই'-এর ত্রিপাক্ষিক সং...
জন অস্টিনের সার্বভৌমত্ব তত্ত্বটি ব্যাখ্যা ও বিচার করো(Austin’s Theory of Sovereignty)। পশ্চিমবঙ্গ রাষ্ট্রীয় বিশ্ববিদ্যালয় প্রথম সেমিস্টার রাষ্ট্রবিজ্ঞান মাইনোর ইউনিট ২ আলোচনা শুরুতেই আমরা বলে রাখি যে,ঊনবিংশ শতাব্দীর ব্রিটিশ আইনবিদ জন অস্টিন তাঁর বিখ্যাত গ্রন্থ 'Lectures on Jurisprudence' (১৮৩২)-এ সার্বভৌমত্বের 'একত্ববাদী' (Monistic) মতবাদ প্রচার করেন। আর সেখানে অস্টিন মনে করেন- " যদি কোনো নির্দিষ্ট উচ্চতর ব্যক্তি (Determinate Superior) কোনো সমাজে অন্য কোনো উচ্চতর ব্যক্তির আজ্ঞাবহ না হয়ে, বরং ওই সমাজের অধিকাংশ মানুষের কাছ থেকে স্বভাবজাত অভ্যাসগত আনুগত্য লাভ করেন, তবে ওই নির্দিষ্ট উচ্চতর ব্যক্তিই হলেন সার্বভৌম।" আসলে তিনি মনে করেন- যদি কোনো নির্দিষ্ট সমাজের অধিকাংশ মানুষের কাছ থেকে স্বাভাবিক আনুগত্য (Habitual Obedience) লাভ করেন, তবে সেই ঊর্ধ্বতন ব্যক্তিই হলেন সেই সমাজের সার্বভৌম এবং সেই সমাজটি একটি রাজনৈতিক ও স্বাধীন সমাজ। • অস্টিনের সার্বভৌম তত্ত্বের প্রধান বৈশিষ্ট্যসমূহ ১. নির্দি...