Skip to main content

Posts

ষষ্ঠ সেমিস্টার বাংলা মেজর। পরীক্ষায় পূর্ণ নম্বর পাওয়ার জন্য এবং উত্তরটিকে আরও আকর্ষণীয় ও সমৃদ্ধ করতে **সুবোধ ঘোষের 'অযান্ত্রিক' ছোটগল্পের নামকরণের সার্থকতা** সংক্রান্ত নোটটি গল্প থেকে উপযুক্ত উদ্ধৃতি ও গভীরতর বিশ্লেষণসহ নিচে বিস্তারিতভাবে দেওয়া হলো। ১০ বা ১৫ নম্বরের বড় প্রশ্নের জন্য এটি একটি আদর্শ নোট। # সুবোধ ঘোষের 'অযান্ত্রিক' ছোটগল্পের নামকরণের সার্থকতা বিচার (উদ্ধৃতিসহ বিস্তারিত রূপ) ### ভূমিকা: সাহিত্যে নামকরণ কেবল কোনো রচনার পরিচয়বাহী নামমাত্র নয়, তা হলো সমগ্র সৃষ্টির অন্তঃসার। নাম দেখেই পাঠক গল্পের অন্তর্নিহিত সত্যের সন্ধান পায়। কল্লোল-পরবর্তী বাংলা কথাসাহিত্যের অন্যতম মৌলিক কথাকার সুবোধ ঘোষ তাঁর ‘অযান্ত্রিক’ গল্পে এমন এক নামকরণের আশ্রয় নিয়েছেন, যা প্রথম পাঠে আপাত-বিরোধী বা কৌতূহলকর মনে হলেও গল্পের মূল ভাববস্তু ও মনস্তাত্ত্বিক সত্যকে চমৎকারভাবে ফুটিয়ে তোলে। যন্ত্র ও মানুষের সম্পর্কের জটিল রসায়নকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা এই গল্পের নামকরণের সার্থকতা গভীর বিশ্লেষণের দাবি রাখে। ### নামকরণের শাব্দিক অর্থ ও আপাত বৈপরীত্য: অভিধান অনুযায়ী ‘অযান্ত্রিক’ শব্দের অর্থ হলো—যা যান...
Recent posts
ষষ্ঠ সেমিস্টার ইতিহাস দ্বিতীয় অধ্যায়  পশ্চিমবঙ্গ রাষ্ট্রীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের (WBSU) ষষ্ঠ সেমিস্টার ইতিহাস মাইনর (বা পূর্বতন CBCS কাঠামোর DSE পেপার, যেখানে ইউরোপের ইতিহাস পড়ানো হয়) পরীক্ষার জন্য **নেপোলিয়নের যুগ এবং তার পরবর্তী ঘটনাপ্রবাহ (যেমন: ভিয়েনা সম্মেলন, মেটারনিখ ব্যবস্থা, ১৮৩০ ও ১৮৪৮-এর বিপ্লব)** অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। বিগত বছরগুলোর প্রশ্নপত্রের ধারা এবং সাজেশনের ওপর ভিত্তি করে এই অধ্যায়টি থেকে ৫ নম্বর (টীকা) এবং ১০ বা ১৫ নম্বরের (বড় প্রশ্ন) জন্য যে যে ধরনের প্রশ্ন পরীক্ষায় আসে, তার একটি পূর্ণাঙ্গ তালিকা নিচে দেওয়া হলো। ছাত্র-ছাত্রীদের সুবিধার্থে প্রশ্নগুলো মান অনুযায়ী ভাগ করে দেওয়া হয়েছে: ## ১. নেপোলিয়নের যুগ (১০ বা ১৫ নম্বরের বড় প্রশ্ন) এই অংশ থেকে সাধারণত বিশ্লেষণধর্মী প্রশ্ন বেশি আসে।  * **"নেপোলিয়ন কি ফরাসি বিপ্লবের সন্তান ছিলেন?"** (Was Napoleon a 'Child of the Revolution'?) — এটি WBSU-এর অন্যতম একটি ‘পেটেন্ট’ প্রশ্ন। এখানে বিপ্লবের আদর্শ রক্ষা এবং তা ধ্বংস করার পক্ষে-বিপক্ষে যুক্তি দিতে হয়।  * **শাসক হিসেবে নেপোলিয়ন বোনাপার্টের অভ্যন্তরীণ সংস্ক...
 পশ্চিমবঙ্গ রাষ্ট্রীয় বিশ্ববিদ্যালয় (WBSU)-এর চার বছরের স্নাতক স্তরের (NEP-2020 অনুসারে) প্রথম সেমিস্টারের পাঠ্যক্রমের নিয়মাবলী অনুযায়ী একটি খসড়া নিচে তৈরি করে দেওয়া হলো। কোনো ছাত্র-ছাত্রী একটি নির্দিষ্ট **মেজর (Major)** বিষয় নিয়ে ভর্তি হলে, তাকে প্রথম সেমিস্টারে সেই মেজরের পাশাপাশি আরও কয়েকটি নির্দিষ্ট গুচ্ছের বিষয় বেছে নিতে হয়। ## প্রথম সেমিস্টার পাঠ্যক্রমের রূপরেখা ও বিষয় নির্বাচন বিধি পশ্চিমবঙ্গ রাষ্ট্রীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়ম অনুসারে, একজন প্রথম সেমিস্টারের পড়ুয়াকে মোট **৬টি পেপার (Papers)** পড়তে হবে। বিষয় নির্বাচনের নিয়ম নিচে দেওয়া হলো: ### ১. মেজর বিষয় (Major Course - DSCC)  * **নিয়ম:** ছাত্র-ছাত্রী যে মূল বিষয়টি নিয়ে তার স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করতে চায়, সেটিই তার মেজর বিষয়।  * **প্রথম সেমিস্টারে:** মেজরের ১টি পেপার পড়তে হবে (Core Paper 1)। ### ২. মাইনর বিষয় (Minor Course - MN)  * **নিয়ম:** এটি মেজরের পাশাপাশি একটি সহায়ক বা দ্বিতীয় প্রধান বিষয়। বিশ্ববিদ্যালয় নির্ধারিত তালিকা থেকে মেজরের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ যেকোনো **একটি মাইনর বিষয...
 দ্বিতীয় প্রশ্নের উত্তর: শব্দালংকার ও অর্থালংকারের মূল পার্থক্য বাংলা কাব্যের সৌন্দর্য বৃদ্ধির জন্য অলংকারকে যে দুটি মূল ভাগে ভাগ করা হয়, তা হলো শব্দালংকার ও অর্থালংকার। এদের মূল পার্থক্যগুলি নিচে বিস্তারিতভাবে আলোচনা করা হলো: ### ১. সংজ্ঞাগত পার্থক্য  * **শব্দালংকার:** যে অলংকার শব্দের ধ্বনিগত মাধুর্যের ওপর নির্ভর করে কাব্যের সৌন্দর্য বৃদ্ধি করে, তাকে শব্দালংকার বলে। এখানে শব্দের অর্থ প্রধান নয়, শব্দের ধ্বনি বা উচ্চারণই প্রধান।  * **অর্থালংকার:** যে অলংকার শব্দের বাহ্যিক রূপ বা ধ্বনির ওপর নির্ভর না করে, শব্দের অন্তর্নিহিত অর্থের চমৎকারিত্বের ওপর নির্ভর করে কাব্যকে সুন্দর করে তোলে, তাকে অর্থালংকার বলে। ### ২. শব্দ পরিবর্তনের প্রভাব (সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পার্থক্য)  * **শব্দালংকার:** শব্দালংকারে কাব্যে ব্যবহৃত নির্দিষ্ট শব্দটি বদলে যদি তার কোনো সমার্থক শব্দ বা প্রতিশব্দ বসানো হয়, তবে অলংকারটি **নষ্ট হয়ে যায়**। কারণ এর সৌন্দর্য শব্দটির নির্দিষ্ট ধ্বনির ওপর নির্ভরশীল।  * **অর্থালংকার:** অর্থালংকারে কাব্যের কোনো শব্দ পরিবর্তন করে যদি তার সমার্থক অন্য কোনো শব্দ বসানো ...

প্রলয়োল্লাস কবিতার মূলভাব বা সুর নিজের ভাষায় আলোচনা করো।

প্রলয়োল্লাস কবিতার মূলভাব বা সুর নিজের ভাষায় আলোচনা করো। পশ্চিমবঙ্গ মধ্যশিক্ষা পর্ষদ, দশম শ্রেণী, দ্বিতীয় সেমিস্টার।         কাজী নজরুল ইসলামের অগ্নিবীণা কাব্যের অন্তর্ভুক্ত ‘প্রলয়োল্লাস’ কবিতার মূল সুর হলো ধ্বংসের মধ্য দিয়ে নতুনের আবাহন, পরাধীনতার বিরুদ্ধে তীব্র বিদ্রোহ এবং যৌবনের জয়গান। কবি একাধারে ধ্বংস ও সৃষ্টির এক অদ্ভুত মেলবন্ধন ঘটিয়েছেন এই কবিতায়।এখানে এই কবিতাটির মূলভাব ও সুরকে কয়েকটি প্রধান দিক থেকে বিশ্লেষণ করা যায়। আর সেগুলি হলো- ​        •কবিতার মূল সুরটি লুকিয়ে আছে ধ্বংসের ভেতর দিয়ে নতুন কিছু সৃষ্টির অমোঘ সত্যে। কবি এখানে সনাতন ধর্মের ধ্বংস ও সৃষ্টির দেবতা শিব বা রুদ্ররূপী মহাকালের তাণ্ডবকে তুলে ধরেছেন। কবি বিশ্বাস করেন, জরাজীর্ণ, মৃতপ্রায় এবং পুরোনো সমাজকে ভেঙে চুরমার না করলে নতুন, সুন্দর এবং পবিত্রমুক্ত সমাজ গড়ে তোলা সম্ভব নয়। তাই তিনি বলেছেন- ​"ধ্বংস দেখে ভয় কেন তোর?-প্রলয় নূতন সৃজন-বেদন!" ​          •নজরুল যখন এই কবিতাটি লিখছেন, তখন ভারতবাসী ব্রিটিশ শাসনের শৃঙ্খলে আবদ্ধ । এই কবিতায় ‘ঝড়’, ‘মহাকাল’ বা ‘ধূ...

দেনাপাওনা’ গল্পের কেন্দ্রীয় চরিত্র হিসেবে নিরুপমার চরিত্রটি বিশ্লেষণ করো। অথবা, পনপ্রথার নির্মম শিকার হিসেবে নিরুপমার যে ট্র্যাজিক পরিণতি ঘটেছে, তা আলোচনা করো।

'দেনাপাওনা’ গল্পের কেন্দ্রীয় চরিত্র হিসেবে নিরুপমার চরিত্রটি বিশ্লেষণ করো। অথবা, পনপ্রথার নির্মম শিকার হিসেবে নিরুপমার যে ট্র্যাজিক পরিণতি ঘটেছে, তা আলোচনা করো। পশ্চিমবঙ্গ রাষ্ট্রীয় বিশ্ববিদ্যালয় ষষ্ঠ সেমিস্টার বাংলা মেজর DS-14,Unit-I.        আলোচনা শুরুতেই আমরা বলে রাখি যে,বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘ গল্পগুচ্ছ ’ সংকলনের অন্তর্ভুক্ত ‘ দেনাপাওনা’ গল্পটি বাংলা সাহিত্যের একটি কালজয়ী ও বাস্তবধর্মী সামাজিক ছোটগল্প। উনিশ শতকের শেষার্ধের বাঙালি হিন্দু সমাজে জাঁকিয়ে বসা ব্যাধি ‘পনপ্রথা’ বা যৌতুকপ্রথার অমানবিক রূপ এবং তার নির্মম বলি হওয়া এক আত্মমর্যাদাসম্পন্ন তরুণীর বেদনাময় আখ্যানই এই গল্পের মূল উপজীব্য। গল্পের কেন্দ্রীয় চরিত্র নিরুপমা পনপ্রথার অবমাননাকর রূপ ও শ্বশুরবাড়ির লাঞ্ছনার বিরুদ্ধে এক নীরব অথচ দৃঢ় প্রতিরোধের প্রতীক। আর সেখানে আমরা দেখতে পাই-         নিরুপমা ছিল তার পিতা রামসুন্দর মিত্রের অত্যন্ত আদরের কন্যা। তৎকালীন সমাজ-নিয়ম অনুযায়ী, পাঁচ হাজার টাকা নগদ এবং প্রচুর আসবাবের বিনিময়ে রায়বাহাদুরের ডেপুটি ম্যাজিস্ট্রেট পুত্র সাথে তার বিয়ে স্থির...

প্রলয়োল্লাস কবিতায় কাজী নজরুল ইসলাম কেন জয়ধ্বনি করতে বলেছেন?

প্রলয়োল্লাস কবিতায় কাজী নজরুল ইসলাম কেন জয়ধ্বনি করতে বলেছেন? আলোচনা করো। পশ্চিমবঙ্গ মধ্যশিক্ষা পর্ষদ, দশম শ্রেণি, দ্বিতীয় সেমিস্টার বাংলা।        আলোচনা শুরুতেই আমরা বলে রাখি যে,কাজী নজরুল ইসলামের অগ্নি-বীণা কাব্যের অন্তর্ভুক্ত ‘প্রলয়োল্লাস’ কবিতাটি বাংলা সাহিত্যের একটি অনন্য ও কালজয়ী সৃষ্টি। পরাধীন ভারতের বুকে অত্যাচারী ব্রিটিশ শাসনের অবসান ঘটিয়ে স্বাধীন এক নতুন সকাল আনাই ছিল কবির মূল লক্ষ্য। আর সেই লক্ষ্যে আমরা কবিতাটিতে দেখতে পাই যে-     ধ্বংসের মধ্য দিয়েই নতুনের আগমন ।আসলে কবিতাটির মূল সুর হলো-পুরনো, জরাজীর্ণ, অন্যায় ও অত্যাচারকে ধ্বংস না করলে নতুন এবং সুন্দরের প্রতিষ্ঠা সম্ভব নয়।তাই কবি বিশ্বাস করতেন, মহাকালের এই ধ্বংসাত্মক রূপ আসলে সৃষ্টিরই পূর্বাবস্থা।তাই কবি বলেন- " ধ্বংস দেখে ভয় কেন তোর? - প্রলয় নূতন সৃজন-বেদন!"        অতপঃর কবি রুদ্ররূপী শিব বা বিপ্লবীদের আহ্বান করেছেন।কবি ভারতীয় পুরাণের ধ্বংসের দেবতা মহাদেব বা শিবের 'কালভৈরব' রূপের সঙ্গে তৎকালীন তরুন বিপ্লবীদের তুলনা করেছেন। তরুণেরা যেমন তাদের সাহসিকতা দিয়ে ব্রিটিশদের ...