কারক কাকে বলে? কারা কয় প্রকার ও কি কি? উদাহরণসহ সংজ্ঞা দাও। সহজে কারক নির্ণয়ের উপায় ১)কারকঃ বাক্যে ক্রিয়াপদের সাথে বিশেষ্য ও সর্বনাম পদের যে সম্পর্ক, তাকেই কারক বলা হয়। সহজ কথায়, একটি বাক্যের কাজ (ক্রিয়া) কার দ্বারা, কার মাধ্যমে বা কোথায় সম্পন্ন হচ্ছে—এই পারস্পরিক সম্বন্ধই হলো কারক। • কারক সাধারণত ৬ প্রকার- ক) কর্তৃকারকঃ বাক্যে যে বিশেষ্য বা সর্বনাম পদ ক্রিয়া সম্পাদন করে, তাকে কর্তৃকারক বলে। ক্রিয়াকে ‘কে’ বা ‘কারা’ দিয়ে প্রশ্ন করলে এই কারক পাওয়া যায়। • উদাহরণ- ছেলেরা ফুটবল খেলছে। (এখানে ‘ছেলেরা’ কাজটা করছে, তাই এটি কর্তৃকারক) খ) কর্মকারকঃ যাকে আশ্রয় করে কর্তা ক্রিয়া সম্পন্ন করে, তাকে কর্মকারক বলে। ক্রিয়াকে ‘কী’ বা ‘কাকে’ দিয়ে প্রশ্ন করলে এই কারক পাওয়া যায়। • উদাহরণ- মা ভাত রাঁধছেন। (মা ‘কী’ রাঁধছেন? উত্তর: ভাত) গ)করণ কারকঃ ‘করণ’ শব্দের অর্থ যন্ত্র, সহায়ক বা উপায়। কর্তা যার সাহায্যে ক্রিয়া সম্পাদন করে, তাকে করণ কারক বলে। ক্রিয়াকে ‘কী দিয়ে’ বা ‘কীসের দ্বা...
ভারতচন্দ্রের অন্নদামঙ্গল: সমকালীন অবক্ষয়িত সমাজ জীবনের শিল্প-সংগীত আলোচনা করো (পশ্চিমবঙ্গ রাষ্ট্রীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের (WBSU) প্রথম সেমিস্টারের বাংলা মেজর (NEP) সিলেবাস) আলোচনা শুরুতেই আমরা বলে রাখি যে,অষ্টাদশ শতাব্দী বাংলার ইতিহাসের এক ক্রান্তিকাল।যে সময়ে একদিকে মুঘল শাসনের ভগ্নদশা, অন্যদিকে উদীয়মান ইংরেজ শক্তি ও বর্গীর হাঙ্গামা-সব মিলিয়ে এক চরম অরাজকতা ও নৈতিক অবক্ষয় সমাজকে গ্রাস করেছিল।আর এই যুগসন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে রাজকবি ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর তাঁর ‘অন্নদামঙ্গল’ (১৭৫২) কাব্যে যে সমাজচিত্র এঁকেছেন, তা কেবল দেবীর মহিমা কীর্তন নয়, বরং সমকালীন ক্ষয়িষ্ণু সমাজের এক জীবন্ত দলিল। ড. সুকুমার সেনের মতে- " ভারতচন্দ্র ছিলেন যুগসন্ধির কবি", আর তাঁর কাব্য সেই যুগের অবক্ষয়িত জীবনেরই এক নিপুণ ‘শিল্প-সংগীত’। • অষ্টাদশ শতাব্দীতে বাংলার ইতিহাস ছিল এক রাজনৈতিক অস্থিরতা ও অরাজকতাময়। আসলে অষ্টাদশ শতাব্দীর বাংলায় কেন্দ্রীয় শক্তির দুর্বলতার সুযোগে স্থানীয় সামন্তপ্রভু ও বর্গীদের দাপট বেড়ে গিয়েছিল। ভারতচন্দ্র ‘মানসিংহ’ খণ্ডে প্রতাপাদিত্য ও ভবানন্দ মজুমদারের কাহিনীর মাধ্যমে তৎকালীন রা...