Skip to main content

Posts

সবুজ পত্রের মুখপত্র।।"ইংরেজি শিক্ষার গুণেই আমরা দেশের লুপ্ত অতীতের পুনরুদ্ধারে ব্রতী হয়েছি।"- সবুজ পত্রের মুখপত্র প্রবন্ধে লেখকের এই মন্তব্যটি ব্যাখ্যা করো।

সবুজ পত্রের মুখপত্র।।"ইংরেজি শিক্ষার গুণেই আমরা দেশের লুপ্ত অতীতের পুনরুদ্ধারে ব্রতী হয়েছি।"- সবুজ পত্রের মুখপত্র প্রবন্ধে লেখকের এই মন্তব্যটি ব্যাখ্যা করো (পশ্চিমবঙ্গ রাষ্ট্রীয় বিশ্ববিদ্যালয় পঞ্চম সেমিস্টার বাংলা মেজর সিলেবাস)           আলোচনার শুরুতেই আমরা বলে রাখি যে,প্রমথ চৌধুরী তাঁর 'সবুজ পত্র' পত্রিকার প্রথম সংখ্যায় (১৩২১ বঙ্গাব্দ) এই মুখপত্রটি লিখেছিলেন। এখানে তিনি আধুনিক বাঙালির মনন গঠনে এবং ভারতের প্রাচীন ঐতিহ্যের পুনর্মূল্যায়নে ইংরেজি শিক্ষার ইতিবাচক ভূমিকার কথা ব্যক্ত করেছেন।আর সেখানে আমরা দেখি-       •ইংরেজি শিক্ষা ও আধুনিকতার মেলবন্ধনের প্রচেষ্টা। আসলে প্রাবন্ধিকের মতে, ইংরেজি শিক্ষা বাঙালি মানসে কেবল বিদেশি ভাষা শেখায়নি, বরং এক নতুন যুগচেতনা বা আধুনিকতার জন্ম দিয়েছে। মধ্যযুগীয় স্থবিরতা কাটিয়ে বাঙালি যখন ইউরোপীয় সাহিত্য, দর্শন ও বিজ্ঞানের সংস্পর্শে এলো, তখন তার মধ্যে এক প্রবল আত্মজিজ্ঞাসা তৈরি হলো। এই জিজ্ঞাসাই তাকে নিজের শেকড়ের সন্ধানে উদ্বুদ্ধ করেছে।         •যুক্তিবাদ ও বৈজ্ঞানিক দৃষ্টির উন্মেষ ঘটানোর প্রয়াস...
Recent posts

অস্টিনের একত্ববাদী তত্ত্ব (Monism) এবং বহুত্ববাদী তত্ত্বের (Pluralism) তুলনামূলক আলোচনা করো।

অস্টিনের একত্ববাদী তত্ত্ব (Monism) এবং বহুত্ববাদী তত্ত্বের (Pluralism) তুলনামূলক আলোচনা করো। পশ্চিমবঙ্গ রাষ্ট্রীয় বিশ্ববিদ্যালয় প্রথম সেমিস্টার রাষ্ট্রবিজ্ঞান মাইনর। ​       • একত্ববাদী তত্ত্বঃ  জন অস্টিন তাঁর 'Lectures on Jurisprudence' (১৮৩২) গ্রন্থে একত্ববাদী সার্বভৌমত্বের রূপরেখা দেন। অস্টিনের মতে, সার্বভৌমত্ব হলো রাষ্ট্রের এক একক, অখণ্ড, অসীম এবং চূড়ান্ত ক্ষমতা। আইন হলো সার্বভৌম শক্তির আদেশ (Law is the command of the sovereign)।   ​      • বহুত্ববাদী তত্ত্বঃ একত্ববাদের প্রতিক্রিয়া হিসেবে বিংশ শতাব্দীর শুরুতে বহুত্ববাদের উদ্ভব ঘটে। হ্যারোল্ড লাস্কি, ম্যাকআইভার, ফিগিস এবং ক্র্যাবের মতো চিন্তাবিদরা এই তত্ত্বের প্রধান সমর্থক। তাঁদের মতে, সমাজ কেবল রাষ্ট্র কেন্দ্রিক নয়; সমাজে নানা ধরণের সংঘ বা প্রতিষ্ঠান (যেমন: পরিবার, ধর্মীয় সংগঠন, ট্রেড ইউনিয়ন) রয়েছে। রাষ্ট্র এই সংঘগুলির মধ্যে কেবল একটি, তাই ক্ষমতার বণ্টন হওয়া উচিত।         ১. ক্ষমতার কেন্দ্রীয়ভবন সার্বভৌমত্ব অখণ্ড এবং রাষ্ট্রের এক একক কেন্দ্রের মধ্যে স...

শিক্ষার ব্যক্তিতান্ত্রিক লক্ষ্য বলতে কী বোঝো?ব্যক্তিতান্ত্রিক লক্ষ্যের স্বপক্ষে যুক্তি দাও এবং ব্যক্তিতান্ত্রিক লক্ষে্যর ত্রুটিগুলি আলোচনা করো।

শিক্ষার ব্যক্তিতান্ত্রিক লক্ষ্য বলতে কী বোঝো?ব্যক্তিতান্ত্রিক লক্ষ্যের স্বপক্ষে যুক্তি দাও এবং ব্যক্তিতান্ত্রিক লক্ষে্যর ত্রুটিগুলি আলোচনা করো। পশ্চিমবঙ্গ রাষ্ট্রীয় বিশ্ববিদ্যালয় প্রথম সেমিস্টার এডুকেশন মাইনর।       শিক্ষার ব্যক্তিতান্ত্রিক লক্ষ্যঃ শিক্ষার ব্যক্তিতান্ত্রিক লক্ষ্য বলতে বোঝায়- সমাজ বা রাষ্ট্রের প্রয়োজনের তুলনায় ব্যক্তির স্বাতন্ত্র্য, রুচি, সামর্থ্য, আত্মবিকাশ ও ব্যক্তিসত্তার পূর্ণ প্রকাশকে সর্বাধিক প্রাধান্য দেওয়া।আর-      এই মতবাদের মূল কথা হলো- " সমাজ ব্যক্তির জন্য, ব্যক্তি সমাজের জন্য নয়।" শিক্ষা এমন হবে যা প্রতিটি শিক্ষার্থীর ভেতরে লুকিয়ে থাকা সুপ্ত সম্ভাবনা ও গুণাবলিকে অবাধে বিকশিত হতে সাহায্য করবে। পেস্তালোৎসি, রুশো, ফ্রয়েবেল এবং টি. পি. নান ছিলেন এই লক্ষ্যের প্রধান সমর্থক।       ব্যক্তিতান্ত্রিক লক্ষ্যের স্বপক্ষে যুক্তিঃ শিক্ষাবিদ টি. পি. নানের মতে, ব্যক্তিই সকল অগ্রগতির উৎস। ব্যক্তিতান্ত্রিক লক্ষ্যের প্রধান স্বপক্ষে যুক্তিগুলি হলো-       • স্বভাবজাত ক্ষমতার বিকাশঃ প্রতিটি শিশুর নিজস্ব কিছু সুপ্ত প্রত...

অদ্বৈত বেদান্ত দর্শন (Advaita Vedanta

অদ্বৈত বেদান্ত দর্শন (Advaita Vedanta) অংশের জন্য ২ নম্বর মানের গুরুত্বপূর্ণ সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন ও উত্তর।পশ্চিমবঙ্গ রাষ্ট্রীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের (WBSU) প্রথম সেমিস্টার দর্শন মাইনর (Philosophy Minor)। প্রশ্ন ১: অদ্বৈত বেদান্ত দর্শনের প্রধান মুখপাত্র কে? তাঁর প্রধান গ্রন্থের নাম কী? • উত্তর: অদ্বৈত বেদান্ত দর্শনের প্রধান মুখপাত্র হলেন আদি শংকরাচার্য। তাঁর অন্যতম প্রধান ও বিখ্যাত গ্রন্থ হলো 'ব্রহ্মসূত্র ভাস্য'। প্রশ্ন ২: 'অদ্বৈত' শব্দের অর্থ কী?     • উত্তর: 'অদ্বৈত' শব্দের শাব্দিক অর্থ হলো 'দুই নয়' অর্থাৎ 'এক'। বেদান্ত দর্শনে এর অর্থ— পরম সত্তা বা ব্রহ্ম এক এবং অদ্বিতীয়; ঈশ্বর, জীব ও জগতের মধ্যে কোনো প্রকৃত ভেদ নেই। প্রশ্ন ৩: অদ্বৈত বেদান্ত অনুসারে 'ব্রহ্ম' কাকে বলে?    • উত্তর: অদ্বৈত বেদান্তে ব্রহ্ম হলেন জগতের একমাত্র পরম সত্তা বা পরম সত্য। তিনি নিত্য, শুদ্ধ, বুদ্ধ, মুক্ত স্বভাব এবং 'সচ্চিদানন্দ' (সৎ, চিত ও আনন্দ স্বরূপ)। প্রশ্ন ৪: 'সচ্চিদানন্দ' বলতে কী বোঝায়?     • উত্তর: সচ্চিদানন্দ তিনটি পদের সমন্বয়ে গঠিত: • সৎ: যা সর্বকাল...

ভারতের দলীয় ব্যবস্থার বৈশিষ্ট্য আলোচনা করো।

ভারতের দলীয় ব্যবস্থার বৈশিষ্ট্য আলোচনা করো। পশ্চিমবঙ্গ রাষ্ট্রীয় বিশ্ববিদ্যালয় সপ্তম সেমিস্টার রাষ্ট্রবিজ্ঞান মাইনর।         আলোচনার শুরুতেই বলে রাখি যে,ভারতের রাজনৈতিক ব্যবস্থায় দলীয় ব্যবস্থা একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও বৈশিষ্ট্যপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। সংবিধানের মূল পাঠে রাজনৈতিক দলের উল্লেখ না থাকলেও, সংসদীয় গণতান্ত্রিক কাঠামো পরিচালনায় এগুলির ভূমিকা অপরিহার্য। সেই অপরিহার্যতার দিক থেকে আমরা ভারতীয় দলীয় ব্যবস্থার  যে বৈশিষ্ট্য গুলো দেখতে পাই সেগুলি হলো- ​      ১) বহুদলীয় ব্যবস্থার উপস্থিতিঃ ভারতে একদলীয় বা দ্বিদলীয় ব্যবস্থার পরিবর্তে বহুদলীয় ব্যবস্থা (Multi-Party System) প্রচলিত। জাতীয় স্তর থেকে আঞ্চলিক স্তর পর্যন্ত নির্বাচন কমিশনের স্বীকৃতিপ্রাপ্ত বহু রাজনৈতিক দল নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে।      ​ ২)একচ্ছত্র আধিপত্য থেকে জোট রাজনীতির উত্থানঃ স্বাধীনতার পর প্রথম তিন দশক পর্যন্ত কেন্দ্র ও রাজ্যে কংগ্রেসের একক আধিপত্য ছিল, যাকে রাষ্ট্রবিজ্ঞানী রজনী কোঠারি "কংগ্রেস ব্যবস্থা" (Congress System) বলে উল্লেখ করেছিলেন। তবে ১৯৭৭ সালে...

সন্ত্রাসবাদ।।সন্ত্রাসবাদ ও ভারতের সন্ত্রাসবাদ বিরোধী আইন আলোচনা করো।

সন্ত্রাসবাদ।।সন্ত্রাসবাদ ও ভারতের সন্ত্রাসবাদ বিরোধী আইন আলোচনা করো। পশ্চিমবঙ্গ রাষ্ট্রীয় বিশ্ববিদ্যালয়, সপ্তম সেমিস্টার, রাষ্ট্রবিজ্ঞান মাইনর। ইউনিট৪।       আলোচনার শুরুতেই আমরা বলে রাখি যে,একবিংশ শতাব্দীতে আন্তর্জাতিক ও জাতীয় রাজনীতির ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় নিরাপত্তা সংকট হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে 'সন্ত্রাসবাদ' (Terrorism)।আর রাজনৈতিক, সামাজিক বা আদর্শগত উদ্দেশ্য অর্জনের জন্য সাধারণ জনগণ ও রাষ্ট্রের ওপর পরিকল্পিত ভয়ভীতি, হিংসা ও সশস্ত্র আগ্রাসন প্রয়োগ করাই হলো সন্ত্রাসবাদ।এই প্রেক্ষিতে রাষ্ট্রবিজ্ঞান ও আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে সন্ত্রাসবাদ দমন এবং এর আইনি কাঠামোর অধ্যয়ন অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বিষয়। আর এই আলোচনার উপর ভিত্তি করে আমরা বলতে পারি-         ' Terrorism' শব্দটি লাতিন শব্দ 'Terrere' থেকে এসেছে, যার অর্থ 'ভয় দেখানো' বা 'আতঙ্কিত করা'।আসলে   সমাজবিজ্ঞানী এবং আন্তর্জাতিক রাষ্ট্রবিজ্ঞানীদের মতে-        সাধারণ মানুষকে আতঙ্কিত করে বা কোনো নির্দিষ্ট গোষ্ঠী ও সরকারের ওপর মানসিক চাপ সৃষ্টি করে রাজনৈতিক, ধর্মীয় বা আদর্শগত...

চায়ের ধোঁয়া।। উৎপল দত্তের 'চায়ের ধোঁয়া' গ্রন্থ/প্রবন্ধের নাট্যভাবনা, প্রেক্ষাপট ও মূল বিষয়বস্তু।

চায়ের ধোঁয়া।। উৎপল দত্তের 'চায়ের ধোঁয়া' গ্রন্থ/প্রবন্ধের নাট্যভাবনা, প্রেক্ষাপট ও মূল বিষয়বস্তু। পশ্চিমবঙ্গ রাষ্ট্রীয় বিশ্ববিদ্যালয়  বাংলা মাইনর, সপ্তম সেমিস্টার, BNGSMC701T, (SM1).       উৎপল দত্তের নাট্যভাবনা ‘চায়ের ধোঁয়া’   আলোচনায় আমরা প্রথমেই বলে রাখি যে,বাংলা গণনাট্য আন্দোলন এবং রাজনৈতিক থিয়েটারের অন্যতম প্রধান ব্যক্তিত্ব উৎপল দত্ত। তাঁর নাট্যচিন্তা ও প্রবন্ধ সংকলন 'চায়ের ধোঁয়া' (প্রথম প্রকাশ: ১৯৬০) থিয়েটার বিষয়ক তাঁর শাণিত পর্যবেক্ষণ ও মার্কসবাদী নাট্যবীক্ষার এক অমূল্য দলিল।আসলে-       উৎপল দত্তের নাট্যভাবনার পটভূমিতে রয়েছে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ-উত্তর বাংলার সামাজিক-রাজনৈতিক অস্থিরতা, তেভাগা ও শোষিত মানুষের সংগ্রাম এবং মধ্যবিত্তের ভণ্ডামি। তথাকথিত বুর্জোয়া বা আভিজাত্যনির্ভর অপেশাদার আড্ডার নাট্যচর্চাকে তীব্র আক্রমণ করে জনগণের রাজনৈতিক অধিকার সচেতনতা বাড়ানোর উদ্দেশ্যেই তাঁর এই রচনা।     ‘চায়ের ধোঁয়া’ নামকরণের তাৎপর্য ও রূপক হিসেবে আমরা দেখতে পাই,'চায়ের ধোঁয়া' কথাটির মধ্যে উৎপল দত্ত মধ্যবিত্ত বুদ্ধিজীবীদের অন্তঃস...