Skip to main content

Posts

প্রাচীন তথা আদিম মানুষ কীভাবে খাদ্য সাংগ্ৰহক থেকে খাদ্য উৎপাদকে পরিণত হয়েছিল, তা আলোচনা করো।

প্রাচীন তথা আদিম মানুষ কীভাবে খাদ্য সাংগ্ৰহক থেকে খাদ্য উৎপাদকে পরিণত হয়েছিল, তা আলোচনা করো।পশ্চিমবঙ্গ রাষ্ট্রীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের (WBSU) ইতিহাস প্রথম সেমিস্টার মাইনর ( প্রস্তর যুগীয় সংস্কৃতি)       আলোচনা শুরুতেই আমরা বলে রাখি যে, প্রাচীন ও ভারতীয় সভ্যতার উষালগ্ন থেকে আধুনিক মানুষে উত্তরণের ক্ষেত্রে বিভিন্ন উপাদান সহযোগী ভূমিকা পালন করেছিল। আর এক্ষেত্রে যে উপাদানটি এই দীর্ঘ বিবর্তনের সর্বক্ষেত্রে মানুষের বেঁচে থাকার প্রধান রসদ ছিল সেটি হল খাদ্য বা খাবার। আসলে প্রাচীন মানুষ যেমন একদিনে আধুনিক মানুষে পরিণত হয়নি তেমনি প্রাচীন মানুষ একদিনে খাদ্য উৎপাদকের ভূমিকায় অবতীর্ণ হতে পারেনি।এক দীর্ঘ সময় অতিক্রান্তের মধ্যে দিয়ে মানুষ খাদ্য সংগ্রাহক থেকে আজকের খাদ্য উৎপাদকে উপনীত হয়েছে। আসলে এটি ছিল একটি বৈপ্লবিক ঘটনা। ব্রিটিশ প্রত্নতাত্ত্বিক ভি. গর্ডন চাইল্ড এই উত্তরণকে বলেন-‘ নব্য প্রস্তর বিপ্লব ’।       ১. শিকারি ও খাদ্যসংগ্রহকারী পর্যায়ে  আদিম মানুষ মূলত প্রকৃতির ওপর নির্ভরশীল ছিল। ফলমূল সংগ্রহ, বন্য পশু শিকার এবং মাছ ধরার মাধ্যমে তারা জীবিকা নির্বাহ করত...
Recent posts
কামরূপী উপভাষার কোন কোন অঞ্চলে প্রচলিত ? নির্দশনসহ এর ভাষাতাত্ত্বিক বৈশিষ্ট্য গুলি আলোচনা করো      উত্তর দিনাজপুর জলপাইগুড়ি দার্জিলিং এর কিছু অংশ শিলিগুড়ি ত্রিপুরা আসামের খাঁচার ধুবি গোয়ালপাড়া 
 রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত "আমার সোনার বাংলা" গানটি কেবল একটি সংগীত নয়, এটি বাঙালির জাতীয় সত্তার পরিচয় এবং গভীর আবেগের বহিঃপ্রকাশ।বর্তমানে এটি বাংলাদেশের জাতীয় সংগীত।গানটি ১৯০৫ সালে বঙ্গভঙ্গ আন্দোলনের সময় রচিত হয়েছিল। তৎকালীন ব্রিটিশ সরকার প্রশাসনিক কারণ দেখিয়ে বাংলাকে দুই ভাগে বিভক্ত করার সিদ্ধান্ত নেয়। এই বিভাজনের বিরুদ্ধে বাঙালির হৃদয়ে যে তীব্র প্রতিবাদ ও দেশাত্মবোধের জোয়ার তৈরি হয়েছিল, তা থেকেই এই গানের জন্ম।যেখানে-      গানটির প্রেক্ষাপট বঙ্গভঙ্গ বিরোধী আন্দোলন সময়কাল ১৯০৫ সাল।  * **উদ্দেশ্য:** বিচ্ছিন্নতাবাদী ব্রিটিশ শক্তির বিরুদ্ধে বাঙালির ঐক্য ও অখণ্ড বাংলাকে ভালোবাসার বহিঃপ্রকাশ ঘটানো।  * **গানের সুর:** এটি বাউল গান থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে সুরারোপিত। তৎকালীন বাউল গগন হরকরার "আমি কোথায় পাব তারে" গানের সুরের আদলে এটি তৈরি করা হয়েছে। ### মূল বিষয়বস্তু এই গানের মূল উপজীব্য হলো বাংলার রূপ, প্রকৃতি এবং বাঙালি হৃদয়ে বাংলার জন্য যে অমলিন ভালোবাসা, তা ফুটে ওঠা।  * **প্রকৃতি ও রূপের বন্দনা:** কবি এখানে বাংলার মাঠ-ঘাট, বন-উপবন, আকাশ-বাতাস, নদী ও ফসলের ক্ষেতের এ...
 কলেজের ছাত্র-ছাত্রীদের জন্য 'গৃহদাহ' উপন্যাসের গভীর বিশ্লেষণ এবং পরীক্ষার উপযোগী প্রশ্ন ও উত্তরের সমন্বয়ে যে তিনটি গ্রন্থ সবচেয়ে কার্যকর, তা নিচে সাজিয়ে দেওয়া হলো: ### ১. **শরৎচন্দ্র: মানুষ ও শিল্পী — ড. উপেন্দ্রনাথ ভট্টাচার্য**  * **কেন এটি সেরা:** এই বইটি ছাত্র-ছাত্রীদের কাছে একটি আকরগ্রন্থের মতো। এতে উপন্যাসের প্রতিটি চরিত্রের মনস্তাত্ত্বিক দিকের অত্যন্ত সূক্ষ্ম বিশ্লেষণ রয়েছে।  * **বিশেষত্ব:** বইটিতে শরৎচন্দ্রের ছোট-বড় সকল উপন্যাস নিয়ে আলোচনা থাকায়, 'গৃহদাহ'-এর প্রেক্ষাপট এবং অন্যান্য উপন্যাসের সাথে এর তুলনামূলক আলোচনা খুব চমৎকারভাবে দেওয়া আছে। পরীক্ষার উত্তর লেখার জন্য প্রয়োজনীয় গভীর দৃষ্টিভঙ্গি এখান থেকে পাওয়া যাবে। ### ২. **শরৎ সাহিত্যের রূপ ও রীতি — ড. অসিতকুমার বন্দ্যোপাধ্যায়**  * **কেন এটি সেরা:** ড. বন্দ্যোপাধ্যায়ের আলোচনাশৈলী অত্যন্ত প্রাঞ্জল এবং শিক্ষার্থীবান্ধব।  * **বিশেষত্ব:** এই বইটিতে উপন্যাসের গঠনশৈলী, ভাষার ব্যবহার এবং তৎকালীন সামাজিক সমস্যার সাথে চরিত্রের সম্পর্কের যে বিশ্লেষণ আছে, তা কলেজ পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের পরীক্ষার প্রশ্নের উত্তরের কা...

শব্দার্থ পরিবর্তনের যেকোনো দুটি ধারা সম্পর্কে উদাহরণসহ আলোচনা করো।

শব্দার্থ পরিবর্তনের যেকোনো দুটি ধারা সম্পর্কে উদাহরণসহ আলোচনা করো। পশ্চিমবঙ্গ রাষ্ট্রীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের, (WBSU) চতুর্থ সেমিস্টার, বাংলা মেজর।   •শব্দার্থ পরিবর্তনের ধারাঃঅর্থসংকোচ ও অর্থবিস্তার•           •ভাষাবিজ্ঞানের দৃষ্টিতে ভাষার বিবর্তনের সাথে সাথে শব্দের অর্থের পরিবর্তন একটি স্বাভাবিক ও নিরন্তর প্রক্রিয়া। একেই 'শব্দার্থ পরিবর্তনের ধারা' বলা হয়। সময়ের সাথে সাথে কোনো শব্দের আদি অর্থ পরিবর্তিত হয়ে নতুন অর্থ গ্রহণ করা বা অর্থের পরিধি সংকুচিত-প্রসারিত হওয়াকে শব্দার্থ পরিবর্তনের ধারা বলে।         • ভাষার বিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে শব্দের অর্থ স্থির থাকে না। কালক্রমে শব্দের অর্থের পরিবর্তন ঘটে। এই পরিবর্তনের পেছনে ঐতিহাসিক, সমাজতাত্ত্বিক ও মনস্তাত্ত্বিক কারণ থাকে। শব্দার্থ পরিবর্তনের প্রধান দুটি ধারা হলো- অর্থসংকোচ এবং অর্থবিস্তার।     ১. অর্থসংকোচঃ যখন কোনো শব্দ তার ব্যাপক বা সাধারণ অর্থ পরিত্যাগ করে একটি বিশেষ বা সংকীর্ণ অর্থে সীমাবদ্ধ হয়ে পড়ে, তখন তাকে অর্থসংকোচ বলা হয়। অর্থাৎ, আগে শব্দটি যে বিশাল ক্ষেত্র জুড়ে ব্যবহৃত হতো, কাল...
 পশ্চিমবঙ্গ রাষ্ট্রীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা মেজর সিলেবাসের অন্তর্ভুক্ত এই বিষয়টি নিচে সংক্ষেপে আলোচনা করা হলো। ### ১. মধ্য ভারতীয় আর্য ভাষার কালগত সীমা ভাষাতাত্ত্বিক ও পণ্ডিতগণের মতে, ভারতীয় আর্য ভাষার বিবর্তনের দ্বিতীয় বা মধ্যবর্তী স্তর হলো **মধ্য ভারতীয় আর্য ভাষা** (Middle Indo-Aryan)। এই স্তরের কালসীমা আনুমানিক **খ্রিস্টপূর্ব ৬০০ অব্দ থেকে ৯০০ খ্রিস্টাব্দ** পর্যন্ত বিস্তৃত। এই দীর্ঘ সময়কালকে সুবিধার জন্য তিনটি পর্যায়ে ভাগ করা হয়:  * **প্রথম পর্যায়:** খ্রিস্টপূর্ব ৬০০ অব্দ থেকে ১০০ খ্রিস্টপূর্বাব্দ পর্যন্ত (প্রত্নলিপি প্রাকৃত বা আদি পর্যায়)।  * **দ্বিতীয় পর্যায়:** ১০০ খ্রিস্টপূর্বাব্দ থেকে ৬০০ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত (প্রাকৃত বা সাহিত্যিক পর্যায়)।  * **তৃতীয় পর্যায়:** ৬০০ খ্রিস্টাব্দ থেকে ৯০০ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত (অপভ্রংশ ও অবহট্‌ঠ পর্যায়)। ### ২. প্রাচীন ভারতীয় আর্য ভাষার ধ্বনিতাত্ত্বিক বৈশিষ্ট্য প্রাচীন ভারতীয় আর্য ভাষা (খ্রিস্টপূর্ব ১৫০০ - ৬০০ অব্দ) প্রধানত বৈদিক ও সংস্কৃত ভাষার সমন্বয়ে গঠিত। এর প্রধান ধ্বনিতাত্ত্বিক বৈশিষ্ট্যগুলি নিম্নরূপ:  * **স্বরধ্বনির প্রাচ...
 পশ্চিমবঙ্গ রাষ্ট্রীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা মেজর সিলেবাসের চতুর্থ সেমিস্টারের উপযোগী **প্রাচীন ভারতীয় আর্য ভাষার** নির্ঘণ্ট এবং ধ্বনিতাত্ত্বিক বৈশিষ্ট্য নিচে আলোচনা করা হলো। পরীক্ষার প্রস্তুতির জন্য এটি একটি পূর্ণাঙ্গ নোট। ## প্রাচীন ভারতীয় আর্য ভাষা: কালসীমা ও বৈশিষ্ট্য ভারতীয় আর্য ভাষার ইতিহাসের প্রথম স্তর হলো **প্রাচীন ভারতীয় আর্য ভাষা** (Old Indo-Aryan / OIA)। এটি মূলত বৈদিক ও ধ্রুপদী সংস্কৃত ভাষার সমন্বিত রূপ। ### ১. কালগত সীমা ভাষাতাত্ত্বিকদের মতে, প্রাচীন ভারতীয় আর্য ভাষার কালসীমা আনুমানিক **খ্রিস্টপূর্ব ১৫০০ অব্দ থেকে খ্রিস্টপূর্ব ৬০০ অব্দ** পর্যন্ত বিস্তৃত। তবে এর পরবর্তী বিকাশ হিসেবে ধ্রুপদী সংস্কৃতকেও এই পর্যায়ভুক্ত ধরা হয়, যার শেষ সীমা খ্রিস্টীয় ১ম বা ২য় শতাব্দী পর্যন্ত প্রসারিত। ### ২. নির্দেশন বা নিদর্শনসমূহ এই ভাষার প্রধান নিদর্শনগুলি দুই ভাগে বিভক্ত:  * **বৈদিক ভাষা:** ঋগ্বেদ (প্রাচীনতম নিদর্শন), সামবেদ, যজুর্বেদ, অথর্ববেদ, ব্রাহ্মণ, আরণ্যক ও উপনিষদ।  * **ধ্রুপদী সংস্কৃত:** বাল্মীকি রামায়ণ, মহাভারত এবং পরবর্তীতে পাণিনি রচিত ‘অষ্টাধ্যায়ী’ ব্যাক...