Skip to main content

Posts

উদাহরণসহ মিলের ব্যাতিরেকী পদ্ধতি ব্যাখ্যা ও বিচার করো।

উদাহরণসহ মিলের ব্যাতিরেকী পদ্ধতি ব্যাখ্যা ও বিচার করো।               • সংজ্ঞা ও মূলসূত্রঃ- যদি দুটি দৃষ্টান্তের মধ্যে একটি ছাড়া বাকি সব বিষয়ে মিল থাকে এবং কেবল একটি বিশেষ অবস্থার উপস্থিতিতে একটিতে কার্যটি ঘটে ও অন্যটিতে না ঘটে, তবে ওই বিশেষ অবস্থাটিই হবে ওই কার্যের কারণ বা কার্যকারণ সম্পর্কের অংশ। সহজ সূত্রঃ  • সদর্থক দৃষ্টান্ত-যেখানে ‘ক’ আছে, সেখানে ‘খ’ আছে।  • নঞর্থক দৃষ্টান্ত-যেখানে ‘ক’ নেই, সেখানে ‘খ’ও নেই।  • সিদ্ধান্ত- অতএব, ‘ক’ হলো ‘খ’-এর কারণ। • উদাহরণঃ  দুটি একই রকমের সুস্থ চারাগাছ নেওয়া হলো।              •প্রথম গাছটি (সদর্থক)। যেখানে আলো, বাতাস, জল এবং সার দেওয়া হলো। দেখা গেল গাছটি সতেজ হয়ে বেড়ে উঠছে।       • দ্বিতীয় গাছটি (নঞর্থক): বাতাস, জল এবং সার দেওয়া হলো, কিন্তু আলো দেওয়া হলো না। দেখা গেল গাছটি মরে গেল বা বৃদ্ধি পেল না।        • সিদ্ধান্তঃ সুতরাং, আলোই হলো গাছ সতেজ থাকার কারণ।      • ব্যাতিরব্যতিরেকী পদ্ধতির সুবিধা (বিচার - গুণ) ...
Recent posts

উদাহরণসহ মিলের সহপরিবর্তন পদ্ধতি ব্যাখ্যা ও বিচার করো।

উদাহরণসহ মিলের সহপরিবর্তন পদ্ধতি ব্যাখ্যা ও বিচার করো (Method of Concomitant Variation) • সংজ্ঞা ও সূত্র- জে. এস. মিলের মতে, যদি দুটি ঘটনার মধ্যে একটির পরিবর্তনের সাথে সাথে অন্যটিও পরিবর্তিত হয়, তবে ওই ঘটনা দুটির মধ্যে একটি কার্যকরণ সম্পর্ক থাকবে। মিলের ভাষায়-  "যে-ঘটনাটি কোনো বিশেষ প্রকারে পরিবর্তিত হলে অন্য একটি ঘটনাও যদি কোনো বিশেষ প্রকারে পরিবর্তিত হয়, তবে ওই প্রথমোক্ত ঘটনাটি শেষোক্ত ঘটনাটির কারণ অথবা কার্য অথবা কোনো কার্যকরণ সম্পর্কে আবদ্ধ।" • আকার বা সাংকেতিক উদাহরণ- সহপরিবর্তন পদ্ধতি দুই প্রকারের হতে পারে-  সরাসরি (Direct) এবং ব্যস্তানুপাতিক (Inverse)। • দৃষ্টান্ত ১ (বৃদ্ধি)    * পূর্বগামী ঘটনা-A1BC, অনুগামী ঘটনা-a_1bc     পূর্বগামী ঘটনা- A2BC, অনুগামী ঘটনা- a_2bc     সুতরাং, A হলো a-এর কারণ।  •  দৃষ্টান্ত ২ (হ্রাস):    • পূর্বগামী ঘটনা: A⬆️  BC, অনুগামী ঘটনা: a ⬆️bc     সুতরাং, A ও a কার্যকরণ সম্পর্কে যুক্ত। • বাস্তব উদাহরণ বাজারের চাহিদার সাথে দামের সম্পর্ক হলো সহপরিবর্তন পদ্ধতির একটি প্রকৃষ্ট উদাহরণ। ...
 ভূগোল বা ভূতত্ত্বের ভাষায় কারি (Corrie) বা সার্ক (Cirque) হলো হিমবাহের ক্ষয়কার্যের ফলে সৃষ্ট একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিরূপ। নিচে এর বিস্তারিত আলোচনা করা হলো: কারি বা সার্ক কাকে বলে?         •উচ্চ পার্বত্য অঞ্চলে হিমবাহের অবঘর্ষ (Abrasion) ও উৎপাটন (Plucking) প্রক্রিয়ায় পাহাড়ের গায়ে যে বিশাল আরামকেদারার (Armchair) মতো গর্ত বা খাড়া দেয়ালযুক্ত বেসিন তৈরি হয়, তাকেই সার্ক বলা হয়।  * নামকরণ: ফরাসি ভাষায় একে বলা হয় 'সার্ক' (Cirque), স্কটল্যান্ডে একে বলা হয় 'কারি' (Corrie), জার্মানিতে 'কার' (Kar) এবং ওয়েলসে একে 'কুম' (Cwm) বলা হয়। উৎপত্তি (Origin) সার্ক বা কারি মূলত তিনটি পর্যায়ের মাধ্যমে গঠিত হয়: ১. তুষার জমে গর্ত সৃষ্টি: পাহাড়ের ঢালে কোনো প্রাকৃতিক খাঁজে তুষার জমতে শুরু করে। পর্যায়ক্রমিক বরফ গলা ও জমার ফলে (Freeze-thaw action) শিলা ফেটে গিয়ে গর্তটি বড় হতে থাকে। ২. হিমবাহের ক্ষয়কার্য: গর্তটি যখন হিমবাহে পূর্ণ হয়, তখন হিমবাহের ওজনে পাহাড়ের গায়ে উৎপাটন ও অবঘর্ষ প্রক্রিয়া শুরু হয়। এতে গর্তের পিছনের দেয়াল খাড়া হয়ে যায় এবং নিচের অংশ গভীর ও অবতল হয়ে পড়ে। ৩. আরাম...
 পশ্চিমবঙ্গ রাষ্ট্রীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের (WBSU) বাংলা মেজর পঞ্চম সেমিস্টারের পাঠ্যসূচি অনুযায়ী শিবরাম চক্রবর্তীর আত্মজৈবনিক উপন্যাস ‘ঈশ্বর পৃথিবী ভালোবাসা’-র রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট ও মেদিনীপুরের দিনলিপি সম্পর্কিত একটি আলোচনা নিচে দেওয়া হলো। ‘ ঈশ্বর পৃথিবী ভালোবাসা’: রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট ও মেদিনীপুরের দিনলিপি শিবরাম চক্রবর্তী মূলত তাঁর হাস্যরসের জন্য বাঙালি পাঠকের কাছে জনপ্রিয় হলেও, তাঁর আত্মজীবনীমূলক গ্রন্থ ‘ঈশ্বর পৃথিবী ভালোবাসা’ একটি গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহাসিক ও রাজনৈতিক দলিল। এই গ্রন্থে ১৯২০-এর দশকের উত্তাল রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং মেদিনীপুরের দিনলিপি এক অনন্য মাত্রায় প্রতিফলিত হয়েছে। ১. রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট: অসহযোগ ও সশস্ত্র বিপ্লব গ্রন্থটির রচনাকাল ও প্রেক্ষাপট মূলত বিংশ শতাব্দীর প্রথম দিকের উত্তাল সময়। মহাত্মা গান্ধীর নেতৃত্বে ভারতে তখন অসহযোগ আন্দোলন শুরু হয়েছে। শিবরাম এই আন্দোলনে সক্রিয়ভাবে জড়িয়ে পড়েছিলেন। গ্রন্থে দেখা যায়, তিনি দেশবন্ধু চিত্তরঞ্জন দাসের আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে ঘর ছেড়েছিলেন। সেই সময়ের রাজনীতি কেবল মিটিং-মিছিলে সীমাবদ্ধ ছিল না, বরং তা ছিল আদর্শবাদের লড়াই। অসহযোগ আন্দোলনের পা...

ঈশ্বর পৃথিবী ভালোবাসা' উপন্যাসটি প্রথাগত আত্মজীবনী হিসেবে সার্থকতা ও স্বকীয়তা আলোচনা।

প্রথাগত আত্মজীবনী হিসেবে 'ঈশ্বর পৃথিবী ভালোবাসা'র সার্থকতা ও স্বকীয়তা আলোচনা কর (পশ্চিমবঙ্গ রাষ্ট্রীয় বিশ্ববিদ্যালয় পঞ্চম সেমিস্টার বাংলা মেজর)। শিবরাম চক্রবর্তীর 'ঈশ্বর পৃথিবী ভালোবাসা' গ্রন্থটি একটি ব্যতিক্রমী উপন্যাস। যেখানে তিনি প্রথাগত আত্মজীবনীর কাঠামোকে ভেঙে এক স্বকীয় গদ্যশৈলী নির্মাণ করেছেন। যেটি বাংলা সাহিত্যে আত্মজীবনী বলতেই সাধারণত জীবনের ঘটনাক্রম, বংশপরিচয় এবং সাফল্যের খতিয়ান বোঝায়। কিন্তু শিবরাম চক্রবর্তীর 'ঈশ্বর পৃথিবী ভালোবাসা' এই প্রথাগত ছাঁচকে অস্বীকার করে এক অনন্য 'অ-জীবনী' হয়ে উঠেছে।আর সেখানে আমারা দেখি-  ১. ঘটনার চেয়ে অনুভূতির প্রাধান্য প্রথাগত আত্মজীবনীতে সাল-তারিখের গুরুত্ব থাকে অপরিসীম। কিন্তু শিবরামের কাছে সময় ছিল আপেক্ষিক। তিনি নিজের জীবনকে দেখেছেন একজন নির্লিপ্ত দর্শকের চোখে। তাঁর শৈশব, কৈশোর বা রাজনৈতিক জীবনের বর্ণনা থাকলেও সেখানে কোনো 'মহিমা' প্রচারের চেষ্টা নেই। বরং আছে একধরণের কৌতুকময় উদাসীনতা। তিনি নিজেই বলেছেন: > "স্মৃতি মানেই তো কিছুটা বিস্মৃতি আর কিছুটা কল্পনা। আমি যা মনে রেখেছি, তা হয়তো ঘটেনি; আর যা ...

ঈশ্বর পৃথিবী ভালবাসা গ্রন্থ অবলম্বনে শিবরামের চক্রবর্তীর গদ্যরীতি ও হাস্যরসের অন্তরালে জীবন দর্শনের পরিচয় দাও

শিবরামের গদ্যরীতি ও হাস্যরসের অন্তরালে জীবনদর্শন আলোচনা করো 'ঈশ্বর পৃথিবী ভালবাসা' গ্রন্থ অবলম্বনে (পশ্চিমবঙ্গ রাষ্ট্রীয় বিশ্ববিদ্যালয় পঞ্চম সেমিনার বাংলা মেজর)।        আলোচনা শুরুতেই আমরা বলে রাখি যে,শিবরাম মানেই শব্দের খেলা (Pun) এবং হিউমার । কিন্তু 'ঈশ্বর পৃথিবী ভালোবাসা' গ্রন্থে হাসির আড়ালে এক গভীর একাকীত্ব ও নির্মোহ জীবনদর্শন লুকিয়ে আছে। লেখকের এই বিশিষ্ট গদ্যশৈলী এবং তাঁর জীবনবোধের মেলবন্ধনে আযরা পাই-শিবরাম চক্রবর্তীর সাহিত্য মানেই আমাদের চোখে ভেসে ওঠে চঞ্চল হর্ষবর্ধন-গোবর্ধন কিংবা মেজদা। কিন্তু তাঁর এই হাস্যকৌতুক ও শব্দের কারুকার্যের অন্তরালে লুকিয়ে আছে এক নির্মোহ, উদাসীন এবং স্থিতপ্রজ্ঞ জীবনদর্শন। বিশেষত তাঁর আত্মজৈবনিক উপন্যাস 'ঈশ্বর পৃথিবী ভালোবাসা' গ্রন্থে এই দর্শনের পূর্ণ রূপটি ফুটে ওঠে।আর সেখান আমরা দেখি-         •  শিবরামের গদ্যরীতির প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো 'স্ন্যাপশট' বা ছোট ছোট বাক্যের প্রয়োগ এবং অবিশ্বাস্য শব্দক্রীড়া। তিনি শব্দের ধ্বনিগত মিল বা দ্ব্যর্থকতার মাধ্যমে পাঠককে হাসিয়ে ছাড়েন। একে ইংরেজিতে বলা হয় 'Pun'। যেমন-" হাঁপান...

নারীশিক্ষায় ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের অবদান আলোচনা করো।

নারীশিক্ষায় ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের অবদান আলোচনা করো (পশ্চিমবঙ্গ মধ্যশিক্ষা পর্ষদ দশম শ্রেণী প্রথম সেমিস্টার ইতিহাস)।             আলোচনার শুরুতেই আমরা বলে রাখি যে,উনিশ শতকের মধ্যভাগে বাংলার সমাজ যখন কুসংস্কার আর গোঁড়ামিতে আচ্ছন্ন ছিল, তখন 'বিদ্যার সাগর' ও 'দয়ার সাগর' ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর উপলব্ধি করেছিলেন যে, নারীজাতির উন্নতি ছাড়া দেশের সার্বিক উন্নতি সম্ভব নয়। তিনি বুঝেছিলেন, কেবল উচ্চবিত্ত নয়, সাধারণ ঘরের মেয়েদের কাছেও শিক্ষার আলো পৌঁছানো প্রয়োজন।       • বেথুন স্কুল ও বিদ্যাসাগরঃ ১৮৪৯ সালে জন এলিয়ট ড্রিঙ্কওয়াটার বেথুন যখন 'ক্যালকাটা ফিমেল স্কুল' (বর্তমানে বেথুন স্কুল) প্রতিষ্ঠা করেন, তখন বিদ্যাসাগর ছিলেন তার প্রধান সহযোগী। তিনি এই স্কুলের অবৈতনিক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন এবং স্কুলের জন্য ছাত্রী সংগ্রহ ও পাঠ্যক্রম তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেন।        বালিকা বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠাঃ বিদ্যাসাগর যখন দক্ষিণবঙ্গের স্কুল পরিদর্শক (School Inspector) ছিলেন, তখন তিনি ব্যক্তিগত উদ্যোগে গ্রামবাংলার আনাচে-কানাচে স্কুল তৈরির ক...