Skip to main content

Posts

ভাষাচর্চা।

  বিদেশী শব্দ (Foreign Words)কাকে বলে উদাহরণ দাও।           আমরা জানি যে, ভাষা হলো একটি বহমান বিষয়।যেখানে রাজনৈতিক, ধর্মীয়, বাণিজ্যিক বা সাংস্কৃতিক কারণে বাংলাদেশে আগত বিভিন্ন ভাষাভাষী মানুষের যেসব শব্দ বাংলা ভাষায় আত্মীকৃত হয়েছে এবং বর্তমানে আমাদের নিজস্ব শব্দের মতো ব্যবহৃত হচ্ছে, তাদের বিদেশী শব্দ বলে।          •মূলত আরবি, ফারসি, ইংরেজি, পর্তুগিজ, তুর্কি ইত্যাদি ভাষা থেকে এই শব্দগুলো বাংলায় এসেছে। উদাহরণ- • আরবি শব্দঃ আল্লাহ , আদালত, কলম, বাকি।  • ফারসিঃ চশমা, দোকান, কারখানয়।  • ইংরেজিঃ  স্কুল, টেবিল, লাইব্রেরি, পুলিশ।  • পর্তুগিজ: আনারস, আলমারি। • তুর্কি: দারোগা, কাঁচি, কুলি।      মিশ্র শব্দ (Hybrid/Mixed Words)কাকে বল উদাহরণ দাও।         যখন কোনো একটি বিশেষ শব্দ দুটি ভিন্ন ভাষার শব্দের মিলনে গঠিত হয়, তখন তাকে মিশ্র শব্দ বলা হয়। অর্থাৎ, এটি একটি 'হাইব্রিড' শব্দ যেখানে একটি অংশ দেশি বা তৎসম হতে পারে এবং অন্য অংশটি বিদেশী হতে পারে। উদাহরণ-  • রাজা-বাদশাহঃ রাজা (তৎসম) + ...
Recent posts

প্রশ্নপত্র ঈশ্বর পৃথিবী ভালবাসা শিবরাম চক্রবর্তী।

 পশ্চিমবঙ্গ রাষ্ট্রীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের (WBSU) বিগত কয়েক বছরের প্রশ্নপত্রের ধারা এবং CC-11 পত্রের গুরুত্ব বিচার করলে, শিবরাম চক্রবর্তীর 'ঈশ্বর পৃথিবী ভালোবাসা' থেকে আগামী পরীক্ষার জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ৪টি বড় প্রশ্ন (১০ নম্বর) নিচে দেওয়া হলো: ১. নামকরণের সার্থকতা বিচার করো এটি এই গ্রন্থের সবচেয়ে কমন এবং গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন। শিবরাম কেন তাঁর আত্মজীবনীর নাম 'ঈশ্বর পৃথিবী ভালোবাসা' রাখলেন? এখানে 'ঈশ্বর' বলতে তিনি নিজেকে, 'পৃথিবী' বলতে জগতকে এবং 'ভালোবাসা' বলতে তাঁর জীবনদর্শনকে কীভাবে বুঝিয়েছেন, তা বিশ্লেষণ করতে হবে। ২. প্রথাগত আত্মজীবনী হিসেবে 'ঈশ্বর পৃথিবী ভালোবাসা'র সার্থকতা ও স্বকীয়তা সাধারণত আত্মজীবনীতে মানুষ নিজের সাফল্যের কথা বলে, কিন্তু শিবরাম এখানে নিজের ব্যর্থতা, আলস্য এবং অদ্ভুত সব অভিজ্ঞতাকে কৌতুকবহ ভঙ্গিতে তুলে ধরেছেন। এই গ্রন্থটি কীভাবে একটি 'Anti-Autobiography' বা প্রথাগত আত্মজীবনীর গণ্ডি ভেঙেছে, তা আলোচনা করো। ৩. গ্রন্থে প্রতিফলিত রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট ও মেদিনীপুরের দিনলিপি শিবরামের মেদিনীপুরের জীবন, দেশপ্রেম, কারাবরণ এ...
স্বামীজীকে যেরূপ দেখিয়াছি গ্রন্থে নিবেদিতার দৃষ্টিতে সারদা দেবীর পরিচয় যেভাবে উপস্থাপিত হয়েছে তার বর্ণনা দাও।           ভগিনী নিবেদিতা তাঁর কালজয়ী গ্রন্থ ‘স্বামীজিকে যেরূপ দেখিয়াছি’ (The Master as I Saw Him)-এ শ্রীমা সারদা দেবীকে এক অনন্য আধ্যাত্মিক ও মানবিক উচ্চতায় উপস্থাপন করেছেন। নিবেদিতার কাছে সারদা দেবী ছিলেন কেবল স্বামীজির গুরুপত্নী বা শ্রীরামকৃষ্ণের সহধর্মিণী নন, বরং তিনি ছিলেন ‘আদর্শ ভারতীয় নারীত্বের’ এক জীবন্ত বিগ্রহ। নিবেদিতার দৃষ্টিতে সারদা দেবীর পরিচয়ের প্রধান দিকগুলো নিচে আলোচনা করা হলো: ১. আধ্যাত্মিকতার মূর্ত প্রতীক ও প্রশান্তি: নিবেদিতা শ্রীমাকে দেখেছিলেন এক গভীর প্রশান্তির আধার হিসেবে। তিনি লিখেছেন, শ্রীমায়ের জীবন ছিল ‘এক দীর্ঘ ও নিরবচ্ছিন্ন প্রার্থনা’ ("Her life is one long stillness of prayer")। নিবেদিতার কাছে তাঁর ব্যক্তিত্ব ছিল অত্যন্ত সৌম্য এবং তাঁর উপস্থিতিই চারপাশের পরিবেশকে শান্ত ও পবিত্র করে তুলত। ২. আভিজাত্য ও সারল্যের সমন্বয়: শ্রীমা সারদা দেবীর চরিত্রের একটি দিক নিবেদিতাকে ভীষণভাবে মুগ্ধ করেছিল—তা হলো তাঁর রাজকীয় সৌজন্য ও অসাধারণ সর...

স্বামীজীকে যেরূপ দেখিয়েছি গ্রন্থের পঞ্চম পরিচ্ছদে উত্তর ভারতের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য বর্ণনা প্রসঙ্গে স্বামীজীর যে গভীর স্বদেশপ্রেমের পরিচয় পাওয়া যায় তা নিজের ভাষায় লেখো।

স্বামীজীকে যেরূপ দেখিয়েছি গ্রন্থের পঞ্চম পরিচ্ছদে উত্তর ভারতের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য বর্ণনা প্রসঙ্গে স্বামীজীর যে গভীর স্বদেশপ্রেমের পরিচয় পাওয়া যায় তা নিজের ভাষায় লেখো (পশ্চিমবঙ্গ রাষ্ট্রীয় বিশ্ববিদ্যালয়, পঞ্চম সেমিস্টার,বা়ংলা মেজর)।       আলোচনা শুরুতেই আমরা বলে রাখি যে,ভগিনী নিবেদিতা রচিত 'স্বামীজীকে যেরূপ দেখিয়েছি' (The Master as I Saw Him) গ্রন্থের পঞ্চম পরিচ্ছেদটি স্বামীজীর ভারত-ভ্রমণ এবং তাঁর অন্তরের গভীর দেশপ্রেমের এক অনন্য দলিল। এই পরিচ্ছেদে উত্তর ভারতের হিমালয় সানুদেশ এবং পার্বত্য অঞ্চলের প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের পটভূমিতে স্বামীজীর যে রূপটি ফুটে উঠেছে, তা কেবল একজন পর্যটকের নয়, বরং এক দেশপ্রেমিক সন্ন্যাসীর।আর নিবেদিতার বর্ণনায় উত্তর ভারতের প্রকৃতি ও স্বামীজীর স্বদেশপ্রেমের স্বরূপটি হলো-         প্রকৃতির মাঝে স্বদেশ দর্শন স্বামীজীর।উত্তর ভারতের তুষারশুভ্র হিমালয়, পাইন বন এবং পাহাড়ি ঝরনার সৌন্দর্যে স্বামীজী যখন বিভোর হতেন, তখন তাঁর চোখে সেই সৌন্দর্য কেবল জড় প্রকৃতি ছিল না; তা ছিল তাঁর আরাধ্যা 'ভারতজননী'র এক জীবন্ত রূপ। নিবেদিতা লক্ষ্য করেছ...

স্বামীজিকে যেরূপ দেখিয়েছি গ্রন্থে স্বামীজীর সঙ্গে নিবেদিতার প্রথম সাক্ষাতের যে ছবি ফুটে উঠেছে তা আলোচনা করো।

স্বামীজিকে যেরূপ দেখিয়েছি গ্রন্থে স্বামীজীর সঙ্গে নিবেদিতার প্রথম সাক্ষাতের যে ছবি ফুটে উঠেছে তা আলোচনা করো। (পশ্চিমবঙ্গ রাষ্ট্রীয় বিশ্ববিদ্যালয় পঞ্চম সেমিস্টার বাংলা মেজর )।          আলোচনা শুরুতেই আমরা বলে রাখি যে,ভগিনী নিবেদিতা রচিত 'স্বামীজীকে যেরূপ দেখিয়েছি' (The Master as I Saw Him) গ্রন্থটি স্বামী বিবেকানন্দের ব্যক্তিত্ব ও দর্শনের এক অমূল্য দলিল। এই গ্রন্থের প্রথম পরিচ্ছেদে লেখিকা মার্গারেট নোবেল (পরবর্তীতে নিবেদিতা)-এর সঙ্গে স্বামীজীর সেই ঐতিহাসিক প্রথম সাক্ষাতের এক জীবন্ত চিত্র অঙ্কিত হয়েছে। ১৮৯৫ সালের নভেম্বর মাসে লন্ডনের এক ড্রয়িং রুমে তাঁদের এই মিলন ঘটেছিল, যা কেবল মার্গারেটের জীবন নয়, ভারতের ইতিহাসের গতিপথও বদলে দিয়েছিল। আর সেই প্রেক্ষিতে নিবেদিতার বর্ণনায় স্বামীজীর সঙ্গে তাঁর প্রথম সাক্ষাতের মূল দিকগুলি নিচে আলোচনা করা হলো-         সাক্ষাতের পটভূমি ও পরিবেশে আমরা দেখতে পাই-লন্ডনের লেডি ইসাবেল মার্জেসন-এর বাড়িতে এক ঘরোয়া পরিবেশে স্বামীজীর সঙ্গে নিবেদিতার প্রথম আলাপ হয়। নিবেদিতা তখন এক জিজ্ঞাসু ও বিচারপ্রবণ মন নিয়ে সেখানে গিয়...

স্বামীজীকে যেরূপ দেখিয়েছি গ্রন্থে স্বামীজীর উদার ধর্মশিক্ষা সম্পর্কে লেখিকার মতামত ব্যক্ত করো।

স্বামীজীকে যেরূপ দেখিয়েছি গ্রন্থে স্বামীজীর উদার ধর্মশিক্ষা সম্পর্কে লেখিকার মতামত ব্যক্ত করো পশ্চিমবঙ্গ রাষ্ট্রীয় বিশ্ববিদ্যালয় পঞ্চম সেমিস্টার বাংলা মেজর।          আলোচনার শুরুতেই আমরা বরে রাখি যে,ভগিনী নিবেদিতা রচিত 'স্বামীজীকে যেরূপ দেখিয়েছি' (The Master as I Saw Him) গ্রন্থটি স্বামী বিবেকানন্দের বহুমুখী ব্যক্তিত্ব ও দর্শনের এক অনন্য দলিল। এই গ্রন্থে স্বামীজীর উদার ধর্মশিক্ষা সম্পর্কে লেখিকার গভীর পর্যবেক্ষণ ও শ্রদ্ধাশীল মনোভাব অত্যন্ত স্পষ্টভাবে ফুটে উঠেছে। স্বামীজীর ধর্মশিক্ষা কেবল কোনো বিশেষ মতবাদ বা আচার-অনুষ্ঠানের মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল না, বরং তা ছিল সার্বজনীন মানবতার মুক্তিগাথা।যা নিবেদিতার লেখনীতে স্বামীজীর ধর্মশিক্ষার প্রধান দিকগুলি নিচে আলোচনা করা হলো-          নিবেদিতা লক্ষ্য করেছেন যে, স্বামীজীর কাছে ধর্ম কোনো তাত্ত্বিক বিতর্ক ছিল না। তিনি বিশ্বাস করতেন পৃথিবীর সমস্ত ধর্মই সত্যের বিভিন্ন রূপ। নিবেদিতার ভাষায়-  " তিনি হিন্দুধর্মকে বিশ্বের সকল ধর্মের জননী বলিয়া মনে করিতেন, অথচ খ্রীষ্টধর্ম বা ইসলাম ধর্ম সম্পর্কে তাঁহার শ্...

স্বামীজীকে যেরূপ দেখিয়াছি’ গ্ৰন্থে স্বামীজীর মহাপ্রস্থান সম্পর্কে ভগিনী নিবেদিতার আবেগঘন অভিমত আলোচনা করো।

 ‘ স্বামীজীকে যেরূপ দেখিয়াছি’ গ্ৰন্থে স্বামীজীর মহাপ্রস্থান সম্পর্কে ভগিনী নিবেদিতার আবেগঘন অভিমত আলোচনা করো (পশ্চিমবঙ্গ রাষ্ট্রীয় বিশ্ববিদ্যালয় পঞ্চম সেমিস্টার বাংলা মেজর)।         আলোচনা শুরুতেই আমরা বলে রাখি যে, স্বামীজীকে যেরূপ দেখিয়াছি গ্রন্থটি স্বামীজীর জীবনের শেষ দিনগুলোর এক অনন্য এবং আবেগঘন দলিল। এই গ্রন্থে নিবেদিতা অতি কাছ থেকে দেখা স্বামীজীর সেই শান্ত, ধীর অথচ এক অলৌকিক মহাপ্রস্থানের প্রস্তুতির বিবরণ দিয়েছেন।আর সেখানে নিবেদিতার বর্ণনায় স্বামীজীর মহাপ্রস্থান কোনো আকস্মিক ঘটনা ছিল না, বরং তা ছিল এক সুপরিকল্পিত ও সচেতন ত্যাগ। নিম্নে গ্রন্থের আলোকে সেই প্রসঙ্গের মূল দিকগুলি আলোচনা করা হলো-             ভগিনী নিবেদিতা লক্ষ্য করেছিলেন, জীবনের শেষ কয়েক মাস স্বামীজী ক্রমশ নিজেকে গুটিয়ে নিচ্ছিলেন। তাঁর মধ্যে এক গভীর প্রশান্তি বিরাজ করছিল। তিনি বারবার বলতেন, তাঁর কাজ শেষ হয়েছে এবং এখন তিনি বিশ্রাম চান। নিবেদিতা লিখেছেন, স্বামীজী যেন এক অদ্ভুত 'মুক্তি'র স্বাদ পাচ্ছিলেন। তিনি যেন জগতের সমস্ত দায়িত্ব থেকে নিজেকে মুক্ত করে কেবল ধ্যান...