Skip to main content

Posts

 যখন ছোট ছিলাম গ্রন্থে সত্যজিৎ রায় তাঁর শৈশব জীবনের নানা স্মৃতি অত্যন্ত সহজ ও সাবলীল ভাষায় তুলে ধরেছেন। এই গ্রন্থে তাঁর জীবনে ঘটে যাওয়া দুটি বিচিত্র ঘটনা বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। ঘটনাগুলি তাঁর কৌতূহলী মন, পর্যবেক্ষণ ক্ষমতা এবং ভবিষ্যৎ শিল্পীসত্তার বিকাশের ইঙ্গিত বহন করে। নিচে ২০ নম্বরের উপযোগী বিস্তারিত নোট আকারে আলোচনা করা হলো। ✅ ভূমিকা ‘যখন ছোট ছিলাম’ গ্রন্থটি মূলত সত্যজিৎ রায়ের আত্মস্মৃতিমূলক রচনা। এখানে তাঁর শৈশব জীবনের পরিবেশ, পারিবারিক ঐতিহ্য, মানসিক বিকাশ এবং বিভিন্ন বাস্তব অভিজ্ঞতার বর্ণনা পাওয়া যায়। ছোটবেলায় ঘটে যাওয়া কিছু অদ্ভুত ও বিচিত্র ঘটনা তাঁর জীবনে গভীর প্রভাব বিস্তার করেছিল। বিশেষত ডাকাত দেখার অভিজ্ঞতা এবং ছাপাখানার প্রতি তাঁর আকর্ষণের ঘটনা তাঁর জীবনের গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হিসেবে বিবেচিত। ⭐ প্রথম বিচিত্র ঘটনা — ডাকাত দেখার অভিজ্ঞতা ● ঘটনার বিবরণ সত্যজিৎ রায় ছোটবেলায় তাঁর মামাবাড়িতে থাকাকালীন একবার ডাকাত পড়ার ঘটনা প্রত্যক্ষ করেন। একদিন হঠাৎ খবর আসে যে এলাকায় ডাকাত প্রবেশ করেছে। এই সংবাদে বাড়ির সকল সদস্য ভয়ে আতঙ্কিত হয়ে পড়েন এবং নিরাপত্তার জন্য নানা ব্...
Recent posts

ঈশ্বর পৃথিবী ভালোবাসা গ্রন্থে শিবরাম চক্রবর্তীর রাজনৈতিক আন্দোলনের যোগদান ও কারাবাসের অভিজ্ঞতার পরিচয় দাও।

  ঈ শ্বর পৃথিবী ভালোবাসা গ্রন্থে শিবরাম চক্রবর্তীর রাজনৈতিক আন্দোলনের যোগদান ও কারাবাসের অভিজ্ঞতার পরিচয় দাও (পশ্চিমবঙ্গ রাষ্ট্রীয় বিশ্ববিদ্যালয় পঞ্চম সেমিস্টার বাংলা মেজর)          শিবরাম চক্রবর্তীর আত্মজীবনী 'ঈশ্বর পৃথিবী ভালোবাসা' কেবল হাস্যকৌতুক বা নিরাসক্ত জীবনের আখ্যান নয়, এটি তাঁর দেশপ্রেম এবং ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামের এক উজ্জ্বল অধ্যায়কেও ধারণ করে আছে। এই গ্রন্থে তিনি তাঁর রাজনৈতিক আন্দোলনে যোগদান এবং জেল খাটার অভিজ্ঞতাকে অত্যন্ত নির্লিপ্ত অথচ শাণিত ভাষায় বর্ণনা করেছেন। আর সেই বর্ণনায় উঠে এসেছে  শিবরামের রাজনীতি ও কারাবাস। যেখানে আমরা দেখি-          শিবরাম চক্রবর্তীর জীবনে রাজনীতি ছিল এক আকস্মিক কিন্তু গভীর ঝোড়ো হাওয়ার মতো। তাঁর আত্মজীবনীতে তিনি দেখিয়েছেন কীভাবে মালদহের এক কিশোর দেশমাতৃকার টানে ঘর ছেড়ে কলকাতার ফুটপাতে আস্তানা গেড়েছিলেন এবং জড়িয়ে পড়েছিলেন অসহযোগ আন্দোলনের সঙ্গে।রাজনীতিতে যোগদান ও দেশবন্ধু চিত্তরঞ্জনের সান্নিধ্য। সেখানে -          শিবরাম যখন ছোট, তখন সারা ভারতে গান্ধীজির নেতৃ...

যখন ছোট ছিলাম গ্রন্থে সত্যজিৎ রায়ের শৈশব ভ্রমণ বর্ণনা করো।

যখন ছোট ছিলাম গ্রন্থে সত্যজিৎ রায়ের শৈশব ভ্রমণ বর্ণনা করো (পশ্চিমবঙ্গ রাষ্ট্রীয় বিশ্ববিদ্যালয় পঞ্চম সেমিস্টার বাংলা মেজর)          'যখন ছোট ছিলাম' গ্রন্থটি সত্যজিৎ রায়ের শৈশব ও কৈশোরের এক অসামান্য চিত্রশালা। এই গ্রন্থে তাঁর শৈশব ভ্রমণের যে বর্ণনা পাওয়া যায়, তা কেবল ভ্রমণের বিবরণ নয়, বরং এক ভবিষ্যৎ শিল্পীর চোখ দিয়ে দেখা বিশ্বপ্রকৃতি ও মানুষের চালচিত্র।সত্যজিৎ রায়ের শৈশব ছিল বৈচিত্র্যময় অভিজ্ঞতায় ভরপুর। তাঁর আত্মজীবনীমূলক গ্রন্থ 'যখন ছোট ছিলাম'-এ আমরা দেখি, অল্প বয়সেই তিনি ভারতের বিভিন্ন প্রান্তে ভ্রমণের সুযোগ পেয়েছিলেন। এই ভ্রমণগুলি তাঁর পর্যবেক্ষণ ক্ষমতা ও শৈল্পিক চেতনার বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিল। আর সেখানে-           সত্যজিতের শৈশব স্মৃতির এক উজ্জ্বল অংশ জুড়ে আছে ওড়িশার পুরী। সমুদ্রের বিশালতা তাঁকে প্রথমবার প্রকৃতির অসীমতার সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেয়। তিনি লিখেছেন- " পুরীতে গিয়ে আমার প্রথম যে জিনিসটা মনে হয়েছিল সেটা হল সমুদ্রের গর্জন। বালির ওপর দিয়ে হাঁটতে গিয়ে পায়ের আঙুলের ফাঁক দিয়ে বালি ঢোকার সেই শিরশিরে অনুভূতি আজও ম...

ঈশ্বর পৃথিবী ভালোবাসা গ্রন্থে শিবরাম চক্রবর্তীর জীবনে মা চঞ্চলা দেবীর প্রভাব আলোচনা করো।

ঈশ্বর পৃথিবী ভালোবাসা গ্রন্থে শিবরাম চক্রবর্তীর জীবনে মা চঞ্চলা দেবীর প্রভাব আলোচনা করো।           শিবরাম চক্রবর্তীর আত্মজীবনী 'ঈশ্বর পৃথিবী ভালোবাসা' বাংলা সাহিত্যের এক অনন্য সৃষ্টি, যেখানে হাস্যরসের আড়ালে লুকিয়ে আছে এক গভীর জীবনদর্শন। এই গ্রন্থে তাঁর মা চঞ্চলা দেবী কেবল একজন জন্মদাত্রী নন, বরং শিবরামের যাযাবর ও নিরাসক্ত জীবনের প্রধান উৎস হিসেবে প্রতিভাত হয়েছেন। শিবরামের জীবনে চঞ্চলা দেবীর প্রভাব ছিল সুদূরপ্রসারী এবং মানসিক গঠনের মূল কারিগর।আসলে-            চঞ্চলা দেবী ছিলেন সাধারণ বাঙালি বধূর থেকে সম্পূর্ণ আলাদা। তিনি ছিলেন তেজস্বিনী এবং স্বাধীনচেতা। শিবরামের পিতা শিবপ্রসাদ চক্রবর্তী যখন আধ্যাত্মিকতার টানে ঘর ছাড়েন, তখন চঞ্চলা দেবী ভেঙে পড়েননি। বরং নিজের ব্যক্তিত্ব বজায় রেখে তিনি সন্তানদের মানুষ করেছেন। শিবরামের মধ্যে যে প্রথা ভেঙে বেরিয়ে আসার প্রবণতা দেখা যায়, তার বীজ লুকিয়ে ছিল তাঁর মায়ের চরিত্রে।গ্রন্থে শিবরাম লিখেছেন- "মা ছিলেন যেন এক আগ্নেয়গিরি—বাইরে শান্ত কিন্তু ভেতরে তাঁর তেজ ছিল প্রচণ্ড। অন্যায়ের কাছে মাথা নত করা তাঁর স্বভ...

সত্যজিৎ রায়ের বিদ্যালয়ে জীবনের টুকরো টুকরো ছবি যখন ছোট ছিলাম গ্রন্থে যেভাবে ধরা পড়েছে তা অসাধারণ এক জীবনালেখ্য- আলোচনা করো

সত্যজিৎ রায়ের বিদ্যালয়ে জীবনের টুকরো টুকরো ছবি যখন ছোট ছিলাম গ্রন্থে যেভাবে ধরা পড়েছে তা অসাধারণ এক জীবনালেখ্য- আলোচনা করো পশ্চিমবঙ্গ রাষ্ট্র বিশ্ববিদ্যালয় পঞ্চম সেমিস্টার বাংলা মেজর।         আলোচনা শুরুতেই আমরা বলে রাখি যে,সত্যজিৎ রায়ের আত্মজীবনীমূলক গ্রন্থ 'যখন ছোট ছিলাম' কেবল একজন বিশ্ববরেণ্য চলচ্চিত্রকারের শৈশবস্মৃতি নয়, বরং বিশ শতকের গোড়ার দিকের কলকাতার এক জীবন্ত দলিল। তাঁর বিদ্যালয় জীবনের যে খণ্ডচিত্র এই গ্রন্থে উঠে এসেছে, তা অত্যন্ত সহজ, সরল অথচ প্রখর পর্যবেক্ষণ শক্তিতে উজ্জ্বল। আর সেখানে আমরা দেখি- সত্যজিৎ রায়ের বালিগঞ্জ গভর্নমেন্ট স্কুলে প্রবেশের ঘটনা। যেখানে-         গড়পারের বাড়ি ছেড়ে ভবানীপুরে আসার পর সত্যজিৎ রায়ের প্রথাগত শিক্ষা শুরু হয় বালিগঞ্জ গভর্নমেন্ট হাই স্কুলে। প্রথম দিন স্কুলে যাওয়ার অভিজ্ঞতা নিয়ে তিনি লিখেছেন-  " মামা আমাদের দুই ভাইকে নিয়ে গিয়ে স্কুলে ভর্তি করে দিয়ে এলেন। আমার সে মেজমামার নিজের কোনো ছেলেপুলে ছিল না বলে আমাদের ওপর তাঁর টান ছিল খুব বেশি।"        স্কুলের পরিবেশ তাঁর কাছে প্রথম দিকে ক...

যখন ছোট ছিলাম গ্রন্থ অবলম্বনে গড়পারের বাড়ি থেকে ভবানীপুর বাড়িতে কী কী পরিবর্তন লক্ষ্য করেছিলেন সত্যজিৎ রায় তা আলোচনা করো।

যখন ছোট ছিলাম গ্রন্থ অবলম্বনে গড়পারের বাড়ি থেকে ভবানীপুর বাড়িতে কী কী পরিবর্তন লক্ষ্য করেছিলেন সত্যজিৎ রায় তা আলোচনা করো পশ্চিমবঙ্গ রাষ্ট্রীয় বিশ্ববিদ্যালয় পঞ্চম সেমিস্টার বাংলা মেজর।         আলোচনার শুরুতেই আমরা বলে রাখি যে,সত্যজিৎ রায়ের আত্মজীবনীমূলক গ্রন্থ 'যখন ছোট ছিলাম' তাঁর শৈশবস্মৃতির এক অনন্য দলিল। এই গ্রন্থে উত্তর কলকাতার গড়পার রোড থেকে দক্ষিণ কলকাতার ভবানীপুরে স্থানান্তরের ঘটনাটি কেবল একটি আবাসন পরিবর্তন ছিল না, বরং লেখকের দৃষ্টিতে তা ছিল জীবনযাত্রার এক আমূল পরিবর্তন। এই পরিবর্তনের প্রধান দিকগুলো হলো-           গড়পারের বাড়িটি ছিল রায়ের পৈতৃক ভিটা, যেখানে তাঁর পিতা সুকুমার রায় এবং পিতামহ উপেন্দ্রকিশোর রায় চৌধুরী বাস করতেন। সেখানে একটা আভিজাত্য এবং শিল্পীসুলভ পরিবেশ ছিল। অন্যদিকে, ভবানীপুরের বকুলবাগানের বাড়িটি ছিল তাঁর মাতুলালয়।গড়পারের বাড়ির বর্ণনা দিতে গিয়ে তিনি লিখেছেন-  " আমাদের গড়পারের বাড়িটার মতো অত বড়ো বাড়ি আমি আর দেখিনি।... একতলায় ছিল ছাপাখানা, দোতলায় আমরা থাকতাম, আর তেতলায় ছিল বড়ো বড়ো স্টুডিও।"      ভবা...

শিবরাম চক্রবর্তীর 'ঈশ্বর পৃথিবী ভালোবাসা গ্রন্থের নামকরণের সার্থকতা আলোচনা করো।

শিবরাম চক্রবর্তীর 'ঈশ্বর পৃথিবী ভালোবাসা গ্রন্থের নামকরণের সার্থকতা আলোচনা করো(পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য বিশ্ববিদ্যালয় পঞ্চম সেমিস্টার বাংলা মেজর)।      আলোচনার শুরুতেই আমরা বলে রাখি যে,শিবরাম চক্রবর্তীর আত্মজীবনী 'ঈশ্বর পৃথিবী ভালোবাসা' বাংলা সাহিত্যের একটি অনন্য সৃষ্টি। প্রথাগত আত্মজীবনীর গাম্ভীর্য এড়িয়ে তিনি তাঁর জীবনকে এক দার্শনিক অথচ রসাত্মক দৃষ্টিভঙ্গিতে বিচার করেছেন। আসলে শিবরাম চক্রবর্তীর 'ঈশ্বর পৃথিবী ভালোবাসা' কোনো সাধারণ আত্মজীবনী নয়, বরং এটি একটি জীবনদর্শনের দলিল।আর সেখানে নামকরণের সার্থকতা বুঝতে হলে লেখকের জীবনবোধের সেই তিনটি স্তরকে গভীরভাবে বিশ্লেষণ করা প্রয়োজন। সেই প্রেক্ষিতে আমরা বলতে পারি-          শিবরামের জীবনে ' ঈশ্বর' শব্দটির আগমন ঘটেছিল তাঁর বাবার উদাসীন বৈরাগ্য এবং মায়ের গভীর ভক্তি থেকে। তাঁর আত্মজীবনীর একদম শুরুতেই এই নামকরণের সূত্রটি স্পষ্ট হয়-   " ঈশ্বর থেকে পৃথিবীতে এলাম-পৃথিবীকে পেলাম। পৃথিবীর পরিচয়ে ভালোবাসাকে আনলাম। এই আমার বর্ণপরিচয়। ঈশ্বর, পৃথিবী, ভালোবাসা-এই তিনটি শব্দে আমার জীবনটি আঁটা।"       ...