Skip to main content

Posts

 পরীক্ষায় **৫ নম্বরের** প্রশ্নের জন্য সঠিক কাঠামো বজায় রেখে উত্তর লেখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। নিচে পশ্চিমবঙ্গ রাষ্ট্রীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের (WBSU) মান অনুযায়ী একটি আদর্শ উত্তর প্রস্তুত করে দেওয়া হলো: ### **প্রশ্ন: ‘ওহে নবমী-নিশি, না হইও রে অবসান’ — পংক্তিটির প্রসঙ্গ উল্লেখ করে এর অন্তর্নিহিত ভাব সৌন্দর্য ও কাব্যিক তাৎপর্য আলোচনা করো। (মান: ৫)** #### **উৎস ও প্রসঙ্গ:** উদ্ধৃত পদ্যাংশটি শাক্ত পদাবলীর অন্যতম প্রধান সাধক কবি **কমলাকান্ত ভট্টাচার্য** রচিত বিজয়া পর্যায়ের এক কালজয়ী পদ থেকে গৃহীত। বাংলা সাহিত্যের শাক্ত পদাবলীতে পৌরাণিক কাহিনীকে কেন্দ্র করে যে লৌকিক ও সামাজিক চিত্র ফুটে উঠেছে, তার একটি করুণ ও রসঘন প্রকাশ ঘটেছে এই পংক্তিটিতে। শরৎকালের দুর্গাপূজার তিন দিন বাপের বাড়িতে কাটানোর পর দশমীর প্রাতে উমাকে আবার স্বামী শিবের গৃহ কৈলাসে ফিরে যেতে হবে। নবমীর রাত শেষ হওয়া মানেই বিদায়ের বার্তা। তাই উমার মা মেনকা ব্যাকুল হৃদয়ে নবমীর রাত বা ‘নবমী-নিশি’র কাছে অনুনয় করছেন যেন সেই রাত আর শেষ না হয়। #### **ভাব সৌন্দর্য ও অন্তর্নিহিত তাৎপর্য:** **১. সময়কে থমকে দেওয়ার আকুতি:** বাস্তব জীবনে সময় অপ্রতি...
Recent posts
  শাক্ত পদাবলীতে ‘আগমনী’ ও ‘বিজয়া’ পর্যায় বলতে কী বোঝায়? সংক্ষেপে লেখো।  পশ্চিমবঙ্গ রাষ্ট্রীয় বিশ্ববিদ্যালয় প্রথম সেমিস্টার বাংলা মেজর।  প্লিজ এই উত্তরটি তথ্যমূলক ভাবে দেবেন যা ছাত্রছাত্রীদের পরীক্ষায় ভীষণ কাজে লাগবে। বাংলা বৈষ্ণব ও শাক্ত সাহিত্যের একটি অন্যতম উজ্জ্বল রত্ন হলো **শাক্ত পদাবলী**। অষ্টাদশ শতাব্দীতে রামপ্রসাদ সেন, কমলাকান্ত ভট্টাচার্য প্রমুখ সাধক কবিদের হাত ধরে এই সাহিত্যের সমৃদ্ধি ঘটে। শাক্ত পদাবলীর অন্যতম জনপ্রিয় ও রসোত্তীর্ণ পর্যায় হলো **আগমনী** ও **বিজয়া**। পরীক্ষার উত্তরপত্র রচনার সুবিধার জন্য নিচে তথ্যমূলকভাবে পর্যায় দুটি আলোচনা করা হলো: ## ১. আগমনী পর্যায় **‘আগমনী’** শব্দের অর্থ আগমন বা ঘরে আসা। হিন্দু পৌরাণিক ঐতিহ্য ও বাঙালি সমাজজীবনের মেলবন্ধনে রচিত এই পদগুলোতে দেবদেবী কিংবা অলৌকিকতার চেয়ে একজন বাঙালি গৃহস্থ ঘরের মা ও মেয়ের স্নেহ-ভালোবাসার ব্যাকুলতা প্রাধান্য পেয়েছে।  * **বিষয়বস্তু:** গিরিরাজ হিমালয় ও রানী মেনকার কন্যা **উমা (পার্বতী)**। কড়া তপস্যা করে তিনি রুদ্র রূপধারী শ্মশানবাসী **শিবের** সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হয়ে কৈলাসে চলে যান। বছরে মা...

প্রাকৃতিক বিপর্যয় প্রতিরোধে ছাত্রসমাজের ভূমিকা ও কর্তব্য।

প্রাকৃতিক বিপর্যয় প্রতিরোধে ছাত্রসমাজের ভূমিকা ও কর্তব্য। পশ্চিমবঙ্গ মাধ্যমিক শিক্ষা সংসদ সপ্তম শ্রেণী দ্বিতীয় সেমিস্টার।          আলোচনার শুরুতেই আমরা বলতে পারি যে, আমাদের চারপাশের প্রকৃতি যেমন আমাদের লালনপালন করে, তেমনই প্রকৃতির ভয়ংকররূপ কোন কোন সময়েই সমস্ত কিছু ধ্বংস করে দেয়। আর সেই তাণ্ডবলীলাকেই বলা হয় ‘প্রাকৃতিক বিপর্যয়’।তবে বন্যা, ঘূর্ণিঝড়, খরা, ভূমিকম্প বা ধসের মতো বিপর্যয়গুলো বহু মানুষের জীবন ও জীবিকা বিপন্ন করে দেয় মুহূর্তের মধ্যে ।এই কঠিন সময়ে দেশের ভবিষ্যৎ রক্ষা করতে  ছাত্রসমাজ এক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে আর এখানে আমরা কবি সুকান্ত ভট্টাচার্যের ভাষায় বলতে পারি-  "এ সমাজকে বসবাসের যোগ্য করে তোলার দায়িত্ব নবজাতক তথা ছাত্রসমাজের।"       আমাদের রাজ্য পশ্চিমবঙ্গ নদীমাতৃক এবং উপকূলবর্তী রাজ্য হওয়ার কারণে মাঝেমধ্যেই আমরা বন্যা, আমফান, ইয়াস মতো বিধ্বংসী ঘূর্ণিঝড়ের মুখোমুখি হয়েছি। এছাড়া মাঝেমাঝে জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে প্রকৃতির এই তাণ্ডব দিন দিন বেড়েই চলেছে।তবে প্রাকৃতিক বিপর্যয় কে পুরোপুরি রোধ করা অসম্ভব হলেও, সঠিক সতর্...

উদাহরণসহ মিশ্র কলাবৃত্ত বা দলবৃত্ত ছন্দের সংজ্ঞা ও স্বরূপ আলোচনা করো।

উদাহরণসহ মিশ্র কলাবৃত্ত বা দলবৃত্ত ছন্দের সংজ্ঞা ও স্বরূপ আলোচনা করো।পশ্চিমবঙ্গ রাষ্ট্রীয় বিশ্ববিদ্যালয়, কলিকাতা বিশ্ববিদ্যালয় চতুর্থ সেমিস্টার, বাংলা মেজর।     • মিশ্র কলাবৃত্ত ছন্দঃ যে ছন্দে মূল পর্ব সাধারণত ৮ বা ১০ মাত্রার হয় এবং রুদ্ধদলের অবস্থানভেদে মাত্রাসংখ্যা পরিবর্তিত হয় (অর্থাৎ আদিতে বা মাঝে থাকলে ১ মাত্রা, কিন্তু শেষে বা এককভাবে থাকলে ২ মাত্রা হয়), তাকে মিশ্র কলাবৃত্ত ছন্দ বলে।       ছান্দসিক প্রবোধচন্দ্র সেন একে ‘মিশ্র কলাবৃত্ত’, কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর একে ‘অক্ষরবৃত্ত’ বা ‘সাধু ছন্দ’ এবং অন্য অনেকে একে ‘যৌগিক ছন্দ’ বা ‘তানপ্রধান ছন্দ’ নামে অভিহিত করেছেন।         • মিশ্র কলাবৃত্ত ছন্দের স্বরূপ ও বৈশিষ্ট্য•   মুক্তদলঃ শব্দের যেকোনো স্থানে বসুক না কেন, তা সর্বদা ১ মাত্রা হিসেবে গণ্য হয়।    •রুদ্ধদলঃশব্দের আদিতে বা মাঝে বসলে১ মাত্রা, কিন্তু শব্দের শেষে বা এককভাবে বসলে ২ মাত্রা হিসেবে গণ্য হয়।    •ধীর ও প্রবহমান লয় (তানপ্রধান চাল):দলবৃত্ত ছন্দের মতো এর পাঠরীতি দ্রুত বা চপল নয়। এতে একটি গম্ভীর তান বা ট...

ধ্বনি, অক্ষর ও বর্ণের স্বরূপ ও গুরুত্ববাংলা কাব্যে অমিত্রাক্ষর ছন্দের সৃষ্টিকর্তা ও এর প্রথম প্রয়োগ।

ধ্বনি, অক্ষর ও বর্ণের স্বরূপ ও গুরুত্ব ও  বাংলা কাব্যে অমিত্রাক্ষর ছন্দের সৃষ্টি কর্তা ও এর প্রথম প্রয়োগ।     ১)ধ্বনিঃ মানুষের বাগযন্ত্রের সাহায্যে উচ্চারিত সূক্ষ্মতম ও মৌলিক  শব্দই হলো ধ্বনি।এটি শ্রুতিগ্রাহ্য অর্থাৎ শুধু কানে শোনা যায়।উদাহরণ- মুখ দিয়ে উচ্চারিত 'অ', 'আ', 'ক্' ইত্যাদি।       ২)অক্ষর বা দলঃ এক বাক্প্রত্যাহারে (অর্থাৎ মুখের এক ধাক্কায় বা একপ্রয়াসে) শব্দের যতটুকু অংশ উচ্চারিত হয়, তাকে অক্ষর বা দল বলে। অক্ষর মূলত ধ্বনির সমষ্টি বা একক।উদাহরণঃ'কলকাতা' শব্দটি এক ধাক্কায় উচ্চারণ করলে হয়: কল্-কা-তা (এখানে ৩টি অক্ষর রয়েছে)।       ৩) বর্ণঃ ধ্বনির লিখিত রূপ বা দৃশ্যমান প্রতীকই হলো বর্ণ। যা চোখে দেখা যায় এবং খাতায় লেখা যায়।উদাহরণ- উচ্চারিত 'অ' ধ্বনিটিকে যখন কাগজে 'অ' চিহ্নে লেখা হয়, তখন তা বর্ণ। ধ্বনি, অক্ষর ও বর্ণের গুরুত্ব      • ধ্বনি ভাষার প্রাথমিক উপাদান। ধ্বনি না থাকলে ভাষার মৌখিক অস্তিত্বই থাকত না।      • বর্ণ আবিষ্কারের ফলেই মানুষের মুখে বলা কথা ও ভাব স্থায়িত্ব পেয়েছে এবং সাহিত্য লিখিত রূপে সং...

শাক্তপদ রচনায় রামপ্রসাদ সেন ও কমলাকান্ত ভট্টাচার্যের পদের মধ্যে সুর ও মেজাজের মূল পার্থক্য কী?আলোচনা করো।

শাক্তপদ রচনায় রামপ্রসাদ সেন ও কমলাকান্ত ভট্টাচার্যের পদের মধ্যে সুর ও মেজাজের মূল পার্থক্য কী?আলোচনা করো। পশ্চিমবঙ্গ রাষ্ট্রীয় বিশ্ববিদ্যালয়/কলিকাতা বিশ্ববিদ্যালয় প্রথম সেমিস্টার বাংলা মেজর।          আলোচনা শুরুতেই আমরা বলে রাখি যে,বাংলা পদাবলী সাহিত্যের ইতিহাসে বৈষ্ণব পদাবলীর পদপ্রান্ত ছুঁয়ে অষ্টাদশ শতাব্দীতে যে ভক্তিরসাশ্রিত ও মানবতাবাদী গীতিকাব্যধারার সূচনা হয়েছিল, তা হলো শাক্ত পদাবলী।এই ধারাকে দুটি স্বর্ণশিখরে উন্নীত করেছিলেন দুই মহামানব—সাধককবি রামপ্রসাদ সেন (আনুমানিক ১৭২০-১৭৮১) এবং তাঁর যোগ্য উত্তরসূরি কমলাকান্ত ভট্টাচার্য (১৭৭২-১৮২১)।বিশিষ্ট সমালোচক প্রদীপ বিশ্বাসের মতে- “ বৈষ্ণব পদাবলী রচনায় চণ্ডীদাস ও গোবিন্দদাস কবিরাজের যে পার্থক্য, শাক্তপদাবলী রচনায় রামপ্রসাদ ও কমলাকান্তের মধ্যেও সেই পার্থক্য”।        আসলে রামপ্রসাদ যেখানে স্বতঃস্ফূর্ত ও ভাবতন্ময় সাধক, কমলাকান্ত সেখানে সচেতন কবি ও পণ্ডিত শিল্পী।আর নিম্নে তাঁদের পদাবালীর ‘সুর’ ও ‘মেজাজ’-এর মূল পার্থক্যসমূহ বিস্তারিত আলোচনা করা হলো-    ১) শাক্ত পদাবলীর সুরধারা অনুসা...

বাংলা ছন্দের বিজ্ঞানসম্মত নামকরণে এবং ছন্দতত্ত্বের ইতিহাসে প্রবোধচন্দ্র সেনের অবদান আলোচনা করো।

বাংলা ছন্দের বিজ্ঞানসম্মত নামকরণে এবং ছন্দতত্ত্বের ইতিহাসে প্রবোধচন্দ্র সেনের অবদান আলোচনা করো। পশ্চিমবঙ্গ রাষ্ট্রীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের চতুর্থ সেমিস্টার বাংলা মেজর।        আলোচনা শুরুতেই বলে রাখা ভালো যে, বাংলা  ছন্দশাস্ত্রকে বিশৃঙ্খলা, ভ্রান্তি ও প্রথাগত সংস্কৃত ব্যাকরণের অনুকরণ থেকে মুক্ত করে একটি আধুনিক, বৈজ্ঞানিক ও তাত্ত্বিক ভিতের ওপর দাঁড় করানোর একক কৃতিত্ব প্রবোধচন্দ্র সেনের (১৮৯৭–১৯৮৬)। প্রবোধচন্দ্র সেনের আত্মপ্রকাশের পূর্বে বাংলা ছন্দের নানাবিধ নামকরণ ও বিভাজন নিয়ে আলংকারিকদের মধ্যে চরম মতভেদ ছিল। তিনিই প্রথম ধ্বনিবিজ্ঞান ও ব্যাকরণের নিরিখে বাংলা ছন্দের রূপ প্রকাশ করেন এবং বাংলা ছন্দের তিন প্রধান রীতির বিজ্ঞানসম্মত ও গ্রহণযোগ্য নামকরণ প্রদান করেন। তাই বাংলা ছন্দতত্ত্বের ইতিহাসে তাঁকে ‘আধুনিক বাংলা ছন্দশাস্ত্রের জনক’ বলা হয়।      • বাংলা ছন্দের ত্রিমুখী বিভাজন ও বিজ্ঞানসম্মত নামকরণ।প্রবোধচন্দ্র সেনের সবচেয়ে স্মরণীয় অবদান হলো-তিনি বাংলা কবিতার ছন্দকে গভীরভাবে বিশ্লেষণ করে তাকে ৩টি মূল ধারায় বিভক্ত করেন এবং প্রতিটি রীতির স্বরুপ প্রকাশ ক...