Skip to main content

Posts

 রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের 'জীবনস্মৃতি' গ্রন্থে তাঁর শৈশবের বদ্ধ জীবন থেকে প্রকৃতির উন্মুক্ত আঙিনায় উত্তরণের ইতিহাস এক অত্যন্ত সংবেদনশীল বিবর্তনের আলেখ্য। জোড়াসাঁকোর ঠাকুরবাড়ির অন্দরমহলে ভৃত্যদের শাসনে বন্দি জীবন থেকে বোলপুর ও হিমালয় যাত্রার মাধ্যমে কবির চেতনার যে প্রসার ঘটেছিল,  ১. অন্দরমহলের গণ্ডিবদ্ধ জীবন: ‘ভৃত্যরাজক শাসন’ রবীন্দ্রনাথের শৈশব কেটেছে জোড়াসাঁকোর বাড়ির অন্দরমহলে, যা ছিল তাঁর কাছে এক প্রকার নির্বাসন। ‘জীবনস্মৃতি’-তে তিনি একে ‘ভৃত্যরাজক শাসন’ বলে অভিহিত করেছেন। বাড়ির ভৃত্যদের কড়া শাসনে তাঁর জগত ছিল খড়খড়ির জানলার ভেতর দিয়ে বাইরের পুকুর আর বটগাছ দেখার মধ্যে সীমাবদ্ধ। এই বন্দিদশা তাঁর মনে এক প্রবল তৃষ্ণা তৈরি করেছিল—অজানাকে জানার এবং অদেখাকে দেখার। জানলার বাইরের সেই প্রকৃতিই ছিল তাঁর প্রথম কল্পনার জগৎ। ২. বোলপুর যাত্রা: মুক্তির প্রথম স্বাদ কৈশোরে বাবার (মহর্ষি দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর) সঙ্গে বোলপুর যাত্রা ছিল কবির জীবনে প্রথম শৃঙ্খলমুক্তির স্বাদ। খাঁচার পাখি যেমন বনানী দেখে উদ্বেলিত হয়, কিশোর রবির অবস্থাও ছিল ঠিক তেমন। বোলপুরের রুক্ষ লাল মাটি, খোয়াই আর উন্মুক্ত আকাশ তাঁকে এক অন...
Recent posts

জীবনস্মৃতি' কি নিছক আত্মজীবনী?আলোচনা করো।

'জীবনস্মৃতি' কি নিছক আত্মজীবনী? রবীন্দ্রনাথ নিজেই তাঁর উপক্রমণিকায় বলেছেন এটি তাঁর জীবনের ইতিহাস নয়, বরং তাঁর 'স্মৃতিচিত্র'। এই মন্তব্যটির তাৎপর্য বিশ্লেষণ করো। (পশ্চিমবঙ্গ রাষ্ট্রীয় বিশ্ববিদ্যালয় পঞ্চম সেমিস্টার বাংলা মেজর)            রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের 'জীবনস্মৃতি' গ্রন্থের প্রকৃতি বিশ্লেষণ একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। যেখানে কবি নিজেই তাঁর 'উপক্রমণিকা' অংশে স্পষ্ট করেছেন যে এটি কোনো প্রথাগত বা পারম্পরিক আত্মজীবনী নয়। আসলে এটি নিছক আত্মজীবনী বনাম স্মৃতিচিত্র গ্ৰন্থ।তবে সাধারণত আত্মজীবনী বলতে আমরা বুঝি- কোনো ব্যক্তির জন্ম থেকে বর্তমান সময় পর্যন্ত জীবনের গুরুত্বপূর্ণ ঘটনাবলির কালানুক্রমিক এবং তথ্যনিষ্ঠ বিবরণ। কিন্তু রবীন্দ্রনাথের 'জীবনস্মৃতি' সেই অর্থে তথ্যবহুল 'বায়োগ্রাফি' নয়। কবি উপক্রমণিকায় লিখেছেন- " জীবনস্মৃতি জীবনের ইতিহাস নহে-তাহা কোনো একটি বিশেষের জীবনবৃত্তান্ত নহে।"       রবীন্দ্রনাথের মতে, ইতিহাস গড়া হয় বাইরের ঘটনার ঘাত-প্রতিঘাতে, কিন্তু 'জীবনস্মৃতি' রচিত হয়েছে কবির অন্তরের রঙে। তিনি বাইরের ঘটনার চেয়ে ভ...

রবীন্দ্রনাথের কৈশোরের সাহিত্যচর্চায় জ্যোতিরিন্দ্রনাথ ও কাদম্বরী দেবীর ভূমিকা আলোচনা করো।

রবীন্দ্রনাথের কৈশোরের সাহিত্যচর্চায় জ্যোতিরিন্দ্রনাথ ও কাদম্বরী দেবীর ভূমিকা আলোচনা করো (পশ্চিমবঙ্গ রাষ্ট্রীয় বিশ্ববিদ্যালয়, পঞ্চম সেমিস্টার, বাংলা মেজর )            আলোচনার শুরুতেই আমরা বলে রাখি যে,রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের সাহিত্যিক জীবনের উন্মেষলগ্নে তাঁর পরিবারের দুই সদস্য-জ্যোতিরিন্দ্রনাথ ঠাকুর এবং কাদম্বরী দেবী-অনুঘটক হিসেবে এক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিলেন। একদিকে নতুনদাদা জ্যোতিরিন্দ্রনাথের বৌদ্ধিক ও শৈল্পিক সাহচর্য এবং অন্যদিকে নতুনবৌঠান কাদম্বরী দেবীর নিবিড় মমতাপূর্ণ প্রশ্রয় ও কঠোর সমালোচনা কিশোর রবিকে বিশ্বকবি হওয়ার পথে চালিত করেছিল।আর সেখানে- ১. জ্যোতিরিন্দ্রনাথ ঠাকুর: মুক্তির কারিগর ও মেন্টর        জ্যোতিরিন্দ্রনাথ ছিলেন রবীন্দ্রনাথের চেয়ে বারো বছরের বড় হলেও তাঁদের সম্পর্ক ছিল বন্ধুর মতো। মহর্ষি দেবেন্দ্রনাথের কঠোর শাসনের বাইরে জ্যোতিরিন্দ্রনাথই ছিলেন রবির প্রথম মুক্ত আকাশ। যেখানে- জ্যোতিরিন্দ্রনাথ যখন পিয়ানোতে নতুন নতুন সুর সৃষ্টি করতেন, কিশোর রবি তখন সেই সুরের ছাঁচে শব্দ বসাতেন। এটিই ছিল তাঁর গীতিনাট্য রচনার হাতেখড়ি। ‘জীবন...

ঈশ্বর পৃথিবী ভালোবাসা' গ্রন্থে মেসবাড়ির চালচিত্র ও শিবরামের জীবনদর্শন আলোচনা করো।

' ঈশ্বর পৃথিবী ভালোবাসা' গ্রন্থে মেসবাড়ির চালচিত্র ও শিবরামের জীবনদর্শন আলোচনা করো (পশ্চিমবঙ্গ রাষ্ট্রীয় বিশ্ববিদ্যালয় পঞ্চম সেমিস্টার বাংলা মেজর)।          আলোচনার শুরুতেই আমরা বলে রাখি যে,বাংলা সাহিত্যের প্রবাদপ্রতিম রম্যরচনাকার শিবরাম চক্রবর্তীর আত্মজৈবনিক উপন্যাস 'ঈশ্বর পৃথিবী ভালোবাসা',যেটি কোনো প্রথাগত আত্মজীবনী নয়। এখানে জীবনের ধারাবাহিক ঘটনাক্রমের চেয়ে প্রাধান্য পেয়েছে লেখকের নির্মোহ জীবনদর্শন। এই দর্শনের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে উত্তর কলকাতার মুক্তারাম বাবু স্ট্রিটের সেই বিখ্যাত মেসবাড়ি। শিবরামের কাছে এই মেসবাড়ি কেবল একটি আস্তানা ছিল না, বরং তা ছিল তাঁর জগত ও জীবনকে দেখার এক অনন্য দর্পণ।আর সেখানে আমারা দেখি-         •মেসবাড়ি ও নির্লিপ্তির তপোবন। শিবরামের জীবনে পারিবারিক বন্ধনের চেয়ে মেসবাড়ির জীবন ছিল অধিক প্রিয়। প্রথাগত সাংসারিক শৃঙ্খল থেকে মুক্ত হয়ে এক চিলতে ঘরে নিজের মতো করে বাঁচার যে স্বাদ তিনি পেয়েছিলেন, তা এই গ্রন্থেই পরিস্ফুট। মেসবাড়ির সেই স্যাঁতসেঁতে দেওয়াল, তক্তপোশ আর ভাঙা জানলা তাঁর কাছে ছিল রাজপ্রাসাদের চেয়েও দামি। তিনি...

জীবনস্মৃতি' অবলম্বনে রবীন্দ্রনাথের শৈশবে ভৃত্যদের অনুশাসনের যে চিত্র ফুটে উঠেছে তা আলোচনা করো ।

জীবনস্মৃতি' অবলম্বনে রবীন্দ্রনাথের শৈশবে ভৃত্যদের অনুশাসনের যে চিত্র ফুটে উঠেছে তা আলোচনা করো পশ্চিমবঙ্গ রাষ্ট্রীয় বিশ্ববিদ্যালয় পঞ্চম সেমিস্টার বাংলা মেজর DS11        আলোচনার শুরুতেই আমরা বলে রাখি যে,রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর তাঁর আত্মজীবনীমূলক গ্রন্থ জীবনস্মৃতি-তে শৈশব জীবনের নানা অভিজ্ঞতার কথা স্মৃতিচারণ করেছেন। আসলে তিনি কলকাতার জোড়াসাঁকো ঠাকুরবাড়ির অভিজাত পরিবেশে বেড়ে উঠলেও তাঁর শৈশব ছিল ভৃত্যদের কঠোর নিয়ন্ত্রণ ও শাসনের মধ্যে আবদ্ধ। এই অনুশাসনের ফলে তাঁর শৈশবজীবনে স্বাধীনতার অভাব, ভয়ভীতি এবং মানসিক একাকিত্বের চিত্র ফুটে ওঠে।আসলে-           রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের শৈশব ছিল ভৃত্যদের কঠোর নিয়ন্ত্রণে আবদ্ধ। ভৃত্যদের অনুশাসন, শাসনপ্রণালী ও তাদের কঠোর আচরণ শিশুমনে গভীর প্রভাব ফেলেছিল।আর সেখানে আমারা দেখি-          বাইরে খেলাধুলা বা অবাধভাবে প্রকৃতির সংস্পর্শে যাওয়ার সুযোগ কম ছিল।ঘরের মধ্যে সীমাবদ্ধ জীবনযাপন করতে হতো।শৈশব অনেকটা বন্দিজীবনের মতো মনে হতো।ভৃত্যদের আচরণে মাতৃসুলভ স্নেহের পরিবর্তে কর্তৃত্ব বেশি ছিল।শিশুদের প্রত...

উদাহরণসহ মিলের ব্যাতিরেকী পদ্ধতি ব্যাখ্যা ও বিচার করো।

উদাহরণসহ মিলের ব্যাতিরেকী পদ্ধতি ব্যাখ্যা ও বিচার করো।               • সংজ্ঞা ও মূলসূত্রঃ- যদি দুটি দৃষ্টান্তের মধ্যে একটি ছাড়া বাকি সব বিষয়ে মিল থাকে এবং কেবল একটি বিশেষ অবস্থার উপস্থিতিতে একটিতে কার্যটি ঘটে ও অন্যটিতে না ঘটে, তবে ওই বিশেষ অবস্থাটিই হবে ওই কার্যের কারণ বা কার্যকারণ সম্পর্কের অংশ। সহজ সূত্রঃ  • সদর্থক দৃষ্টান্ত-যেখানে ‘ক’ আছে, সেখানে ‘খ’ আছে।  • নঞর্থক দৃষ্টান্ত-যেখানে ‘ক’ নেই, সেখানে ‘খ’ও নেই।  • সিদ্ধান্ত- অতএব, ‘ক’ হলো ‘খ’-এর কারণ। • উদাহরণঃ  দুটি একই রকমের সুস্থ চারাগাছ নেওয়া হলো।              •প্রথম গাছটি (সদর্থক)। যেখানে আলো, বাতাস, জল এবং সার দেওয়া হলো। দেখা গেল গাছটি সতেজ হয়ে বেড়ে উঠছে।       • দ্বিতীয় গাছটি (নঞর্থক): বাতাস, জল এবং সার দেওয়া হলো, কিন্তু আলো দেওয়া হলো না। দেখা গেল গাছটি মরে গেল বা বৃদ্ধি পেল না।        • সিদ্ধান্তঃ সুতরাং, আলোই হলো গাছ সতেজ থাকার কারণ।      • ব্যাতিরব্যতিরেকী পদ্ধতির সুবিধা (বিচার - গুণ) ...

উদাহরণসহ মিলের সহপরিবর্তন পদ্ধতি ব্যাখ্যা ও বিচার করো।

উদাহরণসহ মিলের সহপরিবর্তন পদ্ধতি ব্যাখ্যা ও বিচার করো (Method of Concomitant Variation) • সংজ্ঞা ও সূত্র- জে. এস. মিলের মতে, যদি দুটি ঘটনার মধ্যে একটির পরিবর্তনের সাথে সাথে অন্যটিও পরিবর্তিত হয়, তবে ওই ঘটনা দুটির মধ্যে একটি কার্যকরণ সম্পর্ক থাকবে। মিলের ভাষায়-  "যে-ঘটনাটি কোনো বিশেষ প্রকারে পরিবর্তিত হলে অন্য একটি ঘটনাও যদি কোনো বিশেষ প্রকারে পরিবর্তিত হয়, তবে ওই প্রথমোক্ত ঘটনাটি শেষোক্ত ঘটনাটির কারণ অথবা কার্য অথবা কোনো কার্যকরণ সম্পর্কে আবদ্ধ।" • আকার বা সাংকেতিক উদাহরণ- সহপরিবর্তন পদ্ধতি দুই প্রকারের হতে পারে-  সরাসরি (Direct) এবং ব্যস্তানুপাতিক (Inverse)। • দৃষ্টান্ত ১ (বৃদ্ধি)    * পূর্বগামী ঘটনা-A1BC, অনুগামী ঘটনা-a_1bc     পূর্বগামী ঘটনা- A2BC, অনুগামী ঘটনা- a_2bc     সুতরাং, A হলো a-এর কারণ।  •  দৃষ্টান্ত ২ (হ্রাস):    • পূর্বগামী ঘটনা: A⬆️  BC, অনুগামী ঘটনা: a ⬆️bc     সুতরাং, A ও a কার্যকরণ সম্পর্কে যুক্ত। • বাস্তব উদাহরণ বাজারের চাহিদার সাথে দামের সম্পর্ক হলো সহপরিবর্তন পদ্ধতির একটি প্রকৃষ্ট উদাহরণ। ...