Skip to main content

Posts

  পশ্চিমবঙ্গ রাষ্ট্রীয় বিশ্ববিদ্যালয় (WBSU) বর্তমানে জাতীয় শিক্ষানীতি বা NEP 2020 এবং CCF (Curriculum and Credit Framework) অনুযায়ী তাদের পরীক্ষা পদ্ধতিতে বড় ধরনের পরিবর্তন এনেছে। ২০২৬ সালের বর্তমান আপডেট অনুযায়ী কয়েকটি বিশেষ পরিবর্তনের দিকে নজর দেওয়া প্রয়োজন: ​ প্রধান পরিবর্তনসমূহ: ​সেমিস্টার ভিত্তিক মূল্যায়ন (NEP/CCF): বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন নিয়ম অনুযায়ী, চিরাচরিত অনার্স ও জেনারেল ব্যবস্থার পরিবর্তে ৪ বছরের অনার্স এবং ৩ বছরের মাল্টি-ডিসিপ্লিনারি কোর্স চালু হয়েছে। এর ফলে পরীক্ষার প্রশ্নপত্রের কাঠামো এবং ক্রেডিট সিস্টেমেও বড় বদল এসেছে। ​মেজর ও মাইনর পেপার: আগের তুলনায় এখন মেজর (Major), মাইনর (Minor), এবং মাল্টি-ডিসিপ্লিনারি (IDC) পেপারগুলোর ওপর বেশি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। ২০২৬-এর ১ম সেমিস্টারের পরীক্ষায় এই নতুন সিলেবাস ও প্যাটার্ন কার্যকর হয়েছে। ​প্র্যাকটিক্যাল পরীক্ষা: প্র্যাকটিক্যাল বা টিউটোরিয়াল পরীক্ষার ক্ষেত্রে এখন অনেক বেশি কেন্দ্রীভূত (Centralized) মূল্যায়ন পদ্ধতি বা নির্দিষ্ট সেন্টার-ভিত্তিক ফি স্ট্রাকচার অনুসরণ করা হচ্ছে। বিশেষ করে ভূগোল বা হিউম্যান ডেভেলপমেন্টের মতো বিষয়গুলোত...
Recent posts
 আগামীকাল সকালের ভিডিওর জন্য আমি **অপশন ১ (২০২৬-২৭ রোডম্যাপ)** এবং **অপশন ২ ( উত্তর লেখার কৌশল মিলিয়ে ৫টি শক্তিশালী পয়েন্ট গুছিয়ে দিচ্ছি। আপনি এই পয়েন্টগুলো আপনার ভিডিওর মূল আলোচনার জন্য ব্যবহার করতে পারেন। ### ভিডিওর মূল আলোচনার ৫টি পয়েন্ট: **১. সিলেবাসের কাঠামো বোঝা (Roadmap):** ভিডিওতে বলুন, "২০২৬ সালের মাধ্যমিক বা ইউজি সেমিস্টার পরীক্ষার জন্য প্রথম কাজ হলো সিলেবাসকে ছোট ছোট ভাগে ভাগ করা। আগামী ৩ মাসের মধ্যে কোন অধ্যায়গুলো শেষ করবে, তার একটি লিখিত রুটিন আজই তৈরি করো।" **২. উত্তরের 'প্রেজেন্টেশন' বা খাতা সাজানো:** এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আপনি পয়েন্ট করবেন— " উত্তরে শুধু তথ্য থাকলেই নম্বর পাওয়া যায় না , তথ্যটি সাজাতে হয়। খাতার চারদিকে মার্জিন এবং প্রতিটি উত্তরের শেষে একটি ফিনিশিং লাইন টানলে পরীক্ষকের নজর কাড়া সহজ হয়।" **৩. পয়েন্ট ও সাব-হেডিং-এর জাদু:** ছাত্রছাত্রীদের উদ্দেশ্যে বলুন, " প্যারাগ্রাফ করে না লিখে ছোট ছোট সাব-হেডিং বা পয়েন্ট করে লেখো। ৫ নম্বরের প্রশ্নের জন্য অন্তত ৫-৬টি এবং ১০ নম্বরের জন্য ১০-১২টি পয়েন্ট করার চেষ্টা করো। ইনশট-এ স্ক্রিন...
  সাহিত্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ শাখা হলো **প্রবন্ধ**। সাধারণভাবে কোনো নির্দিষ্ট বিষয়বস্তুকে কেন্দ্র করে তথ্য, যুক্তি এবং বুদ্ধিনির্ভর যে গদ্য রচনা লেখা হয়, তাকেই প্রবন্ধ বলা হয়। নিচে প্রবন্ধের সংজ্ঞা ও বৈশিষ্ট্যগুলো আলোচনা করা হলো: ### ১. সংজ্ঞা 'প্রবন্ধ' শব্দটির আক্ষরিক অর্থ হলো— 'প্রকৃষ্ট রূপে বন্ধন'। অর্থাৎ, যেখানে বিষয়বস্তু ও ভাবকে একটি সুশৃঙ্খল ও আঁটসাঁট কাঠামোর মধ্যে সাজিয়ে পরিবেশন করা হয়। ইংরেজিতে একে বলা হয় **Essay**। ### ২. মূল বৈশিষ্ট্য একটি আদর্শ প্রবন্ধের কয়েকটি প্রধান বৈশিষ্ট্য থাকে:  * **যুক্তিনির্ভরতা:** প্রবন্ধ মূলত আবেগ বা কল্পনার চেয়ে যুক্তি ও তথ্যের ওপর বেশি নির্ভর করে।  * **সুশৃঙ্খল গঠন:** এর একটি নির্দিষ্ট শুরু (ভূমিকা), মূল অংশ এবং শেষ (উপসংহার) থাকে।  * **গদ্যের ব্যবহার:** এটি সর্বদা গদ্যে লিখিত হয়।  * **বস্তুনিষ্ঠতা:** লেখক কোনো বিষয়কে বিচার-বিশ্লেষণ করে তার একটি স্বচ্ছ ধারণা পাঠকদের সামনে তুলে ধরেন। ### ৩. প্রবন্ধের প্রকারভেদ উদ্দেশ্য ও বিষয়বস্তু অনুযায়ী প্রবন্ধকে প্রধানত দুটি ভাগে ভাগ করা যায়:  * **তন্ময় বা বস্তুনিষ্ঠ প্রবন্ধ (Object...

পথের দাবী' গল্পের মূলভাববস্তু ও বিশ্লেষণ।

  শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় এর 'পথের দাবী' গল্পের মূলভাববস্তু ও বিশ্লেষণ।পশ্চিমবঙ্গ মধ্যশিক্ষা পর্ষদ, দশম শ্রেণী দ্বিতীয় সেমিস্টার।          শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের কালজয়ী উপন্যাস 'পথের দাবী'-র নির্বাচিত অংশটি মূলত উত্তাল ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে রচিত।আর সেখানে রাজনৈতিক উপন্যাস 'পথের দাবী'-র পাঠ্য অংশটিতে পরাধীন ভারতের সশস্ত্র বিপ্লবী আন্দোলনের এক রোমাঞ্চকর খণ্ডচিত্র ধরা পড়েছে।সেই খন্ডচিত্রে আমরা দেখি-     • বিপ্লবীর ছদ্মবেশ ও অসাধারণ বুদ্ধিমত্তা সব্যসাচী।গল্পের অন্যতম প্রধান আকর্ষণ হলো সব্যসাচীর ছদ্মবেশ। ব্রিটিশ পুলিশের চোখে ধুলো দেওয়ার জন্য এক দুর্ধর্ষ বিপ্লবী কীভাবে নিজেকে সাধারণ, রুগ্ন ও অদ্ভুতদর্শন একজন মানুষে পরিণত করতে পারেন, তা এখানে দেখানো হয়েছে।যেখানে  গিরিশ মহাপাত্রের সাজপোশাক ও আচরণ দেখে পুলিশের সন্দেহের অবকাশ থাকলেও শেষ পর্যন্ত তারা বিভ্রান্ত হয়। লেখকের কথায় - " গিরিশ মহাপাত্রের বেশভূষার সেই অদ্ভুত বাহার স্মরণ করিয়া অপূর্ব কোনোমতেই হাসি চাপিয়া রাখিতে পারিল না।"        • পুলিশের ব্যর্থতা ও বিপ্লবীর জ...
  অচলার প্রতি মহিমের উদাসীনতা বা নির্লিপ্ততা কি কাহিনীকে পরিণতির দিকে নিয়ে গেছে? সংক্ষেপে আলোচনা করো। উদ্ধৃতি সহ বিস্তারিতভাবে নোটি প্রয়োজন শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের 'গৃহদাহ' উপন্যাসে অচলার জীবনের ট্রাজেডির জন্য সুরেশের উগ্র কামনার চেয়েও অনেক সময় **মহিমের উদাসীনতা বা নির্লিপ্ততাকে** বেশি দায়ী করা হয়। মহিমের এই নিস্পৃহতা কীভাবে কাহিনীকে এক অনিবার্য পরিণতির দিকে নিয়ে গেছে, তা নিচে আলোচনা করা হলো। ## মহিমের নির্লিপ্ততা ও গৃহদাহের পরিণতি 'গৃহদাহ' উপন্যাসে মহিম এক অদ্ভুত চরিত্রের মানুষ। সে স্থিতধী, আদর্শবাদী এবং আত্মসংযমী। কিন্তু একজন রক্ত-মাংসের নারীর কাছে এই অতি-সংযম অনেক সময় 'উদাসীনতা' বা 'অবহেলা'র নামান্তর হয়ে দাঁড়ায়। অচলার মতো আবেগপ্রবণ নারী হৃদয়ের কাছে মহিমের এই নীরবতাই কাল হয়ে দাঁড়িয়েছে। ### ১. মানসিক দূরত্বের সৃষ্টি মহিম অচলাকে ভালোবাসলেও তার বহিঃপ্রকাশ ছিল অত্যন্ত ক্ষীণ। সে অচলাকে কোনোদিন শাসন করেনি বা অধিকার দিয়ে আগলে ধরেনি। অচলার অবচেতন মন অনেক সময় মহিমের কাছ থেকে একটু জোর বা শাসন চেয়েছিল, যা সে পায়নি। মহিমের এই নির্লিপ্ততা অচলার মনে এক ধরণের শূন্য...
 পশ্চিমবঙ্গ রাষ্ট্রীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের (WBSU) ষষ্ঠ সেমিস্টার বাংলা মেজরের পাঠ্যসূচি অনুযায়ী 'গৃহদাহ' উপন্যাসের অন্যতম প্রধান দিক— **অচলার মানসিক দোলাচল এবং সমাজ ও ব্যক্তির সংঘাত** নিয়ে একটি বিস্তারিত নোট নিচে দেওয়া হলো। ## অচলার মানসিক দোলাচল এবং সমাজ ও ব্যক্তির সংঘাত: 'গৃহদাহ' শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের 'গৃহদাহ' (১৯২০) বাংলা সাহিত্যের এমন একটি উপন্যাস যেখানে সমাজের ধরাবাঁধা নিয়ম এবং ব্যক্তির স্বাধীন প্রবৃত্তি ও কামনার সংঘাত এক তীব্র ট্রাজিক রূপ পেয়েছে। এই উপন্যাসের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে অচলা— যার চরিত্রটি একই সাথে সমাজ-সংসস্কার এবং ব্যক্তি-হৃদয়ের অস্থির দোলাচলের এক জীবন্ত দর্পণ। ### ১. মানসিক দোলাচলের উৎস অচলার মানসিক দোলাচল বা অন্তর্দ্বন্দ্বের মূলে রয়েছে দুই বিপরীতধর্মী পুরুষ চরিত্র— মহিম ও সুরেশ। মহিম তার জীবনে স্থিতিশীলতা ও শ্রদ্ধার প্রতীক, আর সুরেশ তার জীবনে উত্তাল আবেগ ও আদিম আকর্ষণের নাম। অচলা মহিমকে ভালোবেসেও সুরেশের অন্ধ আসক্তিকে সম্পূর্ণ অস্বীকার করতে পারেনি। তার এই মানসিক অস্থিরতা শরৎচন্দ্র নিপুণভাবে ফুটিয়ে তুলেছেন: > *"মহিমকে সে ভালোবাসে, কিন্তু...
 পশ্চিমবঙ্গ রাষ্ট্রীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের (WBSU) ষষ্ঠ সেমিস্টার বাংলা মেজরের পাঠ্যক্রম অনুযায়ী **'মনস্তাত্ত্বিক উপন্যাস হিসেবে গৃহদাহ-এর সার্থকতা'** একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন। পরীক্ষার উপযোগী করে ৬০০ শব্দের মধ্যে একটি বিস্তারিত ও তথ্যমূলক নোট নিচে দেওয়া হলো। ## মনস্তাত্ত্বিক উপন্যাস হিসেবে 'গৃহদাহ'-এর সার্থকতা বাংলা কথাসাহিত্যের ইতিহাসে শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের 'গৃহদাহ' (১৯২০) একটি মাইলফলক। সাধারণত শরৎচন্দ্রকে সমাজসচেতন এবং ভাবালুতা-প্রধান লেখক হিসেবে গণ্য করা হলেও, 'গৃহদাহ' উপন্যাসে তিনি মানুষের অন্তরমহলের এমন এক জটিল ও নিগূঢ় রহস্যের উন্মোচন করেছেন, যা একে একটি সার্থক মনস্তাত্ত্বিক উপন্যাসে উন্নীত করেছে। ### ১. বহির্ঘটনার চেয়ে অন্তর্ঘাতকে প্রাধান্য একটি মনস্তাত্ত্বিক উপন্যাসের প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো—এখানে বাইরের ঘটনার চেয়ে চরিত্রের অভ্যন্তরীণ ঘাত-প্রতিঘাত ও মানসিক বিশ্লেষণ বেশি গুরুত্ব পায়। 'গৃহদাহ'-এ মহিম-অচলা-সুরেশের ত্রিভুজ প্রেমের যে কাহিনী বর্ণিত হয়েছে, তার মূল চালিকাশক্তি হলো চরিত্রগুলোর অবচেতন মনের জটিলতা। বিশেষ করে অচলার মনের দোলাচল এবং...