Skip to main content

Posts

 মাইকেল মধুসূদন দত্তের **'অভিষেক'** কবিতাটি তাঁর বিখ্যাত মহাকাব্য **'মেঘনাদবধ কাব্য'**-এর প্রথম সর্গ ('অভিষেক') থেকে সংকলিত হয়েছে। দশম শ্রেণীর পাঠ্যসূচির অন্তর্ভুক্ত এই কবিতার মূল বিষয়বস্তু নিচে সংক্ষেপে ও সহজভাবে আলোচনা করা হলো: ## ১. লঙ্কা যুদ্ধ ও মেঘনাদের সংবাদ প্রাপ্তি রামচন্দ্রের সাথে যুদ্ধে লঙ্কাপুরী তখন বিপর্যস্ত। যুদ্ধে রাবণের বীরপুত্র বীরবাহু নিহত হয়েছেন। কিন্তু এই ভয়াবহ সংবাদ প্রমোদ উদ্যানে (প্রমোদবনে) বিলাসিতায় মগ্ন মেঘনাদ (ইন্দ্রজিৎ) জানতেন না। ## ২. ছদ্মবেশী দেবী লক্ষ্মীর আগমন মেঘনাদকে যুদ্ধের খবর দেওয়ার জন্য দেবী লক্ষ্মী মেঘনাদের ধাত্রী মাতা **প্রমীলা/প্রভাতার** ছদ্মবেশে প্রমোদ উদ্যানে উপস্থিত হন। তিনি মেঘনাদকে বীরবাহুর মৃত্যু এবং রাবণের পুনরায় যুদ্ধযাত্রার আয়োজনের খবর জানান। ## ৩. মেঘনাদের আত্মগ্লানি ও ক্রোধ প্রিয় ভাই বীরবাহুর মৃত্যু এবং লঙ্কাপুরীর এই বিপদের কথা শুনে মেঘনাদ অত্যন্ত লজ্জিত ও ক্রুদ্ধ হন। লঙ্কা যখন শত্রুবেষ্টিত, তখন তিনি প্রমোদবনে নারীসঙ্গে সময় কাটাচ্ছেন—এই ভেবে তিনি নিজেকে ধিক্কার দেন। তিনি মুহূর্তের মধ্যে তাঁর ভূষণ ও ফুলমা...
Recent posts

শারীরশিক্ষার ভ্রান্ত বা পরিবর্তনশীল ধারণা আলোচনা করো।

শারীরশিক্ষার ভ্রান্ত বা পরিবর্তনশীল ধারণা আলোচনা করো। পশ্চিমবঙ্গ রাষ্ট্রীয় বিশ্ববিদ্যালয়,ফিজিক্যাল এডুকেশন মাইনর প্রথম সেমিস্টার ইউনিট ১।      আমরা জানি যে,শারীর শিক্ষার প্রথাগত ধারণা দেশকাল পরম্পরায় সাধারণ জনসমাজে আজও প্রবাহমান। যা কিন্তু প্রকৃত অর্থে শারীরশিক্ষার ভ্রান্ত ধারণা। প্রথাগত ধারণা গুলি শিক্ষার কয়েকটি অবিচ্ছেদ্য অংশ বা শারীরশিক্ষার সমার্থক শব্দ অথবা পরিবর্তিত শব্দ হিসেবে গণ্য হয়ে আসছে প্রথাগত ধারণায়। যেমন শারীরিক প্রশিক্ষণ হল শারীরশিক্ষা, play game sports হল শারীরশিক্ষা,জিমন্যাস্টিক হলো শারীরশিক্ষা, বিনোদন ও ক্রীড়া প্রতিযোগিতা প্রভৃতি হল শারীরশিক্ষা।কিন্তু প্রথাগত ধারনাগুলি এককভাবে কোনোটিই শারীরিক শিক্ষার বিকল্প শব্দ নয়, প্রত্যেকটি শারীরিক শিক্ষার অন্তর্গত একটি অংশমাত্র। আর সেখানে প্রচলিত শারীরশিক্ষার ভ্রান্ত বা পরিবর্তনশীল ধারণা গুলি হলো-      ১) শরীরচর্চাঃ শরীরচর্চার একমাত্র লক্ষ্য হলো শক্তির বৃদ্ধির মাধ্যমে দেহ-শ্রস্ত গড়ে তোলা। এজন্য বিশেষ বিশেষ পেশী সমূহের বৃদ্ধির জন্য সরঞ্জামসহ অথবা সরঞ্জাম ছাড়া শরীর গঠনকারী ব্যায়াম অভ্যাস করা হয...

ইতিহাস মাইনর চতুর্থ সেমিস্টার সাজেশন ২০২৬

ইতিহাস মাইনর চতুর্থ সেমিস্টার সাজেশন ২০২৬ পশ্চিমবঙ্গ রাষ্ট্রীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের (WBSU) B.A. ৪র্থ সেমিস্টার ইতিহাস মাইনর (Minor) পেপারের বিষয়বস্তু হলো **"History of India from 1707 CE to 1950 CE"**। আপনার দেওয়া ২০২৫ সালের পরীক্ষার প্রশ্নগুলো বিশ্লেষণ করলে বোঝা যায়, পুরো সিলেবাসকে মূলত কয়েকটি নির্দিষ্ট ইউনিটে ভাগ করে প্রশ্ন তৈরি করা হয়:  1. **১৮ শতকের ভারত ও আঞ্চলিক শক্তির উত্থান** (মুর্শিদকুলি খান, দেওয়ানী)  2. **ঔপনিবেশিক অর্থনৈতিক প্রভাব** (অবশিল্পায়ন, রাজস্ব ব্যবস্থা)  3. **১৮৫৭-র মহাবিদ্রোহ ও সামাজিক-ধর্মীয় আন্দোলন** (রামমোহন রায়, বিদ্রোহের ব্যর্থতা)  4. **জাতীয়তাবাদী আন্দোলন ও স্বাধীনতা সংগ্রাম** (ভারত ছাড়ো, নেতাজী ও INA)  5. **দেশভাগ ও স্বাধীন ভারতের আত্মপ্রকাশ** (মাউন্টব্যাটেন প্ল্যান, ভারত ব্যবচ্ছেদ) পরীক্ষার প্রস্তুতি সহজ করতে সম্পূর্ণ সিলেবাসের ওপর ভিত্তি করে তৈরি একটি সাজেশন নিচে দেওয়া হলো: ## 📌 ৫ নম্বরের গুরুত্বপূর্ণ সম্ভাব্য প্রশ্নাবলী ### ** ইউনিট ১: ১৮ শতকের রাজনীতি ও অর্থনৈতিক রূপান্তর**  * **পলাশীর লুণ্ঠন (Plassey Plunder)** বল...

কাব্যের ভাষা।। "কাব্যের ভাষা বাচ্যার্থের সীমানা ছাড়িয়ে ব্যঞ্জনার জগতে প্রবেশ করে।"—অতুলচন্দ্র গুপ্তের আলোচনা অনুসরণে কাব্যভাষায় ব্যঞ্জনার স্বরূপ এবং সাধারণ ব্যবহারের ভাষার সঙ্গে তার পার্থক্য উদাহরণসহ আলোচনা করো।

কাব্যের ভাষা।। "কাব্যের ভাষা বাচ্যার্থের সীমানা ছাড়িয়ে ব্যঞ্জনার জগতে প্রবেশ করে।"—অতুলচন্দ্র গুপ্তের আলোচনা অনুসরণে কাব্যভাষায় ব্যঞ্জনার স্বরূপ এবং সাধারণ ব্যবহারের ভাষার সঙ্গে তার পার্থক্য উদাহরণসহ আলোচনা করো।          প্রখ্যাত সাহিত্য সমালোচক অতুলচন্দ্র গুপ্ত তাঁর ‘কাব্যজিজ্ঞাসা’ গ্রন্থে অলঙ্কারশাস্ত্রের আলোকেই কাব্যভাষার আসল চরিত্র উন্মোচন করেছেন। তাঁর মতে, কাব্যভাষা সাধারণ কথ্য বা তথ্যজ্ঞাপক ভাষার মতো কেবল অভিধাননির্ভর সোজা কথা বলে না। কাব্যের মূল আবেদন লুকিয়ে থাকে শব্দের বাচ্যার্থকে অতিক্রম করে ব্যঙ্গার্থ বা ব্যঞ্জনায়। তাই অতুলচন্দ্র গুপ্তের তাত্ত্বিক অবস্থান— “ কাব্যের ভাষা বাচ্যার্থের সীমানা ছাড়িয়ে ব্যঞ্জনার জগতে প্রবেশ করে।”       • কাব্যভাষায় ব্যঞ্জনার স্বরূপ। শব্দের তিনটি শক্তি থাকে-অভিধা(বাচ্যার্থ),লক্ষণা (লক্ষ্যার্থ) এবং ব্যঞ্জনা (ব্যঙ্গার্থ/ধ্বনি)। আর সেখানে-      বাচ্যার্থের সীমাঃ অভিধা শক্তির সাহায্যে শব্দ যে প্রাথমিক বা অভিধানগত অর্থ প্রকাশ করে, তা-ই বাচ্যার্থ। যেমন: "গাঙ্গে ঘোষঃ" (গঙ্গায় গোপপল্লী)। বাচ্যার...

কাব্যের স্বরূপ কেবল অনুভূতির প্রকাশ নয়, অনুভূতির রূপান্তর।" অতুলচন্দ্র গুপ্তের এই তাত্ত্বিক অবস্থানের আলোকে কবির ব্যক্তিগত অনুভূতি কিভাবে সার্বজনীন কাব্যে রূপান্তরিত হয়-তা বিস্তারিত বিশ্লেষণ করো।

"কাব্যের স্বরূপ কেবল অনুভূতির প্রকাশ নয়, অনুভূতির রূপান্তর।" অতুলচন্দ্র গুপ্তের এই তাত্ত্বিক অবস্থানের আলোকে কবির ব্যক্তিগত অনুভূতি কিভাবে সার্বজনীন কাব্যে রূপান্তরিত হয়-তা বিস্তারিত বিশ্লেষণ করো। পশ্চিমবঙ্গ রাষ্ট্রীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের (WBSU) চতুর্থ সেমিস্টারের বাংলা মেজর পরীক্ষার্থীদের জন্য পরীক্ষার ঠিক আগের মুহূর্তে দ্রুত রিভিশন ও উত্তর লেখার উপযোগী **সংক্ষিপ্ত, তথ্যপূর্ণ ও অত্যন্ত যথাযথ** নোট নিচে দেওয়া হলো: # কাব্যের স্বরূপ: অনুভূতির প্রকাশ ও রূপান্তর (অতুলচন্দ্র গুপ্ত) **নম্বর: ১০ | সেমিস্টার: ৪র্থ (বাংলা মেজর - WBSU)** ### **ভূমিকা:** প্রখ্যাত প্রাবন্ধিক ও নান্দনিক রসবেত্তা অতুলচন্দ্র গুপ্ত তাঁর বিখ্যাত *‘কাব্যজিজ্ঞাসা’* গ্রন্থে কাব্যের স্বরূপ ও রসতত্ত্বের এক আধুনিক ব্যাখ্যা প্রদান করেছেন। তিনি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন— **“কাব্যের স্বরূপ কেবল অনুভূতির প্রকাশ নয়, অনুভূতির রূপান্তর।”** কোনো কবির মনে কেবল তীব্র আবেগ থাকলেই সার্থক কাব্য সৃষ্টি হয় না; সেই ব্যক্তিগত ভাবাবেগকে শিল্পসম্মত উপায়ে রূপান্তরিত করে পাঠকের আস্বাদ্য রসে পরিণত করাই কাব্যের মূল সার্থকতা। ### **১. অন...

কাব্য নির্মাণ।। কাব্য নির্মাণ কৌশলের তিন ভাগ, ভাগ গুলি কি কি? প্রসঙ্গত ভাগগুলি সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করে কিভাবে রস নিষ্পত্তি হয় তা ব্যাখ্যা করো।

কাব্য নির্মাণ।। কাব্য নির্মাণ কৌশলের তিন ভাগ, ভাগ গুলি কি কি? প্রসঙ্গত ভাগগুলি সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করে কিভাবে রস নিষ্পত্তি হয় তা ব্যাখ্যা করো। পশ্চিমবঙ্গ রাষ্ট্রীয় বিশ্ববিদ্যালয় চতুর্থ সেমিস্টার বাংলা মেজর।          আলোচনা শুরুতেই আমরা বলে রাখি যে,কাব্যচর্চায় কেবল কবির মনের ভাবই যথেষ্ট নয়, সেই ভাবকে নান্দনিক রূপ দিতে কাব্য নির্মাণের নির্দিষ্ট কিছু কৌশল কাজ করে। কাব্যতত্ত্ব ও অলঙ্কারশাস্ত্রের নিরিখে কাব্য নির্মাণ কৌশলকে প্রধানত তিনটি ভাগে ভাগ করা হয়- বিভাব, অনুভাব এবং সঞ্চারীভাব বা ব্যভিচারী ভাব। এই তিন উপাদানের উপযুক্ত সমন্বয়েই কাব্যে রসের নিষ্পত্তি ঘটে। ১) কাব্য নির্মাণ কৌশলের তিন ভাগ    • ক) বিভাবঃ যে উপাদান বা কারণের ওপর নির্ভর করে মানুষের হৃদয়ে সুপ্ত সুপ্ত স্থায়ী ভাবটি (যেমন: প্রেম, শোক, ভয় ইত্যাদি) জেগে ওঠে, তাকে বিভাব বলে। সহজ কথায়, বিভাব হলো রসের উদ্দীপক বা কারন।           বিভাব প্রধানত দুই প্রকার- • আলম্বন বিভাবঃ যাকে অবলম্বন করে ভাব জেগে ওঠে (যেমন: নায়ক-নায়িকা বা প্রিয় ব্যক্তি)।• উদ্দীপন বিভাবঃ ...

সার্থক কাব্য সৃষ্টিতে রসের ভূমিকা আলোচনা করো।

সার্থক কাব্য সৃষ্টিতে রসের ভূমিকা আলোচনা করো। পশ্চিমবঙ্গ রাষ্ট্রীয় বিশ্ববিদ্যালয় চতুর্থ সেমিস্টার বাংলা মেজর সঠিক তথ্যমূলক উত্তরটি ছাত্রছাত্রীদের জন্য প্রয়োজন           কাব্যচর্চা বা সাহিত্য সৃষ্টির ইতিহাসে ‘রস’হলো কাব্যের আত্মা বা মূল প্রাণশক্তি। ভারতীয় অলঙ্কারশাস্ত্রে রসতত্ত্বের স্থান অত্যন্ত উঁচুতে। অলঙ্কার শাস্ত্রবিদ আচার্য বিশ্বনাথ তাঁর বিখ্যাত ‘সাহিত্যদর্পণ’গ্রন্থে কাব্য লক্ষণের সংজ্ঞা দিতে গিয়ে বলেছেন-“ বাক্যং রসাত্মকং কাব্যম্ ”অর্থাৎ রসযুক্ত বাক্যই হলো কাব্য। আনন্দদায়ী ও আবেগীয় এই রসের উপস্থিতি ব্যতীত কোনো সাহিত্যই সার্থক কাব্যের মর্যাদা পেতে পারে না। বস্তুত, কবির ভাবাবেগ যখন পাঠকের হৃদয়ে আনন্দময় অনুভূতি বা স্বাদের সৃষ্টি করে, তখনই সার্থক কাব্যের জন্ম হয়।আর সেখানে -      • রস কী ও রসের উৎস বিষয়ে আমরা দেখি-সাধারণ অর্থে রস হলো স্বাদ বা অনুভূতি। কিন্তু সাহিত্যবিচারে 'রস' কেবল জিভের স্বাদ নয়, এটি হৃদয়াবেগের এক অলৌকিক ও আনন্দময় রূপান্তর। মানব মনে কিছু স্থায়ী ভাব বা আবেগ সুপ্ত অবস্থায় থাকে-যেমন রতি (প্রেম), শোক, উৎসাহ, ভয়, ক্রো...