প্রাবন্ধিক প্রমথ চৌধুরীর ‘ভারতচন্দ্র’ প্রবন্ধের উদ্দেশ্য ও সাহিত্যিক তাৎপর্য আলোচনা করো ( (পশ্চিমবঙ্গ রাষ্ট্রীয় বিশ্ববিদ্যালয় পঞ্চম সেমিস্টার বাংলা মেজর সিলেবাস)। আলোচনার শুরুতেই আমরা বলে রাখি যে,অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুরের স্মৃতিচারণমূলক গ্রন্থ ‘আপন কথা’-য় তাঁর শৈশবের জগতটি গড়ে উঠেছিল বাড়ির অন্দরমহল এবং একদল বিচিত্র মানুষের সাহচর্যে। এই মানুষগুলোর মধ্যে অন্যতম ছিলেন পরিচারিকা পদ্মদাসী। লেখকের বর্ণনায় সে ছিল ‘অন্ধকারের মতো কালো’, কিন্তু সেই অন্ধকারের বুক চিরে সে লেখকের শিশুমনে যে কল্পনার আলো ছড়িয়ে দিয়েছিল, তা ছিল এক অনন্য সৃষ্টি। ১. পদ্মদাসীর বাহ্যিক রূপ ও স্বভাব: পদ্মদাসী ছিল জোড়াসাঁকোর ঠাকুরবাড়ির এক পুরনো পরিচারিকা। লেখক তাকে বর্ণনা করেছেন অত্যন্ত কালো এবং গম্ভীর হিসেবে। সে খুব একটা কথা বলত না, কিন্তু তার এক অমোঘ আকর্ষণ ছিল। লেখক বলেছেন— "কোন গাঁয়ের কোন ঘর ছেড়ে এসেছিল অন্ধকারের মতো কালো আমার পদ্মদাসী।" এই কালোর মধ্যে লেখক কোনো কুৎসিত রূপ দেখেননি, বরং দেখেছিলেন এক স্নিগ্ধ ও রহস্যময় গভীরতা। ২. কল্পনার জগত তৈরি: পদ্মদাসী ছিল রূপকথার গল্পের খনি। ঝড়ের রাতে বা ব...
প্রাবন্ধিক প্রমথ চৌধুরীর ‘ভারতচন্দ্র’ প্রবন্ধের উদ্দেশ্য ও সাহিত্যিক তাৎপর্য আলোচনা করো (পশ্চিমবঙ্গ রাষ্ট্রীয় বিশ্ববিদ্যালয় পঞ্চম সেমিস্টার বাংলা মেজর সিলেবাস) আলোচনার শুরুতেই আমরা বলে রাখি যে,প্রমথ চৌধুরীর ‘ ভারতচন্দ্র’ প্রবন্ধটি একটি অনবদ্য সাহিত্য সমালোচনা। প্রমথ চৌধুরী (বীরবল) তাঁর তীক্ষ্ণ মননশীলতা ও যুক্তিবাদী দৃষ্টিভঙ্গি দিয়ে মধ্যযুগের শেষ বড় কবি ভারতচন্দ্র রায়গুণাকরকে যেভাবে পুনর্মূল্যায়ন করেছেন। শুধু তাই নয়-বাংলা প্রবন্ধ সাহিত্যে প্রমথ চৌধুরী এক স্বতন্ত্র ঘরানার প্রবর্তক। তাঁর ‘ভারতচন্দ্র’ প্রবন্ধটি কেবল একজন কবির জীবন বা কাব্যের নিছক আলোচনা নয়, বরং এটি বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসের এক বিশেষ সন্ধিক্ষণের বস্তুনিষ্ঠ বিশ্লেষণ। যেখানে ঊনবিংশ শতাব্দীর নীতিবাগীশ সমালোচকরা যখন ভারতচন্দ্রকে ‘অশ্লীল’ বা ‘কুরুচিপূর্ণ’ বলে দেগে দিচ্ছিলেন, তখন প্রমথ চৌধুরী তাঁর এই প্রবন্ধের মাধ্যমে ভারতচন্দ্রের প্রকৃত কবি-সত্তা ও শিল্প-নৈপুণ্যকে পুনঃপ্রতিষ্ঠিত করার উদ্দেশ্য নিয়ে কলম ধরেন।আর সেখানে আমরা দেখি- ...