Skip to main content

Posts

আঞ্চলিক উপন্যাস হিসেবে 'পদ্মা নদীর মাঝি' স্বার্থকতা আলোচনা করো।পশ্চিমবঙ্গ রাষ্ট্রীয় বিশ্ববিদ্যালয় ষষ্ঠ সেমিস্টার বাংলা মেজর।        আলোচনা শুরুতেই আমরা বলে রাখি যে,মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের 'পদ্মা নদীর মাঝি'(১৯৩৬) উপন্যাসটি বাংলা সাহিত্যে আঞ্চলিক উপন্যাসের একটি সার্থক ও কালজয়ী দৃষ্টান্ত।আর একটি উপন্যাসকে 'আঞ্চলিক' হতে গেলে তার ভৌগোলিক সীমাবদ্ধতা, সেই অঞ্চলের মানুষের বিশেষ জীবনযাত্রা, ভাষা এবং সংস্কৃতির যে অখণ্ড রূপ প্রয়োজন, তার সবটুকুই এই উপন্যাসে বিদ্যমান।এখন আমাদের আলোচনা করে দেখাতে হবে যে-পদ্মা নদীর মাঝি প্রকৃতই আঞ্চলিক উপন্যাস কিনা। আর এই পরিপ্রেক্ষিতে আমরা বলতে পারি-      • ভৌগোলিক সংস্থান ও পদ্মার প্রভাব স্পষ্ট লক্ষণীয় পদ্মা নদী মাঝি উপন্যাসে।আসলে আঞ্চলিক উপন্যাসের প্রথম শর্ত হলো একটি নির্দিষ্ট ভূখণ্ডকে কেন্দ্র করে কাহিনির বিস্তার ঘটবে।আর মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় এই উপন্যাসে পূর্ববঙ্গের কেতুপুর,রসুলপুর এবং সংলগ্ন নদীমাতৃক অঞ্চলকে বেছে নিয়েছেন এই উপন্যাসে।আর এখানে পদ্মা নদী কেবল পটভূমি নয়, বরং মানুষের ভাগ্যবিধাতা, জীবনদাত্রী। পদ্মার জোয়ার-ভাটা, ভাঙ...
Recent posts

পদ্মানদীর মাঝি' মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় উপন্যাস থেকে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নাবলী।

'পদ্মানদীর মাঝি' মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় উপন্যাস থেকে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নাবলী। পশ্চিমবঙ্গ রাষ্ট্র বিশ্ববিদ্যালয় ষষ্ঠ সেমিস্টার বাংলা মেজর ডি এস ১৩ ইউনিট ৪   ** ১)উপন্যাসের সার্থকতা:'পদ্মা নদীর মাঝি' উপন্যাসের নামকরণের সার্থকতা বিচার করো। ***২) আঞ্চলিক উপন্যাস: 'পদ্মা নদীর মাঝি' উপন্যাসটিকে কি একটি সফল আঞ্চলিক উপন্যাস বলা যায়? যুক্তিসহ আলোচনা করো। ৩) উপন্যাসের সমাজবাস্তবতা: মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় মার্ক্সীয় চেতনায় বিশ্বাসী ছিলেন। 'পদ্মা নদীর মাঝি' উপন্যাসে ধীবর সমাজের যে অর্থনৈতিক শোষণ এবং শ্রেণী বৈষম্যের চিত্র ফুটেছে, তা আলোচনা করো। *** ৪) প্রকৃতি ও মানুষের দ্বন্দ্ব: "পদ্মা নদীর মাঝি" উপন্যাসে নদী কেবল পটভূমি নয়, বরং ভাগ্যবিধাতা। পদ্মার ভাঙন এবং প্রাচুর্য কীভাবে জেলেদের জীবনকে নিয়ন্ত্রণ করেছে? *** ৫) ভাষাভঙ্গি:উপন্যাসে ব্যবহৃত পূর্ববঙ্গের আঞ্চলিক ভাষা (Dialect) কীভাবে উপন্যাসের বিশ্বাসযোগ্যতা বাড়িয়েছে, তা নিয়ে ছোট একটি ধারণা রাখুন।  ৬) সার্থকতা:এটি একটি 'মহাকাব্যিক' উপন্যাস কি না, সে বিষয়ে ড. সুকুমার সেন বা অন্য কোনো সমালোচকের মন্তব্য...

আন্তর্জাতিক ধ্বনিমূলক বর্ণমালা (IPA): সংজ্ঞা, উদ্দেশ্য ও প্রয়োজনীয়তা আলোচনা কর।

আন্তর্জাতিক ধ্বনিমূলক বর্ণমালা (IPA): সংজ্ঞা, উদ্দেশ্য ও প্রয়োজনীয়তা আলোচনা কর পশ্চিমবঙ্গ রাষ্ট্র বিশ্ববিদ্যালয় চতুর্থ সেমিস্টার, বাংলা মেজর।             আমরা জানি যে,বিশ্বের বিভিন্ন ভাষার ধ্বনিসমূহকে একটি সুনির্দিষ্ট ও একক লিপির মাধ্যমে প্রকাশ করার জন্য যে আন্তর্জাতিক বর্ণমালা ব্যবহৃত হয়, তাকেই আন্তর্জাতিক ধ্বনিমূলক বর্ণমালা বা International Phonetic Alphabet (IPA) বলা হয়। ১৮৮৬ সালে ফ্রান্সের রাজধানী প্যারিসে 'International Phonetic Association' নামক একটি সংস্থা এটি প্রবর্তন করে। আরোও সহজ করে বলতে গেলে বলতে হয়--           বানান যাই হোক না কেন, পৃথিবীর যেকোনো ভাষার সঠিক উচ্চারণ যাতে একটি নির্দিষ্ট চিহ্নের মাধ্যমে যে কেউ বুঝতে পারে, সেই লক্ষ্যেই IPA তৈরি হয়েছে। যেমন: ইংরেজি 'Cat' এবং 'Character'—উভয় শব্দে 'C' থাকলেও এদের উচ্চারণ আলাদা। IPA-তে এদের সঠিক ধ্বনিগত রূপ যথাক্রমে [kæt] এবং [kærəktə] হিসেবে লেখা হয়।  • আন্তর্জাতিক ধ্বনিমূলক বর্ণমালা (IPA)প্রবর্তনের উদ্দেশ্য       আমরা জানি যে,IPA সৃষ্টির পেছনে প্রধানত...

অষ্টাদশ শতাব্দীতে শাক্ত পদাবলীর উদ্ভবের কারণসমূহ আলোচনা করো।

অষ্টাদশ শতাব্দীতে শাক্ত পদাবলীর উদ্ভবের কারণসমূহ আলোচনা করো। পশ্চিমবঙ্গ রাষ্ট্র বিশ্ববিদ্যালয়, প্রথম সেমিস্টার বাংলা মেজর।             আলোচনা শুরুতেই আমরা বলে রাখি যে,মধ্যযুগের বাংলা সাহিত্যে বৈষ্ণব পদাবলীর পর শাক্ত পদাবলীই ছিল সবচেয়ে প্রভাবশালী ধারা। এই ধারার উদ্ভবের পেছনে তৎকালীন সামাজিক, রাজনৈতিক এবং ধর্মীয় প্রেক্ষাপট ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে আছে। আর এই পরিপ্রেক্ষিতে আমরা শাক্তপদাবলীর উদ্ভবের কারণসমূহ গুলি নিম্ন সুত্রাকারে বলতে পারি।         •রাজনৈতিক অস্থিরতা ও চরম বিপর্যয়ের ছবি চিত্রাংকন শাক্ত পদাবলী।অষ্টাদশ শতাব্দীর বাংলা ছিল চরম বিশৃঙ্খলার সময়। মোগল সাম্রাজ্যের পতন, নবাবী শাসনের দুর্বলতা এবং মারাঠা দস্যু বা 'বর্গী' হাঙ্গামায় বাংলার জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছিল। ১৭৭০ সালের (১১৭৬ বঙ্গাব্দ) ভয়াবহ 'ছিয়াত্তরের মন্বন্তর' মানুষের মনে এক গভীর নিরাপত্তাহীনতা তৈরি করে। এই চরম সংকটের মুহূর্তে মানুষ বৈষ্ণব ধর্মের কোমল 'পরকীয়া' প্রেমের চেয়ে মহাশক্তির আরাধনায় বেশি ভরসা খুঁজে পায়। আদ্যাশক্তি চণ্ডী বা কালীর চরণে আশ্রয় পাওয়ার আকুতি থেকেই শাক্...

চর্যাপদে প্রতিফলিত বাংলার ব্রাত্য জীবনকথার পরিচয় দাও।

চর্যাপদে প্রতিফলিত বাংলার ব্রাত্য জীবনকথার পরিচয় দাও(সমাজচিত্র)।পশ্চিমবঙ্গ রাষ্ট্র বিশ্ববিদ্যালয় প্রথম সেমিস্টার বাংলা মেজর।        আলোচনা শুরুতেই আমরা বলে রাখি যে,চর্যাপদ মূলত বৌদ্ধ সহজিয়া সিদ্ধাচার্যদের সাধন-সংগীত হলেও এর পরতে পরতে মিশে আছে হাজার বছর আগের বাঙালির প্রাত্যহিক জীবনের ধুলোবালির কর্মকথা। শুধু তাই নয়,সমকালীন সমাজব্যবস্থায় উচ্চবর্গের শোষণে কোণঠাসা যে ' ব্রাত্য' বা অন্ত্যজ শ্রেণী , তাঁদের জীবনই চর্যাকারদের রূপক ও প্রতীকের প্রধান উৎস।আসলে ধর্মতত্ত্বের আড়ালে এখানে ফুটে উঠেছে সাধারণ মানুষের অভাব, পেশা, আমোদ-প্রমোদ এবং সামাজিক সংগ্রামের এক জীবন্ত দলিল। আর সেই জীবন্ত দলিলে আমরা দেখতে পাই-        • সামাজিক বিচ্ছিন্নতা ও অস্পৃশ্যতা র চর্যাপদের একটি অন্যতম মূল্যবান সম্পদ। আসলে চর্যাপদের যুগে সমাজ ছিল বর্ণাশ্রমের কঠোর শাসনে আবদ্ধ। ডোম, চণ্ডাল, শবর প্রভৃতি নিম্নবর্গের মানুষেরা নগরের সীমানার মধ্যে থাকার অধিকার পেত না। সমাজতাত্ত্বিক বিচারে তারা ছিল একান্তভাবে 'অস্পৃশ্য'। আর সেখানে আমরা চর্যাপদ গ্রন্থে কাহ্নপাদের ১০ নম্বর পদে আমরা দেখতে পাই- ...
  সৈয়দ মুজতবা আলির 'কুতুব মিনারের কথা' প্রবন্ধটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রবন্ধ। যে প্রবন্ধে লেখক কেবল একটি স্থাপত্যের বর্ণনা দেননি, বরং সুলতানি আমলের শিল্পরুচি ও কুতুব মিনারের অনন্যতা তুলে ধরেছেন।আর সেখানে আমরা দেখি-         প্রাবন্ধিক সৈয়দ মুজতবা আলির মতে, কুতুব মিনার বিশ্বের শ্রেষ্ঠ মিনার। ভারতের অন্য কোনো স্থাপত্য-এমনকি তাজমহলও এর সাথে তুলনায় আসে না। এটি সম্পূর্ণভাবে একটি স্বাধীন মিনার, যা কোনো মসজিদের অংশ হিসেবে তৈরি হয়নি, বরং এটি শিল্পীর নিজস্ব সৃজনী প্রতিভার এক শ্রেষ্ঠ নিদর্শন। আর-         কুতুব মিনারটি পাঁচটি তলায় বিভক্ত। প্রথমতলায় বাঁশি ও কোণের নকশা, দ্বিতীয়তলায় কেবল বাঁশি এবং তৃতীয়তলায় কেবল কোণের কারুকার্য দেখা যায়। শিল্পী অত্যন্ত নিপুণভাবে এই জ্যামিতিক নকশার হেরফের ঘটিয়ে মিনারটিকে একঘেয়েমি থেকে মুক্তি দিয়েছেন। মিনারের গায়ে খোদাই করা লতাপাতা এবং আরবি হরফের সারি এর সৌন্দর্যকে এক অনন্য উচ্চতা দান করেছে।         হিন্দু-মুসলিম স্থাপত্যরীতির মিলন মিনারটি তৈরির সময় হিন্দু ও মুসলিম—উভয় ঘরানার শিল্পী ও কারুকারদের সম্মিলিত ...
 আপনার আপলোড করা ছবিটি ইতিহাসের অন্যতম আলোচিত এবং হৃদয়বিদারক একটি আলোকচিত্র। এটি সম্পর্কে কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য নিচে দেওয়া হলো: ছবির পরিচিতি ও পটভূমি  * আলোকচিত্রী: ছবিটি তুলেছিলেন দক্ষিণ আফ্রিকার বিখ্যাত ফটোসাংবাদিক কেভিন কার্টার (Kevin Carter)।  * সময় ও স্থান: ছবিটি ১৯৯৩ সালে দক্ষিণ সুদানের 'আইয়োড' (Ayod) নামক একটি গ্রামে দুর্ভিক্ষের সময় তোলা হয়েছিল।  * ছবির বিষয়বস্তু: ছবিতে দেখা যায় একটি জীর্ণশীর্ণ শিশু ক্ষুধার জ্বালায় মাটিতে নুইয়ে পড়েছে, আর তার ঠিক পেছনেই একটি শকুন ওৎ পেতে বসে আছে। এই শিশুটি তখন জাতিসংঘের একটি খাদ্য কেন্দ্রের দিকে যাওয়ার চেষ্টা করছিল। পুরস্কার ও বিতর্ক  * পুলিৎজার পুরস্কার: এই অসামান্য এবং মর্মান্তিক ছবিটির জন্য কেভিন কার্টার ১৯৯৪ সালে সাংবাদিকতার সর্বোচ্চ সম্মান পুলিৎজার পুরস্কার (Pulitzer Prize) লাভ করেন।  * তীব্র সমালোচনা: পুরস্কার পাওয়ার পর সারা বিশ্বে ব্যাপক সমালোচনার ঝড় ওঠে। অনেকেই প্রশ্ন তোলেন যে আলোকচিত্রী কেন শিশুটিকে উদ্ধার না করে ছবি তুলতে ব্যস্ত ছিলেন। কার্টার পরবর্তীতে জানিয়েছিলেন যে, তিনি ছবি তোলার পর শকুনটিকে তাড়িয়ে দিয়ে...