Skip to main content

Posts

'আফ্রিকা' কবিতার মূল বিষয়বস্তু       আলোচনার শুরুতেই আমরা বলে রাখি যে,রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘পত্রপুট’ কাব্যগ্রন্থের অন্তর্গত একটি অন্যতম কবিতা ‘আফ্রিকা’। যে কবিতাটিতে সাম্রাজ্যবাদী শক্তির নগ্ন রূপ তুলে ধরা হয়েছে।আবার সেইসাথে নিপীড়িত মহাদেশ আফ্রিকার প্রতি কবির গভীর সহমর্মিতা প্রকাশ পেয়েছে।আসলে ১৯৩৭ সালে অবিনাশচন্দ্র খাশনবিশ-এর অনুরোধে কবি এই কবিতাটি রচনা করেন।আর সেখানে আমরা দেখতে পাই-       আফ্রিকার সৃষ্টি ও নিঃসঙ্গতা। কবিতার শুরুতে কবি আফ্রিকার ভৌগোলিক সৃষ্টির ইতিহাস বর্ণনা করেছেন। যখন পৃথিবী নতুন, তখন রুদ্র সমুদ্রের বাহু প্রাচী ধরিত্রীর বুক থেকে আফ্রিকাকে ছিনিয়ে নিয়ে গিয়েছিল।যারফলে আফ্রিকা বিশ্ব থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে এক রহস্যময় ছায়ার আবরণে ঢাকা পড়ে যায়।তাই কবিকে বলতে শুনি- " ছিনিয়ে নিয়ে গেল তোমাকে, আফ্রিকা,/ কৃপণ আলোর অন্তঃপুরে।"        যার ফলে আফ্রিকা দীর্ঘকাল নিভৃত অবসরে প্রকৃতির রহস্য সংগ্রহ করে আত্মরক্ষা করেছে।যেখানে বনস্পতির ছায়ায় ঘেরা এই মহাদেশ বিদ্রূপের ছলে নিজেকে রক্ষা করেছে বাইরের জগত থেকে।আসলে সে চিনেছে জল-স্থল-আকাশের সংকেত এবং জ...
Recent posts
উনিশ শতকের বাংলার নবজাগরণ (Renascence) ভূমিকা: উনিশ শতকে ব্রিটিশ শাসনের সংস্পর্শে এসে ইংরেজি শিক্ষার প্রভাবে বাংলার সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও বৌদ্ধিক জীবনে যে অভূতপূর্ব পরিবর্তন ঘটে, তাকেই 'বাংলার নবজাগরণ' বলা হয়। ইতালির নবজাগরণের অনুকরণে বাংলায় এই পরিবর্তনের সূচনা হয়েছিল মূলত কলকাতাকে কেন্দ্র করে। ১. পাশ্চাত্য শিক্ষার প্রভাব: পাশ্চাত্য শিক্ষার প্রসারের ফলে বাংলার শিক্ষিত তরুণ সমাজের মধ্যে যুক্তিজাদ, বিজ্ঞানমনস্কতা এবং উদারপন্থা জাগ্রত হয়। হিন্দু কলেজ (বর্তমান প্রেসিডেন্সি বিশ্ববিদ্যালয়) এই চিন্তাধারার প্রসারে প্রধান ভূমিকা নিয়েছিল। রাজা রামমোহন রায়, ডিরোজিও ও তাঁর অনুগামীরা (ইয়ং বেঙ্গল) কুসংস্কারের বদলে যুক্তির ওপর জোর দেন। ২. সমাজ সংস্কার আন্দোলন: নবজাগরণের অন্যতম প্রধান স্তম্ভ ছিল সমাজ সংস্কার। রাজা রামমোহন রায়ের প্রচেষ্টায় সতীদাহ প্রথা রদ (১৮২৯) এবং পণ্ডিত ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের নেতৃত্বে বিধবা বিবাহ আইন (১৮৫৬) পাশ হওয়া ছিল নবজাগরণের বড় সাফল্য। এ ছাড়া বাল্যবিবাহ রোধ এবং নারীশিক্ষার প্রসারেও এই সময় ব্যাপক উদ্যোগ নেওয়া হয়। ৩. ধর্মীয় সংস্কার: নবজাগরণের প্রভাবে ধর্মের গোঁড়ামি ও ম...

ধর্মমঙ্গলকে কেন রাঢ়ের জাতীয় মহাকাব্য বলে অভিহিত করা হয়?এই কাব্যধারার একজন শ্রেষ্ঠ কবির(ঘনারাম চক্রবর্তী )কৃতিত্ব আলোচনা করো। প্রথম সেমিস্টার বাংলা মেজর।

ধর্মমঙ্গলকে কেন রাঢ়ের জাতীয় মহাকাব্য বলে অভিহিত করা হয়?এই কাব্যধারার একজন শ্রেষ্ঠ কবির(ঘনারাম চক্রবর্তী )কৃতিত্ব আলোচনা করো।           আলোচনার শুরুতেই আমরা বলে রাখি যে,বাংলা সাহিত্যের মধ্যযুগের মঙ্গলকাব্য ধারায় ধর্মমঙ্গল কাব্য এক অনন্য স্থান অধিকার করে আছে। বিশেষ করে রাঢ়বঙ্গের (বর্তমানে বীরভূম, বর্ধমান, বাঁকুড়া ও মেদিনীপুর অঞ্চল) লৌকিক সমাজ, সংস্কৃতি এবং সংগ্রামী চেতনার বহিঃপ্রকাশ এই কাব্যে যেভাবে ঘটেছে, তা আর কোনো কাব্যে মেলেনি। এই কারণেই ড. সুকুমার সেন এবং ড. আশুতোষ ভট্টাচার্য ধর্মমঙ্গলকে "রাঢ়ের জাতীয় মহাকাব্য" বলে অভিহিত করেছেন।                                    এখন প্রশ্ন হলো এই কাব্যকে কেন রাঢ়ের জাতীয় মহাকাব্য বলা হয়?এই প্রশ্নের উত্তরে আমরা অবশ্যই বলতে পারি-ধর্মমঙ্গলকে রাঢ়ের জাতীয় মহাকাব্য বলার পেছনে প্রধানত তিনটি কারণ বর্তমান: ভৌগোলিক পটভূমি, সামাজিক বৈচিত্র্য এবং লৌকিক বীরত্ব।যেখানে -         রাঢ়ের জনজীবন ও ভূগোলে র তথ্যময় ধর্মমঙ্গ...

বাংলা মাইনর সাজেশন ২০২৬ প্রথম সেমিস্টার

বাংলা মাইনর সাজেশন ২০২৬ প্রথম সেমিস্টার                        একক-১ •• বৌদ্ধ দর্শন ও সংস্কৃতি চর্চায় বৌদ্ধবিহারগুলির ভূমিকা আলোচনা করো।  •• বাংলা সাহিত্যের একমাত্র নিদর্শন চর্যাপদের বৌদ্ধ সহজিইয়াদের ধর্ম সাধন তত্ত্ব এর যে প্রত্যক্ষ প্রভাব লক্ষ্য করা যায় সে সম্পর্কে আলোকপাত করো।  ••• চর্যাপদে প্রতিফলিত বাংলার ব্রাত্য জীবন কথার পরিচয় দাও। বাংলা সাহিত্যে চর্যাপদের গুরুত্ব আলোচনা করো। •••বৌদ্ধতান্ত্রিক সাধন সঙ্গীতে ধর্ম ও সাহিত্যের মেলবন্ধন ঘটেছে-আলোচনা করো।                             একক-২ ••• শ্রীকৃষ্ণকীর্তন কাব্যের আবিষ্কার ও নামকরণ সম্পর্কে লেখো।কাব্যটি কার লেখা? কাব্যটিতে কটি খন্ড ও কি কি? কাব্যটির রচনায় কবির দক্ষতার পরিচয় দাও। ২২ •• আর্য অনার্য সংস্কৃতি ও তার সমন্বয়ের ইতিহাস তুর্কি বিজয়ের সামাজিক প্রভাবের দিকটির সংক্ষিপ্ত পরিচয় দাও। ২১ •••বাংলা সাহিত্য সংস্কৃতিতে তুর্কি আক্রমণের প্রভাব ও গুরুত্ব নির্দেশ করো।২০২৩ •• চন্ডীমঙ্গল/ ধর্মমঙ্গ...
• আঞ্চলিক উপন্যাস: 'কবি' উপন্যাসকে কি একটি সফল আঞ্চলিক উপন্যাস বলা যায়? বীরভূমের জনজীবন ও পটভূমির প্রেক্ষিতে আলোচনা করো।  তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়ের 'কবি' (১৯৪৪) বাংলা সাহিত্যের এমন এক মহীরুহ যা আঞ্চলিক উপন্যাসের সংজ্ঞাকে পূর্ণতা দান করেছে। বীরভূমের রুক্ষ রাঙামাটির গন্ধ, সেখানকার অবহেলিত মানুষের আবেগ এবং লোকজ সংস্কৃতির এক নিবিড় মেলবন্ধন এই উপন্যাস। নিচে বীরভূমের জনজীবন ও পটভূমির প্রেক্ষিতে এর সার্থকতা বিস্তারিতভাবে আলোচনা করা হলো: ১. বীরভূমের ভৌগোলিক ও প্রাকৃতিক পটভূমি 'কবি' উপন্যাসের প্রাণভোমরা হলো বীরভূমের বিশেষ ভৌগোলিক পরিবেশ। কোপাই ও বক্রেশ্বর নদীর অববাহিকা, লাল মাটির পথ, বাবলা ও তালবনের ছায়াঘেরা গ্রামগুলো এখানে সজীব হয়ে উঠেছে। তারাশঙ্কর কেবল দৃশ্য বর্ণনা করেননি, বরং বীরভূমের রুক্ষতাকে চরিত্রের মনস্তত্ত্বের সাথে মিশিয়ে দিয়েছেন। উপন্যাসের শুরুতে স্টেশনের পাশের পরিবেশ বা মহাদেবপুর গ্রামের যে বর্ণনা পাওয়া যায়, তা বীরভূমের এক শাশ্বত রূপ। ২. নিম্নবর্গের সমাজ ও জীবনসংগ্রাম আঞ্চলিক উপন্যাসের সার্থকতা নির্ভর করে সেই অঞ্চলের বিশেষ কোনো জনগোষ্টীর জীবনচিত্রায়ণে। ...
 • বাংলা প্রথম সেমিস্টার মাইনর প্রশ্নাবলী• ১)                         একক-১ ক) বাংলা সাহিত্যের আদিপর্বে বৌদ্ধধর্ম ও সংস্কৃতিচর্চা কিভাবে প্রভাব বিস্তার করেছিল তার পরিচয় দাও।  ২০২২ • বৌদ্ধ দর্শন ও সংস্কৃতি চর্চায় বৌদ্ধবিহারগুলির ভূমিকা আলোচনা করো। ২১, • বাংলা সাহিত্যের আদিপর্বে বৌদ্ধ ধর্ম ও বৌদ্ধ সংস্কৃতি চর্চা কিভাবে প্রভাব বিস্তার করেছিল শেষ সম্পর্কে আলোচনা করো।২০২৪ • বাংলা সাহিত্যের একমাত্র নিদর্শন চর্যাপদের বৌদ্ধ সহজিইয়াদের ধর্ম সাধন তত্ত্ব এর যে প্রত্যক্ষ প্রভাব লক্ষ্য করা যায় সে সম্পর্কে আলোকপাত করো। ২০ খ) চর্যাপদ কে কবে কোথা থেকে আবিষ্কার করেন বাংলা সাহিত্যে  চর্যাপদের গুরুত্ব আলোচনা করো।২২ • চর্যাপদের পদগুলি ধর্মীয় সাধন সংগীত হওয়া সত্ত্বেও এর যথার্থ সাহিত্যিক মূল্য রয়েছে আলোচনা করো।২১,২৪ • চর্যাপদে প্রতিফলিত বাংলার ব্রাত্য জীবন কথার পরিচয় দাও। ২০,২৩, •বৌদ্ধতান্ত্রিক সাধন সঙ্গীতে ধর্ম ও সাহিত্যের মেলবন্ধন ঘটেছে-আলোচনা করো।২০২৩ একক-২ গ) শ্রীকৃষ্ণকীর্তন কাব্যের আবিষ্কার ও নামকরণ সম্পর্কে লেখো।কাব্যটি ...

তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়ের 'কবি' উপন্যাসের কেন্দ্রীয় নারীচরিত্র ঠাকুরঝি। এই চরিত্রটি রক্ত-মাংসের মানবী থেকে কীভাবে নিতাইয়ের হৃদয়ে এক অপার্থিব 'কাব্যলক্ষ্মী'তে রূপান্তরিত হয়েছে? আলোচনা করো।

তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়ের 'কবি' উপন্যাসের কেন্দ্রীয় নারীচরিত্র ঠাকুরঝি। এই চরিত্রটি রক্ত-মাংসের মানবী থেকে কীভাবে নিতাইয়ের হৃদয়ে এক অপার্থিব 'কাব্যলক্ষ্মী'তে রূপান্তরিত হয়েছে? আলোচনা করো, ষষ্ঠ সেমিস্টার।          আলোচনা শুরুতেই আমরা বলে রাখি যে, তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়ের একটি কালজয়ী উপন্যাস কবি।আর সেই কবি উপন্যাসের একটি মুখ্য রক্ত মাংসের নারী চরিত্র ঠাকুরঝি।আসলে তারাশঙ্করের 'কবি' উপন্যাসে ঠাকুরঝি চরিত্রটি বাস্তব আর কল্পনার এক অপূর্ব মিশেল। সে একদিকে যেমন অভাব-অনটন আর সামাজিক শাসনের শৃঙ্খলে আবদ্ধ এক পল্লীবধূ। আবার অন্যদিকে সে কবিয়াল নিতাইয়ের শিল্পসত্তার ধ্রুবতারা।তাই ঠাকুরঝি কেবল একটি চরিত্র নয়, সে নিতাইয়ের জীবনদর্শনের এক গভীর সংবেদনা। আর সেই গভীর সংবেদনার মধ্যে ঠাকুরঝি একজন-       • রক্ত-মাংসের মানবীর লৌকিকরূপ। আর সেই রূপের মধ্যে আমরা ঠাকুরঝিকে উপন্যাসের শুরুতে আমরা দেখি এক অতি সাধারণ গ্রামীণ নারী হিসেবে। তার পরিচয় ও অস্তিত্ব লৌকিক জগতের সীমাবদ্ধতায় ঘেরা। যেখানে তার সামাজিক পরিচয়ে দেখি-সে এক গোপবালা, বিবাহিতা এবং পরস্ত্রী। তার জীবনের পরিধ...