Skip to main content

Posts

শিবরাম চক্রবর্তীর 'ঈশ্বর পৃথিবী ভালোবাসা গ্রন্থের নামকরণের সার্থকতা আলোচনা করো।

শিবরাম চক্রবর্তীর 'ঈশ্বর পৃথিবী ভালোবাসা গ্রন্থের নামকরণের সার্থকতা আলোচনা করো(পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য বিশ্ববিদ্যালয় পঞ্চম সেমিস্টার বাংলা মেজর)।      আলোচনার শুরুতেই আমরা বলে রাখি যে,শিবরাম চক্রবর্তীর আত্মজীবনী 'ঈশ্বর পৃথিবী ভালোবাসা' বাংলা সাহিত্যের একটি অনন্য সৃষ্টি। প্রথাগত আত্মজীবনীর গাম্ভীর্য এড়িয়ে তিনি তাঁর জীবনকে এক দার্শনিক অথচ রসাত্মক দৃষ্টিভঙ্গিতে বিচার করেছেন। আসলে শিবরাম চক্রবর্তীর 'ঈশ্বর পৃথিবী ভালোবাসা' কোনো সাধারণ আত্মজীবনী নয়, বরং এটি একটি জীবনদর্শনের দলিল।আর সেখানে নামকরণের সার্থকতা বুঝতে হলে লেখকের জীবনবোধের সেই তিনটি স্তরকে গভীরভাবে বিশ্লেষণ করা প্রয়োজন। সেই প্রেক্ষিতে আমরা বলতে পারি-          শিবরামের জীবনে ' ঈশ্বর' শব্দটির আগমন ঘটেছিল তাঁর বাবার উদাসীন বৈরাগ্য এবং মায়ের গভীর ভক্তি থেকে। তাঁর আত্মজীবনীর একদম শুরুতেই এই নামকরণের সূত্রটি স্পষ্ট হয়-   " ঈশ্বর থেকে পৃথিবীতে এলাম-পৃথিবীকে পেলাম। পৃথিবীর পরিচয়ে ভালোবাসাকে আনলাম। এই আমার বর্ণপরিচয়। ঈশ্বর, পৃথিবী, ভালোবাসা-এই তিনটি শব্দে আমার জীবনটি আঁটা।"       ...
Recent posts

ভারতীয় রাজনীতিতে গণমাধ্যমের ভূমিকা আলোচনা করো।

ভারতীয় রাজনীতিতে গণমাধ্যমের ভূমিকা আলোচনা কর (পশ্চিমবঙ্গ রাষ্ট্রীয় বিশ্ববিদ্যালয় পঞ্চম সেমিস্টার রাষ্ট্রবিজ্ঞান মাইনর)।          আলোচনা শুরুতেই আমরা বলে রাখি যে,ভারতীয় রাজনীতিতে গণমাধ্যমের ভূমিকা অত্যন্ত গভীর এবং বহুমুখী। আসলে গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় গণমাধ্যমকে ' চতুর্থ স্তম্ভ'  হিসেবে গণ্য করা হয়। ভারতের মতো বিশাল বৈচিত্র্যময় দেশে জনমত গঠন, সরকারের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা এবং রাজনৈতিক সচেতনতা বৃদ্ধিতে গণমাধ্যম এক অপরিহার্য শক্তি।আর এই প্রেক্ষিতে ভারতীয় রাজনীতিতে গণমাধ্যমের ভূমিকার প্রধান দিকগুলো হলো- ১) জনমত গঠন ও সচেতনতা বৃদ্ধিঃ গণমাধ্যম জটিল রাজনৈতিক বিষয়গুলোকে সহজভাবে সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে দেয়। নির্বাচনের সময় বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের ইশতেহার, প্রতিশ্রুতি এবং অতীত কর্মকাণ্ডের চুলচেরা বিশ্লেষণ করে ভোটারদের সিদ্ধান্ত নিতে সাহায্য করে। টক-শো, সম্পাদকীয় এবং গ্রাউন্ড রিপোর্টিংয়ের মাধ্যমে নাগরিকরা দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি সম্পর্কে অবগত হতে পারেন। ২) সরকারের নজরদারি ও জবাবদিহিতাঃ গণতন্ত্রে সংবাদপত্রের অন্যতম প্রধান কাজ হলো সরকারের কাজের ওপর নজর রাখা। সরকারের ক...
  মহাশ্বেতা দেবী'হাজার চুরাশির মা' থেকে পরীক্ষার সম্ভাব্য প্রশ্নপত্র(পশ্চিমবঙ্গ রাষ্ট্রীয় বিশ্ববিদ্যালয়, ষষ্ঠ সেমিস্টার বাংলা মাইনর)।    • চরিত্র বিশ্লেষণমূলক প্রশ্ন       • সুজাতা চরিত্রঃ  'হাজার চুরাশির মা' উপন্যাসের কেন্দ্রীয় চরিত্র হিসেবে সুজাতার বিবর্তন আলোচনা করো। একজন সাধারণ ঘরোয়া মা থেকে কীভাবে তিনি এক বিপ্লবী সত্তার জননী হয়ে উঠলেন?     • ব্রতী চরিত্রঃ  ব্রতী এই উপন্যাসে অনুপস্থিত থেকেও কীভাবে সমস্ত কাহিনীর চালিকাশক্তি হয়ে উঠেছে?     •  বিপা বা দিব্যনাথঃ  সুজাতার স্বামী দিব্যনাথের মধ্যবিত্ত মানসিকতা বা ব্রতীর প্রেমিকা বিপার আদর্শিক অবস্থান নিয়ে ছোট প্রশ্ন হতে পারে।  • মহাশ্বেতা হাজার চুরাশির মা উপন্যাসের নামকরণের সার্থকতা ও বিষয়বস্তু    • নামকরণের সার্থকতাঃ  উপন্যাসের নাম 'হাজার চুরাশির মা' কেন রাখা হয়েছে? ১০৮৪ সংখ্যাটির তাৎপর্য কী?   • মায়ের উপলব্ধি: " ব্রতী কোনো অন্যায় করেনি"—সুজাতার এই উপলব্ধির মধ্য দিয়ে লেখক কী বোঝাতে চেয়েছেন?   •  রাজনৈতিক ও সামাজিক প্রেক্ষাপটঃ ...

ভাষাচর্চা।

  বিদেশী শব্দ (Foreign Words)কাকে বলে উদাহরণ দাও।           আমরা জানি যে, ভাষা হলো একটি বহমান বিষয়।যেখানে রাজনৈতিক, ধর্মীয়, বাণিজ্যিক বা সাংস্কৃতিক কারণে বাংলাদেশে আগত বিভিন্ন ভাষাভাষী মানুষের যেসব শব্দ বাংলা ভাষায় আত্মীকৃত হয়েছে এবং বর্তমানে আমাদের নিজস্ব শব্দের মতো ব্যবহৃত হচ্ছে, তাদের বিদেশী শব্দ বলে।          •মূলত আরবি, ফারসি, ইংরেজি, পর্তুগিজ, তুর্কি ইত্যাদি ভাষা থেকে এই শব্দগুলো বাংলায় এসেছে। উদাহরণ- • আরবি শব্দঃ আল্লাহ , আদালত, কলম, বাকি।  • ফারসিঃ চশমা, দোকান, কারখানয়।  • ইংরেজিঃ  স্কুল, টেবিল, লাইব্রেরি, পুলিশ।  • পর্তুগিজ: আনারস, আলমারি। • তুর্কি: দারোগা, কাঁচি, কুলি।      মিশ্র শব্দ (Hybrid/Mixed Words)কাকে বল উদাহরণ দাও।         যখন কোনো একটি বিশেষ শব্দ দুটি ভিন্ন ভাষার শব্দের মিলনে গঠিত হয়, তখন তাকে মিশ্র শব্দ বলা হয়। অর্থাৎ, এটি একটি 'হাইব্রিড' শব্দ যেখানে একটি অংশ দেশি বা তৎসম হতে পারে এবং অন্য অংশটি বিদেশী হতে পারে। উদাহরণ-  • রাজা-বাদশাহঃ রাজা (তৎসম) + ...

প্রশ্নপত্র ঈশ্বর পৃথিবী ভালবাসা শিবরাম চক্রবর্তী।

 পশ্চিমবঙ্গ রাষ্ট্রীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের (WBSU) বিগত কয়েক বছরের প্রশ্নপত্রের ধারা এবং CC-11 পত্রের গুরুত্ব বিচার করলে, শিবরাম চক্রবর্তীর 'ঈশ্বর পৃথিবী ভালোবাসা' থেকে আগামী পরীক্ষার জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ৪টি বড় প্রশ্ন (১০ নম্বর) নিচে দেওয়া হলো: ১. নামকরণের সার্থকতা বিচার করো এটি এই গ্রন্থের সবচেয়ে কমন এবং গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন। শিবরাম কেন তাঁর আত্মজীবনীর নাম 'ঈশ্বর পৃথিবী ভালোবাসা' রাখলেন? এখানে 'ঈশ্বর' বলতে তিনি নিজেকে, 'পৃথিবী' বলতে জগতকে এবং 'ভালোবাসা' বলতে তাঁর জীবনদর্শনকে কীভাবে বুঝিয়েছেন, তা বিশ্লেষণ করতে হবে। ২. প্রথাগত আত্মজীবনী হিসেবে 'ঈশ্বর পৃথিবী ভালোবাসা'র সার্থকতা ও স্বকীয়তা সাধারণত আত্মজীবনীতে মানুষ নিজের সাফল্যের কথা বলে, কিন্তু শিবরাম এখানে নিজের ব্যর্থতা, আলস্য এবং অদ্ভুত সব অভিজ্ঞতাকে কৌতুকবহ ভঙ্গিতে তুলে ধরেছেন। এই গ্রন্থটি কীভাবে একটি 'Anti-Autobiography' বা প্রথাগত আত্মজীবনীর গণ্ডি ভেঙেছে, তা আলোচনা করো। ৩. গ্রন্থে প্রতিফলিত রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট ও মেদিনীপুরের দিনলিপি শিবরামের মেদিনীপুরের জীবন, দেশপ্রেম, কারাবরণ এ...
স্বামীজীকে যেরূপ দেখিয়াছি গ্রন্থে নিবেদিতার দৃষ্টিতে সারদা দেবীর পরিচয় যেভাবে উপস্থাপিত হয়েছে তার বর্ণনা দাও।           ভগিনী নিবেদিতা তাঁর কালজয়ী গ্রন্থ ‘স্বামীজিকে যেরূপ দেখিয়াছি’ (The Master as I Saw Him)-এ শ্রীমা সারদা দেবীকে এক অনন্য আধ্যাত্মিক ও মানবিক উচ্চতায় উপস্থাপন করেছেন। নিবেদিতার কাছে সারদা দেবী ছিলেন কেবল স্বামীজির গুরুপত্নী বা শ্রীরামকৃষ্ণের সহধর্মিণী নন, বরং তিনি ছিলেন ‘আদর্শ ভারতীয় নারীত্বের’ এক জীবন্ত বিগ্রহ। নিবেদিতার দৃষ্টিতে সারদা দেবীর পরিচয়ের প্রধান দিকগুলো নিচে আলোচনা করা হলো: ১. আধ্যাত্মিকতার মূর্ত প্রতীক ও প্রশান্তি: নিবেদিতা শ্রীমাকে দেখেছিলেন এক গভীর প্রশান্তির আধার হিসেবে। তিনি লিখেছেন, শ্রীমায়ের জীবন ছিল ‘এক দীর্ঘ ও নিরবচ্ছিন্ন প্রার্থনা’ ("Her life is one long stillness of prayer")। নিবেদিতার কাছে তাঁর ব্যক্তিত্ব ছিল অত্যন্ত সৌম্য এবং তাঁর উপস্থিতিই চারপাশের পরিবেশকে শান্ত ও পবিত্র করে তুলত। ২. আভিজাত্য ও সারল্যের সমন্বয়: শ্রীমা সারদা দেবীর চরিত্রের একটি দিক নিবেদিতাকে ভীষণভাবে মুগ্ধ করেছিল—তা হলো তাঁর রাজকীয় সৌজন্য ও অসাধারণ সর...

স্বামীজীকে যেরূপ দেখিয়েছি গ্রন্থের পঞ্চম পরিচ্ছদে উত্তর ভারতের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য বর্ণনা প্রসঙ্গে স্বামীজীর যে গভীর স্বদেশপ্রেমের পরিচয় পাওয়া যায় তা নিজের ভাষায় লেখো।

স্বামীজীকে যেরূপ দেখিয়েছি গ্রন্থের পঞ্চম পরিচ্ছদে উত্তর ভারতের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য বর্ণনা প্রসঙ্গে স্বামীজীর যে গভীর স্বদেশপ্রেমের পরিচয় পাওয়া যায় তা নিজের ভাষায় লেখো (পশ্চিমবঙ্গ রাষ্ট্রীয় বিশ্ববিদ্যালয়, পঞ্চম সেমিস্টার,বা়ংলা মেজর)।       আলোচনা শুরুতেই আমরা বলে রাখি যে,ভগিনী নিবেদিতা রচিত 'স্বামীজীকে যেরূপ দেখিয়েছি' (The Master as I Saw Him) গ্রন্থের পঞ্চম পরিচ্ছেদটি স্বামীজীর ভারত-ভ্রমণ এবং তাঁর অন্তরের গভীর দেশপ্রেমের এক অনন্য দলিল। এই পরিচ্ছেদে উত্তর ভারতের হিমালয় সানুদেশ এবং পার্বত্য অঞ্চলের প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের পটভূমিতে স্বামীজীর যে রূপটি ফুটে উঠেছে, তা কেবল একজন পর্যটকের নয়, বরং এক দেশপ্রেমিক সন্ন্যাসীর।আর নিবেদিতার বর্ণনায় উত্তর ভারতের প্রকৃতি ও স্বামীজীর স্বদেশপ্রেমের স্বরূপটি হলো-         প্রকৃতির মাঝে স্বদেশ দর্শন স্বামীজীর।উত্তর ভারতের তুষারশুভ্র হিমালয়, পাইন বন এবং পাহাড়ি ঝরনার সৌন্দর্যে স্বামীজী যখন বিভোর হতেন, তখন তাঁর চোখে সেই সৌন্দর্য কেবল জড় প্রকৃতি ছিল না; তা ছিল তাঁর আরাধ্যা 'ভারতজননী'র এক জীবন্ত রূপ। নিবেদিতা লক্ষ্য করেছ...