Skip to main content

Posts

রাজনৈতিক তত্ত্ব বলতে কী বোঝায়?রাজনৈতিক তত্ত্বের সংজ্ঞা দাও এবং এর প্রকৃতি ও পরিধি আলোচনা করো।

রাজনৈতিক তত্ত্ব বলতে কী বোঝায়?রাজনৈতিক তত্ত্বের সংজ্ঞা দাও এবং এর প্রকৃতি ও পরিধি আলোচনা করো। পশ্চিমবঙ্গ রাষ্ট্র বিশ্ববিদ্যালয় প্রথম সেমিস্টার রাষ্ট্রবিজ্ঞান মাইনর। Unit1/1.         রাজনৈতিক তত্ত্বঃ রাজনৈতিক তত্ত্ব (Political Theory) হলো রাজনীতি ও রাষ্ট্র সংক্রান্ত এক সুশৃঙ্খল চিন্তাধারা বা জ্ঞানচর্চা। এটি কেবলমাত্র রাজনীতির বাস্তব চিত্র তুলে ধরে না, বরং রাজনীতি ও সমাজ সম্পর্কে গভীর প্রশ্ন তোলে এবং তার সমাধানের পথ খোঁজে।আরও বিস্তারিতভাবে বলতে গেলে বলতে হয়-        রাজনৈতিক তত্ত্ব রাষ্ট্র, সরকার, আইন, স্বাধীনতা, সাম্য, ন্যায়বিচার এবং নাগরিক অধিকারের মতো মৌলিক বিষয়গুলো নিয়ে প্রশ্ন তোলে। যেমন-"একটি ন্যায়ভিত্তিক সমাজ কেমন হওয়া উচিত?", "স্বাধীনতা বলতে আমরা ঠিক কী বুঝি?" বা "রাষ্ট্রের ক্ষমতা কতটা হওয়া উচিত?"আসলে-       •এটি রাজনৈতিক ব্যবস্থার গঠন ও কার্যাবলিকে বিশ্লেষণ করে। অর্থাৎ, রাজনীতিতে বাস্তবে কী ঘটছে এবং কেন ঘটছে, তা বুঝতে সাহায্য করে। আর সেই কারণেই-       • রাজনৈতিক তত্ত্ব কেবল বর্তমান পরিস্থিতি বর্ণনা করে না, বর...
Recent posts
 পশ্চিমবঙ্গ রাষ্ট্রীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের (WBSU) রাষ্ট্রবিজ্ঞান মাইনর কোর্সের সিলেবাস অনুযায়ী, রাজনৈতিক তত্ত্বের পরিধি (Scope of Political Theory) অত্যন্ত বিস্তৃত ও বিচিত্র। রাষ্ট্রবিজ্ঞানের এই শাখাটি মূলত রাষ্ট্র ও রাজনৈতিক জীবনের যাবতীয় দিক নিয়ে আলোচনা করে। নিচে রাজনৈতিক তত্ত্বের পরিধি ৫০০ শব্দের মধ্যে আলোচনা করা হলো: ### রাজনৈতিক তত্ত্বের পরিধি রাজনৈতিক তত্ত্বের পরিধি বলতে সেই সমস্ত বিষয় বা ক্ষেত্রকে বোঝায়, যার ওপর ভিত্তি করে এই শাস্ত্রটি তার জ্ঞানচর্চা পরিচালনা করে। এর পরিধিকে নিম্নোক্ত প্রধান ক্ষেত্রগুলোতে বিভক্ত করা যায়: **১. রাষ্ট্র ও সরকারের তাত্ত্বিক অনুসন্ধান:** রাজনৈতিক তত্ত্বের পরিধির কেন্দ্রে রয়েছে রাষ্ট্র। রাষ্ট্র কীভাবে সৃষ্টি হলো, রাষ্ট্রের স্বরূপ কী, এবং রাষ্ট্রের প্রয়োজনীয়তা কতটুকু—তা রাজনৈতিক তত্ত্ব বিশ্লেষণ করে। এছাড়া, সরকারব্যবস্থা, আইন বিভাগ, শাসন বিভাগ ও বিচার বিভাগের পারস্পরিক সম্পর্ক এবং এদের কাজের ভিত্তি নিয়ে তত্ত্ব আলোচনা করে। **২. মৌলিক রাজনৈতিক মূল্যবোধ:** রাষ্ট্রের সীমানা ছাড়িয়ে রাজনৈতিক তত্ত্বের একটি বিশাল পরিধি জুড়ে রয়েছে কিছু মৌলিক আদর্শ বা মূল্যবোধ।...

চার্বাক জড়বাদ কী? আলোচনা করো।

চার্বাক জড়বাদ কী? আলোচনা করো। পশ্চিমবঙ্গ রাষ্ট্রীয় বিশ্ববিদ্যালয়, প্রথম সেমিস্টার দর্শন মাইনর।           • আমরা জানি যে,চার্বাক দর্শন হলো ভারতীয় দর্শনের একমাত্র সুসংহত জড়বাদী (Materialist) সম্প্রদায় । তাদের দর্শনকে আবার ‘ লোকায়ত’ দর্শনও বলা হয়, কারণ এই দর্শন সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন অভিজ্ঞতার ওপর ভিত্তি করে গড়ে উঠেছে।আর সেখানে চার্বাকদের যুক্তি হলো-       • প্রত্যক্ষই একমাত্র প্রমাণ। আসলে চার্বাকরা মনে করেন, জগতের কোনো কিছু জানার একমাত্র উপায় হলো প্রত্যক্ষ (Perception) বা সরাসরি ইন্দ্রিয়জ অভিজ্ঞতা।তারা অনুমান, শব্দ (আপ্তবাক্য) বা অন্য কোনো প্রমাণকে অস্বীকার করেন।কারন হিসেবে তারা মনে করেন, যা আমাদের ইন্দ্রিয় দ্বারা ধরা পড়ে না, তা অবাস্তব।       •জড়বাদ বা ভূতবাদ। চার্বাকদের মতে, এই জগৎ কোনো স্রষ্টা বা ঈশ্বর দ্বারা সৃষ্টি হয়নি এবং এর পেছনে কোনো অদৃশ্য নিয়ম কাজ করছে না। জগৎ চারটি মৌলিক উপাদানের সংমিশ্রণে গঠিত-পৃথিবী(ক্ষিতি), জল(অপ), অগ্নি(তেজ) ও বায়ু(মরুৎ) (একে ‘চতুষ্পদ ভূতবাদ’ বলা হয়)।        •দেহাত্মবাদ বা ভূতচৈ...

চার্বাক দর্শনঃ ‘চৈতন্যবিশিষ্ট দেহই আত্মা’- চার্বাকদের এই মতবাদের সপক্ষে যুক্তি ও সীমাবদ্ধতা আলোচনা করো।

চার্বাক দর্শনঃ ‘চৈতন্যবিশিষ্ট দেহই আত্মা’- চার্বাকদের এই মতবাদের সপক্ষে যুক্তি ও সীমাবদ্ধতা আলোচনা করো। পশ্চিমবঙ্গ রাষ্ট্রীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম সেমিস্টার দর্শন মাইনর।   ভারতীয় দর্শনে চার্বাক বা লোকায়ত মতবাদ হলো একটি বস্তুবাদী দর্শন। তাঁরা আত্মার অস্তিত্বকে স্বতন্ত্র কোনো আধ্যাত্মিক সত্তা হিসেবে স্বীকার করে না। চার্বাকদের মতে, কোনো স্বতন্ত্র আত্মা নেই; জড়বস্তুর সংমিশ্রণে উৎপন্ন যে দেহ, তার মধ্যেই চৈতন্যের বিকাশ ঘটে। একেই বলা হয় ‘দেহাত্মবাদ’ বা ‘ভূতচৈতন্যবাদ’।  ‘ চৈতন্যবিশিষ্ট দেহই আত্মা’-সপক্ষে চার্বাকদের যুক্তি প্রদর্শনে তাঁদের এই মতবাদের সমর্থনে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ যুক্তি প্রদান করেন। তাঁদের মতে-       •  প্রত্যক্ষ প্রমাণই একমাত্র প্রমাণ। চার্বাকরা প্রত্যক্ষের বাইরে অন্য কোনো প্রমাণকে (যেমন-অনুমানে, শব্দ) স্বীকার করেন না। আমাদের অভিজ্ঞতায় আমরা কেবল জড় দেহকেই প্রত্যক্ষ করি, কোনো অদৃশ্য আত্মাকে নয়। সুতরাং, যা প্রত্যক্ষযোগ্য নয়, তার অস্তিত্ব অস্বীকার করাই যুক্তিসঙ্গত।       • ভূতসমূহের সংমিশ্রণ। চার্বাকদের মতে, পৃথিবী, জল, অগ্নি ও বায়ু-এই ...

কবি জীবনানন্দ দাশ বাংলার মাটিতে ফিরে আসার আকাঙ্ক্ষা কেন ব্যক্ত করেছেন- তা আলোচনা করো।•

কবি জীবনানন্দ দাশ বাংলার মাটিতে ফিরে আসার আকাঙ্ক্ষা কেন ব্যক্ত করেছেন- তা আলোচনা করো।• কবি জীবনানন্দ দাশের 'আবার আসিব ফিরে' কবিতায় তাঁর বারবার ফিরে আসার আকাঙ্ক্ষা বা অমোঘ দেশপ্রেমের কথ আলোচনা করো(পশ্চিমবঙ্গ রাষ্ট্রীয় বিশ্ববিদ্যালয় চতুর্থ সেমিস্টার বাংলা মেজর)।         আলোচনার শুরুতেই আমরা বলে রাখি যে," বাংলা কবিতার আধুনিকতার জনক জীবনানন্দ দাশের ‘রূপসী বাংলা’ কাব্যগ্রন্থের অন্যতম শ্রেষ্ঠ ও ধ্রুপদী কবিতা হলো ‘আবার আসিব ফিরে’। এই কবিতায় কবির দেশপ্রেম কোনো কৃত্রিম আবেগ নয়, বরং বলা যেতে পারে তা তাঁর অস্তিত্বের গভীরে প্রোথিত এক অমোঘ টান। কবি বাংলার সাধারণ নিসর্গ, রূপ-রস ও গন্ধের সাথে নিজের সত্তাকে এমনভাবে একাত্ম করে নিয়েছেন যে, মৃত্যুর পরেও তিনি এই নশ্বর পৃথিবীতেই বারবার ফিরে আসতে চেয়েছেন। ‘আবার আসিব ফিরে’ কেবল কবির ব্যক্তিগত আকাঙ্ক্ষার প্রকাশ নয়, বরং এটি আবহমান বাংলার প্রকৃতি ও ঐতিহ্যের প্রতি একজন কবির অকৃত্রিম নিবেদন। আলোচ্য কবিতায় কবি কোনো বিশেষ ধর্ম বা জাতিসত্তার ঊর্ধ্বে উঠে শঙ্খচিল, শালিক, কিংবা সাধারণ গ্রাম্য কিশোরের বেশে যে ফিরে আসার বাসনা ব্যক্ত করেছেন, তা তাঁর গভী...

মেঘনাদবধ কাব্যের প্রথম স্বর্গের শোকাকুলা চিত্রাঙ্গদার যে চরিত্র কবি চিত্রিত করেছেন তা নিজের ভাষায় পরিস্ফুট করো। পশ্চিমবঙ্গ রাষ্ট্রীয় বিশ্ববিদ্যালয় চতুর্থ সেমিস্টার বাংলা মেজর।

মেঘনাদবধ কাব্যের প্রথম স্বর্গের শোকাকুলা চিত্রাঙ্গদার যে চরিত্র কবি চিত্রিত করেছেন তা নিজের ভাষায় পরিস্ফুট করো । পশ্চিমবঙ্গ রাষ্ট্রীয় বিশ্ববিদ্যালয় চতুর্থ সেমিস্টার বাংলা মেজর।          মাইকেল মধুসূদন দত্তের ‘মেঘনাদবধ কাব্য’ মহাকাব্যের চিরাচরিত ধারার অনুসারী হলেও, এর প্রতিটি চরিত্র কবি তাঁর নিজস্ব মনন ও আধুনিক দৃষ্টিভঙ্গি দিয়ে গড়ে তুলেছেন। কাব্যের প্রথম সর্গে প্রমীলা বা রাবণের পাশাপাশি চিত্রাঙ্গদার উপস্থিতি অত্যন্ত সংক্ষিপ্ত হলেও কবি সেখানে এক গভীর ও করুণ মাতৃত্বের রূপ ফুটিয়ে তুলেছেন। পুত্রের মৃত্যুসংবাদ শুনে মাতা চিত্রাঙ্গদার শোকের যে ছবি কবি এঁকেছেন, তা একাধারে ট্র্যাজিক এবং মানবিক।তাই আমরা দেখি-       শোকাকুলা জননীর আর্তনাদ। প্রথম স্বর্গে বীরবাহুর মৃত্যুসংবাদ লঙ্কাপুরীতে পৌঁছালে চারিদিকে যে হাহাকার পড়ে যায়, সেই প্রেক্ষাপটে চিত্রাঙ্গদার প্রবেশ ঘটে। বীরবাহু ছিলেন লঙ্কাবাসীর আশা-ভরসা। পুত্রের অকালমৃত্যুর সংবাদে চিত্রাঙ্গদার যে মাতৃরূপ আমরা দেখি, তা অতিশয় করুণ। তিনি কেবল একজন সাধারণ মাতা নন, বরং তিনি এক হারানো বীরের জননী, যার জীবনের সমস্ত গর্ব ও...