Skip to main content

Posts

মহাকাব্য এবং গীতিকাব্যের প্রকারভেদ আলোচনা কর।

মহাকাব্য এবং গীতিকাব্যের প্রকারভেদ আলোচনা কর। পশ্চিমবঙ্গ রাষ্ট্রীয় বিশ্ববিদ্যালয় চতুর্থ সেমিস্টার বাংলা মেজর।       মহাকাব্যঃ মহাকাব্য হলো একটি দীর্ঘ বর্ণনাধর্মী কাব্য যেখানে কোনো দেবতা বা অসাধারণ গুণসম্পন্ন বীরের জীবনকথা, যুদ্ধ এবং মহৎ কোনো উদ্দেশ্য বর্ণিত হয়। প্রাচ্য ও পাশ্চাত্য অলঙ্কার শাস্ত্র অনুযায়ী মহাকাব্যকে প্রধানত দুটি ভাগে ভাগ করা হয়। আর সেই ভাগ গুলি হলো- ​     ক ) জাত মহাকাব্যঃ এই ধরনের মহাকাব্য কোনো একক কবির সৃষ্টি নয়, বরং যুগের পর যুগ ধরে চলে আসা জনশ্রুতি, লোকগাথা এবং বীরত্বগাথা কোনো এক সময় সংকলিত হয়ে মহাকাব্যের রূপ নেয়। এটি একটি জাতির বিকাশমান সময়ের কাহিন। উদাহরণ হিসেবে বলতে পারি- বাল্মিকী রামায়ণ,  ব্যাসদেবের মহাভারত,হোমারের ইলিয়াড ওডিসি।      ​খ) সাহিত্যিক মহাকাব্যঃ যখন কোনো একক কবি সচেতনভাবে নির্দিষ্ট অলঙ্কার শাস্ত্র বা মহাকাব্যের নিয়ম মেনে কোনো ধ্রুপদী কাহিনী অবলম্বন করে মহাকাব্য রচনা করেন, তাকে সাহিত্যিক মহাকাব্য বলে। উদাহরণ: মাইকেল মধুসূদন দত্তের মেঘনাদবধ কাব্য , মিল্টনের প্যারাডাইস লস্ট (Paradise Lost), কালিদাস...
Recent posts

গীতিকাব্য কাকে বলে এবং তার বৈশিষ্ট্য কী কী, একটি সার্থক গীতিকাব্যের পরিচয় দাও।

গীতিকাব্য কাকে বলে এবং তার বৈশিষ্ট্য কী কী, একটি সার্থক গীতিকাব্যের পরিচয় দাও। পশ্চিমবঙ্গ রাষ্ট্রীয় বিশ্ববিদ্যালয় চতুর্থ সেমিস্টার বাংলা মেজর।       • গীতিকাব্যঃ  গীতিকাব্য হলো সাহিত্যের একটি বিশেষ রূপ, যেখানে কবির ব্যক্তিগত আবেগ, অনুভূতি, সুখ-দুঃখ এবং অন্তরের ভাবনা প্রকাশ পায়। এটি সাধারণত একটি সংক্ষিপ্ত কবিতা বা গান যা লেখকের হৃদয়ভাবকে সরাসরি তুলে ধরে।যেখানে-প্রাচীন গ্রিসে 'গীতিকাব্য' শব্দটি উদ্ভূত হয়েছিল, যেখানে 'লিরিক' শব্দটি এসেছে 'লাইর' নামক বাদ্যযন্ত্র থেকে। অর্থাৎ, এই ধরনের কবিতা সুর সহযোগে আবৃত্তি করা হতো।মোটকথা-             গীতিকাব্য হলো এক ধরনের কবিতা, যার মধ্যে দিয়ে ব্যক্তির আবেগ, অনুভূতি এবং অভিজ্ঞতাগুলিকে ছন্দ ওর সংগীতের মাধ্যমে প্রকাশ করা হয়। তবে এখানে কবিতাগুলি খুবই ছোট আকারের হয়, আর সেখানে কবির ব্যক্তিগত অনুভূতির গভীরতা ও আন্তরিকতা প্রকাশ পায়। আর এই প্রেক্ষিতে আমরা বলতে পারি গীতি কবিতার সংকলন হলো গীতিকাব্য।     • গীতিকাব্যের বৈশিষ্ট্যঃ       ১. ব্যক্তিগত অনুভূতি ও আবেগ প্রকাশ: এটি গীতিকা...
  স্বামী বিবেকানন্দ মেরিট-কাম-মিনস স্কলারশিপ (SVMCM) নিয়ে একটি সুন্দর প্রতিবেদন তৈরির খসড়া এবং বর্তমান আপডেটগুলো নিচে দেওয়া হলো: ### ** স্বামী বিবেকানন্দ স্কলারশিপের বর্তমান আপডেট (এপ্রিল ২০২৬)**  * **আবেদনের সময়সীমা বৃদ্ধি:** ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের জন্য ফ্রেশ (নতুন) এবং রিনিউয়াল আবেদনের শেষ তারিখ বাড়িয়ে **৩১ মে, ২০২৬** পর্যন্ত করা হয়েছে।  * ** টাকা ঢোকার বর্তমান পরিস্থিতি :** বর্তমানে পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচনের (এপ্রিল-মে ২০২৬) কারণে নির্বাচনী আচরণবিধি বা 'Model Code of Conduct' কার্যকর রয়েছে। এই কারণে যাদের স্ট্যাটাস 'Sanctioned' দেখাচ্ছে, তাদের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে টাকা ঢোকার প্রক্রিয়া আপাতত স্থগিত রাখা হয়েছে। ৪ জুন ২০২৬-এ ফলাফল ঘোষণার পর পুনরায় টাকা পাঠানো শুরু হতে পারে।  * ** রিভার্সাল স্ট্যাটাস :** কিছু ছাত্রছাত্রীর স্ট্যাটাস 'Sanctioned' থেকে 'Approved' হয়ে গেছে (যাকে রিভার্স বলা হচ্ছে)। ফান্ড আসার সাথে সাথে এগুলি আবার ঠিক হয়ে যাবে, চিন্তার কারণ নেই।  * ** হার্ড কপি জমা:* * অনেক কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় (যেমন বিশ্বভারতী বা SVIST) এপ্রিল ও মে মাসের মধ্যে হার্...

বঙ্গভাষা প্রবেশিকা,আনন্দমঠ জাতীয়তাবাদী,গগনেন্দ্রনাথ ঠাকুরের ব্যঙ্গচিত্র

১) সভা-সমিতির যুগে 'বঙ্গভাষা প্রকাশিকা সভা'-কে প্রথম রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠান বলা হয় কেন? (মান - ৫) পশ্চিমবঙ্গ মধ্যশিক্ষা পর্ষদ দশম শ্রেণীর দ্বিতীয় সেমিস্টার।         আলোচনা শুরুতেই আমরা বলে রাখি যে,১৮৩৬ খ্রিস্টাব্দে রাজা রামমোহন রায়ের অনুগামীরা (টাকির জমিদার কালীনাথ রায় চৌধুরী, প্রসন্নকুমার ঠাকুর প্রমুখ) কলকাতায় 'বঙ্গভাষা প্রকাশিকা সভা' স্থাপন করেন। ড. যোগেশচন্দ্র বাগল এই সভাকে 'প্রথম রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠান' হিসেবে অভিহিত করেছেন। এর কারণগুলি হলো-         • রাজনৈতিক আলোচনাঃ এটিই প্রথম সংগঠন যেখানে কেবল ধর্ম বা সমাজ নয়, বরং সরকারের বিভিন্ন নীতি ও প্রশাসনিক বিষয় নিয়ে নিয়মতান্ত্রিক আলোচনা শুরু হয়।       • করমুক্ত ভূমির উপর কর আরোপের প্রতিবাদঃ ১৮২৮ খ্রিস্টাব্দের 'বাজেয়াপ্তি আইন' অনুযায়ী সরকার যখন নিষ্কর জমির ওপর কর আরোপ করে, তখন এই সভা তার তীব্র বিরোধিতা করে আন্দোলন গড়ে তোলে। এটি ছিল একটি গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক পদক্ষেপ।        • শাসনব্যবস্থার সমালোচনাঃ সভার সদস্যগণ ব্রিটিশ প্রশাসনের ত্রুটি-বিচ্যুতি এবং ভারতীয়দের অভাব-অভিযোগ...

মহারানীর ঘোষণা পত্রের১৮৫৭ ঐতিহাসিক তাৎপর্য লেখো।

মহারানীর ঘোষণা পত্রের১৮৫৭ ঐতিহাসিক তাৎপর্য লেখো। পশ্চিমবঙ্গ মধ্যশিক্ষা পর্ষদ দশম শ্রেণি দ্বিতীয় সেমিস্টার।           আলোচনার শুরুতেই আমরা বলে রাখি যে,১৮৫৭ সালের মহাবিদ্রোহের পর ভারতের শাসনব্যবস্থায় আমূল পরিবর্তন আনার লক্ষ্যে ব্রিটিশ পার্লামেন্ট ১৮৫৮ সালে 'ভারত শাসন আইন' পাস করে। এই আইনের পরিপ্রেক্ষিতে ১৮৫৮ সালের ১লা নভেম্বর এলাহাবাদের এক দরবারে তৎকালীন বড়লাট লর্ড ক্যানিং মহারানী ভিক্টোরিয়ার এক ঘোষণাপত্র পাঠ করেন, যা ইতিহাসে মহারানীর ঘোষণাপত্র (Queen's Proclamation) নামে পরিচিত।আর সেখানে মহারানীর ঘোষণাপত্রের মূল প্রতিশ্রুতিসমূহ ভারতবাসীর ক্ষোভ প্রশমিত করতে বেশ কিছু প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। আর সেই প্রতিশ্রুতিসমূহ হলো-       • স্বত্ববিলোপ নীতি ত্যাগঃ কোম্পানি প্রবর্তিত কুখ্যাত 'স্বত্ববিলোপ নীতি' বাতিল করা হয় এবং দেশীয় রাজ্যগুলিকে দত্তক পুত্র গ্রহণের অধিকার ফিরিয়ে দেওয়া হয়।       • সাম্রাজ্য বিস্তার রোধঃ ঘোষণা করা হয় যে, ব্রিটিশ সরকার আর নতুন করে ভারত ভূখণ্ড গ্রাস করবে না।      • ধর্মীয় নিরপেক্ষতাঃ ভারতবাসীদের ধর্মীয়...

অসংগতি (Maladjustment) কী?অসংগতি দূরীকরণে পরিবারের ভূমিকা এবং অসংগতি দূরীকরণে শিক্ষকের ভূমিকা আলোচনা করো।

অসংগতি (Maladjustment) কী?অসংগতি দূরীকরণে পরিবারের ভূমিকা এবং অসংগতি দূরীকরণে শিক্ষকের  ভূমিকা আলোচনা করো। পশ্চিমবঙ্গ রাষ্ট্রীয় বিশ্ববিদ্যালয়, ষষ্ঠ সেমিস্টার এডুকেশন মাইনর।           মনোবিজ্ঞানের ভাষায়, যখন কোনো ব্যক্তি তার অভ্যন্তরীণ চাহিদা (Needs) এবং বাইরের পরিবেশের প্রতিকূলতার মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখতে পারে না, তখন যে মানসিক অস্থিরতা তৈরি হয় তাকেই অসংগতি বলে।তবে - অসংগতি কোনো জন্মগত রোগ নয়, বরং এটি একটি অর্জিত আচরণ। যখন কোনো শিক্ষার্থী দীর্ঘ সময় ধরে তার লক্ষ্য পূরণে ব্যর্থ হয় বা পরিবেশ থেকে ক্রমাগত বাধা পায়, তখন সে অস্বাভাবিক আচরণ করতে শুরু করে।           •অসংগতি দূরীকরণে পরিবারের ভূমিকা•       পরিবার হলো শিশুর মানসিক স্বাস্থ্যের ভিত্তি। অসংগতি প্রতিকারে পরিবারের দায়িত্বগুলো হলো-  • অগণতান্ত্রিক শাসনঃ বাড়িতে খুব বেশি কড়া শাসন বা একদম শাসনহীনতা-দুটোই ক্ষতিকর। বাবা-মায়ের উচিত সন্তানের সাথে বন্ধুত্বপূর্ণ আলোচনা করে নিয়মকানুন ঠিক করা।  • পারিবারিক সংহতিঃ বাবা-মায়ের মধ্যে সদ্ভাব ও সুখের পরিবেশ শিশুর মনে নিরাপ...
 পশ্চিমবঙ্গ মধ্যশিক্ষা পর্ষদ (WBBSE) নির্ধারিত দশম শ্রেণীর দ্বিতীয় পর্যায়ক্রমিক মূল্যায়নের (Second Summative Evaluation) ইতিহাসের সিলেবাসে সাধারণত **চতুর্থ, পঞ্চম এবং ষষ্ঠ অধ্যায়** থাকে। পরীক্ষার প্রস্তুতির জন্য এই অধ্যায়গুলি থেকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কিছু সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর (SAQ) নিচে দেওয়া হলো: ## চতুর্থ অধ্যায়: সঙ্ঘবদ্ধতার গোড়ার কথা এই অধ্যায়ে মূলত ১৮৫৭ সালের মহাবিদ্রোহ এবং ঊনবিংশ শতকের সভা-সমিতির রাজনীতি নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে।  * **১. কাকে 'ভারতের সভারাজ্যের যুগ' (Age of Associations) বলা হয়?**    * **উত্তর:** ১৮৩৬ থেকে ১৮৮৫ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত সময়কালকে ড. অনিল শীল 'সভারাজ্যের যুগ' বলেছেন।  * **২. ১৮৫৭-র বিদ্রোহকে কারা 'সামন্ততান্ত্রিক প্রতিক্রিয়া' বলেছেন?**    * **উত্তর:** ড. রমেশচন্দ্র মজুমদার এবং ড. সুরেন্দ্রনাথ সেনের মতো ঐতিহাসিকগণ।  * **৩. 'আনন্দমঠ' উপন্যাসটি কোন পটভূমিকায় রচিত?**    * **উত্তর:** ১৭৭০ খ্রিস্টাব্দের মন্বন্তর এবং সন্ন্যাসী-ফকির বিদ্রোহের পটভূমিকায় বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় এটি রচনা করেন।  * **৪. ভারত সভা...