Skip to main content

কাবুলিওয়ালা ছোটগল্প হিসেবে নামকরণের ক্ষেত্রে কতটা স্বার্থকতা পেয়েছে তা আলোচনা করো।

"কাবুলিওয়ালা"ছোটগল্প হিসেবে নামকরণের ক্ষেত্রে কতটা স্বার্থকতা পেয়েছে তা আলোচনা করো। পশ্চিমবঙ্গ রাষ্ট্রীয় বিশ্ববিদ্যালয় ষষ্ঠ সেমিস্টার বাংলা মেজর DS14,Unit-1.

       আমরা জানি যে,সাহিত্যের নামকরণের একটা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা আছে। আসলে নামকরণ চুম্বকের দুই আকর্ষণ বিন্দুর মতো- যার একবিন্দু আকর্ষণ করে পাঠককে আর অন্য বিন্দু আকর্ষণ করে কাহিনী ঘটনা ও চরিত্রের ত্রিবেণী সঙ্গম কে।আর গল্পকার রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর গল্পের শীর্ষ নামকে কখনো কাহিনী বা ঘটনা বা চরিত্রের ঘাত-প্রতিঘাতের উপর নির্ভর করান, আবার কখনো গভীর ব্যঞ্জনাশ্রয়ী নামকরণ করে থাকেন। আর সেখানে কাবুলিওয়ালা গল্পে আমরা দেখি-

       রবীন্দ্রনাথ এই গল্পের রহমতের পিতৃত্বকে গুরুত্ব দিলেও গল্পের নাম রহমত রাখেন নি।আসলে রবীন্দ্রনাথ শুধু রহমতের পিতৃত্বকে নয়, সকলের পিতৃত্বকে গুরুত্ব দিতে বিশেষ নামকরণের পরিবর্তে নির্বিশেষে নামকরণের কথা চিন্তা করেছেন। সেক্ষেত্রে ব্যক্তির নাম গল্পের মূল বক্তব্যকে যথার্থভাবে প্রতিপন্ন করতে পারত না।তবে-

        আলোচ্য কাবুলিওয়ালা গল্পে দেখা যায় মিনি, কাবুলিওয়ালা রহমত, মিনির বাবা, এই তিন প্রধান চরিত্র। গল্পের প্রথম স্তরে রহমত ও মিনির বন্ধুত্ব প্রাধান্য লাভ করেছে। গল্পের মধ্যস্থরে আমরা দেখি মিনির বাবার প্রতিবেশী একজনের কাছ থেকে রহমত চাদর বিক্রির টাকা পেতো। কিন্তু প্রতিবেশী কাবুলিওয়ালার সেই পাওনা টাকার কথা অস্বীকার করলে উভয়ের মধ্যে বচসা শুরু হয়। আর সেই বচসার চরমক্ষণে রহমত তাকে চুরি মারে। ছুরি মারার অপরাধের রহমতের ৮ বছরের জেল খাটতে হয়। অতঃপর -

       গল্পের অন্তস্তরে আমরা দেখি, আট বছর পর জেল থেকে ছাড়া পেয়ে রহমত সোজা চলে আসে মিনির সঙ্গে দেখা করতে। আর সেদিন ছিল মিনির বিয়ে। এমন শুভদিনে মিনির সাথে খুনি রহমতের দেখা হোক, এটা মিনির বাবা চাননি। এই ঘটনার পর রহমত মিনির বাড়ি থেকে চলে যাওয়ার জন্য উদ্যত হয়। ঠিক এই সময়ে রহমত কিছু মনে করে পুনরায় ফিরে আসে। কিছু আঙুর, কিসমিস, বাদাম মিনির হাতে তুলে দেওয়ার জন্য। আর এখানে রহমতকে বলতে শুনে-

    “খোঁকির জন্য আনিয়া ছিলাম,তাহাকে দিবেন।”

           ঠিক এই সময়ে মিনির বাবা তার দাম দিতে গেলে রহমত তার হাত চেপে ধরে বলে- মিনির মত তারও ঘরে একটি মেয়ে আছে, তাই মিনিকে দেখে তার মেয়ের কথাই মনে আসে। তার সেই মেয়ের মুখের কথা চিন্তা করে রহমত মিনির জন্য এইসব সামগ্ৰী নিয়ে এসেছে। এই ঘটনার পর আমরা দেখি-

         কাবুলিওয়ালার মিনির প্রতি আকর্ষণের আসল কারণ বুঝে ফেলেন মিনির বাবা। কাবুলিওয়ালা রহমত তখন তার বুকের কাছ থেকে একটা ময়লা হাতে ছাপ বের করে দেখালো। আসলে রহমত একজন কাবুলিওয়ালা আর মিনির বাবা এক সম্ভ্রান্ত বংশীয় বাঙালি তা ভুলে গিয়ে বুঝলেন উভয়ে এক সিঁড়ির উপর দাঁড়িয়ে আছে, উভয়ই হলেন কন্যার পিতা, উভয়ের অন্তরে আছে কন্যার জন্য বাৎসল্য প্রেম। মিনির বাবা সঙ্গে সঙ্গে ভেতর থেকে মিনিকে ডেকে পাঠালেন। রাঙা চেলি পরা, কপালের চন্দন আঁকা, বধূবেশিনী মিনি স্বলজ্জভাবে সামনে এসে দাঁড়ালো। কাবুলিওয়ালা রহমত অনেক পরে হেসে মিনির কাছে সেই পুরনো কথা জানতে চাইলো-

          “খুকি তুমি শ্বশুর বাড়ি যাবিস।”

        মিনি এখন শ্বশুর বাড়ি অর্থ বোঝে। সে এখন আগের মত উত্তর দিতে পারল না, লজ্জায় আরক্ত হয়ে মুখ ফিরিয়ে দাঁড়ালো। মিনি চলে গেলে রহমত দীর্ঘশ্বাস ফেলে মাটিতে বসে স্পষ্ট বুঝতে পারলো, তার মেয়েটিও ইতিমধ্যে এখন অনেক বড় হয়েছে, তাকেও সে আগের মত তেমনটি পাবে না। কলকাতার গলির ভিতরে বসে কাবুলিওয়ালা রহমতের মনে এল আফগানিস্তানের এক মরু পর্বতের দৃশ্য। আর মিনির বাবা বিয়ের খরচ কিছু কমিয়ে রহমতকে কিছু টাকা দিয়ে নিজ দেশে মেয়ের কাছে ফিরে যেতে বললেন। ইলেকট্রিক বাতি না জ্বললে, গড়ের বাদ্য না বাজলেও মঙ্গল আলোকে আজ বিবাহ উৎসব উজ্জ্বল হয়ে উঠলো।

        কাহিনী, ঘটনা চরিত্রের কেন্দ্রবিন্দু রয়েছে রহমত। রহমত নামে এক কাবুলিওয়ালার পিতৃত্ব গুরুত্ব লাভ করেছে। ঠিক এরূপ আফগানিস্তান থেকে হাজার হাজার কাবুলিওয়ালা এদেশের ব্যবসা করতে আসে। তাদের প্রত্যেকের রহমতের মত জীবন সমস্যার মুখোমুখি হতে হয়। তাই “কাবুলিওয়ালা”নামকরণের মাধ্যমে এক রহমত নয়, হাজার হাজার রহমতের জীবন সমস্যার গুরুত্ব লাভ করেছে। আর আমরা বলতে পারি- আলোচ্য গল্পটি“কাবুলিওয়ালা” নামকরণ সার্থকতা লাভ করেছে।

ঠিক এরূপ অসংখ্য বিষয়ভিত্তিক আলোচনা ব্যাখ্যা, সাজেশন, টিউটোরিয়াল ক্লাসের ভিডিও পেতে ভিজিট করুক আমাদের ওয়েবসাইট এবং SHESHER KABITA SUNDORBON YouTube channel SAMARESH SIR 

Comments

Popular posts from this blog

একটি সার্থক গীতিকাব্যের পরিচয়।

  একটি সার্থক গীতিকাব্যের পরিচয়-সারদা মঙ্গল               গীতিকাব্য হলো এক ধরনের কবিতা, যার মধ্যে দিয়ে ব্যক্তির আবেগ, অনুভূতি এবং অভিজ্ঞতাগুলিকে ছন্দ ওর সংগীতের মাধ্যমে প্রকাশ করা হয়। তবে এখানে কবিতাগুলি খুবই ছোট আকারের হয়, আর সেখানে কবির ব্যক্তিগত অনুভূতির গভীরতা ও আন্তরিকতা প্রকাশ পায়। আর এই প্রেক্ষিতে আমরা বলতে পারি গীতি কবিতার সংকলন হলো গীতিকাব্য। ব্যঞ্জনাময় ও সংহত ।  গীতিকাব্যের বৈশিষ্ট্য  গীতিকাব্যের কিছু প্রধান বৈশিষ্ট্য নিচে আলোচনা করা হলো: ১. ব্যক্তিগত অনুভূতি ও আবেগ প্রকাশ: এটি গীতিকাব্যের প্রধান বৈশিষ্ট্য। এখানে কবি নিজের ব্যক্তিগত অনুভূতি, প্রেম, বিরহ, আনন্দ বা বিষাদের কথা তুলে ধরেন। ২. সংক্ষিপ্ততা: গীতিকাব্য সাধারণত দীর্ঘ হয় না। অল্প কয়েকটি স্তবকের মধ্যে কবি তাঁর ভাবনা সম্পূর্ণভাবে প্রকাশ করেন। ৩. সুর ও ছন্দের প্রাধান্য: গীতিকাব্য মূলত সুর করে আবৃত্তি করার জন্য রচিত হয়। তাই এতে সুর ও ছন্দের প্রতি বিশেষ মনোযোগ দেওয়া হয়। ৪. আত্মগতভাব: গীতিকাব্যে বাইরের জগতের বর্ণনা না দিয়ে কবির নিজের মনের ভেতরের জগতের প্রতি মনোযোগ ...

চতুর্থ সেমিস্টার জেনারেল ইতিহাস ছোট প্রশ্ন ২০২১

 *১) সুজাউদ্দৌলা কে ছিলেন বা মুর্শিদকুলি খাঁর মৃত্যুর পর কে বাংলার নবাব হন?  উত্তর - সুজা উদ্দৌলা আয়ুধের সুবেদার নবাব ছিলেন। মুর্শিদকুলি খাঁর মৃত্যুর পর তার জামাতা বাংলার নবাব  হন ১৭৫৪-১৭৭৫ খ্রীস্টাব্দ পর্যন্ত। নবাব থাকাকালীন তিনি বক্সারের যুদ্ধ এবং পানিপথের তৃতীয় যুদ্ধে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেছিলেন। *২) কোন সালে রেগুলেটিং আইন জারি করা হয়েছিল? উত্তর - ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির দুর্নীতি দূরীকরণ, গঠন বিন্যাস ও নিয়ন্ত্রণের জন্য ব্রিটিশ সরকার ১৭৭৩ খ্রিস্টাব্দে রেগুলেটিং আইন প্রণয়ন করেন। আর সেই আইনে বলা হয় বাংলা বোম্বাই ও মাদ্রাজে ১ করে কাউন্সিল থাকবে। *৩) শ্রী রঙ্গপত্তমের সন্ধিতে স্বাক্ষরকারী কারা কারা ছিলেন ?কখন এই সন্ধিটি স্বাক্ষরিত হয়েছিল? উত্তর - তৃতীয় ইঙ্গ মহীশূর যুদ্ধের অবসান হয়েছিল শ্রীরঙ্গপত্তমের সন্ধির দ্বারা। আর এই সন্ধিতে ঠিক হয় টিপু সুলতান ইংরেজদের তিন কোটি টাকা এবং জামিন স্বরূপ তার দুই পুত্রকে দিতে বাধ্য হবেন। এছাড়া বিজিত অঞ্চল ইংরাজ, মারাঠা ও নিজামের মধ্যে বন্টিত হল। যে সন্ধির দুটি পক্ষ ছিল একদিকে ছিলেন টিপু সুলতান এবং অপরদিকে ছিলেন ইংরেজ। সময়কালটি ছি...

পঞ্চম সেমিস্টার ইতিহাস মাইনর সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর ।

পঞ্চম সেমিস্টার ইতিহাস মাইনর সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর  ১) শিল্প বিপ্লব কবে কোথায় প্রথম ঘটেছিল?         উত্তর - প্রথম শিল্প বিপ্লব শুরু হয়েছিল ইংল্যান্ডে (গ্রেট ব্রিটেন)। এটি প্রধানত অষ্টাদশ শতকের মাঝামাঝি সময়ে শুরু হয়ে প্রায় ১৭৬০ থেকে ১৮৪০ খ্রিস্টাব্দ-এর মধ্যে ঘটেছিল। ২) কৃষ্ণমৃত্যু কী?            • কৃষ্ণমৃত্যু (Black Death) হলো মানব ইতিহাসের এক ভয়াবহ মহামারি।এটি ছিল মূলত প্লেগ (Plague) রোগ, যা Yersinia pestis নামক ব্যাকটেরিয়ার কারণে সৃষ্টি হয়েছিল।এটি প্রধানত ১৩৪৬ থেকে ১৩৫৩ খ্রিস্টাব্দের মধ্যে ইউরোপ, এশিয়া (ইউরেশিয়া) এবং উত্তর আফ্রিকাজুড়ে ছড়িয়ে পড়েছিল। ৩) কে বলেছিলেন মানুষই সবকিছুর মানদণ্ড?        •এই বিখ্যাত উক্তিটি যিনি করেছিলেন তিনি হলেন প্রাচীন গ্রিসের একজন প্রখ্যাত দার্শনিক, যার নাম প্রোটাগোরাস (Protagoras)।তাঁর মূল বক্তব্যটি ছিল-"মানুষই সবকিছুর মানদণ্ড, যা আছে তারও, আর যা নেই তারও।” ৪) পেত্রাক কেন বিখ্যাত?         •পেত্রাক (Francesco Petrarca) ছিলেন ১৪ শতকের (১৩০৪-১৩৭৪) একজন ...