Skip to main content

রাজ্যসভার গঠন ক্ষমতা ও কার্যাবলী আলোচনা করো।

 রাজ্যসভার গঠন ক্ষমতা ও কার্যাবলী আলোচনা করো (পশ্চিমবঙ্গ রাষ্ট্রীয় বিশ্ববিদ্যালয়, দ্বিতীয় সেমিস্টার, রাষ্ট্রবিজ্ঞান, মাইনর সিলেবাস)

ভূমিকাঃ আলোচনার শুরুতেই আমরা বলে রাখি যে,ভারতবর্ষের সংসদীয় শাসন ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে ইংল্যান্ডের সংসদীয় শাসন ব্যবস্থার অনুকরণে।সেখানে ভারতীয় সংবিধানে বলা হয়েছে যে, সংবিধানের ৭৯ নম্বর ধারা অনুসারে রাষ্ট্রপতি ও দুটি কক্ষ নিয়ে ভারতের সংসদ বা পার্লামেন্ট গঠিত হয়েছে। যেখানে উচ্চকক্ষের নাম রাজ্যসভা (Council of States) এবং নিম্নকক্ষের নাম লোকসভা(House of the People)। আর এখানে-

        উচ্চকক্ষ অর্থাৎ রাজ্যসভা রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল গুলির প্রতিনিধিদের নিয়ে গঠিত হয়। এখানে রাজ্যসভা ক্ষমতা ও পদমর্যতার দিক থেকে নিম্নকক্ষ অর্থাৎ লোকসভার সমতুল্য নয়। সংবিধানের ৮০ নম্বর ধারা অনুসারে বলা হয়েছে যে অনধিক 250 জন প্রতিনিধি নিয়ে রাজ্যসভা গঠিত হবে। যার মধ্যে 12 জন সদস্য রাষ্ট্রপতি কর্তৃক মনোনীত হন। অবশিষ্ট ২৩৮ জন সদস্য রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের প্রতিনিধি। আর এই সকল প্রতিনিধিদের-

         ভারতীয় নাগরিক হতে হবে এবং তাদের বয়স অন্ততপক্ষে ৩০ বছর হতে হবে। তবে তাঁরা কোনমতেই সরকারি লাভজনক পদে আসীন থাকতে পারবেন না। আবার একই সঙ্গে বিধানসভা, রাজ্যসভা ও লোকসভার সদস্য হতে পারবেন না। এই রাজ্যসভা যেহেতু একটি স্থায়ী কক্ষ সেহেতু এই সভার সদস্যদের ছয় বছরের জন্য নির্বাচন সংস্থার সদস্যরা একক হস্তান্তরযোগ্য সমানুপাতিক প্রতিনিধিত্বের ভিত্তিতে নির্বাচিত করেন।

            •রাজ্যসভার ক্ষমতা ও কার্যাবলী•


•আইন প্রণয়ন সংক্রান্ত ক্ষমতাঃ 

          রাজ্যসভার অতি গুরুত্বপূর্ণ কাজ হল আইন প্রণয়ন করা। এই রাজ্যসভা কেন্দ্র, রাজ্য ও যুগ্ম তালিকাভুক্ত বিষয়ে আইন প্রণয়ন করতে পারে। তবে রাজ্যসভা কতৃক গৃহীত বিল রাষ্ট্রপতির সম্মতি পেলে তবেই সেটি আইনে পরিণত হয়। এক্ষেত্রে অর্থবিল বিষয়ে রাজ্যসভার কোন ক্ষমতা নেই।

•মন্ত্রিসভা গঠন ও নিয়ন্ত্রণঃ

          রাষ্ট্রপতি সংসদের যে কোন কক্ষের সদস্যকে মন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ করতে পারেন। অতঃপর প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শ অনুসারে রাষ্ট্রপতি যেকোনো কক্ষের সদস্যকে মন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ করতে পারেন। তবে সংসদের রীতি অনুযায়ী সাধারণতঃ লোকসভার সংখ্যাগরিষ্ঠ দলের নেতা বা নেত্রীকে তিনি প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ করে থাকেন। এখানে উল্লেখ্য প্রধানমন্ত্রী হতে গেলে তাকে যে লোকসভার সংখ্যাগরিষ্ঠ দলের নেতা বা নেত্রী হতে হবে সংবিধানে এমন কোন বাধ্যবাধকতার কথা উল্লেখ নেই।

•শাসন সংক্রান্ত ক্ষমতাঃ 

             রাজ্যসভা শাসন বিভাগকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারে। রাজ্যসভা দৃষ্টি আকর্ষণ প্রস্তাব, মুলতবি প্রস্তাব, নিন্দামূলক প্রস্তাব প্রভৃতি উত্থাপন করে সরকারি সিদ্ধান্ত সম্পর্কে আলোচনা করতে পারে। আর সেই সাথে সরকারকে বহু অন্যায় কাজকর্ম থেকে বিরত করতে পারে এই রাজ্যসভা। উদাহরন হিসেবে আমরা বলতে পারি- ১৯৯৯ সালে বিহার সংক্রান্ত রাজ্য জরুরি অবস্থা জারি রাজ্যসভা অনুমোদন না করায় সরকার তা প্রত্যাহার করতে বাধ্য হন।

•অর্থ সংক্রান্ত ক্ষমতাঃ 

            রাজ্যসভার অর্থ সংক্রান্ত কোনো ক্ষমতা নেই। তাই অর্থ সংক্রান্ত কোন বিল রাজ্যসভায় উত্থাপন করা যায় না। রাজ্যসভা অর্থ সংক্রান্ত কোনো বিলে কোনরকম সংশোধন করতে পারে না। তবে রাজ্যসভার ১৪ দিনের মধ্যে অর্থ সংক্রান্ত বিলটিকে অনুমোদন করতে বাধ্য।

•সংবিধান সংশোধন সংক্রান্ত ক্ষমতাঃ

               সংবিধানের কয়েকটি বিষয়কে বাদ দিয়ে অধিকাংশ ধারা ও উপধারা সংশোধন করা সম্ভব। আর এই সংশোধন করার ক্ষমতা সংবিধান অনুসারে মূলত পার্লামেন্ট ভোগ করে থাকে। সেখানে এমন কিছু ধারা আছে যেগুলি সংশোধন করতে হলে পার্লামেন্টের সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্যের সমর্থন প্রয়োজন হয়ে থাকে। আবার এমন কিছু ধরা আছে যেগুলি সংশোধন করতে গেলে পার্লামেন্টের দুই তৃতীয়াংশ সদস্যের সমর্থন প্রয়োজন হয়। 

•নির্বাচন ও বিচার সংক্রান্ত ক্ষমতাঃ 

             রাজ্যসভা বিচার ও নির্বাচন সংক্রান্ত কিছু ক্ষমতা ভোগ করে থাকে। তবে এই রাজ্যসভা রাষ্ট্রপতি ও উপরাষ্ট্রপতি নির্বাচন করে। কিন্তু দুর্নীতি, অসৎ আচরণ ও সংবিধান বিরোধী কাজকর্মের জন্য রাজ্যসভা রাষ্ট্রপতি, উপরাষ্ট্রপতি, সুপ্রিম কোর্ট ও হাইকোর্টের বিচারপতিদের পদচ্যুতও করতে পারে।

       উপরে উক্ত ক্ষমতাগুলি ছাড়াও রাজ্যসভা কমিশন সংক্রান্ত ক্ষমতা, রাজ্য গঠন ও পুনর্গঠন, জরুরি অবস্থা ঘোষণা এবং কিছু অন্যান্য ক্ষমতা ভোগ করে থাকে।

      পরিশেষে আমরা বলতে পারি যে, কয়েকটি বিষয় বাদ দিয়ে বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই লোকসভা রাজ্যসভার থেকে অধিক ক্ষমতার অধিকারী। অর্থাৎ এখানে রাজ্যসভা লোকসভা থেকে অনেকটা দুর্বল প্রকৃতির। কারণ এখানে সদস্যরা লোকসভার মতো জনগণের দ্বারা প্রত্যক্ষভাবে নির্বাচিত নন, তাঁরা জনগণ দ্বারা পরোক্ষভাবে নির্বাচিত হন। যার ফলে এই রাজ্যসভা জনগণের অভাব অভিযোগ প্রকাশের মূল ক্ষেত্র হয়ে উঠতে পারেনি।

ঠিক এরূপ অসংখ্য বিষয়ভিত্তিক আলোচনা সাজেশন এবং ভিডিও পেতে ভিজিট করুন আমাদের ইউটিউব চ্যানেল "SHESHER KOBITA SUNDORBON" YOUTUBE CHANNEL ।

Comments

Popular posts from this blog

একটি সার্থক গীতিকাব্যের পরিচয়।

  একটি সার্থক গীতিকাব্যের পরিচয়-সারদা মঙ্গল               গীতিকাব্য হলো এক ধরনের কবিতা, যার মধ্যে দিয়ে ব্যক্তির আবেগ, অনুভূতি এবং অভিজ্ঞতাগুলিকে ছন্দ ওর সংগীতের মাধ্যমে প্রকাশ করা হয়। তবে এখানে কবিতাগুলি খুবই ছোট আকারের হয়, আর সেখানে কবির ব্যক্তিগত অনুভূতির গভীরতা ও আন্তরিকতা প্রকাশ পায়। আর এই প্রেক্ষিতে আমরা বলতে পারি গীতি কবিতার সংকলন হলো গীতিকাব্য। ব্যঞ্জনাময় ও সংহত ।  গীতিকাব্যের বৈশিষ্ট্য  গীতিকাব্যের কিছু প্রধান বৈশিষ্ট্য নিচে আলোচনা করা হলো: ১. ব্যক্তিগত অনুভূতি ও আবেগ প্রকাশ: এটি গীতিকাব্যের প্রধান বৈশিষ্ট্য। এখানে কবি নিজের ব্যক্তিগত অনুভূতি, প্রেম, বিরহ, আনন্দ বা বিষাদের কথা তুলে ধরেন। ২. সংক্ষিপ্ততা: গীতিকাব্য সাধারণত দীর্ঘ হয় না। অল্প কয়েকটি স্তবকের মধ্যে কবি তাঁর ভাবনা সম্পূর্ণভাবে প্রকাশ করেন। ৩. সুর ও ছন্দের প্রাধান্য: গীতিকাব্য মূলত সুর করে আবৃত্তি করার জন্য রচিত হয়। তাই এতে সুর ও ছন্দের প্রতি বিশেষ মনোযোগ দেওয়া হয়। ৪. আত্মগতভাব: গীতিকাব্যে বাইরের জগতের বর্ণনা না দিয়ে কবির নিজের মনের ভেতরের জগতের প্রতি মনোযোগ ...

চতুর্থ সেমিস্টার জেনারেল ইতিহাস ছোট প্রশ্ন ২০২১

 *১) সুজাউদ্দৌলা কে ছিলেন বা মুর্শিদকুলি খাঁর মৃত্যুর পর কে বাংলার নবাব হন?  উত্তর - সুজা উদ্দৌলা আয়ুধের সুবেদার নবাব ছিলেন। মুর্শিদকুলি খাঁর মৃত্যুর পর তার জামাতা বাংলার নবাব  হন ১৭৫৪-১৭৭৫ খ্রীস্টাব্দ পর্যন্ত। নবাব থাকাকালীন তিনি বক্সারের যুদ্ধ এবং পানিপথের তৃতীয় যুদ্ধে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেছিলেন। *২) কোন সালে রেগুলেটিং আইন জারি করা হয়েছিল? উত্তর - ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির দুর্নীতি দূরীকরণ, গঠন বিন্যাস ও নিয়ন্ত্রণের জন্য ব্রিটিশ সরকার ১৭৭৩ খ্রিস্টাব্দে রেগুলেটিং আইন প্রণয়ন করেন। আর সেই আইনে বলা হয় বাংলা বোম্বাই ও মাদ্রাজে ১ করে কাউন্সিল থাকবে। *৩) শ্রী রঙ্গপত্তমের সন্ধিতে স্বাক্ষরকারী কারা কারা ছিলেন ?কখন এই সন্ধিটি স্বাক্ষরিত হয়েছিল? উত্তর - তৃতীয় ইঙ্গ মহীশূর যুদ্ধের অবসান হয়েছিল শ্রীরঙ্গপত্তমের সন্ধির দ্বারা। আর এই সন্ধিতে ঠিক হয় টিপু সুলতান ইংরেজদের তিন কোটি টাকা এবং জামিন স্বরূপ তার দুই পুত্রকে দিতে বাধ্য হবেন। এছাড়া বিজিত অঞ্চল ইংরাজ, মারাঠা ও নিজামের মধ্যে বন্টিত হল। যে সন্ধির দুটি পক্ষ ছিল একদিকে ছিলেন টিপু সুলতান এবং অপরদিকে ছিলেন ইংরেজ। সময়কালটি ছি...

পঞ্চম সেমিস্টার ইতিহাস মাইনর সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর ।

পঞ্চম সেমিস্টার ইতিহাস মাইনর সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর  ১) শিল্প বিপ্লব কবে কোথায় প্রথম ঘটেছিল?         উত্তর - প্রথম শিল্প বিপ্লব শুরু হয়েছিল ইংল্যান্ডে (গ্রেট ব্রিটেন)। এটি প্রধানত অষ্টাদশ শতকের মাঝামাঝি সময়ে শুরু হয়ে প্রায় ১৭৬০ থেকে ১৮৪০ খ্রিস্টাব্দ-এর মধ্যে ঘটেছিল। ২) কৃষ্ণমৃত্যু কী?            • কৃষ্ণমৃত্যু (Black Death) হলো মানব ইতিহাসের এক ভয়াবহ মহামারি।এটি ছিল মূলত প্লেগ (Plague) রোগ, যা Yersinia pestis নামক ব্যাকটেরিয়ার কারণে সৃষ্টি হয়েছিল।এটি প্রধানত ১৩৪৬ থেকে ১৩৫৩ খ্রিস্টাব্দের মধ্যে ইউরোপ, এশিয়া (ইউরেশিয়া) এবং উত্তর আফ্রিকাজুড়ে ছড়িয়ে পড়েছিল। ৩) কে বলেছিলেন মানুষই সবকিছুর মানদণ্ড?        •এই বিখ্যাত উক্তিটি যিনি করেছিলেন তিনি হলেন প্রাচীন গ্রিসের একজন প্রখ্যাত দার্শনিক, যার নাম প্রোটাগোরাস (Protagoras)।তাঁর মূল বক্তব্যটি ছিল-"মানুষই সবকিছুর মানদণ্ড, যা আছে তারও, আর যা নেই তারও।” ৪) পেত্রাক কেন বিখ্যাত?         •পেত্রাক (Francesco Petrarca) ছিলেন ১৪ শতকের (১৩০৪-১৩৭৪) একজন ...