Skip to main content

ব্রিটেনের(3rd Sem.) শাসনতান্ত্রিক রীতিনীতি সম্পর্কে আলোচনা করো।

ব্রিটেনের শাসনতান্ত্রিক রীতিনীতি সম্পর্কে আলোচনা করো(পশ্চিমবঙ্গ রাষ্ট্রীয় বিশ্ববিদ্যালয়, তৃতীয় সেমিস্টার, মাইনর, রাষ্ট্রবিজ্ঞান)

         ভূমিকাঃ ব্রিটিশ শাসনব্যবস্থার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য হলো শাসনতান্ত্রিক রীতি নীতি। আর শাসনতান্ত্রিক রীতিনীতি উপর ভিত্তি করে ব্রিটিশ শাসনব্যবস্থা পরিচালিত হয়। ব্রিটেনের অলিখিত সংবিধানের উৎস হলো শাসনতান্ত্রিক রীতিনীতি। ব্রিটেনের রাজনৈতিক ব্যবস্থা ও পরিস্থিতির সঙ্গে সামঞ্জস্য বজায় রেখে শাসনতান্ত্রিক রীতিনীতি গড়ে উঠেছে। যেখানে শাসনতান্ত্রিক রীতিনীতি শব্দটি প্রথম ব্যবহার করেন ডাইসি। আর সেখানে বলা হয়-

           • শাসনতান্ত্রিক রীতিনীতি হল কতগুলি অলিখিত নিয়ম-কানুন, যেগুলি আইন নয়, আদালত কর্তৃক বলবৎযোগ্য নয়, অথচ সাংবিধানিক আইনের মতো মান্য হয়। প্রসঙ্গগত অধ্যাপক কে সি হেয়ার বলেন-

    "শাসনতান্ত্রিক রীতিনীতি বলতে সেইসব                         নিয়মকানুনকে বোঝায় যা আইনের অংশ না                   হয়েও বাধ্যতামূলক বলে গণ্য হয় এবং দেশের               রাজনৈতিক সংগঠনকে নিয়ন্ত্রণ করে শাসন                  ব্যবস্থার একটি অবিচ্ছেদ্য অংশে পরিণত হয়। "  


             •শাসনতান্ত্রিক রীতিনীতির বৈশিষ্ট্য•

ক) সুদীর্ঘ কাল ধরে ক্রমপরিবর্তনের মধ্য দিয়ে প্রচলিত বিভিন্ন প্রথার ভিত্তিতে শাসনতান্ত্রিক রীতিনীতি গড়ে ওঠে।

খ) শাসনতান্ত্রিক রীতিনীতি গুলি পরিবর্তনশীল। কালের পরিবর্তনের সাথে সামঞ্জস্য রেখে রীতিনীতির পরিবর্তন হয়।

গ) রীতিনীতি গুলি আদালত কর্তৃক বলবৎযোগ্য নয়। আর এই রীতিনীতি অমান্য করলে সেরকম কোনো শাস্তি ভোগ করতে হয় না।

        •শাসনতান্ত্রিক রীতিনীতির শ্রেণীবিভাগ•

১)  •রাজশক্তি সম্পর্কিত রীতিনীতি•

ক) রাজা বা রানী নিয়মতান্ত্রিক শাসক হিসেবে রাজনীতির উর্ধ্বে থাকবেন। 

খ) পার্লামেন্ট কর্তৃক গৃহীত বিলে রাজা বা রানী স্বাক্ষর দিতে বাধ্য থাকবেন।

গ) রাজা বা রানী কমন্সসভার সংখ্যাগরিষ্ঠ দলের নেতা বা নেত্রীকে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ করবেন।

২)। • ক্যাবিনেট সম্পর্কিত রীতিনীতি•

ক)মন্ত্রিসভা যৌথভাবে পার্লামেন্টের কাছে দায়বদ্ধ থাকবে। 

খ) প্রধানমন্ত্রী ও অন্যান্য মন্ত্রীদের পার্লামেন্টের সদস্য হতে হবে। আবার কমন্সসভার আস্থা হারালে মন্ত্রিসভাকে পদত্যাগ করতে হবে।

৩) •পার্লামেন্ট সম্পর্কিত রীতিনীতি•

পার্লামেন্টের অধিবেশন বছরে অন্তত একবার বসবে। কমন্সসভার স্পিকার দল নিরপেক্ষ ভাবে দায়িত্ব পালন করবেন। অর্থবিল কেবলমাত্র কমন্সসভাতে উপস্থাপিত হবে।

৪) •কমনওয়েলথ সম্পর্কিত রীতিনীতি•

•কানাডা,অস্ট্রেলিয়া প্রভৃতি ডোমিনিয়ন গুলি অনুরোধ না করলে পার্লামেন্ট তাদের জন্য কোন আইন তৈরি করবে না।

•কোন ডোমিনিয়নের গভর্নর জেনারেল নিয়োগের সময় রাজা বা রানী সেখানকার প্রধানমন্ত্রী সঙ্গে পরামর্শ করবেন।

•ডোমিনিয়ন গুলির গভর্নর জেনারেলগণ ব্রিটিনের রাজা বা রানীর প্রতিনিধি, ব্রিটিশ সরকারের প্রতিনিধি নন।

 •শাসনতান্ত্রিক রীতিনীতি গুলি মেনে চলার কারণ•

ক) ব্রিটিশ জনগণঃ ব্রিটিশ জনগণ প্রকৃতিগতভাবে রক্ষণশীল ও ঐতিহ্যপ্রিয়। শাসনতান্ত্রিক রীতিনীতি গুলি যেহেতু ব্রিটেনের দীর্ঘ রাজনৈতিক ইতিহাস ও গৌরবময় ঐতিহ্য সঙ্গে যুক্ত, তাই এগুলিকে মেনে চলার মাধ্যমে ব্রিটিশ জনগণ অতীত গৌরবকে ফিরে পাওয়ার আনন্দ অনুভব করে।

খ) সাংবিধানিক ভারসাম্য বজায়ঃ ব্রিটেনের শাসনতান্ত্রিক রীতিনীতি গুলি সাংবিধানিক ভারসাম্য বজায় রাখে।আর এগুলিকে অমান্য করলে সেই দেশের শাসনব্যবস্থা ভেঙে পড়তে পারে।আর এই আশঙ্কার জন্য ব্রিটিশ জনগণ রীতিনীতি মেনে চলে।

গ) বাস্তব,জনসমর্থন ও আইনঃ ব্রিটেনের শাসনতান্ত্রিক রীতিনীতি গুলি বাস্তব উপযোগী হওয়ায় সেদেশের জনগণ শাসনতান্ত্রিক রীতি নীতি গুলি মেনে চলে। যার ফলে ঐ রীতিনীতি গুলির পিছনে দৃঢ় জনসমর্থন থাকে। শুধু তাই নয়, এই রীতিনীতি গুলি অমান্য করলে সেগুলি আইনে পরিণত হতে পারে এই আশঙ্কার কারণে ব্রিটেনের জনগণ শাসনতান্ত্রিক রীতিনীতি গুলিকে মান্যতা দেয়।

          পরিশেষে আমরা বলতে পারি যে, ব্রিটেনের শাসন ব্যবস্থায় শাসনতান্ত্রিক রীতিনীতির ভূমিকা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। আর এই রীতিনীতি গুলি ব্রিটেনের অলিখিত সংবিধানকে যুগোপযোগী করে তোলে এবং সরকারের বিভিন্ন বিভাগের মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতা বৃদ্ধি করে। রীতিনীতি গুলি আইনের শুল্ক অস্থির ওপর মাংসের প্রলেপ লাগিয়ে ব্রিটিশ শাসনব্যবস্থাকে প্রানবন্ত ও গতিশীল করে তুলেছে।

ঠিক এরূপ অসংখ্য বিষয়ভিত্তিক আলোচনা সাজেশন এবং টিউটোরিয়াল ভিডিও পেতে ভিজিট করুন আমাদের SHESHER KOBITA SUNDORBON YOUTUBE CHANNEL 🙏 

Comments

Popular posts from this blog

একটি সার্থক গীতিকাব্যের পরিচয়।

  একটি সার্থক গীতিকাব্যের পরিচয়-সারদা মঙ্গল               গীতিকাব্য হলো এক ধরনের কবিতা, যার মধ্যে দিয়ে ব্যক্তির আবেগ, অনুভূতি এবং অভিজ্ঞতাগুলিকে ছন্দ ওর সংগীতের মাধ্যমে প্রকাশ করা হয়। তবে এখানে কবিতাগুলি খুবই ছোট আকারের হয়, আর সেখানে কবির ব্যক্তিগত অনুভূতির গভীরতা ও আন্তরিকতা প্রকাশ পায়। আর এই প্রেক্ষিতে আমরা বলতে পারি গীতি কবিতার সংকলন হলো গীতিকাব্য। ব্যঞ্জনাময় ও সংহত ।  গীতিকাব্যের বৈশিষ্ট্য  গীতিকাব্যের কিছু প্রধান বৈশিষ্ট্য নিচে আলোচনা করা হলো: ১. ব্যক্তিগত অনুভূতি ও আবেগ প্রকাশ: এটি গীতিকাব্যের প্রধান বৈশিষ্ট্য। এখানে কবি নিজের ব্যক্তিগত অনুভূতি, প্রেম, বিরহ, আনন্দ বা বিষাদের কথা তুলে ধরেন। ২. সংক্ষিপ্ততা: গীতিকাব্য সাধারণত দীর্ঘ হয় না। অল্প কয়েকটি স্তবকের মধ্যে কবি তাঁর ভাবনা সম্পূর্ণভাবে প্রকাশ করেন। ৩. সুর ও ছন্দের প্রাধান্য: গীতিকাব্য মূলত সুর করে আবৃত্তি করার জন্য রচিত হয়। তাই এতে সুর ও ছন্দের প্রতি বিশেষ মনোযোগ দেওয়া হয়। ৪. আত্মগতভাব: গীতিকাব্যে বাইরের জগতের বর্ণনা না দিয়ে কবির নিজের মনের ভেতরের জগতের প্রতি মনোযোগ ...

ষষ্ঠ সেমিস্টার বাংলা অনার্স (DSE3/4) সাজেশন ২০২৫

       West Bengal State University                                       BA Honours, 6th Semester                                         SUGGESTION 2025                                                      BNGA,DSE05T( DSE3/4)  • বাংলা কথাসাহিত্যঃ মন্বন্তর, দাঙ্গা ও দেশভাগ• একক-১(২০২১) ক) দেশভাগের ইতিহাসের বাস্তব রূপ বাংলা সাহিত্যে  কীভাবে প্রকাশ পেয়েছে কয়েকটি উপন্যাস অনুসরণে তার পরিচয় দাও। • ১৯৪৬ দাঙ্গা রাজনীতির ট্রাজেডি বাংলা ছোটগল্পের পরিসরে কিভাবে এসেছে, সংশ্লিষ্ট কয়েকটি রচনা অবলম্বনে আলোচনা করো। (২০২২) পঞ্চাশের মন্বন্তরের বাস্তব বর্ণনা করে বাংলা উপন্যাসে তার কতটা প্রতিফলন ঘটেছে, সে বিষয়ে আলোকপাত করো। •দেশভাগের ক...

ইতিহাস (3rd Semester) সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর।

 তৃতীয় সেমিস্টার ইতিহাস মাইনর সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর (পশ্চিমবঙ্গ রাষ্ট্রীয় বিশ্ববিদ্যালয়, তৃতীয় সেমিস্টার ইতিহাস মাইনর)। ১)বন্দেগান-ই-চাহালগানি বলতে কী বোঝায়? •উত্তরঃবন্দেগান-ই-চাহালগান বলতে চল্লিশ জন তুর্কি ও অ-তুর্কি দাসদের সমন্বয়ে গঠিত একটি বাহিনীকে বোঝায়। এই বাহিনীকে ডাল চালিশা বা তুরকান-ই- চাহালগানি নামে ডাকা হতো। ২)আমির খসরু কে ছিলেন? •উত্তরঃ আমির খসরু ছিলেন প্রখ্যাত সুফি সাধক বা আরেফ নিজামউদ্দিন আওলিয়ার ছাত্র এবং অন্যতম প্রধান খলিফা। যাঁকে 'ভারতের তোতা' উপাধি দেওয়া হয়েছিল। ৩) মহরানা প্রতাপ কে ছিলেন?  •উত্তরঃ মেবারের শিশোদিয়া রাজবংশের একজন হিন্দু রাজপুত রাজা ছিলেন মহারানা প্রতাপ সিং। যিনি রাজপুতদের বীরত্ব ও দৃঢ় সংকল্পের প্রতীক। বহু বছর ধরে তিনি মুঘল সম্রাট আকবরের সঙ্গে লড়াই করেন। ৪) জায়গীরদারী সংকট কী? •উত্তরঃ জায়গিরদারী সংকট ছিল মোগল সাম্রাজ্যের একটি অর্থনৈতিক সংকট। এই সংকটে জমি বা জায়গিরের অভাব দেখা দিয়েছিল। যার ফলে প্রশাসনিক খরচ মেটানো এবং যুদ্ধের খরচ বহন করা সম্ভব হতো না। ৫) দাক্ষিণাত্য ক্ষত কী? •উত্তরঃ দাক্ষিণাত্য ক্ষত বলতে ঔরঙ্গজেবের দাক্ষিণাত্য নীত...