Skip to main content

জাতীয়বাদ(XI,2nd sem )কাকে বলে? জাতীয়তাবাদের প্রকৃতি ও বৈশিষ্ট্য আলোচনা করো।

জাতীয়তাবাদ কাকে বলে? জাতীয়তাবাদের প্রকৃতি ও বৈশিষ্ট্য আলোচনা করো। 

• জাতীয়তাবাদঃ জাতীয়তাবাদ হল একটি মানসিক অনুভূতি। যে অনুভূতির মাধ্যমে কোন জাতির ঐতিহ্য, আশা-আকাঙ্ক্ষা ইত্যাদি প্রকাশ পায়। শুধু তাই নয়- ভাষা, ধর্ম, সাহিত্য, সংস্কৃতি, বংশ প্রভৃতি কারণে যখন একটি জনসমষ্টি নিজেদের সুখ-দুঃখ, ন্যায়-অন্যায় ও মান-অপমানের সমান অংশীদার বলে মনে করে এবং নিজেদের মধ্যে গভীর একাত্মবোধ অনুভব করে তখন তাদের মধ্যে জাতীয়তাবোধের সৃষ্টি হয়।আর-                               ঔঔৌএই জাতীয়তাবোধের সঙ্গে দেশপ্রেম মিলিত হয়ে যখন তা একটি রাজনৈতিক আদর্শ হিসেবে গড়ে ওঠে, তখন তাকে জাতীয়তাবাদ বলে।

         •জাতীয়তাবাদের প্রকৃতি ও বৈশিষ্ট্য•

জাতীয়তাবাদ হলো একটি মহান আদর্শ।আর এই আদর্শ মানুষের মধ্যে ঐক্যবোধের সঞ্চার করে। সেই সাথে মানুষকে দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ করে আত্মত্যাগে প্রেরণা যোগায়। তবে প্রত্যেক জাতির কিছু নিজস্ব গুণ বা বৈশিষ্ট্য থাকে। যেখানে-                                                                জাতীয়তাবাদের মাধ্যমে সেই সব গুণের বিকাশ ঘটে। জাতীয়তাবাদে উদ্ভুদ্ধ জাতিগুলি নিজেদের যেমন উন্নত করে, ঠিক তেমনি অপরকেও উন্নত হতে সাহায্য করে। তাই আদর্শ জাতীয়বাদের মূলমন্ত্র হলো-           "নিজে বাঁচো এবং অপরকে বাঁচতে দাও।"

         আসলে জাতীয়তাবাদী আদর্শ বিভিন্ন জাতিকে নিজেদের স্বতন্ত্র রাষ্ট্র গঠনে তথা বৈদেশিক শাসন থেকে মুক্তি লাভের সংগ্রামে অনুপ্রেরণা দান করে। আর সেখানে দেখা যায় যে-                                                                   দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর এশিয়া, আফ্রিকা ও ল্যাটিন আমেরিকার অসংখ্য জাতি জাতীয়তাবাদে উদ্বুদ্ধ হয়ে স্বাধীনতার জন্য সংগ্রামে নেমে পড়ে এবং তারা সফলও হয়। তবে-

           জাতীয়তাবাদ কখনো কখনো আদর্শ ভ্রষ্ট হয়ে সংকীর্ণ স্বাদেশিকতায় পরিণত হয় এবং ক্রমে তা উগ্র জাতীয়তাবাদে রূপান্তরিত হয়। তবে উগ্র জাতীয়তাবাদ নিজেদের সম্পর্কে গর্ববোধ এবং অন্য জাতির প্রতি ঘৃণার সৃষ্টি করে। শুধু তাই নয়, তারা সাম্রাজ্যবাদ তথা যুদ্ধকে ইন্ধন যোগায়,বিশ্ব শান্তি নষ্ট করে এবং সভ্যতাকে ধ্বংস করে। তবে -

                উনিশ শতকে জাতীয়তাবাদ যেখানে মূলত রাজনৈতিক স্বাধীনতা ও জাতীয় ঐক্য সাধনের মহান কাজে নিযুক্ত ছিল।বিশ শতকের প্রথম দিকে জাতীয়তাবাদ সেখানে দেশকে পররাজ্য আক্রমণে, নয়া সাম্রাজ্যবাদের প্রসারে ইন্ধন জুগিয়েছে। আর তারই বিষময় পরিণতি হলো প্রথম বিশ্বযুদ্ধ।

Comments

Popular posts from this blog

একটি সার্থক গীতিকাব্যের পরিচয়।

  একটি সার্থক গীতিকাব্যের পরিচয়-সারদা মঙ্গল               গীতিকাব্য হলো এক ধরনের কবিতা, যার মধ্যে দিয়ে ব্যক্তির আবেগ, অনুভূতি এবং অভিজ্ঞতাগুলিকে ছন্দ ওর সংগীতের মাধ্যমে প্রকাশ করা হয়। তবে এখানে কবিতাগুলি খুবই ছোট আকারের হয়, আর সেখানে কবির ব্যক্তিগত অনুভূতির গভীরতা ও আন্তরিকতা প্রকাশ পায়। আর এই প্রেক্ষিতে আমরা বলতে পারি গীতি কবিতার সংকলন হলো গীতিকাব্য। ব্যঞ্জনাময় ও সংহত ।  গীতিকাব্যের বৈশিষ্ট্য  গীতিকাব্যের কিছু প্রধান বৈশিষ্ট্য নিচে আলোচনা করা হলো: ১. ব্যক্তিগত অনুভূতি ও আবেগ প্রকাশ: এটি গীতিকাব্যের প্রধান বৈশিষ্ট্য। এখানে কবি নিজের ব্যক্তিগত অনুভূতি, প্রেম, বিরহ, আনন্দ বা বিষাদের কথা তুলে ধরেন। ২. সংক্ষিপ্ততা: গীতিকাব্য সাধারণত দীর্ঘ হয় না। অল্প কয়েকটি স্তবকের মধ্যে কবি তাঁর ভাবনা সম্পূর্ণভাবে প্রকাশ করেন। ৩. সুর ও ছন্দের প্রাধান্য: গীতিকাব্য মূলত সুর করে আবৃত্তি করার জন্য রচিত হয়। তাই এতে সুর ও ছন্দের প্রতি বিশেষ মনোযোগ দেওয়া হয়। ৪. আত্মগতভাব: গীতিকাব্যে বাইরের জগতের বর্ণনা না দিয়ে কবির নিজের মনের ভেতরের জগতের প্রতি মনোযোগ ...

পঞ্চম সেমিস্টার ইতিহাস মাইনর সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর ।

পঞ্চম সেমিস্টার ইতিহাস মাইনর সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর  ১) শিল্প বিপ্লব কবে কোথায় প্রথম ঘটেছিল?         উত্তর - প্রথম শিল্প বিপ্লব শুরু হয়েছিল ইংল্যান্ডে (গ্রেট ব্রিটেন)। এটি প্রধানত অষ্টাদশ শতকের মাঝামাঝি সময়ে শুরু হয়ে প্রায় ১৭৬০ থেকে ১৮৪০ খ্রিস্টাব্দ-এর মধ্যে ঘটেছিল। ২) কৃষ্ণমৃত্যু কী?            • কৃষ্ণমৃত্যু (Black Death) হলো মানব ইতিহাসের এক ভয়াবহ মহামারি।এটি ছিল মূলত প্লেগ (Plague) রোগ, যা Yersinia pestis নামক ব্যাকটেরিয়ার কারণে সৃষ্টি হয়েছিল।এটি প্রধানত ১৩৪৬ থেকে ১৩৫৩ খ্রিস্টাব্দের মধ্যে ইউরোপ, এশিয়া (ইউরেশিয়া) এবং উত্তর আফ্রিকাজুড়ে ছড়িয়ে পড়েছিল। ৩) কে বলেছিলেন মানুষই সবকিছুর মানদণ্ড?        •এই বিখ্যাত উক্তিটি যিনি করেছিলেন তিনি হলেন প্রাচীন গ্রিসের একজন প্রখ্যাত দার্শনিক, যার নাম প্রোটাগোরাস (Protagoras)।তাঁর মূল বক্তব্যটি ছিল-"মানুষই সবকিছুর মানদণ্ড, যা আছে তারও, আর যা নেই তারও।” ৪) পেত্রাক কেন বিখ্যাত?         •পেত্রাক (Francesco Petrarca) ছিলেন ১৪ শতকের (১৩০৪-১৩৭৪) একজন ...

অবক্ষয় যুগ। অষ্টাদশ-ঊনবিংশ শতাব্দীর সন্ধিক্ষণে বাঙালির অবক্ষয় যুগের পরিচয় দাও। এই সময়ে টপ্পা ও আখড়াই গানের উদ্ভব ও জনপ্রিয়তার সামাজিক কারণগুলি আলোচনা করো।

অবক্ষয় যুগ। অষ্টাদশ-ঊনবিংশ শতাব্দীর সন্ধিক্ষণে বাঙালির অবক্ষয় যুগের পরিচয় দাও। এই সময়ে টপ্পা ও আখড়াই গানের উদ্ভব ও জনপ্রিয়তার সামাজিক কারণগুলি আলোচনা করো। পশ্চিমবঙ্গ রাষ্ট্রীয় বিশ্ববিদ্যালয় প্রথম সেমিস্টার বাংলা মাইনর।ইউনিট ৪।   অবক্ষয় যুগের পরিচয় এবং টপ্পা ও আখড়াই গানের সামাজিক কারণ ও অবক্ষয় যুগের পরিচয়          আমরা জানি যে,১৭৫৭ খ্রিস্টাব্দে পলাশীর যুদ্ধের পর থেকে ঊনবিংশ শতাব্দীর প্রথমার্ধ (১৮৫০ খ্রি.) পর্যন্ত সময়কালকে বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে 'অবক্ষয় যুগ' বা 'সন্ধিযুগ' বলা হয়।আর এটি ছিল মধ্যযুগের দেবনির্ভরতার অবসান এবং আধুনিক যুগের মানবতাবোধের সূচনার মধ্যবর্তী এক ক্রান্তিকাল।যেখানে এই সময়কালের প্রধান বৈশিষ্ট্যগুলি  নিম্নরূপে আলোচনা করা যেতে পারে-        •রাজনৈতিক অস্থিরতাঃ নবাবী শাসনের পতন এবং ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির দেওয়ানি লাভের ফলে বাংলার পুরনো শাসন ও অর্থনৈতিক কাঠামো ভেঙে পড়ে।      •'বাবু' সংস্কৃতির উদয়ঃ ছিয়াত্তরের মন্বন্তর (১১৭৬ বঙ্গাব্দ) এবং চিরস্থায়ী বন্দোবস্তের (১৭৯৩ খ্রি.) ফলে গ্রামীণ বনেদি সমাজ ধ্...