Skip to main content

ব্রিটিশ (3rd.Sem) প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতা ও পদমর্যাদা আলোচনা করো।

ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতা ও পদমর্যাদা আলোচনা করো। পশ্চিমবঙ্গের রাষ্ট্র বিশ্ববিদ্যালয়, তৃতীয় সেমিস্টার, রাষ্ট্রবিজ্ঞান, মাইনর)


• ভূমিকাঃ ব্রিটেনে সংসদীয় শাসনব্যবস্থা প্রতিষ্ঠিত হওয়ায় সেদেশের প্রধানমন্ত্রী হলেন প্রকৃত শাসক প্রধান। আর তাকে কেন্দ্র করে কেন্দ্রীয় সরকারের যাবতীয় সংসদীয় কাজকর্ম পরিচালিত হয়। অধ্যাপক বেজহটের মতে-                                                                                          "  Keystone of the Cabinet."

ব্রিটেনে প্রধানমন্ত্রী পদটি প্রথা ও রীতিনীতি দ্বারা সৃষ্ট। ১৯৩৭ সালে রাজকীয় মন্ত্রী আইনে প্রধানমন্ত্রী পদটি প্রথম আইনগত স্বীকৃতি লাভ করে। আর সেখানে-

            কমন্সসভায় সংখ্যাগরিষ্ঠ দলের নেতা বা নেত্রীকে রাজা বা রানী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ করে থাকেন। কমন্সসভায় কোনো দল সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করতে না পারলে সেদেশের রাজা বা রানী নিজের পছন্দমত কাউকে প্রধানমন্ত্রী পদে বসাতে পারেন। তবে -

     প্রধানমন্ত্রীর কার্যকালের মেয়াদ পাঁচ বছর। তবে মেয়াদ শেষ হওয়ার আগে তিনি স্বেচ্ছায় পদত্যাগ করতে পারেন। কমন্সসভায় সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্যের সমর্থন হারালেও তাকে মেয়াদ শেষ হওয়ার আগে সরে যেতে হয়। আর সেখানে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী প্রথা ও রীতনীতির ভিত্তিতে যে সকল ক্ষমতা ভোগ করে থাকেন সেগুলি হলো -

•১) রাজা বা রানীর প্রধান পরামর্শদাতাঃ আইনত রাজা-রানী প্রধানমন্ত্রীকে নিযুক্ত করেন। তবে এটি একটি সেখানকার আনুষ্ঠানিক ব্যাপার। কারণ কমন্সসভার সংখ্যাগরিষ্ঠ দলের নেতাকে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নিযুক্ত করতে রাজা বা রানী বাধ্য থাকেন। আর এখানে প্রধানমন্ত্রী হলেন রাজা বা রানীর প্রধান পরামর্শদাতা। রাজা বা রানীর সাথে ক্যাবিনেটের সংযোগ প্রধানমন্ত্রীর মাধ্যমে সম্পাদিত হয়।

• ২) সংখ্যাগরিষ্ঠ দলের নেতাঃ প্রধানমন্ত্রী হলেন তাঁর দলের নেতা। তাঁর দলই হল সংখ্যাগরিষ্ঠ। এই সুবাদে তিনি প্রধানমন্ত্রীর পদ লাভ করে থাকেন। সংখ্যাগরিষ্ঠ দলের নেতা হিসেবে প্রধানমন্ত্রীকে পার্লামেন্টের ভিতরে ও বাইরে দলের শৃঙ্খলা ও মর্যাদা বজায় রাখতে হয়। দলের ঐক্য ও সংহতি রক্ষা করে একটি ঐক্যবদ্ধ টিম হিসেবে দলকে পরিচালনার দায়িত্ব প্রধানমন্ত্রীর।তাই দলের জনপ্রিয়তা অনেকাংশে প্রধানমন্ত্রীর ব্যক্তিত্ব ও মর্যাদার উপর নির্ভর করে।

• ৩) কমন্সসভার নেতাঃ প্রধানমন্ত্রী হলেন কমন্সসভার নেতা বা নেত্রী। তিনি সভার অধিবেশন আহ্বান, অধিবেশনের সময়কাল, আলোচনার কর্মসূচি প্রভৃতি বিষয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন। বিরোধী দলের সঙ্গে সহজ সম্পর্ক স্থাপনের দায়িত্ব প্রধানমন্ত্রীর।তিনি পার্লামেন্টের মাধ্যমে সরকারের নীতি ও সিদ্ধান্ত সমূহ জাতির সামনে তুলে ধরেন। আসলে প্রধানমন্ত্রী সরকারের মুখপাত্র। তাই কমন্সসভার কাছে সরকারের নীতিসমূহ ব্যাখ্যা করার দায়িত্ব তাঁকেই নিতে হয়। 

• ৪) মন্ত্রীসভার নেতাঃ প্রধানমন্ত্রী হলেন মন্ত্রিসভার নেতা। বর্তমানে প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শক্রমে রাজা বা রানীর দ্বারা মন্ত্রিসভার সদস্যরা নিযুক্ত হন। মন্ত্রিসভা গঠনের ক্ষেত্রে প্রধানমন্ত্রীকে কয়েকটি বিষয় মেনে চলতে হয়। মন্ত্রীরা সাধারণত পার্লামেন্টের সদস্যদের মধ্য থেকে নিযুক্ত হন। লর্ডসভা থেকে কয়েকজন মন্ত্রী নিয়োগ করতে হয়, প্রধানমন্ত্রী নিজে দলের মধ্য থেকেই মন্ত্রীদের নিয়োগ করে থাকেন। 

•৫) ক্যাবিনেটের নেতাঃ সাধারণত প্রধানমন্ত্রীকে ক্যাবিনেটের সমমর্যাদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের মধ্যে অগ্রগণ্য। বাস্তবে তিনি ক্যাবিনেটের মধ্যমণি ও নেতা। আর প্রধানমন্ত্রীকে কেন্দ্র করেই ক্যাবিনেটের উত্থান পতন ঘটে। ক্যাবিনেট গঠনের ক্ষেত্রে প্রধানমন্ত্রী চরম ও অবাধ ক্ষমতার অধিকারী। তিনি ক্যাবিনেট মন্ত্রীদের দপ্তর বন্টন করে থাকেন এবং সেই ক্যাবিনেটের সভায় তিনি সভাপতিত্ব করেন। ক্যাবিনেটের অধিনায়ক হিসেবে প্রধানমন্ত্রীকে সরকারি যাবতীয় নীতি ও কাজকর্মের দায় দায়িত্ব বহন করতে হয়।

•৬) জনগণের নেতাঃ দেশের জনগণ প্রধানমন্ত্রীকে তাদের আশা-আকাঙ্ক্ষা পূরণের কান্ডারী বলে মনে করেন। জনগণ কেন্দ্র সরকার বলতে প্রধানমন্ত্রীকেই বুঝে থাকেন। তাই প্রধানমন্ত্রীর সব সময় সংবাদপত্র, দুরদর্শন, সভাসমিতি প্রভৃতির মাধ্যমে জনগণের সঙ্গে সংযোগ গড়ে তোলার চেষ্টা করেন এবং সেই সাথে নিজের দলের অনুকূলে শক্তিশালী জনমত গঠন করতে সচেষ্ট থাকেন।

• পদমর্যাদাঃ ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রী ব্রিটিশ শাসনব্যবস্থায় সর্বাধিক শক্তিশালী, গুরুত্বপূর্ণ ও মর্যাদাযুক্ত ব্যক্তিত্ব। শাসনতান্ত্রিক বিচারে তিনি পৃথিবীর একজন অন্যতম শক্তিশালী শাসক। প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তিনি জনগণের নেতা। আর সেই নেতা হিসেবে তিনি সরকারের নীতি নির্ধারণ করেন এবং কমন্সসভা পরিচালনা ও নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রে তাঁর ভূমিকা মুখ্য। মন্ত্রিসভা ও ক্যাবিনেটের নেতা হিসেবে প্রধানমন্ত্রী সহকর্মীদের কাছ থেকে আনুগত্য লাভ করেন। এক্ষেত্রে তাঁর কর্তৃত্ব ও প্রাধান্য প্রশ্নাতীত। প্রধানমন্ত্রী ক্যাবিনেট গঠন করেন ও পরিচালনা করেন এবং প্রধানমন্ত্রীর মতামত ক্যাবিনেটসিদ্ধান্তের ছাপ দেওয়া হয়।তবে-

      ব্রিটেনে প্রধানমন্ত্রী পদটি প্রচলিত রীতিনীতি ভিত্তিতে গড়ে উঠেছে। অতঃপর শাসনতন্ত্র ও প্রচলিত প্রথা ও রীতিনীতির মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতা এবং মর্যাদার পরিধি প্রসারিত হয়েছে। তবে একথা ঠিক যে,পদাধিকারী বিচক্ষণ ও ব্যক্তিত্বসম্পন্ন হলে এবং পিছনে শাসক দলের দৃঢ় ও সক্রিয় সমর্থন ও সহযোগিতা থাকলে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী ব্যাপক ক্ষমতার অধিকারী হতে পারবেন।।

Comments

Popular posts from this blog

একটি সার্থক গীতিকাব্যের পরিচয়।

  একটি সার্থক গীতিকাব্যের পরিচয়-সারদা মঙ্গল               গীতিকাব্য হলো এক ধরনের কবিতা, যার মধ্যে দিয়ে ব্যক্তির আবেগ, অনুভূতি এবং অভিজ্ঞতাগুলিকে ছন্দ ওর সংগীতের মাধ্যমে প্রকাশ করা হয়। তবে এখানে কবিতাগুলি খুবই ছোট আকারের হয়, আর সেখানে কবির ব্যক্তিগত অনুভূতির গভীরতা ও আন্তরিকতা প্রকাশ পায়। আর এই প্রেক্ষিতে আমরা বলতে পারি গীতি কবিতার সংকলন হলো গীতিকাব্য। ব্যঞ্জনাময় ও সংহত ।  গীতিকাব্যের বৈশিষ্ট্য  গীতিকাব্যের কিছু প্রধান বৈশিষ্ট্য নিচে আলোচনা করা হলো: ১. ব্যক্তিগত অনুভূতি ও আবেগ প্রকাশ: এটি গীতিকাব্যের প্রধান বৈশিষ্ট্য। এখানে কবি নিজের ব্যক্তিগত অনুভূতি, প্রেম, বিরহ, আনন্দ বা বিষাদের কথা তুলে ধরেন। ২. সংক্ষিপ্ততা: গীতিকাব্য সাধারণত দীর্ঘ হয় না। অল্প কয়েকটি স্তবকের মধ্যে কবি তাঁর ভাবনা সম্পূর্ণভাবে প্রকাশ করেন। ৩. সুর ও ছন্দের প্রাধান্য: গীতিকাব্য মূলত সুর করে আবৃত্তি করার জন্য রচিত হয়। তাই এতে সুর ও ছন্দের প্রতি বিশেষ মনোযোগ দেওয়া হয়। ৪. আত্মগতভাব: গীতিকাব্যে বাইরের জগতের বর্ণনা না দিয়ে কবির নিজের মনের ভেতরের জগতের প্রতি মনোযোগ ...

ষষ্ঠ সেমিস্টার বাংলা অনার্স (DSE3/4) সাজেশন ২০২৫

       West Bengal State University                                       BA Honours, 6th Semester                                         SUGGESTION 2025                                                      BNGA,DSE05T( DSE3/4)  • বাংলা কথাসাহিত্যঃ মন্বন্তর, দাঙ্গা ও দেশভাগ• একক-১(২০২১) ক) দেশভাগের ইতিহাসের বাস্তব রূপ বাংলা সাহিত্যে  কীভাবে প্রকাশ পেয়েছে কয়েকটি উপন্যাস অনুসরণে তার পরিচয় দাও। • ১৯৪৬ দাঙ্গা রাজনীতির ট্রাজেডি বাংলা ছোটগল্পের পরিসরে কিভাবে এসেছে, সংশ্লিষ্ট কয়েকটি রচনা অবলম্বনে আলোচনা করো। (২০২২) পঞ্চাশের মন্বন্তরের বাস্তব বর্ণনা করে বাংলা উপন্যাসে তার কতটা প্রতিফলন ঘটেছে, সে বিষয়ে আলোকপাত করো। •দেশভাগের ক...

ইতিহাস (3rd Semester) সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর।

 তৃতীয় সেমিস্টার ইতিহাস মাইনর সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর (পশ্চিমবঙ্গ রাষ্ট্রীয় বিশ্ববিদ্যালয়, তৃতীয় সেমিস্টার ইতিহাস মাইনর)। ১)বন্দেগান-ই-চাহালগানি বলতে কী বোঝায়? •উত্তরঃবন্দেগান-ই-চাহালগান বলতে চল্লিশ জন তুর্কি ও অ-তুর্কি দাসদের সমন্বয়ে গঠিত একটি বাহিনীকে বোঝায়। এই বাহিনীকে ডাল চালিশা বা তুরকান-ই- চাহালগানি নামে ডাকা হতো। ২)আমির খসরু কে ছিলেন? •উত্তরঃ আমির খসরু ছিলেন প্রখ্যাত সুফি সাধক বা আরেফ নিজামউদ্দিন আওলিয়ার ছাত্র এবং অন্যতম প্রধান খলিফা। যাঁকে 'ভারতের তোতা' উপাধি দেওয়া হয়েছিল। ৩) মহরানা প্রতাপ কে ছিলেন?  •উত্তরঃ মেবারের শিশোদিয়া রাজবংশের একজন হিন্দু রাজপুত রাজা ছিলেন মহারানা প্রতাপ সিং। যিনি রাজপুতদের বীরত্ব ও দৃঢ় সংকল্পের প্রতীক। বহু বছর ধরে তিনি মুঘল সম্রাট আকবরের সঙ্গে লড়াই করেন। ৪) জায়গীরদারী সংকট কী? •উত্তরঃ জায়গিরদারী সংকট ছিল মোগল সাম্রাজ্যের একটি অর্থনৈতিক সংকট। এই সংকটে জমি বা জায়গিরের অভাব দেখা দিয়েছিল। যার ফলে প্রশাসনিক খরচ মেটানো এবং যুদ্ধের খরচ বহন করা সম্ভব হতো না। ৫) দাক্ষিণাত্য ক্ষত কী? •উত্তরঃ দাক্ষিণাত্য ক্ষত বলতে ঔরঙ্গজেবের দাক্ষিণাত্য নীত...