Skip to main content

ফরাসি ও (3rd.Sem)মার্কিন রাষ্ট্রপতির মধ্যে তুলনামূলক আলোচনা করো।

ফরাসি ও মার্কিন রাষ্ট্রপতির তুলনা আলোচনা করো(পশ্চিমবঙ্গ রাষ্ট্রীয় বিশ্ববিদ্যালয়, তৃতীয় সেমিস্টার,রাষ্ট্রবিজ্ঞান, মাইনর)।

             আলোচনা শুরুতেই আমরা বলে রাখি যে, রাষ্ট্রপ্রধান হিসেবে ফ্রান্স ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র উভয়ের দেশেই একজন করে রাষ্ট্রপতি আছেন। তবে উভয় দেশের শাসন ব্যবস্থার প্রকৃতি কিন্তু একরকম নয়। মার্কিন রাষ্ট্রপতিশাসিত ব্যবস্থা অনুসারে শাসনবিভাগীয় যাবতীয় ক্ষমতা রাষ্ট্রপতি হাতে ন্যাস্ত আছে। তত্ত্বগতভাবে এবং বাস্তবগতভাবে রাষ্ট্রপতি হলেন সরকার ও রাষ্ট্রের প্রধান। একক রাষ্ট্রপ্রধান হিসেবে তিনি সংবিধান দ্বারা স্বীকৃত।                                                                                     ফ্রান্সের শাসনব্যবস্থা হল রাষ্ট্রপতি শাসিত ও সংসদীয় ব্যবস্থার মিশ্রণ। তাই ফ্রান্সকে আধা-রাষ্ট্রপতি শাসিত ও আধা-সংসদীয় শাসন ব্যবস্থা বলা হয়। তবে ফ্রান্সের শাসন ব্যবস্থা দ্য গলের নেতৃত্বে রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা নানাভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। তবুও ফরাসি ও মার্কিন রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা মধ্যে বেশ কিছু বৈসাদৃশ্য বর্তমান আর সেই বৈসাদৃশ্যগুলি হল-

১)                নির্বাচন পদ্ধতির ক্ষেত্রে পার্থক্য 

মার্কিন রাষ্ট্রপতি জনগণের দ্বারা পরোক্ষভাবে নির্বাচিত হন। এখানে মার্কিন রাষ্ট্রপতিকে নির্বাচিত করে একটি নির্বাচক সংস্থা। তবে সেখানে প্রতিটি অঙ্গরাজ্যের নাগরিকদের দ্বারা নির্বাচিত প্রতিনিধিদের নিয়ে এই নির্বাচক সংস্থা গঠিত হয়। আর নির্বাচক সংস্থা গোপন ভোট দানের পদ্ধতির ভিত্তিতে রাষ্ট্রপতিকে নির্বাচিত করে। কিন্তু -

              ফরাসি রাষ্ট্রপতি সার্বজনীন প্রত্যক্ষ ভোটের মাধ্যমে জনগণ দ্বারা নির্বাচিত হন। আর সেখানে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের মধ্যে যিনি প্রদত্ত বৈধ ভোটের অর্ধেকের বেশি ভোট লাভ করেন তিনি রাষ্ট্রপতি হন।

২)              যোগ্যতার ক্ষেত্রে পার্থক্য 

মার্কিন রাষ্ট্রপতি পদের যোগ্যতা হিসেবে সংবিধানে বলা আছে যে, রাষ্ট্রপতি পদপ্রার্থীকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের স্বাভাবিক নাগরিক এবং অন্তত ৩৫ বছর বয়স্ক ও ১৪ বছর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসকারী হতে হবে। কিন্তু -

                ফ্রান্সের পঞ্চম সাধারণতন্ত্রের সংবিধানে রাষ্ট্রপতি যোগ্যতা বা বয়স সংক্রান্ত কোনো কিছুই লেখা নেই। ১৯৪৬ সালে সংবিধানে বলা হয়েছিল যে, পূর্বতন রাজ পরিবারের কেউ রাষ্ট্রপতি পদপ্রার্থী হতে পারবেন না। কিন্তু পঞ্চম প্রজাতন্ত্রের সংবিধানে এই নিষেধ অবলুপ্ত করা হয়।

৩)।         কার্যকালের মেয়াদ সংক্রান্ত পার্থক্য 

মার্কিন রাষ্ট্রপতির কার্যকালের মেয়াদ হল চার বছর। তবে সে দেশে দুবারের বেশি ওই পদে রাষ্ট্রপতি অধিষ্ঠিত থাকতে পারেন না। কিন্তু -

              ফরাসি রাষ্ট্রপতির কার্যকালের মেয়াদ হল পাঁচ বছর। তাঁর পুনঃনির্বাচনের ক্ষেত্রে কোন সাংবিধানিক বাধা নেই। সেদেশে একজন ব্যক্তি যতবার খুশি ততবার রাষ্ট্রপতি পদে নির্বাচিত হতে পারেন।

৪)       আইন সংক্রান্ত ক্ষমতার ক্ষেত্রে পার্থক্য 

ক্ষমতার স্বতন্ত্রীকরণ নীতি প্রচলিত থাকায় মার্কিন রাষ্ট্রপতি পার্লামেন্টের অধিবেশন আহ্বান, স্থগিত, নিম্নকক্ষ ভেঙে দেওয়া, পার্লামেন্টের বিল পেশ, বা বিলের উপর ভোটদান সংক্রান্ত ক্ষমতা গুলি ভোগ করতে পারেন না। কিন্তু -

           ফরাসি রাষ্ট্রপতি সাধারণভাবে পার্লামেন্টের অধিবেশন আহ্বান করতে পারেন না। কিন্তু প্রধানমন্ত্রী বা জাতীয় সভার সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্যদের অনুরোধে নির্দেশ জারির মাধ্যমে পার্লামেন্টের বিশেষ অধিবেশন আহ্বান করতে পারেন। অতঃপর তিনি প্রধানমন্ত্রী ও পার্লামেন্টের উভয় কক্ষের সভাপতির পরামর্শক্রমে জাতীয়সভা ভেঙে দিতে পারেন। 

৫)              আইন প্রণয়ন সংক্রান্ত পার্থক্য 

মার্কিন রাষ্ট্রপতির কাছে সংবিধান সংশোধনী বিল ছাড়া বার্ষিক সমস্ত বিল সম্মতির জন্য পেশ করতে হয়। তিনি যে কোন বিলের সম্মতি দিতে পারেন, আবার নাও দিতে পারেন অথবা ভিটো প্রয়োগ করতে পারেন। তবে এখানে পার্লামেন্টের যে কক্ষ থেকে বিলটি তাঁর কাছে প্রেরিত হয়েছিল তাঁর আপত্তি সহ ১০ দিনের মধ্যে সেই বিলটি সেই কক্ষে ফেরত পাঠাতে হয়। অতঃপর কংগ্রেসের দুটি কক্ষ দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতায় বিলটি পুনরায় পাস করলে রাষ্ট্রপতি সম্মতি ছাড়াই সেটি আইনে পরিণত হয়। কিন্তু -

            ফ্রান্সের পার্লামেন্টের দ্বারা গৃহীত প্রতিটি আইন ঘোষণার জন্য রাষ্ট্রপতির কাছে প্রেরিত হয়। এখানে রাষ্ট্রপতি তাতে ভিটো দিতে পারেন না। কিন্তু আইনটি পুনর্বিবেচনার জন্য পার্লামেন্ট এর কাছে ১৫ দিনের মধ্যে ফেরত পাঠাতে পারেন। আর সেখানে পার্লামেন্ট কার্যত রাষ্ট্রপতির এই নির্দেশ অমান্য করতে পারে না। ফরাসি রাষ্ট্রপতির এই ক্ষমতাকে স্থগিতকারী ভিটো ক্ষমতা বলা হয়।

৬)            বিচার সংক্রান্ত ক্ষমতার পার্থক্য 

মার্কিন রাষ্ট্রপতির বিচার সংক্রান্ত ক্ষমতা সীমিত। সিনেটের পরামর্শ ও অনুমোদন ক্রমে মার্কিন রাষ্ট্রপতি সুপ্রিমকোর্টের বিচারকদের নিযুক্ত করতে পারেন। কিন্তু বিচারকদের পদচ্যুত করার ক্ষমতা তাঁর নেই। তবে তিনি দন্ডাদেশপ্রাপ্ত ব্যক্তির শাস্তি হ্রাস করতে বা শাস্তি থেকে ব্যক্তিকে মুক্তি দিতে পারেন। কিন্তু-

               ফরাসি রাষ্ট্রপতির বিচার সংক্রান্ত ক্ষমতা অনেক বেশি। তিনি সে দেশের বিচারবিভাগীয় উচ্চতর পরিষদের ৯ জন সদস্যকে আগে নিয়োগ করতেন এবং এখন এই পরিষদের সভায় তিনি সভাপতিত্ব করেন। আর সেখানে তিনি সাংবিধানিক পরিষদে ৩ জনকে নিযুক্ত করেন। তবে সাধারণ ও বিশেষ অপরাধের দণ্ডিত ব্যক্তিদের তিনি ক্ষমা প্রদর্শন করতেও পারেন। আসলে তিনি সে দেশের সংবিধানের অভিভাবক। 

৭)        সংবিধান সংক্রান্ত ক্ষমতার পার্থক্য 

মার্কিন রাষ্ট্রপতির সংবিধান সংশোধন সংক্রান্ত কোনো ক্ষমতা নেই। কংগ্রেসের উভয় কক্ষে এবং রাজ্যগুলির আইনসভায় নির্দিষ্ট সংখ্যাগরিষ্ঠতায় বিল গৃহীত হওয়ার পর কোন সংবিধান সংশোধনী বিলকে রাষ্ট্রপতির সম্মতির জন্য প্রেরণ করা হয় না। কিন্তু -

            সংবিধান সংশোধনের ক্ষমতার ক্ষেত্রে ফরাসি রাষ্ট্রপতি বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকেন। প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শক্রমে তিনি সংবিধান সংশোধনের উদ্যোগ গ্রহণ করতে পারেন। আবার সরকার দ্বারা উত্থাপিত সংবিধান সংশোধনের যেকোনো প্রস্তাব পার্লামেন্টের উভয় কক্ষে গৃহীত হওয়ার পর সেটিকে গণভোটে দেওয়া হবে, না পার্লামেন্টের উভয় কক্ষের যৌথ অধিবেশনে পেশ করা হবে সে বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেন ফরাসি রাষ্ট্রপতি।

ঠিক এরূপ অসংখ্য বিষয়ভিত্তিক আলোচনা সাজেশন এবং টিউটোরিয়াল ক্লাসের ভিডিও পেতে ভিজিট করুন আমাদের ওয়েবসাইট ও SHESHER KOBITA SUNDORBON YOUTUBE CHANNEL 🙏 Samaresh Sir.

Comments

Popular posts from this blog

একটি সার্থক গীতিকাব্যের পরিচয়।

  একটি সার্থক গীতিকাব্যের পরিচয়-সারদা মঙ্গল               গীতিকাব্য হলো এক ধরনের কবিতা, যার মধ্যে দিয়ে ব্যক্তির আবেগ, অনুভূতি এবং অভিজ্ঞতাগুলিকে ছন্দ ওর সংগীতের মাধ্যমে প্রকাশ করা হয়। তবে এখানে কবিতাগুলি খুবই ছোট আকারের হয়, আর সেখানে কবির ব্যক্তিগত অনুভূতির গভীরতা ও আন্তরিকতা প্রকাশ পায়। আর এই প্রেক্ষিতে আমরা বলতে পারি গীতি কবিতার সংকলন হলো গীতিকাব্য। ব্যঞ্জনাময় ও সংহত ।  গীতিকাব্যের বৈশিষ্ট্য  গীতিকাব্যের কিছু প্রধান বৈশিষ্ট্য নিচে আলোচনা করা হলো: ১. ব্যক্তিগত অনুভূতি ও আবেগ প্রকাশ: এটি গীতিকাব্যের প্রধান বৈশিষ্ট্য। এখানে কবি নিজের ব্যক্তিগত অনুভূতি, প্রেম, বিরহ, আনন্দ বা বিষাদের কথা তুলে ধরেন। ২. সংক্ষিপ্ততা: গীতিকাব্য সাধারণত দীর্ঘ হয় না। অল্প কয়েকটি স্তবকের মধ্যে কবি তাঁর ভাবনা সম্পূর্ণভাবে প্রকাশ করেন। ৩. সুর ও ছন্দের প্রাধান্য: গীতিকাব্য মূলত সুর করে আবৃত্তি করার জন্য রচিত হয়। তাই এতে সুর ও ছন্দের প্রতি বিশেষ মনোযোগ দেওয়া হয়। ৪. আত্মগতভাব: গীতিকাব্যে বাইরের জগতের বর্ণনা না দিয়ে কবির নিজের মনের ভেতরের জগতের প্রতি মনোযোগ ...

চতুর্থ সেমিস্টার জেনারেল ইতিহাস ছোট প্রশ্ন ২০২১

 *১) সুজাউদ্দৌলা কে ছিলেন বা মুর্শিদকুলি খাঁর মৃত্যুর পর কে বাংলার নবাব হন?  উত্তর - সুজা উদ্দৌলা আয়ুধের সুবেদার নবাব ছিলেন। মুর্শিদকুলি খাঁর মৃত্যুর পর তার জামাতা বাংলার নবাব  হন ১৭৫৪-১৭৭৫ খ্রীস্টাব্দ পর্যন্ত। নবাব থাকাকালীন তিনি বক্সারের যুদ্ধ এবং পানিপথের তৃতীয় যুদ্ধে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেছিলেন। *২) কোন সালে রেগুলেটিং আইন জারি করা হয়েছিল? উত্তর - ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির দুর্নীতি দূরীকরণ, গঠন বিন্যাস ও নিয়ন্ত্রণের জন্য ব্রিটিশ সরকার ১৭৭৩ খ্রিস্টাব্দে রেগুলেটিং আইন প্রণয়ন করেন। আর সেই আইনে বলা হয় বাংলা বোম্বাই ও মাদ্রাজে ১ করে কাউন্সিল থাকবে। *৩) শ্রী রঙ্গপত্তমের সন্ধিতে স্বাক্ষরকারী কারা কারা ছিলেন ?কখন এই সন্ধিটি স্বাক্ষরিত হয়েছিল? উত্তর - তৃতীয় ইঙ্গ মহীশূর যুদ্ধের অবসান হয়েছিল শ্রীরঙ্গপত্তমের সন্ধির দ্বারা। আর এই সন্ধিতে ঠিক হয় টিপু সুলতান ইংরেজদের তিন কোটি টাকা এবং জামিন স্বরূপ তার দুই পুত্রকে দিতে বাধ্য হবেন। এছাড়া বিজিত অঞ্চল ইংরাজ, মারাঠা ও নিজামের মধ্যে বন্টিত হল। যে সন্ধির দুটি পক্ষ ছিল একদিকে ছিলেন টিপু সুলতান এবং অপরদিকে ছিলেন ইংরেজ। সময়কালটি ছি...

পঞ্চম সেমিস্টার ইতিহাস মাইনর সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর ।

পঞ্চম সেমিস্টার ইতিহাস মাইনর সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর  ১) শিল্প বিপ্লব কবে কোথায় প্রথম ঘটেছিল?         উত্তর - প্রথম শিল্প বিপ্লব শুরু হয়েছিল ইংল্যান্ডে (গ্রেট ব্রিটেন)। এটি প্রধানত অষ্টাদশ শতকের মাঝামাঝি সময়ে শুরু হয়ে প্রায় ১৭৬০ থেকে ১৮৪০ খ্রিস্টাব্দ-এর মধ্যে ঘটেছিল। ২) কৃষ্ণমৃত্যু কী?            • কৃষ্ণমৃত্যু (Black Death) হলো মানব ইতিহাসের এক ভয়াবহ মহামারি।এটি ছিল মূলত প্লেগ (Plague) রোগ, যা Yersinia pestis নামক ব্যাকটেরিয়ার কারণে সৃষ্টি হয়েছিল।এটি প্রধানত ১৩৪৬ থেকে ১৩৫৩ খ্রিস্টাব্দের মধ্যে ইউরোপ, এশিয়া (ইউরেশিয়া) এবং উত্তর আফ্রিকাজুড়ে ছড়িয়ে পড়েছিল। ৩) কে বলেছিলেন মানুষই সবকিছুর মানদণ্ড?        •এই বিখ্যাত উক্তিটি যিনি করেছিলেন তিনি হলেন প্রাচীন গ্রিসের একজন প্রখ্যাত দার্শনিক, যার নাম প্রোটাগোরাস (Protagoras)।তাঁর মূল বক্তব্যটি ছিল-"মানুষই সবকিছুর মানদণ্ড, যা আছে তারও, আর যা নেই তারও।” ৪) পেত্রাক কেন বিখ্যাত?         •পেত্রাক (Francesco Petrarca) ছিলেন ১৪ শতকের (১৩০৪-১৩৭৪) একজন ...