Skip to main content

ব্রিটেনে(3rd.Sem)রাজশক্তির ক্ষমতা ও পদমর্যাদা আলোচনা করো।

ব্রিটেনে রাজশক্তির ক্ষমতা ও পদমর্যাদা আলোচনা করো।•(পশ্চিমবঙ্গ রাষ্ট্রীয় বিশ্ববিদ্যালয়, তৃতীয় সেমিস্টার, রাষ্ট্রবিজ্ঞান,মাইনর)

ভূমিকাঃ আলোচনা শুরুতেই আমরা বলে রাখি যে, ব্রিটেনের রাজতন্ত্র পৃথিবীর প্রাচীনতম রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠান যা এখনো টিকে আছে।তবে একদা রাজতন্ত্র অবাধ ক্ষমতা ভোগ করলেও বর্তমানে রাজতন্ত্রের ক্ষমতার সীমাবদ্ধ। তত্ত্বগতভাবে ব্রিটেনে রাজা বা রাণী বিপুল ক্ষমতার অধিকারী, কিন্তু বাস্তবে রাজা বা রাণীর ক্ষমতা আনুষ্ঠানিকমাত্র। আসলে সেদেশে রাজা বা রাণী নিয়মতান্ত্রিক শাসক মাত্র।আর সেই রাজা বা রাণীর ক্ষমতার উৎস হলো দুটি--

         ক) রাষ্ট্রপতির বিশেষাধিকার।                                       খ) পার্লামেন্ট কর্তৃক প্রণীত আইন।

আর সেদেশে রাজা বা রাণী যেসব ক্ষমতা ভোগ করেন সেগুলি হলো -

•ক) শাসন সংক্রান্ত ক্ষমতাঃ ব্রিটেনে তত্ত্বগতভাবে সমস্ত শাসন ক্ষমতা ভোগ করেন রাজা বা রাণী। রাজাবা রানীর শাসন সংক্রান্ত ক্ষমতা গুলি হল- আইন সমূহ ঠিক ঠিক ভাবে কার্যকর হচ্ছে কিনা তা লক্ষ্য রাখা, প্রধানমন্ত্রী অন্যান্য মন্ত্রী, শাসন বিভাগের উচ্চপদস্থ কর্মচারী এবং বিচারকদের নিয়োগ করা। বৈদেশিক সম্পর্ক পরিচালনা করা, কূটনৈতিক প্রতিনিধিদের নিয়োগ ও বিদেশে প্রেরণ করা, যুদ্ধ ঘোষণা ও শান্তি স্থাপন করা, আন্তর্জাতিক চুক্তি সম্পাদন করা ইত্যাদি। 

•খ) আইন সংক্রান্ত ক্ষমতাঃ ব্রিটেনের তত্ত্বগতভাবে রাজা রাণী যেসব বিচার সংক্রান্ত ক্ষমতা ভোগ করেন সেগুলি হল-পার্লামেন্ট কর্তৃক পাশ হওয়া বিল অনুমোদন করা অথবা নাকচ করা। পার্লামেন্টের অধিবেশন আহ্বান করা, স্থগিত রাখা এবং প্রয়োজনে পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষ ভেঙে দেওয়া। প্রতি বছর পার্লামেন্টের প্রথম অধিবেশনে একটি অভিবাসন পাঠ করা প্রভৃতি।

•গ)বিচার সংক্রান্ত ক্ষমতাঃ ব্রিটেনের তত্ত্বগতভাবে রাজা বা রাণী যেসব বিচার সংক্রান্ত ক্ষমতা ভোগ করেন সেগুলি হল- রাজা-রাণী বিচারপতিদের নিয়োগ করেন, রাজা বা রানী আদালতের দন্ডাদেশ হ্রাস ও মুকুব করতে পারেন। রাজা বা রানী কমনওয়েলথভুক্ত দেশগুলির আদালত থেকে আসা আপিল মামলা বিচার করতে পারেন। 

•ঘ) ধর্ম সংক্রান্ত ক্ষমতাঃ ব্রিটেনের রাজাবা রাণী হলেন খ্রিস্টান ধর্মের প্রধান।আর সেখানে রাজা বা রাণী প্রধান যাজক ও অন্যান্য যাজকদের নিযুক্ত করেন। চার্চের বিধানগুলি রাজা বা রাণীর অনুমোদন সাপেক্ষে কার্যকর হয়। চার্চের আইনশৃঙ্খলা রক্ষার দায়িত্ব রাজা বা রানীর।

•ঙ) সম্মান বিতরণ সংক্রান্ত ক্ষমতাঃ ব্রিটেনের রাজা বা রাণী সম্মান বিতরণ করেন। রাজা বা রাণী জন্মদিন, নববর্ষ রাজ্যাভিষেক ইত্যাদি উপলক্ষ্যে ব্রিটিশ নাগরিকদের সম্মান বিতরণ করেন। রাজা বা রাণী নাইট, স্যার প্রভৃতি সুপরিচিত সম্মান বা উপাধি বিতরণ করে থাকেন। 

•পদমর্যাদাঃ ব্রিটেনের রাজা বা রাণী পূর্বের মতো ব্যাপক ক্ষমতা ভোগ করেন না। তবে বর্তমানে রাজা বা রাণী ক্ষমতাহীন মহামহিম। তিনি মন্ত্রী সভার পরামর্শ অনুযায়ী কাজ করেন। তবে তিনি রাজত্ব করলেও শাসন করেন না। রাজা-বা রাণীর রাজনৈতিক ভূমিকা কে উপেক্ষা করা যায় না। রাজাবা রানী কিছু কিছু ক্ষেত্রে নিজের বিবেচনা অনুযায়ী কাজ করতে পারেন। তবে সেটা নির্ভর করে রাজা বা রাণীর দক্ষতা ও যোগ্যতার উপর। 

Comments

Popular posts from this blog

একটি সার্থক গীতিকাব্যের পরিচয়।

  একটি সার্থক গীতিকাব্যের পরিচয়-সারদা মঙ্গল               গীতিকাব্য হলো এক ধরনের কবিতা, যার মধ্যে দিয়ে ব্যক্তির আবেগ, অনুভূতি এবং অভিজ্ঞতাগুলিকে ছন্দ ওর সংগীতের মাধ্যমে প্রকাশ করা হয়। তবে এখানে কবিতাগুলি খুবই ছোট আকারের হয়, আর সেখানে কবির ব্যক্তিগত অনুভূতির গভীরতা ও আন্তরিকতা প্রকাশ পায়। আর এই প্রেক্ষিতে আমরা বলতে পারি গীতি কবিতার সংকলন হলো গীতিকাব্য। ব্যঞ্জনাময় ও সংহত ।  গীতিকাব্যের বৈশিষ্ট্য  গীতিকাব্যের কিছু প্রধান বৈশিষ্ট্য নিচে আলোচনা করা হলো: ১. ব্যক্তিগত অনুভূতি ও আবেগ প্রকাশ: এটি গীতিকাব্যের প্রধান বৈশিষ্ট্য। এখানে কবি নিজের ব্যক্তিগত অনুভূতি, প্রেম, বিরহ, আনন্দ বা বিষাদের কথা তুলে ধরেন। ২. সংক্ষিপ্ততা: গীতিকাব্য সাধারণত দীর্ঘ হয় না। অল্প কয়েকটি স্তবকের মধ্যে কবি তাঁর ভাবনা সম্পূর্ণভাবে প্রকাশ করেন। ৩. সুর ও ছন্দের প্রাধান্য: গীতিকাব্য মূলত সুর করে আবৃত্তি করার জন্য রচিত হয়। তাই এতে সুর ও ছন্দের প্রতি বিশেষ মনোযোগ দেওয়া হয়। ৪. আত্মগতভাব: গীতিকাব্যে বাইরের জগতের বর্ণনা না দিয়ে কবির নিজের মনের ভেতরের জগতের প্রতি মনোযোগ ...

চতুর্থ সেমিস্টার জেনারেল ইতিহাস ছোট প্রশ্ন ২০২১

 *১) সুজাউদ্দৌলা কে ছিলেন বা মুর্শিদকুলি খাঁর মৃত্যুর পর কে বাংলার নবাব হন?  উত্তর - সুজা উদ্দৌলা আয়ুধের সুবেদার নবাব ছিলেন। মুর্শিদকুলি খাঁর মৃত্যুর পর তার জামাতা বাংলার নবাব  হন ১৭৫৪-১৭৭৫ খ্রীস্টাব্দ পর্যন্ত। নবাব থাকাকালীন তিনি বক্সারের যুদ্ধ এবং পানিপথের তৃতীয় যুদ্ধে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেছিলেন। *২) কোন সালে রেগুলেটিং আইন জারি করা হয়েছিল? উত্তর - ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির দুর্নীতি দূরীকরণ, গঠন বিন্যাস ও নিয়ন্ত্রণের জন্য ব্রিটিশ সরকার ১৭৭৩ খ্রিস্টাব্দে রেগুলেটিং আইন প্রণয়ন করেন। আর সেই আইনে বলা হয় বাংলা বোম্বাই ও মাদ্রাজে ১ করে কাউন্সিল থাকবে। *৩) শ্রী রঙ্গপত্তমের সন্ধিতে স্বাক্ষরকারী কারা কারা ছিলেন ?কখন এই সন্ধিটি স্বাক্ষরিত হয়েছিল? উত্তর - তৃতীয় ইঙ্গ মহীশূর যুদ্ধের অবসান হয়েছিল শ্রীরঙ্গপত্তমের সন্ধির দ্বারা। আর এই সন্ধিতে ঠিক হয় টিপু সুলতান ইংরেজদের তিন কোটি টাকা এবং জামিন স্বরূপ তার দুই পুত্রকে দিতে বাধ্য হবেন। এছাড়া বিজিত অঞ্চল ইংরাজ, মারাঠা ও নিজামের মধ্যে বন্টিত হল। যে সন্ধির দুটি পক্ষ ছিল একদিকে ছিলেন টিপু সুলতান এবং অপরদিকে ছিলেন ইংরেজ। সময়কালটি ছি...

পঞ্চম সেমিস্টার ইতিহাস মাইনর সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর ।

পঞ্চম সেমিস্টার ইতিহাস মাইনর সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর  ১) শিল্প বিপ্লব কবে কোথায় প্রথম ঘটেছিল?         উত্তর - প্রথম শিল্প বিপ্লব শুরু হয়েছিল ইংল্যান্ডে (গ্রেট ব্রিটেন)। এটি প্রধানত অষ্টাদশ শতকের মাঝামাঝি সময়ে শুরু হয়ে প্রায় ১৭৬০ থেকে ১৮৪০ খ্রিস্টাব্দ-এর মধ্যে ঘটেছিল। ২) কৃষ্ণমৃত্যু কী?            • কৃষ্ণমৃত্যু (Black Death) হলো মানব ইতিহাসের এক ভয়াবহ মহামারি।এটি ছিল মূলত প্লেগ (Plague) রোগ, যা Yersinia pestis নামক ব্যাকটেরিয়ার কারণে সৃষ্টি হয়েছিল।এটি প্রধানত ১৩৪৬ থেকে ১৩৫৩ খ্রিস্টাব্দের মধ্যে ইউরোপ, এশিয়া (ইউরেশিয়া) এবং উত্তর আফ্রিকাজুড়ে ছড়িয়ে পড়েছিল। ৩) কে বলেছিলেন মানুষই সবকিছুর মানদণ্ড?        •এই বিখ্যাত উক্তিটি যিনি করেছিলেন তিনি হলেন প্রাচীন গ্রিসের একজন প্রখ্যাত দার্শনিক, যার নাম প্রোটাগোরাস (Protagoras)।তাঁর মূল বক্তব্যটি ছিল-"মানুষই সবকিছুর মানদণ্ড, যা আছে তারও, আর যা নেই তারও।” ৪) পেত্রাক কেন বিখ্যাত?         •পেত্রাক (Francesco Petrarca) ছিলেন ১৪ শতকের (১৩০৪-১৩৭৪) একজন ...