Skip to main content

শিশু শিক্ষায়(3rd.Sem) পরিবারের ভূমিকা ও গুরুত্ব আলোচনা করো।

শিশু শিক্ষায় পরিবারের ভূমিকা ও গুরুত্ব আলোচনা করো।•(West Bengal State University Education Minor Third Semester)

ভূমিকাঃ আলোচনা শুরুতেই আমরা বলে রাখি যে পরিবার হলো একটি গোষ্ঠী যা যৌন সম্পর্কের ভিত্তিতে গঠিত হয়। এখানে শিশু জন্মলাভ করে এবং প্রতিপালিত হয়। তবে প্রাচীনকাল থেকেই শিশুশিক্ষায় পরিবার বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে এসেছে। আর সেই শিশু শিক্ষায় পরিবারের ভূমিকা হলো-

• নিরাপদ আশ্রয়স্থলঃ শিশুর সুদীর্ঘ শৈশবকাল অতিবাহিত করার জন্য একটি নিরাপদ আশ্রয়স্থল ভীষণ প্রয়োজন। পরিবার শৈশবকালে শিশুকে দৈহিক এবং মানসিক নিরাপত্তা দান করে থাকে। আসলে পরিবার শিশুর দীর্ঘ শৈশবকালীন অসহায়তা ও অজ্ঞতা কাটিয়ে উঠতে সাহায্য করে। 

• সামাজিকীকরণঃ পরিবারের একটি শিক্ষামূলক কাজ হল শিশুর সামাজিকীকরণ। শৈশবে শিশু শুধুমাত্র পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে পারস্পরিক ক্রিয়ার মাধ্যমে সমাজের রীতিনীতি, আচার-আচরণ, মূল্যবোধ সম্পর্কে পরিচিত হয় এবং সেগুলি অনুসরণ করে।

• অভ্যাস গঠনঃ পরিবারের আরেকটি শিক্ষামূলক কাজ হল শিশুর সু অভ্যাস গঠন করা। নির্দিষ্ট স্থানে মলমূত্র ত্যাগ করা, সময়মতো ঘুম থেকে ওঠা, দাঁত মাজা, খাদ্য গ্রহণের আগে ও পরে ভালোভাবে হাতমুখ ধোয়া প্রভৃতি সুঅভ্যাসগুলি শিশু পরিবারের মধ্য থেকেই আয়ত্ত করে থাকে।

• সাংস্কৃতিক শিক্ষাঃ পরিবার হলো সংস্কৃতির মূল কেন্দ্র। পরিবারের সদস্যরা একটি নিজস্ব সংস্কৃতির দ্বারা পরিচালিত হয়। পরিবার যদি শিশু সাহিত্য প্রভৃতিতে খুবই উন্নত হয় তাহলে দেখা যায় যে,সেই পরিবারের শিশুরা ছোট থেকেই শিল্প,সাহিত্যের প্রতি অনুরাগ প্রকাশ করে।

• প্রাক্ষোভিক বিকাশঃ শিশুর প্রাক্ষোভিক বিকাশের প্রাথমিক ক্ষেত্র হলো পরিবার। শিশু পরিবারের সহজ ও স্বাভাবিক পরিবেশে প্রাকৃতিক প্রতিক্রিয়াগুলিকে প্রকাশ করতে শেখে। আর পরিবারের মধ্যে শিশুর শেখে কোন প্রাক্ষোভিক গুলি সমাজে অচল এবং কোনগুলি অতি প্রয়োজনীয়।

• আধ্যাত্মিক বিকাশঃ পরিবারের মধ্যেই শিশুর ধর্মীয় ও আধ্যাত্মিক জীবনের বিকাশ হয়। কিছু পরিবারের অন্যান্য বয়স্ক মানুষের সাথে সামাজিক বিভিন্ন ধর্মীয় অনুষ্ঠানে যোগ দেয়। আর তার ফলে শিশুর আধ্যাত্মিক জীবনের বিকাশ ঘটে।

• বৃত্তিমূলক শিক্ষাঃ পরিবারের মধ্যে শিশু বৃত্তিমূলক শিক্ষা লাভ করে। শিশু যে পারিবারিক বৃত্তির পরিমণ্ডলে বড় হয় সেই পারিবারিক বৃত্তির সাথে যুক্ত হয়ে পড়ে।

ঠিক এরূপ অসংখ্য বিষয়ভিত্তিক আলোচনা সাজেশন এবং ভিডিও পেতে ভিজিট করুন আমাদের SHESHER KOBITA SUNDORBON YOUTUBE CHANNEL 


Comments

Popular posts from this blog

একটি সার্থক গীতিকাব্যের পরিচয়।

  একটি সার্থক গীতিকাব্যের পরিচয়-সারদা মঙ্গল               গীতিকাব্য হলো এক ধরনের কবিতা, যার মধ্যে দিয়ে ব্যক্তির আবেগ, অনুভূতি এবং অভিজ্ঞতাগুলিকে ছন্দ ওর সংগীতের মাধ্যমে প্রকাশ করা হয়। তবে এখানে কবিতাগুলি খুবই ছোট আকারের হয়, আর সেখানে কবির ব্যক্তিগত অনুভূতির গভীরতা ও আন্তরিকতা প্রকাশ পায়। আর এই প্রেক্ষিতে আমরা বলতে পারি গীতি কবিতার সংকলন হলো গীতিকাব্য। ব্যঞ্জনাময় ও সংহত ।  গীতিকাব্যের বৈশিষ্ট্য  গীতিকাব্যের কিছু প্রধান বৈশিষ্ট্য নিচে আলোচনা করা হলো: ১. ব্যক্তিগত অনুভূতি ও আবেগ প্রকাশ: এটি গীতিকাব্যের প্রধান বৈশিষ্ট্য। এখানে কবি নিজের ব্যক্তিগত অনুভূতি, প্রেম, বিরহ, আনন্দ বা বিষাদের কথা তুলে ধরেন। ২. সংক্ষিপ্ততা: গীতিকাব্য সাধারণত দীর্ঘ হয় না। অল্প কয়েকটি স্তবকের মধ্যে কবি তাঁর ভাবনা সম্পূর্ণভাবে প্রকাশ করেন। ৩. সুর ও ছন্দের প্রাধান্য: গীতিকাব্য মূলত সুর করে আবৃত্তি করার জন্য রচিত হয়। তাই এতে সুর ও ছন্দের প্রতি বিশেষ মনোযোগ দেওয়া হয়। ৪. আত্মগতভাব: গীতিকাব্যে বাইরের জগতের বর্ণনা না দিয়ে কবির নিজের মনের ভেতরের জগতের প্রতি মনোযোগ ...

পঞ্চম সেমিস্টার ইতিহাস মাইনর সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর ।

পঞ্চম সেমিস্টার ইতিহাস মাইনর সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর  ১) শিল্প বিপ্লব কবে কোথায় প্রথম ঘটেছিল?         উত্তর - প্রথম শিল্প বিপ্লব শুরু হয়েছিল ইংল্যান্ডে (গ্রেট ব্রিটেন)। এটি প্রধানত অষ্টাদশ শতকের মাঝামাঝি সময়ে শুরু হয়ে প্রায় ১৭৬০ থেকে ১৮৪০ খ্রিস্টাব্দ-এর মধ্যে ঘটেছিল। ২) কৃষ্ণমৃত্যু কী?            • কৃষ্ণমৃত্যু (Black Death) হলো মানব ইতিহাসের এক ভয়াবহ মহামারি।এটি ছিল মূলত প্লেগ (Plague) রোগ, যা Yersinia pestis নামক ব্যাকটেরিয়ার কারণে সৃষ্টি হয়েছিল।এটি প্রধানত ১৩৪৬ থেকে ১৩৫৩ খ্রিস্টাব্দের মধ্যে ইউরোপ, এশিয়া (ইউরেশিয়া) এবং উত্তর আফ্রিকাজুড়ে ছড়িয়ে পড়েছিল। ৩) কে বলেছিলেন মানুষই সবকিছুর মানদণ্ড?        •এই বিখ্যাত উক্তিটি যিনি করেছিলেন তিনি হলেন প্রাচীন গ্রিসের একজন প্রখ্যাত দার্শনিক, যার নাম প্রোটাগোরাস (Protagoras)।তাঁর মূল বক্তব্যটি ছিল-"মানুষই সবকিছুর মানদণ্ড, যা আছে তারও, আর যা নেই তারও।” ৪) পেত্রাক কেন বিখ্যাত?         •পেত্রাক (Francesco Petrarca) ছিলেন ১৪ শতকের (১৩০৪-১৩৭৪) একজন ...

অবক্ষয় যুগ। অষ্টাদশ-ঊনবিংশ শতাব্দীর সন্ধিক্ষণে বাঙালির অবক্ষয় যুগের পরিচয় দাও। এই সময়ে টপ্পা ও আখড়াই গানের উদ্ভব ও জনপ্রিয়তার সামাজিক কারণগুলি আলোচনা করো।

অবক্ষয় যুগ। অষ্টাদশ-ঊনবিংশ শতাব্দীর সন্ধিক্ষণে বাঙালির অবক্ষয় যুগের পরিচয় দাও। এই সময়ে টপ্পা ও আখড়াই গানের উদ্ভব ও জনপ্রিয়তার সামাজিক কারণগুলি আলোচনা করো। পশ্চিমবঙ্গ রাষ্ট্রীয় বিশ্ববিদ্যালয় প্রথম সেমিস্টার বাংলা মাইনর।ইউনিট ৪।   অবক্ষয় যুগের পরিচয় এবং টপ্পা ও আখড়াই গানের সামাজিক কারণ ও অবক্ষয় যুগের পরিচয়          আমরা জানি যে,১৭৫৭ খ্রিস্টাব্দে পলাশীর যুদ্ধের পর থেকে ঊনবিংশ শতাব্দীর প্রথমার্ধ (১৮৫০ খ্রি.) পর্যন্ত সময়কালকে বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে 'অবক্ষয় যুগ' বা 'সন্ধিযুগ' বলা হয়।আর এটি ছিল মধ্যযুগের দেবনির্ভরতার অবসান এবং আধুনিক যুগের মানবতাবোধের সূচনার মধ্যবর্তী এক ক্রান্তিকাল।যেখানে এই সময়কালের প্রধান বৈশিষ্ট্যগুলি  নিম্নরূপে আলোচনা করা যেতে পারে-        •রাজনৈতিক অস্থিরতাঃ নবাবী শাসনের পতন এবং ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির দেওয়ানি লাভের ফলে বাংলার পুরনো শাসন ও অর্থনৈতিক কাঠামো ভেঙে পড়ে।      •'বাবু' সংস্কৃতির উদয়ঃ ছিয়াত্তরের মন্বন্তর (১১৭৬ বঙ্গাব্দ) এবং চিরস্থায়ী বন্দোবস্তের (১৭৯৩ খ্রি.) ফলে গ্রামীণ বনেদি সমাজ ধ্...