Skip to main content

লালন (XI,প্রশ্নোত্তর) শাহ্ ফকিরের গান কবিতার বড় প্রশ্ন।

•প্রশ্নঃ লালন শাহ ফকিরের গান কবিতায় বাউল সাধনার মানবতত্ত্বের  যে পরিচয় পাওয়া যায় তা আলোচনা করো।

উত্তরঃ বাংলা সাহিত্যের বাউল গানের শ্রেষ্ঠ রচয়িতা হলেন লালন শাহ্ ফকির। আর সেই কবিতায় যেভাবে বাউল সাধনার মানবতত্বের কথা তুলে ধরা হয়েছে তাহলো-

   লালন শাহ ফকিরের গান কবিতায়  মানবতার জয়গান করা হয়েছে। আসলে বাউল সম্প্রদায়ের সাধকরা বিশ্বাস করতেন যে, এ মানবদেহের মধ্যে সব তত্ত্ব ও সত্য লুকিয়ে আছে। তাই কবি মানুষ ভজনার কথা এখানে বারেবারে বলেছেন। কারণ মানুষের মনের মধ্যে ঈশ্বরের সন্ধান পাওয়া যায়। তাই কবি সর্বমানবতার উপর সর্বাধিক গুরুত্ব আরোপ করেছেন। শুধু তাই নয়-

     আলোচ্য কবিতাটিতে বেশ কয়েকবার সোনার মানুষের কথা বলেছেন। তিনি আরো বলেন যে মানতত্ত্ব সম্পর্কে বিশেষ জ্ঞান না থাকলে বা মানুষকে উপেক্ষা করলে মানবতার মূল হারাতে হবে। আর এই মানবসত্য গুরুর কৃপা পেলেই তা জানা সম্ভব। আসলে মানবজীবন 'সোনার মানুষ' ছাড়া অপরিপূর্ণ। আর এটাই আলোচ্য কবিতায় বাউল সাধনার মানবতত্ত্ব। 

•প্রশ্নঃ"মানুষ ভজলে সোনার মানুষ হবি", বক্তা কে? সোনার মানুষ বলতে কাকে বোঝানো হয়েছে? বিষয়টি বিশ্লেষণ করো।

উত্তরঃআলোচ্য উদ্ধৃতাংশটির বক্তা হলেন- বাংলা সাহিত্যের বাউল গানের শ্রেষ্ঠ রচয়িতা লালন শাহ ফকির। আর এখানে সোনার মানুষ বলতে বোঝানো হয়েছে বাউল সম্প্রদায়ের সাধনার 'মনের মানুষ' অর্থাৎ ঈশ্বরকে।

           আলোচ্য অংশটির মধ্য দিয়ে কবি লালন সহ ফকির মানুষকে ভজনা করতে বলেছেন। কারণ সর্ব মানবতাবাদের সাথেই বাউলদের আত্মতত্ত্বের ধারণা জুড়ে আছে। আর সেখানে শুদ্ধ মানুষ আছে মনের ভিতরে। তাই কবি মানুষের ভজনা করলেই সোনার মানুষ হওয়া বা পাওয়া যায় একথা বারে বারে বলেছেন। আর বাউল সম্প্রদায়ের সাধকদের এই মনের মানুষই হলো মানবতত্ত্বের প্রধান বিষয়।

•প্রশ্নঃ লালন শাহ  ফকিরের গান কবিতায় কবি যে দেহতত্ত্বের কথা বলেছেন তা নিজের ভাষায় লেখো।

উত্তরঃবাউল সাধকরা মানুষের মনের মধ্যেই ঈশ্বরের সন্ধান করেছেন। তাই আলোচ্য কবিতাটিতে সর্বমানবতার উপর অধিক কবি গুরুত্ব দিয়েছেন। কারণ এখানে কবি নিজেই বলেছেন- 

       'মানুষ ভজলে সোনার মানুষ হবি'। 

শুধু তাই নয়-

        বাউল সম্প্রদায়ের মধ্যে একটি বিশেষ অংশ জুড়ে আছে আত্মতত্ত্ব। তাই আলোচ্য অংশে দেখা যায় যে, 'মনের মানুষ' এর সন্ধান মনের ভেতরেই পাওয়া যায়। অর্থাৎ মনের মানুষ আছে নিজের মনের মধ্যেই।আসলে-

       আলোচ্য কবিতাটিতে বাউল সাধনার অসংখ্য পদ বা অনুষঙ্গ আছে। আর সেখানে আমরা দেখতে পাই দ্বি-দলের-মৃণাল, আলোক লতা প্রভৃতি পদ বা অনুসঙ্গ। আর ঐ সকল অনুসঙ্গের মধ্যে দিয়ে কবি আলোচ্য কবিতাটির মধ্যে দেহতত্ত্বের কথা তুলে ধরেছেন।

•প্রশ্নঃ "দেখ না যেমন আলোক লতা"-আলোচ্য অংশটির বক্তা কে? আলোক লতা বলতে এখানে কি বলা হয়েছে? তাৎপর্য বিশ্লেষণ করো।

উত্তরঃআলোচ্য অংশটির বক্তা হলেন কবি লালন শাহ ফকির। আর এখানে 'আলোক লতা' বলতে বোঝানো হয়েছে স্বর্ণলতাকে।

           আলোচ্য অংশটি বিশ্লেষণ করলে আমরা দেখতে পাই যে, স্বর্ণলতা আসলে একটি পরজীবী উদ্ভিদ। যে উদ্ভিদটি বেড়ে উঠে অন্য কোন গাছকে আশ্রয় করে। ঠিক তেমনিই লালন ফকিরের মতানুসারে বাউল সম্প্রদায়ের সাধকরা এই মানব দেহকে কেন্দ্র করেই স্বর্ণলতার মতো মনের মানুষ তথা সোনার মানুষকে নিরন্তর খুঁজে চলেছেন। আর সেখানে দেহ সাধনা হল-বাউল সাধনা। আর এই তত্ত্বে বাউল সম্প্রদায় ছিলেন প্রবল বিশ্বাসী। তবে এই ঈশ্বরকে বুঝতে বা জানতে হলে গুরুর প্রয়োজন আছে।কারণ গুরুর দেখানো পথেই মনের মানুষ র  কাছে আসা যায়। আর এই প্রসঙ্গে কবি 'আলোক লতার' কথা বলেছেন।

Comments

Popular posts from this blog

একটি সার্থক গীতিকাব্যের পরিচয়।

  একটি সার্থক গীতিকাব্যের পরিচয়-সারদা মঙ্গল               গীতিকাব্য হলো এক ধরনের কবিতা, যার মধ্যে দিয়ে ব্যক্তির আবেগ, অনুভূতি এবং অভিজ্ঞতাগুলিকে ছন্দ ওর সংগীতের মাধ্যমে প্রকাশ করা হয়। তবে এখানে কবিতাগুলি খুবই ছোট আকারের হয়, আর সেখানে কবির ব্যক্তিগত অনুভূতির গভীরতা ও আন্তরিকতা প্রকাশ পায়। আর এই প্রেক্ষিতে আমরা বলতে পারি গীতি কবিতার সংকলন হলো গীতিকাব্য। ব্যঞ্জনাময় ও সংহত ।  গীতিকাব্যের বৈশিষ্ট্য  গীতিকাব্যের কিছু প্রধান বৈশিষ্ট্য নিচে আলোচনা করা হলো: ১. ব্যক্তিগত অনুভূতি ও আবেগ প্রকাশ: এটি গীতিকাব্যের প্রধান বৈশিষ্ট্য। এখানে কবি নিজের ব্যক্তিগত অনুভূতি, প্রেম, বিরহ, আনন্দ বা বিষাদের কথা তুলে ধরেন। ২. সংক্ষিপ্ততা: গীতিকাব্য সাধারণত দীর্ঘ হয় না। অল্প কয়েকটি স্তবকের মধ্যে কবি তাঁর ভাবনা সম্পূর্ণভাবে প্রকাশ করেন। ৩. সুর ও ছন্দের প্রাধান্য: গীতিকাব্য মূলত সুর করে আবৃত্তি করার জন্য রচিত হয়। তাই এতে সুর ও ছন্দের প্রতি বিশেষ মনোযোগ দেওয়া হয়। ৪. আত্মগতভাব: গীতিকাব্যে বাইরের জগতের বর্ণনা না দিয়ে কবির নিজের মনের ভেতরের জগতের প্রতি মনোযোগ ...

ষষ্ঠ সেমিস্টার বাংলা অনার্স (DSE3/4) সাজেশন ২০২৫

       West Bengal State University                                       BA Honours, 6th Semester                                         SUGGESTION 2025                                                      BNGA,DSE05T( DSE3/4)  • বাংলা কথাসাহিত্যঃ মন্বন্তর, দাঙ্গা ও দেশভাগ• একক-১(২০২১) ক) দেশভাগের ইতিহাসের বাস্তব রূপ বাংলা সাহিত্যে  কীভাবে প্রকাশ পেয়েছে কয়েকটি উপন্যাস অনুসরণে তার পরিচয় দাও। • ১৯৪৬ দাঙ্গা রাজনীতির ট্রাজেডি বাংলা ছোটগল্পের পরিসরে কিভাবে এসেছে, সংশ্লিষ্ট কয়েকটি রচনা অবলম্বনে আলোচনা করো। (২০২২) পঞ্চাশের মন্বন্তরের বাস্তব বর্ণনা করে বাংলা উপন্যাসে তার কতটা প্রতিফলন ঘটেছে, সে বিষয়ে আলোকপাত করো। •দেশভাগের ক...

ইতিহাস (3rd Semester) সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর।

 তৃতীয় সেমিস্টার ইতিহাস মাইনর সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর (পশ্চিমবঙ্গ রাষ্ট্রীয় বিশ্ববিদ্যালয়, তৃতীয় সেমিস্টার ইতিহাস মাইনর)। ১)বন্দেগান-ই-চাহালগানি বলতে কী বোঝায়? •উত্তরঃবন্দেগান-ই-চাহালগান বলতে চল্লিশ জন তুর্কি ও অ-তুর্কি দাসদের সমন্বয়ে গঠিত একটি বাহিনীকে বোঝায়। এই বাহিনীকে ডাল চালিশা বা তুরকান-ই- চাহালগানি নামে ডাকা হতো। ২)আমির খসরু কে ছিলেন? •উত্তরঃ আমির খসরু ছিলেন প্রখ্যাত সুফি সাধক বা আরেফ নিজামউদ্দিন আওলিয়ার ছাত্র এবং অন্যতম প্রধান খলিফা। যাঁকে 'ভারতের তোতা' উপাধি দেওয়া হয়েছিল। ৩) মহরানা প্রতাপ কে ছিলেন?  •উত্তরঃ মেবারের শিশোদিয়া রাজবংশের একজন হিন্দু রাজপুত রাজা ছিলেন মহারানা প্রতাপ সিং। যিনি রাজপুতদের বীরত্ব ও দৃঢ় সংকল্পের প্রতীক। বহু বছর ধরে তিনি মুঘল সম্রাট আকবরের সঙ্গে লড়াই করেন। ৪) জায়গীরদারী সংকট কী? •উত্তরঃ জায়গিরদারী সংকট ছিল মোগল সাম্রাজ্যের একটি অর্থনৈতিক সংকট। এই সংকটে জমি বা জায়গিরের অভাব দেখা দিয়েছিল। যার ফলে প্রশাসনিক খরচ মেটানো এবং যুদ্ধের খরচ বহন করা সম্ভব হতো না। ৫) দাক্ষিণাত্য ক্ষত কী? •উত্তরঃ দাক্ষিণাত্য ক্ষত বলতে ঔরঙ্গজেবের দাক্ষিণাত্য নীত...