Skip to main content

খেলাভিত্তিক(1st.Sem) শিক্ষার বৈশিষ্ট্য গুলি কী কী? খেলাভিত্তিক শিক্ষার উপযোগিতা আলোচনা করো।

খেলাভিত্তিক শিক্ষার বৈশিষ্ট্য গুলি কী কী?খেলাভিত্তিক শিক্ষার উপযোগিতা আলোচনা করো। •অথবা• খেলাভিত্তিক শিক্ষার বৈশিষ্ট্য উল্লেখ করো। খেলার বৈশিষ্ট্যকে কিভাবে শিক্ষার সাথে সংযুক্ত করা যায়? আলোচনা করো( পশ্চিমবঙ্গ রাষ্ট্রীয় বিশ্ববিদ্যালয়/কলিকাতা বিশ্ববিদ্যালয়,প্রথম সেমিস্টার এডুকেশন মাইনর)

        •খেলাভিত্তিক শিক্ষার বৈশিষ্ট্যঃ কল্ডওয়েল কুক সর্বপ্রথম শিক্ষা জগতে 'খেলাভিত্তিক শিক্ষা' কথাটি ব্যবহার করেন। তিনি খেলার মাধ্যমে শিশুদের শিক্ষাদান করতে পছন্দ করতেন।আর সেখানে অভিনয়,বিতর্ক,আলোচনা সভা ইত্যাদির মাধ্যমে শিশুরা কিভাবে বিভিন্ন বিষয়ের উপর জ্ঞান লাভ করতে পারে তা তিনি তাঁর বিদ্যালয়ে প্রয়োগ করে দেখিয়েছেন। তবে-            শিক্ষা জগতে কুক খেলাভিত্তিক শিক্ষা কথাটি ব্যবহার করলেও এই ধারণাটি একেবারেই নতুন নয়। আধুনিক কালে গঠিত কিন্ডারগার্ডেন শিক্ষণ পদ্ধতি মন্তেসরী শিক্ষণ পদ্ধতি, প্রজেক্ট পদ্ধতি, ডাল্টন প্ল্যান ইত্যাদি শিক্ষণ পদ্ধতিগুলির ভিত্তি হল শিক্ষায় ক্রীড়াচ্ছল। কারণ-

             উপরিউক্ত পদ্ধতিতে শিশুর খেলার প্রবৃত্তিকে সম্পূর্ণভাবে ব্যবহার করা হয়েছে। শিশুর শিক্ষাকে তার খেলার মতোই আনন্দময় করে তোলার দিকেই এই শিখন পদ্ধতিগুলিতে তাদের দৃষ্টি নিবন্ধ করা হয়েছে। আধুনিক শিক্ষা ক্ষেত্রে যে সকল শিক্ষণ পদ্ধতির উদ্ভব হয়েছে, সেগুলি বিশ্লেষণের মাধ্যমে স্যার জন অ্যাডামস দেখিয়েছেন যে সবকটির ভিত্তিই হল শিশুর ক্রিয়াশীলতা। কারণ আধুনিক শিক্ষণ পদ্ধতিগুলি হল সাধারণত খেলা ভিত্তিক অর্থাৎ খেলার মৌলিক দিক গুলি সকলের মধ্যেই নিহিত।তবে-

     প্রকৃতিবাদী রুশো, ফ্রয়েবেল,মন্টেসরি, রবীন্দ্রনাথ প্রমুখ শিক্ষাবিদ শিক্ষাক্ষেত্রে খেলার বৈশিষ্ট্য গুলি থাকা জরুরি বলে মনে করেন। তাই বর্তমান শিশুকেন্দ্রিক শিক্ষায় যে বৈশিষ্ট্য গুলি পরিলক্ষিত হয় সেগুলি হল-

১) খেলা স্বতঃস্ফূর্ত সৃজনাত্মক কাজ বলে শিশুদের আগ্রহ দেখা যায়। কাজেই শিক্ষাকে আগ্রহভিত্তিক করতে হলে খেলার বৈশিষ্ট্য গুলি শিক্ষায় প্রয়োগ করতে হবে।

২) খেলা এবং শিক্ষা উভয়ই সৃজনধর্মী কাজ হওয়ায় খেলাটি যদি শিক্ষায় বুক করা হয় তাহলে শিক্ষার্থীর সিজন স্পৃহা পরিতৃপ্ত হয়। সৃষ্টির আনন্দের তার অন্তর থেকে নতুন কিছু সৃষ্টির প্রেরণা জাগ্রত হয়। যার ফলস্বরূপ ব্যক্তি কল্যাণ এবং সমাজকল্যাণ সাধিত হয়। 

৩) খেলাভিত্তিক শিক্ষা শিক্ষার্থীকে ভবিষ্যৎ জীবনের উপযোগী করে গড়ে তুলতে সাহায্য করে। বিদ্যালয়ের স্বতঃস্ফূর্ত আনন্দময় পরিবেশে শিক্ষা লাভের ফলে শিক্ষার্থী কর্মজীবনের বৃহত্তম পরিবেশে সহজে সামঞ্জস্য রক্ষা করতে পারে। 

৪) খেলার মাধ্যমে শিশুর দেহ ও মনের বিকাশ সাধন ঘটে। শিশুর সঠিক বিকাশ সাধন শিশু কেন্দ্রিক শিক্ষার উদ্দেশ্য হওয়ায় শিক্ষাবৃত্তির ধারণা যে শিক্ষায় খেলার সংযুক্তি অতি জরুরী।

        •খেলাভিত্তিক শিক্ষার উপযোগিতা•

১)খেলাভিত্তিক শিক্ষা শিশুর স্বতঃস্ফূর্ত আনন্দের অনুকূলে হয় এবং এখানে অবাধ স্বাধীনতা থাকে বলে এটি শিশুর কাছে অত্যন্ত আকর্ষণীয় হয়।

২) খেলাভিত্তিক শিক্ষার মাধ্যমে শিশু যে অভিজ্ঞতা অর্জন করে তা দীর্ঘস্থায়ী হওয়ায় এটি শিখন ও সংরক্ষণ প্রক্রিয়ার সহায়ক।

৩) খেলাভিত্তিক শিক্ষা ব্যবস্থায় শিশু নিজ হাতে কাজ করতে পারে বলে তার মধ্যে বিষয়টি সম্বন্ধে সম্যক ধারণা সৃষ্টি হয়।

৪) খেলাভিত্তিক শিক্ষায় স্বাধীনভাবে কাজের সুযোগ থাকায় শিশুর মধ্যে দায়িত্ববোধ জাগ্রত হয়। 

৫) খেলাভিত্তিক শিক্ষা শিশুর মধ্যে থেকে ভয়,ঘৃণা প্রভৃতি ক্ষতিকর প্রক্ষোপ দূরীকরণে সহায়তা করে।

৬) খেলাভিত্তিক শিক্ষা ব্যবস্থায় শিশুরা খেলার মাধ্যমে ও নিজ হাতে কাজ করার সুযোগ পায় বলে তার মধ্যে কৌতূহল,সংরক্ষণ প্রভৃতি প্রবৃত্তি গুলি বিকশিত হয়।

৭) প্রাথমিক স্তরের খেলাভিত্তিক শিক্ষা অত্যন্ত উপযোগী। কারণ এখানে অনুকরণমূলক শিখনের সুযোগ আছে। 

৮) স্বল্পবুদ্ধি সম্পন্ন শিশুরা খেলাভিত্তিক শিক্ষার মাধ্যমে সহজেই শিক্ষালাভ করতে পারে।

ঠিক এরূপ অসংখ্য বিষয়ভিত্তিক আলোচনা সাজেশন ব্যাখ্যা এবং টিউটোরিয়াল ক্লাসের ভিডিও পেতে ভিজিট করুন আমাদের 'SHESHER KOBITA SUNDORBON'  youtube channel.


Comments

Popular posts from this blog

একটি সার্থক গীতিকাব্যের পরিচয়।

  একটি সার্থক গীতিকাব্যের পরিচয়-সারদা মঙ্গল               গীতিকাব্য হলো এক ধরনের কবিতা, যার মধ্যে দিয়ে ব্যক্তির আবেগ, অনুভূতি এবং অভিজ্ঞতাগুলিকে ছন্দ ওর সংগীতের মাধ্যমে প্রকাশ করা হয়। তবে এখানে কবিতাগুলি খুবই ছোট আকারের হয়, আর সেখানে কবির ব্যক্তিগত অনুভূতির গভীরতা ও আন্তরিকতা প্রকাশ পায়। আর এই প্রেক্ষিতে আমরা বলতে পারি গীতি কবিতার সংকলন হলো গীতিকাব্য। ব্যঞ্জনাময় ও সংহত ।  গীতিকাব্যের বৈশিষ্ট্য  গীতিকাব্যের কিছু প্রধান বৈশিষ্ট্য নিচে আলোচনা করা হলো: ১. ব্যক্তিগত অনুভূতি ও আবেগ প্রকাশ: এটি গীতিকাব্যের প্রধান বৈশিষ্ট্য। এখানে কবি নিজের ব্যক্তিগত অনুভূতি, প্রেম, বিরহ, আনন্দ বা বিষাদের কথা তুলে ধরেন। ২. সংক্ষিপ্ততা: গীতিকাব্য সাধারণত দীর্ঘ হয় না। অল্প কয়েকটি স্তবকের মধ্যে কবি তাঁর ভাবনা সম্পূর্ণভাবে প্রকাশ করেন। ৩. সুর ও ছন্দের প্রাধান্য: গীতিকাব্য মূলত সুর করে আবৃত্তি করার জন্য রচিত হয়। তাই এতে সুর ও ছন্দের প্রতি বিশেষ মনোযোগ দেওয়া হয়। ৪. আত্মগতভাব: গীতিকাব্যে বাইরের জগতের বর্ণনা না দিয়ে কবির নিজের মনের ভেতরের জগতের প্রতি মনোযোগ ...

ষষ্ঠ সেমিস্টার বাংলা অনার্স (DSE3/4) সাজেশন ২০২৫

       West Bengal State University                                       BA Honours, 6th Semester                                         SUGGESTION 2025                                                      BNGA,DSE05T( DSE3/4)  • বাংলা কথাসাহিত্যঃ মন্বন্তর, দাঙ্গা ও দেশভাগ• একক-১(২০২১) ক) দেশভাগের ইতিহাসের বাস্তব রূপ বাংলা সাহিত্যে  কীভাবে প্রকাশ পেয়েছে কয়েকটি উপন্যাস অনুসরণে তার পরিচয় দাও। • ১৯৪৬ দাঙ্গা রাজনীতির ট্রাজেডি বাংলা ছোটগল্পের পরিসরে কিভাবে এসেছে, সংশ্লিষ্ট কয়েকটি রচনা অবলম্বনে আলোচনা করো। (২০২২) পঞ্চাশের মন্বন্তরের বাস্তব বর্ণনা করে বাংলা উপন্যাসে তার কতটা প্রতিফলন ঘটেছে, সে বিষয়ে আলোকপাত করো। •দেশভাগের ক...

ইতিহাস (3rd Semester) সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর।

 তৃতীয় সেমিস্টার ইতিহাস মাইনর সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর (পশ্চিমবঙ্গ রাষ্ট্রীয় বিশ্ববিদ্যালয়, তৃতীয় সেমিস্টার ইতিহাস মাইনর)। ১)বন্দেগান-ই-চাহালগানি বলতে কী বোঝায়? •উত্তরঃবন্দেগান-ই-চাহালগান বলতে চল্লিশ জন তুর্কি ও অ-তুর্কি দাসদের সমন্বয়ে গঠিত একটি বাহিনীকে বোঝায়। এই বাহিনীকে ডাল চালিশা বা তুরকান-ই- চাহালগানি নামে ডাকা হতো। ২)আমির খসরু কে ছিলেন? •উত্তরঃ আমির খসরু ছিলেন প্রখ্যাত সুফি সাধক বা আরেফ নিজামউদ্দিন আওলিয়ার ছাত্র এবং অন্যতম প্রধান খলিফা। যাঁকে 'ভারতের তোতা' উপাধি দেওয়া হয়েছিল। ৩) মহরানা প্রতাপ কে ছিলেন?  •উত্তরঃ মেবারের শিশোদিয়া রাজবংশের একজন হিন্দু রাজপুত রাজা ছিলেন মহারানা প্রতাপ সিং। যিনি রাজপুতদের বীরত্ব ও দৃঢ় সংকল্পের প্রতীক। বহু বছর ধরে তিনি মুঘল সম্রাট আকবরের সঙ্গে লড়াই করেন। ৪) জায়গীরদারী সংকট কী? •উত্তরঃ জায়গিরদারী সংকট ছিল মোগল সাম্রাজ্যের একটি অর্থনৈতিক সংকট। এই সংকটে জমি বা জায়গিরের অভাব দেখা দিয়েছিল। যার ফলে প্রশাসনিক খরচ মেটানো এবং যুদ্ধের খরচ বহন করা সম্ভব হতো না। ৫) দাক্ষিণাত্য ক্ষত কী? •উত্তরঃ দাক্ষিণাত্য ক্ষত বলতে ঔরঙ্গজেবের দাক্ষিণাত্য নীত...