Skip to main content

গীতগোবিন্দ কাব্য(6th.Sem) অবলম্বনে কবি জয়দেবের কাব্য প্রতিভা আলোচনা করো।

গীতগোবিন্দ কাব্য অবলম্বনে কবি জয়দেবের কাব্য প্রতিভা আলোচনা করো।

          আলোচনার শুরুতেই আমরা বলে রাখি যে,কবি জয়দেব বাঙালি কবি, 'গীতগোবিন্দ' র কাব্যের কবি।তবে তিনি বাঙালি কবি হয়েও তাঁর কবি খ্যাতি আসমুদ্র হিমাচল পর্যন্ত পরিব্যাপ্ত।আর সেকারণেই কবি জয়দেব আজও প্রতি ঘরে ঘরে শ্রদ্ধার সাথে, ভক্তির সাথে পূজিত। কারণ তাঁর একখানি কাব্যই তাঁকে সাহিত্যের দরবারে অমরত্ব দান করেছে। তবে--

         গীতগোবিন্দ সংস্কৃত কাব্য, যেখানে গীত রচনাই প্রাধান্য পেয়েছে। তবে বলে রাখা ভালো যে, কবি জয়দেবের পূর্বে সংস্কৃত সাহিত্যে আর কেউ এই সংগীতমূলক সংস্কৃত কাব্য রচনা করেননি। পাশাপাশি একথাও উল্লেখযোগ্য যে, জয়দেবের পরেও সংস্কৃত সাহিত্যে তেমন কোন উল্লেখযোগ্য রচনা সাহিত্য দরবারে জায়গা করে নিতে পারেনি। আর এদিক থেকে বলা যেতে পারে- কবি জয়দেব সংস্কৃত সাহিত্যের উল্লেখযোগ্য অন্যতম এবং শেষ কবি। যিনি লক্ষণ সেনের যে পাঁচটি রত্ন, তাঁর সভা আলোকিত করে থাকতেন। তাই -

         কালের বিচারে কবি জয়দেব সংস্কৃত সাহিত্যের অবক্ষয় যুগের কবি। কিন্তু প্রতিভা এবং জনপ্রিয়তার বিচারে সর্বভারতীয় প্রেক্ষাপটে মহাকবি কালিদাসের পরই যে তাঁর আসন,সে বিষয়ে কোন সন্দেহর অবকাশ নেই। আসলে জয়দেবের আবির্ভাব কালটি ভারতীয় সাহিত্যের ইতিহাসে এক যুগসন্ধিকাল। যে কালে মধ্যযুগের অন্তে তখন নবযুগের আবির্ভাবস্চিত হচ্ছে। আর ঠিক সেই সময়ে-

      নব্য ভারতীয় আর্যভাষা সমূহ তথা ভারতের আঞ্চলিক ভাষাসমূহ তখন আত্মপ্রকাশের পথে। ঠিক তখন সংস্কৃত ভাষা উচ্চ সমাজে কোন প্রকারে বেঁচেবর্তে আছে মাত্র। আর ঠিক সেই সময়ই আবির্ভূত হলেন কবি জয়দেব। যিনি ক্ষয়িষ্ণু সংস্কৃত সাহিত্যে নিয়ে এলেন নতুন যুগের ধ্বনি। যেখানে সংস্কৃত সাহিত্যের পতন দশায় কবি 'গীতগোবিন্দম' এর মাধ্যমে শেষবারের মতো উজ্জ্বল আলো সামনে তুলে ধরলেন। আর সেখানে আমরা দেখি-

        গীতগোবিন্দ কাব্যখানি দ্বাদশ সর্গে রচিত। যেখানে আছে ২৪ টি গানের একটি পালা। এছাড়াও কাহিনীতে আছে বিভিন্ন ছন্দে রচিত বেশ কতকগুলি শ্লোক। আর এই গান বা শ্লোকগুলি কৃষ্ণ,রাধা বা কোন এক সখীর উক্তি রুপে সমগ্র কাব্যে ব্যবহৃত হয়েছে। যার ফলে কাব্যটি একটি নাটকের পালায় আকার ধারণ করে। তবে বারটি স্বর্গের একটি ভিন্ন ভিন্ন নাম আছে, যে নামগুলি বিশেষ অর্থবহ এবং তাৎপর্যপূর্ণ। আর সেখানে সেই কাব্যে আমরা দেখি-

          বসন্তকাল সমাগত। প্রেমলীলার পরম নায়ক শ্রীকৃষ্ণ ও পরম নায়িকা রাধা পরস্পর মিলন কামনায় ব্যাকুল হয়ে উঠেছেন। এসময় সখীমুখে শ্রীরাধার হৃদয়েরর অবস্থা জানতে পেরে শ্রীকৃষ্ণ তাকে কুঞ্জে আসতে বলেন। কিন্তু শ্রীরাধা তখন শ্রীকৃষ্ণের বিরহে এমনই কাতরা যে, চলচ্ছক্তি পর্যন্ত হারিয়ে ফেলেছেন। তাই তিনি কৃষ্ণকেই আসার জন্য অনুরোধ করে পাঠালেন। শ্রীকৃষ্ণ আসবেন জেনে শ্রীরাধা সারারাত্রি প্রতীক্ষা করলেন। শেষে বিলাপের মধ্য দিয়েই তাঁর রাত্রি শেষ হল। এদিকে রাত্রি শেষ হতে শ্রীকৃষ্ণ সেখানে উপস্থিত হলেন। অভিমানিনী রাধার ধৈর্যের বাঁধ ভেঙে যায়, মুখ দিয়ে বেরিয়ে আসে শ্রীকৃষ্ণের প্রতি তীব্র ভৎসনা বাক্য। শেষে সখীর উপদেশে ও চেষ্টায় রাধার ক্রোধ কিছুটা প্রশমিত হলে শ্রীকৃষ্ণ দীর্ঘকাল ধরে অনুনয় বিনয়ে তাঁর প্রীতি উৎপাদনে সমর্থ হলেন। এরপর শ্রীরাধা কৃষ্ণের শাশ্বত মিলনের মধ্যে দিয়ে গীতগোবিন্দ কাব্যের কবি জয়দেব পরিসমাপ্তি করেছেন।

            পরিশেষে আমরা বলতে পারি যে, গীতগোবিন্দ কাব্যখানি শ্রেষ্ঠতম সংস্কৃত কাব্য। কারণ এ কাব্যের গানের ভাষা প্রাচীন সংস্কৃত কাব্যের সমকালীন অপভ্রংশ ও প্রাকৃত কাব্যের ভাষাকে সংমিশ্রত করে মধুর কোমলকান্ত পদাবলী সৃষ্টি করেছেন। যেখানে আছে অলৌকিক দেবকাহিনীর সাথে লৌকিক প্রেমকথা। যে কথা ভারতীয় সাহিত্যে একেবারেই অভিনব এবং নাটকীয় গুণসম্পন্ন। যার ফলে কাব্যখানি ভক্ত রসিক সমাজের ভক্তি ও রসতৃষ্ণা নিবারণে সমর্থ হয়েছে। আর সেকারণে-

          আমরা বলতে পারি,যিনি ভক্ত তিনি এ কাব্য থেকে কখনোই আরাধ্য দেবতার সন্ধান পেতে পারেন না, কিন্তু যিনি কাব্যরসিক তিনি অবশ্যই এ কাব্য থেকে অনাবিল আনন্দ লাভে পরিতৃপ্তি পাবেন। সুতরাং কাব্যে দেবটকাহিনী বর্ণনায় কবি হিসেবে জয়দেবের জয় এখানেই আমরা বলতে পারি।

ঠিক এরূপ অসংখ্য বিষয়ভিত্তিক আলোচনা সাজেশন এবং ভিডিও পেতে ভিজিট করুন আমাদের SHESHER KOBITA SUNDORBON YOUTUBE CHANNEL ।


Comments

Popular posts from this blog

একটি সার্থক গীতিকাব্যের পরিচয়।

  একটি সার্থক গীতিকাব্যের পরিচয়-সারদা মঙ্গল               গীতিকাব্য হলো এক ধরনের কবিতা, যার মধ্যে দিয়ে ব্যক্তির আবেগ, অনুভূতি এবং অভিজ্ঞতাগুলিকে ছন্দ ওর সংগীতের মাধ্যমে প্রকাশ করা হয়। তবে এখানে কবিতাগুলি খুবই ছোট আকারের হয়, আর সেখানে কবির ব্যক্তিগত অনুভূতির গভীরতা ও আন্তরিকতা প্রকাশ পায়। আর এই প্রেক্ষিতে আমরা বলতে পারি গীতি কবিতার সংকলন হলো গীতিকাব্য। ব্যঞ্জনাময় ও সংহত ।  গীতিকাব্যের বৈশিষ্ট্য  গীতিকাব্যের কিছু প্রধান বৈশিষ্ট্য নিচে আলোচনা করা হলো: ১. ব্যক্তিগত অনুভূতি ও আবেগ প্রকাশ: এটি গীতিকাব্যের প্রধান বৈশিষ্ট্য। এখানে কবি নিজের ব্যক্তিগত অনুভূতি, প্রেম, বিরহ, আনন্দ বা বিষাদের কথা তুলে ধরেন। ২. সংক্ষিপ্ততা: গীতিকাব্য সাধারণত দীর্ঘ হয় না। অল্প কয়েকটি স্তবকের মধ্যে কবি তাঁর ভাবনা সম্পূর্ণভাবে প্রকাশ করেন। ৩. সুর ও ছন্দের প্রাধান্য: গীতিকাব্য মূলত সুর করে আবৃত্তি করার জন্য রচিত হয়। তাই এতে সুর ও ছন্দের প্রতি বিশেষ মনোযোগ দেওয়া হয়। ৪. আত্মগতভাব: গীতিকাব্যে বাইরের জগতের বর্ণনা না দিয়ে কবির নিজের মনের ভেতরের জগতের প্রতি মনোযোগ ...

ষষ্ঠ সেমিস্টার বাংলা অনার্স (DSE3/4) সাজেশন ২০২৫

       West Bengal State University                                       BA Honours, 6th Semester                                         SUGGESTION 2025                                                      BNGA,DSE05T( DSE3/4)  • বাংলা কথাসাহিত্যঃ মন্বন্তর, দাঙ্গা ও দেশভাগ• একক-১(২০২১) ক) দেশভাগের ইতিহাসের বাস্তব রূপ বাংলা সাহিত্যে  কীভাবে প্রকাশ পেয়েছে কয়েকটি উপন্যাস অনুসরণে তার পরিচয় দাও। • ১৯৪৬ দাঙ্গা রাজনীতির ট্রাজেডি বাংলা ছোটগল্পের পরিসরে কিভাবে এসেছে, সংশ্লিষ্ট কয়েকটি রচনা অবলম্বনে আলোচনা করো। (২০২২) পঞ্চাশের মন্বন্তরের বাস্তব বর্ণনা করে বাংলা উপন্যাসে তার কতটা প্রতিফলন ঘটেছে, সে বিষয়ে আলোকপাত করো। •দেশভাগের ক...

ইতিহাস (3rd Semester) সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর।

 তৃতীয় সেমিস্টার ইতিহাস মাইনর সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর (পশ্চিমবঙ্গ রাষ্ট্রীয় বিশ্ববিদ্যালয়, তৃতীয় সেমিস্টার ইতিহাস মাইনর)। ১)বন্দেগান-ই-চাহালগানি বলতে কী বোঝায়? •উত্তরঃবন্দেগান-ই-চাহালগান বলতে চল্লিশ জন তুর্কি ও অ-তুর্কি দাসদের সমন্বয়ে গঠিত একটি বাহিনীকে বোঝায়। এই বাহিনীকে ডাল চালিশা বা তুরকান-ই- চাহালগানি নামে ডাকা হতো। ২)আমির খসরু কে ছিলেন? •উত্তরঃ আমির খসরু ছিলেন প্রখ্যাত সুফি সাধক বা আরেফ নিজামউদ্দিন আওলিয়ার ছাত্র এবং অন্যতম প্রধান খলিফা। যাঁকে 'ভারতের তোতা' উপাধি দেওয়া হয়েছিল। ৩) মহরানা প্রতাপ কে ছিলেন?  •উত্তরঃ মেবারের শিশোদিয়া রাজবংশের একজন হিন্দু রাজপুত রাজা ছিলেন মহারানা প্রতাপ সিং। যিনি রাজপুতদের বীরত্ব ও দৃঢ় সংকল্পের প্রতীক। বহু বছর ধরে তিনি মুঘল সম্রাট আকবরের সঙ্গে লড়াই করেন। ৪) জায়গীরদারী সংকট কী? •উত্তরঃ জায়গিরদারী সংকট ছিল মোগল সাম্রাজ্যের একটি অর্থনৈতিক সংকট। এই সংকটে জমি বা জায়গিরের অভাব দেখা দিয়েছিল। যার ফলে প্রশাসনিক খরচ মেটানো এবং যুদ্ধের খরচ বহন করা সম্ভব হতো না। ৫) দাক্ষিণাত্য ক্ষত কী? •উত্তরঃ দাক্ষিণাত্য ক্ষত বলতে ঔরঙ্গজেবের দাক্ষিণাত্য নীত...