Skip to main content

বাংলা ছোটগল্পে(3rd,6 Sem.Sem) প্রভাত কুমার মুখোপাধ্যায়ের অবদান আলোচনা করো।

বাংলা ছোটগল্পে প্রভাত কুমারের অবদান ও কৃতিত্ব আলোচনা করো (পশ্চিমবঙ্গ রাষ্ট্রীয় বিশ্ববিদ্যালয়, তৃতীয় সেমিস্টার, ষষ্ঠ সেমিস্টার বাংলা মেজর)।

            আলোচনা শুরুতেই আমরা বলে রাখি যে,বাংলা ছোটগল্পের আঙিনায় প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়ের এক উল্লেখযোগ্য ব্যক্তিত্ব। আর তাঁর ব্যক্তিত্বের প্রকাশ ছোট গল্পের আসরে নানাবিধ কারণে-

       •প্রথমতঃ বাংলা গল্পের সীমা প্রসারণ।  •দ্বিতীয়তঃ বহু স্বভাবের মানুষ আমদানী – তাদের সামাজিক এবং ব্যক্তিসত্তার যথানুপাতি রূপদান, • তৃতীয়তঃহাস্যরসের অফুরন্ত উৎস সৃষ্টি। •চতুর্থতঃগল্প পাঠককে আকর্ষণের সহজাত নিপুণতা। আর সেই নিপুণতায় আমরা দেখতে পাই -

              প্রভাত কুমার চট্টোপাধ্যায় এর গল্পগ্রন্থের সংখ্যা বারো, গল্পের সংখ্যা প্রায় একশো আটটি। তবে তাঁর গাল্পিক সাফল্যের কারণ গল্প রচনার সহজাত ক্ষমতা,সুকৌশল বিন্যাস ও কৌতুকের স্নিগ্ধতা।যেখানে আম,জাম,শিমুল,পলাশের ছায়ার তলা দিয়ে তাঁর গল্পগ্রন্থ ছোট নদীর মতো প্রবাহিত। তাতে রবীন্দ্রনাথের পদ্মার দার্শনিক বিস্তৃতি নেই। তবে কখনো কখনো বাণ হয়তো ডাকে-কিন্তু পদ্মার মতো দুকূল প্লাবিত করার ক্ষমতা তার মধ্যে নেই। কিন্তু ক্লাইমেক্স সৃষ্টি করে গল্পগুলিকে সর্বজন ‘হৃদয়গ্ৰাহ্য করে তুলতে সক্ষম হয়েছেন। আর সেখানে-

•• বাংলা ছোটগল্পে প্রভাত কুমারের গল্পগ্রন্থ :

       আমরা পূর্বেই বলেছি যে,প্রভাত কুমারের সামগ্রিক গল্পগ্রন্থের সংখ্যা ১২টি এবং গল্পের সংখ্যা প্রায় ১০৮টি। আর সেই গল্পগ্রন্থগুলির মধ্যে বিশেষ উল্লেখযোগ্য হলো- ‘নবকথা’ (১৮৯৯),‘ষোড়শী’ (১৯০৬),‘গল্পবিথী’ (১৯১৩) (৫) ‘পত্ৰপুষ্প’ (১৯১৩৭) (৬) ‘যুবকের প্রেম’ (১৯২৮),নতুন বউ (১৯২৮),হতাশ প্রেমিক ও অন্যান্য গল্প (১৯২৩),বিলাসিনী (১৯২৬) উল্লেখযোগ্য।

              গল্পগুলির মধ্যে কল্পনা, বিলাসিতা নেই,নেই ঘটনার ঘনঘটা।তবে সেখানে আছে কেবল আমাদের বাস্তব জীবনের সুখ-দুঃখ মিলন, বিরহ, হাসিকান্নার কাহিনী। আর এখানেই প্রভাত কুমার তাঁর ছোটগল্পের জন্য শ্রেষ্ঠত্বর দাবীদার। আর এই প্রেক্ষিতে তার ছোটগল্পে আমরা দেখতে পাই-

         ‌ প্রভাত কুমারের ছোটগল্প গুলি বেশ কৌতুকময়। যেখানে কৌতুকতা,রঙ্গরস,মজা প্রভৃতি তাঁর ছোটগল্পের মূল্যবাণ সম্পদ।সেখানে তাঁর ছোট গল্পগুলোতে অদ্ভুত কল্পনা ও রূপকের ইন্দ্রজাল আচ্ছন্ন হয়নি তাঁর গল্পজগৎ। বরং বলা যেতে পারে,তিনি শান্ত, স্নিগ্ধ, সংযত, আত্মতৃপ্ত, তার কৌতুক হলো তাঁর গল্পের কোষাগার। তাই তার গল্পগুলো হয়ে উঠেছে উপভোগ্যময় প্রেম কাহিনী।

                  প্রভাত কুমারের গল্পের অন্যতম লক্ষণ সমাজ সচেতনতা।বলা যায় সমাজসচেতনতা তাঁর জনপ্রিয়তার একটি অন্যতম দিক। তাই বর্তমান কালের মানুষ অনেক কৌতুহলোদ্দীপক সামাজিক রীতিনীতি,সেকালীন যুগের অনেক খবরাখবর তাঁর গল্পে পেতে পারেন। আর সেখানে গহনার বাক্স, অঙ্গহীনা, বসবাস জামাতা প্রভৃতি গল্পে গল্পকারের সমাজচেতনা অত্যন্ত সুপ্রকটভাবে প্রকটিত।

            ছোটগল্পে প্রভাত কুমারের বাস্তবচেতনায় আমরা দেখতে পাই যে,তাঁর গল্পের সর্বত্রে আছে জীবনের উত্তাপ।আসলে তাঁর সৃষ্ট চরিত্রেরা আমাদের চেনা মানুষ একেবারে নিকটতম প্রতিবেশী। তাই গল্পে সর্বত্রে উপস্থিত প্রবল বাস্তবতা। আর সেই বাস্তবতার সাথে আছে অদ্বৈতবাদ, আকস্মিকতাবাদ।

          পরিশেষে আমরা বলতে পারি যে, প্রখ্যাত ছোট গল্পকার প্রভাত কুমার মুখোপাধ্যায় সহজ সরল গল্প লিখে বাঙালি পাঠক সমাজকে মুগ্ধ করে তাদের হৃদয় হরণ করে নিয়েছেন। আমরা জানি সত্য প্রেম কখনো পূজিত হয় না। তবে শান্তশিষ্ট, স্থির, স্নেহকোমল প্রেমের কথা একমাত্র প্রভাত কুমারই বলতে পেরেছেন। তাই তাঁর ছোট গল্পগুলি মানুষের মনের মন্দিরে সহজেই ঠাঁই পেয়েছে। আর এই দৃষ্টিকোণ থেকে বলা যেতে পারে যে, রবীন্দ্রনাথের মত প্রভাত কুমারও আগামী প্রজন্মের কাছে অপরিমেয় প্রেরণার উৎস হিসাবে চিহ্নিত হয়ে থাকবেন।

•• ঠিক এরূপ অসংখ্য বিষয়ভিত্তিক আলোচনা সাজেশন এবং ভিডিও পেতে ভিজিট করুন আমাদের SHESHER KOBITA SUNDORBON YOUTUBE CHANNEL ।










Comments

Popular posts from this blog

একটি সার্থক গীতিকাব্যের পরিচয়।

  একটি সার্থক গীতিকাব্যের পরিচয়-সারদা মঙ্গল               গীতিকাব্য হলো এক ধরনের কবিতা, যার মধ্যে দিয়ে ব্যক্তির আবেগ, অনুভূতি এবং অভিজ্ঞতাগুলিকে ছন্দ ওর সংগীতের মাধ্যমে প্রকাশ করা হয়। তবে এখানে কবিতাগুলি খুবই ছোট আকারের হয়, আর সেখানে কবির ব্যক্তিগত অনুভূতির গভীরতা ও আন্তরিকতা প্রকাশ পায়। আর এই প্রেক্ষিতে আমরা বলতে পারি গীতি কবিতার সংকলন হলো গীতিকাব্য। ব্যঞ্জনাময় ও সংহত ।  গীতিকাব্যের বৈশিষ্ট্য  গীতিকাব্যের কিছু প্রধান বৈশিষ্ট্য নিচে আলোচনা করা হলো: ১. ব্যক্তিগত অনুভূতি ও আবেগ প্রকাশ: এটি গীতিকাব্যের প্রধান বৈশিষ্ট্য। এখানে কবি নিজের ব্যক্তিগত অনুভূতি, প্রেম, বিরহ, আনন্দ বা বিষাদের কথা তুলে ধরেন। ২. সংক্ষিপ্ততা: গীতিকাব্য সাধারণত দীর্ঘ হয় না। অল্প কয়েকটি স্তবকের মধ্যে কবি তাঁর ভাবনা সম্পূর্ণভাবে প্রকাশ করেন। ৩. সুর ও ছন্দের প্রাধান্য: গীতিকাব্য মূলত সুর করে আবৃত্তি করার জন্য রচিত হয়। তাই এতে সুর ও ছন্দের প্রতি বিশেষ মনোযোগ দেওয়া হয়। ৪. আত্মগতভাব: গীতিকাব্যে বাইরের জগতের বর্ণনা না দিয়ে কবির নিজের মনের ভেতরের জগতের প্রতি মনোযোগ ...

চতুর্থ সেমিস্টার জেনারেল ইতিহাস ছোট প্রশ্ন ২০২১

 *১) সুজাউদ্দৌলা কে ছিলেন বা মুর্শিদকুলি খাঁর মৃত্যুর পর কে বাংলার নবাব হন?  উত্তর - সুজা উদ্দৌলা আয়ুধের সুবেদার নবাব ছিলেন। মুর্শিদকুলি খাঁর মৃত্যুর পর তার জামাতা বাংলার নবাব  হন ১৭৫৪-১৭৭৫ খ্রীস্টাব্দ পর্যন্ত। নবাব থাকাকালীন তিনি বক্সারের যুদ্ধ এবং পানিপথের তৃতীয় যুদ্ধে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেছিলেন। *২) কোন সালে রেগুলেটিং আইন জারি করা হয়েছিল? উত্তর - ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির দুর্নীতি দূরীকরণ, গঠন বিন্যাস ও নিয়ন্ত্রণের জন্য ব্রিটিশ সরকার ১৭৭৩ খ্রিস্টাব্দে রেগুলেটিং আইন প্রণয়ন করেন। আর সেই আইনে বলা হয় বাংলা বোম্বাই ও মাদ্রাজে ১ করে কাউন্সিল থাকবে। *৩) শ্রী রঙ্গপত্তমের সন্ধিতে স্বাক্ষরকারী কারা কারা ছিলেন ?কখন এই সন্ধিটি স্বাক্ষরিত হয়েছিল? উত্তর - তৃতীয় ইঙ্গ মহীশূর যুদ্ধের অবসান হয়েছিল শ্রীরঙ্গপত্তমের সন্ধির দ্বারা। আর এই সন্ধিতে ঠিক হয় টিপু সুলতান ইংরেজদের তিন কোটি টাকা এবং জামিন স্বরূপ তার দুই পুত্রকে দিতে বাধ্য হবেন। এছাড়া বিজিত অঞ্চল ইংরাজ, মারাঠা ও নিজামের মধ্যে বন্টিত হল। যে সন্ধির দুটি পক্ষ ছিল একদিকে ছিলেন টিপু সুলতান এবং অপরদিকে ছিলেন ইংরেজ। সময়কালটি ছি...

পঞ্চম সেমিস্টার ইতিহাস মাইনর সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর ।

পঞ্চম সেমিস্টার ইতিহাস মাইনর সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর  ১) শিল্প বিপ্লব কবে কোথায় প্রথম ঘটেছিল?         উত্তর - প্রথম শিল্প বিপ্লব শুরু হয়েছিল ইংল্যান্ডে (গ্রেট ব্রিটেন)। এটি প্রধানত অষ্টাদশ শতকের মাঝামাঝি সময়ে শুরু হয়ে প্রায় ১৭৬০ থেকে ১৮৪০ খ্রিস্টাব্দ-এর মধ্যে ঘটেছিল। ২) কৃষ্ণমৃত্যু কী?            • কৃষ্ণমৃত্যু (Black Death) হলো মানব ইতিহাসের এক ভয়াবহ মহামারি।এটি ছিল মূলত প্লেগ (Plague) রোগ, যা Yersinia pestis নামক ব্যাকটেরিয়ার কারণে সৃষ্টি হয়েছিল।এটি প্রধানত ১৩৪৬ থেকে ১৩৫৩ খ্রিস্টাব্দের মধ্যে ইউরোপ, এশিয়া (ইউরেশিয়া) এবং উত্তর আফ্রিকাজুড়ে ছড়িয়ে পড়েছিল। ৩) কে বলেছিলেন মানুষই সবকিছুর মানদণ্ড?        •এই বিখ্যাত উক্তিটি যিনি করেছিলেন তিনি হলেন প্রাচীন গ্রিসের একজন প্রখ্যাত দার্শনিক, যার নাম প্রোটাগোরাস (Protagoras)।তাঁর মূল বক্তব্যটি ছিল-"মানুষই সবকিছুর মানদণ্ড, যা আছে তারও, আর যা নেই তারও।” ৪) পেত্রাক কেন বিখ্যাত?         •পেত্রাক (Francesco Petrarca) ছিলেন ১৪ শতকের (১৩০৪-১৩৭৪) একজন ...