Skip to main content

দ্বিগ্বিজয়(XII,3rd. Sem) রূপকথা কবিতার মূল ভাববস্তু নিজের ভাষায় লেখো ও MCQ questions and answers

'দ্বিগবিজয় রূপকথা' কবিতার মূল ভাববস্তু নিজের ভাষায় লেখো(পশ্চিমবঙ্গ উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা সংসদ, বাংলা, তৃতীয় সেমিস্টার)

            আলোচনার শুরুতেই আমরা বলে রাখি যে,'দ্বিগ্বিজয় রূপকথা' কবিতায় কবি নবনীতা দেবসেন  আত্মবিশ্বাস, ভালোবাসা, নারীশক্তি, জীবনের লড়াই, পৌরাণিক কাব্যকথা, রূপকথা ব্যবহারে কবিতাটি অনবদ্যভাবে কাব্যেকাশে তুলে ধরেছেন।আর সেখানে আমরা দেখি-

 • আত্মবিশ্বাস ও ভালোবাসার জয়গানঃ  দ্বিগ্বিজয় রূপকথা কবিতাটিতে কবি আমাদের চোখে আঙুল দিয়ে দেখালেন যে, জীবনে বিজয়ী হতে গেলে বাহ্যিক শক্তির থেকে আত্মবিশ্বাস ও ভালোবাসার শক্তি অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ।কারণ এই দুটি গুণ আত্মবিশ্বাস ও ভালোবাসা("বিশ্বাস" নামক আশীর্বাদী সরঞ্জাম ও "ভালোবাসা" রূপ মন্ত্রপূত তলোয়ার) যেকোনো কঠিন পরিস্থিতি মোকাবিলা করতে এবং নির্দিষ্ট লক্ষ্যে পৌঁছাতে আমাদেরকে সাহায্য করে থাকে।

 • নারীশক্তি উদযাপনেঃ আলোচ্য কবিতাটিতে নারীশক্তির এক বলিষ্ঠ চিত্রায়ণ ও জয়গান করা হয়েছে। কারণ নারীই একমাত্র তার ভেতরের অদম্য,তেজদীপ্ত শক্তি,আত্মবিশ্বাস ও ভালোবাসার মাধ্যমে সমাজের সকল বাঁধা অতিক্রম করে বিজয়ী হতে পারে।আর এটাই দ্বিগ্বিজয় রূপকথা কবিতার মূল সুর। আসলে এই জয় শুধু তার ব্যক্তিগত নয়, বরং সমাজের সকল নারীর জন্য অনুপ্রেরণা সঞ্চারিত করে।

• জীবন লড়াইয়ের প্রেরণাঃ আলোচ্য কবিতাটির মাধ্যমে কবি মানব জীবনের পথকে এক দীর্ঘ এবং কঠিন যাত্রারূপে তুলে ধরেছেন। সেই কঠিন যাত্রায় নানান বাধা-বিপত্তি আসবে,আর সেটাই স্বাভাবিক।কিন্তু আত্মবিশ্বাস ও ভালোবাসার মতো শক্তিশালী "অস্ত্র" থাকলে সেই বাঁধা সহজেই অতিক্রম করে নিজের লক্ষ্য অভিমুখে যাওয়া সম্ভব।

• পৌরাণিক কথাঃ কবি নবনীতা দেবসেন আলোচ্য কবিতাটিতে পৌরাণিক প্রসঙ্গ ও উপমা ব্যবহার করে কবিতার ভাব বস্তুর তথ্য আরোও জোরালো করেছেন।

          • পরিশেষে আমরা বলতে পারি যে, দ্বিগ্বিজয় রূপকথা কবিতায় কবি নারীশক্তির মধ্যে যে অদম্য,অপ্রতিহত আত্মবিশ্বাস,ভালোবাসার শক্তির মাধ্যমে জীবনের সমস্ত প্রতিকূলতা অতিক্রম করে বিজয় অর্জন এবং নারীশক্তির মহিমা আছে তা তুলে ধরেছেন।

               •MCQ Question & answer• 

১) দ্বিগবিজয় রূপকথা কবিতার প্রধান চরিত্র কে?

উত্তরঃরাজকুমারী ।

২) আলোচ্য কবিতায় রাজকুমারী কি উদ্দেশ্যে বেরিয়েছিল? 

উত্তরঃ দ্বিগ্বিজয় করতে ।

৩)দিগ্বজয় রূপকথা কবিতার রূপকথার মাধ্যমে কি বোঝানো হয়েছে?

উত্তরঃ নারীর ক্ষমতায়ন ।।

৪)দ্বিগ্বিজয় রূপকথা কবিতায় রাজকুমারীর দ্বিতীয় বিজয়ের অর্থ কি? 

উত্তরঃ দুটি মন জয় করা।

৫)রাজকুমারীর মুখোমুখি হওয়ার প্রধান চ্যালেঞ্জ কি ছিল? 

উত্তরঃ নিজের অপরিমেয় শক্তিকে প্রমাণ করা।

৬)নারীর ক্ষমতায়ন বোঝাতে কবিতায় কোন প্রতীক ব্যবহার করা হয়েছে?

উত্তরঃমুকুট

৭)আলোচ্য কবিতায় দ্বিগ্বিজয় করার অর্থ কি?

উত্তরঃভালোবাসা ও বন্ধুত্বের বিজয় ।

৮)আলোচ্য কবিতায় রাজকুমারী কিভাবে প্রথম বিজয় অর্জন করেছিলেন? 

উত্তরঃ যুদ্ধের মাধ্যমে।

৯)আলোচ্য কবিতায় রাজকুমারী দ্বিতীয় বিজয় অর্জন করেছিলেন কিভাবে? 

উত্তরঃ হৃদয় জয় করে ।

১০)দ্বিগবিজয় রূপকথা কবিতার মাধ্যমে কবি কি প্রমাণ করতে চেয়েছেন?

উত্তরঃনারীর ক্ষমতায়ন প্রমাণ করতে চেয়েছিলেন। 

১১)রাজকুমারীর বিজয়ের মূল শক্তি কি ছিল? 

উত্তরঃ ভালোবাসা ও মনের জয়। 

১২)আলোচ্য কবিতায় রাজকুমারী কোন বিষয়ের উপর জয়লাভ করেছিলেন? 

উত্তরঃ দুটি হৃদয় ।

১৩) দ্বিগ্বিজয় রূপকথা কবিতার শেষের বার্তাটি কি ছিল? 

উত্তরঃনারীর শক্তি ও সম্ভাবনা। 

১৪)আলোচ্য কবিতায় রাজকুমারী তার কোন গুণের জন্য বিখ্যাত হয়েছিলেন? 

উত্তরঃঅদম্য সাহসের জন্য। 

১৫)আলোচ্য কবিতায় কবি কোন বিষয়টি আলোকপাত করেছেন?

উত্তরঃ নারীর স্বাধীনতা ও শক্তি। 

১৬)আলোচ্য কবিতায় রাজকুমারীর মধ্যে যে শক্তি ছিল সেটি কোন সময় প্রকাশ পায়?

 উত্তরঃ দ্বিতীয় বিজয়ের সময়।

১৭)কবিতায় প্রথম বিজয়ের মাধ্যমে কি প্রতিপন্ন হয়েছিল? 

উত্তরঃবাহ্যিক শত্রুদের পরাজয়। 

১৮)রাজকুমারী দ্বিতীয় বিজয়ের সময় কোন গুনের জন্য বিজয়ী হন?

 উত্তরঃ আত্মবিশ্বাস

১৯)রাজকুমারীর প্রথম বিজয়ের সময় প্রতিবন্ধকতা ছিল, সেটি কি?

উত্তরঃতার নিজস্ব ভয়। 

২০)আলোচ্য কবিতায় রাজকুমারী দ্বিতীয় বিজয় কিভাবে তার প্রথম বিজয় থেকে আলাদা দেখানো হয়েছে?

উত্তরঃপ্রথমটি বাহ্যিক বিজয় এবং দ্বিতীয়টি অভ্যন্তরীণ বিজয়। 

২১)আলোচ্য কবিতায় রাজকুমারী যে সমস্যার সম্মুখীন হয়েছিল সেটি কি?

 উত্তরঃ অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব।

২২)রাজকুমারী তার যাত্রাপথের শেষে কি অর্জন করেছিল? 

উত্তরঃআত্মশক্তি ও শান্তি 

২৩) দ্বিগ্বিজয় রূপকথা কবিতার মূল সুর কি? 

উত্তরঃ আত্মবিশ্বাস ও সাহসের মাধ্যমে বিজয়ী হওয়া সম্ভব। 

২৪)রাজকুমারী দ্বিগ্বিজয়ের পথে প্রধান শত্রু কি ছিল?

উত্তরঃরাজকুমারীর নিজস্ব সন্দেহ। 

২৫)আলোচ্য কবিতায় রাজকুমারীর কোন গুণটি করে তুলে ধরা হয়েছে?

 আত্মপ্রত্যয়।

২৬)রাজকুমারীর অভিযানের প্রধান উদ্দেশ্য কি ছিল?

 নিজেকে খুঁজে পাওয়া

২৭)আলোচ্য কবিতায় রাজকুমারীর অভিযানের সময় কোন বিষয়টি প্রধান ভূমিকা পালন করেছিল? 

রাজকুমারীর বুদ্ধি।

Comments

Popular posts from this blog

একটি সার্থক গীতিকাব্যের পরিচয়।

  একটি সার্থক গীতিকাব্যের পরিচয়-সারদা মঙ্গল               গীতিকাব্য হলো এক ধরনের কবিতা, যার মধ্যে দিয়ে ব্যক্তির আবেগ, অনুভূতি এবং অভিজ্ঞতাগুলিকে ছন্দ ওর সংগীতের মাধ্যমে প্রকাশ করা হয়। তবে এখানে কবিতাগুলি খুবই ছোট আকারের হয়, আর সেখানে কবির ব্যক্তিগত অনুভূতির গভীরতা ও আন্তরিকতা প্রকাশ পায়। আর এই প্রেক্ষিতে আমরা বলতে পারি গীতি কবিতার সংকলন হলো গীতিকাব্য। ব্যঞ্জনাময় ও সংহত ।  গীতিকাব্যের বৈশিষ্ট্য  গীতিকাব্যের কিছু প্রধান বৈশিষ্ট্য নিচে আলোচনা করা হলো: ১. ব্যক্তিগত অনুভূতি ও আবেগ প্রকাশ: এটি গীতিকাব্যের প্রধান বৈশিষ্ট্য। এখানে কবি নিজের ব্যক্তিগত অনুভূতি, প্রেম, বিরহ, আনন্দ বা বিষাদের কথা তুলে ধরেন। ২. সংক্ষিপ্ততা: গীতিকাব্য সাধারণত দীর্ঘ হয় না। অল্প কয়েকটি স্তবকের মধ্যে কবি তাঁর ভাবনা সম্পূর্ণভাবে প্রকাশ করেন। ৩. সুর ও ছন্দের প্রাধান্য: গীতিকাব্য মূলত সুর করে আবৃত্তি করার জন্য রচিত হয়। তাই এতে সুর ও ছন্দের প্রতি বিশেষ মনোযোগ দেওয়া হয়। ৪. আত্মগতভাব: গীতিকাব্যে বাইরের জগতের বর্ণনা না দিয়ে কবির নিজের মনের ভেতরের জগতের প্রতি মনোযোগ ...

চতুর্থ সেমিস্টার জেনারেল ইতিহাস ছোট প্রশ্ন ২০২১

 *১) সুজাউদ্দৌলা কে ছিলেন বা মুর্শিদকুলি খাঁর মৃত্যুর পর কে বাংলার নবাব হন?  উত্তর - সুজা উদ্দৌলা আয়ুধের সুবেদার নবাব ছিলেন। মুর্শিদকুলি খাঁর মৃত্যুর পর তার জামাতা বাংলার নবাব  হন ১৭৫৪-১৭৭৫ খ্রীস্টাব্দ পর্যন্ত। নবাব থাকাকালীন তিনি বক্সারের যুদ্ধ এবং পানিপথের তৃতীয় যুদ্ধে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেছিলেন। *২) কোন সালে রেগুলেটিং আইন জারি করা হয়েছিল? উত্তর - ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির দুর্নীতি দূরীকরণ, গঠন বিন্যাস ও নিয়ন্ত্রণের জন্য ব্রিটিশ সরকার ১৭৭৩ খ্রিস্টাব্দে রেগুলেটিং আইন প্রণয়ন করেন। আর সেই আইনে বলা হয় বাংলা বোম্বাই ও মাদ্রাজে ১ করে কাউন্সিল থাকবে। *৩) শ্রী রঙ্গপত্তমের সন্ধিতে স্বাক্ষরকারী কারা কারা ছিলেন ?কখন এই সন্ধিটি স্বাক্ষরিত হয়েছিল? উত্তর - তৃতীয় ইঙ্গ মহীশূর যুদ্ধের অবসান হয়েছিল শ্রীরঙ্গপত্তমের সন্ধির দ্বারা। আর এই সন্ধিতে ঠিক হয় টিপু সুলতান ইংরেজদের তিন কোটি টাকা এবং জামিন স্বরূপ তার দুই পুত্রকে দিতে বাধ্য হবেন। এছাড়া বিজিত অঞ্চল ইংরাজ, মারাঠা ও নিজামের মধ্যে বন্টিত হল। যে সন্ধির দুটি পক্ষ ছিল একদিকে ছিলেন টিপু সুলতান এবং অপরদিকে ছিলেন ইংরেজ। সময়কালটি ছি...

পঞ্চম সেমিস্টার ইতিহাস মাইনর সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর ।

পঞ্চম সেমিস্টার ইতিহাস মাইনর সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর  ১) শিল্প বিপ্লব কবে কোথায় প্রথম ঘটেছিল?         উত্তর - প্রথম শিল্প বিপ্লব শুরু হয়েছিল ইংল্যান্ডে (গ্রেট ব্রিটেন)। এটি প্রধানত অষ্টাদশ শতকের মাঝামাঝি সময়ে শুরু হয়ে প্রায় ১৭৬০ থেকে ১৮৪০ খ্রিস্টাব্দ-এর মধ্যে ঘটেছিল। ২) কৃষ্ণমৃত্যু কী?            • কৃষ্ণমৃত্যু (Black Death) হলো মানব ইতিহাসের এক ভয়াবহ মহামারি।এটি ছিল মূলত প্লেগ (Plague) রোগ, যা Yersinia pestis নামক ব্যাকটেরিয়ার কারণে সৃষ্টি হয়েছিল।এটি প্রধানত ১৩৪৬ থেকে ১৩৫৩ খ্রিস্টাব্দের মধ্যে ইউরোপ, এশিয়া (ইউরেশিয়া) এবং উত্তর আফ্রিকাজুড়ে ছড়িয়ে পড়েছিল। ৩) কে বলেছিলেন মানুষই সবকিছুর মানদণ্ড?        •এই বিখ্যাত উক্তিটি যিনি করেছিলেন তিনি হলেন প্রাচীন গ্রিসের একজন প্রখ্যাত দার্শনিক, যার নাম প্রোটাগোরাস (Protagoras)।তাঁর মূল বক্তব্যটি ছিল-"মানুষই সবকিছুর মানদণ্ড, যা আছে তারও, আর যা নেই তারও।” ৪) পেত্রাক কেন বিখ্যাত?         •পেত্রাক (Francesco Petrarca) ছিলেন ১৪ শতকের (১৩০৪-১৩৭৪) একজন ...