Skip to main content

সাধারণ সভার (XII,3rd.Sem) সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর

সম্মিলিত জাতিপুঞ্জের সাধারণ সভার(United Nation General Assembly) সম্পর্কে কিছু গুরুত্বপূর্ণ সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর(পশ্চিমবঙ্গ উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা সংসদ, রাষ্ট্রবিজ্ঞান, দ্বাদশ শ্রেণী, তৃতীয় সেমিস্টার)

১)সম্মিলিত জাতিপুঞ্জের সাধারণ সভা কী?

 উত্তরঃ সম্মিলিত জাতিপুঞ্জের প্রধান অঙ্গগুলির মধ্যে একটি সংস্থা এবং একমাত্র সংস্থা, যেখানে সকল সদস্য রাষ্ট্রের সমান প্রতিনিধিত্ব যার ক্ষমতা রয়েছে। তবে এটিকে বিশ্ব পার্লামেন্টও বলা হয়ে থাকে।

২) সাধারণ সভার মূল কাজ কী?

উত্তরঃ সাধারণ সভার মূল কাজ হলো- আন্তর্জাতিক বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করা এবং সুপারিশ প্রদান করা। এর মধ্যে শান্তি ও নিরাপত্তা, মানবাধিকার, উন্নয়ন, আন্তর্জাতিক আইন ইত্যাদি বিষয় অন্তর্ভুক্ত। এছাড়াও এটি জাতিসংঘের বাজেট অনুমোদন করে এবং বিভিন্ন সংস্থায় সদস্য নির্বাচন করে।

৩) সাধারণ সভার সদস্য কারা ? 

উত্তরঃ সম্মিলিত জাতিপুঞ্জের সকল সদস্যভুক্ত রাষ্ট্রই সাধারণ সভার সদস্য। বর্তমানে সম্মিলিত জাতিপুঞ্জের সদস্য রাষ্ট্রসংখ্যা হল ১৯৩।

৪. সাধারণ সভায় প্রতিটি সদস্য রাষ্ট্রের কত ভোট দেয়ার অধিকার আছে? 

উত্তরঃ প্রতিটি সদস্য রাষ্ট্রের একটি করে ভোট দেওয়ার অধিকার আছে।

৫) সাধারণ সভার অধিবেশন কখন অনুষ্ঠিত হয়?

উত্তরঃ প্রতি বছর সেপ্টেম্বর মাসের তৃতীয় মঙ্গলবার সাধারণ সভার বার্ষিক অধিবেশন শুরু হয়। এছাড়াও বিশেষ পরিস্থিতিতে জরুরি অধিবেশনও ডাকা হতে পারে।

৬. সাধারণ সভার সভাপতি কিভাবে নির্বাচিত হন?

  উত্তরঃ প্রতি অধিবেশনের শুরুতে সদস্য রাষ্ট্রগুলো তাদের মধ্য থেকে একজনকে সভাপতি নির্বাচিত করে। সভাপতির কার্যকাল এক বছর।

৭. নিরাপত্তা পরিষদের সাথে সাধারণ সভার পার্থক্য কোথায়? 

উত্তরঃ নিরাপত্তা পরিষদে ১৫টি সদস্য রাষ্ট্র আছে, যার মধ্যে ৫টি স্থায়ী সদস্যরাষ্ট্র ভেটো (veto) ক্ষমতা প্রয়োগ করতে পারে। কিন্তু -

          সাধারণ সভায় সকল সদস্য রাষ্ট্রের সমান ভোটাধিকার রয়েছে এবং এর সুপারিশগুলি সাধারণত বাধ্যতামূলক নয় (নিরাপত্তা পরিষদের সিদ্ধান্তের মতো)।

৮. সাধারণ সভা কোন বাধ্যতামূলক সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে পারে কি? 

উত্তরঃ সাধারণ সভার রেজোলিউশন বা প্রস্তাব সাধারণত সদস্য রাষ্ট্রগুলোর জন্য বাধ্যতামূলক নয়, তবে এগুলোর রাজনৈতিক ও নৈতিক প্রভাব অনেক বেশি ও সুদূরপ্রসারী। তবে বাজেট সংক্রান্ত সিদ্ধান্তগুলি অবশ্য বাধ্যতামূলক।

৯. সাধারণ সভা কিভাবে আন্তর্জাতিক স্তরে আন্তর্জাতিক বিষয়ে ভূমিকা গ্রহণ করে?

উত্তরঃ সাধারণ সভা আন্তর্জাতিক জনমত গঠন, নীতি নির্ধারণ এবং বিভিন্ন সমস্যার সমাধানে আলোচনার একটি গুরুত্বপূর্ণ প্ল্যাটফর্ম হিসেবে কাজ করে। এটি বিভিন্ন আন্তর্জাতিক চুক্তি ও কনভেনশন প্রণয়নেও ভূমিকা রাখে।

১০ সাধারণ সভার কিছু গুরুত্বপূর্ণ কমিটির নাম লেখো।

উত্তরঃ সাধারণ সভার বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ কমিটি রয়েছে, যেমন - প্রথম কমিটি (নিরস্ত্রীকরণ ও আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা), দ্বিতীয় কমিটি (অর্থনৈতিক ও আর্থিক), তৃতীয় কমিটি (সামাজিক, মানবিক ও সাংস্কৃতিক), ইত্যাদি।


Some MCQ questions and answer from Sadharan Sobha 

ক) সম্মিলিত জাতিপুঞ্জের সাধারণ পরিষদের সভাপতির মেয়াদ কত দিন?

উত্তরঃ ১বছর।

 খ) জাতিসংঘের প্রতিটি দেশ কোন সংস্থার সদস্য?

উত্তরঃ সাধারণ পরিষদ  (UNGA)

গ) জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের নিয়মিত বার্ষিক অধিবেশন কখন শুরু হয়?

উত্তরঃ সেপ্টেম্বর মাসের তৃতীয় মঙ্গলবার।

ঘ) বর্তমানে সম্মিলিত জাতিপুঞ্জের সাধারণ সভার সদস্য সংখ্যা কত?

উত্তরঃ ১৯৩ 

ঙ) সম্মিলিত জাতিপুঞ্জের সাধারণ পরিষদের প্রথম মহিলা সভাপতি কে ছিলেন?

উত্তরঃ বিজয় লক্ষ্মী পন্ডিত।

চ) সম্মিলিত জাতিপুঞ্জের কোন সংস্থাটিকে "বিশ্বের আইনসভা" বলা হয়?

উত্তরঃ সাধারণ পরিষদ 

ছ) নিরাপত্তা পরিষদের সুপারিশক্রমে সম্মিলিত জাতিপুঞ্জের মহাসচিবকে কে নির্বাচিত করেন?

উত্তরঃ সাধারণ সভা।

জ) জাতিসংঘের বাজেট কোন পরিষদে ঘোষিত হয়?   উত্তরঃ সাধারণ সভা।

ঝ) সম্মিলিত জাতিপুঞ্জের সাধারণ সভায় প্রতিটি সদস্য রাষ্ট্রের কতগুলি ভোট দেওয়ার অধিকার আছে?

উত্তরঃ ১টি করে।

ঞ) কত সালে সম্মিলিত জাতিপুঞ্জের সাধারণ সভা কর্তৃক মানবাধিকারের সর্বজনীন ঘোষণাপত্র (UDHR) গৃহীত হয়?

উত্তরঃ ১৯৪৮ সালে।


Comments

Popular posts from this blog

একটি সার্থক গীতিকাব্যের পরিচয়।

  একটি সার্থক গীতিকাব্যের পরিচয়-সারদা মঙ্গল               গীতিকাব্য হলো এক ধরনের কবিতা, যার মধ্যে দিয়ে ব্যক্তির আবেগ, অনুভূতি এবং অভিজ্ঞতাগুলিকে ছন্দ ওর সংগীতের মাধ্যমে প্রকাশ করা হয়। তবে এখানে কবিতাগুলি খুবই ছোট আকারের হয়, আর সেখানে কবির ব্যক্তিগত অনুভূতির গভীরতা ও আন্তরিকতা প্রকাশ পায়। আর এই প্রেক্ষিতে আমরা বলতে পারি গীতি কবিতার সংকলন হলো গীতিকাব্য। ব্যঞ্জনাময় ও সংহত ।  গীতিকাব্যের বৈশিষ্ট্য  গীতিকাব্যের কিছু প্রধান বৈশিষ্ট্য নিচে আলোচনা করা হলো: ১. ব্যক্তিগত অনুভূতি ও আবেগ প্রকাশ: এটি গীতিকাব্যের প্রধান বৈশিষ্ট্য। এখানে কবি নিজের ব্যক্তিগত অনুভূতি, প্রেম, বিরহ, আনন্দ বা বিষাদের কথা তুলে ধরেন। ২. সংক্ষিপ্ততা: গীতিকাব্য সাধারণত দীর্ঘ হয় না। অল্প কয়েকটি স্তবকের মধ্যে কবি তাঁর ভাবনা সম্পূর্ণভাবে প্রকাশ করেন। ৩. সুর ও ছন্দের প্রাধান্য: গীতিকাব্য মূলত সুর করে আবৃত্তি করার জন্য রচিত হয়। তাই এতে সুর ও ছন্দের প্রতি বিশেষ মনোযোগ দেওয়া হয়। ৪. আত্মগতভাব: গীতিকাব্যে বাইরের জগতের বর্ণনা না দিয়ে কবির নিজের মনের ভেতরের জগতের প্রতি মনোযোগ ...

পঞ্চম সেমিস্টার ইতিহাস মাইনর সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর ।

পঞ্চম সেমিস্টার ইতিহাস মাইনর সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর  ১) শিল্প বিপ্লব কবে কোথায় প্রথম ঘটেছিল?         উত্তর - প্রথম শিল্প বিপ্লব শুরু হয়েছিল ইংল্যান্ডে (গ্রেট ব্রিটেন)। এটি প্রধানত অষ্টাদশ শতকের মাঝামাঝি সময়ে শুরু হয়ে প্রায় ১৭৬০ থেকে ১৮৪০ খ্রিস্টাব্দ-এর মধ্যে ঘটেছিল। ২) কৃষ্ণমৃত্যু কী?            • কৃষ্ণমৃত্যু (Black Death) হলো মানব ইতিহাসের এক ভয়াবহ মহামারি।এটি ছিল মূলত প্লেগ (Plague) রোগ, যা Yersinia pestis নামক ব্যাকটেরিয়ার কারণে সৃষ্টি হয়েছিল।এটি প্রধানত ১৩৪৬ থেকে ১৩৫৩ খ্রিস্টাব্দের মধ্যে ইউরোপ, এশিয়া (ইউরেশিয়া) এবং উত্তর আফ্রিকাজুড়ে ছড়িয়ে পড়েছিল। ৩) কে বলেছিলেন মানুষই সবকিছুর মানদণ্ড?        •এই বিখ্যাত উক্তিটি যিনি করেছিলেন তিনি হলেন প্রাচীন গ্রিসের একজন প্রখ্যাত দার্শনিক, যার নাম প্রোটাগোরাস (Protagoras)।তাঁর মূল বক্তব্যটি ছিল-"মানুষই সবকিছুর মানদণ্ড, যা আছে তারও, আর যা নেই তারও।” ৪) পেত্রাক কেন বিখ্যাত?         •পেত্রাক (Francesco Petrarca) ছিলেন ১৪ শতকের (১৩০৪-১৩৭৪) একজন ...

অবক্ষয় যুগ। অষ্টাদশ-ঊনবিংশ শতাব্দীর সন্ধিক্ষণে বাঙালির অবক্ষয় যুগের পরিচয় দাও। এই সময়ে টপ্পা ও আখড়াই গানের উদ্ভব ও জনপ্রিয়তার সামাজিক কারণগুলি আলোচনা করো।

অবক্ষয় যুগ। অষ্টাদশ-ঊনবিংশ শতাব্দীর সন্ধিক্ষণে বাঙালির অবক্ষয় যুগের পরিচয় দাও। এই সময়ে টপ্পা ও আখড়াই গানের উদ্ভব ও জনপ্রিয়তার সামাজিক কারণগুলি আলোচনা করো। পশ্চিমবঙ্গ রাষ্ট্রীয় বিশ্ববিদ্যালয় প্রথম সেমিস্টার বাংলা মাইনর।ইউনিট ৪।   অবক্ষয় যুগের পরিচয় এবং টপ্পা ও আখড়াই গানের সামাজিক কারণ ও অবক্ষয় যুগের পরিচয়          আমরা জানি যে,১৭৫৭ খ্রিস্টাব্দে পলাশীর যুদ্ধের পর থেকে ঊনবিংশ শতাব্দীর প্রথমার্ধ (১৮৫০ খ্রি.) পর্যন্ত সময়কালকে বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে 'অবক্ষয় যুগ' বা 'সন্ধিযুগ' বলা হয়।আর এটি ছিল মধ্যযুগের দেবনির্ভরতার অবসান এবং আধুনিক যুগের মানবতাবোধের সূচনার মধ্যবর্তী এক ক্রান্তিকাল।যেখানে এই সময়কালের প্রধান বৈশিষ্ট্যগুলি  নিম্নরূপে আলোচনা করা যেতে পারে-        •রাজনৈতিক অস্থিরতাঃ নবাবী শাসনের পতন এবং ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির দেওয়ানি লাভের ফলে বাংলার পুরনো শাসন ও অর্থনৈতিক কাঠামো ভেঙে পড়ে।      •'বাবু' সংস্কৃতির উদয়ঃ ছিয়াত্তরের মন্বন্তর (১১৭৬ বঙ্গাব্দ) এবং চিরস্থায়ী বন্দোবস্তের (১৭৯৩ খ্রি.) ফলে গ্রামীণ বনেদি সমাজ ধ্...