Skip to main content

পরিমাপের স্কেল(4th. Sem) কাকে বলে? পরিমাপের বিভিন্ন স্কেল বা মাপনীগুলি আলোচনা করো।

পরিমাপের স্কেল বা মাপনী কী? পরিমাপের বিভিন্ন স্কেল বা মাপনীগুলি আলোচনা করো (পশ্চিমবঙ্গ রাষ্ট্রীয় বিশ্ববিদ্যালয়, চতুর্থ সেমিস্টার, এডুকেশন-মাইনর, Unit-2)

পরিমাপের স্কেলঃ আমরা প্রাত্যহিক জীবনে প্রায়শ কোন না কোন কিছু পরিমাপ করে থাকি। যেমন আমরা কোন কিছুর উচ্চতা, ওজন, দৈর্ঘ্য ইত্যাদি পরিমাপ করি। আসলে পরিমাপ হল কোন কিছুর পরিমাণ নির্ণয় করা। কিন্তু-

           শিক্ষা ও মনোবিজ্ঞানে পরিমাপ কথাটি ভিন্ন অর্থে ব্যবহার করা হয়ে থাকে। এখানে পরিমাপের অন্তর্গত বিষয়গুলি হলো বুদ্ধি, আগ্রহ, সৃজন, ক্ষমতা ইত্যাদি। আর উচ্চতা, ওজন, দৈর্ঘ্য যখন আমরা একটি নির্দিষ্ট নিয়মে শ্রেণীবদ্ধ করি, তখন সেই নিয়মগুলি হয়ে যায় পরিমাপের স্কেল।

পরিমাপের শ্রেণীবিভাগঃ শিক্ষা ও মনোবিজ্ঞানে অভীক্ষার ফলের পরিমাণ কত প্রকাশই হলো পরিমাপ। তবে পরীক্ষার ফলকে সংখ্যায় প্রকাশ করার প্রক্রিয়াই হলো পরিমাপ। আর সেখানে যে একক পর্যায়ক্রম দিয়ে পরিমাপ করা হয় তাকে স্কেল বলে। এই পরিমাপের স্কেল প্রধানত চার প্রকার-

১) নামসূচক স্কেলঃ যখন কোন সংখ্যাকে এমনভাবে ব্যবহার করা হয় যে, তা শুধুমাত্র একটি পরিচয় জ্ঞাপক চিহ্ন হিসেবে কাজ করে, তখন ওই জাতীয় সংখ্যার শ্রেণীকে নামসূচক স্কেল হিসেবে উল্লেখ করা হয়। উদাহরণ স্বরূপ আমরা বলতে পারি-

       •শহরে রাস্তার ধারে অবস্থিত বাড়িগুলিকে বিভিন্ন সংখ্যা দ্বারা চিহ্নিত করা হয়ে থাকে। আর এই চিহ্নিতকরণের প্রধান উদ্দেশ্য হল, একটি বাড়িকে অন্য বাড়ি থেকে পৃথকভাবে চিনে নেওয়া। আসলে এই সংখ্যাগুলি বাড়ির কোন বৈশিষ্ট্যের উপর নির্ভরশীল নয়, তবে তাদের পারস্পরিক অবস্থানও অনিশ্চিত হতে পারে। তাই বাস্তবিক ক্ষেত্রে এই স্কেল কোন পরিমাণসূচক স্কেল নয়, যেটি শুধুমাত্র চিহ্নসূচক স্কেল।

২) ক্রমসূচক স্কেলঃ যখন পরিমেয় বস্তুর কোন বৈশিষ্ট্যের ভিত্তিতে সর্বোচ্চ থেকে সর্বনিম্ন, গরিষ্ঠ থেকে লঘিষ্ঠ, সর্বাধিক থেকে সর্বনিম্ন বা অনুরূপ ক্রমপর্যায়ে বস্তুগুলোকে সাজানো যায় কিন্তু একটি থেকে অপরটি কতটা কম বা বেশি তা পরিষ্কার করে বলা যায় না এবং তাদের মধ্যকার ব্যবধান সমান কিনা তাও বলা যায় না তখন এইরকম ক্রমপর্যায় সূচক সংখ্যাগুলিতে একযোগে বলা হয়। উদাহরণস্বরূপ আমরা বলতে পারি-

           • পরীক্ষায় প্রথম, দ্বিতীয়, তৃতীয় স্থানাধিকারী ছাত্র-ছাত্রীদের একটি ক্রমপর্যায় থাকে ঠিকই কিন্তু কত নম্বর পেলে প্রথম, দ্বিতীয় বা তৃতীয় হওয়া যাবে তার কোন স্থিরতা নেই। আবার প্রথম ও দ্বিতীয় স্থানাধিকারীর সঙ্গে নম্বরের কতটা ব্যবধান থাকবে, দ্বিতীয় তৃতীয় স্থানাধিকারীর সাথে ওই ব্যবধান সমান হবে কিনা তাও অনিশ্চিত। শুধু প্রথম স্থানাধিকারী সর্বোচ্চ, দ্বিতীয় তার কম, তৃতীয় আরো কম নম্বর পেয়েছে এইটুকু নিশ্চিতভবে জানা যায়।

৩) ব্যাপ্তিসূচক স্কেলঃ যখন কোন পরিমাপ এমনভাবে করা হয় যে, প্রত্যেকটি একক ব্যক্তি বা বস্তুকে পরিমেয় বৈশিষ্ট্যের ভিত্তিতে একটি ক্রমিক অবস্থানে চিহ্নিত করা সম্ভব। তবে এক্ষেত্রে প্রতিটি ক্রমিক অবস্থানের সাথে পূরবর্তী বা পরবর্তী অবস্থানের ব্যবধানও একটি নির্দিষ্ট মান অনুযায়ী স্থির করা হয়। কিন্তু-

       •পরিমাপের সংখ্যা মানটি সঠিকভাবে বলা যায় না, তখন এই ধরনের পরিমাপ সূচক স্কেলকে বলা হয় ব্যাপ্তিসূচক স্কেল। আর এই ধরনের স্কেলের প্রকৃষ্ট উদাহরণ হল থার্মোমিটার।

৪) আনুপাতিক স্কেলঃ যখন ব্যাপ্তিসূচক স্কেলের পরিমাপসূচক সংখ্যাগুলি এমনভাবে পরস্পর অবস্থান করে যে, পরস্পরের দুটি সংখ্যার মধ্যে ব্যবধান সর্বতোভাবে শূন্য থেকে শুরু করা যায়, তখন ওই স্কেলকে বলা আনুপাতিক স্কেল বা মাপনী। যেখানে -

     •এই স্কেলে সঠিক শূন্য বিন্দু পাওয়া যায়, তবে এই বিন্দুটি কোন কল্পিত বিন্দু নয়। তবে আনুপাতিক স্কেলের প্রতিটি বিন্দু নির্দিষ্ট সংখ্য দ্বারা সূচিত হয়ে থাকে। আর তার ফলে সব ধরনের গাণিতিক বিশ্লেষণ করা সম্ভব হয়। 

•ঠিক এরূপ অসংখ্য বিষয়ভিত্তিক আলোচনা ব্যাখ্যা সাজেশন ভিডিও পেতে ভিজিট করুন আমাদের ফেসবুক পেজ এবং SHESHER KOBITA SUNDARBAN Youtube channel 🙏•

Comments

Popular posts from this blog

একটি সার্থক গীতিকাব্যের পরিচয়।

  একটি সার্থক গীতিকাব্যের পরিচয়-সারদা মঙ্গল               গীতিকাব্য হলো এক ধরনের কবিতা, যার মধ্যে দিয়ে ব্যক্তির আবেগ, অনুভূতি এবং অভিজ্ঞতাগুলিকে ছন্দ ওর সংগীতের মাধ্যমে প্রকাশ করা হয়। তবে এখানে কবিতাগুলি খুবই ছোট আকারের হয়, আর সেখানে কবির ব্যক্তিগত অনুভূতির গভীরতা ও আন্তরিকতা প্রকাশ পায়। আর এই প্রেক্ষিতে আমরা বলতে পারি গীতি কবিতার সংকলন হলো গীতিকাব্য। ব্যঞ্জনাময় ও সংহত ।  গীতিকাব্যের বৈশিষ্ট্য  গীতিকাব্যের কিছু প্রধান বৈশিষ্ট্য নিচে আলোচনা করা হলো: ১. ব্যক্তিগত অনুভূতি ও আবেগ প্রকাশ: এটি গীতিকাব্যের প্রধান বৈশিষ্ট্য। এখানে কবি নিজের ব্যক্তিগত অনুভূতি, প্রেম, বিরহ, আনন্দ বা বিষাদের কথা তুলে ধরেন। ২. সংক্ষিপ্ততা: গীতিকাব্য সাধারণত দীর্ঘ হয় না। অল্প কয়েকটি স্তবকের মধ্যে কবি তাঁর ভাবনা সম্পূর্ণভাবে প্রকাশ করেন। ৩. সুর ও ছন্দের প্রাধান্য: গীতিকাব্য মূলত সুর করে আবৃত্তি করার জন্য রচিত হয়। তাই এতে সুর ও ছন্দের প্রতি বিশেষ মনোযোগ দেওয়া হয়। ৪. আত্মগতভাব: গীতিকাব্যে বাইরের জগতের বর্ণনা না দিয়ে কবির নিজের মনের ভেতরের জগতের প্রতি মনোযোগ ...

ষষ্ঠ সেমিস্টার বাংলা অনার্স (DSE3/4) সাজেশন ২০২৫

       West Bengal State University                                       BA Honours, 6th Semester                                         SUGGESTION 2025                                                      BNGA,DSE05T( DSE3/4)  • বাংলা কথাসাহিত্যঃ মন্বন্তর, দাঙ্গা ও দেশভাগ• একক-১(২০২১) ক) দেশভাগের ইতিহাসের বাস্তব রূপ বাংলা সাহিত্যে  কীভাবে প্রকাশ পেয়েছে কয়েকটি উপন্যাস অনুসরণে তার পরিচয় দাও। • ১৯৪৬ দাঙ্গা রাজনীতির ট্রাজেডি বাংলা ছোটগল্পের পরিসরে কিভাবে এসেছে, সংশ্লিষ্ট কয়েকটি রচনা অবলম্বনে আলোচনা করো। (২০২২) পঞ্চাশের মন্বন্তরের বাস্তব বর্ণনা করে বাংলা উপন্যাসে তার কতটা প্রতিফলন ঘটেছে, সে বিষয়ে আলোকপাত করো। •দেশভাগের ক...

ইতিহাস (3rd Semester) সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর।

 তৃতীয় সেমিস্টার ইতিহাস মাইনর সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর (পশ্চিমবঙ্গ রাষ্ট্রীয় বিশ্ববিদ্যালয়, তৃতীয় সেমিস্টার ইতিহাস মাইনর)। ১)বন্দেগান-ই-চাহালগানি বলতে কী বোঝায়? •উত্তরঃবন্দেগান-ই-চাহালগান বলতে চল্লিশ জন তুর্কি ও অ-তুর্কি দাসদের সমন্বয়ে গঠিত একটি বাহিনীকে বোঝায়। এই বাহিনীকে ডাল চালিশা বা তুরকান-ই- চাহালগানি নামে ডাকা হতো। ২)আমির খসরু কে ছিলেন? •উত্তরঃ আমির খসরু ছিলেন প্রখ্যাত সুফি সাধক বা আরেফ নিজামউদ্দিন আওলিয়ার ছাত্র এবং অন্যতম প্রধান খলিফা। যাঁকে 'ভারতের তোতা' উপাধি দেওয়া হয়েছিল। ৩) মহরানা প্রতাপ কে ছিলেন?  •উত্তরঃ মেবারের শিশোদিয়া রাজবংশের একজন হিন্দু রাজপুত রাজা ছিলেন মহারানা প্রতাপ সিং। যিনি রাজপুতদের বীরত্ব ও দৃঢ় সংকল্পের প্রতীক। বহু বছর ধরে তিনি মুঘল সম্রাট আকবরের সঙ্গে লড়াই করেন। ৪) জায়গীরদারী সংকট কী? •উত্তরঃ জায়গিরদারী সংকট ছিল মোগল সাম্রাজ্যের একটি অর্থনৈতিক সংকট। এই সংকটে জমি বা জায়গিরের অভাব দেখা দিয়েছিল। যার ফলে প্রশাসনিক খরচ মেটানো এবং যুদ্ধের খরচ বহন করা সম্ভব হতো না। ৫) দাক্ষিণাত্য ক্ষত কী? •উত্তরঃ দাক্ষিণাত্য ক্ষত বলতে ঔরঙ্গজেবের দাক্ষিণাত্য নীত...