Skip to main content

দ্রব্য হলো গুণের (2nd. Sem)অজ্ঞাত ও অজ্ঞেয় আঁধার ব্যাখ্যা করো।

'দ্রব্য হলো গুণের অজ্ঞাত ও অজ্ঞেয় আধার'- কে বলেছেন? ব্যাখ্যা করো (পশ্চিমবঙ্গ রাষ্ট্রীয় বিশ্ববিদ্যালয়, দ্বিতীয় সেমিস্টার, দর্শন মাইনর )।

         • অভিজ্ঞতাবাদী দার্শনিক জন লক (John Locke) বলেন দ্রব্য হলো গুণের অজ্ঞাত ও অজ্ঞেয় আঁধার।যার অর্থ হলো-আমরা কোনো বস্তুর বাহ্যিক গুণাবলী (যেমন: রং, আকার, গন্ধ, স্বাদ) সম্পর্কে জানতে পারি এবং অনুভব করতে পারি, কিন্তু এই গুণাবলীগুলো যে আধার বা ভিত্তিকে আশ্রয় করে থাকে, সেই দ্রব্যটির প্রকৃত স্বরূপ আমাদের কাছে অজানা ও অচেনা থেকে যায়।

সাধারণ অর্থে দ্রব্যঃ সাধারণ অর্থে, দ্রব্য হলো কোনো বস্তু বা পদার্থ। দর্শনে এর অর্থ আরও গভীর। দার্শনিকরা দ্রব্য বলতে এমন কিছুকে বোঝান যা স্বয়ংস্থিত বা স্বনির্ভর। এটি কোনো কিছুর উপর নির্ভরশীল নয়, বরং এটিই অন্যান্য গুণাবলীকে আশ্রয় করে থাকে। আমরা যখন একটি আপেল দেখি, তখন আমরা তার লাল রং, মিষ্টি স্বাদ, গোলাকার আকৃতি অনুভব করি। এই সব গুণাবলী একটি আপেলের "দ্রব্যত্ব" কে আশ্রয় করে থাকে।

গুণ কীঃগুণ হলো দ্রব্যের সেইসব বৈশিষ্ট্য যা আমরা আমাদের ইন্দ্রিয়ের মাধ্যমে উপলব্ধি করি। যেমন, আপেলের লাল রং, মিষ্টি স্বাদ, মসৃণ ত্বক - এগুলো সবই আপেলের গুণ। গুণ সবসময় কোনো না কোনো দ্রব্যে আশ্রয় করে থাকে; গুণ নিজে স্বাধীনভাবে থাকতে পারে না।

দ্রব্য ও গুণের সম্পর্কে লকের মতবাদঃ লকের মতে, আমাদের জ্ঞানের উৎস হলো অভিজ্ঞতা। আমরা বাহ্যিক জগত থেকে সংবেদন এবং আমাদের আভ্যন্তরীণ মন থেকে অন্তদর্শন এর মাধ্যমে জ্ঞান লাভ করি। তবে 

            যখন আমরা একটি বস্তুকে দেখি বা অনুভব করি, তখন আমরা কেবল তার গুণাবলীকেই প্রত্যক্ষ করি। উদাহরণস্বরূপ, আমরা একটি টেবিলের কাঠিন্য, বাদামী রং, মসৃণতা ইত্যাদি গুণাবলী অনুভব করি। কিন্তু এই গুণাবলীগুলো যে একটি অদৃশ্য আধারকে কেন্দ্র করে রয়েছে, সেই আধারটি অর্থাৎ দ্রব্যটি আমাদের কাছে সরাসরি প্রত্যক্ষগোচর নয়।আর সেখানে-

           দার্শনিক লক যুক্তি দেখান যে, যেহেতু গুণাবলী একা একা থাকতে পারে না, তাদের অবশ্যই কোনো আধার বা আশ্রয় থাকতে হবে। এই আধারটিই হলো দ্রব্য। কিন্তু সমস্যা হলো, আমরা যতই চেষ্টা করি, আমরা কখনোই সেই দ্রব্যটিকে তার গুণাবলী থেকে পৃথক করে জানতে পারি না। আমরা কেবল গুণাবলীগুলোকেই জানি, আর এই গুণাবলীগুলো যে "কোনো একটা কিছুকে" আশ্রয় করে আছে, সে সম্পর্কে আমরা কেবল অনুমান করতে পারি। এই "কোনো একটা কিছু" বা আধারটিই আমাদের কাছে অজ্ঞাত ও অজ্ঞেয় থেকে যায়। সেখানে-

        লকের এই ধারণা অভিজ্ঞতাবাদী দর্শনে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এটি বোঝায় যে, আমাদের জ্ঞান সীমাবদ্ধ, এবং আমরা জগতের সমস্ত কিছুর প্রকৃত স্বরূপ জানতে পারি না, কারণ আমাদের জ্ঞান শুধুমাত্র ইন্দ্রিয়লব্ধ অভিজ্ঞতার উপর নির্ভরশীল। যেখানে-

          • সহজভাবে বলতে গেলে, আমরা পর্দার আড়ালে থাকা আসল জিনিসটাকে দেখতে পাই না, শুধু তার প্রতিবিম্ব দেখতে পাই। এখানে প্রতিবিম্ব হলো গুণ আর পর্দার আড়ালে থাকা আসল জিনিসটা হলো দ্রব্য।

Comments

Popular posts from this blog

একটি সার্থক গীতিকাব্যের পরিচয়।

  একটি সার্থক গীতিকাব্যের পরিচয়-সারদা মঙ্গল               গীতিকাব্য হলো এক ধরনের কবিতা, যার মধ্যে দিয়ে ব্যক্তির আবেগ, অনুভূতি এবং অভিজ্ঞতাগুলিকে ছন্দ ওর সংগীতের মাধ্যমে প্রকাশ করা হয়। তবে এখানে কবিতাগুলি খুবই ছোট আকারের হয়, আর সেখানে কবির ব্যক্তিগত অনুভূতির গভীরতা ও আন্তরিকতা প্রকাশ পায়। আর এই প্রেক্ষিতে আমরা বলতে পারি গীতি কবিতার সংকলন হলো গীতিকাব্য। ব্যঞ্জনাময় ও সংহত ।  গীতিকাব্যের বৈশিষ্ট্য  গীতিকাব্যের কিছু প্রধান বৈশিষ্ট্য নিচে আলোচনা করা হলো: ১. ব্যক্তিগত অনুভূতি ও আবেগ প্রকাশ: এটি গীতিকাব্যের প্রধান বৈশিষ্ট্য। এখানে কবি নিজের ব্যক্তিগত অনুভূতি, প্রেম, বিরহ, আনন্দ বা বিষাদের কথা তুলে ধরেন। ২. সংক্ষিপ্ততা: গীতিকাব্য সাধারণত দীর্ঘ হয় না। অল্প কয়েকটি স্তবকের মধ্যে কবি তাঁর ভাবনা সম্পূর্ণভাবে প্রকাশ করেন। ৩. সুর ও ছন্দের প্রাধান্য: গীতিকাব্য মূলত সুর করে আবৃত্তি করার জন্য রচিত হয়। তাই এতে সুর ও ছন্দের প্রতি বিশেষ মনোযোগ দেওয়া হয়। ৪. আত্মগতভাব: গীতিকাব্যে বাইরের জগতের বর্ণনা না দিয়ে কবির নিজের মনের ভেতরের জগতের প্রতি মনোযোগ ...

চতুর্থ সেমিস্টার জেনারেল ইতিহাস ছোট প্রশ্ন ২০২১

 *১) সুজাউদ্দৌলা কে ছিলেন বা মুর্শিদকুলি খাঁর মৃত্যুর পর কে বাংলার নবাব হন?  উত্তর - সুজা উদ্দৌলা আয়ুধের সুবেদার নবাব ছিলেন। মুর্শিদকুলি খাঁর মৃত্যুর পর তার জামাতা বাংলার নবাব  হন ১৭৫৪-১৭৭৫ খ্রীস্টাব্দ পর্যন্ত। নবাব থাকাকালীন তিনি বক্সারের যুদ্ধ এবং পানিপথের তৃতীয় যুদ্ধে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেছিলেন। *২) কোন সালে রেগুলেটিং আইন জারি করা হয়েছিল? উত্তর - ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির দুর্নীতি দূরীকরণ, গঠন বিন্যাস ও নিয়ন্ত্রণের জন্য ব্রিটিশ সরকার ১৭৭৩ খ্রিস্টাব্দে রেগুলেটিং আইন প্রণয়ন করেন। আর সেই আইনে বলা হয় বাংলা বোম্বাই ও মাদ্রাজে ১ করে কাউন্সিল থাকবে। *৩) শ্রী রঙ্গপত্তমের সন্ধিতে স্বাক্ষরকারী কারা কারা ছিলেন ?কখন এই সন্ধিটি স্বাক্ষরিত হয়েছিল? উত্তর - তৃতীয় ইঙ্গ মহীশূর যুদ্ধের অবসান হয়েছিল শ্রীরঙ্গপত্তমের সন্ধির দ্বারা। আর এই সন্ধিতে ঠিক হয় টিপু সুলতান ইংরেজদের তিন কোটি টাকা এবং জামিন স্বরূপ তার দুই পুত্রকে দিতে বাধ্য হবেন। এছাড়া বিজিত অঞ্চল ইংরাজ, মারাঠা ও নিজামের মধ্যে বন্টিত হল। যে সন্ধির দুটি পক্ষ ছিল একদিকে ছিলেন টিপু সুলতান এবং অপরদিকে ছিলেন ইংরেজ। সময়কালটি ছি...

পঞ্চম সেমিস্টার ইতিহাস মাইনর সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর ।

পঞ্চম সেমিস্টার ইতিহাস মাইনর সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর  ১) শিল্প বিপ্লব কবে কোথায় প্রথম ঘটেছিল?         উত্তর - প্রথম শিল্প বিপ্লব শুরু হয়েছিল ইংল্যান্ডে (গ্রেট ব্রিটেন)। এটি প্রধানত অষ্টাদশ শতকের মাঝামাঝি সময়ে শুরু হয়ে প্রায় ১৭৬০ থেকে ১৮৪০ খ্রিস্টাব্দ-এর মধ্যে ঘটেছিল। ২) কৃষ্ণমৃত্যু কী?            • কৃষ্ণমৃত্যু (Black Death) হলো মানব ইতিহাসের এক ভয়াবহ মহামারি।এটি ছিল মূলত প্লেগ (Plague) রোগ, যা Yersinia pestis নামক ব্যাকটেরিয়ার কারণে সৃষ্টি হয়েছিল।এটি প্রধানত ১৩৪৬ থেকে ১৩৫৩ খ্রিস্টাব্দের মধ্যে ইউরোপ, এশিয়া (ইউরেশিয়া) এবং উত্তর আফ্রিকাজুড়ে ছড়িয়ে পড়েছিল। ৩) কে বলেছিলেন মানুষই সবকিছুর মানদণ্ড?        •এই বিখ্যাত উক্তিটি যিনি করেছিলেন তিনি হলেন প্রাচীন গ্রিসের একজন প্রখ্যাত দার্শনিক, যার নাম প্রোটাগোরাস (Protagoras)।তাঁর মূল বক্তব্যটি ছিল-"মানুষই সবকিছুর মানদণ্ড, যা আছে তারও, আর যা নেই তারও।” ৪) পেত্রাক কেন বিখ্যাত?         •পেত্রাক (Francesco Petrarca) ছিলেন ১৪ শতকের (১৩০৪-১৩৭৪) একজন ...