Skip to main content

কোণী,মতি নন্দী দশম শ্রেণি বাংলা প্রথম সেমিস্টার।

মতি নন্দীর 'কোণী' উপন্যাসের প্রথম ৪টি পরিচ্ছেদ (১-৩২ পৃষ্ঠা) দশম শ্রেণির প্রথম পর্যায়ক্রমিক মূল্যায়নের (First Summative) জন্য (পশ্চিমবঙ্গ মধ্যশিক্ষা পর্ষদ দশম শ্রেণি প্রথম সেমিস্টার)

 (এই অংশের প্রধান বিষয় মূলত ক্ষিতীশ সিংহের লড়াই, কোণীর দারিদ্র্য এবং তাদের প্রথম সাক্ষাতের প্রেক্ষাপট তৈরি হয়)।

          •১-৩২ পৃষ্ঠার মূল বিষয়বস্তু•

         কোণী উপন্যাসের শুরুতেই আমরা দেখি- বারুণী উৎসব ও গঙ্গার ঘাটের চিত্র।আর সেখানে উপন্যাসের শুরু গঙ্গার ঘাটে বারুণীর আম কুড়ানোকে কেন্দ্র করে। এখানেই আমরা পরিচিত হই স্থূলকায় বিষ্ণুচরণ ধর এবং জেদি সাঁতার শিক্ষক ক্ষিতীশ সিংহ-এর সঙ্গে। অতঃপর কোণী নজরে আসে ক্ষিতীশের  সাথে। যেখানে গঙ্গার প্রবল স্রোতে একটি আম কুড়ানোর জন্য এক কিশোরীর (কোণী) অদম্য লড়াই ক্ষিতীশের নজর কাড়ে।আর ক্ষিতীশ তার মধ্যে আগামীর চ্যাম্পিয়নকে দেখতে পান। আসলে-

     ‌ ক্ষিতীশ জুপিটার ক্লাবের ট্রেনার ছিলেন। কিন্তু ক্লাবের দলাদলি এবং আলস্যের বিরুদ্ধে কথা বলায় বিনোদ ভরভাজ ও ধীরেন ঘোষরা তাঁকে চক্রান্ত করে ক্লাব থেকে বের করে দেয়। শুরু হয় সংঘাত। আসলে ক্ষিতীশের অপরাধ ছিল-তিনি শৃঙ্খলার প্রশ্নে আপসহীন। শুধু তাই নয়, ক্ষিতীশের স্ত্রী লীলাবতী 'সিনহা টেলার্স' চালিয়ে সংসার চালান। ক্ষিতীশ সারাদিন সাঁতার নিয়ে পড়ে থাকেন, যা লীলাবতীর বিরক্তির কারণ। অন্যদিকে, কোণীর পরিবার চরম দারিদ্র্যের শিকার। তার দাদা কণকচন্দ পরিবারের একমাত্র উপার্জনকারী। অতঃপর আমরা দেখতে পাই-

         ক্ষিতীশ কোণীদের বাড়িতে গিয়ে তাদের দারিদ্র্য দেখেন। কণকচন্দ মারা যাওয়ার পর কোণীর দায়িত্ব নিতে চান ক্ষিতীশ, যাতে তাকে একজন বিশ্বমানের সাঁতারু তৈরি করা যায়।

               •গুরুত্বপূর্ণ উদ্ধৃতি ও প্রশ্নোত্তর•

প্রশ্ন ১: "তোর আসল লজ্জা জ্বলে যাওয়াই, আসল গর্ব জেতা।"- বক্তা কে? উক্তিটির তাৎপর্য বিশ্লেষণ করো।

    •উত্তরঃউদ্ধৃত অংশটির বক্তা মতি নন্দীর কোণী উপন্যাসের প্রখ্যাত সাঁতার শিক্ষক ক্ষিতীশ সিংহ। ক্ষিতীশ যখন কোণীকে সাঁতার শেখানোর জন্য উদ্বুদ্ধ করছিলেন এবং কোণী তার দারিদ্র্য বা পোশাক নিয়ে কুণ্ঠিত ছিল, তখন তিনি এই কথাটি বলেন। তবে-

           ক্ষিতীশ বোঝাতে চেয়েছেন, মানুষের শরীরের অভাব বা দারিদ্র্য লজ্জার বিষয় নয়। একজন খেলোয়াড়ের কাছে আসল লজ্জা হলো প্রতিযোগিতার ময়দান থেকে পিছিয়ে আসা বা হেরে যাওয়া। অন্যদিকে, সব বাধা অতিক্রম করে জয়ী হওয়াই হলো প্রকৃত গর্ব। তিনি কোণীর মনের ভিতরের জেদকে জাগিয়ে তুলতে এই কঠোর অথচ প্রেরণাদায়ক মন্তব্যটি করেছিলেন।

প্রশ্ন ২: "বিষ্ণুচরণ বাবু, আপনি তো ভারি বিচ্ছিরি লোক।" — কেন ক্ষিতীশ এ কথা বলেছিলেন? বিষ্ণুচরণের খাদ্যাভ্যাসের পরিচয় দাও। (৩+২ নম্বর)

উত্তর: * কারণ: বিষ্ণুচরণ ধর অস্বাভাবিক মোটা হওয়া সত্ত্বেও নিজের খাদ্যাভ্যাস নিয়ন্ত্রণ করতে পারছিলেন না। তিনি ব্যায়াম করার বদলে কেবল খাওয়ার বাহানা খুঁজছিলেন। তাঁর এই আত্মনিয়ন্ত্রণহীনতা দেখে ক্ষিতীশ বিরক্তির সঙ্গে কথাটি বলেছিলেন।

 * খাদ্যাভ্যাস: বিষ্ণুচরণ বাবু বারুণীর দিনে গঙ্গার ঘাটে বসে আধসের জিলিপি, কড়াপাকের সন্দেশ এবং শেষে একটি বড় পেঁপে খেয়েছিলেন। এছাড়া বাড়িতে তাঁর রোজকার খাদ্যতালিকায় লুচি, ছোলার ডাল এবং প্রচুর মিষ্টির আধিক্য ছিল।

প্রশ্ন ৩: জুপিটার ক্লাবে ক্ষিতীশের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলি কী কী ছিল? (৫ নম্বর)

উত্তর: জুপিটার ক্লাবের বার্ষিক সভায় ধীরেন ঘোষ ও বিনোদ ভরভাজ ক্ষিতীশের বিরুদ্ধে নিম্নলিখিত অভিযোগগুলি আনেন:

১. ক্ষিতীশ সিংহ অত্যন্ত একগুঁয়ে এবং মেজাজি।

২. তিনি সাঁতারুদের ওপর অমানুষিক পরিশ্রম করান (যেমন—শ্যামলকে দিয়ে অতিরিক্ত ল্যাপ দেওয়ানো)।

৩. ক্লাবের পুরনো ও অভিজ্ঞ সদস্যদের তিনি সম্মান দেন না।

৪. আধুনিক সাঁতারের কৌশলের নামে তিনি ক্লাবের শৃঙ্খলা নষ্ট করছেন।

মূলত এই মিথ্যা অভিযোগগুলি সাজিয়ে তাঁকে ক্লাব থেকে পদত্যাগ করতে বাধ্য করা হয়।

কিছু ক্ষুদ্র তথ্য (MCQ/VSA এর জন্য নির্ভুল তালিকা)

 * বিষ্ণুচরণের ওজন: সাড়ে তিন মণ।

 * সিনহা টেলার্স: ক্ষিতীশের স্ত্রীর নাম লীলাবতী, তাঁর দোকানের নাম 'সিনহা টেলার্স'।

 * কোণীর দাদার নাম: কণকচন্দ (সে টিবি রোগে মারা যায়)।

 * জুপিটার ক্লাবের প্রতিদ্বন্দ্বী ক্লাব: অ্যাপোলো।

 * কোণীর প্রথম সাঁতারের পরীক্ষা: গঙ্গার ঘাটে আম কুড়ানো।

আপনার জন্য পরবর্তী ধাপ:

আপনি কি এই প্রথম ৪টি পরিচ্ছেদের ওপর ভিত্তি করে একটি মক টেস্ট পেপার (Mock Test Paper) পেতে চান? যা সমাধান করলে আপনার স্কুলের প্রথম 

সেমিস্টার পরীক্ষা আরও সহজ হবে।

••••••


চমৎকার! প্রথম পর্যায়ক্রমিক মূল্যায়নের (First Summative) প্রস্তুতির জন্য ১-৩২ পৃষ্ঠার (১-৪ পরিচ্ছেদ) ওপর ভিত্তি করে একটি আদর্শ মক টেস্ট পেপার নিচে দেওয়া হলো। এটি সমাধান করলে তোমার আত্মবিশ্বাস অনেক বাড়বে।

দশম শ্রেণি: প্রথম পর্যায়ক্রমিক মূল্যায়ন ২০২৬

বিষয়: বাংলা (সহায়ক পাঠ: কোণী) | পূর্ণমান: ১০ | সময়: ২০ মিনিট

১. সঠিক উত্তরটি নির্বাচন করো: (১ × ২ = ২)

(১.১) বিষ্ণুচরণ ধর গঙ্গার ঘাটে বসে যা খাচ্ছিলেন—

(ক) জিলিপি ও কচুরি

(খ) সন্দেশ ও বড় পেঁপে

(গ) লুচি ও ছোলার ডাল

(ঘ) চপ ও কাটলেট

(১.২) ক্ষিতীশের স্ত্রীর পরিচালিত দর্জির দোকানের নাম হলো—

(ক) জুপিটার টেলার্স

(খ) মডার্ন ড্রেসেস

(গ) সিনহা টেলার্স

(ঘ) বেঙ্গল ক্লদিং

২. কমবেশি ২০টি শব্দে উত্তর দাও: (১ × ৩ = ৩)

(২.১) "বিষ্ণুচরণ বাবু, আপনি তো ভারি বিচ্ছিরি লোক"— বক্তা কেন এ কথা বলেছেন?

(২.২) কোণীর বড় ভাইয়ের নাম কী? সে কোথায় কাজ করত?

(২.৩) জুপিটার ক্লাবে ক্ষিতীশের বিরুদ্ধে প্রধান অভিযোগ কী ছিল?

৩. কমবেশি ১৫০ শব্দে যে কোনো একটি প্রশ্নের উত্তর দাও: (৫ × ১ = ৫)

(৩.১) "তোর আসল লজ্জা জ্বলে যাওয়াই, আসল গর্ব জেতা।" — বক্তা কে? কোন প্রসঙ্গে এই উক্তি? উক্তিটির মাধ্যমে বক্তা কোণীকে কী শিক্ষা দিতে চেয়েছেন?

(৩.২) গঙ্গার ঘাটে কোণীর প্রথম আবির্ভাবের দৃশ্যটি নিজের ভাষায় বর্ণনা করো। ক্ষিতীশ কেন কোণীকে লক্ষ্য করেছিলেন?

উত্তর সংকেত (Self-Check):

 * ১.১: (খ) সন্দেশ ও বড় পেঁপে।

 * ১.২: (গ) সিনহা টেলার্স।

 * ২.১: বিষ্ণুচরণের নিজের শরীরের ওজনের ওপর কোনো নিয়ন্ত্রণ ছিল না এবং তিনি খাদ্যাভ্যাস সংযত করতে পারছিলেন না বলে ক্ষিতীশ এ কথা বলেন।

 * ২.২: কোণীর বড় ভাইয়ের নাম কণকচন্দ। সে একটি মোটর গ্যারেজে কাজ করত।

 * ২.৩: ক্ষিতীশ ভীষণ কড়া মাস্টার এবং তিনি ছাত্রদের ওপর অমানুষিক খাটুনি চাপিয়ে দেন—এই অভিযোগ তোলা হয়েছিল।

প্রস্তুতির জন্য টিপস:

বড় প্রশ্নের উত্তর লেখার সময় অবশ্যই পয়েন্ট করে লিখবে এবং উত্তরের শুরুতে "মতিনন্দীর 'কোণী' উপন্যাস থেকে গৃহীত..." এই লাইনটি ব্যবহার করবে। এতে উত্তরের মান অনেক বাড়ে।

আমি কি এই ৫ নম্বরের প্রশ্ন দুটির মধ্যে কোনোটির 'আদর্শ উত্তর' গুছিয়ে লিখে দেব? যা তুমি সরাসরি

 খাতায় প্র্যাকটিস করতে পারো।


•••••••

তোমার পরীক্ষার প্রস্তুতির জন্য ৩.১ এবং ৩.২ নম্বর প্রশ্নের আদর্শ উত্তর নিচে গুছিয়ে লিখে দিলাম। এই উত্তরগুলো খাতায় লিখে অভ্যাস করলে তুমি পরীক্ষায় পূর্ণ নম্বর পাওয়ার ক্ষেত্রে এগিয়ে থাকবে।

প্রশ্ন ৩.১: "তোর আসল লজ্জা জ্বলে যাওয়াই, আসল গর্ব জেতা।" — বক্তা কে? কোন প্রসঙ্গে এই উক্তি? উক্তিটির মাধ্যমে বক্তা কোণীকে কী শিক্ষা দিতে চেয়েছেন? (১+১+৩)

বক্তা: উদ্ধৃত অংশটির বক্তা প্রখ্যাত সাঁতার শিক্ষক ক্ষিতীশ সিংহ।

প্রসঙ্গ: উপন্যাসের চতুর্থ পরিচ্ছেদে দেখা যায়, কোণীর দাদা কণকচন্দর মৃত্যুর পর তাদের পরিবার চরম অর্থকষ্টে পড়ে। ক্ষিতীশ যখন কোণীকে সাঁতার শেখানোর প্রস্তাব দেন, তখন কোণী নিজের দারিদ্র্য, ছেঁড়া তালি দেওয়া জামা এবং মানুষের উপহাসের ভয়ে দ্বিধাগ্রস্ত ছিল। কোণীর এই কুণ্ঠা ও হীনম্মন্যতা দূর করতেই ক্ষিতীশ এই অমোঘ বাণীটি উচ্চারণ করেন।

শিক্ষার স্বরূপ: ক্ষিতীশ এই উক্তির মাধ্যমে কোণীকে খেলোয়াড়সুলভ মানসিকতা বা স্পোর্টসম্যান স্পিরিটের প্রকৃত শিক্ষা দিতে চেয়েছেন:

 * দারিদ্র্য লজ্জা নয়: তিনি বোঝাতে চেয়েছেন যে, আর্থিক অভাব বা সাধারণ পোশাক কোনো লজ্জার বিষয় নয়। প্রকৃত লজ্জা হলো লড়াইয়ের ময়দান থেকে ভয়ে পিছিয়ে আসা।

 * জেদ ও জেতা: একজন খেলোয়াড়ের কাছে শ্রেষ্ঠ সম্মান হলো তার সাফল্য। বাধা-বিপত্তি থাকবেই, কিন্তু তাকে অতিক্রম করে লক্ষ্যভেদে সমর্থ হওয়া বা জয়লাভ করাই হলো আসল গর্ব।

 * মানসিক রূপান্তর: ক্ষিতীশ চেয়েছিলেন কোণী যেন নিজের দারিদ্র্যকে অবজ্ঞা না করে তাকে শক্তিতে রূপান্তর করে। 'জ্বলে যাওয়া' অর্থাৎ প্রতিকূলতায় নিজেকে নিঃশেষ না করে 'জেতা'র মাধ্যমে নিজের পরিচয় প্রতিষ্ঠা করাই ছিল তাঁর মূল শিক্ষা।

প্রশ্ন ৩.২: গঙ্গার ঘাটে কোণীর প্রথম আবির্ভাবের দৃশ্যটি বর্ণনা করো। ক্ষিতীশ কেন কোণীকে লক্ষ্য করেছিলেন? (৩+২)

কোণীর আবির্ভাবের দৃশ্য: বারুণীর পুণ্যলগ্নে গঙ্গার ঘাটে আম কুড়ানোর ধুম লেগেছিল। প্রবল স্রোতের মধ্যে দূর থেকে ভেসে আসা একটি আম ধরার জন্য এক কিশোরী (কোণী) অক্লান্ত লড়াই করছিল। তার শরীর ছিল কৃশ ও রোদে পোড়া, পরনে একটা সাধারণ শাড়ি। ঘাটে উপস্থিত লোকেদের চিৎকার বা স্রোতের বেগ—কোনো কিছুকেই সে গ্রাহ্য করছিল না। প্রায় দেড় মাইল পথ সাঁতরে গিয়ে শেষ পর্যন্ত সে আমটি দখল করে এবং ঘাটে উঠে আসে। তার দুচোখে ছিল জেদ আর চোয়ালে ফুটে উঠেছিল অদম্য সংকল্প।

ক্ষিতীশের লক্ষ্য করার কারণ: সাঁতারের জহুরি ক্ষিতীশ সিংহ সাধারণ মানুষের ভিড়েও অসাধারণ প্রতিভা চিনতে ভুল করেননি। তিনি কোণীকে লক্ষ্য করেছিলেন কারণ:

 * অদম্য সহনশীলতা: প্রবল স্রোতে দীর্ঘ পথ সাঁতরে একটি আম ধরার জন্য কোণী যে শারীরিক ও মানসিক শক্তির পরিচয় দিয়েছিল, তা ক্ষিতীশকে অবাক করেছিল।

 * জেদি মানসিকতা: হার না মানার এক তীব্র জেদ কোণীর মধ্যে দেখেছিলেন ক্ষিতীশ, যা একজন বিশ্বমানের অ্যাথলেটের প্রধান গুণ।

 * ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা: কোণীর হাত-পায়ের গড়ন এবং জলের বিরুদ্ধে তার লড়াই করার ধরন দেখে অভিজ্ঞ শিক্ষক ক্ষিতীশ বুঝতে পেরেছিলেন যে, সঠিক প্রশিক্ষণ পেলে এই মেয়েটিই বাংলার সাঁতারে বিপ্লব ঘটাতে পারে।

বড় প্রশ্নের জন্য বিশেষ টিপস:

১. উত্তরগুলি লেখার সময় উদ্ধৃতি চিহ্ন (" ") সঠিকভাবে ব্যবহার করবে।

২. সম্ভব হলে লেখকের নাম (মতি নন্দী) এবং উপন্যাসের নাম (কোণী) বড় প্রশ্নের শুরুতে উল্লেখ করবে।

৩. পয়েন্টগুলো ছোট অথচ তথ্যবহুল করার চেষ্টা করবে।

তোমার প্রস্তুতির জন্য আর কোনো সাহায্য কি প্রয়োজন? যেমন পরের পরিচ্ছেদগুলোর আলোচনা বা অন্য

 কোনো বিষয়ের নোট?


•••••

দশম শ্রেণির প্রথম পর্যায়ক্রমিক মূল্যায়নে মতি নন্দীর 'কোণী' উপন্যাস থেকে ৫ নম্বরের প্রশ্নগুলি সাধারণত চরিত্র বিশ্লেষণ, কোনো বিশেষ ঘটনার বর্ণনা অথবা গুরুত্বপূর্ণ কোনো সংলাপে তাৎপর্য বিশ্লেষণধর্মী হয়।

১ থেকে ৩২ পৃষ্ঠার (প্রথম ৪টি পরিচ্ছেদ) ওপর ভিত্তি করে ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের জন্য সম্ভাব্য ৫ নম্বরের প্রশ্ন ও উত্তর নিচে দেওয়া হলো:

প্রশ্ন ১: "ক্ষিতীশ সিংহ জুপিটার ক্লাব ত্যাগ করলেন কেন?" (ঘটনা বিশ্লেষণ)

ভূমিকা: মতিনন্দীর 'কোণী' উপন্যাসের অন্যতম প্রধান চরিত্র ক্ষিতীশ সিংহ ছিলেন জুপিটার ক্লাবের দীর্ঘদিনের সাঁতার শিক্ষক। কিন্তু ক্লাবের অভ্যন্তরীণ রাজনীতি ও তাঁর আদর্শগত সংঘাতের কারণে তিনি ক্লাব ত্যাগ করেন।

কারণসমূহ:

 * অনমনীয় শৃঙ্খলা: ক্ষিতীশ ছিলেন ভীষণ কড়া মাস্টার। তিনি মনে করতেন কড়া শাসন ছাড়া চ্যাম্পিয়ন তৈরি সম্ভব নয়। কিন্তু ক্লাবের অন্য কর্তারা (ধীরেন ঘোষ, বিনোদ ভরভাজ) ছাত্রদের প্রতি তাঁর এই কঠোরতা পছন্দ করতেন না।

 * মিথ্যা অভিযোগ: ক্লাবের বার্ষিক সভায় ক্ষিতীশের বিরুদ্ধে সাজানো অভিযোগ আনা হয়। বলা হয়—তিনি ছাত্রদের ওপর অমানুষিক খাটুনি চাপিয়ে দেন এবং পুরনো সদস্যদের সম্মান করেন না।

 * ষড়যন্ত্র ও অপমান: জুপিটারের কর্তারা আসলে চেয়েছিলেন ক্ষিতীশকে সরিয়ে নিজেদের পছন্দের লোককে ট্রেনার করতে। সভায় তাঁকে কথা বলার সুযোগ না দিয়ে অপমান করা হয়।

উপসংহার: ক্ষিতীশ বুঝতে পেরেছিলেন যে এই ক্লাবে থেকে তাঁর স্বপ্ন সফল হবে না। নিজের আত্মসম্মান বজায় রাখতে এবং সাঁতারের আদর্শকে ধরে রাখতে তিনি স্বেচ্ছায় জুপিটার ক্লাব থেকে পদত্যাগ করেন।

প্রশ্ন ২: 'কোণী' উপন্যাসের প্রথম ৪টি পরিচ্ছেদ অবলম্বনে 'ক্ষিতীশ সিংহ' চরিত্রটির পরিচয় দাও। (চরিত্র বিশ্লেষণ)

উত্তর: 'কোণী' উপন্যাসের কেন্দ্রীয় চরিত্র ক্ষিতীশ সিংহ একজন আদর্শবাদী ও জহুরি তুল্য সাঁতার শিক্ষক। প্রথম ৩২ পৃষ্ঠায় তাঁর চরিত্রের নিম্নলিখিত বৈশিষ্ট্যগুলি ধরা পড়ে:

 * প্রতিভা অন্বেষী: গঙ্গার ঘাটে হাজারো মানুষের ভিড়ে আম কুড়ানোর জন্য এক কিশোরীর (কোণী) লড়াই দেখে তিনি তার মধ্যে আগামীর সম্ভাবনা খুঁজে পান। তিনি সত্যিকারের 'জহুরি' যিনি কাদা মাখা হিরে চিনতে ভুল করেন না।

 * বিলাসহীন ও একনিষ্ঠ: তাঁর জীবন কেবল সাঁতারকে কেন্দ্র করে আবর্তিত। নিজের সুখ-স্বাচ্ছন্দ্য বা সংসারের অভাবের চেয়ে একজন বড় সাঁতারু তৈরি করাই তাঁর কাছে বেশি গুরুত্বপূর্ণ।

 * সংগ্রামী ও প্রতিবাদী: জুপিটার ক্লাবের নোংরা রাজনীতির কাছে তিনি মাথা নত করেননি। অন্যায়ের প্রতিবাদে তিনি আজীবনের প্রিয় ক্লাবটি ছেড়ে বেরিয়ে আসার সাহস দেখিয়েছেন।

 * সহমর্মী শিক্ষক: কোণীর দাদার মৃত্যুর পর তার পরিবারের পাশে দাঁড়ানো এবং কোণীর দায়িত্ব নেওয়া তাঁর চরিত্রের মানবিক দিকটি উজ্জ্বল করে তোলে।

প্রশ্ন ৩: "কণকচন্দর মৃত্যু কোণীর জীবনে কী প্রভাব ফেলেছিল?" (পরিণতি বিশ্লেষণ)

উত্তর: কোণীর বড় দাদা কণকচন্দ ছিল তাদের পরিবারের একমাত্র স্তম্ভ। তার আকস্মিক মৃত্যু কোণীর জীবনে এক বিশাল পরিবর্তন নিয়ে আসে।

 * আর্থিক বিপর্যয়: কণকচন্দ একটি মোটর গ্যারেজে কাজ করে কোনোমতে সংসার চালাত। তার মৃত্যুতে কোণীদের সাত জনের পরিবার চরম অন্নকষ্টে পড়ে। বস্তির জীবন আরও দুর্বিষহ হয়ে ওঠে।

 * লক্ষ্যহীনতা: দাদাই ছিল কোণীর একমাত্র আশ্রয়। দাদার মৃত্যুর পর কোণী যখন দিশেহারা, তখন তার জীবনে শূন্যতা তৈরি হয়।

 * ক্ষিতীশের প্রবেশ: তবে এই ট্র্যাজেডিই পরোক্ষভাবে কোণীর জীবনে আশীর্বাদ হয়ে আসে। কণকচন্দর অভাব পূরণ করতে এবং পরিবারকে বাঁচাতে কোণী ক্ষিতীশ সিংহের কাছে সাঁতার শেখার প্রস্তাব গ্রহণ করে। দাদার মৃত্যু তাকে জীবনের কঠিন লড়াইয়ে নামিয়ে দেয়, যা শেষ পর্যন্ত তাকে সাফল্যের শীর্ষে নিয়ে যায়।

উত্তরের মান উন্নত করার টিপস:

১. উত্তরটি লেখার সময় "কোণী উপন্যাসের প্রথম ৪টি পরিচ্ছেদ অনুসারে..."—এই বাক্যটি দিয়ে শুরু করবে।

২. সম্ভব হলে উত্তরের মধ্যে লেখকের নাম (মতি নন্দী) উল্লেখ করবে।

৩. পয়েন্ট করে উত্তর লিখলে শিক্ষকের বুঝতে সুবিধা হয় এবং নম্বর ভালো পাওয়া যায়।

আপনার কি অন্য কোনো অধ্যায়ের (যেমন ৫ বা ৬ পরিচ্ছেদ) প্রশ্ন প্রয়োজন? নাকি কোণী চরিত্রের কোনো নির্দিষ্ট

 উদ্ধৃতির ব্যাখ্যা চাই?


Comments

Popular posts from this blog

দর্শন প্রথম সেমিস্টার সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন উত্তর।

দর্শন প্রথম সেমিস্টার সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর (পশ্চিমবঙ্গ রাষ্ট্রীয় বিশ্ববিদ্যালয়, মাইনর সিলেবাস)  ১)চার্বাক মতে ভূত কয়টি ও কি কি? উত্তরঃচার্বাক মতে ভূত চারটি- ক্ষিতি, অপ্ , তেজ ও মরুৎ ২) স্বভাববাদ কী? উত্তরঃ চার্বাক জড়বাদের ভিত্তি হল স্বভাববাদ। যে মতবাদ অনুসারে স্বভাব থেকেই ভূত সৃষ্টি, আবার স্বভাব থেকেই বিচ্ছেদ। যার জন্য ঈশ্বরকে স্বীকার করা প্রয়োজন নেই। ৩) অব্যাপ্যদেশ কথাটির অর্থ লেখো। উত্তরঃ অব্যাপ্যদেশ বলতে বোঝায়- অশাব্দ অর্থাৎ যাকে শব্দের দ্বারা প্রকাশ করা যায় না। ৫) জ্ঞান লক্ষণ প্রত্যক্ষ কাকে বলে?  কোন একটি ইন্দ্রিয়ের মাধ্যমে তার নিজের বিষয়ীভূত গুণ ছাড়াও যদি অপর একটি ইন্দ্রিয়ের বিষয়ীভূত গুণকে প্রত্যক্ষ করার হয়, তাহলে সেই প্রত্যক্ষকে জ্ঞানলক্ষণ প্রত্যক্ষ বলা হয়। ৬) ন্যায় মতে প্রমাণের প্রকার  উত্তরঃ ন্যায় মতে প্রমাণ চার প্রকার। প্রত্যক্ষ, অনুমান, উপমান এবং শাব্দ। ৭) সন্নিকর্ষ কাকে বলে? উত্তরঃ ন্যায় মতে ইন্দ্রিয় ও কোন বাস্তব পদার্থের মধ্যে একপ্রকার বিশেষ সম্পর্ক ঘটলে তবেই আমাদের একটি বস্তুর প্রত্যক্ষজ্ঞান ।আর ঐ বিশেষ বিশেষ সম্পর্কের পারিভাষিক নাম হলো সন...

ইতিহাস (3rd Semester) সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর।

 তৃতীয় সেমিস্টার ইতিহাস মাইনর সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর (পশ্চিমবঙ্গ রাষ্ট্রীয় বিশ্ববিদ্যালয়, তৃতীয় সেমিস্টার ইতিহাস মাইনর)। ১)বন্দেগান-ই-চাহালগানি বলতে কী বোঝায়? •উত্তরঃবন্দেগান-ই-চাহালগান বলতে চল্লিশ জন তুর্কি ও অ-তুর্কি দাসদের সমন্বয়ে গঠিত একটি বাহিনীকে বোঝায়। এই বাহিনীকে ডাল চালিশা বা তুরকান-ই- চাহালগানি নামে ডাকা হতো। ২)আমির খসরু কে ছিলেন? •উত্তরঃ আমির খসরু ছিলেন প্রখ্যাত সুফি সাধক বা আরেফ নিজামউদ্দিন আওলিয়ার ছাত্র এবং অন্যতম প্রধান খলিফা। যাঁকে 'ভারতের তোতা' উপাধি দেওয়া হয়েছিল। ৩) মহরানা প্রতাপ কে ছিলেন?  •উত্তরঃ মেবারের শিশোদিয়া রাজবংশের একজন হিন্দু রাজপুত রাজা ছিলেন মহারানা প্রতাপ সিং। যিনি রাজপুতদের বীরত্ব ও দৃঢ় সংকল্পের প্রতীক। বহু বছর ধরে তিনি মুঘল সম্রাট আকবরের সঙ্গে লড়াই করেন। ৪) জায়গীরদারী সংকট কী? •উত্তরঃ জায়গিরদারী সংকট ছিল মোগল সাম্রাজ্যের একটি অর্থনৈতিক সংকট। এই সংকটে জমি বা জায়গিরের অভাব দেখা দিয়েছিল। যার ফলে প্রশাসনিক খরচ মেটানো এবং যুদ্ধের খরচ বহন করা সম্ভব হতো না। ৫) দাক্ষিণাত্য ক্ষত কী? •উত্তরঃ দাক্ষিণাত্য ক্ষত বলতে ঔরঙ্গজেবের দাক্ষিণাত্য নীত...

ব্রিটিশ(3rd.Sem) পার্লামেন্টের সার্বভৌমত্ব

ব্রিটিশ পার্লামেন্টের সার্বভৌমত্ব আলোচনা করো (পশ্চিমবঙ্গ রাষ্ট্রীয় বিশ্ববিদ্যালয়, তৃতীয় সেমিস্টার, রাষ্ট্রবিজ্ঞান মাইনর সিলেবাস)।         আমরা জানি যে,ব্রিটেনের সংবিধান অলিখিত বলে বিভিন্ন ঐতিহাসিক দলিল, শাসনতান্ত্রিক রীতিনীতি, পার্লামেন্ট প্রণীত আইন প্রভৃতির মাধ্যমে পার্লামেন্টের সার্বভৌমত্ব অর্জিত হয়েছে। ব্রিটেনের পার্লামেন্ট আইনানুগ সার্বভৌমত্ব অর্জন করেছে, রাজনৈতিক সার্বভৌমত্ব নয়। আর সেখানে ব্রিটিশ পার্লামেন্টকে আইনানুগ সার্বভৌমত্ব বলা হয়, কারণ-       যেকোনো বিষয়ে পার্লামেন্ট আইন প্রণনয়নের অধিকারী। তবে ব্রিটিশ পার্লামেন্ট এককেন্দ্রিক রাষ্ট্র হওয়ায় পার্লামেন্টে কোন আইন প্রণয়নের সময় প্রতিদ্বন্দ্বিতা হয় না। আসলে সেখানে কমন্সসভা তথা নিম্নকক্ষের সার্বভৌমত্বকেই বলা হয় পার্লামেন্টের সার্বভৌমত্ব।     ••ব্রিটিশ পার্লামেন্টকে সার্বভৌমত্ব বলার কারণ- ১) পার্লামেন্টের ওপর আইনগত কোনরূপ বাধানিষেধ আরোপ করা যায় না। ২) পার্লামেন্ট প্রণীত আইনের বৈধতার ব্যাপারে আদালত কোন প্রশ্ন তুলতে পারেনা। ব্রিটেনের আদালত পার্লামেন্ট প্রণীত আইনের ওপর বিচার বি...