Skip to main content

বৌদ্ধ

আলোচনার শুরুতেই আমরা বলে রাখি যে,প্রাচীন ভারতের শিক্ষা ইতিহাসে বৌদ্ধ ও ব্রাহ্মণ্য শিক্ষা ব্যবস্থা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এদের মধ্যে বেশ কিছু সাদৃশ্য থাকলেও মৌলিক পার্থক্য বিদ্যমান।

সাদৃশ্য (Similarities)

| শিক্ষার লক্ষ্য | মোক্ষলাভ বা আত্মার মুক্তি। | নির্বাণলাভ বা চির মুক্তি। |

| নৈতিকতা ও শৃঙ্খলা | সংযম, কঠোর নিয়মানুবর্তিতা ও ব্রহ্মচর্যের উপর জোর। | সংযম, নিয়মানুবর্তিতা ও সঙ্ঘজীবনের কঠোর নীতি পালন। |

| শিক্ষণ পদ্ধতি | প্রধানত মৌখিক পদ্ধতি, আলোচনা ও বিতর্ক। | প্রধানত মৌখিক পদ্ধতি, আলোচনা, উপকথা ও গল্পের মাধ্যমে। |

| শিক্ষার পরিবেশ | লোকালয় থেকে দূরে তপোবন বা গুরুগৃহের প্রাকৃতিক পরিবেশ। | লোকালয় থেকে দূরে বিহার বা সঙ্ঘারামের প্রাকৃতিক পরিবেশ। |

| শিক্ষা ব্যয় | উভয় শিক্ষাব্যবস্থাই ছিল অবৈতনিক (বিনা বেতনে)। | উভয় শিক্ষাব্যবস্থাই ছিল অবৈতনিক। |

| ভিক্ষাবৃত্তি | ছাত্রদের ভিক্ষাবৃত্তি গ্রহণ করা আবশ্যিক ছিল। | ভিক্ষুদের (শ্রমণ/ভিক্ষু) ভিক্ষাবৃত্তি গ্রহণ করা আবশ্যিক ছিল। |

| রাষ্ট্রীয় নিয়ন্ত্রণ | উভয় শিক্ষাব্যবস্থাই ছিল রাষ্ট্রীয় নিয়ন্ত্রণের ঊর্ধ্বে। | উভয় শিক্ষাব্যবস্থাই ছিল রাষ্ট্রীয় নিয়ন্ত্রণের ঊর্ধ্বে। |

বৈসাদৃশ্য (Dissimilarities)

| ক্ষেত্র (Area) | ব্রাহ্মণ্য শিক্ষা (Brahmanical Education) | বৌদ্ধ শিক্ষা (Buddhist Education) |

|---|---|---|

১) শিক্ষার কেন্দ্র হিসেবে ব্রাহ্মণদের প্রধানত গুরুগৃহ বা তপোবন ভিত্তিক ঘরোয়া ব্যবস্থা ছিল। কিন্তু-

       •বৌদ্ধদের শিক্ষার কেন্দ্র হিসেবে মঠ বা বিহার ভিত্তিক অর্থাৎ সংঘকেন্দ্রিক, সংঘবদ্ধ ব্যবস্থা ছিল।

২) ব্রাহ্মণ শিক্ষার্থীর শিক্ষা শেষে গার্হস্থ্য জীবনে ফিরে যাওয়ার সুযোগ ছিল (চতুরাশ্রম)। কিন্তু-

    •বৌদ্ধ শিক্ষাব্যবস্থায় শিক্ষা গ্রহণ মানেই গার্হস্থ্য জীবনের চিরতরে ত্যাগ।

৩)  ব্রাহ্মণ্য শিক্ষা ব্যবস্থায় শিক্ষার প্রবেশাধিকার ছিল প্রধানত ব্রাহ্মণ, ক্ষত্রিয় ও বৈশ্য এই তিন বর্ণের জন্য সীমাবদ্ধ ছিল অর্থাৎ  জাতিভেদ ছিল। কিন্তু-

     • বৌদ্ধ শিক্ষা ব্যবস্থায় জাতিভেদ প্রথা ছিল না, সকল বর্ণের মানুষ শিক্ষার সুযোগ পেত, অর্থাৎ সার্বজনীনতা ছিল।

৪)  ব্রাহ্মণ্য শিক্ষা ব্যবস্থায় শিক্ষারম্ভ অনুষ্ঠান ছিল উপনয়ন অর্থাৎ ৮, ১১, ১২ বছর বয়সে। কিন্তু-

      •বৌদ্ধ শিক্ষা ব্যবস্থায় প্রব্রজ্যা অর্থাৎ প্রাথমিক দীক্ষা,যেটি সূচনা হতো কমপক্ষে ১৫ বছর বয়সে)। |

|৫)  শিক্ষার ভিত্তি | বেদ এবং আশ্রমজীবন। | ত্রিপিটক এবং সঙ্ঘজীবন। |

|৬) শিক্ষার মাধ্যম | প্রধানত সংস্কৃত ভাষা। | প্রধানত পালি ভাষা (জনসাধারণের ভাষা), তবে উচ্চশিক্ষায় সংস্কৃতও ছিল। |

| ৭)গুরু-শিষ্য সম্পর্ক | গুরু-শিষ্যের সম্পর্ক ছিল পিতা-পুত্রের মতো ব্যক্তিগত ও ঘনিষ্ঠ। | বিহারে শিক্ষকের সাথে ছাত্রের সম্পর্ক ততটা ঘনিষ্ঠ ছিল না, বরং দলগত ছিল। |

|৮)  শিক্ষার লক্ষ্য | মোক্ষলাভ ছিল চূড়ান্ত লক্ষ্য; গার্হস্থ্য জীবনের প্রস্তুতিও গুরুত্বপূর্ণ ছিল। | নির্বাণলাভই ছিল একমাত্র লক্ষ্য, গার্হস্থ্য জীবনের কোনো গুরুত্ব ছিল না। |

বৌদ্ধ শিক্ষা ব্যবস্থায় জাতি-ধর্ম নির্বিশেষে সকলের জন্য শিক্ষার দ্বার উন্মুক্ত করা হয়, যা ব্রাহ্মণ্য শিক্ষা ব্যবস্থার একচেটিয়া অধিকারকে চ্যালেঞ্জ করে। অন্যদিকে, ব্রাহ্মণ্য শিক্ষা ব্যবস্থা গুরুগৃহে ব্যক্তিগত মনোযোগ ও পারিবারিক পরিবেশের মাধ্যমে শিক্ষাকে এগিয়ে নিয়ে যায়। উভয় শিক্ষাব্যবস্থা ভারতের প্রাচীন শিক্ষা ও সংস্কৃতিতে গভীর প্রভাব ফেলেছিল।

এই ভিডিওতে ব্রাহ্মণ্য ও বৌদ্ধ শিক্ষাব্যবস্থার তুলনামূলক আলোচনা করা হয়েছে: ব্রাহ্মণ্য ও বৌদ্ধ শিক্ষাব্যবস্থার মধ্যে তুলনা Brahmanic & Buddhist Education System


YouTube ইতিহাসে আপনার YouTube ভিডিওর ভিউ স্টোর হয়ে যাবে এবং YouTube আপনার ডেটা নিজের পরিষেবার শর্তাবলী অনুযা

য়ী স্টোর ও ব্যবহার করবে

Comments

Popular posts from this blog

দর্শন প্রথম সেমিস্টার সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন উত্তর।

দর্শন প্রথম সেমিস্টার সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর (পশ্চিমবঙ্গ রাষ্ট্রীয় বিশ্ববিদ্যালয়, মাইনর সিলেবাস)  ১)চার্বাক মতে ভূত কয়টি ও কি কি? উত্তরঃচার্বাক মতে ভূত চারটি- ক্ষিতি, অপ্ , তেজ ও মরুৎ ২) স্বভাববাদ কী? উত্তরঃ চার্বাক জড়বাদের ভিত্তি হল স্বভাববাদ। যে মতবাদ অনুসারে স্বভাব থেকেই ভূত সৃষ্টি, আবার স্বভাব থেকেই বিচ্ছেদ। যার জন্য ঈশ্বরকে স্বীকার করা প্রয়োজন নেই। ৩) অব্যাপ্যদেশ কথাটির অর্থ লেখো। উত্তরঃ অব্যাপ্যদেশ বলতে বোঝায়- অশাব্দ অর্থাৎ যাকে শব্দের দ্বারা প্রকাশ করা যায় না। ৫) জ্ঞান লক্ষণ প্রত্যক্ষ কাকে বলে?  কোন একটি ইন্দ্রিয়ের মাধ্যমে তার নিজের বিষয়ীভূত গুণ ছাড়াও যদি অপর একটি ইন্দ্রিয়ের বিষয়ীভূত গুণকে প্রত্যক্ষ করার হয়, তাহলে সেই প্রত্যক্ষকে জ্ঞানলক্ষণ প্রত্যক্ষ বলা হয়। ৬) ন্যায় মতে প্রমাণের প্রকার  উত্তরঃ ন্যায় মতে প্রমাণ চার প্রকার। প্রত্যক্ষ, অনুমান, উপমান এবং শাব্দ। ৭) সন্নিকর্ষ কাকে বলে? উত্তরঃ ন্যায় মতে ইন্দ্রিয় ও কোন বাস্তব পদার্থের মধ্যে একপ্রকার বিশেষ সম্পর্ক ঘটলে তবেই আমাদের একটি বস্তুর প্রত্যক্ষজ্ঞান ।আর ঐ বিশেষ বিশেষ সম্পর্কের পারিভাষিক নাম হলো সন...

ইতিহাস (3rd Semester) সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর।

 তৃতীয় সেমিস্টার ইতিহাস মাইনর সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর (পশ্চিমবঙ্গ রাষ্ট্রীয় বিশ্ববিদ্যালয়, তৃতীয় সেমিস্টার ইতিহাস মাইনর)। ১)বন্দেগান-ই-চাহালগানি বলতে কী বোঝায়? •উত্তরঃবন্দেগান-ই-চাহালগান বলতে চল্লিশ জন তুর্কি ও অ-তুর্কি দাসদের সমন্বয়ে গঠিত একটি বাহিনীকে বোঝায়। এই বাহিনীকে ডাল চালিশা বা তুরকান-ই- চাহালগানি নামে ডাকা হতো। ২)আমির খসরু কে ছিলেন? •উত্তরঃ আমির খসরু ছিলেন প্রখ্যাত সুফি সাধক বা আরেফ নিজামউদ্দিন আওলিয়ার ছাত্র এবং অন্যতম প্রধান খলিফা। যাঁকে 'ভারতের তোতা' উপাধি দেওয়া হয়েছিল। ৩) মহরানা প্রতাপ কে ছিলেন?  •উত্তরঃ মেবারের শিশোদিয়া রাজবংশের একজন হিন্দু রাজপুত রাজা ছিলেন মহারানা প্রতাপ সিং। যিনি রাজপুতদের বীরত্ব ও দৃঢ় সংকল্পের প্রতীক। বহু বছর ধরে তিনি মুঘল সম্রাট আকবরের সঙ্গে লড়াই করেন। ৪) জায়গীরদারী সংকট কী? •উত্তরঃ জায়গিরদারী সংকট ছিল মোগল সাম্রাজ্যের একটি অর্থনৈতিক সংকট। এই সংকটে জমি বা জায়গিরের অভাব দেখা দিয়েছিল। যার ফলে প্রশাসনিক খরচ মেটানো এবং যুদ্ধের খরচ বহন করা সম্ভব হতো না। ৫) দাক্ষিণাত্য ক্ষত কী? •উত্তরঃ দাক্ষিণাত্য ক্ষত বলতে ঔরঙ্গজেবের দাক্ষিণাত্য নীত...

ব্রিটিশ(3rd.Sem) পার্লামেন্টের সার্বভৌমত্ব

ব্রিটিশ পার্লামেন্টের সার্বভৌমত্ব আলোচনা করো (পশ্চিমবঙ্গ রাষ্ট্রীয় বিশ্ববিদ্যালয়, তৃতীয় সেমিস্টার, রাষ্ট্রবিজ্ঞান মাইনর সিলেবাস)।         আমরা জানি যে,ব্রিটেনের সংবিধান অলিখিত বলে বিভিন্ন ঐতিহাসিক দলিল, শাসনতান্ত্রিক রীতিনীতি, পার্লামেন্ট প্রণীত আইন প্রভৃতির মাধ্যমে পার্লামেন্টের সার্বভৌমত্ব অর্জিত হয়েছে। ব্রিটেনের পার্লামেন্ট আইনানুগ সার্বভৌমত্ব অর্জন করেছে, রাজনৈতিক সার্বভৌমত্ব নয়। আর সেখানে ব্রিটিশ পার্লামেন্টকে আইনানুগ সার্বভৌমত্ব বলা হয়, কারণ-       যেকোনো বিষয়ে পার্লামেন্ট আইন প্রণনয়নের অধিকারী। তবে ব্রিটিশ পার্লামেন্ট এককেন্দ্রিক রাষ্ট্র হওয়ায় পার্লামেন্টে কোন আইন প্রণয়নের সময় প্রতিদ্বন্দ্বিতা হয় না। আসলে সেখানে কমন্সসভা তথা নিম্নকক্ষের সার্বভৌমত্বকেই বলা হয় পার্লামেন্টের সার্বভৌমত্ব।     ••ব্রিটিশ পার্লামেন্টকে সার্বভৌমত্ব বলার কারণ- ১) পার্লামেন্টের ওপর আইনগত কোনরূপ বাধানিষেধ আরোপ করা যায় না। ২) পার্লামেন্ট প্রণীত আইনের বৈধতার ব্যাপারে আদালত কোন প্রশ্ন তুলতে পারেনা। ব্রিটেনের আদালত পার্লামেন্ট প্রণীত আইনের ওপর বিচার বি...