•সীতার বনবাস: সংক্ষিপ্ত টীকা•
আমরা জানি যে,লঙ্কাজয়ের পর রামচন্দ্র অযোধ্যার রাজা হিসেবে সিংহাসনে আরোহণ করেন এবং সীতা রানীর মর্যাদা লাভ করেন। কিন্তু অযোধ্যার প্রজাদের একাংশ সীতার পবিত্রতা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করতে শুরু করে। রামচন্দ্র মনে করতেন যে, আদর্শ রাজার প্রধান কর্তব্য হলো প্রজাদের সন্তুষ্ট রাখা। তাই ব্যক্তিগত ভালোবাসা বিসর্জন দিয়ে লোকনিন্দার ভয়ে তিনি অন্তঃসত্ত্বা সীতাকে নির্বাসনে দেওয়ার কঠিন সিদ্ধান্ত নেন। আর সেখানে বনবাসের ঘটনা-
রামের আদেশে লক্ষ্মণ সীতাকে রথে করে গঙ্গার তীরে বাল্মীকি মুনির আশ্রমের কাছে রেখে আসেন। সীতা জানতেন না যে তাঁকে চিরতরে নির্বাসন দেওয়া হচ্ছে; তিনি ভেবেছিলেন এটি সাধারণ কোনো তপোবন ভ্রমণ। লক্ষ্মণের মুখ থেকে সত্য জানার পর তিনি মর্মাহত হন, কিন্তু পতিব্রতা ও ধৈর্যশীলা সীতা প্রজাসাধারণের মঙ্গলের কথা ভেবে এই কঠিন দণ্ড মাথা পেতে নেন।
বনবাসকালে বাল্মীকি মুনি সীতাকে নিজের কন্যার মতো আশ্রয় দেন। সেখানেই সীতা দুই যমজ পুত্র লব ও কুশের জন্ম দেন। বাল্মীকির আশ্রমে রামের সান্নিধ্য ছাড়াই সীতা তাঁর সন্তানদের বীর যোদ্ধা ও আদর্শ মানুষ হিসেবে গড়ে তোলেন।
পরিশেষে আমরা বলতে পারি যে,বাংলা সাহিত্যে ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর ১৮৬০ সালে 'সীতার বনবাস' নামক আখ্যানটি রচনা করেন। তাঁর লেখনীতে সীতার দুঃখ-বেদনা এক অনন্য মানবিক রূপ পেয়েছে। ভবভূতির 'উত্তররামচরিত' ও বাল্মীকির 'রামায়ণ' অনুসরণে রচিত এই গ্রন্থে বিদ্যাসাগর সীতার করুণ জীবনগাথাকে অত্যন্ত প্রাঞ্জল ও হৃদয়স্পর্শী ভাষায় তুলে ধরেছেন।আসলে-
সীতার বনবাস কেবল একটি পৌরাণিক ঘটনা নয়, এটি নারীর ত্যাগ, ধৈর্য এবং তৎকালীন সমাজব্যবস্থায় রাজধর্মের কঠোরতার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। রামায়ণের এই অংশটি আজও মানুষের মনে সহমর্মিতা ও শোকের উদ্রেক করে।
Comments
Post a Comment