Skip to main content

ছন্দে শুধু কান রাখো অজিত দত্ত।

কবি অজিত দত্ত 'ছন্দে শুধু কান রাখো' কবিতার মূল বিষয়বস্তু আলোচনা করো সপ্তম শ্রেণী বাংলা সাহিত্য মেলা।

      কবি অজিত দত্তের 'ছন্দে শুধু কান রাখো' কবিতাটি মূলত প্রকৃতির অন্তর্নিহিত ছন্দ এবং জীবনের গতির সঙ্গে সেই ছন্দের মেলবন্ধন নিয়ে রচিত। কবি এখানে বোঝাতে চেয়েছেন যে, এই মহাবিশ্বের প্রতিটি উপাদানেই একটা নির্দিষ্ট সুর ও ছন্দ বিদ্যমান—আমাদের শুধু তা অনুভব করার মতো একাগ্রতা প্রয়োজন।আর সেখানে 

         •দ্বন্দ্ব ভুলে একাগ্রতা বৃদ্ধি করার অনুরোধ।কবিতার শুরুতেই কবি পাঠকদের অনুরোধ করেছেন জীবনের সব কলহ, দ্বন্দ্ব এবং ঝগড়া ভুলে যেতে। কারণ মনের মধ্যে অশান্তি থাকলে প্রকৃতির সূক্ষ্ম ছন্দ ধরা সম্ভব নয়। কবির ভাষায়-

"মন্দে যাঁদের মন গলেনি, ছন্দ আছে ঝগড়া-ঝাঁটিতেও /

ছন্দহীন তো নয়কো কিছু, ছন্দে শুধু কান রাখো।"

         আলোচ্য কবিতায় প্রকৃতির সর্বত্র ছন্দের উপস্থিতি লক্ষ্যণীয়।প্রকৃতির প্রতিটি তুচ্ছাতিতুচ্ছ ঘটনার মধ্যেও ছন্দ রয়েছে। ঝড়-বৃষ্টি, জ্যোৎস্না, দুপুরের ঝিঁঝিঁ পোকার ডাক কিম্বা পাখির কূজন-সবই একটি নিয়মে চলে। এমনকি ঘড়ির কাঁটার টিকটিক শব্দেও ছন্দ আছে। কবি প্রকৃতির এই ছন্দময় রূপকে এভাবে ফুটিয়ে তুলেছেন। সেখানে কবি বলেন-

"নদীর স্রোতের ছন্দ যদি মনের মাঝে শুনতে পাও, /

দেখবে তখন ছন্দমময় পৃথিবীটা চিনতে পার।"

          •জীবনবোধ ও অনুভবের জগৎ এর অনুভব এ কবিতার মূল সুর।আর সেখানে কবি মনে করেন, যারা কান পেতে প্রকৃতির ছন্দ শুনতে পায়, তাদের জন্য পৃথিবীটা সহজ ও সুন্দর হয়ে ওঠে। ছন্দ বুঝতে পারলে জীবনের জটিলতা কমে যায় এবং পৃথিবীটা তখন শুধু দেখার নয়, বরং অনুভবের বিষয় হয়ে দাঁড়ায়।

"কান পেতে যা শুনতে পাবে কিচ্ছুটি নয় ছন্দহীন, /

সকল ছন্দ চিনলে তোমার ভুবন হবে ছন্দময়।"

          কবিতার শেষে কবি বলেছেন যে,যারা এই ছন্দ অনুভব করতে পারে না, তাদের জীবন হয়ে পড়ে নিরানন্দ ও গদ্যময়। পক্ষান্তরে, ছন্দের সন্ধান পেলে মানুষের কল্পনাশক্তি বাড়ে এবং সে তার জীবনের আসল 'মজা' বা আনন্দ খুঁজে পায়। আসলে-

        কবি অজিত দত্ত এই কবিতায় বলতে চেয়েছেন যে, আমাদের চারপাশের জগতটি ছন্দহীন নয়। অরণ্য, নদী, পাখি কিংবা যান্ত্রিক ঘড়ি—সবকিছুই একটি মহাজাগতিক ছন্দের অংশ। যদি আমরা মনের কান দিয়ে সেই স্পন্দন শুনতে পাই, তবেই আমাদের জীবন অর্থবহ এবং ছন্দময় হয়ে উঠবে।


Comments

Popular posts from this blog

দর্শন প্রথম সেমিস্টার সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন উত্তর।

দর্শন প্রথম সেমিস্টার সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর (পশ্চিমবঙ্গ রাষ্ট্রীয় বিশ্ববিদ্যালয়, মাইনর সিলেবাস)  ১)চার্বাক মতে ভূত কয়টি ও কি কি? উত্তরঃচার্বাক মতে ভূত চারটি- ক্ষিতি, অপ্ , তেজ ও মরুৎ ২) স্বভাববাদ কী? উত্তরঃ চার্বাক জড়বাদের ভিত্তি হল স্বভাববাদ। যে মতবাদ অনুসারে স্বভাব থেকেই ভূত সৃষ্টি, আবার স্বভাব থেকেই বিচ্ছেদ। যার জন্য ঈশ্বরকে স্বীকার করা প্রয়োজন নেই। ৩) অব্যাপ্যদেশ কথাটির অর্থ লেখো। উত্তরঃ অব্যাপ্যদেশ বলতে বোঝায়- অশাব্দ অর্থাৎ যাকে শব্দের দ্বারা প্রকাশ করা যায় না। ৫) জ্ঞান লক্ষণ প্রত্যক্ষ কাকে বলে?  কোন একটি ইন্দ্রিয়ের মাধ্যমে তার নিজের বিষয়ীভূত গুণ ছাড়াও যদি অপর একটি ইন্দ্রিয়ের বিষয়ীভূত গুণকে প্রত্যক্ষ করার হয়, তাহলে সেই প্রত্যক্ষকে জ্ঞানলক্ষণ প্রত্যক্ষ বলা হয়। ৬) ন্যায় মতে প্রমাণের প্রকার  উত্তরঃ ন্যায় মতে প্রমাণ চার প্রকার। প্রত্যক্ষ, অনুমান, উপমান এবং শাব্দ। ৭) সন্নিকর্ষ কাকে বলে? উত্তরঃ ন্যায় মতে ইন্দ্রিয় ও কোন বাস্তব পদার্থের মধ্যে একপ্রকার বিশেষ সম্পর্ক ঘটলে তবেই আমাদের একটি বস্তুর প্রত্যক্ষজ্ঞান ।আর ঐ বিশেষ বিশেষ সম্পর্কের পারিভাষিক নাম হলো সন...

ইতিহাস (3rd Semester) সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর।

 তৃতীয় সেমিস্টার ইতিহাস মাইনর সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর (পশ্চিমবঙ্গ রাষ্ট্রীয় বিশ্ববিদ্যালয়, তৃতীয় সেমিস্টার ইতিহাস মাইনর)। ১)বন্দেগান-ই-চাহালগানি বলতে কী বোঝায়? •উত্তরঃবন্দেগান-ই-চাহালগান বলতে চল্লিশ জন তুর্কি ও অ-তুর্কি দাসদের সমন্বয়ে গঠিত একটি বাহিনীকে বোঝায়। এই বাহিনীকে ডাল চালিশা বা তুরকান-ই- চাহালগানি নামে ডাকা হতো। ২)আমির খসরু কে ছিলেন? •উত্তরঃ আমির খসরু ছিলেন প্রখ্যাত সুফি সাধক বা আরেফ নিজামউদ্দিন আওলিয়ার ছাত্র এবং অন্যতম প্রধান খলিফা। যাঁকে 'ভারতের তোতা' উপাধি দেওয়া হয়েছিল। ৩) মহরানা প্রতাপ কে ছিলেন?  •উত্তরঃ মেবারের শিশোদিয়া রাজবংশের একজন হিন্দু রাজপুত রাজা ছিলেন মহারানা প্রতাপ সিং। যিনি রাজপুতদের বীরত্ব ও দৃঢ় সংকল্পের প্রতীক। বহু বছর ধরে তিনি মুঘল সম্রাট আকবরের সঙ্গে লড়াই করেন। ৪) জায়গীরদারী সংকট কী? •উত্তরঃ জায়গিরদারী সংকট ছিল মোগল সাম্রাজ্যের একটি অর্থনৈতিক সংকট। এই সংকটে জমি বা জায়গিরের অভাব দেখা দিয়েছিল। যার ফলে প্রশাসনিক খরচ মেটানো এবং যুদ্ধের খরচ বহন করা সম্ভব হতো না। ৫) দাক্ষিণাত্য ক্ষত কী? •উত্তরঃ দাক্ষিণাত্য ক্ষত বলতে ঔরঙ্গজেবের দাক্ষিণাত্য নীত...

ব্রিটিশ(3rd.Sem) পার্লামেন্টের সার্বভৌমত্ব

ব্রিটিশ পার্লামেন্টের সার্বভৌমত্ব আলোচনা করো (পশ্চিমবঙ্গ রাষ্ট্রীয় বিশ্ববিদ্যালয়, তৃতীয় সেমিস্টার, রাষ্ট্রবিজ্ঞান মাইনর সিলেবাস)।         আমরা জানি যে,ব্রিটেনের সংবিধান অলিখিত বলে বিভিন্ন ঐতিহাসিক দলিল, শাসনতান্ত্রিক রীতিনীতি, পার্লামেন্ট প্রণীত আইন প্রভৃতির মাধ্যমে পার্লামেন্টের সার্বভৌমত্ব অর্জিত হয়েছে। ব্রিটেনের পার্লামেন্ট আইনানুগ সার্বভৌমত্ব অর্জন করেছে, রাজনৈতিক সার্বভৌমত্ব নয়। আর সেখানে ব্রিটিশ পার্লামেন্টকে আইনানুগ সার্বভৌমত্ব বলা হয়, কারণ-       যেকোনো বিষয়ে পার্লামেন্ট আইন প্রণনয়নের অধিকারী। তবে ব্রিটিশ পার্লামেন্ট এককেন্দ্রিক রাষ্ট্র হওয়ায় পার্লামেন্টে কোন আইন প্রণয়নের সময় প্রতিদ্বন্দ্বিতা হয় না। আসলে সেখানে কমন্সসভা তথা নিম্নকক্ষের সার্বভৌমত্বকেই বলা হয় পার্লামেন্টের সার্বভৌমত্ব।     ••ব্রিটিশ পার্লামেন্টকে সার্বভৌমত্ব বলার কারণ- ১) পার্লামেন্টের ওপর আইনগত কোনরূপ বাধানিষেধ আরোপ করা যায় না। ২) পার্লামেন্ট প্রণীত আইনের বৈধতার ব্যাপারে আদালত কোন প্রশ্ন তুলতে পারেনা। ব্রিটেনের আদালত পার্লামেন্ট প্রণীত আইনের ওপর বিচার বি...