Skip to main content

লীলা মজুমদার এর মাকু উপন্যাসের প্রথম অধ্যায়ের মুল বিষয়বস্ত বিস্তারিত আলোচনা।

লীলা মজুমদার এর মাকু উপন্যাসের প্রথম অধ্যায়ের মুল বিষয়বস্ত বিস্তারিত আলোচনা (পশ্চিমবঙ্গ মধ্যশিক্ষা পর্ষদ সপ্তম শ্রেণীর বাংলা দ্রুত গঠনের জন্য)।

          আলোচনার শুরুতেই আমরা বলে রাখি যে,লীলা মজুমদারের শিশুসাহিত্যের এক অনন্য সৃষ্টি 'মাকু'।আর এই মাকু উপন্যাসের প্রথম অধ্যায়ে আমরা পরিচিত হই দুই বোন-সোনা ও টিয়া র সাথে এবং তাদের রোমাঞ্চকর অভিযানের সূচনার সাথে।আর সেখানে তাদের অভিযানের প্রেক্ষাপট ও কালনিবাসে দেখি-

        গল্পের শুরুতে দেখা যায় সোনা ও টিয়া তাদের পিসেমশাইয়ের বাড়ি 'কালনিবাসে' যাওয়ার জন্য তৈরি হচ্ছে। এই কালনিবাস জায়গাটি বনের ধারে অবস্থিত এবং সেখানে নানা অদ্ভুত ঘটনা ঘটে। তাদের মা তাদের সাবধানে থাকার পরামর্শ দেন।কারণ সেই বনে বুনো জানোয়ারের ভয় আছে।তবে তারা সাবধানে থাকার পরেও আমরা দেখি-

      মাকুর রহস্যময় আবির্ভাব।আর সেখানে প্রথম অধ্যায়ের সবচেয়ে বড় আকর্ষণ হলো মাকু নামক একটি যন্ত্রমানুষ বা রোবট।এই মাকুকে তৈরি করেছিল এক ঘড়িওয়ালা। মাকু দেখতে অনেকটা মানুষের মতো হলেও সে আসলে কলকব্জার তৈরি। তার অদ্ভুত সব ক্ষমতা রয়েছে। যার মধ্যে আছে-সে হাসতে পারে না, আবার কাঁদতেও পারে না।তবে সে অসাধারণ কাজ করতে পারে।ঘড়িওলা কথায়-

 "মাকু হাসতে পারে না, কাঁদতে পারে না। তার কাঁদার কল নেই, হাসবার কল নেই। শুধু কাজ করবার কল আছে।"

          •ঘড়িওয়ালার করুণ কাহিনী মাকু উপন্যাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।যেখানে মাকুকে যে ঘড়িওয়ালা বানিয়েছিল, সে এখন মাকুকে নিয়ে বিপাকে পড়ে গেছে।আসলে মাকু চায় তাকে যেন কেউ হাসতে বা কাঁদতে শেখায়। কিন্তু ঘড়িওয়ালা তা পারে না। তাই মাকু অভিমানে ঘড়িওয়ালার ওপর রাগ করে পালিয়ে যায়।তাই ঘড়িওয়ালা এখন মাকুকে হন্যে হয়ে খুঁজছে। কারণ মাকু হারিয়ে গেলে তার সব পরিশ্রম বৃথা হয়ে যাবে।অতঃপর আমরা দেখি-

        বনের পথে যাত্রা শুরু করে সোনা ও টিয়া।আসলে তারা তাদের পিসেমশাইয়ের বাড়ি যাওয়ার পথে এক গভীর বনে প্রবেশ করে।এই বনটিই হলো গল্পের মূল কেন্দ্রবিন্দু।আর সেই বনের মধ্যে তাদের দেখা হয় এক অদ্ভুত লোকের সাথে। যে আসলে ঘড়িওয়ালা। ঘড়িওয়ালা তাদের কাছে মাকুর বর্ণনা দেয় এবং মাকুকে খুঁজে দিতে সাহায্য চায়।যেখানে ঘড়িওয়ালাকে বলতে শুনি-

 "তোমরা কি মাকুকে দেখেছ? আধাবয়সী মানুষ, পরনে ডোরাকাটা কোট-প্যান্ট, চোখে চশমা। কিন্তু আসলে সে মানুষ নয়, কলকব্জার তৈরি।'"

             আসলে প্রথম অধ্যায়টি মূলত একটি রহস্য ও রোমাঞ্চের আবহ তৈরি করে। বনের নির্জনতা, অদ্ভুত এক যন্ত্রমানুষের হারিয়ে যাওয়া এবং দুই ছোট্ট মেয়ের অদম্য সাহস-এই উপন্যাসের প্রধান বিষয়। আর সেই বিষয়ের মধ্যে আছে এক কাল্পনিক জগত। যে জগতে মাকু  মানুষ হতে চায়। অর্থাৎ মানুষের মত আবেগ অনুভব করতে চায়।

          প্রথম অধ্যায়ে আমরা দেখি, সাধারণ এক ভ্রমণ কীভাবে মাকুর খোঁজে এক রহস্যময় অভিযানে পরিণত হয়। ঘড়িওয়ালার অসহায়তা এবং মাকুর অদ্ভুত বৈশিষ্ট্যগুলো পাঠকদের মনে তীব্র আগ্রহ জাগিয়ে তোলে।

লীলা মজুমদারের 'মাকু' উপন্যাসের প্রথম অধ্যায়ের প্রেক্ষাপটে প্রশ্নগুলোর উত্তর।

 

১. মাকুকে দেখতে কেমন? তার পোশাক-আশাকের বর্ণনা দাও।

উত্তর: মাকু একটি অদ্ভুত যন্ত্রমানুষ। তার গায়ের রং ফরসা এবং সে দেখতে অনেকটা আধাবয়সী মানুষের মতো। তার মাথায় কোঁকড়ানো চুল এবং চোখে চশমা। পোশাক হিসেবে মাকুর পরনে ছিল একটি ডোরাকাটা কোট, প্যান্ট এবং পায়ে চকচকে জুতো। সে হাসতে বা কাঁদতে পারে না, কারণ তার সেই 'কল' বা মেকানিজম নেই।

২. ঘড়িওয়ালা কেন মাকুকে হন্যে হয়ে খুঁজছে?

উত্তর: ঘড়িওয়ালা দীর্ঘ সতেরো বছর অক্লান্ত পরিশ্রম করে মাকুকে তৈরি করেছিল। মাকু তার জীবনের শ্রেষ্ঠ সৃষ্টি। কিন্তু মাকু অভিমান করে পালিয়ে যাওয়ায় ঘড়িওয়ালা অত্যন্ত আতঙ্কিত। তার ভয়, মাকু হারিয়ে গেলে বা নষ্ট হয়ে গেলে তার দীর্ঘ বছরের সাধনা বিফলে যাবে। তাছাড়া মাকুকে খুঁজে না পেলে তার সার্কাসে দেখানোর পরিকল্পনাও মাটি হয়ে যাবে।

৩. মাকু কেন ঘড়িওয়ালার ওপর রাগ করে পালিয়ে গিয়েছিল?

উত্তর: মাকু মানুষের মতো আবেগ অনুভব করতে চেয়েছিল। সে ঘড়িওয়ালার কাছে আবদার করেছিল যেন তাকে হাসতে এবং কাঁদতে শেখানো হয়। কিন্তু ঘড়িওয়ালা তাকে কলকব্জা দিয়ে বানালেও মানুষের মতো আবেগ বা হাসিকান্নার 'কল' বসাতে পারেনি। নিজের এই অপূর্ণতা এবং ঘড়িওয়ালার ব্যর্থতার কারণেই মাকু অভিমানে চটে গিয়ে পালিয়ে গিয়েছিল।

৪. "তার কাঁদার কল নেই, হাসবার কল নেই"— এখানে কার কথা বলা হয়েছে? তার এই অবস্থার কারণ কী?

উত্তর: এখানে ঘড়িওয়ালার তৈরি অদ্ভুত যন্ত্রমানুষ মাকু-র কথা বলা হয়েছে।

অবস্থার কারণ: মাকু কোনো রক্ত-মাংসের মানুষ নয়, সে কলকব্জা, স্প্রিং আর ব্যাটারি দিয়ে তৈরি একটি রোবট। ঘড়িওয়ালা তাকে দিয়ে রান্না করা, কাপড় কাচা বা অঙ্ক কষার মতো সব জটিল কাজ করানোর প্রযুক্তি দিলেও, মানুষের হৃদয়ের অনুভূতি বা আবেগ (হাসি-কান্না) তৈরি করার মতো কোনো যান্ত্রিক কৌশল তার ভেতরে স্থাপন করতে পারেনি।

৫. কালনিবাস যাওয়ার পথে আম্মা ও আমুর কেন বুনো জানোয়ারের ভয় ছিল?

উত্তর: কালনিবাস জায়গাটি ছিল গভীর বনের ধারে। সেখানে যাওয়ার রাস্তাটি ছিল জনহীন এবং ঘন জঙ্গলে ঘেরা। তাদের মা সতর্ক করে দিয়েছিলেন যে সেই বনে বাঘ, ভালুক এবং হুনুমানের উপদ্রব আছে। বিশেষ করে সন্ধ্যার দিকে বা একা চলাফেরা করলে বুনো জানোয়াররা আক্রমণ করতে পারে— এই আশঙ্কাই ছোট দুই বোন আম্মা ও আমুর মনে ভয়ের সৃষ্টি করেছিল।

                   • মাকুর বিবরণ •

•তৈরি করেছেন -ঘড়িওয়ালা।নির্মাণ কাল-সতেরো বছর।পোশাক ডোরাকাটা কোট ও প্যান্ট।অভাব •হাসি ও কান্নার ক্ষমতা•


১. 'মাকু' উপন্যাসের প্রথম অধ্যায়ে ঘড়িওয়ালার সাথে আম্মা ও আমুর সাক্ষাতের বর্ণনা দাও। ঘড়িওয়ালা তাদের কাছে মাকুর কী পরিচয় দিয়েছিল?

উত্তর: লীলা মজুমদারের 'মাকু' উপন্যাসের শুরুতে দেখা যায়, আম্মা ও আমু তাদের পিসেমশাইয়ের বাড়ি 'কালনিবাসে' যাওয়ার জন্য বনের পথ দিয়ে যাত্রা শুরু করে। বনের নির্জনতায় তাদের হঠাৎ দেখা হয় এক অদ্ভুত চেহারার মানুষের সাথে, যে আসলে ছিল সেই বিখ্যাত ঘড়িওয়ালা। সে ঘাসের ওপর উবু হয়ে বসে মাকুকে খুঁজছিল এবং খুব কান্নাকাটি করছিল।

মাকুর পরিচয়: ঘড়িওয়ালা মেয়ে দুটির কাছে মাকুর যে পরিচয় দিয়েছিল তা হলো—

 * যন্ত্রমানুষ: মাকু কোনো সাধারণ মানুষ নয়, সে দীর্ঘ সতেরো বছরের পরিশ্রমে তৈরি একটি অদ্ভুত যন্ত্রমানুষ বা রোবট।

 * শারীরিক গঠন: সে দেখতে আধাবয়সী মানুষের মতো, পরনে ডোরাকাটা কোট-প্যান্ট আর চোখে চশমা। তার মাথায় কোঁকড়ানো চুল এবং পায়ে চকচকে জুতো।

 * কাজের ক্ষমতা: মাকু মানুষের মতো কথা বলতে পারে, অঙ্ক কষতে পারে, রান্না করতে পারে, এমনকি সেলাইয়ের কাজও করতে পারে।

 * আবেগের অভাব: ঘড়িওয়ালা আক্ষেপ করে জানায় যে, মাকুকে সে সব কাজ শেখালেও হাসতে বা কাঁদতে শেখাতে পারেনি, কারণ তার ভেতর হাসিকান্নার কোনো 'কল' নেই।

২. "মাকু আসলে একটা যন্ত্রমানুষ"— মাকুর চরিত্রের বৈশিষ্ট্যগুলো আলোচনা করে এই উক্তিটির সার্থকতা বিচার করো।

উত্তর: লীলা মজুমদারের লেখনীতে মাকু চরিত্রটি এক অনন্য সৃষ্টি। প্রথম অধ্যায়ে মাকুর যে বৈশিষ্ট্যগুলো ফুটে উঠেছে, তা থেকে স্পষ্ট বোঝা যায় যে সে আসলে একটি যন্ত্রমানুষ।

বৈশিষ্ট্যসমূহ:

 * যান্ত্রিক গঠন: মাকু হাড়-মাংসের মানুষ নয়; সে স্প্রিং, চাকা আর ব্যাটারি দিয়ে তৈরি। তার শরীরের ভেতরে কলকব্জা বসানো আছে।

 * অমানুষিক ক্ষমতা: সে মানুষের চেয়েও দ্রুত অঙ্ক কষতে পারে, ক্লান্তিহীনভাবে কাজ করতে পারে এবং তার গায়ে সাধারণ মানুষের চেয়ে অনেক বেশি জোর।

 * আবেগের অনুপস্থিতি: মাকুর সবচেয়ে বড় সীমাবদ্ধতা হলো সে হাসতে বা কাঁদতে পারে না। মানুষের সুখ বা দুঃখের যে বহিঃপ্রকাশ, তা মাকুর যান্ত্রিক হৃদয়ে সম্ভব নয়।

 * চাবির ওপর নির্ভরশীলতা: মানুষের মতো সে স্বাধীন নয়; তার কাজ করার জন্য চাবি বা ব্যাটারির প্রয়োজন হয়।

সার্থকতা: উপরোক্ত বৈশিষ্ট্যগুলো বিচার করলে দেখা যায়, মাকু দেখতে মানুষের মতো হলেও তার মূল সত্তাটি যান্ত্রিক। সে আবেগহীন এক অদ্ভূত সৃষ্টি, তাই তাকে 'যন্ত্রমানুষ' বলা সম্পূর্ণ সার্থক।

৩. প্রথম অধ্যায়ে বনের যে পরিবেশের বর্ণনা দেওয়া হয়েছে, তা নিজের ভাষায় লেখো। এই পরিবেশ গল্পের রহস্য সৃষ্টিতে কীভাবে সাহায্য করেছে?

উত্তর: 'মাকু' উপন্যাসের শুরুতে কালনিবাসের পথে যে বনের বর্ণনা পাওয়া যায়, তা একাধারে রহস্যময় ও রোমাঞ্চকর।

বনের পরিবেশ: বনটি ছিল অত্যন্ত গভীর এবং জনমানবহীন। বনের গাছপালা এতই ঘন ছিল যে দিনের বেলাতেও আলো ঠিকমতো পৌঁছাত না। ঝোপঝাড়ের আড়ালে বুনো জানোয়ার যেমন— বাঘ, ভালুক ও হুতোম প্যাঁচার ডাক এক গা-ছমছমে পরিবেশ তৈরি করেছিল। বনের নিস্তব্ধতা মাঝে মাঝে বাতাসের শোঁ শোঁ শব্দে ভেঙে যেত।

রহস্য সৃষ্টিতে ভূমিকা: এই ছমছমে পরিবেশটি গল্পের মূল রহস্যের ভিত তৈরি করেছে। প্রথমত, দুই ছোট মেয়ের একা এমন বনে যাত্রা পাঠকদের মনে উদ্বেগ তৈরি করে। দ্বিতীয়ত, এই নির্জন বনেই ঘড়িওয়ালার মতো এক অদ্ভুত চরিত্রের সাথে তাদের দেখা হওয়া এবং এক যন্ত্রমানুষের হারিয়ে যাওয়ার খবর পাওয়া— এই সব কিছুই বনের রহস্যময় আবহকে আরও বাড়িয়ে তোলে। বনের এই 'অজানা' পরিবেশটিই মাকু চরিত্রটিকে আরও বিশ্বাসযোগ্য ও রহস্যময় করে তুলেছে।

আপনার জন্য টিপস: পরীক্ষায় উত্তর লেখার সময় সম্ভব হলে বইয়ের ছোট ছোট উদ্ধৃতি (যেমন: "সতেরো বছর ধরে কলকব্জা টিপে টিপে ঘড়িওয়ালা বানিয়েছে মাকুকে") ব্যবহার করবেন, এতে নম্বর বেশি পাওয়ার সম্ভাবনা থাকে।

আপনার কি এই অধ্যায় থেকে আর কোনো সাহায্য প্রয়োজন? না কি আমরা দ্বিতীয় অধ্যায়ে এগিয়ে যাব?


অবশ্যই! প্রথম অধ্যায়ে ঘড়িওয়ালার কান্না এবং কালনিবাসের পিসেমশাই—এই দুটি অংশই গল্পের রহস্য ও কৌতুককে জমিয়ে তোলে। নিচে বিস্তারিত আলোচনা করা হলো:

১. ঘড়িওয়ালার মাকুকে নিয়ে কান্নাকাটি

সোনা ও টিয়া (আম্মা ও আমু) যখন বনের পথে যাচ্ছিল, তখন তারা দেখল এক অদ্ভুত লোক ঘাসের ওপর উবু হয়ে বসে ডুকরে ডুকরে কাঁদছে। এই লোকটির কান্নার কারণ ছিল তার শ্রেষ্ঠ সৃষ্টি মাকু-র হারিয়ে যাওয়া।

 * কান্নার কারণ: ঘড়িওয়ালা দীর্ঘ সতেরো বছর ধরে কলকব্জা টিপে মাকুকে তৈরি করেছিল। মাকু তার কাছে সন্তানের মতো। কিন্তু মাকু তার ওপর চটে গিয়ে পালিয়ে গেছে।

 * মাকুর অদ্ভুত আবদার: ঘড়িওয়ালা জানায়, মাকু সব পারে—রান্না, কাপড় কাচা, অঙ্ক কষা, এমনকি সেলাই। কিন্তু তার একটাই দুঃখ, সে হাসতে বা কাঁদতে পারে না। সে ঘড়িওয়ালার কাছে 'হাসি ও কান্নার কল' চেয়েছিল। ঘড়িওয়ালা তা দিতে না পারায় মাকু অভিমানে তাকে কামড়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে পালিয়ে যায়।

 * ঘড়িওয়ালার অসহায়তা: ঘড়িওয়ালা কাঁদতে কাঁদতে বলে যে মাকু হারিয়ে গেলে তার সব পরিশ্রম মাটি। সে মাকুকে খুঁজে দেওয়ার জন্য সোনা ও টিয়ার কাছে আকুতি জানায়।

> উদ্ধৃতি: "মাকু আমার ওপর চটেছে, আমায় খুঁজে পেলেই কামড়ে দেবে। কিন্তু ওকে না পেলে আমার সতেরো বছরের মেহনত জলে যাবে।"

২. কালনিবাসের পিসেমশাই ও অদ্ভুত নিয়ম

সোনা ও টিয়ার পিসেমশাই এবং তাঁর বাড়ি 'কালনিবাস' প্রথম অধ্যায়ে এক রহস্যময় আবহ তৈরি করে।

 * পিসেমশাইয়ের স্বভাব: পিসেমশাই ছিলেন অত্যন্ত গম্ভীর এবং নিয়মানুবর্তী মানুষ। তিনি জাতে বামুন হলেও কাজকর্মে ছিলেন একটু অন্যরকম।

 * কালনিবাসের পরিবেশ: জায়গাটি ছিল বনের ধারে। পিসেমশাই সেখানে একা থাকতেন এবং তাঁর বাড়িতে অনেক নিয়ম ছিল।

 * অদ্ভুত নিয়ম: পিসেমশাইয়ের বাড়িতে কোনো ছোটদের কান্না বা চিৎকার করা বারণ ছিল। এই কারণেই সোনা (আম্মা) টিয়াকে (আমু) সাবধান করে দিয়েছিল যে সেখানে গিয়ে একদম কান্নাকাটি করা চলবে না, নতুবা পিসেমশাই চটে যাবেন।

 * মেম-পুতুলের আকর্ষণ: কালনিবাসে গেলে পিসেমশাই পকেট থেকে মেম-পুতুল বের করে দেবেন—এই লোভ দেখিয়েই সোনা তার ছোট বোনকে শান্ত করেছিল।

৩. প্রথম অধ্যায়ের এই অংশের গুরুত্ব

এই অংশগুলো পড়ার সময় আমাদের মনে কয়েকটি প্রশ্ন জাগে যা গল্পের মূল আকর্ষণ:

 * মাকু কি সত্যিই ঘড়িওয়ালাকে কামড়ে দেবে?

 * পিসেমশাই কেন বাচ্চাদের কান্না সহ্য করতে পারতেন না?

 * কালনিবাসের বনে কি সত্যিই বাঘ-ভালুক আছে?

একটি মজাদার তথ্য:

প্রথম অধ্যায়ে ঘড়িওয়ালা যখন মাকুর বর্ণনা দেয়, তখন সে মাকুকে 'আধাবয়সী মানুষ' বলে। কিন্তু আসলে মাকু যে একজন রোবট, তা এই অধ্যায়ের শেষেই পরিষ্কার হয়ে যায়।

আপনি কি চান আমি মাকুর শরীরের কলকব্জা বা চাবি দেওয়ার জায়গাটি নিয়ে কিছু বলি? নাকি পরবর্তী কোনো ঘটনার দিকে এগোব?




Comments

Popular posts from this blog

দর্শন প্রথম সেমিস্টার সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন উত্তর।

দর্শন প্রথম সেমিস্টার সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর (পশ্চিমবঙ্গ রাষ্ট্রীয় বিশ্ববিদ্যালয়, মাইনর সিলেবাস)  ১)চার্বাক মতে ভূত কয়টি ও কি কি? উত্তরঃচার্বাক মতে ভূত চারটি- ক্ষিতি, অপ্ , তেজ ও মরুৎ ২) স্বভাববাদ কী? উত্তরঃ চার্বাক জড়বাদের ভিত্তি হল স্বভাববাদ। যে মতবাদ অনুসারে স্বভাব থেকেই ভূত সৃষ্টি, আবার স্বভাব থেকেই বিচ্ছেদ। যার জন্য ঈশ্বরকে স্বীকার করা প্রয়োজন নেই। ৩) অব্যাপ্যদেশ কথাটির অর্থ লেখো। উত্তরঃ অব্যাপ্যদেশ বলতে বোঝায়- অশাব্দ অর্থাৎ যাকে শব্দের দ্বারা প্রকাশ করা যায় না। ৫) জ্ঞান লক্ষণ প্রত্যক্ষ কাকে বলে?  কোন একটি ইন্দ্রিয়ের মাধ্যমে তার নিজের বিষয়ীভূত গুণ ছাড়াও যদি অপর একটি ইন্দ্রিয়ের বিষয়ীভূত গুণকে প্রত্যক্ষ করার হয়, তাহলে সেই প্রত্যক্ষকে জ্ঞানলক্ষণ প্রত্যক্ষ বলা হয়। ৬) ন্যায় মতে প্রমাণের প্রকার  উত্তরঃ ন্যায় মতে প্রমাণ চার প্রকার। প্রত্যক্ষ, অনুমান, উপমান এবং শাব্দ। ৭) সন্নিকর্ষ কাকে বলে? উত্তরঃ ন্যায় মতে ইন্দ্রিয় ও কোন বাস্তব পদার্থের মধ্যে একপ্রকার বিশেষ সম্পর্ক ঘটলে তবেই আমাদের একটি বস্তুর প্রত্যক্ষজ্ঞান ।আর ঐ বিশেষ বিশেষ সম্পর্কের পারিভাষিক নাম হলো সন...

ইতিহাস (3rd Semester) সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর।

 তৃতীয় সেমিস্টার ইতিহাস মাইনর সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর (পশ্চিমবঙ্গ রাষ্ট্রীয় বিশ্ববিদ্যালয়, তৃতীয় সেমিস্টার ইতিহাস মাইনর)। ১)বন্দেগান-ই-চাহালগানি বলতে কী বোঝায়? •উত্তরঃবন্দেগান-ই-চাহালগান বলতে চল্লিশ জন তুর্কি ও অ-তুর্কি দাসদের সমন্বয়ে গঠিত একটি বাহিনীকে বোঝায়। এই বাহিনীকে ডাল চালিশা বা তুরকান-ই- চাহালগানি নামে ডাকা হতো। ২)আমির খসরু কে ছিলেন? •উত্তরঃ আমির খসরু ছিলেন প্রখ্যাত সুফি সাধক বা আরেফ নিজামউদ্দিন আওলিয়ার ছাত্র এবং অন্যতম প্রধান খলিফা। যাঁকে 'ভারতের তোতা' উপাধি দেওয়া হয়েছিল। ৩) মহরানা প্রতাপ কে ছিলেন?  •উত্তরঃ মেবারের শিশোদিয়া রাজবংশের একজন হিন্দু রাজপুত রাজা ছিলেন মহারানা প্রতাপ সিং। যিনি রাজপুতদের বীরত্ব ও দৃঢ় সংকল্পের প্রতীক। বহু বছর ধরে তিনি মুঘল সম্রাট আকবরের সঙ্গে লড়াই করেন। ৪) জায়গীরদারী সংকট কী? •উত্তরঃ জায়গিরদারী সংকট ছিল মোগল সাম্রাজ্যের একটি অর্থনৈতিক সংকট। এই সংকটে জমি বা জায়গিরের অভাব দেখা দিয়েছিল। যার ফলে প্রশাসনিক খরচ মেটানো এবং যুদ্ধের খরচ বহন করা সম্ভব হতো না। ৫) দাক্ষিণাত্য ক্ষত কী? •উত্তরঃ দাক্ষিণাত্য ক্ষত বলতে ঔরঙ্গজেবের দাক্ষিণাত্য নীত...

ব্রিটিশ(3rd.Sem) পার্লামেন্টের সার্বভৌমত্ব

ব্রিটিশ পার্লামেন্টের সার্বভৌমত্ব আলোচনা করো (পশ্চিমবঙ্গ রাষ্ট্রীয় বিশ্ববিদ্যালয়, তৃতীয় সেমিস্টার, রাষ্ট্রবিজ্ঞান মাইনর সিলেবাস)।         আমরা জানি যে,ব্রিটেনের সংবিধান অলিখিত বলে বিভিন্ন ঐতিহাসিক দলিল, শাসনতান্ত্রিক রীতিনীতি, পার্লামেন্ট প্রণীত আইন প্রভৃতির মাধ্যমে পার্লামেন্টের সার্বভৌমত্ব অর্জিত হয়েছে। ব্রিটেনের পার্লামেন্ট আইনানুগ সার্বভৌমত্ব অর্জন করেছে, রাজনৈতিক সার্বভৌমত্ব নয়। আর সেখানে ব্রিটিশ পার্লামেন্টকে আইনানুগ সার্বভৌমত্ব বলা হয়, কারণ-       যেকোনো বিষয়ে পার্লামেন্ট আইন প্রণনয়নের অধিকারী। তবে ব্রিটিশ পার্লামেন্ট এককেন্দ্রিক রাষ্ট্র হওয়ায় পার্লামেন্টে কোন আইন প্রণয়নের সময় প্রতিদ্বন্দ্বিতা হয় না। আসলে সেখানে কমন্সসভা তথা নিম্নকক্ষের সার্বভৌমত্বকেই বলা হয় পার্লামেন্টের সার্বভৌমত্ব।     ••ব্রিটিশ পার্লামেন্টকে সার্বভৌমত্ব বলার কারণ- ১) পার্লামেন্টের ওপর আইনগত কোনরূপ বাধানিষেধ আরোপ করা যায় না। ২) পার্লামেন্ট প্রণীত আইনের বৈধতার ব্যাপারে আদালত কোন প্রশ্ন তুলতে পারেনা। ব্রিটেনের আদালত পার্লামেন্ট প্রণীত আইনের ওপর বিচার বি...