Skip to main content

আয় আরো বেঁধে বেঁধে থাকি কবিতার মূল বিষয়বস্তু।

কবি শঙ্খ ঘোযের 'আয় আরো বেঁধে বেঁধে থাকি' কবিতার মূল বিষয়বস্তু লেখো (পশ্চিমবঙ্গ মধ্যশিক্ষা পর্ষদ দশম শ্রেণী প্রথম সেমিস্টার)।

        আলোচনার শুরুতেই আমরা বলে রাখি যে,কবি শঙ্খ ঘোষের 'আয় আরো বেঁধে বেঁধে থাকি' কবিতাটি বর্তমান অস্থির সময়ের এক অনন্য দলিল।যেখানে কবি শঙ্খ ঘোষ এই কবিতায় আধুনিক সভ্যতার চরম সংকটময় মুহূর্তকে ফুটিয়ে তুলেছেন।সেখানে সাধারণ মানুষের জীবন আজ বিপন্ন।তারা কোনো নির্দিষ্ট রাজনৈতিক আদর্শ বা বড় কোনো আশ্রয়ের ছায়ায় নেই।আসলে ঐ মানুষগুলি এক অনিশ্চিত গন্তব্যের দিকে এগিয়ে চলেছে।আর সেখানে-

           কবিতার শুরুতেই কবি এক ভয়াবহ পরিস্থিতির চিত্র এঁকেছেন।আর সেই চিত্রে আমরা দেখি-ডানে ধস, বামে গিরিখাদ আর মাথার ওপর বোমারু বিমানের আতঙ্ক।এসব মিলিয়ে সাধারণ মানুষের বেঁচে থাকাটাই একটা বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। মানুষের যাওয়ার মতো কোনো নিরাপদ জায়গা নেই।অর্থাৎ আজ সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা বিপন্ন অস্তিত্বের মুখে দাঁড় করিয়েছে। যারফলে তারা আজ আশ্রয়হীন। তাই কবিকে বলতে শুনি-

 "আমাদের ডান পাশে ধস / আমাদের বাঁয়ে গিরিখাদ / আমাদের মাথায় বোমারু / পায়ে পায়ে হিমানীর বাঁধ।" 

          সাধারণ মানুষ ইতিহাসের পাতায় ব্রাত্য থেকে যায়। ক্ষমতাশালীরা ইতিহাস নিয়ন্ত্রণ করে, ফলে সাধারণের দুঃখ-দুর্দশার কথা সেখানে লেখা হয় না।তাই কবি মনে করেন, আমরা এখন চোখ থাকতেও অন্ধ, আমাদের কোনো নির্দিষ্ট ইতিহাস নেই। তাই কলতে শুনি -

 "আমাদের কোনো ইতিহাস নেই / অথবা এমনই ইতিহাস / আমাদের চোখমুখ ঢাকা / আমরা ভিখারি বারোমাস।"

          এত প্রতিকূলতা আর চারদিকে মৃত্যুর মিছিল দেখে কবি হতাশ হয়ে পড়েননি।তিনি বিশ্বাস করেন, একা বেঁচে থাকা অসম্ভব।বর্তমানের এই চরম অশুভ সময়ে বেঁচে থাকার একমাত্র পথ হলো একে অপরের হাত ধরা, অর্থাৎ 'বেঁধে বেঁধে থাকা' বা ঐক্যবদ্ধ হওয়া।যেখানে কবি বলেন-

"আমাদের পথ নেই আর / আয় আরো বেঁধে বেঁধে থাকি।"

            পরিশেষে আমরা বলতে পারি যে,কবিতাটি আসলে এক গভীর মানবিক আবেদনের নাম।যখন সমস্ত সমাজ ব্যবস্থা ভেঙে পড়ে, যখন সাধারণ মানুষ চারপাশ থেকে বিপদে ঘিরে থাকে, তখন একে অপরের প্রতি ভালোবাসা এবং সংহতিই হতে পারে টিকে থাকার মূল মন্ত্র। এই 'বেঁধে বেঁধে থাকা' কেবল শারীরিক সান্নিধ্য নয়, বরং এটি মানসিক ও সামাজিক ঐক্যের প্রতীক।


Comments

Popular posts from this blog

একটি সার্থক গীতিকাব্যের পরিচয়।

  একটি সার্থক গীতিকাব্যের পরিচয়-সারদা মঙ্গল               গীতিকাব্য হলো এক ধরনের কবিতা, যার মধ্যে দিয়ে ব্যক্তির আবেগ, অনুভূতি এবং অভিজ্ঞতাগুলিকে ছন্দ ওর সংগীতের মাধ্যমে প্রকাশ করা হয়। তবে এখানে কবিতাগুলি খুবই ছোট আকারের হয়, আর সেখানে কবির ব্যক্তিগত অনুভূতির গভীরতা ও আন্তরিকতা প্রকাশ পায়। আর এই প্রেক্ষিতে আমরা বলতে পারি গীতি কবিতার সংকলন হলো গীতিকাব্য। ব্যঞ্জনাময় ও সংহত ।  গীতিকাব্যের বৈশিষ্ট্য  গীতিকাব্যের কিছু প্রধান বৈশিষ্ট্য নিচে আলোচনা করা হলো: ১. ব্যক্তিগত অনুভূতি ও আবেগ প্রকাশ: এটি গীতিকাব্যের প্রধান বৈশিষ্ট্য। এখানে কবি নিজের ব্যক্তিগত অনুভূতি, প্রেম, বিরহ, আনন্দ বা বিষাদের কথা তুলে ধরেন। ২. সংক্ষিপ্ততা: গীতিকাব্য সাধারণত দীর্ঘ হয় না। অল্প কয়েকটি স্তবকের মধ্যে কবি তাঁর ভাবনা সম্পূর্ণভাবে প্রকাশ করেন। ৩. সুর ও ছন্দের প্রাধান্য: গীতিকাব্য মূলত সুর করে আবৃত্তি করার জন্য রচিত হয়। তাই এতে সুর ও ছন্দের প্রতি বিশেষ মনোযোগ দেওয়া হয়। ৪. আত্মগতভাব: গীতিকাব্যে বাইরের জগতের বর্ণনা না দিয়ে কবির নিজের মনের ভেতরের জগতের প্রতি মনোযোগ ...

চতুর্থ সেমিস্টার জেনারেল ইতিহাস ছোট প্রশ্ন ২০২১

 *১) সুজাউদ্দৌলা কে ছিলেন বা মুর্শিদকুলি খাঁর মৃত্যুর পর কে বাংলার নবাব হন?  উত্তর - সুজা উদ্দৌলা আয়ুধের সুবেদার নবাব ছিলেন। মুর্শিদকুলি খাঁর মৃত্যুর পর তার জামাতা বাংলার নবাব  হন ১৭৫৪-১৭৭৫ খ্রীস্টাব্দ পর্যন্ত। নবাব থাকাকালীন তিনি বক্সারের যুদ্ধ এবং পানিপথের তৃতীয় যুদ্ধে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেছিলেন। *২) কোন সালে রেগুলেটিং আইন জারি করা হয়েছিল? উত্তর - ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির দুর্নীতি দূরীকরণ, গঠন বিন্যাস ও নিয়ন্ত্রণের জন্য ব্রিটিশ সরকার ১৭৭৩ খ্রিস্টাব্দে রেগুলেটিং আইন প্রণয়ন করেন। আর সেই আইনে বলা হয় বাংলা বোম্বাই ও মাদ্রাজে ১ করে কাউন্সিল থাকবে। *৩) শ্রী রঙ্গপত্তমের সন্ধিতে স্বাক্ষরকারী কারা কারা ছিলেন ?কখন এই সন্ধিটি স্বাক্ষরিত হয়েছিল? উত্তর - তৃতীয় ইঙ্গ মহীশূর যুদ্ধের অবসান হয়েছিল শ্রীরঙ্গপত্তমের সন্ধির দ্বারা। আর এই সন্ধিতে ঠিক হয় টিপু সুলতান ইংরেজদের তিন কোটি টাকা এবং জামিন স্বরূপ তার দুই পুত্রকে দিতে বাধ্য হবেন। এছাড়া বিজিত অঞ্চল ইংরাজ, মারাঠা ও নিজামের মধ্যে বন্টিত হল। যে সন্ধির দুটি পক্ষ ছিল একদিকে ছিলেন টিপু সুলতান এবং অপরদিকে ছিলেন ইংরেজ। সময়কালটি ছি...

পঞ্চম সেমিস্টার ইতিহাস মাইনর সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর ।

পঞ্চম সেমিস্টার ইতিহাস মাইনর সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর  ১) শিল্প বিপ্লব কবে কোথায় প্রথম ঘটেছিল?         উত্তর - প্রথম শিল্প বিপ্লব শুরু হয়েছিল ইংল্যান্ডে (গ্রেট ব্রিটেন)। এটি প্রধানত অষ্টাদশ শতকের মাঝামাঝি সময়ে শুরু হয়ে প্রায় ১৭৬০ থেকে ১৮৪০ খ্রিস্টাব্দ-এর মধ্যে ঘটেছিল। ২) কৃষ্ণমৃত্যু কী?            • কৃষ্ণমৃত্যু (Black Death) হলো মানব ইতিহাসের এক ভয়াবহ মহামারি।এটি ছিল মূলত প্লেগ (Plague) রোগ, যা Yersinia pestis নামক ব্যাকটেরিয়ার কারণে সৃষ্টি হয়েছিল।এটি প্রধানত ১৩৪৬ থেকে ১৩৫৩ খ্রিস্টাব্দের মধ্যে ইউরোপ, এশিয়া (ইউরেশিয়া) এবং উত্তর আফ্রিকাজুড়ে ছড়িয়ে পড়েছিল। ৩) কে বলেছিলেন মানুষই সবকিছুর মানদণ্ড?        •এই বিখ্যাত উক্তিটি যিনি করেছিলেন তিনি হলেন প্রাচীন গ্রিসের একজন প্রখ্যাত দার্শনিক, যার নাম প্রোটাগোরাস (Protagoras)।তাঁর মূল বক্তব্যটি ছিল-"মানুষই সবকিছুর মানদণ্ড, যা আছে তারও, আর যা নেই তারও।” ৪) পেত্রাক কেন বিখ্যাত?         •পেত্রাক (Francesco Petrarca) ছিলেন ১৪ শতকের (১৩০৪-১৩৭৪) একজন ...