Skip to main content

আমল সে আমল' রচনায় অবীন্দ্রনাথ ঠাকুর দুই কালের যে তুলনামূলক চিত্র এঁকেছেন তার পরিচয় দাও।

'এ আমল সে আমল' রচনায় অবীন্দ্রনাথ ঠাকুর দুই কালের যে তুলনামূলক চিত্র এঁকেছেন তার পরিচয় দাও (পশ্চিমবঙ্গ রাষ্ট্রীয় বিশ্ববিদ্যালয় পঞ্চম সেমিস্টার বাংলা মেজর সিলেবাস)

      আলোচনার শুরুতেই আমরা বলে রাখি যে,অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুরের 'এ আমল সে আমল' স্মৃতিচারণমূলক প্রবন্ধটি মূলত পরিবর্তনের এক শিল্পরূপ। জোড়াসাঁকো ঠাকুরবাড়ির অন্দরমহলকে কেন্দ্র করে লেখক তাঁর শৈশবের 'সে আমল' এবং বর্তমানের 'এ আমল'-এর মধ্যে যে আমূল বিবর্তন দেখেছেন, তা এখানে ফুটে উঠেছে।আর সেই দুই কালের তুলনামূলক চিত্র নিম্নে আলোচনা করা হলো-

      • গৃহসজ্জা ও আসবাবপত্রের ক্ষেত্রে আমরা সে আমলে দেখি-সেকালে ঘর সাজানোর প্রধান উপকরণ ছিল শুভ্রতা ও সারল্য। লেখক জানিয়েছেন, তখন বসার ঘরে থাকত-

     "পুরু জাজিমের উপরে ধবধবে সাদা ফরাস পাতা, চার ধারে বড় বড় তাকিয়া।" 

       আসবাব বলতে ছিল দু-চারটে মেহগনি কাঠের আলমারি। দেওয়ালে থাকত বিলিতি ঝাড়লণ্ঠন এবং রঙিন কাঁচের ঝাড়। আবার-

           এ আমলে দেখা যায়-বর্তমান সময়ে সেই খোলামেলা ভাব হারিয়ে গেছে। ফরাসের জায়গা দখল করেছে চেয়ার-টেবিল এবং সোফা। লেখকের ভাষায়-

 "এ আমল হল গদি-আঁটা চেয়ার-টেবিলের আমল।" ঘর এখন শৌখিন ও আধুনিক আসবাবপত্রে ঠাসা।

        •আহার ও আভিজাত্যের ক্ষেত্রে আমরা দেখি যে-সে আমলে  খাওয়ার ধরণ ছিল রাজকীয় ও সময়সাপেক্ষ। লুচি, মিষ্টান্ন এবং এলাহি সব পদের আয়োজন হতো। আহারের শেষে রুপোর ডাবর থেকে পান সাজার যে ধুম ছিল, তাতে ছিল এক গভীর আন্তরিকতা। লেখক মনে করিয়েছেন-

 "সে আমলের খাওয়া-দাওয়া ছিল এক একটা লড়াই জেতা।"

        অপরদিকে আবার এ আমলে দেখা যায়-আধুনিক জীবনযাত্রায় সেই আতিশয্য আজ ম্লান। এখন মানুষের সময় কম, তাই খাওয়া-দাওয়ার আয়োজনও অনেক বেশি সংক্ষিপ্ত ও কেতাবি। আন্তরিকতার চেয়ে লৌকিকতাই এখানে প্রধান।

    •পোশাক ও প্রসাধন ব্যবহারে সে আমল: তখন মানুষের সাজপোশাকে ছিল দেশীয় রুচি ও আভিজাত্যের মিশেল। জোব্বা, আচকান আর কোঁচানো ধুতির বাহার ছিল দেখার মতো। প্রসাধনের ক্ষেত্রেও ছিল দেশি জিনিসের আধিক্য। তবে-

        অপরদিকে এ আমলে দেখা যায়-বর্তমান কাল সাহেবিয়ানা বা বিলিতি কায়দার অনুসারী। পোশাক-আশাকে এখন চাকচিক্য বাড়লেও আগের সেই গাম্ভীর্য হারিয়ে গেছে।এরই পাশাপাশি-

       •মানসিকতা ও পরিবেশ অবনীন্দ্রনাথের বর্ণনায় 'সে আমল' ছিল শান্ত, স্নিগ্ধ এবং উৎসবমুখর। মানুষের মধ্যে ছিল ধৈর্য ও পারস্পরিক মেলবন্ধন। অন্যদিকে 'এ আমল' অনেক বেশি যান্ত্রিক ও কোলাহলপূর্ণ। প্রাচুর্য বাড়লেও তাতে প্রাণের অভাব প্রকট।

        পরিশেষে আমরা বলতে পারি যে লেখকের কাছে 'সে আমল' ছিল রূপকথার মতো মায়াবী, আর 'এ আমল' হলো বাস্তবের রুক্ষতায় ভরা। তিনি পুরোনোকে আঁকড়ে ধরে নতুনকে বিচার করেছেন এক অদ্ভুত নস্টালজিয়া থেকে।

ঠিক এরূপ অসংখ্য বিষয়ভিত্তিক আলোচনা ব্যাখ্যা সাজেশন এবং টিউটোরিয়াল ক্লাসের ভিডিও পেতে ভিজিট করুন আমাদের ওয়েবসাইট এবং SHESHER KOBITA SUNDARBAN Youtube channel 🙏 Samaresh Sir.

Comments

Popular posts from this blog

দর্শন প্রথম সেমিস্টার সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন উত্তর।

দর্শন প্রথম সেমিস্টার সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর (পশ্চিমবঙ্গ রাষ্ট্রীয় বিশ্ববিদ্যালয়, মাইনর সিলেবাস)  ১)চার্বাক মতে ভূত কয়টি ও কি কি? উত্তরঃচার্বাক মতে ভূত চারটি- ক্ষিতি, অপ্ , তেজ ও মরুৎ ২) স্বভাববাদ কী? উত্তরঃ চার্বাক জড়বাদের ভিত্তি হল স্বভাববাদ। যে মতবাদ অনুসারে স্বভাব থেকেই ভূত সৃষ্টি, আবার স্বভাব থেকেই বিচ্ছেদ। যার জন্য ঈশ্বরকে স্বীকার করা প্রয়োজন নেই। ৩) অব্যাপ্যদেশ কথাটির অর্থ লেখো। উত্তরঃ অব্যাপ্যদেশ বলতে বোঝায়- অশাব্দ অর্থাৎ যাকে শব্দের দ্বারা প্রকাশ করা যায় না। ৫) জ্ঞান লক্ষণ প্রত্যক্ষ কাকে বলে?  কোন একটি ইন্দ্রিয়ের মাধ্যমে তার নিজের বিষয়ীভূত গুণ ছাড়াও যদি অপর একটি ইন্দ্রিয়ের বিষয়ীভূত গুণকে প্রত্যক্ষ করার হয়, তাহলে সেই প্রত্যক্ষকে জ্ঞানলক্ষণ প্রত্যক্ষ বলা হয়। ৬) ন্যায় মতে প্রমাণের প্রকার  উত্তরঃ ন্যায় মতে প্রমাণ চার প্রকার। প্রত্যক্ষ, অনুমান, উপমান এবং শাব্দ। ৭) সন্নিকর্ষ কাকে বলে? উত্তরঃ ন্যায় মতে ইন্দ্রিয় ও কোন বাস্তব পদার্থের মধ্যে একপ্রকার বিশেষ সম্পর্ক ঘটলে তবেই আমাদের একটি বস্তুর প্রত্যক্ষজ্ঞান ।আর ঐ বিশেষ বিশেষ সম্পর্কের পারিভাষিক নাম হলো সন...

ইতিহাস (3rd Semester) সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর।

 তৃতীয় সেমিস্টার ইতিহাস মাইনর সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর (পশ্চিমবঙ্গ রাষ্ট্রীয় বিশ্ববিদ্যালয়, তৃতীয় সেমিস্টার ইতিহাস মাইনর)। ১)বন্দেগান-ই-চাহালগানি বলতে কী বোঝায়? •উত্তরঃবন্দেগান-ই-চাহালগান বলতে চল্লিশ জন তুর্কি ও অ-তুর্কি দাসদের সমন্বয়ে গঠিত একটি বাহিনীকে বোঝায়। এই বাহিনীকে ডাল চালিশা বা তুরকান-ই- চাহালগানি নামে ডাকা হতো। ২)আমির খসরু কে ছিলেন? •উত্তরঃ আমির খসরু ছিলেন প্রখ্যাত সুফি সাধক বা আরেফ নিজামউদ্দিন আওলিয়ার ছাত্র এবং অন্যতম প্রধান খলিফা। যাঁকে 'ভারতের তোতা' উপাধি দেওয়া হয়েছিল। ৩) মহরানা প্রতাপ কে ছিলেন?  •উত্তরঃ মেবারের শিশোদিয়া রাজবংশের একজন হিন্দু রাজপুত রাজা ছিলেন মহারানা প্রতাপ সিং। যিনি রাজপুতদের বীরত্ব ও দৃঢ় সংকল্পের প্রতীক। বহু বছর ধরে তিনি মুঘল সম্রাট আকবরের সঙ্গে লড়াই করেন। ৪) জায়গীরদারী সংকট কী? •উত্তরঃ জায়গিরদারী সংকট ছিল মোগল সাম্রাজ্যের একটি অর্থনৈতিক সংকট। এই সংকটে জমি বা জায়গিরের অভাব দেখা দিয়েছিল। যার ফলে প্রশাসনিক খরচ মেটানো এবং যুদ্ধের খরচ বহন করা সম্ভব হতো না। ৫) দাক্ষিণাত্য ক্ষত কী? •উত্তরঃ দাক্ষিণাত্য ক্ষত বলতে ঔরঙ্গজেবের দাক্ষিণাত্য নীত...

ব্রিটিশ(3rd.Sem) পার্লামেন্টের সার্বভৌমত্ব

ব্রিটিশ পার্লামেন্টের সার্বভৌমত্ব আলোচনা করো (পশ্চিমবঙ্গ রাষ্ট্রীয় বিশ্ববিদ্যালয়, তৃতীয় সেমিস্টার, রাষ্ট্রবিজ্ঞান মাইনর সিলেবাস)।         আমরা জানি যে,ব্রিটেনের সংবিধান অলিখিত বলে বিভিন্ন ঐতিহাসিক দলিল, শাসনতান্ত্রিক রীতিনীতি, পার্লামেন্ট প্রণীত আইন প্রভৃতির মাধ্যমে পার্লামেন্টের সার্বভৌমত্ব অর্জিত হয়েছে। ব্রিটেনের পার্লামেন্ট আইনানুগ সার্বভৌমত্ব অর্জন করেছে, রাজনৈতিক সার্বভৌমত্ব নয়। আর সেখানে ব্রিটিশ পার্লামেন্টকে আইনানুগ সার্বভৌমত্ব বলা হয়, কারণ-       যেকোনো বিষয়ে পার্লামেন্ট আইন প্রণনয়নের অধিকারী। তবে ব্রিটিশ পার্লামেন্ট এককেন্দ্রিক রাষ্ট্র হওয়ায় পার্লামেন্টে কোন আইন প্রণয়নের সময় প্রতিদ্বন্দ্বিতা হয় না। আসলে সেখানে কমন্সসভা তথা নিম্নকক্ষের সার্বভৌমত্বকেই বলা হয় পার্লামেন্টের সার্বভৌমত্ব।     ••ব্রিটিশ পার্লামেন্টকে সার্বভৌমত্ব বলার কারণ- ১) পার্লামেন্টের ওপর আইনগত কোনরূপ বাধানিষেধ আরোপ করা যায় না। ২) পার্লামেন্ট প্রণীত আইনের বৈধতার ব্যাপারে আদালত কোন প্রশ্ন তুলতে পারেনা। ব্রিটেনের আদালত পার্লামেন্ট প্রণীত আইনের ওপর বিচার বি...