সপ্তম শ্রেণী বাংলা ভাষা চর্চা পশ্চিমবঙ্গ মধ্যশিক্ষা পর্ষদ
১) খাঁটি দেশি শব্দ কাকে বলে উদাহরণসহ আলোচনা করো।
•বাংলাদেশের আদিম অধিবাসী যেমন-কোল, ভিল, মুণ্ডা, সাঁওতাল ইত্যাদি বা অনার্য জাতির ভাষা থেকে যেসব শব্দ বাংলা ভাষায় সরাসরি মিশে গেছে এবং কালক্রমে পরিবর্তিত হয়ে নিজস্ব রূপ ধারণ করেছে, তাদের দেশি শব্দ বলা হয়।আরোও সরলভাবে বলা যায়-
যে সব শব্দের মূল সংস্কৃত, প্রাকৃত বা বিদেশি ভাষায় পাওয়া যায় না বরং এ দেশের আদিম জনপদ থেকেই এসেছে, তারাই খাঁটি দেশি শব্দ।যার বৈশিষ্ট্যগুলি হলো-
•এসব শব্দের কোনো ব্যাকরণগত ব্যুৎপত্তি সাধারণত খুঁজে পাওয়া যায় না।
•এগুলো মূলত আমাদের গ্রামবাংলার লোকজ সংস্কৃতির সঙ্গে নিবিড়ভাবে জড়িয়ে আছে।
•দ্রাবিড় ও অস্ট্রিক ভাষার প্রভাব এসব শব্দে সবচেয়ে বেশি দেখা যায়।
•উদাহরণসহ শ্রেণিবিভাগ•
খাঁটি দেশি শব্দগুলোকে আমরা দৈনন্দিন ব্যবহারের ওপর ভিত্তি করে কয়েকটি ভাগে দেখতে পারি।আর সেই ভাগ গুলি হলো-
•বিভাগ এবং উদাহরণ•
•গৃহস্থালি ও তৈজসপত্রঃ কুলা, ডালা, মই, ঢেঁকি, চাঙারি, ঝাটা।
•অঙ্গপ্রত্যঙ্গঃপেট (তামিল 'পেট্টি' থেকে), কোমর, খোঁপা।
•পোশাক ও অলংকারঃ ধুতি, টোপর, খড়ম।
•খাদ্যদ্রব্যঃডাব, মুড়ি, খৈ।
•অন্যান্যঃ গঞ্জ, মাঠ, ডাগর, ঢিল, খড়, চুলা। |
•কয়েকটি বাক্যে প্রয়োগ•
১. মা কুলা দিয়ে চাল ঝাড়ছেন।২. ছেলেটির পেট ফেঁপেছে।৩. কৃষকের হাতে একটি লাঠি ও মাথায় টোপর।এখানে কুলা, পেট, লাঠি এবং টোপর শব্দগুলো খাঁটি দেশি শব্দের উজ্জ্বল উদাহরণ।
বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত শব্দভাণ্ডারের একটি বিশাল এবং গুরুত্বপূর্ণ অংশ জুড়ে আছে তৎসম শব্দ। নিচে এর সংজ্ঞা ও বিস্তারিত আলোচনা করা হলো:
১)তৎসম শব্দ কাকে বলে? উদাহরণসহ আলোচনা করো।
•'তৎসম' একটি পারিভাষিক শব্দ। এর সন্ধিবিচ্ছেদ হলো: তৎ (তার) + সম (সমান)। অর্থাৎ 'তার সমান' বা সংস্কৃতের সমান।
•যেসব শব্দ সরাসরি সংস্কৃত ভাষা থেকে কোনো রকম পরিবর্তন ছাড়াই বাংলা ভাষায় গৃহীত হয়েছে এবং যাদের বানান ও উচ্চারণ অপরিবর্তিত রয়েছে, তাদের তৎসম শব্দ বলা হয়।
•বৈশিষ্ট্য•
•এসব শব্দ কোনো বিবর্তন বা পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে আসেনি।
•তৎসম শব্দগুলো মূলত বাংলা সাহিত্যের গাম্ভীর্য ও শ্রী বৃদ্ধি করে।
•এগুলো সাধারণত দাপ্তরিক বা উচ্চাঙ্গের সাহিত্যকর্মে বেশি ব্যবহৃত হয়।
•উদাহরণ•
তৎসম শব্দের ভাণ্ডার অনেক বড়। নিচে কয়েকটি প্রচলিত উদাহরণ দেওয়া হলো-
• প্রাকৃতিক উপাদানঃচন্দ্র, সূর্য, নক্ষত্র, আকাশ, পর্বত, জল।
•মানুষ ও সমাজঃ মাতা, পিতা, ভ্রাতা, মনুষ্য, ধর্ম, পাত্র।
•বস্তু ও গুণঃ হস্ত, কর্ণ, মস্তক, ভবন, পাত্র, সুন্দর।
•বিমূর্ত ধারণাঃশ্রদ্ধা, ঘৃণা, প্রেম, ভক্তি, জ্ঞান।
•তৎসম ও তদ্ভব শব্দের পার্থক্য (সহজ বুঝতে)•
অনেক সময় আমরা তৎসম এবং তদ্ভব গুলিয়ে ফেলি। একটি ছোট্ট উদাহরণের মাধ্যমে পার্থক্যটি বোঝা সহজ-
•তৎসম (অপরিবর্তিত): হস্ত \rightarrow এটি সরাসরি সংস্কৃত থেকে বাংলায় এসেছে।
•তদ্ভব (পরিবর্তিত): হস্ত (সংস্কৃত) > হত্থ (প্রাকৃত) > হাত (বাংলা)।
এখানে 'হস্ত' হলো তৎসম, আর 'হাত' হলো তদ্ভব।
বাক্যে প্রয়োগ:
•১. আজ আকাশে পূর্ণিমার চন্দ্র দেখা যাচ্ছে।•২. সূর্য পূর্ব দিকে উদিত হয়।•৩. গুরুজনে ভক্তি রাখা উচিত। এইসকল বাক্যগুলোতে বোল্ড করা শব্দগুলো সরাসরি সংস্কৃত থেকে আসা তৎসম শব্দ।
Comments
Post a Comment