অন্বয়ী ব্যাতিরেকী বা মিশ্র পদ্ধতির সাংকেতিক ও বাস্তব উদাহরণসহ আলোচনা করো (পশ্চিমবঙ্গ রাষ্ট্রীয় বিশ্ববিদ্যালয় তৃতীয় সেমিস্টার দর্শন মাইনর )
•অন্বয়ী-ব্যতিরেকী পদ্ধতির সংজ্ঞা ও সূত্র
যদি দুই বা ততোধিক ক্ষেত্রে একটি ঘটনা (কার্য) উপস্থিত থাকে এবং তাদের মধ্যে কেবল একটি সাধারণ অবস্থা (কারণ) বর্তমান থাকে, আবার দুই বা ততোধিক ক্ষেত্রে সেই ঘটনাটি অনুপস্থিত থাকে এবং সেখানে কেবল সেই নির্দিষ্ট অবস্থাটিও অনুপস্থিত থাকে—তবে সেই অবস্থাটিই হবে ঘটনাটির কারণ বা কার্য।
•সাংকেতিক উদাহরণ
এই পদ্ধতিটি দুটি দৃষ্টান্তের প্রয়োজন- সার্থক দৃষ্টান্ত ও নঞর্থক দৃষ্টান্ত।
•সদর্থক দৃষ্টান্তগুচ্ছ
এখানে আমরা দেখি 'A' থাকলে 'a' ঘটে।
•পূর্বগামী ঘটনা(কারণ) অনুগামী ঘটনা(কার্য)
ABC — abc
ADE — ade
AFG — afg
(এখানে A হলো সাধারণ পূর্বগামী এবং a সাধারণ অনুগামী
•নঞর্থক দৃষ্টান্তগুচ্ছ
এখানে আমরা দেখি 'A' না থাকলে 'a' ঘটে না।
• পূর্বাণী ঘটনা। অনুগামী ঘটনা
BC — bc
DE — de
FG — fg
(এখানে A নেই, তাই a-ও নেই)।
সুতরাং A হলো a-এর কারণ।
• বাস্তব উদাহরণ।
•সদর্থক দৃষ্টান্ত-
•রাম পচা মাছ/রুটি/বিস্কুট খায়---- পেটে ব্যথা হলো।
•রহিম পচা মাছ/ভাত/আলুভাজা খায়--- পেটে ব্যথা হলো।
•যদু পচা মাছ/মাংস / ডিম খায়---- পেটে ব্যথা হলো।
(এখানে 'পচা মাছ খাওয়া' হলো সাধারণ ঘটনা)
•নঞর্থক দৃষ্টান্ত
•রাম পচা মাছ খেলনা - তার পেটে ব্যথাও হলো না।
•রহিম পচা মাছ খেলনা - তার পেটে ব্যথাও হলো না।
•যদু পচা মাছ খেলনা - তার পেটে ব্যথাও হলো না।
সুতরাং পচা মাছ খাওয়াই হলো পেটে ব্যথার কারণ।
• অন্বয়ী ব্যাতিরেকী পদ্ধতির সুবিধা ও অসুবিধা
• এটি অন্বয়ী পদ্ধতির তুলনায় অনেক বেশি নিশ্চিত। | এটি পর্যবেক্ষণ নির্ভর, তাই অনেক সময় ভুল হওয়ার সম্ভাবনা থাকে।
•বৈজ্ঞানিক গবেষণায় এই পদ্ধতিটি খুব কার্যকর। বহুকারণবাদের সম্ভাবনা থেকে যায়। |
•কারণ ও কার্যের মধ্যে অনিবার্য সম্বন্ধ স্থাপনে সাহায্য করে। এটি মূলত একটি আবিষ্কারের পদ্ধতি, প্রমাণের নয়। |
Comments
Post a Comment