Skip to main content

 আইসল্যান্ডীয় ভাষায় 'য়কুল' (Jökull) শব্দটির অর্থ হলো হিমবাহ (Glacier)। আইসল্যান্ডের ভৌগোলিক নামের শেষে এই শব্দটি যুক্ত থাকলে বুঝতে হবে সেটি একটি বরফে ঢাকা বিশাল এলাকা বা হিমবাহ।

 হিমবাহ হলো বরফের এক বিশাল নদী। প্রচণ্ড শীতের জায়গায় বছরের পর বছর ধরে তুষার জমতে জমতে যখন তা বিশাল এক বরফের স্তূপে পরিণত হয় এবং নিজস্ব ওজনে বা অভিকর্ষ বলের টানে ঢালু বেয়ে খুব ধীরগতিতে নামতে শুরু করে, তাকেই হিমবাহ (Glacier) বলা হয়।

মিঠাপানির ভাণ্ডার: পৃথিবীর মিঠাপানির (Fresh water) সবচেয়ে বড় উৎস হলো এই হিমবাহ।

আইসল্যান্ডের প্রায় ১১% এলাকা এই হিমবাহ বা 'য়কুল' দিয়ে ঢাকা। নিচে এর সম্পর্কে কিছু মূল তথ্য দেওয়া হলো:

১. কিছু বিখ্যাত 'য়কুল' বা হিমবাহ:

 * ভাৎনায়েকুল (Vatnajökull): এটি আইসল্যান্ড এবং আয়তনের দিক থেকে ইউরোপের বৃহত্তম হিমবাহ।

 * লাংয়েকুল (Langjökull): এটি আইসল্যান্ডের দ্বিতীয় বৃহত্তম হিমবাহ, যার অর্থ "দীর্ঘ হিমবাহ"।

 * এইয়াফিয়াৎলায়েকুল (Eyjafjallajökull): ২০১০ সালে এই হিমবাহের নিচে থাকা আগ্নেয়গিরির অগ্নুৎপাতের কারণে সারা বিশ্বের বিমান চলাচল ব্যাহত হয়েছিল।

২. কেন এটি গুরুত্বপূর্ণ?

 * আগ্নেয়গিরির সাথে সম্পর্ক: আইসল্যান্ডের অনেক হিমবাহের নিচেই সক্রিয় আগ্নেয়গিরি রয়েছে। একে বলা হয় "আগুন ও বরফের দেশ"।

 * জলবায়ু পরিবর্তন: বিশ্ব উষ্ণায়নের ফলে এই 'য়কুল' বা হিমবাহগুলো ধীরে ধীরে গলতে শুরু করেছে। যেমন— ওকয়েকুল (Okjökull) ছিল আইসল্যান্ডের প্রথম হিমবাহ যা ২০১৪ সালে তার হিমবাহের মর্যাদা হারায়।

৩. মজার তথ্য:

ইংরেজি শব্দ Icicle (বরফের কাঠি)-এর শেষের অংশটি আসলে এই আইসল্যান্ডীয় 'য়কুল' বা প্রাচীন নর্স শব্দ 'ইকেল' (Ikel) থেকেই এসেছে।

আপনি কি আইসল্যান্ডের কোনো নির্দিষ্ট হিমবাহ বা সেখানকার পর্যটন সম্পর্কে আরও জানতে চান? আমি আপনাকে সাহায্য করতে পারি।


Comments

Popular posts from this blog

একটি সার্থক গীতিকাব্যের পরিচয়।

  একটি সার্থক গীতিকাব্যের পরিচয়-সারদা মঙ্গল               গীতিকাব্য হলো এক ধরনের কবিতা, যার মধ্যে দিয়ে ব্যক্তির আবেগ, অনুভূতি এবং অভিজ্ঞতাগুলিকে ছন্দ ওর সংগীতের মাধ্যমে প্রকাশ করা হয়। তবে এখানে কবিতাগুলি খুবই ছোট আকারের হয়, আর সেখানে কবির ব্যক্তিগত অনুভূতির গভীরতা ও আন্তরিকতা প্রকাশ পায়। আর এই প্রেক্ষিতে আমরা বলতে পারি গীতি কবিতার সংকলন হলো গীতিকাব্য। ব্যঞ্জনাময় ও সংহত ।  গীতিকাব্যের বৈশিষ্ট্য  গীতিকাব্যের কিছু প্রধান বৈশিষ্ট্য নিচে আলোচনা করা হলো: ১. ব্যক্তিগত অনুভূতি ও আবেগ প্রকাশ: এটি গীতিকাব্যের প্রধান বৈশিষ্ট্য। এখানে কবি নিজের ব্যক্তিগত অনুভূতি, প্রেম, বিরহ, আনন্দ বা বিষাদের কথা তুলে ধরেন। ২. সংক্ষিপ্ততা: গীতিকাব্য সাধারণত দীর্ঘ হয় না। অল্প কয়েকটি স্তবকের মধ্যে কবি তাঁর ভাবনা সম্পূর্ণভাবে প্রকাশ করেন। ৩. সুর ও ছন্দের প্রাধান্য: গীতিকাব্য মূলত সুর করে আবৃত্তি করার জন্য রচিত হয়। তাই এতে সুর ও ছন্দের প্রতি বিশেষ মনোযোগ দেওয়া হয়। ৪. আত্মগতভাব: গীতিকাব্যে বাইরের জগতের বর্ণনা না দিয়ে কবির নিজের মনের ভেতরের জগতের প্রতি মনোযোগ ...

পঞ্চম সেমিস্টার ইতিহাস মাইনর সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর ।

পঞ্চম সেমিস্টার ইতিহাস মাইনর সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর  ১) শিল্প বিপ্লব কবে কোথায় প্রথম ঘটেছিল?         উত্তর - প্রথম শিল্প বিপ্লব শুরু হয়েছিল ইংল্যান্ডে (গ্রেট ব্রিটেন)। এটি প্রধানত অষ্টাদশ শতকের মাঝামাঝি সময়ে শুরু হয়ে প্রায় ১৭৬০ থেকে ১৮৪০ খ্রিস্টাব্দ-এর মধ্যে ঘটেছিল। ২) কৃষ্ণমৃত্যু কী?            • কৃষ্ণমৃত্যু (Black Death) হলো মানব ইতিহাসের এক ভয়াবহ মহামারি।এটি ছিল মূলত প্লেগ (Plague) রোগ, যা Yersinia pestis নামক ব্যাকটেরিয়ার কারণে সৃষ্টি হয়েছিল।এটি প্রধানত ১৩৪৬ থেকে ১৩৫৩ খ্রিস্টাব্দের মধ্যে ইউরোপ, এশিয়া (ইউরেশিয়া) এবং উত্তর আফ্রিকাজুড়ে ছড়িয়ে পড়েছিল। ৩) কে বলেছিলেন মানুষই সবকিছুর মানদণ্ড?        •এই বিখ্যাত উক্তিটি যিনি করেছিলেন তিনি হলেন প্রাচীন গ্রিসের একজন প্রখ্যাত দার্শনিক, যার নাম প্রোটাগোরাস (Protagoras)।তাঁর মূল বক্তব্যটি ছিল-"মানুষই সবকিছুর মানদণ্ড, যা আছে তারও, আর যা নেই তারও।” ৪) পেত্রাক কেন বিখ্যাত?         •পেত্রাক (Francesco Petrarca) ছিলেন ১৪ শতকের (১৩০৪-১৩৭৪) একজন ...

অবক্ষয় যুগ। অষ্টাদশ-ঊনবিংশ শতাব্দীর সন্ধিক্ষণে বাঙালির অবক্ষয় যুগের পরিচয় দাও। এই সময়ে টপ্পা ও আখড়াই গানের উদ্ভব ও জনপ্রিয়তার সামাজিক কারণগুলি আলোচনা করো।

অবক্ষয় যুগ। অষ্টাদশ-ঊনবিংশ শতাব্দীর সন্ধিক্ষণে বাঙালির অবক্ষয় যুগের পরিচয় দাও। এই সময়ে টপ্পা ও আখড়াই গানের উদ্ভব ও জনপ্রিয়তার সামাজিক কারণগুলি আলোচনা করো। পশ্চিমবঙ্গ রাষ্ট্রীয় বিশ্ববিদ্যালয় প্রথম সেমিস্টার বাংলা মাইনর।ইউনিট ৪।   অবক্ষয় যুগের পরিচয় এবং টপ্পা ও আখড়াই গানের সামাজিক কারণ ও অবক্ষয় যুগের পরিচয়          আমরা জানি যে,১৭৫৭ খ্রিস্টাব্দে পলাশীর যুদ্ধের পর থেকে ঊনবিংশ শতাব্দীর প্রথমার্ধ (১৮৫০ খ্রি.) পর্যন্ত সময়কালকে বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে 'অবক্ষয় যুগ' বা 'সন্ধিযুগ' বলা হয়।আর এটি ছিল মধ্যযুগের দেবনির্ভরতার অবসান এবং আধুনিক যুগের মানবতাবোধের সূচনার মধ্যবর্তী এক ক্রান্তিকাল।যেখানে এই সময়কালের প্রধান বৈশিষ্ট্যগুলি  নিম্নরূপে আলোচনা করা যেতে পারে-        •রাজনৈতিক অস্থিরতাঃ নবাবী শাসনের পতন এবং ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির দেওয়ানি লাভের ফলে বাংলার পুরনো শাসন ও অর্থনৈতিক কাঠামো ভেঙে পড়ে।      •'বাবু' সংস্কৃতির উদয়ঃ ছিয়াত্তরের মন্বন্তর (১১৭৬ বঙ্গাব্দ) এবং চিরস্থায়ী বন্দোবস্তের (১৭৯৩ খ্রি.) ফলে গ্রামীণ বনেদি সমাজ ধ্...