মিলের অন্বয়ী পদ্ধতি (Method of Agreement) উদাহরণসহ ব্যাখ্যা ও বিচার করো (পশ্চিমবঙ্গ রাষ্ট্রীয় বিশ্ববিদ্যালয়/কলিকাতা বিশ্ববিদ্যালয় তৃতীয় সেমিস্টার দর্শন মাইনর সিলেবাস)
যুক্তিবিজ্ঞানী জন স্টুয়ার্ট মিল কার্যকারণ সম্পর্ক নির্ণয়ের জন্য পাঁচটি পদ্ধতির কথা বলেছেন, যার মধ্যে প্রথম এবং অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পদ্ধতি হলো অন্বয়ী পদ্ধতি (Method of Agreement)।আর সেই পদ্ধতির
•মূল সূত্র বা সংজ্ঞা-
অন্বয়ী পদ্ধতির মূল কথা হলো 'মিল' বা 'সাদৃশ্য'। মিলের মতে-"আলোচ্য ঘটনার দুই বা ততোধিক দৃষ্টান্তের মধ্যে যদি কেবল একটিমাত্র পরিস্থিতি সাধারণ বা মিল থাকে, তবে সেই পরিস্থিতিটিই হলো আলোচ্য ঘটনার কারণ বা কার্য।"সহজ কথায় -
যদি একাধিক ক্ষেত্রে একটি সাধারণ অবস্থা উপস্থিত থাকে এবং সেই প্রতিটি ক্ষেত্রেই আলোচ্য ঘটনাটি ঘটে, তবে ওই সাধারণ অবস্থাটিই কারণ হিসেবে গণ্য হবে।
•আকারগত/সাংকেতিক উদাহরণ (Symbolic Example)
ধরা যাক, আমরা 'ঘ' নামক একটি ঘটনার কারণ অনুসন্ধান করছি।
•দৃষ্টান্ত সমূহ।পূর্ববর্তী ঘটনা (কারণ-Antecedents) পরবর্তী ঘটনা (কার্য Consequents)।
•পূর্ববর্তী ঘটনা(কারণ) •পরবর্তী ঘটনা (কার্য)
•১ম দৃষ্টান্ত-ক, খ, গ- ঘ, ঙ, চ।
•২য় দৃষ্টান্ত -ক, প, ফ- ঘ, ব, ভ।
•৩য় দৃষ্টান্ত -ক, ম, য- ঘ, র, ল।
এখানে দেখা যাচ্ছে যে,বিভিন্ন পরিস্থিতিতে 'খ-গ', 'প-ফ' বা 'ম-য' পরিবর্তিত হলেও 'ক' পরিস্থিতিটি সবক্ষেত্রে সাধারণ। অতএব, অন্বয়ী পদ্ধতি অনুযায়ী 'ক' হলো 'ঘ'-এর কারণ।
•বাস্তব উদাহরণ
ধরা যাক, একটি হোস্টেলের কয়েকজন ছাত্র অসুস্থ হয়ে পড়ল। কারণ অনুসন্ধানে দেখা গেল-
•১ম ছাত্র: ভাত, ডাল, মাছ এবং মিষ্টি খেয়েছে-অসুস্থ
•২য় ছাত্র: রুটি, তরকারি এবং মিষ্টি খেয়েছে-অসুস্থ
•৩য় ছাত্র: ফল, দুধ এবং মিষ্টি খেয়েছে-অসুস্থ।
এখানে প্রত্যেকের খাবারের তালিকা ভিন্ন হলেও একটি বিষয়ে মিল আছে—তা হলো 'মিষ্টি'। যেহেতু সবাই মিষ্টি খেয়েছে এবং সবাই অসুস্থ হয়েছে, তাই অন্বয়ী পদ্ধতি অনুযায়ী বলা যায় 'মিষ্টি খাওয়াই' হলো অসুস্থতার কারণ।
৪)অন্বয়ী পদ্ধতির সুবিধা
• সহজসাধ্যঃএটি একটি পর্যবেক্ষণের পদ্ধতি। তাই সাধারণ পর্যবেক্ষণের মাধ্যমেই কারণ নির্ণয় করা সম্ভব।
•প্রকল্প গঠনঃবৈজ্ঞানিক গবেষণার প্রাথমিক স্তরে কোনো ঘটনার সম্ভাব্য কারণ সম্পর্কে ধারণা পেতে এই পদ্ধতি সাহায্য করে।
•ব্যাপ্তিঃএই পদ্ধতির প্রয়োগক্ষেত্র অনেক বিস্তৃত, কারণ এটি কেবল একটি সাধারণ মিল থাকলেই কার্যকর হয়।
৫)অন্বয়ী পদ্ধতির অসুবিধা বা সীমাবদ্ধতা
•বহুকারণবাদঃ এই পদ্ধতির সবচেয়ে বড় দোষ হলো 'বহুকারণবাদ'। মিষ্টি খেয়ে অসুস্থ হওয়ার উদাহরণে দেখা যেতে পারে যে, মিষ্টি বিষাক্ত ছিল না, অন্য কোনো অজ্ঞাত কারণে তারা অসুস্থ হয়েছে।
•প্রাসঙ্গিক ও অপ্রাসঙ্গিক ঘটনার পার্থক্যঃঅনেক সময় দুটি ঘটনার মধ্যে কেবল সংযোগ থাকলেই একটিকে অন্যটির কারণ বলে ভুল হতে পারে (যেমন: কাকতালীয় ঘটনা)।
•পর্যবেক্ষণ নির্ভরতাঃএটি মূলত পর্যবেক্ষণের ওপর নির্ভর করে, তাই পরীক্ষাগারের মতো নিখুঁত ফল সব সময় পাওয়া যায় না।
পরিশেষে বলা যায় যে,অনেক দোষত্রুটি থাকা সত্ত্বেও বিজ্ঞানের প্রাথমিক অনুসন্ধানে অন্বয়ী পদ্ধতির গুরুত্ব অপরিসীম। এটি কার্যকারণ সম্পর্কের একটি ইঙ্গিত প্রদান করে যা পরবর্তীতে ব্যতিরেকী পদ্ধতির মাধ্যমে নিশ্চিত করা যায়।
ঠিক এরূপ অসংখ্য বিষয়ভিত্তিক আলোচনা ব্যাখ্যা সাজেশন এবং টিউটোরিয়াল ক্লাসের ভিডিও পেতে ভিজিট করুন আমাদের ওয়েবসাইট এবং SHESHER KOBITA SUNDARBAN Youtube channel 🙏 Samaresh Sir.
Comments
Post a Comment