পশ্চিমবঙ্গ মধ্যশিক্ষা পর্ষদের সপ্তম শ্রেণির পাঠ্যসূচির অন্তর্ভুক্ত শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়ের 'পাগলা গণেশ' একটি চমৎকার বিজ্ঞানধর্মী (Science Fiction) গল্প। নিচে গল্পের সংক্ষিপ্তসার ও প্রয়োজনীয় তথ্য দেওয়া হলো:
মূল তথ্য
* লেখক: শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়।
* গল্পের প্রেক্ষাপট: ভবিষ্যৎ পৃথিবী, সাল ৩৫৮৯।
* মূল উপজীব্য: যান্ত্রিক সভ্যতার যুগে মানবিকতা, শিল্পকলা এবং সৃজনশীলতার গুরুত্ব।
গল্পের সংক্ষিপ্তসার
১. যান্ত্রিক ভবিষ্যৎ ও বিজ্ঞানের জয়জয়কার:
৩৫৮৯ সালে পৃথিবী বিজ্ঞানে চরম উন্নতি করেছে। মানুষ অমরত্ব লাভ করেছে (মৃত্যুঞ্জয়ী টনিক আবিষ্কারের ফলে), মহাকাশ ভ্রমণ সহজ হয়ে গেছে। কিন্তু এই অতি-আধুনিক যুগে মানুষের মন থেকে মায়া, দয়া, ভালোবাসা এবং বিশেষ করে কবিতা, গান ও ছবির মতো সুকুমার বৃত্তিগুলো হারিয়ে গেছে। লোকে মনে করে এসব ‘অপ্রয়োজনীয় সময় নষ্ট’।
২. গণেশ ও তার ব্যতিক্রমী অবস্থান:
গল্পের নায়ক গণেশ একজন ২০০ বছরের বৃদ্ধ। তিনি বিজ্ঞানের এই যান্ত্রিকতা মেনে নিতে পারেননি। যখন পৃথিবী থেকে শিল্প-সাহিত্য বিলুপ্তপ্রায়, তখন গণেশ হিমালয়ের নির্জন গুহায় বসে কবিতা লেখেন, ছবি আঁকেন আর গান গান। তাঁর লক্ষ্য হলো পৃথিবীকে আবার 'মানুষ' করা, অর্থাৎ মানুষের মনে আবেগ ফিরিয়ে আনা।
৩. গণেশের পরিবার ও সমাজ:
গণেশের তিন ছেলে ও এক মেয়ে থাকলেও তারা বাবার এই 'পাগলামি' পছন্দ করে না। তারা সবাই বিজ্ঞানের সেবায় নিয়োজিত। রাষ্ট্র ও সমাজ গণেশকে 'পাগল' বলে মনে করে।
৪. গল্পের মোড় পরিবর্তন:
একদিন লাসা থেকে আসা দুজন পুলিশ (যারা ঝোড়ো গতিতে আকাশে উড়ছিল) যান্ত্রিক গোলযোগের কারণে গণেশের আস্তানায় নামতে বাধ্য হয়। গণেশ তাদের কবিতা শোনায় এবং গান গায়। প্রথমে তারা একে 'সময় নষ্ট' মনে করলেও, ধীরে ধীরে তাদের মনে এক অদ্ভুত পরিবর্তন আসে। তারা বুঝতে পারে, শুধু যান্ত্রিক উন্নতিই জীবন নয়, মনের শান্তির জন্য শিল্পের প্রয়োজন আছে।
৫. উপসংহার:
গল্পের শেষে দেখা যায়, গণেশের এই 'শিল্পের নেশা' সংক্রামক হয়ে উঠছে। ওই পুলিশ অফিসাররা এবং পরে আরও অনেকে গণেশের কাছে কবিতা শিখতে আসতে শুরু করে। গণেশ হাসিমুখে বুঝতে পারেন— "পৃথিবীটা বেঁচে গেল"। অর্থাৎ, শিল্প ও সাহিত্যের মাধ্যমেই মানুষের মানবিকতা ফিরে আসছে।
পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ কিছু পয়েন্ট
* মৃত্যুঞ্জয়ী টনিক: যা খেয়ে মানুষ অমর হয়ে গিয়েছিল।
* গণেশের বয়স: ২০০ বছর।
* হিমালয়ের উচ্চতা: বিজ্ঞানের দাপটে পাহাড়ের উচ্চতাও কমে গিয়েছিল।
* মূল বার্তা: বিজ্ঞান মানুষের জীবনকে আরামদায়ক করতে পারে, কিন্তু শিল্প-সংস্কৃতি ছাড়া জীবন প্রাণহীন।
আপনি কি এই গল্পের গুরুত্বপূর্ণ বড় প্রশ্ন বা ছোট প্রশ্নের
একটি তালিকা পেতে চান?
অবশ্যই! 'পাগলা গণেশ' গল্প থেকে সপ্তম শ্রেণির প্রথম সেমিস্টার পরীক্ষার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কিছু ছোট প্রশ্নের (SAQ) তালিকা নিচে দেওয়া হলো:
এক কথায় উত্তর বা সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন:
১. 'পাগলা গণেশ' গল্পে কোন সালের কথা বলা হয়েছে?
* উত্তর: ৩৫৮৯ সালের কথা বলা হয়েছে।
২. গণেশের বয়স কত?
* উত্তর: গণেশের বয়স ২০০ বছর।
৩. মানুষ মৃত্যুঞ্জয়ী টনিক আবিষ্কার করেছিল কত বছর আগে?
* উত্তর: গল্পের সময় থেকে প্রায় দেড়শো বছর আগে।
৪. গণেশ কোথায় বসে কবিতা লিখছিলেন?
* উত্তর: হিমালয়ের একটি গিরিগুহায় নির্জনে বসে।
৫. গণেশের চার ছেলেমেয়ের বয়স কত?
* উত্তর: সবারই বয়স একশোর উপরে।
৬. লাসা থেকে আসা পুলিশ দুজন কিসে চড়ে যাচ্ছিল?
* উত্তর: তারা একটি এয়ারক্র্যাফটে (বা জেট বিমানে) চড়ে যাচ্ছিল।
৭. গণেশকে কেন 'পাগল' বলা হতো?
* উত্তর: বিজ্ঞানের যুগে সবাই যখন আবেগহীন যান্ত্রিক জীবনে মত্ত, তখন গণেশ কবিতা, গান আর ছবি নিয়ে মেতে থাকতেন বলে তাকে সবাই পাগল বলত।
৮. গণেশের মতে পৃথিবীটা কীভাবে বেঁচে গেল?
* উত্তর: যখন মানুষ আবার কবিতা পড়তে ও গান গাইতে শুরু করল এবং তাদের মনে আবেগ ফিরে এল, তখন গণেশ বুঝলেন পৃথিবীটা যান্ত্রিকতার হাত থেকে বেঁচে গেল।
৯. মহাকাশে যাওয়ার জন্য এখন কোন যান ব্যবহার করা হয়?
* উত্তর: ফোটন কণা দিয়ে চলা মহাকাশযান।
১০. গণেশের বড় ছেলের পেশা কী ছিল?
- উত্তর: গণেশের বড় ছেলে একজন বিজ্ঞানী ছিল।
কিছু গুরুত্বপূর্ণ শূন্যস্থান পূরণ বা MCQ ভিত্তিক তথ্য:
* গণেশ একসময় কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের লজিকের অধ্যাপক ছিলেন।
* পৃথিবী থেকে কবিতা, গান, আর্ট এসব বিলুপ্ত হয়ে গিয়েছিল।
* গণেশের স্ত্রী চলে গিয়েছিলেন শুক্র গ্রহে।
* পুলিশ অফিসার দুজন গণেশের কাছে কবিতা শুনতে চেয়েছিল।
পরামর্শ: পরীক্ষার জন্য বিশেষ করে "পৃথিবীটা বেঁচে গেল"—এই উক্তিটির তাৎপর্য ভালো করে পড়ে রাখবেন। এটি বড় প্রশ্ন হিসেবেও খুব গুরুত্বপূর্ণ।
আপনার কি আরও বড় কোনো প্রশ্নের (৩ বা ৫ ন
ম্বরের) উত্তরের প্রয়োজন আছে?
প্রথম সেমিস্টার পরীক্ষার জন্য 'পাগলা গণেশ' গল্প থেকে ৩ এবং ৫ নম্বরের যে প্রশ্নগুলো সবচেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ, তার উত্তরসহ একটি তালিকা নিচে দেওয়া হলো:
৩ নম্বরের সংক্ষিপ্ত উত্তরধর্মী প্রশ্ন
১. "গণেশ পাগল বলে পরিচিত।"—গণেশকে কেন পাগল বলা হতো?
উত্তর: শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়ের ‘পাগলা গণেশ’ গল্পের প্রেক্ষাপট হলো ৩৫৮৯ সাল। সেই সময় পৃথিবী বিজ্ঞানে চরম উন্নত, মানুষ অমরত্ব লাভ করেছে এবং মহাকাশ জয় করেছে। যান্ত্রিকতার এই যুগে মানুষ কবিতা, গান, ছবি আঁকা বা আবেগকে 'অপ্রয়োজনীয় সময় নষ্ট' বলে মনে করত। কিন্তু গণেশ এই আধুনিক যুগেও হিমালয়ের গুহায় বসে কবিতা লিখতেন, গান গাইতেন এবং ছবি আঁকতেন। সবার থেকে আলাদা এই ‘অদ্ভুত’ আচরণের জন্যই সমাজ তাকে ‘পাগল’ বলে মনে করত।
২. "লাসা থেকে আসা পুলিশ অফিসার দুটির অবস্থা কেমন হয়েছিল?"
উত্তর: লাসা থেকে আসা পুলিশ অফিসার দুজন ঝোড়ো গতিতে এয়ারক্রাফট চালিয়ে যাচ্ছিল। যান্ত্রিক গোলযোগের কারণে তারা গণেশের আস্তানার কাছে নামতে বাধ্য হয়। তারা প্রথমে গণেশের গান ও কবিতাকে 'সময় নষ্ট' বলে অবজ্ঞা করেছিল। কিন্তু গণেশের সান্নিধ্যে এবং তাঁর কবিতা শুনে তাদের যান্ত্রিক মনের ভেতর সুপ্ত থাকা মানবিক আবেগ জেগে ওঠে। তারা শেষ পর্যন্ত গণেশের কাছ থেকে কবিতার কাগজ চেয়ে নেয়।
৫ নম্বরের ব্যাখ্যামূলক প্রশ্ন
৩. "গণেশ বুঝলেন পৃথিবীটা বেঁচে গেল।"—কোন পরিস্থিতিতে গণেশ এমন কথা ভেবেছেন? এর তাৎপর্য কী?
উত্তর: প্রেক্ষাপট: বিজ্ঞানের চরম উন্নতির ফলে ৩৫৮৯ সালের পৃথিবী ছিল আবেগহীন ও যান্ত্রিক। মানুষ শিল্প-সাহিত্য ভুলে গিয়েছিল। গণেশ একা লড়ছিলেন মানুষের মনে সেই পুরনো আবেগ ও ভালোবাসা ফিরিয়ে আনতে।
পরিস্থিতি: একদিন লাসা থেকে আসা দুজন পুলিশ অফিসার এবং পরে আরও সাধারণ মানুষ গণেশের গুহায় আসতে শুরু করে। তারা বিজ্ঞানের জটিল তথ্যের বদলে গণেশের কাছে কবিতা শুনতে চায়, গান শিখতে চায়। এমনকি গণেশের নিজের ছেলেমেয়েরাও যারা বিজ্ঞানে মগ্ন ছিল, তারাও ধীরে ধীরে বাবার এই শিল্পের টানে ফিরে আসতে শুরু করে।
তাৎপর্য: গণেশ বুঝতে পারেন যে মানুষ শুধু যন্ত্র বা তথ্য নিয়ে বাঁচতে পারে না; তাদের মনে রসদ জোগানোর জন্য শিল্প-সংস্কৃতির প্রয়োজন। যখন তিনি দেখলেন মানুষ আবার কবিতা ও গানের প্রতি আগ্রহ দেখাচ্ছে, তখন তাঁর মনে হলো যান্ত্রিকতার মরুভূমিতে আবার মানবিকতার জোয়ার আসবে। এই মানবিকতার পুনর্জন্মকেই গণেশ 'পৃথিবী বেঁচে যাওয়া' বলে অভিহিত করেছেন।
অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ ছোট প্রশ্ন (এক নজরে):
* গণেশের পেশা কী ছিল? — তিনি একসময় কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের লজিকের অধ্যাপক ছিলেন।
* পৃথিবীতে এখন কী নেই? — পৃথিবীতে এখন কোনো ফুল নেই, প্রজাপতি নেই, এমনকি কোনো মায়ামমতাও নেই।
* গণেশ কত বছর ধরে হিমালয়ে আছেন? — প্রায় ১০০ বছর।
পরামর্শ: পরীক্ষার খাতায় উত্তর লেখার সময় লেখকের নাম ও গল্পের নাম অবশ্যই উল্লেখ করবেন। এতে উত্তরের মান অনেক বেড়ে যায়।
আপনার কি এই গল্পের কোনো বিশেষ লাইনের মানে বুঝতে অসুবিধা হচ্ছে? চাইলে আমি বু
ঝিয়ে দিতে পারি।
Comments
Post a Comment