Skip to main content

 পশ্চিমবঙ্গ রাষ্ট্রীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের (WBSU) পঞ্চম সেমিস্টার দর্শন মাইনর (Minor) পরীক্ষার জন্য এই দুটি পার্থক্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। নিচে সহজ ভাষায় ও পয়েন্ট আকারে উত্তর দুটি আলোচনা করা হলো:

• সক্রিয় ও নিষ্ক্রিয় করুণা হত্যার মধ্যে পার্থক্য লেখো।

       আমরা জানি যে,করুণা হত্যা বা ইউথানেসিয়া হলো যন্ত্রণাকাতর মুমূর্ষু রোগীকে যন্ত্রণামুক্তি দিতে মৃত্যুর পথে এগিয়ে দেওয়া।এর দুটি প্রধান রূপ হলো সক্রিয় ও নিষ্ক্রিয়।আর এই সক্রিয় করুণা হত্যা (Active) ও নিষ্ক্রিয় করুণা হত্যা (Passive)র পার্থক্য হলো -

   • সক্রিয় করুণা হত্যাসরাসরি কোনো পদক্ষেপের মাধ্যমে রোগীর মৃত্যু ঘটানো।• কিন্তু নিষ্ক্রিয় করুণা হত্যারোগীকে বাঁচিয়ে রাখার কৃত্রিম ব্যবস্থাগুলি বন্ধ করে দেওয়া। |

    • সক্রিয় করুণা হত্যারোগীকে প্রাণঘাতী ইনজেকশন বা বিষাক্ত ওষুধ দেওয়া হয়।• কিন্তু-নিষ্ক্রিয় করুণা হত্যা ভেন্টিলেটর খুলে নেওয়া, অক্সিজেন বন্ধ করা বা ওষুধ দেওয়া বন্ধ করা।

    • সক্রিয় করুণা হত্যা জেমস র‍্যাচেলস মনে করেন এটি অনেক সময় বেশি মানবিক, কারণ এতে মৃত্যু দ্রুত হয়।•কিন্তু- নিষ্ক্রিয় করুণা হত্যা প্রথাগত চিকিৎসাবিজ্ঞানে এটি অনেক সময় আইনত বৈধ বলে গণ্য হয়। |

 সক্রিয় করুণা হত্যার ক্ষেত্রে চিকিৎসক সরাসরি মৃত্যুর জন্য দায়ী থাকেন।•কিন্তু নিষ্ক্রিয় করুণা হত্যার ক্ষেত্রে রোগীকে তার নিজের স্বাভাবিক মৃত্যুর দিকে ছেড়ে দেওয়া হয়। |

       •সক্রিয় করুণা হত্যার ক্ষেত্রে যন্ত্রণার অবসান দ্রুত ঘটে।• কিন্তু-নিষ্ক্রিয় করুণা হত্যার ক্ষেত্রে মৃত্যু না হওয়া পর্যন্ত রোগী ধুঁকে ধুঁকে কষ্ট পেতে পারেন। |

২. গভীর ও অগভীর বাস্তুসংস্থানের পার্থক্য (Deep vs Shallow Ecology)

নরওয়েজীয় দার্শনিক আর্নি নেস (Arne Naess) ১৯৭৩ সালে পরিবেশ রক্ষার দৃষ্টিভঙ্গিকে এই দুই ভাগে ভাগ করেছেন।

| পার্থক্যের বিষয় | অগভীর বাস্তুসংস্থান (Shallow) | গভীর বাস্তুসংস্থান (Deep) |

|---|---|---|

| মূল কেন্দ্র | মানুষ-কেন্দ্রিক (Anthropocentric): মানুষের স্বার্থই প্রধান। | জীব-কেন্দ্রিক (Biocentric): সমগ্র জীবজগত ও প্রকৃতি প্রধান। |

| উদ্দেশ্য | উন্নত দেশের মানুষের সুখ-স্বাচ্ছন্দ্য বজায় রাখা এবং দূষণ কমানো। | পৃথিবীর সমস্ত প্রাণের স্বাভাবিক মর্যাদা ও ভারসাম্য রক্ষা করা। |

| প্রকৃতির মূল্য | প্রকৃতির কেবল ব্যবহারিক মূল্য (Instrumental Value) আছে। | প্রকৃতির নিজস্ব বা অন্তর্নিহিত মূল্য (Intrinsic Value) আছে। |

| সমাধান পদ্ধতি | প্রযুক্তিগত সমাধান বা আইনের মাধ্যমে পরিবেশ রক্ষা। | জীবনযাত্রার মৌলিক পরিবর্তন এবং প্রকৃতির প্রতি শ্রদ্ধাশীল হওয়া। |

| মানুষের স্থান | মানুষকে প্রকৃতির উপরে বা অধিপতি হিসেবে দেখা হয়। | মানুষকে প্রকৃতির একটি অঙ্গ বা সাধারণ সদস্য মনে করা হয়। |

পরীক্ষার জন্য বিশেষ নোট:

 * জেমস র‍্যাচেলস-এর যুক্তি: ৫ বা ১০ নম্বরের প্রশ্নে 'সক্রিয় ও নিষ্ক্রিয় করুণা হত্যা' এলে অবশ্যই জেমস র‍্যাচেলস-এর কথা উল্লেখ করবেন। তিনি মনে করতেন যে সক্রিয় ও নিষ্ক্রিয় হত্যার মধ্যে নৈতিকভাবে কোনো পার্থক্য নেই; বরং সক্রিয় পদ্ধতি অনেক সময় অধিক যন্ত্রণামুক্ত।

 * আর্নি নেস-এর দর্শন: গভীর বাস্তুসংস্থানের ক্ষেত্রে আর্নি নেস মনে করেন যে, মানুষের কোনো অধিকার নেই প্রকৃতির এই বৈচিত্র্য নষ্ট করার, যদি না তা জীবন রক্ষার জন্য একান্ত প্রয়োজন হয়।

আপনার পরীক্ষার জন্য আর কোনো নির্দিষ্ট প্রশ্নের পয়েন্ট 

বা নোটস কি গুছিয়ে দেব?


পশ্চিমবঙ্গ রাষ্ট্রীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের (WBSU) বিগত কয়েক বছরের প্রশ্নপত্রের ধারা এবং সিলেবাসের গুরুত্ব অনুযায়ী, ১০ নম্বরের জন্য সবচেয়ে বেশি সম্ভাব্য তিনটি প্রশ্নের তালিকা নিচে দেওয়া হলো। এই তিনটি প্রশ্ন তৈরি রাখলে আপনি নিশ্চিতভাবেই পরীক্ষায় বড় প্রশ্নের উত্তর দিতে পারবেন।

১. প্রাণী অধিকারের স্বপক্ষে পিটার সিঙ্গারের (Peter Singer) উপযোগবাদী মতবাদটি আলোচনা করো।

      পিটার সিঙ্গারের যুক্তির মূল ভিত্তি হলো 'যন্ত্রণাবোধ'। যেখানে সিঙ্গার প্রথাগত নৈতিকতাকে চ্যালেঞ্জ জানিয়েছেন। শুধু তাই নয়, তিনি সম-বিবেচনার নীতি অনুসরণ করে মানুষের সুখ-দুঃখকে যেমন গুরুত্ব দেন এবং প্রাণীদের যন্ত্রণাকেও সমান গুরুত্ব দেওয়ার কথা বলেন।আর সেখানে তিনি বলেন-

            জাতি বা লিঙ্গের ভিত্তিতে বৈষম্য করা যেমন অন্যায়, কেবল 'প্রজাতি'র ভিত্তিতে (মানুষ বনাম প্রাণী) বৈষম্য করাও তেমনই অনৈতিক। যেটি প্রজাতিবাদ নামে পরিচিত। পাশাপাশি তিনি বলেন-

        যে কাজে সামগ্রিক দুঃখ কমে এবং সুখ বাড়ে, সেটিই নৈতিক। প্রাণীদের হত্যা বা খাঁচায় রাখা তাদের প্রচণ্ড কষ্ট দেয়, যা উপযোগবাদের বিরোধী।

২. টম রিগানের (Tom Regan) 'জীবনের বিষয়ী' (Subject-of-a-life) তত্ত্বটি ব্যাখ্যা করো।

        রিগান পিটার সিঙ্গারের মতো 'সুখ-দুঃখ' নয়, বরং 'সহজাত মূল্য'এর ওপর জোর দিয়েছেন।আর সেখানে তাঁর মূল বক্তব্য হলো-

          প্রাণীরা কেবল মানুষের ব্যবহারের বস্তু নয়। তাদের নিজস্ব জীবন, ইচ্ছা এবং অনুভূতি আছে। আসলে তার মতে, যাদের স্মৃতি, ইচ্ছা, বিশ্বাস এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা আছে, তারাই 'Subject-of-a-life'। উন্নত স্তরের স্তন্যপায়ী প্রাণীরা এই পর্যায়ের অন্তর্ভুক্ত।আর সেখানেই তিনি 

       অধিকারের দাবি তোলেন ।যেহেতু তাদের সহজাত মূল্য আছে, তাই তাদের কোনো পরীক্ষাগারে ব্যবহার করা বা খাওয়ার জন্য হত্যা করা নৈতিকভাবে ভুল। তাদের অধিকার আছে মর্যাদা নিয়ে বাঁচার।

৩. অধিকারের উৎস ও প্রকৃতি আলোচনা করো। (প্রাকৃতিক বনাম সমাজভিত্তিক মতবাদ

     প্রাকৃতিক অধিকার মতবাদঃ জন লক-এর মতো দার্শনিকরা মনে করেন, অধিকার মানুষের জন্মগত। রাষ্ট্র বা সমাজ এটি দেয় না (যেমন: বাঁচার অধিকার, স্বাধীনতার অধিকার)।

     • সমাজভিত্তিক বা আইনি মতবাদঃবেন্থাম বা অস্টিন-এর মতো দার্শনিকরা মনে করেন, অধিকার হলো সমাজের দান। আইন ছাড়া কোনো অধিকার থাকতে পারে না।

      •অধিকার ও কর্তব্যের সম্পর্কঃঅধিকার ভোগ করলে অন্যের প্রতি কর্তব্য পালন করতে হয়—এই অংশটি উত্তরের শেষে যোগ করতে হবে।

আপনার জন্য পরামর্শ:

পরীক্ষায় ভালো নম্বরের জন্য আপনি যদি পিটার সিঙ্গার ও টম রিগানের মতবাদের তুলনামূলক আলোচনা তৈরি রাখেন, তবে আপনি ১০ নম্বরের যেকোনো প্রশ্নের উত্তর অনেক বেশি মানসম্মতভাবে লিখতে পারবেন।

আপনি কি চান আমি এই প্রশ্নগুলোর মধ্যে কোনো একটির সম্পূর্ণ নোট (পয়েন্ট অনুযায়ী) লিখে দিই? তাহলে আপনা

র পড়তে সুবিধা হবে।

Comments

Popular posts from this blog

দর্শন প্রথম সেমিস্টার সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন উত্তর।

দর্শন প্রথম সেমিস্টার সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর (পশ্চিমবঙ্গ রাষ্ট্রীয় বিশ্ববিদ্যালয়, মাইনর সিলেবাস)  ১)চার্বাক মতে ভূত কয়টি ও কি কি? উত্তরঃচার্বাক মতে ভূত চারটি- ক্ষিতি, অপ্ , তেজ ও মরুৎ ২) স্বভাববাদ কী? উত্তরঃ চার্বাক জড়বাদের ভিত্তি হল স্বভাববাদ। যে মতবাদ অনুসারে স্বভাব থেকেই ভূত সৃষ্টি, আবার স্বভাব থেকেই বিচ্ছেদ। যার জন্য ঈশ্বরকে স্বীকার করা প্রয়োজন নেই। ৩) অব্যাপ্যদেশ কথাটির অর্থ লেখো। উত্তরঃ অব্যাপ্যদেশ বলতে বোঝায়- অশাব্দ অর্থাৎ যাকে শব্দের দ্বারা প্রকাশ করা যায় না। ৫) জ্ঞান লক্ষণ প্রত্যক্ষ কাকে বলে?  কোন একটি ইন্দ্রিয়ের মাধ্যমে তার নিজের বিষয়ীভূত গুণ ছাড়াও যদি অপর একটি ইন্দ্রিয়ের বিষয়ীভূত গুণকে প্রত্যক্ষ করার হয়, তাহলে সেই প্রত্যক্ষকে জ্ঞানলক্ষণ প্রত্যক্ষ বলা হয়। ৬) ন্যায় মতে প্রমাণের প্রকার  উত্তরঃ ন্যায় মতে প্রমাণ চার প্রকার। প্রত্যক্ষ, অনুমান, উপমান এবং শাব্দ। ৭) সন্নিকর্ষ কাকে বলে? উত্তরঃ ন্যায় মতে ইন্দ্রিয় ও কোন বাস্তব পদার্থের মধ্যে একপ্রকার বিশেষ সম্পর্ক ঘটলে তবেই আমাদের একটি বস্তুর প্রত্যক্ষজ্ঞান ।আর ঐ বিশেষ বিশেষ সম্পর্কের পারিভাষিক নাম হলো সন...

ইতিহাস (3rd Semester) সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর।

 তৃতীয় সেমিস্টার ইতিহাস মাইনর সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর (পশ্চিমবঙ্গ রাষ্ট্রীয় বিশ্ববিদ্যালয়, তৃতীয় সেমিস্টার ইতিহাস মাইনর)। ১)বন্দেগান-ই-চাহালগানি বলতে কী বোঝায়? •উত্তরঃবন্দেগান-ই-চাহালগান বলতে চল্লিশ জন তুর্কি ও অ-তুর্কি দাসদের সমন্বয়ে গঠিত একটি বাহিনীকে বোঝায়। এই বাহিনীকে ডাল চালিশা বা তুরকান-ই- চাহালগানি নামে ডাকা হতো। ২)আমির খসরু কে ছিলেন? •উত্তরঃ আমির খসরু ছিলেন প্রখ্যাত সুফি সাধক বা আরেফ নিজামউদ্দিন আওলিয়ার ছাত্র এবং অন্যতম প্রধান খলিফা। যাঁকে 'ভারতের তোতা' উপাধি দেওয়া হয়েছিল। ৩) মহরানা প্রতাপ কে ছিলেন?  •উত্তরঃ মেবারের শিশোদিয়া রাজবংশের একজন হিন্দু রাজপুত রাজা ছিলেন মহারানা প্রতাপ সিং। যিনি রাজপুতদের বীরত্ব ও দৃঢ় সংকল্পের প্রতীক। বহু বছর ধরে তিনি মুঘল সম্রাট আকবরের সঙ্গে লড়াই করেন। ৪) জায়গীরদারী সংকট কী? •উত্তরঃ জায়গিরদারী সংকট ছিল মোগল সাম্রাজ্যের একটি অর্থনৈতিক সংকট। এই সংকটে জমি বা জায়গিরের অভাব দেখা দিয়েছিল। যার ফলে প্রশাসনিক খরচ মেটানো এবং যুদ্ধের খরচ বহন করা সম্ভব হতো না। ৫) দাক্ষিণাত্য ক্ষত কী? •উত্তরঃ দাক্ষিণাত্য ক্ষত বলতে ঔরঙ্গজেবের দাক্ষিণাত্য নীত...

ব্রিটিশ(3rd.Sem) পার্লামেন্টের সার্বভৌমত্ব

ব্রিটিশ পার্লামেন্টের সার্বভৌমত্ব আলোচনা করো (পশ্চিমবঙ্গ রাষ্ট্রীয় বিশ্ববিদ্যালয়, তৃতীয় সেমিস্টার, রাষ্ট্রবিজ্ঞান মাইনর সিলেবাস)।         আমরা জানি যে,ব্রিটেনের সংবিধান অলিখিত বলে বিভিন্ন ঐতিহাসিক দলিল, শাসনতান্ত্রিক রীতিনীতি, পার্লামেন্ট প্রণীত আইন প্রভৃতির মাধ্যমে পার্লামেন্টের সার্বভৌমত্ব অর্জিত হয়েছে। ব্রিটেনের পার্লামেন্ট আইনানুগ সার্বভৌমত্ব অর্জন করেছে, রাজনৈতিক সার্বভৌমত্ব নয়। আর সেখানে ব্রিটিশ পার্লামেন্টকে আইনানুগ সার্বভৌমত্ব বলা হয়, কারণ-       যেকোনো বিষয়ে পার্লামেন্ট আইন প্রণনয়নের অধিকারী। তবে ব্রিটিশ পার্লামেন্ট এককেন্দ্রিক রাষ্ট্র হওয়ায় পার্লামেন্টে কোন আইন প্রণয়নের সময় প্রতিদ্বন্দ্বিতা হয় না। আসলে সেখানে কমন্সসভা তথা নিম্নকক্ষের সার্বভৌমত্বকেই বলা হয় পার্লামেন্টের সার্বভৌমত্ব।     ••ব্রিটিশ পার্লামেন্টকে সার্বভৌমত্ব বলার কারণ- ১) পার্লামেন্টের ওপর আইনগত কোনরূপ বাধানিষেধ আরোপ করা যায় না। ২) পার্লামেন্ট প্রণীত আইনের বৈধতার ব্যাপারে আদালত কোন প্রশ্ন তুলতে পারেনা। ব্রিটেনের আদালত পার্লামেন্ট প্রণীত আইনের ওপর বিচার বি...