Skip to main content

উনিশ শতকে বাংলা গদ্যের বিকাশে ফোর্ট উইলিয়াম কলেজের অবদান আলোচনা করো।

উনিশ শতকে বাংলা গদ্যের বিকাশে ফোর্ট উইলিয়াম কলেজের অবদান আলোচনা করো (পশ্চিমবঙ্গ রাষ্ট্রীয় বিশ্ববিদ্যালয়, তৃতীয় সেমিস্টার, বাংলা মেজর এবং পঞ্চম সেমিস্টার, বাংলা মাইনর)।

            আলোচনার শুরুতেই আমরা বলে রাখি যে,১৯শ শতকে বাংলা গদ্যের বিকাশে ফোর্ট উইলিয়াম কলেজ একটি অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান। যে প্রতিষ্ঠানটি তৎকালীন সময়ে বাংলা গদ্যের বিকাশে এক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।তবে সেই সময়ে বাংলা গদ্যের একটি নিজস্ব রূপ তখনও ছিল না।আর সেই প্রেক্ষিতে ফোর্ট উইলিয়াম কলেজ কিছু নির্দিষ্ট পদক্ষেপ গ্ৰহণ করে বাংলা গদ্যকে একটি আধুনিক ও প্রাঞ্জল রূপদান করে। তবে-

        ১৭৯৯ সালে শ্রীরামপুর ব্যাপ্টিস্ট মিশন প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর বাইবেল ও অন্যান্য ধর্মীয় গ্রন্থ বাংলায় অনুবাদের কাজ শুরু হয়। এর প্রায় এক বছর পর অর্থাৎ ১৮০০ সালে কলকাতায় প্রতিষ্ঠিত হয় ফোর্ট উইলিয়াম কলেজ।যে কলেজটি মূলত ব্রিটিশ সিভিলিয়ানদের বাংলা ও অন্যান্য দেশীয় ভাষা শেখানোর উদ্দেশ্যেই এটি স্থাপিত হয়েছিল।আর কলেজটি প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর কলেজের বাংলা বিভাগের প্রধান হিসেবে নিযুক্ত হন উইলিয়াম কেরি।যিনি বাংলা গদ্যের বিকাশে অন্যতম পথিকৃৎ ছিলেন। আর সেই সময়কালে-

       •ফোর্ট উইলিয়াম কলেজের অবদান•

আমরা জানি যে,ফোর্ট উইলিয়াম কলেজের হাত ধরে বাংলা গদ্যের যে বিকাশ ঘটে।আর বিকাশে আমরা ফোর্ট উইলিয়াম কলেজের ভূমিকায় দেখি-

        •পাঠ্যপুস্তক রচনাঃ  ফোর্ট উইলিয়াম কলেজে বাংলা শেখানোর জন্য উপযুক্ত পাঠ্যপুস্তকের অভাব ছিল। এই অভাব পূরণের জন্য উইলিয়াম কেরি ও তাঁর নির্দেশে পণ্ডিতরা বেশ কিছু মৌলিক গ্রন্থ ও অনুবাদ গ্রন্থ রচনা করেন। এই গ্রন্থগুলো গদ্য রচনার ক্ষেত্রে একটি নির্দিষ্ট ছাঁচ তৈরি করে দেয়।

           •পণ্ডিতদের সমাবেশঃ উইলিয়াম কেরির তত্ত্বাবধানে কলেজের বাংলা বিভাগে অনেক বিদগ্ধ পণ্ডিত একত্রিত হন। তাঁদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলেন রামরাম বসু, মৃত্যুঞ্জয় বিদ্যালঙ্কার, গোলকনাথ শর্মা, হরপ্রসাদ রায় এবং রাজীবলোচন মুখোপাধ্যায়। এই পণ্ডিতরা তাঁদের লেখালেখির মাধ্যমে বাংলা গদ্যের ভিত্তি স্থাপন করেন।

           • গদ্যের প্রতিষ্ঠাঃফোর্ট উইলিয়াম কলেজের আগে বাংলা গদ্যের কোনো নির্দিষ্ট রূপ ছিল না। মূলত চিঠিপত্র, দলিল-দস্তাবেজ বা ব্যক্তিগত প্রয়োজনে গদ্য ব্যবহৃত হতো। ফোর্ট উইলিয়াম কলেজে রচিত গ্রন্থগুলো প্রথমবারের মতো গদ্যকে সাহিত্যিক মর্যাদা এনে দেয় এবং এর একটি মানসম্মত রূপ তৈরি হয়।

           •বাংলা গদ্যের বৈচিত্র্যঃশুধু ধর্মীয় বা শিক্ষামূলক বিষয় নয়, এই সময়ে রচিত গদ্যে গল্প, ইতিহাস, ভ্রমণকাহিনী, এমনকি উপদেশের মতো নানা বিষয় যুক্ত হয়। যেমন, রামরাম বসুর 'প্রতাপাদিত্য চরিত্র' এবং মৃত্যুঞ্জয় বিদ্যালঙ্কারের 'হিতোপদেশ' এই সময়ের গুরুত্বপূর্ণ সাহিত্যকর্ম।

          •ছাপাখানার প্রসার ও প্রচারঃ কলেজের উদ্যোগে এই গ্রন্থগুলো ছাপাখানার মাধ্যমে প্রকাশিত হয়, যা বাংলা গদ্যের ব্যাপক প্রচারে সহায়তা করে। ছাপার অক্ষরে প্রকাশিত হওয়ার ফলে লেখকদের মধ্যে গদ্যকে আরও সুসংগঠিতভাবে লেখার প্রবণতা বাড়ে।

           পরিশেষে আমরা বলতে পারি যে,ফোর্ট উইলিয়াম কলেজে বাংলা গদ্যের বিকাশে এক নতুন যুগের সূচনা করে।তবে এই কলেজ সরাসরি বাংলা সাহিত্যের জন্ম না দিলেও, আধুনিক বাংলা গদ্যের ভিত স্থাপন করে।যে ভিত পরবর্তীকালে ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর ও অক্ষয়কুমার দত্তের মতো লেখকদের হাতে পূর্ণতা পায়।

ঠিক এরূপ অসংখ্য বিষয়ভিত্তিক আলোচনা সাজেশন এবং ভিডিও পেতে ভিজিট করুন আমাদের ফেসবুক পেজ এবং আমাদের SHESHER KOBITA SUNDORBON YOUTUBE CHANNEL 🙏 


Comments