Skip to main content

Posts

Showing posts from May, 2026

Bengali Major 4/DS-4,Suggestion 2026

        West Bengal State University                                   4th. Semester                                                      Bengali Major                                                 Suggestion-2026                                                             DS-4 ১) প্রতিটি একক থেকে একটি করে মোট চারটি প্রশ্নের উত্তর দাও ১০×৪= ৪০ ক) ** মধ্য বাংলা ভাষার কাল কত সীমা ও সাহিত্যিক নিদর্শন উল্লেখ করো। এই ভাষার ভাষাতাত্ত্বিক বৈশিষ্ট্য গুলি লেখো। • *** প্রাচীন ভারতীয় ...
 পশ্চিমবঙ্গ রাষ্ট্রীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের (WBSU) ষষ্ঠ সেমিস্টার বাংলা মেজর (Major) পাঠ্যসূচির মানদণ্ড অনুযায়ী রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের **'কাদম্বরী'** চরিত্রটি আলোচনার ক্ষেত্রে একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয় স্পষ্ট করা প্রয়োজন। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কোনো উপন্যাসে 'কাদম্বরী' নামে কোনো কাল্পনিক চরিত্র নেই। তবে তাঁর ব্যক্তিগত জীবনে এবং বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে **কাদম্বরী দেবী** (রবীন্দ্রনাথের নতুন বৌঠান, জ্যোতিরিদ্রনাথ ঠাকুরের পত্নী) এক অবিস্মরণীয় বাস্তব চরিত্র। ষষ্ঠ সেমিস্টারের বিশেষত 'রবীন্দ্র-সাহিত্য' বা 'রবীন্দ্র-জীবনকথা' পত্রের সিলেবাসে রবীন্দ্রনাথের জীবন ও সৃষ্টিতে কাদম্বরী দেবীর প্রভাব প্রায়শই পাঠ্য থাকে। আবার অনেক সময় বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের 'কপালকুণ্ডলা' বা অন্যান্য ধ্রুপদী সাহিত্যের প্রসঙ্গে বাণভট্টের 'কাদম্বরী' অনুবাদের প্রসঙ্গ আসে। রবীন্দ্র-জীবনী ও রবীন্দ্র-সাহিত্যের প্রেক্ষাপটে **"রবীন্দ্রনাথের জীবনে ও সাহিত্যে কাদম্বরী দেবীর প্রভাব/ভূমিকা"** সম্পর্কিত একটি উচ্চমানের ও বিস্তারিত নোট নিচে প্রস্তুত করে দেওয়া হলো, যা পরী...

শেষের কবিতা' উপন্যাসের নামকরণের সার্থকতা আলোচনা করো।

' শেষের কবিতা' উপন্যাসের নামকরণের সার্থকতা আলোচনা করো।পশ্চিমবঙ্গ রাষ্ট্রীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের (WBSU) ষষ্ঠ সেমিস্টারের বাংলা মেজর (Major)DS-13          আলোচনা শুরুতেই আমরা বলতে পারি যে,রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের উপন্যাস সাহিত্যের ইতিহাসে ‘শেষের কবিতা’ একটি কালজয়ী ও অনন্য সৃষ্টি। এটি কেবল একটি উপন্যাস নয়, বরং গদ্যে লেখা এক অপূর্ব লিরিক বা গীতিকাব্য । সাহিত্যে নামকরণের ক্ষেত্রে কখনও চরিত্রের নাম, কখনও ঘটনার ঘনঘটা, আবার কখনও অন্তর্নিহিত ভাববস্তু প্রধান হয়ে ওঠে। ‘শেষের কবিতা’ উপন্যাসটির নামকরণ মূলত তার ভাবব্যঞ্জক, কাব্যিক এবং মনস্তাত্ত্বিক গভীরতা  কে নির্দেশ করে। আপাতদৃষ্টিতে মনে হতে পারে এটি একটি কবিতার বই, কিন্তু নিবিড় পাঠে বোঝা যায়-এই নামটির মধ্যেই লুকিয়ে আছে উপন্যাসের মূল ভাবাদর্শ, নায়ক অমিত রায়ের জীবনদর্শন এবং প্রেমচেতনা র চূড়ান্ত পরিণতি।          •নামকরণের যৌক্তিকতা, সার্থকতা ও নান্দনিক উৎস হিসাবে মূলত তিনটি প্রধান স্তরে বিশ্লেষণ করা যেতে পারে। আর সেখানে আমরা দেখি-     ১.উপন্যাসের গঠনগত বা আঙ্গিক দিক, যেখানে আছে গদ্য ও পদ্যের মেল...

গৃহদাহ' উপন্যাসের নামকরণের সার্থকতা আলোচনা করো।

শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের 'গৃহদাহ' উপন্যাসের নামকরণের সার্থকতা আলোচনা করো।পশ্চিমবঙ্গ রাষ্ট্রীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের (WBSU) ষষ্ঠ সেমিস্টারের বাংলা মেজর DS-13          আলোচনা শুরুতেই আমরা বলে রাখি যে,সাহিত্যে নামকরণের নানাবিধ পদ্ধতি রয়েছে—কখনও তা চরিত্রপ্রধান, কখনও ঘটনাকেন্দ্রিক, আবার কখনও তা ব্যঞ্জনামূলক বা প্রতীকী। অপরাজেয় কথাশিল্পী শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের 'গৃহদাহ' (১৯২০) উপন্যাসটির নামকরণ মূলত একটি গভীর ভাবব্যঞ্জক এবং মনস্তাত্ত্বিক প্রতীকী নামকরণ । উপন্যাসটিতে একদিকে যেমন সামাজিক ও পারিবারিক ভাঙনের এক বাস্তব চিত্র রূপায়িত হয়েছে, অন্যদিকে তেমনই মানুষের আদিম প্রবৃত্তি, কামনা-বাসনা এবং সংস্কারের দ্বন্দ্বে অন্তরের পবিত্র গৃহটি কীভাবে ছারখার হয়ে যায়, তার এক নিখুঁত চালচিত্র অঙ্কিত হয়েছে।আর এই দ্বিমুখী প্রেক্ষাপটে উপন্যাসটির নামকরণের সার্থকতা নিম্ন সূত্রাকারে আলোচনা করা হলো-          'গৃহদাহ' শব্দটির আক্ষরিক অর্থ হলো ‘ ঘরের আগুন’ বা ‘বাড়ি পুড়ে যাওয়া’ । কিন্তু শরৎচন্দ্রের কবিমানস কেবল ইঁট-কাঠ-পাথরের তৈরি জড় গৃহের দহন দেখিয়ে ক্ষান্ত হ...

দর্শন চতুর্থ সেমিস্টার সাজেশন ২০২৬

  West Bengal State University                                          4th. Semester                                                    Philosophy Minor                                                   Suggestion2026   2.Answer any two question from the following ( নিম্নলিখিত যেকোনো দুটি প্রশ্নের উত্তর দাও)। **• নৈতিক ও অনৈতিক ক্রিয়ার মধ্যে পার্থক্য লেখো। **• কান্টের নিঃশর্ত আদেশ তত্ত্বটি সংক্ষিপ্ত টীকা লেখো। •বৌদ্ধ দর্শনে নির্বাণ বলতে কী বোঝায়? **• জৈন দর্শনে যে অনুব্রত ও মহাব্রত-র মধ্যে পার্থক্য নির্দেশ করা হয়েছে তা লেখো। **• মনস্তাত্ত্বিক ও নৈতিক সুখবাদের মধ্যে পার্থক্য লেখো। **• বৌদ্ধ দর্শন প্রবর্তিত পঞ্চশীল ন...

রসতত্ত্বঃ ভরত মুনির রসসূত্রটি উল্লেখ করে বিভাব, অনুভাব ও ব্যভিচারী ভাবের পারস্পরিক সম্পর্ক বুঝিয়ে দাও।

রসতত্ত্বঃ ভরত মুনির রসসূত্রটি উল্লেখ করে বিভাব, অনুভাব ও ব্যভিচারী ভাবের পারস্পরিক সম্পর্ক বুঝিয়ে দাও। পশ্চিমবঙ্গ রাষ্ট্রীয় বিশ্ববিদ্যালয় চতুর্থ সেমিস্টার বাংলা মেজর।DS-5, Unit-III.(কাব্য জিজ্ঞাসা -অতুল চন্দ্র গুপ্ত )।  রসসূত্রঃ আচার্য ভরত মুনি তাঁর ‘ নাট্যশাস্ত্র’ গ্রন্থে রস নিষ্পত্তির প্রক্রিয়াটি বোঝাতে গিয়ে যে বিখ্যাত সূত্রটি দিয়েছেন, তা হলো- ​"বিভাবানুভাবব্যভিচারিসংযোগাদ্রসনিষ্পত্তিঃ"        অর্থাৎ বাংলায় যার অর্থ-বিভাব, অনুভাব এবং ব্যভিচারী ভাবের সংযোগে রস নিষ্পন্ন বা জাগ্রত হয়।আসলে মানুষের অন্তরে কিছু চিরস্থায়ী আবেগ বা ভাব সুপ্ত অবস্থায় থাকে, যেগুলিকে স্থায়ী ভাব বলা হয় (যেমন—রতি, শোক, ক্রোধ, উৎসাহ ইত্যাদি)। ভরত মুনির মতে, এই স্থায়ী ভাবটিই বিভাব, অনুভাব এবং ব্যভিচারী ভাবের সংস্পর্শে এসে রসরূপে আস্বাদনযোগ্য হয়ে ওঠে। ​ উপাদানগুলির পরিচয় ও পারস্পরিক সম্পর্ক ​      রস সূত্রের মূল রসায়নকে বুঝতে হলে প্রথমেই এর তিনটি মূল উপাদানকে আলাদা করে চিনে নেওয়া প্রয়োজন। নিচে একটি সহজ তালিকার মাধ্যমে এদের কাজ ও সম্পর্ক  হলো- ​১. বিভাব (কারন)।  ব...

রসতত্ত্বঃ ভরত মুনির রসসূত্রটি উল্লেখ করে বিভাব, অনুভাব ও ব্যভিচারী ভাবের পারস্পরিক সম্পর্ক বুঝিয়ে দাও।

রসতত্ত্বঃ ভরত মুনির রসসূত্রটি উল্লেখ করে বিভাব, অনুভাব ও ব্যভিচারী ভাবের পারস্পরিক সম্পর্ক বুঝিয়ে দাও। পশ্চিমবঙ্গ রাষ্ট্রীয় বিশ্ববিদ্যালয় চতুর্থ সেমিস্টার বাংলা মেজর।DS-5, Unit-III.      রসতত্ত্ব: ভরত মুনির রসসূত্র ও উপাদানসমূহের পারস্পরিক সম্পর্ক আলোচনায় আমরা প্রথমেই বলে রাখি যে,ভারতীয় সাহিত্যতত্ত্ব এবং নন্দনতত্ত্বের ইতিহাসে আচার্য ভরত  মুনির ‘নাট্যশাস্ত্র’( খ্রিস্টপূর্ব দ্বিতীয় শতক থেকে দ্বিতীয় খ্রিস্টাব্দের মধ্যবর্তী সময়) একটি আকর গ্রন্থ। এই গ্রন্থের ষষ্ঠ ও সপ্তম অধ্যায়ে রস ও ভাব নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়েছে। ষষ্ঠ অধ্যায়ে ভরত মুনি রস নিষ্পত্তির যে অমোঘ সূত্রটি নির্মাণ করেছেন, তা কাব্য ও নাট্য উভয় সাহিত্যেরই প্রাণস্বরূপ।আর সেখানে-আচার্য ভরতের অমর রসসূত্রটি হলো- "বিভাবানুভাবব্যভিচারি সংযোগাদ্রসনিষ্পত্তিঃ"       অর্থাৎ,সামাজিক বা সহৃদয় পাঠকের অন্তরে কিছু ভাব জন্মসূত্রেই সুপ্ত বা বাসনারূপে অবস্থান করে। এদের স্থায়ী ভাব  বলা হয়। যখন নাট্যমঞ্চে বা কাব্যের জগতে এই স্থায়ী ভাবের সঙ্গে বিভাব, অনুভাব এবং ব্যভিচারী বা সঞ্চারী ভাবের ‘সংযোগ’ ঘটে, তখনই সহ...

রসময়ীর চরিত্র। 'রসময়ীর রসিকতা' গল্পের নামভূমিকায় রসময়ী হলেও, তার 'রসিকতা' কীভাবে গল্পটিকে চালিত করেছে? রসময়ীর চরিত্রের ভেতরের কৌতুকপ্রিয়তা ও একই সাথে তার একাকীত্ব বা অভিমানের দিকটি আলোচনা করো।

রসময়ীর চরিত্র । 'রসময়ীর রসিকতা' গল্পের নামভূমিকায় রসময়ী হলেও, তার 'রসিকতা' কীভাবে গল্পটিকে চালিত করেছে? রসময়ীর চরিত্রের ভেতরের কৌতুকপ্রিয়তা ও একই সাথে তার একাকীত্ব বা অভিমানের দিকটি আলোচনা করো। পশ্চিমবঙ্গ রাষ্ট্রীয় বিশ্ববিদ্যালয় ষষ্ঠ সেমিস্টার বাংলা মেজর DS14, Unit-III.            বাংলা ছোটগল্পের ইতিহাসে প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায় মূলত বাস্তববাদী ও সহজ-সরল জীবনের রূপকার হিসেবে পরিচিত হলেও 'রসময়ীর রসিকতা' গল্পে তিনি এক অসাধারণ মনস্তাত্ত্বিক জটিলতার উন্মোচন করেছেন।গল্পের নামভূমিকা ও কেন্দ্রীয় চরিত্র 'রসময়ী' কেবল এক চপল বা কৌতুকপ্রিয় নারী নয়, বরং সে এক শাশ্বত নারীহৃদয়ের মান-অভিমান, নিঃসঙ্গতা ও অবদমিত আকাঙ্ক্ষার এক জীবন্ত প্রতীক।যে নিজের পাতা 'রসিকতা'-র জালে নিজেই জড়িয়ে গিয়ে সে গল্পটিকে এক হাসির নাটক থেকে বিষাদান্তক ট্র্যাজেডিতে রূপান্তরিত করেছে।আর সেখানে আমরা দেখি- ​        কৌতুকপ্রিয়তা ও অলীক আখ্যানের সৃজনী-প্রতিভা অধিকারিণী রসময়ী। আসলে রসময়ী চরিত্রের প্রথম প্রকাশ ঘটে তার প্রখর বুদ্ধিমত্তা ও গল্প ফাঁদার অসামান্য দক্ষতার ম...

রসময়ী রসিকতা গল্পে গৌরকিশোরের চরিত্র। গল্পের প্রধান পুরুষ চরিত্র গৌরকিশোর। তার স্বভাব, রসময়ীর রসিকতায় তার প্রতিক্রিয়া এবং শেষ পর্যন্ত তার যে মানসিক রূপান্তর ঘটেছে, তা নিজের ভাষায় লেখো।

রসময়ী রসিকতা গল্পে গৌরকিশোরের চরিত্র। গল্পের প্রধান পুরুষ চরিত্র গৌরকিশোর। তার স্বভাব, রসময়ীর রসিকতায় তার প্রতিক্রিয়া এবং শেষ পর্যন্ত তার যে মানসিক রূপান্তর ঘটেছে, তা নিজের ভাষায় লেখো। পশ্চিমবঙ্গ রাষ্ট্রীয় বিশ্ববিদ্যালয় ষষ্ঠ সেমিস্টার বাংলা মেজর DS14, Unit-III.         কথাসাহিত্যিক প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়ের ‘রসময়ীর রসিকতা’ গল্পের এক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং মনস্তাত্ত্বিকভাবে জটিল চরিত্র হলো গৌরকিশোর। গল্পকার তাকে কোনো প্রথাগত রোমান্টিক নায়ক হিসেবে চিত্রিত করেননি; বরং তিনি তাকে গড়ে তুলেছেন উনিশ শতকীয় বাঙালি মধ্যবিত্ত সমাজের এক বাস্তববাদী, বৈষয়িক এবং আবেগহীন পুরুষ-প্রতিনিধি হিসেবে। গল্পের শুরুতে গৌরকিশোরের যে স্থূল ও গম্ভীর রূপটি দেখা যায়, স্ত্রীর মৃত্যুর পর এক চরম অপরাধবোধ ও ট্র্যাজিক আত্মোপলব্ধির মধ্য দিয়ে তার যে মানসিক রূপান্তর ঘটে, তা-ই এই চরিত্রটির মূল আকর্ষণ।আর সেখানে- ​      গৌরকিশোরের এই মানসিক রূপান্তরকে মূলত তিনটি পর্যায়ে ভাগ করে আলোচনা করা যেতে পারে ​       • প্রথম পর্যায়ঃ গল্পের সূচনায় গৌরকিশোর একজন অত্যন...

রসময়ীর রসিকতা' গল্পটির নামকরণ কতটা সার্থকতা লাভ করেছে তা আলোচনা করো। (রসময়ীর এই রসিকতা কি কেবলই পরিহাস, নাকি এর পেছনে গভীর কোনো সত্য লুকিয়ে ছিল- আলোচনা করো।

রসময়ীর রসিকতা' গল্পটির নামকরণ কতটা সার্থকতা লাভ করেছে তা আলোচনা করো। (রসময়ীর এই রসিকতা কি কেবলই পরিহাস, নাকি এর পেছনে গভীর কোনো সত্য লুকিয়ে ছিল- আলোচনা করো। (পশ্চিমবঙ্গ রাষ্ট্রীয় বিশ্ববিদ্যালয় ষষ্ঠ সেমিস্টার বাংলা মেজর DS14,Unit-III.)       আমরা জানি যে,সাহিত্যে নামকরণের একটি বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে। নামকরণ সাধারণত বিষয়াশ্রয়ী, চরিত্রপ্রধান কিংবা ব্যঞ্জনাধর্মী হয়ে থাকে। কথাসাহিত্যিক প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়ের ‘ রসময়ীর রসিকতা’ গল্পটির নামকরণ আপাতদৃষ্টিতে চরিত্র ও বিষয়প্রধান মনে হলেও, এর গভীরে লুকিয়ে আছে এক অমোঘ জীবনসত্য ও মর্মস্পর্শী ট্র্যাজেডি । রসিকতার মোড়কে কীভাবে একটি দাম্পত্য জীবনের মনস্তাত্ত্বিক জটিলতা ও অপূর্ণতা প্রকাশ পেয়েছে, তা বিচার করলেই এই নামকরণের সার্থকতা স্পষ্ট হয়ে ওঠে।আর সেখানে-         গল্পের নামকরণের পটভূমি ও রসময়ীর ‘রসিকতা ’য় আমরা দেখি যে,গল্পের কেন্দ্রীয় চরিত্র রসময়ী ও গৌরকিশোরের দাম্পত্য জীবন ছিল অত্যন্ত গতানুগতিক। গৌরকিশোর বৈষয়িক, গম্ভীর এবং কিছুটা উদাসীন প্রকৃতির মানুষ; অন্যদিকে রসময়ী চঞ্চল, কৌতুকপ্রিয় এবং অন্তরে স্ব...

রসময়ীর রসিকতা।

প্রভাত কুমার মুখোপাধ্যায়ের **'রসময়ীর রসিকতা'** গল্পটি বাঙালি মধ্যবিত্ত জীবনের সহজ-সরল হাস্যরস, প্রচ্ছন্ন ব্যঙ্গ এবং মানবিক সম্পর্কের এক চমৎকার দলিল। বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় (যেমন WBSU, CU) বা উচ্চতর স্তরের পরীক্ষায় এই গল্পটি থেকে সাধারণত তিন ধরনের প্রশ্ন আসে   পশ্চিমবঙ্গ রাষ্ট্রীয় বিশ্ববিদ্যালয় ষষ্ঠ সেমিস্টার বাংলা মেজর DS14,Unit-II — **বিশ্লেষণাত্মক/বড় প্রশ্ন (৫ বা ১০ নম্বর)**, **সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন (৫ নম্বর)** এবং **অতি সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন (১ বা ২ নম্বর)**। পরীক্ষার প্রস্তুতির সুবিধার্থে সম্ভাব্য প্রশ্নগুলোকে নিচে কয়েকটি প্রধানভাগে ভাগ করে দেওয়া হলো: ## ১. চরিত্র কেন্দ্রিক প্রশ্ন (সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ) গল্পের চরিত্রগুলোর মনস্তত্ত্ব এবং তাদের কার্যকলাপ থেকে প্রায়শই বড় প্রশ্ন আসে।  * **রসময়ীর চরিত্র:** 'রসময়ীর রসিকতা' গল্পের নামভূমিকায় রসময়ী হলেও, তার 'রসিকতা' কীভাবে গল্পটিকে চালিত করেছে? রসময়ীর চরিত্রের ভেতরের কৌতুকপ্রিয়তা ও একই সাথে তার একাকীত্ব বা অভিমানের দিকটি আলোচনা করো।  * **গৌরকিশোরের চরিত্র:** গল্পের প্রধান পুরুষ চরিত্র গৌরকিশোর। তার স্বভাব, রস...
 * * পিএম যশস্বী স্কলারশিপ (PM YASASVI Scholarship)** হলো  ভারত সরকারের সামাজিক ন্যায়বিচার ও ক্ষমতায়ন মন্ত্রক (Ministry of Social Justice and Empowerment) দ্বারা প্রবর্তিত একটি অত্যন্ত মর্যাদাপূর্ণ জাতীয় স্কলারশিপ স্কিম।  এই প্রকল্পের মূল উদ্দেশ্য হলো আর্থিক ও সামাজিকভাবে অনগ্রসর শ্রেণীর মেধাবী শিক্ষার্থীদের উচ্চশিক্ষার পথ সুগম করা।         • পিএম যশস্বী স্কলারশিপ কী? "YASASVI" শব্দের পূর্ণরূপ হলো -PM Young Achievers Scholarship Award Scheme for Vibrant India**। এই স্কিমের আওতায় প্রতি বছর স্কুল স্তরের (নবম এবং একাদশ শ্রেণী) যোগ্য শিক্ষার্থীদের চিহ্নিত করে তাদের পড়াশোনার খরচ চালানোর জন্য আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হয়। এটি মূলত একটি সেন্ট্রাল সেক্টর স্কিম, যার সম্পূর্ণ খরচ বহন করে কেন্দ্র সরকার।            • আর্থিক সহায়তার পরিমাণ•  নবম শ্রেণীর শিক্ষার্থীদের জন্য:** প্রতি বছর সর্বোচ্চ **৭৫,০০০ টাকা।  একাদশ শ্রেণীর শিক্ষার্থীদের জন্য- প্রতি বছর সর্বোচ্চ ১,২৫,০০০ টাকা। *(এই টাকা দিয়ে শিক্ষার্থীরা তাদের স্কুলের ট...

সুবোধ ঘোষের 'অযান্ত্রিক' ছোটগল্পের নামকরণের সার্থকতা আলোচনা করো। পশ্চিমবঙ্গ রাষ্ট্রীয় বিশ্ববিদ্যালয়,ষষ্ঠ সেমিস্টার বাংলা মেজর।DS14,Unit-II.

সুবোধ ঘোষের 'অযান্ত্রিক' ছোটগল্পের নামকরণের সার্থকতা আলোচনা করো। পশ্চিমবঙ্গ রাষ্ট্রীয় বিশ্ববিদ্যালয়,ষষ্ঠ সেমিস্টার বাংলা মেজর।DS14,Unit-II.          আলোচনা শুরুতেই আমরা বলে রাখি যে,সাহিত্যে নামকরণ কেবল কোনো রচনার পরিচয়বাহী নামমাত্র নয়,আসলে তা হলো সমগ্র সৃষ্টির অন্তঃসার।তবে নাম দেখেই পাঠক গল্পের অন্তর্নিহিত সত্যের সন্ধান পায়। কল্লোল-পরবর্তী বাংলা কথাসাহিত্যের অন্যতম মৌলিক কথাকার সুবোধ ঘোষ তাঁর ‘ অযান্ত্রিক’ গল্পে এমন এক নামকরণের আশ্রয় নিয়েছেন, যা প্রথম পাঠে আপাত-বিরোধী বা কৌতূহলকর মনে হলেও গল্পের মূল ভাববস্তু ও মনস্তাত্ত্বিক সত্যকে চমৎকারভাবে ফুটিয়ে তোলে।যেখানে  যন্ত্র ও মানুষের সম্পর্কের জটিল রসায়নকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা এই গল্পের নামকরণের সার্থকতা গভীর বিশ্লেষণের দাবি রাখে।তবে-        অভিধান অনুযায়ী ‘অযান্ত্রিক’ শব্দের অর্থ হলো-যা যান্ত্রিক নয়, বা যাতে যন্ত্রের কোনো ভূমিকা নেই; যা মায়াময়, অনুভূমিক এবং মানবিক। অথচ গল্পের বাহ্যিক অবয়বটি সম্পূর্ণ 'যান্ত্রিক'। গল্পের মূল উপজীব্য হলো একটি পুরোনো, জীর্ণ, পনেরো বছরের ভাঙাচোরা ‘শেভ্রোলেট’ ব্...
ষষ্ঠ সেমিস্টার ইতিহাস দ্বিতীয় অধ্যায়  পশ্চিমবঙ্গ রাষ্ট্রীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের (WBSU) ষষ্ঠ সেমিস্টার ইতিহাস মাইনর (বা পূর্বতন CBCS কাঠামোর DSE পেপার, যেখানে ইউরোপের ইতিহাস পড়ানো হয়) পরীক্ষার জন্য **নেপোলিয়নের যুগ এবং তার পরবর্তী ঘটনাপ্রবাহ (যেমন: ভিয়েনা সম্মেলন, মেটারনিখ ব্যবস্থা, ১৮৩০ ও ১৮৪৮-এর বিপ্লব)** অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। বিগত বছরগুলোর প্রশ্নপত্রের ধারা এবং সাজেশনের ওপর ভিত্তি করে এই অধ্যায়টি থেকে ৫ নম্বর (টীকা) এবং ১০ বা ১৫ নম্বরের (বড় প্রশ্ন) জন্য যে যে ধরনের প্রশ্ন পরীক্ষায় আসে, তার একটি পূর্ণাঙ্গ তালিকা নিচে দেওয়া হলো। ছাত্র-ছাত্রীদের সুবিধার্থে প্রশ্নগুলো মান অনুযায়ী ভাগ করে দেওয়া হয়েছে: ## ১. নেপোলিয়নের যুগ (১০ বা ১৫ নম্বরের বড় প্রশ্ন) এই অংশ থেকে সাধারণত বিশ্লেষণধর্মী প্রশ্ন বেশি আসে।  * **"নেপোলিয়ন কি ফরাসি বিপ্লবের সন্তান ছিলেন?"** (Was Napoleon a 'Child of the Revolution'?) — এটি WBSU-এর অন্যতম একটি ‘পেটেন্ট’ প্রশ্ন। এখানে বিপ্লবের আদর্শ রক্ষা এবং তা ধ্বংস করার পক্ষে-বিপক্ষে যুক্তি দিতে হয়।  * **শাসক হিসেবে নেপোলিয়ন বোনাপার্টের অভ্যন্তরীণ সংস্ক...
 পশ্চিমবঙ্গ রাষ্ট্রীয় বিশ্ববিদ্যালয় (WBSU)-এর চার বছরের স্নাতক স্তরের (NEP-2020 অনুসারে) প্রথম সেমিস্টারের পাঠ্যক্রমের নিয়মাবলী অনুযায়ী একটি খসড়া নিচে তৈরি করে দেওয়া হলো। কোনো ছাত্র-ছাত্রী একটি নির্দিষ্ট **মেজর (Major)** বিষয় নিয়ে ভর্তি হলে, তাকে প্রথম সেমিস্টারে সেই মেজরের পাশাপাশি আরও কয়েকটি নির্দিষ্ট গুচ্ছের বিষয় বেছে নিতে হয়। ## প্রথম সেমিস্টার পাঠ্যক্রমের রূপরেখা ও বিষয় নির্বাচন বিধি পশ্চিমবঙ্গ রাষ্ট্রীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়ম অনুসারে, একজন প্রথম সেমিস্টারের পড়ুয়াকে মোট **৬টি পেপার (Papers)** পড়তে হবে। বিষয় নির্বাচনের নিয়ম নিচে দেওয়া হলো: ### ১. মেজর বিষয় (Major Course - DSCC)  * **নিয়ম:** ছাত্র-ছাত্রী যে মূল বিষয়টি নিয়ে তার স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করতে চায়, সেটিই তার মেজর বিষয়।  * **প্রথম সেমিস্টারে:** মেজরের ১টি পেপার পড়তে হবে (Core Paper 1)। ### ২. মাইনর বিষয় (Minor Course - MN)  * **নিয়ম:** এটি মেজরের পাশাপাশি একটি সহায়ক বা দ্বিতীয় প্রধান বিষয়। বিশ্ববিদ্যালয় নির্ধারিত তালিকা থেকে মেজরের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ যেকোনো **একটি মাইনর বিষয...
 দ্বিতীয় প্রশ্নের উত্তর: শব্দালংকার ও অর্থালংকারের মূল পার্থক্য বাংলা কাব্যের সৌন্দর্য বৃদ্ধির জন্য অলংকারকে যে দুটি মূল ভাগে ভাগ করা হয়, তা হলো শব্দালংকার ও অর্থালংকার। এদের মূল পার্থক্যগুলি নিচে বিস্তারিতভাবে আলোচনা করা হলো: ### ১. সংজ্ঞাগত পার্থক্য  * **শব্দালংকার:** যে অলংকার শব্দের ধ্বনিগত মাধুর্যের ওপর নির্ভর করে কাব্যের সৌন্দর্য বৃদ্ধি করে, তাকে শব্দালংকার বলে। এখানে শব্দের অর্থ প্রধান নয়, শব্দের ধ্বনি বা উচ্চারণই প্রধান।  * **অর্থালংকার:** যে অলংকার শব্দের বাহ্যিক রূপ বা ধ্বনির ওপর নির্ভর না করে, শব্দের অন্তর্নিহিত অর্থের চমৎকারিত্বের ওপর নির্ভর করে কাব্যকে সুন্দর করে তোলে, তাকে অর্থালংকার বলে। ### ২. শব্দ পরিবর্তনের প্রভাব (সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পার্থক্য)  * **শব্দালংকার:** শব্দালংকারে কাব্যে ব্যবহৃত নির্দিষ্ট শব্দটি বদলে যদি তার কোনো সমার্থক শব্দ বা প্রতিশব্দ বসানো হয়, তবে অলংকারটি **নষ্ট হয়ে যায়**। কারণ এর সৌন্দর্য শব্দটির নির্দিষ্ট ধ্বনির ওপর নির্ভরশীল।  * **অর্থালংকার:** অর্থালংকারে কাব্যের কোনো শব্দ পরিবর্তন করে যদি তার সমার্থক অন্য কোনো শব্দ বসানো ...

প্রলয়োল্লাস কবিতার মূলভাব বা সুর নিজের ভাষায় আলোচনা করো।

প্রলয়োল্লাস কবিতার মূলভাব বা সুর নিজের ভাষায় আলোচনা করো। পশ্চিমবঙ্গ মধ্যশিক্ষা পর্ষদ, দশম শ্রেণী, দ্বিতীয় সেমিস্টার।         কাজী নজরুল ইসলামের অগ্নিবীণা কাব্যের অন্তর্ভুক্ত ‘প্রলয়োল্লাস’ কবিতার মূল সুর হলো ধ্বংসের মধ্য দিয়ে নতুনের আবাহন, পরাধীনতার বিরুদ্ধে তীব্র বিদ্রোহ এবং যৌবনের জয়গান। কবি একাধারে ধ্বংস ও সৃষ্টির এক অদ্ভুত মেলবন্ধন ঘটিয়েছেন এই কবিতায়।এখানে এই কবিতাটির মূলভাব ও সুরকে কয়েকটি প্রধান দিক থেকে বিশ্লেষণ করা যায়। আর সেগুলি হলো- ​        •কবিতার মূল সুরটি লুকিয়ে আছে ধ্বংসের ভেতর দিয়ে নতুন কিছু সৃষ্টির অমোঘ সত্যে। কবি এখানে সনাতন ধর্মের ধ্বংস ও সৃষ্টির দেবতা শিব বা রুদ্ররূপী মহাকালের তাণ্ডবকে তুলে ধরেছেন। কবি বিশ্বাস করেন, জরাজীর্ণ, মৃতপ্রায় এবং পুরোনো সমাজকে ভেঙে চুরমার না করলে নতুন, সুন্দর এবং পবিত্রমুক্ত সমাজ গড়ে তোলা সম্ভব নয়। তাই তিনি বলেছেন- ​"ধ্বংস দেখে ভয় কেন তোর?-প্রলয় নূতন সৃজন-বেদন!" ​          •নজরুল যখন এই কবিতাটি লিখছেন, তখন ভারতবাসী ব্রিটিশ শাসনের শৃঙ্খলে আবদ্ধ । এই কবিতায় ‘ঝড়’, ‘মহাকাল’ বা ‘ধূ...

দেনাপাওনা’ গল্পের কেন্দ্রীয় চরিত্র হিসেবে নিরুপমার চরিত্রটি বিশ্লেষণ করো। অথবা, পনপ্রথার নির্মম শিকার হিসেবে নিরুপমার যে ট্র্যাজিক পরিণতি ঘটেছে, তা আলোচনা করো।

'দেনাপাওনা’ গল্পের কেন্দ্রীয় চরিত্র হিসেবে নিরুপমার চরিত্রটি বিশ্লেষণ করো। অথবা, পনপ্রথার নির্মম শিকার হিসেবে নিরুপমার যে ট্র্যাজিক পরিণতি ঘটেছে, তা আলোচনা করো। পশ্চিমবঙ্গ রাষ্ট্রীয় বিশ্ববিদ্যালয় ষষ্ঠ সেমিস্টার বাংলা মেজর DS-14,Unit-I.        আলোচনা শুরুতেই আমরা বলে রাখি যে,বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘ গল্পগুচ্ছ ’ সংকলনের অন্তর্ভুক্ত ‘ দেনাপাওনা’ গল্পটি বাংলা সাহিত্যের একটি কালজয়ী ও বাস্তবধর্মী সামাজিক ছোটগল্প। উনিশ শতকের শেষার্ধের বাঙালি হিন্দু সমাজে জাঁকিয়ে বসা ব্যাধি ‘পনপ্রথা’ বা যৌতুকপ্রথার অমানবিক রূপ এবং তার নির্মম বলি হওয়া এক আত্মমর্যাদাসম্পন্ন তরুণীর বেদনাময় আখ্যানই এই গল্পের মূল উপজীব্য। গল্পের কেন্দ্রীয় চরিত্র নিরুপমা পনপ্রথার অবমাননাকর রূপ ও শ্বশুরবাড়ির লাঞ্ছনার বিরুদ্ধে এক নীরব অথচ দৃঢ় প্রতিরোধের প্রতীক। আর সেখানে আমরা দেখতে পাই-         নিরুপমা ছিল তার পিতা রামসুন্দর মিত্রের অত্যন্ত আদরের কন্যা। তৎকালীন সমাজ-নিয়ম অনুযায়ী, পাঁচ হাজার টাকা নগদ এবং প্রচুর আসবাবের বিনিময়ে রায়বাহাদুরের ডেপুটি ম্যাজিস্ট্রেট পুত্র সাথে তার বিয়ে স্থির...

প্রলয়োল্লাস কবিতায় কাজী নজরুল ইসলাম কেন জয়ধ্বনি করতে বলেছেন?

প্রলয়োল্লাস কবিতায় কাজী নজরুল ইসলাম কেন জয়ধ্বনি করতে বলেছেন? আলোচনা করো। পশ্চিমবঙ্গ মধ্যশিক্ষা পর্ষদ, দশম শ্রেণি, দ্বিতীয় সেমিস্টার বাংলা।        আলোচনা শুরুতেই আমরা বলে রাখি যে,কাজী নজরুল ইসলামের অগ্নি-বীণা কাব্যের অন্তর্ভুক্ত ‘প্রলয়োল্লাস’ কবিতাটি বাংলা সাহিত্যের একটি অনন্য ও কালজয়ী সৃষ্টি। পরাধীন ভারতের বুকে অত্যাচারী ব্রিটিশ শাসনের অবসান ঘটিয়ে স্বাধীন এক নতুন সকাল আনাই ছিল কবির মূল লক্ষ্য। আর সেই লক্ষ্যে আমরা কবিতাটিতে দেখতে পাই যে-     ধ্বংসের মধ্য দিয়েই নতুনের আগমন ।আসলে কবিতাটির মূল সুর হলো-পুরনো, জরাজীর্ণ, অন্যায় ও অত্যাচারকে ধ্বংস না করলে নতুন এবং সুন্দরের প্রতিষ্ঠা সম্ভব নয়।তাই কবি বিশ্বাস করতেন, মহাকালের এই ধ্বংসাত্মক রূপ আসলে সৃষ্টিরই পূর্বাবস্থা।তাই কবি বলেন- " ধ্বংস দেখে ভয় কেন তোর? - প্রলয় নূতন সৃজন-বেদন!"        অতপঃর কবি রুদ্ররূপী শিব বা বিপ্লবীদের আহ্বান করেছেন।কবি ভারতীয় পুরাণের ধ্বংসের দেবতা মহাদেব বা শিবের 'কালভৈরব' রূপের সঙ্গে তৎকালীন তরুন বিপ্লবীদের তুলনা করেছেন। তরুণেরা যেমন তাদের সাহসিকতা দিয়ে ব্রিটিশদের ...

ফ্রান্সে 'সন্ত্রাসের রাজত্ব' (Reign of Terror) প্রবর্তনের প্রেক্ষাপট ও ফলাফল বিশ্লেষণ করো।

ফ্রান্সে 'সন্ত্রাসের রাজত্ব' (Reign of Terror) প্রবর্তনের প্রেক্ষাপট ও ফলাফল বিশ্লেষণ করো। রোবসপিয়ারের ভূমিকা এতে কী ছিল? পশ্চিমবঙ্গের রাষ্ট্র বিশ্ববিদ্যালয় ইতিহাস মাইনর ষষ্ঠ সেমিস্টার।        ফরাসি বিপ্লবের ইতিহাসে ' সন্ত্রাসের রাজত্ব' (Reign of Terror)  একটি অত্যন্ত রক্তক্ষয়ী এবং বিতর্কিত অধ্যায়। ১৭৯৩ সালের সেপ্টেম্বর থেকে ১৭৯৪ সালের জুলাই মাস পর্যন্ত ফ্রান্সে জ্যাকোবিন দলের নেতৃত্বে এই শাসন চলেছিল। আর সেখানে কোনো একক কারণে নয়, বরং তৎকালীন ফ্রান্সের অভ্যন্তরীণ ও বাহ্যিক চরম সংকটময় পরিস্থিতির কারণে এই সন্ত্রাসের শাসন শুরু হয়েছিল।যেখানে সন্ত্রাসের রাজত্বের প্রেক্ষাপট হিসেবে আমরা দেখতে পাই-          • বৈদেশিক আক্রমণ ও যুদ্ধঃ ফরাসি বিপ্লবের আদর্শ যাতে ইউরোপের অন্য দেশে ছড়িয়ে না পড়ে, সেজন্য অস্ট্রিয়া, প্র Prussia (প্রুশিয়া), ব্রিটেনসহ ইউরোপের রাজতন্ত্রী দেশগুলো ফ্রান্সের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করে। এই বাহ্যিক আক্রমণ ফরাসিদের মনে চরম আতঙ্ক তৈরি করে।         •অভ্যন্তরীণ বিদ্রোহঃ ফ্রান্সের ভেতরেও বিপ্লব-বিরোধীরা সক্রিয়...

যমক অলংকার কাকে বলে ?যমক অলঙ্কারের বৈশিষ্ট্য এবং উদাহরণসহ প্রকারভেদ আলোচনা করো।

যমক অলংকার কাকে বলে ?যমক অলঙ্কারের বৈশিষ্ট্য এবং উদাহরণসহ প্রকারভেদ আলোচনা করো। পশ্চিমবঙ্গ রাষ্ট্র বিশ্ববিদ্যালয় ষষ্ঠ সেমিস্টার বাংলা মেজর।       যমক অলংকারঃ কাব্যের মধ্যে স্বরধ্বনি ও ব্যঞ্জনধ্বনিসহ একই শব্দ বা শব্দগুচ্ছ সমানুক্রমে (একই ক্রমে) যদি একাধিকবার ব্যবহৃত হয় এবং প্রতিবারই তার অর্থ পৃথক হয় (অথবা একটির অর্থ থাকে ও অন্যটি নিরর্থক হয়), তবে তাকে যমক অলংকার বলে। আরো সহজ করে বলা যায়-একই শব্দ দুবার বা তার বেশি বসবে, কিন্তু প্রতিবারই তাদের মানে আলাদা হবে। • উদাহরণ ও বিশ্লেষণঃ " ভারত ভারত-খ্যাত আপনার গুণে।" -(ভারতচন্দ্র)   ব্যাখ্যা ও বিশ্লেষণঃ এখানে 'ভারত' শব্দটি পরপর দুবার বসেছে।প্রথম 'ভারত' শব্দের অর্থ-  কবি ভারতচন্দ্র স্বয়ং ।দ্বিতীয় 'ভারত' শব্দের অর্থ-আমাদের দেশ ভারতবর্ষ।        যেহেতু একই শব্দ সমানুক্রমে দুবার বসে সম্পূর্ণ আলাদা দুটি অর্থ প্রকাশ করেছে, তাই এটি যমক অলংকার। • যমক অলংকারের প্রকারভেদ         যমক অলংকারকে মূলত দুটি দৃষ্টিকোণ থেকে ভাগ করা যায়- ক) শব্দার্থের প্রকারভেদে এবং খ) শব্দ-বিন্যাসের বা অবস্...

ফরাসি বিপ্লবের ইতিহাসে বাস্তিল দুর্গের পতনের কারণ ও তাৎপর্য" আলোচনা করো।

"ফরাসি বিপ্লবের ইতিহাসে বাস্তিল দুর্গের পতনের কারণ ও তাৎপর্য" আলোচনা করো।পশ্চিমবঙ্গ রাষ্ট্রীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের (WBSU) ষষ্ঠ সেমিস্টার ইতিহাস মাইনর (History Minor) পাঠ্যসূচি অনুযায়ী।         আলোচনার শুরুতেই আমরা ভুলতে পারি যে,১৭৮৯ খ্রিস্টাব্দের ১৪ই জুলাই ফ্রান্সের রাজধানী প্যারিসে উত্তেজিত জনতা কর্তৃক কুখ্যাত 'বাস্তিল দুর্গ' (Bastille)-এর পতন ফরাসি বিপ্লবের ইতিহাসে এক যুগান্তকারী ঘটনা।তবে এই বাস্তিল দুর্গ কেবল একটি সামরিক কেল্লা ছিল না, এটি ছিল ফরাসি রাজতন্ত্রের স্বৈরাচার, অত্যাচার ও শোষণের এক মূর্ত প্রতীক। ঐতিহাসিক ল্যাভিসের মতে- "বাস্তিল দুর্গের পতন ছিল পুরাতনতন্ত্রের পতনের প্রতীক।" ১. বাস্তিল দুর্গের পতনের কারণসমূহ-  বাস্তিল দুর্গের পতন কোনো আকস্মিক ঘটনা ছিল না। এর পেছনে গভীর রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও মানসিক কারণ জড়িত ছিল। আর সেই কারণগুলি হলো -       ক)•নেকারের পদচ্যুতি ও গণ-অসন্তোষঃ ফরাসি সম্রাট ষোড়শ লুই ১৭৮৯ খ্রিস্টাব্দের ১১ই জুলাই জনপ্রিয় ফরাসি অর্থমন্ত্রী জ্যাক নেকারকে (Jacques Necker) পদচ্যুত করেন। নেকারকে তৃতীয় সম্প্রদায়ের (Third Estate) সমর্থক ...

কাব্য জিজ্ঞাসা-শব্দের ত্রিবিধ শক্তির (অভিধা, লক্ষণা, ব্যঞ্জনা) মধ্যে ব্যঞ্জনার শ্রেষ্ঠত্ব কোথায়?

শব্দের ত্রিবিধ শক্তির (অভিধা, লক্ষণা, ব্যঞ্জনা) মধ্যে ব্যঞ্জনার শ্রেষ্ঠত্ব কোথায়? আলোচনা করো।পশ্চিমবঙ্গ রাষ্ট্রীয় বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলা মেজর চতুর্থ সেমিস্টার।DS-5, Unit-III(কাব্য জিজ্ঞাসা)।      আলোচনা শুরুতেই আমরা বলে রাখি যে,ভারতীয় সাহিত্যতত্ত্বে শব্দ ও অর্থের সম্বন্ধ অত্যন্ত গভীর। আচার্য মন্মটভট্ট তাঁর ‘কাব্যপ্রকাশ’ গ্রন্থে শব্দের তিনটি শক্তির উল্লেখ করেছেন- অভিধা, লক্ষণা ও ব্যঞ্জনা । এই শক্তির দ্বারা শব্দ তার অন্তর্নিহিত অর্থকে প্রকাশ করে। কাব্যে এই তিন শক্তিরই প্রয়োজন রয়েছে, তবে চমৎকারিত্ব ও রসসৃষ্টির বিচারে ব্যঞ্জনা শক্তিকে সর্বশ্রেষ্ঠ স্থান দেওয়া হয়েছে।আর সেখানে-     ১.অভিধা (বাচ্যার্থ)ঃ শব্দের যে শক্তি দ্বারা তার সাধারণ, অভিধানগত বা লোকপ্রসিদ্ধ প্রাথমিক অর্থটি সরাসরি প্রকাশ পায়, তাকে অভিধা বলে। এই শক্তির মাধ্যমে প্রাপ্ত অর্থকে বলা হয় 'বাচ্যার্থ'। যেমন- "গঙ্গায় মাছ আছে।"  এখানে গঙ্গা বলতে জলপ্রবাহকে বোঝায়।     ২.লক্ষণা (লক্ষ্যার্থ)ঃ যখন বাচ্যার্থ বা মুখ্যার্থের দ্বারা বাক্যের অর্থ সংগত হয় না, তখন মুখ্যার্থের সাথে যোগ রেখে যে অন্য একটি অর্...