Skip to main content

Posts

Showing posts from April, 2026
রক্তভেজা মে দিবসঃঅধিকার আদায়ের লড়াইয়ের গল্প।       •আজ আমরা দিনে ৮ ঘণ্টা কাজ করি, সপ্তাহে দুদিন ছুটি পাই। কিন্তু আপনি কি জানেন, এই অধিকারগুলো এমনি এমনি আসেনি? এর পেছনে মিশে আছে শিকাগোর রাজপথের রক্ত আর হাজারো শ্রমিকের আত্মত্যাগের ইতিহাস।"আছ   ১৮৮০-র দশকের শ্রমবাজার।        " ১৮৮০-র দশকে শ্রমিকদের জীবন ছিল দুর্বিষহ। তখন কোনো নির্দিষ্ট কর্মঘণ্টা ছিল না। দিনে ১০ থেকে ১৬ ঘণ্টা, এমনকি ১৮ ঘণ্টাও কাজ করতে হতো। সামান্য মজুরি আর অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে শ্রমিকদের জীবন ছিল দাসের মতো।"আসলে  মূল ঘটনা হে মার্কেট ট্র্যাজেডি।সময়টা হলো১৮৮৬ সাল।        ১লা মে, ১৮৮৬ প্রায় ৩ লাখ শ্রমিক ৮ ঘণ্টা কাজের দাবিতে ধর্মঘট শুরু করে।আর  ৪ঠা মে, ১৮৮৬ শিকাগোর হে মার্কেটে বিশাল জনসভা। হঠাৎ পুলিশের ওপর একটি বোমা নিক্ষিপ্ত হয়।      যার পরিণতিতে পুলিশ নির্বিচারে গুলি চালায়। এতে অনেক শ্রমিক প্রাণ হারান এবং বহু আহত হন। পরে মিথ্যা মামলায় ৪ জন শ্রমিক নেতাকে ফাঁসি দেওয়া হয়।  " শিকাগোর হে মার্কেটের সেই রক্তক্ষয়ী সংগ্রাম দমানোর চেষ্টা করা হলেও ...

বৈষ্ণব পদাবলী ও শাক্ত পদাবলীর প্রশ্ন

 পশ্চিমবঙ্গ রাষ্ট্রীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের (WBSU) প্রথম সেমিস্টার বাংলা মেজর সিলেবাসের **'বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস (প্রাচীন ও মধ্যযুগ)'** এবং পাঠ্য বৈষ্ণব ও শাক্ত পদাবলী থেকে ২০২৬ সালের পরীক্ষার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কিছু সম্ভাব্য প্রশ্ন নিচে দেওয়া হলো: ## বৈষ্ণব পদাবলী (সাজেশন) বৈষ্ণব পদাবলী থেকে সাধারণত পদকর্তাদের কবিকৃতি এবং পর্যায়ভিত্তিক পদের বিশ্লেষণ পরীক্ষায় আসে। **বড় প্রশ্ন (১০ বা ১৫ নম্বরের জন্য):**  * ** বিদ্যাপতি:** "বিদ্যাপতিকে কি খাঁটি বৈষ্ণব পদকর্তা বলা যায়?"—আলোচনা করো। অথবা, বিদ্যাপতির প্রার্থনা বা অভিসার পর্যায়ের কবিকৃতি বিশ্লেষণ করো।  * **চণ্ডীদাস:** "দুঃখের কবি হিসেবে চণ্ডীদাসের সার্থকতা বিচার করো।" তাঁর পদের সহজ-সরল ভাষার বৈশিষ্ট্য আলোচনা করো।  * **জ্ঞানদাস ও গোবিন্দদাস:** জ্ঞানদাসকে কেন 'দ্বিতীয় চণ্ডীদাস' বলা হয়? গোবিন্দদাসের অলঙ্কার ও শব্দপ্রয়োগের নিপুণতা (বিশেষ করে অভিসার পর্যায়ে) আলোচনা করো।  * **গৌরচন্দ্রিকা:** বৈষ্ণব পদাবলীতে 'গৌরচন্দ্রিকা'র গুরুত্ব ও প্রয়োজনীয়তা আলোচনা করো। **সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন বা ব্যাখ্যা (৫ নম্বরের জন...

মতি নন্দির কোনি উপন্যাসের সপ্তম অধ্যায়ের বিষয়বস্তু ও বিশ্লেষণ করো।

মতি নন্দীর কোনি উপন্যাসের সপ্তম অধ্যায়ের বিষয়বস্তু ও বিশ্লেষণ করো। পশ্চিমবঙ্গ মধ্যশিক্ষা পর্ষদ, দশম শ্রেণি, দ্বিতীয় সেমিস্টার।         সপ্তম অধ্যায়ের শুরুতে আমরা দেখতে পাই যে, মতি নন্দীর 'কোনি'উপন্যাসের সপ্তম অধ্যায়টি কোনির খেলোয়াড় জীবনের উত্তরণ এবং তার পারিবারিক সংকটের এক সন্ধিক্ষণ।যেখানে ক্ষিতীশ সিংহ কোনিকে এক কঠোর রুটিনের মধ্যে বেঁধে ফেলেছেন। দারিদ্র্য আর শারীরিক ক্লান্তি সত্ত্বেও ক্ষিতীশের লক্ষ্য স্থির। তিনি কোনিকে বোঝান যে তার আসল প্রতিদ্বন্দ্বী কোনো মানুষ নয়, বরং স্টপওয়াচের কাঁটা।আর সেখানে ক্ষিতীশ কোনিকে লক্ষ্য করে বলেছিলেন-  " তোর আসল শত্রু হলো এই ঘড়িটা। ওটাকে হারাতে হবে।"       সাঁতারের জন্য প্রয়োজনীয় পুষ্টিকর খাবার কোনির পরিবারের পক্ষে জোগাড় করা অসম্ভব ছিল। তাই ক্ষিতীশ নিজের স্বল্প সামর্থ্য থেকেই কোনির জন্য দুধ, ডিম ও কলার ব্যবস্থা করেন। এই অধ্যায়ে আমরা দেখি, ক্ষিতীশ কেবল একজন কোচ নন, বরং একজন অভিভাবকের দায়িত্ব পালন করছেন।আর সেখানে কোনির ডায়েট চার্ট বুঝিয়ে দেওয়ার সময় ক্ষিতীশ বলেন- "লোভ দেখিয়ে কোনো লাভ নেই কোনি, এটা তোর শ...

জীবনী সাহিত্য কাকে বলে ? জীবনের সাহিত্য এবং আত্মজীবনের মধ্যে পার্থক্য গুলি লেখো। একটি সার্থক জীবনী সাহিত্যের পরিচয় দিয়ে আলোচনা করে দেখাও যে,সেটি কেন সার্থক একটি জীবনের সাহিত্য।

জীবনী সাহিত্য কাকে বলে ? জীবনের সাহিত্য এবং আত্মজীবনের মধ্যে পার্থক্য গুলি লেখো। একটি সার্থক জীবনী সাহিত্যের পরিচয় দিয়ে আলোচনা করে দেখাও যে,সেটি কেন সার্থক একটি জীবনের সাহিত্য। পশ্চিমবঙ্গ রাষ্ট্রীয় বিশ্ববিদ্যালয়, চতুর্থ সেমিস্টার ডি এস ৫ ইউনিট ২।       • জীবনী সাহিত্যঃ জীবনী সাহিত্য হলো সাহিত্যের এমন একটি শাখা যেখানে কোনো লেখকের কলমে অন্য কোনো বিশিষ্ট ব্যক্তির জন্ম থেকে মৃত্যু পর্যন্ত জীবনের উল্লেখযোগ্য ঘটনাবলি, তাঁর চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য, মহত্ত্ব এবং সমাজমানসে তাঁর প্রভাব বর্ণিত হয়। ইংরেজিতে একে বলা হয় 'Biography'। জীবনীকার এখানে একজন নিরাসক্ত দর্শক বা ঐতিহাসিকের ভূমিকা পালন করেন, যিনি তথ্য ও রসের সমন্বয়ে একজন মানুষের জীবনচিত্রকে পাঠকের সামনে জীবন্ত করে তোলেন। ​        •জীবনী ও আত্মজীবনীর মধ্যে পার্থক্য•      ১) জীবনী সাহিত্যে রচয়িতা লেখক অন্য কোনো বিখ্যাত বা বিশিষ্ট ব্যক্তির জীবন নিয়ে গ্রন্থটি রচনা করেন। যেমন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের 'বিদ্যাসাগর চরিত' কিন্তু-        আত্মজীবনী গ্রন্থে লেখক নিজের জীবন কাহিনী নিজেই অত্যন্...

নতুুন ইউটিউব চ্যানেল ওপেন

নতুুন ইউটিউব চ্যানেলের যাত্রা শুরু করা যতটা রোমাঞ্চকর, ঠিক ততটাই ধৈর্যের পরীক্ষা। যারা নতুন এই পথে পা বাড়িয়েছেন, তাদের জন্য একটি সুশৃঙ্খল ও কার্যকর খসড়া নিচে দেওয়া হলো: ভিডিওর প্রথম **৫ থেকে ১০ সেকেন্ড** হলো সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সময়। এই সময়ের মধ্যেই দর্শক ঠিক করেন তারা ভিডিওটি শেষ পর্যন্ত দেখবেন কি না। নতুন ইউটিউবারদের উদ্দেশ্যে করা ভিডিওর শুরুতে সাধারণ "হ্যালো, সবাই কেমন আছেন" না বলে নিচের যেকোনো একটি পদ্ধতি ব্যবহার করতে পারেন: ## ১. সরাসরি সমস্যার সমাধান (The Solution First) দর্শকের সমস্যার কথা বলে শুরু করুন। এতে তারা শুরুতেই ভিডিওর গুরুত্ব বুঝতে পারবে। > *"আপনি কি মাসের পর মাস ভিডিও আপলোড করেও ভিউ পাচ্ছেন না? আজকের ভিডিওতে আমি এমন ৫টি ভিউ বাড়ানোর গোপন কৌশল জানাবো, যা বড় ইউটিউবাররা সাধারণত শেয়ার করতে চান না।"* >  ## ২. কৌতূহল জাগানো প্রশ্ন (The Curiosity Gap) এমন একটি প্রশ্ন করুন যার উত্তর পাওয়ার জন্য দর্শককে ভিডিওটি দেখতেই হবে। > *"আচ্ছা, আপনি কি জানেন কেন ৯৫% নতুন ইউটিউবার প্রথম তিন মাসের মধ্যেই চ্যানেল ছেড়ে দেয়? তারা যে ভুলটি করে, আপনিও কি সেই একই ...
লীলা মজুমদারের মাকু উপন্যাসের তৃতীয় অধ্যায়টি আলোচনা করো। পশ্চিমবঙ্গ মধ্যশিক্ষা পর্ষদ,সপ্তম শ্রেণী।       লীলা মজুমদারের 'মাকু' উপন্যাসের তৃতীয় অধ্যায়টি মূলত হোটেলওয়ালার অদ্ভুত স্বভাব, তার জন্মদিনের আয়োজন এবং সোনা-টিয়ার বনের জীবনের অভিজ্ঞতার ওপর ভিত্তি করে গড়ে উঠেছে। আর সেখানে আমরা দেখি-     হোটেলওয়ালার বিচিত্র জন্মদিন পালন।তৃতীয় অধ্যায়ের শুরুতেই আমরা দেখি যে, হোটেলওয়ালার জন্মদিনের মহোৎসব। হোটেলওয়ালার দাবি অনুযায়ী, তার বয়স এগারো বছর পূর্ণ হয়ে বারো বছরে পা দিল। যদিও তার চেহারা দেখে সোনা ও টিয়ার মনে হয়েছে সে যথেষ্ট বৃদ্ধ, তবুও তার এই অদ্ভুত দাবিতে তারা অবাক হয়। আসলে হোটেলওয়ালা প্রতি বছরই তার বয়স এগারো বলে দাবি করে।তবে-       জন্মদিন উপলক্ষে কালিয়া আর পোলাওয়ের আয়োজন করা হয়। তবে এই রান্নার উপকরণগুলো ছিল অত্যন্ত অদ্ভুত। বনের লতাপাতা, ফলমূল আর জংলি গাছগাছড়া দিয়ে রান্না হচ্ছিল। আম্মা (সোনা-টিয়ার পরিচারিকা) এই রান্নার ধরন দেখে খুবই বিরক্ত হন।বিশেষ করে ' শুয়োরের হাড়ের ঝোল' এর কথা শুনে আম্মার গা ঘিনঘিন করে ওঠে।হোটেলওয়ালা অ...
  সাহিত্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ শাখা হলো **প্রবন্ধ**। সাধারণভাবে কোনো নির্দিষ্ট বিষয়বস্তুকে কেন্দ্র করে তথ্য, যুক্তি এবং বুদ্ধিনির্ভর যে গদ্য রচনা লেখা হয়, তাকেই প্রবন্ধ বলা হয়। নিচে প্রবন্ধের সংজ্ঞা ও বৈশিষ্ট্যগুলো আলোচনা করা হলো: ### ১. সংজ্ঞা 'প্রবন্ধ' শব্দটির আক্ষরিক অর্থ হলো— 'প্রকৃষ্ট রূপে বন্ধন'। অর্থাৎ, যেখানে বিষয়বস্তু ও ভাবকে একটি সুশৃঙ্খল ও আঁটসাঁট কাঠামোর মধ্যে সাজিয়ে পরিবেশন করা হয়। ইংরেজিতে একে বলা হয় **Essay**। ### ২. মূল বৈশিষ্ট্য একটি আদর্শ প্রবন্ধের কয়েকটি প্রধান বৈশিষ্ট্য থাকে:  * **যুক্তিনির্ভরতা:** প্রবন্ধ মূলত আবেগ বা কল্পনার চেয়ে যুক্তি ও তথ্যের ওপর বেশি নির্ভর করে।  * **সুশৃঙ্খল গঠন:** এর একটি নির্দিষ্ট শুরু (ভূমিকা), মূল অংশ এবং শেষ (উপসংহার) থাকে।  * **গদ্যের ব্যবহার:** এটি সর্বদা গদ্যে লিখিত হয়।  * **বস্তুনিষ্ঠতা:** লেখক কোনো বিষয়কে বিচার-বিশ্লেষণ করে তার একটি স্বচ্ছ ধারণা পাঠকদের সামনে তুলে ধরেন। ### ৩. প্রবন্ধের প্রকারভেদ উদ্দেশ্য ও বিষয়বস্তু অনুযায়ী প্রবন্ধকে প্রধানত দুটি ভাগে ভাগ করা যায়:  * **তন্ময় বা বস্তুনিষ্ঠ প্রবন্ধ (Object...

পথের দাবী' গল্পের মূলভাববস্তু ও বিশ্লেষণ।

  শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় এর 'পথের দাবী' গল্পের মূলভাববস্তু ও বিশ্লেষণ।পশ্চিমবঙ্গ মধ্যশিক্ষা পর্ষদ, দশম শ্রেণী দ্বিতীয় সেমিস্টার।          শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের কালজয়ী উপন্যাস 'পথের দাবী'-র নির্বাচিত অংশটি মূলত উত্তাল ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে রচিত।আর সেখানে রাজনৈতিক উপন্যাস 'পথের দাবী'-র পাঠ্য অংশটিতে পরাধীন ভারতের সশস্ত্র বিপ্লবী আন্দোলনের এক রোমাঞ্চকর খণ্ডচিত্র ধরা পড়েছে।সেই খন্ডচিত্রে আমরা দেখি-     • বিপ্লবীর ছদ্মবেশ ও অসাধারণ বুদ্ধিমত্তা সব্যসাচী।গল্পের অন্যতম প্রধান আকর্ষণ হলো সব্যসাচীর ছদ্মবেশ। ব্রিটিশ পুলিশের চোখে ধুলো দেওয়ার জন্য এক দুর্ধর্ষ বিপ্লবী কীভাবে নিজেকে সাধারণ, রুগ্ন ও অদ্ভুতদর্শন একজন মানুষে পরিণত করতে পারেন, তা এখানে দেখানো হয়েছে।যেখানে  গিরিশ মহাপাত্রের সাজপোশাক ও আচরণ দেখে পুলিশের সন্দেহের অবকাশ থাকলেও শেষ পর্যন্ত তারা বিভ্রান্ত হয়। লেখকের কথায় - " গিরিশ মহাপাত্রের বেশভূষার সেই অদ্ভুত বাহার স্মরণ করিয়া অপূর্ব কোনোমতেই হাসি চাপিয়া রাখিতে পারিল না।"        • পুলিশের ব্যর্থতা ও বিপ্লবীর জ...

গৃহদাহ উপন্যাসে অচলার প্রতি মহিমের উদাসীনতা বা নির্লিপ্ততা কি কাহিনীকে পরিণতির দিকে নিয়ে গেছে? আলোচনা করো।

গৃহদাহ উপন্যাসে   অচলার প্রতি মহিমের উদাসীনতা বা নির্লিপ্ততা কি কাহিনীকে পরিণতির দিকে নিয়ে গেছে? আলোচনা করো। পশ্চিমবঙ্গ রাষ্ট্রীয় বিশ্ববিদ্যালয় ষষ্ঠ সেমিস্টার বাংলা মেজর।         আলোচনা শুরুতেই আমরা বলে রাখি যে,শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের 'গৃহদাহ' উপন্যাসে অচলার জীবনের ট্রাজেডির জন্য সুরেশের উগ্র কামনার চেয়েও অনেক সময় মহিমের উদাসীনতা বা নির্লিপ্ততাকে  বেশি দায়ী করা হয়। মহিমের এই নিস্পৃহতা কাহিনীকে এক অনিবার্য পরিণতির দিকে নিয়ে গেছে। ঠিক এই পরিস্থিতিতে আমরা উপন্যাসে দেখতে পাই যে-         মহিমের নির্লিপ্ততাই গৃহদাহের পরিণতি।'গৃহদাহ' উপন্যাসে মহিম এক অদ্ভুত চরিত্রের মানুষ। সে স্থিতধী, আদর্শবাদী এবং আত্মসংযমী। কিন্তু একজন রক্ত-মাংসের নারীর কাছে এই অতি-সংযম অনেক সময় 'উদাসীনতা' বা 'অবহেলা'র নামান্তর হয়ে দাঁড়ায়। অচলার মতো আবেগপ্রবণ নারী হৃদয়ের কাছে মহিমের এই নীরবতাই কাল হয়ে দাঁড়িয়েছে। আর সেই কারণেই-       অচলার মনে মহিমকে নিয়ে মানসিক দূরত্বের সৃষ্টি হয়।আসলে মহিম অচলাকে ভালোবাসলেও তার বহিঃপ্রকাশ ছিল অত্যন্ত ক্ষীণ। সে অচলাকে কোন...
 পশ্চিমবঙ্গ রাষ্ট্রীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের (WBSU) ষষ্ঠ সেমিস্টার বাংলা মেজরের পাঠ্যসূচি অনুযায়ী 'গৃহদাহ' উপন্যাসের অন্যতম প্রধান দিক— **অচলার মানসিক দোলাচল এবং সমাজ ও ব্যক্তির সংঘাত** নিয়ে একটি বিস্তারিত নোট নিচে দেওয়া হলো। ## অচলার মানসিক দোলাচল এবং সমাজ ও ব্যক্তির সংঘাত: 'গৃহদাহ' শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের 'গৃহদাহ' (১৯২০) বাংলা সাহিত্যের এমন একটি উপন্যাস যেখানে সমাজের ধরাবাঁধা নিয়ম এবং ব্যক্তির স্বাধীন প্রবৃত্তি ও কামনার সংঘাত এক তীব্র ট্রাজিক রূপ পেয়েছে। এই উপন্যাসের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে অচলা— যার চরিত্রটি একই সাথে সমাজ-সংসস্কার এবং ব্যক্তি-হৃদয়ের অস্থির দোলাচলের এক জীবন্ত দর্পণ। ### ১. মানসিক দোলাচলের উৎস অচলার মানসিক দোলাচল বা অন্তর্দ্বন্দ্বের মূলে রয়েছে দুই বিপরীতধর্মী পুরুষ চরিত্র— মহিম ও সুরেশ। মহিম তার জীবনে স্থিতিশীলতা ও শ্রদ্ধার প্রতীক, আর সুরেশ তার জীবনে উত্তাল আবেগ ও আদিম আকর্ষণের নাম। অচলা মহিমকে ভালোবেসেও সুরেশের অন্ধ আসক্তিকে সম্পূর্ণ অস্বীকার করতে পারেনি। তার এই মানসিক অস্থিরতা শরৎচন্দ্র নিপুণভাবে ফুটিয়ে তুলেছেন: > *"মহিমকে সে ভালোবাসে, কিন্তু...

গৃহদাহ উপন্যাসটি মনস্তাত্ত্বিক উপন্যাস হিসেবে সার্থকতা।

' মনস্তাত্ত্বিক উপন্যাস হিসেবে গৃহদাহ-এর সার্থকতা' আলোচনা করো। পশ্চিমবঙ্গ রাষ্ট্রীয় বিশ্ববিদ্যালয় ষষ্ঠ সেমিস্টার বাংলা মেজর।DS-13         আলোচনার শুরুতেই আমরা বলে রাখি যে,বাংলা কথাসাহিত্যের ইতিহাসে শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের 'গৃহদাহ' (১৯২০) একটি মাইলফলক। সাধারণত শরৎচন্দ্রকে সমাজসচেতন এবং ভাবালুতা-প্রধান লেখক হিসেবে গণ্য করা হলেও, 'গৃহদাহ' উপন্যাসে তিনি মানুষের অন্তরমহলের এমন এক জটিল ও নিগূঢ় রহস্যের উন্মোচন করেছেন, যা একে একটি সার্থক মনস্তাত্ত্বিক উপন্যাসে উন্নীত করেছে।আর সেখানে আমরা দেখি-         •একটি মনস্তাত্ত্বিক উপন্যাসের প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো—এখানে বাইরের ঘটনার চেয়ে চরিত্রের অভ্যন্তরীণ ঘাত-প্রতিঘাত ও মানসিক বিশ্লেষণ বেশি গুরুত্ব পায় অর্থাৎ বহির্ঘটনার চেয়ে অন্তর্ঘাতকে প্রাধান্য। 'গৃহদাহ'-এ মহিম-অচলা-সুরেশের ত্রিভুজ প্রেমের যে কাহিনী বর্ণিত হয়েছে, তার মূল চালিকাশক্তি হলো চরিত্রগুলোর অবচেতন মনের জটিলতা। বিশেষ করে অচলার মনের দোলাচল এবং সুরেশের উগ্র কামনার মনস্তাত্ত্বিক বিশ্লেষণ উপন্যাসটিকে গভীরতা দিয়েছে।যেখানে-         •অচলা চরি...

গৃহদাহ উপন্যাসে অচলা ও মৃণাল চরিত্রের বৈপরীত্য এবং উপন্যাসের কাহিনী বিন্যাসে মৃণালের ভূমিকা আলোচনা করো।

গৃহদাহ উপন্যাসে অচলা ও মৃণাল চরিত্রের বৈপরীত্য এবং উপন্যাসের কাহিনী বিন্যাসে মৃণালের ভূমিকা আলোচনা করো।পশ্চিমবঙ্গ রাষ্ট্রীয় বিশ্ববিদ্যালয় ষষ্ঠ সেমিস্টার বাংলা মেজর           আলোচনার শুরুতেই আমরা বলে রাখি যে,অচলা ও মৃণালের চারিত্রিক বৈপরীত্য ও ট্রাজেডির গভীরতা গৃহদাহ উপন্যাসে প্রবলভাবে প্রকট।আর শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের 'গৃহদাহ' উপন্যাসে অচলা যদি হয় ঝোড়ো হাওয়ায় দোদুল্যমান এক লতা, তবে মৃণাল হলো গভীর মূলবিশিষ্ট এক মহীরুহ। আসলে -          এই দুটি চরিত্রের বৈপরীত্য কেবল ব্যক্তিগত রুচির পার্থক্য নয়, বরং তা দুটি ভিন্ন জীবনদর্শন ও সমাজ-চেতনার সংঘাত।আসলে অচলার অস্থিরতা ও ট্রাজেডিকে পূর্ণরূপে ফুটিয়ে তুলতে মৃণাল চরিত্রটি একটি 'ক্যাটালিস্ট' বা অনুঘটক হিসেবে কাজ করেছে।আর সেখানে আমারা দেখি-         •অচলার চরিত্রে সবচেয়ে বড় সংকট হলো তার সংশয়বাদী মন। ব্রাহ্ম সমাজের আধুনিক আলোকপ্রাপ্তা হয়েও সে কোনো ধ্রুব আদর্শকে আঁকড়ে ধরতে পারেনি। মহিমের প্রতি ভালোবাসা থাকা সত্ত্বেও সুরেশের উগ্র কামনার কাছে সে বারবার দ্বিধাগ্রস্ত হয়েছে। তার ...

সুরেশ ও মহিম এই দুই বিপরীত চরিত্রের তুলনামূলক আলোচনা করে উপন্যাসের কাহিনী বিন্যাসে তাদের ভূমিকা নিরূপণ করো।

সুরেশ ও মহিম এই দুই বিপরীত চরিত্রের তুলনামূলক আলোচনা করে গৃহদাহ উপন্যাসের কাহিনী বিন্যাসে তাদের ভূমিকা নিরূপণ করো। পশ্চিমবঙ্গ রাষ্ট্র বিশ্ববিদ্যালয় ষষ্ঠ সেমিস্টার বাংলা মেজর।          আলোচনার শুরুতেই আমরা বলে রাখি যে,'গৃহদাহ' উপন্যাসের দুই প্রধান পুরুষ চরিত্র-সুরেশ ও মহিম। আর এই দুই চরিত্রের তুলনামূলক আলোচনা এবং কাহিনী বিন্যাসে তাদের ভূমিকা আমারা নিম্নাকারে বিস্তারিতভাবে তুলে ধরছি। আর সেখানে আমরা দেখি যে-         শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের 'গৃহদাহ' উপন্যাসে সুরেশ ও মহিম চরিত্র দুটি যেন আগুনের দুটি ভিন্ন রূপ। একটি দাহিকা শক্তিতে সবকিছু ছারখার করে দেয়, অন্যটি স্থির প্রদীপের মতো আত্মসংযমে উজ্জ্বল। এই দুই বিপরীতধর্মী চরিত্রের দ্বন্দ্বই উপন্যাসের কাহিনীকে পরিণতির দিকে নিয়ে গেছে।       ১) মহিম চরিত্রটি ধৈর্যের প্রতিমূর্তি। সে দরিদ্র কিন্তু আত্মমর্যাদাসম্পন্ন। তার প্রেম শান্ত, গভীর এবং অনুচ্চারিত। মহিম অতিরিক্ত সংযমী, যা অনেক সময় তাকে রক্ত-মাংসের মানুষের চেয়ে পাথরের মূর্তির মতো মনে করায়। সে নিয়তিবাদী এবং বিপদেও অবিচল। আবার -   ...

গৃহদাহ উপন্যাসের কেন্দ্রীয় নারী চরিত্র হিসেবে অচলার অন্তর্দ্বন্দ্ব ও ট্রাজেডি আলোচনা করো।

গৃহদাহ উপন্যাসের কেন্দ্রীয় নারী চরিত্র হিসেবে অচলার অন্তর্দ্বন্দ্ব ও ট্রাজেডি আলোচনা করো। পশ্চিমবঙ্গ রাষ্ট্রীয় বিশ্ববিদ্যালয় ষষ্ঠ সেমিস্টার বাংলা মেজর।DS13,Unit-3         শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের 'গৃহদাহ' (১৯২০) বাংলা সাহিত্যের একটি অনন্য মনস্তাত্ত্বিক উপন্যাস । উপন্যাসের মূল ভিত্তি হলো অচলার দ্বিধাবিভক্ত মন, যা মহিম ও সুরেশ-এই দুই বিপরীতমুখী চরিত্রের টানাপোড়েনে ক্ষতবিক্ষত।আসলে এই উপন্যাসের প্রধান নারী চরিত্র অচলা কোনো সাধারণ নায়িকা নয়, বরং এক জটিল পরিস্থিতির আবর্তে পড়া বিদীর্ণ এক সত্তা। তার ট্রাজেডি কেবল বাইরের ঘটনাপ্রবাহে নয়, বরং বলা যেতে পারে তার অন্তরের নিরন্তর দ্বন্দ্বে নিহিত। আর এই আলোচনা নিরিখে আমরা অচলাকে দেখতে পাই-          • দ্বিধাগ্রস্ত মানসিকতা ও দুই মেরুর আকর্ষণ অচলার চরিত্রের অন্যতম বৈশিষ্ট্য।আসলে অচলার চরিত্রের ট্রাজেডির মূল উৎস হলো তার দ্বিধা । সে একাধারে মহিমের আদর্শবাদ ও সুরেশের আবেগপ্রবণতার মাঝখানে দাঁড়িয়ে দিশেহারা। মহিম নির্বাক, সংযমী এবং স্থিতধী। আবার অন্যদিকে সুরেশ অস্থির, উগ্র এবং তীব্র কামনাসক্ত। মহিমের প্রতি অচ...

গৃহদাহ উপন্যাসের প্রশ্নাবলী।

গৃহদাহ উপন্যাসের প্রশ্নাবলী। ​১. চরিত্র বিশ্লেষণ ••​'গৃহদাহ' উপন্যাসের কেন্দ্রীয় নারী চরিত্র হিসেবে অচলার অন্তর্দ্বন্দ্ব ও ট্র্যাজেডি আলোচনা করো। ••• বা বিমলা।গৃহদাহ' উপন্যাসে বিমলা চরিত্রটি অচলার চরিত্রের বৈপরীত্য ফুটিয়ে তুলতে কতখানি সহায়ক হয়েছে? ​••সুরেশ ও মহিম—এই দুই বিপরীতমুখী চরিত্রের তুলনামূলক আলোচনা করে উপন্যাসের কাহিনি বিন্যাসে তাদের ভূমিকা নিরূপণ করো। ​••সুরেশ চরিত্রটির খলনায়ক নাকি পরিস্থিতির শিকার? উপন্যাসের আধারে বুঝিয়ে দাও। ​•মৃণাল চরিত্রটির সার্থকতা বিচার করো। অচলার বিপরীতে মৃণাল চরিত্রটি কতটা উজ্জ্বল হয়ে উঠেছে? ​২. বিষয়বস্তু ও নামকরণ ​•••উপন্যাস হিসেবে 'গৃহদাহ'-এর সার্থকতা বিচার করো।/ মনস্তাত্ত্বিক উপন্যাস হিসেবে গৃহদাহ উপন্যাস। ​•'গৃহদাহ' উপন্যাসের নামকরণ কতটা যুক্তিযুক্ত বা সার্থক হয়েছে তা আলোচনা করো। ​••• অচলার মানসিক দোলাচল এবং সমাজ ও ব্যক্তির সংঘাত এই উপন্যাসে কীভাবে ফুটে উঠেছে? ​৩. সমাজচিত্র ও সম্পর্ক: ​•তৎকালীন হিন্দু ও ব্রাহ্ম সমাজের দ্বন্দ্ব 'গৃহদাহ' উপন্যাসে কীভাবে প্রতিফলিত হয়েছে? ​••"গৃহদাহ কেবল গৃহের দাহ নয়, অন্তরেরও দ...

ভূগোল দ্বিতীয় সেমিস্টার দশম শ্রেণীর সাজেশন

. অভিবাদন ও পরিচিতি: " নমস্কার, আপনাদের সকলকে স্বাগত জানাই আমার ইউটিউব চ্যানেল 'শেষের কবিতার সুন্দরবন'-এ। আশা করি আমার প্রিয় ছাত্রছাত্রীরা তোমরা সবাই খুব ভালো আছো। সামনেই তোমাদের দ্বিতীয় পর্যায়ক্রমিক মূল্যায়ন অর্থাৎ সেকেন্ড সামেটিভ পরীক্ষা। তাই তোমাদের ভূগোলের প্রস্তুতিকে আরও মজবুত করতে আজ আমি নিয়ে এসেছি ২০২৫ সালের জন্য একটি বিশেষ ভূগোল সাজেশন।" ​২. ভিডিওর গুরুত্ব (Hook): "আজকের এই ভিডিওতে আমরা মূলত বায়ুমণ্ডল, বারিমণ্ডল এবং ভারতের অর্থনৈতিক পরিবেশ থেকে এমন কিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন আলোচনা করব, যা বিগত বছরগুলোর পর্ষদের প্রশ্নপত্রের ধারা বিশ্লেষণ করে তৈরি করা হয়েছে। শুধু বড় প্রশ্নই নয়, ভিডিওর শেষে থাকছে বিশেষ কিছু ম্যাপ পয়েন্ট আউট, যা তোমাদের পরীক্ষার খাতায় পুরো নম্বর পেতে সাহায্য করবে।" ​৩. মূল পর্বে প্রবেশের আগে: "তাই ভিডিওটি না টেনে একদম শেষ পর্যন্ত দেখো এবং গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নগুলো খাতায় লিখে নাও। যারা এই চ্যানেলে নতুন, তারা অবশ্যই চ্যানেলটি সাবস্ক্রাইব করে রেখো শিক্ষা সংক্রান্ত এমন আরও আপডেট পাওয়ার জন্য। চলো, তাহলে আজকের মূল আলোচনা শুরু করা যাক।...

পদ্মা নদীর মাঝি উপন্যাসে কুবের ও কপিলা—এই দুই চরিত্রের জটিল মনস্তাত্ত্বিক সম্পর্কটি বিশ্লেষণ করো।

পদ্মা নদীর মাঝি উপন্যাসে কুবের ও কপিলা—এই দুই চরিত্রের জটিল মনস্তাত্ত্বিক সম্পর্কটি বিশ্লেষণ করো। পশ্চিমবঙ্গ রাষ্ট্রীয় বিশ্ববিদ্যালয়, ষষ্ঠ সেমিস্টার বাংলা মেজর।         আলোচনা শুরুতেই আমরা বলে রাখি যে,মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের 'পদ্মানদীর মাঝি' উপন্যাসে কুবের ও কপিলার সম্পর্ক কেবল দেহজ আকর্ষণ নয়, বরং এটি সমাজতত্ত্ব এবং ফ্রয়েডীয় মনস্তত্ত্বের এক চমৎকার মিশ্রণ। পদ্মার ঢেউয়ের মতো চঞ্চল আর রহস্যময় এই সম্পর্ক। আর এই নিরিখে তাদের সম্পর্কের মধ্যে আমরা দেখতে পাই-             পদ্মা নদী মাঝি উপন্যাসে কুবের এবং কপিলা চরিত্রের মধ্যে আছে অবদমিত বাসনা ও ফ্রয়েডীয় তত্ত্ব। আসলেকুবেরের জীবনে তার স্ত্রী মালা হলো স্থিরতা ও কর্তব্যের প্রতীক। কিন্তু মালা পঙ্গু হওয়ার কারণে কুবেরের দাম্পত্য জীবনে এক ধরণের অপূর্ণতা কাজ করত। এই অবদমিত বাসনার প্রতিফলন ঘটে শ্যালিকা কপিলার প্রতি আকর্ষণে। কপিলা সেই প্রাণশক্তির প্রতীক, যা কুবেরের ধূসর জীবনে বৈচিত্র্য আনে। কুবের যখন কপিলার দিকে তাকায়, তখন সে কেবল এক নারীকে দেখে না, বরং সে নিজের না পাওয়া আকাঙ্ক্ষাগুলোকে খু...

সুকুমার রায়ের ‘নোটবুক' কবিতার মূল বিষয়বস্তু আলোচনা করো।

সুকুমার রায়ের ‘নোটবুক' কবিতার মূল বিষয়বস্তু আলোচনা করো। পশ্চিমবঙ্গ মধ্যশিক্ষা পর্ষদ সপ্তম, শ্রেণী দ্বিতীয় সেমিস্টার বাংলা।       সুকুমার রায়ের ‘নোটবুক’ কবিতাটি মূলত একটি কৌতূহলোদ্দীপক এবং হাস্যরসাত্মক কবিতা।​‘নোটবুক’ কবিতার প্রধান চরিত্র হলো একটি শিশু (বা একজন কৌতূহলী মানুষ), যার হাতে সবসময় একটি নোটবুক থাকে। সে তার চারপাশের জগতের তুচ্ছাতিতুচ্ছ বিষয় নিয়ে প্রচণ্ড কৌতূহলী। যখনই সে নতুন কোনো তথ্য পায় বা তার মনে কোনো অদ্ভুত প্রশ্ন জাগে, তখনই সে সেটি তার নোটবুকে লিখে রাখে। ​        কবিতাটির মূল সুর হলো অহেতুক কৌতূহল এবং অসংলগ্ন তথ্যের সংকলন। লেখক এখানে দেখিয়েছেন যে, অনেক সময় আমরা গুরুত্বহীন বিষয় নিয়ে মাথা ঘামাই, অথচ সেগুলোর বৈজ্ঞানিক বা যুক্তিনির্ভর কারণ না খুঁজে কেবল সেগুলোকে সংগ্রহ করতেই ব্যস্ত থাকি। আর সেখানে আমরা দেখি- ​        তুচ্ছ বিষয়ে মনোযোগ হিসেবে নোটবুকের মালিক ফড়িংয়ের ক’টি পা কিংবা আরশোলা কী খায়, তা জানার জন্য ছটফট করে। তার কাছে এসব তথ্য অত্যন্ত মূল্যবান।আবার- ​      বিচিত্র সব প্রশ্নে দেখা যায় কামড়ালে কেন আঙ...

মহাকাব্য এবং গীতিকাব্যের প্রকারভেদ আলোচনা কর।

মহাকাব্য এবং গীতিকাব্যের প্রকারভেদ আলোচনা করো। পশ্চিমবঙ্গ রাষ্ট্রীয় বিশ্ববিদ্যালয় চতুর্থ সেমিস্টার বাংলা মেজর।       মহাকাব্যঃ মহাকাব্য হলো একটি দীর্ঘ বর্ণনাধর্মী কাব্য যেখানে কোনো দেবতা বা অসাধারণ গুণসম্পন্ন বীরের জীবনকথা, যুদ্ধ এবং মহৎ কোনো উদ্দেশ্য বর্ণিত হয়। প্রাচ্য ও পাশ্চাত্য অলঙ্কার শাস্ত্র অনুযায়ী মহাকাব্যকে প্রধানত দুটি ভাগে ভাগ করা হয়। আর সেই ভাগ গুলি হলো- ​     ক ) জাত মহাকাব্যঃ এই ধরনের মহাকাব্য কোনো একক কবির সৃষ্টি নয়, বরং যুগের পর যুগ ধরে চলে আসা জনশ্রুতি, লোকগাথা এবং বীরত্বগাথা কোনো এক সময় সংকলিত হয়ে মহাকাব্যের রূপ নেয়। এটি একটি জাতির বিকাশমান সময়ের কাহিন। উদাহরণ হিসেবে বলতে পারি- বাল্মিকী রামায়ণ,  ব্যাসদেবের মহাভারত,হোমারের ইলিয়াড ওডিসি।      ​খ) সাহিত্যিক মহাকাব্যঃ যখন কোনো একক কবি সচেতনভাবে নির্দিষ্ট অলঙ্কার শাস্ত্র বা মহাকাব্যের নিয়ম মেনে কোনো ধ্রুপদী কাহিনী অবলম্বন করে মহাকাব্য রচনা করেন, তাকে সাহিত্যিক মহাকাব্য বলে। উদাহরণ: মাইকেল মধুসূদন দত্তের মেঘনাদবধ কাব্য , মিল্টনের প্যারাডাইস লস্ট (Paradise Lost), কালিদা...

গীতিকাব্য কাকে বলে এবং তার বৈশিষ্ট্য কী কী, একটি সার্থক গীতিকাব্যের পরিচয় দাও।

গীতিকাব্য কাকে বলে এবং তার বৈশিষ্ট্য কী কী, একটি সার্থক গীতিকাব্যের পরিচয় দাও। পশ্চিমবঙ্গ রাষ্ট্রীয় বিশ্ববিদ্যালয় চতুর্থ সেমিস্টার বাংলা মেজর।       • গীতিকাব্যঃ  গীতিকাব্য হলো সাহিত্যের একটি বিশেষ রূপ, যেখানে কবির ব্যক্তিগত আবেগ, অনুভূতি, সুখ-দুঃখ এবং অন্তরের ভাবনা প্রকাশ পায়। এটি সাধারণত একটি সংক্ষিপ্ত কবিতা বা গান যা লেখকের হৃদয়ভাবকে সরাসরি তুলে ধরে।যেখানে-প্রাচীন গ্রিসে 'গীতিকাব্য' শব্দটি উদ্ভূত হয়েছিল, যেখানে 'লিরিক' শব্দটি এসেছে 'লাইর' নামক বাদ্যযন্ত্র থেকে। অর্থাৎ, এই ধরনের কবিতা সুর সহযোগে আবৃত্তি করা হতো।মোটকথা-             গীতিকাব্য হলো এক ধরনের কবিতা, যার মধ্যে দিয়ে ব্যক্তির আবেগ, অনুভূতি এবং অভিজ্ঞতাগুলিকে ছন্দ ওর সংগীতের মাধ্যমে প্রকাশ করা হয়। তবে এখানে কবিতাগুলি খুবই ছোট আকারের হয়, আর সেখানে কবির ব্যক্তিগত অনুভূতির গভীরতা ও আন্তরিকতা প্রকাশ পায়। আর এই প্রেক্ষিতে আমরা বলতে পারি গীতি কবিতার সংকলন হলো গীতিকাব্য।     • গীতিকাব্যের বৈশিষ্ট্যঃ       ১. ব্যক্তিগত অনুভূতি ও আবেগ প্রকাশ: এটি গীতিকা...

বঙ্গভাষা প্রবেশিকা,আনন্দমঠ জাতীয়তাবাদী,গগনেন্দ্রনাথ ঠাকুরের ব্যঙ্গচিত্র

১) সভা-সমিতির যুগে 'বঙ্গভাষা প্রকাশিকা সভা'-কে প্রথম রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠান বলা হয় কেন? (মান - ৫) পশ্চিমবঙ্গ মধ্যশিক্ষা পর্ষদ দশম শ্রেণীর দ্বিতীয় সেমিস্টার।         আলোচনা শুরুতেই আমরা বলে রাখি যে,১৮৩৬ খ্রিস্টাব্দে রাজা রামমোহন রায়ের অনুগামীরা (টাকির জমিদার কালীনাথ রায় চৌধুরী, প্রসন্নকুমার ঠাকুর প্রমুখ) কলকাতায় 'বঙ্গভাষা প্রকাশিকা সভা' স্থাপন করেন। ড. যোগেশচন্দ্র বাগল এই সভাকে 'প্রথম রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠান' হিসেবে অভিহিত করেছেন। এর কারণগুলি হলো-         • রাজনৈতিক আলোচনাঃ এটিই প্রথম সংগঠন যেখানে কেবল ধর্ম বা সমাজ নয়, বরং সরকারের বিভিন্ন নীতি ও প্রশাসনিক বিষয় নিয়ে নিয়মতান্ত্রিক আলোচনা শুরু হয়।       • করমুক্ত ভূমির উপর কর আরোপের প্রতিবাদঃ ১৮২৮ খ্রিস্টাব্দের 'বাজেয়াপ্তি আইন' অনুযায়ী সরকার যখন নিষ্কর জমির ওপর কর আরোপ করে, তখন এই সভা তার তীব্র বিরোধিতা করে আন্দোলন গড়ে তোলে। এটি ছিল একটি গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক পদক্ষেপ।        • শাসনব্যবস্থার সমালোচনাঃ সভার সদস্যগণ ব্রিটিশ প্রশাসনের ত্রুটি-বিচ্যুতি এবং ভারতীয়দের অভাব-অভিযোগ...

মহারানীর ঘোষণা পত্রের১৮৫৭ ঐতিহাসিক তাৎপর্য লেখো।

মহারানীর ঘোষণা পত্রের১৮৫৭ ঐতিহাসিক তাৎপর্য লেখো। পশ্চিমবঙ্গ মধ্যশিক্ষা পর্ষদ দশম শ্রেণি দ্বিতীয় সেমিস্টার।           আলোচনার শুরুতেই আমরা বলে রাখি যে,১৮৫৭ সালের মহাবিদ্রোহের পর ভারতের শাসনব্যবস্থায় আমূল পরিবর্তন আনার লক্ষ্যে ব্রিটিশ পার্লামেন্ট ১৮৫৮ সালে 'ভারত শাসন আইন' পাস করে। এই আইনের পরিপ্রেক্ষিতে ১৮৫৮ সালের ১লা নভেম্বর এলাহাবাদের এক দরবারে তৎকালীন বড়লাট লর্ড ক্যানিং মহারানী ভিক্টোরিয়ার এক ঘোষণাপত্র পাঠ করেন, যা ইতিহাসে মহারানীর ঘোষণাপত্র (Queen's Proclamation) নামে পরিচিত।আর সেখানে মহারানীর ঘোষণাপত্রের মূল প্রতিশ্রুতিসমূহ ভারতবাসীর ক্ষোভ প্রশমিত করতে বেশ কিছু প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। আর সেই প্রতিশ্রুতিসমূহ হলো-       • স্বত্ববিলোপ নীতি ত্যাগঃ কোম্পানি প্রবর্তিত কুখ্যাত 'স্বত্ববিলোপ নীতি' বাতিল করা হয় এবং দেশীয় রাজ্যগুলিকে দত্তক পুত্র গ্রহণের অধিকার ফিরিয়ে দেওয়া হয়।       • সাম্রাজ্য বিস্তার রোধঃ ঘোষণা করা হয় যে, ব্রিটিশ সরকার আর নতুন করে ভারত ভূখণ্ড গ্রাস করবে না।      • ধর্মীয় নিরপেক্ষতাঃ ভারতবাসীদের ধর্মীয়...

অসংগতি (Maladjustment) কী?অসংগতি দূরীকরণে পরিবারের ভূমিকা এবং অসংগতি দূরীকরণে শিক্ষকের ভূমিকা আলোচনা করো।

অসংগতি (Maladjustment) কী?অসংগতি দূরীকরণে পরিবারের ভূমিকা এবং অসংগতি দূরীকরণে শিক্ষকের  ভূমিকা আলোচনা করো। পশ্চিমবঙ্গ রাষ্ট্রীয় বিশ্ববিদ্যালয়, ষষ্ঠ সেমিস্টার এডুকেশন মাইনর।           মনোবিজ্ঞানের ভাষায়, যখন কোনো ব্যক্তি তার অভ্যন্তরীণ চাহিদা (Needs) এবং বাইরের পরিবেশের প্রতিকূলতার মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখতে পারে না, তখন যে মানসিক অস্থিরতা তৈরি হয় তাকেই অসংগতি বলে।তবে - অসংগতি কোনো জন্মগত রোগ নয়, বরং এটি একটি অর্জিত আচরণ। যখন কোনো শিক্ষার্থী দীর্ঘ সময় ধরে তার লক্ষ্য পূরণে ব্যর্থ হয় বা পরিবেশ থেকে ক্রমাগত বাধা পায়, তখন সে অস্বাভাবিক আচরণ করতে শুরু করে।           •অসংগতি দূরীকরণে পরিবারের ভূমিকা•       পরিবার হলো শিশুর মানসিক স্বাস্থ্যের ভিত্তি। অসংগতি প্রতিকারে পরিবারের দায়িত্বগুলো হলো-  • অগণতান্ত্রিক শাসনঃ বাড়িতে খুব বেশি কড়া শাসন বা একদম শাসনহীনতা-দুটোই ক্ষতিকর। বাবা-মায়ের উচিত সন্তানের সাথে বন্ধুত্বপূর্ণ আলোচনা করে নিয়মকানুন ঠিক করা।  • পারিবারিক সংহতিঃ বাবা-মায়ের মধ্যে সদ্ভাব ও সুখের পরিবেশ শিশুর মনে নিরাপ...
 পশ্চিমবঙ্গ মধ্যশিক্ষা পর্ষদ (WBBSE) নির্ধারিত দশম শ্রেণীর দ্বিতীয় পর্যায়ক্রমিক মূল্যায়নের (Second Summative Evaluation) ইতিহাসের সিলেবাসে সাধারণত **চতুর্থ, পঞ্চম এবং ষষ্ঠ অধ্যায়** থাকে। পরীক্ষার প্রস্তুতির জন্য এই অধ্যায়গুলি থেকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কিছু সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর (SAQ) নিচে দেওয়া হলো: ## চতুর্থ অধ্যায়: সঙ্ঘবদ্ধতার গোড়ার কথা এই অধ্যায়ে মূলত ১৮৫৭ সালের মহাবিদ্রোহ এবং ঊনবিংশ শতকের সভা-সমিতির রাজনীতি নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে।  * **১. কাকে 'ভারতের সভারাজ্যের যুগ' (Age of Associations) বলা হয়?**    * **উত্তর:** ১৮৩৬ থেকে ১৮৮৫ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত সময়কালকে ড. অনিল শীল 'সভারাজ্যের যুগ' বলেছেন।  * **২. ১৮৫৭-র বিদ্রোহকে কারা 'সামন্ততান্ত্রিক প্রতিক্রিয়া' বলেছেন?**    * **উত্তর:** ড. রমেশচন্দ্র মজুমদার এবং ড. সুরেন্দ্রনাথ সেনের মতো ঐতিহাসিকগণ।  * **৩. 'আনন্দমঠ' উপন্যাসটি কোন পটভূমিকায় রচিত?**    * **উত্তর:** ১৭৭০ খ্রিস্টাব্দের মন্বন্তর এবং সন্ন্যাসী-ফকির বিদ্রোহের পটভূমিকায় বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় এটি রচনা করেন।  * **৪. ভারত সভা...

ইতিহাস সাজেশন ২০২৬ দশম শ্রেণী দ্বিতীয় সেমিস্টার।

পশ্চিমবঙ্গ মধ্যশিক্ষা পর্ষদের (WBBSE) দশম শ্রেণীর দ্বিতীয় পর্যায়ক্রমিক মূল্যায়ন বা ২য় সেমিস্টারের ইতিহাসের সিলেবাসে সাধারণত চতুর্থ, পঞ্চম এবং ষষ্ঠ অধ্যায় থাকে।   দশম শ্রেণী ইতিহাস: দ্বিতীয় সেমিস্টার সাজেশন ২০২৬ চতুর্থ অধ্যায়: সঙ্ঘবদ্ধতার গোড়ার কথা (বৈশিষ্ট্য ও বিশ্লেষণ) ১. মহারানির ঘোষণাপত্রের (১৮৫৮) ঐতিহাসিক তাৎপর্য কী? ২. সভা-সমিতির যুগে 'বঙ্গভাষা প্রকাশিকা সভা'-কে প্রথম রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠান বলা হয় কেন? ৩. আনন্দমঠ উপন্যাসটি কীভাবে জাতীয়তাবাদী চেতনা জাগিয়ে তুলেছিল? ৪. গগনেন্দ্রনাথ ঠাকুরের ব্যঙ্গচিত্রের মূল বিষয়বস্তু কী ছিল? ৬ নম্বরের প্রশ্ন ১. •••১৮৫৭ সালের মহাবিদ্রোহের চরিত্র ও প্রকৃতি** আলোচনা করো। (ভেরি ইম্পর্টেন্ট) ২. লেখায় ও রেখায় ভারতে জাতীয়তাবাদের বিকাশ কীভাবে ঘটেছিল? (আনন্দমঠ ও বর্তমান ভারত-এর বিশেষ উল্লেখসহ)   পঞ্চম অধ্যায়: বিকল্প চিন্তা ও উদ্যোগ (উনিশ শতকের মধ্যভাগ থেকে বিশ শতকের প্রথম ভাগ পর্যন্ত) ১. শ্রীরামপুর মিশন প্রেস কীভাবে একটি অগ্রণী মুদ্রণ প্রতিষ্ঠানে পরিণত হলো? ২. বসু বিজ্ঞান মন্দির প্রতিষ্ঠার উদ্দেশ্য ও বিজ্ঞানের উন্নতিতে জগদীশচন্দ্র বসুর অবদান। ৩. ছাপা ব...