Skip to main content

উনিশ শতকের বণিকদের বিচিত্র কর্মকাণ্ড ও কারিগরি ব্যবস্থার নিয়ন্ত্রণ আলোচনা করো

উনিশ শতকের বণিকদের বিচিত্র কর্মকাণ্ড ও কারিগরি ব্যবস্থার নিয়ন্ত্রণ আলোচনা করো (পশ্চিমবঙ্গ রাষ্ট্রীয় বিশ্ববিদ্যালয় পঞ্চম সেমিস্টার ইতিহাস মাইনর)

        আমরা জানি যে,উনিশ শতকের ভারতের অর্থনৈতিক ইতিহাসে বণিক সম্প্রদায়ের ভূমিকা ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।এই সময়ে একদিকে যেমন প্রথাগত অভ্যন্তরীণ বাণিজ্য বজায় ছিল, আবার অন্যদিকে ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির হাত ধরে বিশ্ববাজারের সঙ্গে ভারতের সংযোগ নিবিড় হয়েছিল।আর সেই নিবিড় সম্পর্ক দেখি-

         উনিশ শতকের বণিকদের বিচিত্র কর্মকাণ্ড। সেই কর্মকাণ্ডে আমরা এই সময়কার বণিকদের কর্মকাণ্ডকে মূলত কয়েকটি ভাগে ভাগ করতে পারি -

        •পণ্য সরবরাহ ও রপ্তানিঃ বণিকরা মূলত গ্রামগঞ্জ থেকে কাঁচামাল (যেমন: নীল, তুলা, রেশম, আফিম ও চিনি) সংগ্রহ করে বন্দরে নিয়ে আসতেন। দ্বারকানাথ ঠাকুর বা মতিলাল শীলের মতো বাঙালি বণিকরা ইউরোপীয়দের সাথে অংশীদারিত্বে বড় ব্যবসা পরিচালনা করতেন।

        মুৎসুদ্দি বা দালালি ব্যবস্থাঃ ব্রিটিশ কোম্পানি সরাসরি কৃষকদের চ চিনত না। তাই তারা দেশীয় বণিকদের 'মুৎসুদ্দি' বা 'বেনিয়ান' হিসেবে নিয়োগ করত। এই বণিকরা অগ্রিম অর্থ (দাদন) দিয়ে কৃষকদের থেকে পণ্য সংগ্রহ করে কোম্পানিকে দিতেন।

         ব্যাঙ্কিং ও মহাজনি ব্যবসাঃ মারোয়াড়ি, গুজরাটি এবং চেট্টিয়ার বণিকরা হুণ্ডি বা ঋণদান ব্যবস্থার মাধ্যমে অর্থ লেনদেন নিয়ন্ত্রণ করতেন। তারা কেবল ব্যবসাই করতেন না, বরং ব্রিটিশদেরও অনেক সময় অর্থ ধার দিতেন।

       শিপিং ও বিমা ব্যবসাঃ উনিশ শতকের প্রথমার্ধে অনেক ভারতীয় বণিক নিজস্ব জাহাজ তৈরি করে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া ও চীনের সঙ্গে বাণিজ্যে লিপ্ত ছিলেন।

ঠিক এরূপ অসংখ্য বিষয়ভিত্তিক আলোচনা ব্যাখ্যা সাজেশন এবং টিউটোরিয়াল ক্লাসের ভিডিও পেতে ভিজিট করুন আমাদের SHESHER KOBITA SUNDARBAN Youtube channel 🙏 Samaresh Sir Hingalganj North 24 Parganas 9547210830

      •কারিগরি উপাদান ও উৎপাদন ব্যবস্থার ওপর নিয়ন্ত্রণঃবণিকরা কীভাবে কারিগরি বা উৎপাদন ব্যবস্থাকে নিয়ন্ত্রণ করতে শুরু করেছিলেন, তা নিচে বিশ্লেষণমূলক আলোচনা করা হলো-

        ক) দাদন প্রথা বা অগ্রিম প্রদানঃবণিকরা কারিগরদের (বিশেষত তাঁতিদের) কাঁচামাল কেনার জন্য আগাম টাকা বা 'দাদন' দিতেন। একবার দাদন নিলে কারিগররা সেই বণিকের কাছে দায়বদ্ধ হয়ে পড়তেন এবং অন্য কারো কাছে পণ্য বিক্রি করতে পারতেন না। এর ফলে উৎপাদনের চাবিকাঠি কারিগরের হাত থেকে বণিকের হাতে চলে যায়।

       খ) কাঁচামালের একচেটিয়া অধিকারঃ বণিকরা প্রায়ই বাজার থেকে সমস্ত কাঁচামাল কিনে মজুত করে রাখতেন। ফলে কারিগররা সরাসরি বাজার থেকে সুতো বা রেশম কিনতে পারতেন না। কাঁচামালের জন্য বণিকদের ওপর নির্ভরশীলতা কারিগরদের কার্যত দাসে পরিণত করেছিল।

       গ) পুটিং-আউট সিস্টেমঃএই ব্যবস্থায় বণিকরা কারিগরদের বাড়িতে কাঁচামাল দিয়ে আসতেন এবং নির্দিষ্ট সময় পর তৈরি পণ্য সংগ্রহ করতেন। কারিগর এখানে কেবল মজুর হিসেবে কাজ করতেন। উৎপাদনের উপকরণ (উপাদান) এবং চূড়ান্ত পণ্যের দাম—উভয়ই বণিকরা নির্ধারণ করতেন।

      ঘ) গুণমান ও ডিজাইন নিয়ন্ত্রণঃ ইউরোপীয় বাজারের চাহিদা অনুযায়ী বণিকরা কারিগরদের নির্দিষ্ট নকশা বা মান মেনে কাজ করতে বাধ্য করতেন। এর ফলে কারিগরদের নিজস্ব সৃজনশীলতা লোপ পায় এবং তারা বণিকদের ফরমায়েশ অনুযায়ী পণ্য তৈরি করতে শুরু করেন।

     ঙ) ঋণপাশ ও শোষণঃ দাদন প্রথার মাধ্যমে কারিগররা ঋণের জালে জড়িয়ে পড়তেন। অনেক সময় উৎপন্ন পণ্যের দাম দাদনের থেকে কম হলে কারিগরকে পরবর্তী মরসুমেও সেই বণিকের কাজ করতে হতো। এইভাবে কারিগরি উৎপাদন ব্যবস্থা সম্পূর্ণভাবে বণিক শ্রেণির নিয়ন্ত্রণে চলে আসে।

          পরিশেষে আমরা বলতে পারি যে,উনিশ শতকের বণিকরা একদিকে যেমন ভারতের বাণিজ্যের প্রসারে সাহায্য করেছিলেন, অন্যদিকে তাঁদের নিয়ন্ত্রণমূলক ব্যবস্থার ফলে স্বাধীন কারিগররা স্রেফ বেতনভুক শ্রমিকের স্তরে নেমে আসেন। এই ব্যবস্থাই পরবর্তীকালে ভারতে কুটির শিল্পের ধ্বংস বা 'বিশিল্পায়ন'প্রক্রিয়াকে ত্বরান্বিত করেছিল।

ঠিক এরূপ অসংখ্য বিষয়ভিত্তিক আলোচনা ব্যাখ্যা সাজেশন এবং টিউটোরিয়াল ক্লাসের ভিডিও পেতে ভিজিট করুন আমাদের SHESHER KOBITA SUNDARBAN Youtube channel 🙏 Samaresh Sir Hingalganj North 24 Parganas 9547210830

Comments