Skip to main content

Posts

Showing posts from February, 2026

ভাষাচর্চা।

বিদেশী শব্দ (Foreign Words)কাকে বলে উদাহরণ দাও।           আমরা জানি যে, ভাষা হলো একটি বহমান বিষয়।যেখানে রাজনৈতিক, ধর্মীয়, বাণিজ্যিক বা সাংস্কৃতিক কারণে বাংলাদেশে আগত বিভিন্ন ভাষাভাষী মানুষের যেসব শব্দ বাংলা ভাষায় আত্মীকৃত হয়েছে এবং বর্তমানে আমাদের নিজস্ব শব্দের মতো ব্যবহৃত হচ্ছে, তাদের বিদেশী শব্দ বলে।          •মূলত আরবি, ফারসি, ইংরেজি, পর্তুগিজ, তুর্কি ইত্যাদি ভাষা থেকে এই শব্দগুলো বাংলায় এসেছে। উদাহরণ- • আরবি শব্দঃ আল্লাহ , আদালত, কলম, বাকি।  • ফারসিঃ চশমা, দোকান, কারখানয়।  • ইংরেজিঃ  স্কুল, টেবিল, লাইব্রেরি, পুলিশ।  • পর্তুগিজ: আনারস, আলমারি। • তুর্কি: দারোগা, কাঁচি, কুলি।      মিশ্র শব্দ (Hybrid/Mixed Words)কাকে বল উদাহরণ দাও।         যখন কোনো একটি বিশেষ শব্দ দুটি ভিন্ন ভাষার শব্দের মিলনে গঠিত হয়, তখন তাকে মিশ্র শব্দ বলা হয়। অর্থাৎ, এটি একটি 'হাইব্রিড' শব্দ যেখানে একটি অংশ দেশি বা তৎসম হতে পারে এবং অন্য অংশটি বিদেশী হতে পারে। উদাহরণ-  • রাজা-বাদশাহঃ রাজা (তৎসম) + বাদশাহ ...

প্রশ্নপত্র ঈশ্বর পৃথিবী ভালবাসা শিবরাম চক্রবর্তী।

 পশ্চিমবঙ্গ রাষ্ট্রীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের (WBSU) বিগত কয়েক বছরের প্রশ্নপত্রের ধারা এবং CC-11 পত্রের গুরুত্ব বিচার করলে, শিবরাম চক্রবর্তীর 'ঈশ্বর পৃথিবী ভালোবাসা' থেকে আগামী পরীক্ষার জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ৪টি বড় প্রশ্ন (১০ নম্বর) নিচে দেওয়া হলো: ১. নামকরণের সার্থকতা বিচার করো এটি এই গ্রন্থের সবচেয়ে কমন এবং গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন। শিবরাম কেন তাঁর আত্মজীবনীর নাম 'ঈশ্বর পৃথিবী ভালোবাসা' রাখলেন? এখানে 'ঈশ্বর' বলতে তিনি নিজেকে, 'পৃথিবী' বলতে জগতকে এবং 'ভালোবাসা' বলতে তাঁর জীবনদর্শনকে কীভাবে বুঝিয়েছেন, তা বিশ্লেষণ করতে হবে। ২. প্রথাগত আত্মজীবনী হিসেবে 'ঈশ্বর পৃথিবী ভালোবাসা'র সার্থকতা ও স্বকীয়তা সাধারণত আত্মজীবনীতে মানুষ নিজের সাফল্যের কথা বলে, কিন্তু শিবরাম এখানে নিজের ব্যর্থতা, আলস্য এবং অদ্ভুত সব অভিজ্ঞতাকে কৌতুকবহ ভঙ্গিতে তুলে ধরেছেন। এই গ্রন্থটি কীভাবে একটি 'Anti-Autobiography' বা প্রথাগত আত্মজীবনীর গণ্ডি ভেঙেছে, তা আলোচনা করো। ৩. গ্রন্থে প্রতিফলিত রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট ও মেদিনীপুরের দিনলিপি শিবরামের মেদিনীপুরের জীবন, দেশপ্রেম, কারাবরণ এ...

স্বামীজীকে যেরূপ দেখিয়াছি গ্রন্থে নিবেদিতার দৃষ্টিতে সারদা দেবীর পরিচয় দাও।

স্বামীজীকে যেরূপ দেখিয়াছি গ্রন্থে নিবেদিতার দৃষ্টিতে সারদা দেবীর পরিচয় যেভাবে উপস্থাপিত হয়েছে তার বর্ণনা দাও।           ভগিনী নিবেদিতা তাঁর কালজয়ী গ্রন্থ ‘স্বামীজিকে যেরূপ দেখিয়াছি’ (The Master as I Saw Him)-এ শ্রীমা সারদা দেবীকে এক অনন্য আধ্যাত্মিক ও মানবিক উচ্চতায় উপস্থাপন করেছেন। নিবেদিতার কাছে সারদা দেবী ছিলেন কেবল স্বামীজির গুরুপত্নী বা শ্রীরামকৃষ্ণের সহধর্মিণী নন, বরং তিনি ছিলেন ‘আদর্শ ভারতীয় নারীত্বের’ এক জীবন্ত বিগ্রহ।নিবেদিতার দৃষ্টিতে সারদা দেবীর পরিচয়ের প্রধান দিকগুলো নিচে আলোচনা করা হলো-           সারদা দেবী হলেন আধ্যাত্মিকতার মূর্ত প্রতীক ও প্রশান্তিময়।নিবেদিতা শ্রীমাকে দেখেছিলেন এক গভীর প্রশান্তির আধার হিসেবে। তিনি লিখেছেন, শ্রীমায়ের জীবন ছিল ‘ এক দীর্ঘ ও নিরবচ্ছিন্ন প্রার্থনা ’ ("Her life is one long stillness of prayer")। নিবেদিতার কাছে তাঁর ব্যক্তিত্ব ছিল অত্যন্ত সৌম্য এবং তাঁর উপস্থিতিই চারপাশের পরিবেশকে শান্ত ও পবিত্র করে তুলত।আসলে শ্রীমা সারদা দেবীর চরিত্রের একটি দিক নিবেদিতাকে ভীষণভাবে মুগ্ধ করেছিল-তা হলো তাঁর র...

স্বামীজীকে যেরূপ দেখিয়েছি গ্রন্থের পঞ্চম পরিচ্ছদে উত্তর ভারতের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য বর্ণনা প্রসঙ্গে স্বামীজীর যে গভীর স্বদেশপ্রেমের পরিচয় পাওয়া যায় তা নিজের ভাষায় লেখো।

স্বামীজীকে যেরূপ দেখিয়েছি গ্রন্থের পঞ্চম পরিচ্ছদে উত্তর ভারতের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য বর্ণনা প্রসঙ্গে স্বামীজীর যে গভীর স্বদেশপ্রেমের পরিচয় পাওয়া যায় তা নিজের ভাষায় লেখো (পশ্চিমবঙ্গ রাষ্ট্রীয় বিশ্ববিদ্যালয়, পঞ্চম সেমিস্টার,বা়ংলা মেজর)।       আলোচনা শুরুতেই আমরা বলে রাখি যে,ভগিনী নিবেদিতা রচিত 'স্বামীজীকে যেরূপ দেখিয়েছি' (The Master as I Saw Him) গ্রন্থের পঞ্চম পরিচ্ছেদটি স্বামীজীর ভারত-ভ্রমণ এবং তাঁর অন্তরের গভীর দেশপ্রেমের এক অনন্য দলিল। এই পরিচ্ছেদে উত্তর ভারতের হিমালয় সানুদেশ এবং পার্বত্য অঞ্চলের প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের পটভূমিতে স্বামীজীর যে রূপটি ফুটে উঠেছে, তা কেবল একজন পর্যটকের নয়, বরং এক দেশপ্রেমিক সন্ন্যাসীর।আর নিবেদিতার বর্ণনায় উত্তর ভারতের প্রকৃতি ও স্বামীজীর স্বদেশপ্রেমের স্বরূপটি হলো-         প্রকৃতির মাঝে স্বদেশ দর্শন স্বামীজীর।উত্তর ভারতের তুষারশুভ্র হিমালয়, পাইন বন এবং পাহাড়ি ঝরনার সৌন্দর্যে স্বামীজী যখন বিভোর হতেন, তখন তাঁর চোখে সেই সৌন্দর্য কেবল জড় প্রকৃতি ছিল না; তা ছিল তাঁর আরাধ্যা 'ভারতজননী'র এক জীবন্ত রূপ। নিবেদিতা লক্ষ্য করেছ...

স্বামীজিকে যেরূপ দেখিয়েছি গ্রন্থে স্বামীজীর সঙ্গে নিবেদিতার প্রথম সাক্ষাতের যে ছবি ফুটে উঠেছে তা আলোচনা করো।

স্বামীজিকে যেরূপ দেখিয়েছি গ্রন্থে স্বামীজীর সঙ্গে নিবেদিতার প্রথম সাক্ষাতের যে ছবি ফুটে উঠেছে তা আলোচনা করো। (পশ্চিমবঙ্গ রাষ্ট্রীয় বিশ্ববিদ্যালয় পঞ্চম সেমিস্টার বাংলা মেজর )।          আলোচনা শুরুতেই আমরা বলে রাখি যে,ভগিনী নিবেদিতা রচিত 'স্বামীজীকে যেরূপ দেখিয়েছি' (The Master as I Saw Him) গ্রন্থটি স্বামী বিবেকানন্দের ব্যক্তিত্ব ও দর্শনের এক অমূল্য দলিল। এই গ্রন্থের প্রথম পরিচ্ছেদে লেখিকা মার্গারেট নোবেল (পরবর্তীতে নিবেদিতা)-এর সঙ্গে স্বামীজীর সেই ঐতিহাসিক প্রথম সাক্ষাতের এক জীবন্ত চিত্র অঙ্কিত হয়েছে। ১৮৯৫ সালের নভেম্বর মাসে লন্ডনের এক ড্রয়িং রুমে তাঁদের এই মিলন ঘটেছিল, যা কেবল মার্গারেটের জীবন নয়, ভারতের ইতিহাসের গতিপথও বদলে দিয়েছিল। আর সেই প্রেক্ষিতে নিবেদিতার বর্ণনায় স্বামীজীর সঙ্গে তাঁর প্রথম সাক্ষাতের মূল দিকগুলি নিচে আলোচনা করা হলো-         সাক্ষাতের পটভূমি ও পরিবেশে আমরা দেখতে পাই-লন্ডনের লেডি ইসাবেল মার্জেসন-এর বাড়িতে এক ঘরোয়া পরিবেশে স্বামীজীর সঙ্গে নিবেদিতার প্রথম আলাপ হয়। নিবেদিতা তখন এক জিজ্ঞাসু ও বিচারপ্রবণ মন নিয়ে সেখানে গিয়...

স্বামীজীকে যেরূপ দেখিয়েছি গ্রন্থে স্বামীজীর উদার ধর্মশিক্ষা সম্পর্কে লেখিকার মতামত ব্যক্ত করো।

স্বামীজীকে যেরূপ দেখিয়েছি গ্রন্থে স্বামীজীর উদার ধর্মশিক্ষা সম্পর্কে লেখিকার মতামত ব্যক্ত করো পশ্চিমবঙ্গ রাষ্ট্রীয় বিশ্ববিদ্যালয় পঞ্চম সেমিস্টার বাংলা মেজর।          আলোচনার শুরুতেই আমরা বরে রাখি যে,ভগিনী নিবেদিতা রচিত 'স্বামীজীকে যেরূপ দেখিয়েছি' (The Master as I Saw Him) গ্রন্থটি স্বামী বিবেকানন্দের বহুমুখী ব্যক্তিত্ব ও দর্শনের এক অনন্য দলিল। এই গ্রন্থে স্বামীজীর উদার ধর্মশিক্ষা সম্পর্কে লেখিকার গভীর পর্যবেক্ষণ ও শ্রদ্ধাশীল মনোভাব অত্যন্ত স্পষ্টভাবে ফুটে উঠেছে। স্বামীজীর ধর্মশিক্ষা কেবল কোনো বিশেষ মতবাদ বা আচার-অনুষ্ঠানের মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল না, বরং তা ছিল সার্বজনীন মানবতার মুক্তিগাথা।যা নিবেদিতার লেখনীতে স্বামীজীর ধর্মশিক্ষার প্রধান দিকগুলি নিচে আলোচনা করা হলো-          নিবেদিতা লক্ষ্য করেছেন যে, স্বামীজীর কাছে ধর্ম কোনো তাত্ত্বিক বিতর্ক ছিল না। তিনি বিশ্বাস করতেন পৃথিবীর সমস্ত ধর্মই সত্যের বিভিন্ন রূপ। নিবেদিতার ভাষায়-  " তিনি হিন্দুধর্মকে বিশ্বের সকল ধর্মের জননী বলিয়া মনে করিতেন, অথচ খ্রীষ্টধর্ম বা ইসলাম ধর্ম সম্পর্কে তাঁহার শ্...

স্বামীজীকে যেরূপ দেখিয়াছি’ গ্ৰন্থে স্বামীজীর মহাপ্রস্থান সম্পর্কে ভগিনী নিবেদিতার আবেগঘন অভিমত আলোচনা করো।

 ‘ স্বামীজীকে যেরূপ দেখিয়াছি’ গ্ৰন্থে স্বামীজীর মহাপ্রস্থান সম্পর্কে ভগিনী নিবেদিতার আবেগঘন অভিমত আলোচনা করো (পশ্চিমবঙ্গ রাষ্ট্রীয় বিশ্ববিদ্যালয় পঞ্চম সেমিস্টার বাংলা মেজর)।         আলোচনা শুরুতেই আমরা বলে রাখি যে, স্বামীজীকে যেরূপ দেখিয়াছি গ্রন্থটি স্বামীজীর জীবনের শেষ দিনগুলোর এক অনন্য এবং আবেগঘন দলিল। এই গ্রন্থে নিবেদিতা অতি কাছ থেকে দেখা স্বামীজীর সেই শান্ত, ধীর অথচ এক অলৌকিক মহাপ্রস্থানের প্রস্তুতির বিবরণ দিয়েছেন।আর সেখানে নিবেদিতার বর্ণনায় স্বামীজীর মহাপ্রস্থান কোনো আকস্মিক ঘটনা ছিল না, বরং তা ছিল এক সুপরিকল্পিত ও সচেতন ত্যাগ। নিম্নে গ্রন্থের আলোকে সেই প্রসঙ্গের মূল দিকগুলি আলোচনা করা হলো-             ভগিনী নিবেদিতা লক্ষ্য করেছিলেন, জীবনের শেষ কয়েক মাস স্বামীজী ক্রমশ নিজেকে গুটিয়ে নিচ্ছিলেন। তাঁর মধ্যে এক গভীর প্রশান্তি বিরাজ করছিল। তিনি বারবার বলতেন, তাঁর কাজ শেষ হয়েছে এবং এখন তিনি বিশ্রাম চান। নিবেদিতা লিখেছেন, স্বামীজী যেন এক অদ্ভুত 'মুক্তি'র স্বাদ পাচ্ছিলেন। তিনি যেন জগতের সমস্ত দায়িত্ব থেকে নিজেকে মুক্ত করে কেবল ধ্যান...
জীবনস্মৃতি গ্ৰন্থ অবলম্বনে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের স্বাজাত্যবোধ ও হিন্দুমেলা।রবীন্দ্রনাথের কিশোর বয়সে হিন্দুমেলা এবং নবগোপাল মিত্রের সাহচর্যে তাঁর মনে যে দেশাত্মবোধের জাগরণ ঘটেছিল, তার বর্ণনা দাও (পশ্চিমবঙ্গ রাষ্ট্রীয় বিশ্ববিদ্যালয় পঞ্চম সেমিস্টার বাংলা মেজর DS11 )।         আলোচনার শুরুতেই আমরা বলে রাখি যে,রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের আত্মজীবনীমূলক গ্রন্থ 'জীবনস্মৃতি' কেবল তাঁর ব্যক্তিগত জীবনের আলেখ্য নয়, বরং তৎকালীন বাংলার সামাজিক ও রাজনৈতিক বিবর্তনের এক দর্পণ। এই গ্রন্থের 'স্বদেশী সমাজ' ও 'হিন্দুমেলার' স্মৃতিচারণ থেকে স্পষ্ট বোঝা যায় যে, তাঁর কিশোর মনে দেশপ্রেমের বীজ বপন করেছিল ঠাকুরবাড়ির অন্দরমহল এবং নবগোপাল মিত্রের উদ্দীপনা।আসলে তাঁর কিশোর বয়সে দেশপ্রেমের উন্মেষ কোনো তাত্ত্বিক শিক্ষা থেকে হয়নি, বরং তা ছিল এক জীবন্ত পরিবেশের প্রভাব। বিশেষ করে হিন্দুমেলা এবং নবগোপাল মিত্রের সাহচর্য তাঁর কিশোর মনে স্বাজাত্যবোধের বীজ বপন করেছিল।আর সেখানে আমরা দেখি-         রবীন্দ্র জীবনে পারিবারিক পটভূমি ও স্বদেশী আবহ। রবীন্দ্রনাথ লিখেছেন যে, তাঁদের পরিবারে স্বাজাত্যবোধের চর্চ...

জীবনস্মৃতি গ্ৰন্থ অবলম্বনে প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা সম্পর্কে রবীন্দ্রনাথের তিক্ত অভিজ্ঞতার বর্ণনা দাও।

জীবনস্মৃতি গ্ৰন্থ অবলম্বনে প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা সম্পর্কে রবীন্দ্রনাথের তিক্ত অভিজ্ঞতার বর্ণনা দাও। (স্কুল জীবনের স্মৃতি) (পশ্চিমবঙ্গ রাষ্ট্রীয় বিশ্ববিদ্যালয় পঞ্চম সেমিস্টার বাংলা মেজর DS11)        আলোচনার শুরুতেই আমরা বলে রাখি যে,রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের আত্মজীবনীমূলক গ্রন্থ 'জীবনস্মৃতি' কেবল তাঁর জীবনের ঘটনাক্রম নয়, বরং এক সংবেদনশীল কবির বেড়ে ওঠার মনস্তাত্ত্বিক দলিল। এই গ্রন্থের একটি বড় অংশ জুড়ে রয়েছে তাঁর স্কুল জীবনের স্মৃতি, যা কোনো মতেই সুখকর ছিল না।তাই রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের আত্মজীবনীমূলক গ্রন্থ 'জীবনস্মৃতি' পাঠ করলে বোঝা যায়, প্রথাগত বা প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা তাঁর কাছে ছিল এক প্রকার বন্দিশালা। তাঁর শৈশব স্মৃতির এক বড় অংশ জুড়ে রয়েছে স্কুলের প্রতি অনীহা এবং সেই যান্ত্রিক ব্যবস্থার প্রতি চরম তিক্ততা।আর সেখানে আমরা দেখি-         রবীন্দ্র জীবনে ঘর একটি বন্দিশালা ও স্কুলের পরিবেশ হলো আতঙ্কের স্থল।আর সেকারণে রবীন্দ্রনাথের কাছে স্কুল ছিল এক আতঙ্কের নাম। তিনি প্রথমে ওরিয়েন্টাল সেমিনারি এবং পরে নর্মাল স্কুল ও বেঙ্গল অ্যাকাডেমিতে পড়াশোনা করেন। নর্মাল স্কুলের অভি...
  হিমবাহের কাজ আলোচনা করো। আমরা জানি যে,হিমবাহ বা গ্লেসিয়ার প্রকৃতির এক বিশাল শক্তিশালী রূপান্তরকারী শক্তি। নদী যেমন জলস্রোতের মাধ্যমে ভূমিকে পরিবর্তন করে, হিমবাহ তার বিশাল ওজনের বরফের চলন বা গতির মাধ্যমে ভূপৃষ্ঠে ব্যাপক পরিবর্তন ঘটায়।আর সেখানে হিমবাহ প্রধানত তিনটি প্রক্রিয়ায় তার কাজ সম্পন্ন করে। আর সেই কাজগুলি হলো-           ক্ষয়কাজ, বহনকাজ এবং সঞ্চয়কাজ। ১)হিমবাহের ক্ষয়কাজঃ হিমবাহ তার চলনপথে মূলত দুটি পদ্ধতিতে ক্ষয় চালায়-  ক)উৎপাটন (Plucking): হিমবাহ যখন পাহাড়ের ঢাল বেয়ে নিচে নামে, তখন বরফ পাহাড়ের ফাটলের পাথরগুলোকে আলগা করে উপড়ে নিয়ে আসে।  খ)অঘর্ষ (Abrasion): হিমবাহের সাথে আটকে থাকা পাথরগুলো পাহাড়ের গায়ে ঘষা খেয়ে মসৃণ বা আঁচড় কাটা তৈরি করে। সৃষ্ট ভূমিরূপ:  * সার্ক বা করি (Cirque): পাহাড়ের গায়ে আরামকেদারার মতো দেখতে গর্ত।  * U-আকৃতির উপত্যকা: নদী যেমন V-আকৃতির উপত্যকা তৈরি করে, হিমবাহের ঘর্ষণে উপত্যকাগুলো ইংরেজি 'U' অক্ষরের মতো চওড়া ও গভীর হয়।  * ঝুলন্ত উপত্যকা (Hanging Valley): প্রধান হিমবাহের ওপর যখন ছোট ছোট উপশাখা হিমবাহ এসে পড়ে,...
 রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের 'জীবনস্মৃতি' গ্রন্থে তাঁর শৈশবের বদ্ধ জীবন থেকে প্রকৃতির উন্মুক্ত আঙিনায় উত্তরণের ইতিহাস এক অত্যন্ত সংবেদনশীল বিবর্তনের আলেখ্য। জোড়াসাঁকোর ঠাকুরবাড়ির অন্দরমহলে ভৃত্যদের শাসনে বন্দি জীবন থেকে বোলপুর ও হিমালয় যাত্রার মাধ্যমে কবির চেতনার যে প্রসার ঘটেছিল,  ১. অন্দরমহলের গণ্ডিবদ্ধ জীবন: ‘ভৃত্যরাজক শাসন’ রবীন্দ্রনাথের শৈশব কেটেছে জোড়াসাঁকোর বাড়ির অন্দরমহলে, যা ছিল তাঁর কাছে এক প্রকার নির্বাসন। ‘জীবনস্মৃতি’-তে তিনি একে ‘ভৃত্যরাজক শাসন’ বলে অভিহিত করেছেন। বাড়ির ভৃত্যদের কড়া শাসনে তাঁর জগত ছিল খড়খড়ির জানলার ভেতর দিয়ে বাইরের পুকুর আর বটগাছ দেখার মধ্যে সীমাবদ্ধ। এই বন্দিদশা তাঁর মনে এক প্রবল তৃষ্ণা তৈরি করেছিল—অজানাকে জানার এবং অদেখাকে দেখার। জানলার বাইরের সেই প্রকৃতিই ছিল তাঁর প্রথম কল্পনার জগৎ। ২. বোলপুর যাত্রা: মুক্তির প্রথম স্বাদ কৈশোরে বাবার (মহর্ষি দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর) সঙ্গে বোলপুর যাত্রা ছিল কবির জীবনে প্রথম শৃঙ্খলমুক্তির স্বাদ। খাঁচার পাখি যেমন বনানী দেখে উদ্বেলিত হয়, কিশোর রবির অবস্থাও ছিল ঠিক তেমন। বোলপুরের রুক্ষ লাল মাটি, খোয়াই আর উন্মুক্ত আকাশ তাঁকে এক অন...

জীবনস্মৃতি' কি নিছক আত্মজীবনী?আলোচনা করো।

'জীবনস্মৃতি' কি নিছক আত্মজীবনী? রবীন্দ্রনাথ নিজেই তাঁর উপক্রমণিকায় বলেছেন এটি তাঁর জীবনের ইতিহাস নয়, বরং তাঁর 'স্মৃতিচিত্র'। এই মন্তব্যটির তাৎপর্য বিশ্লেষণ করো। (পশ্চিমবঙ্গ রাষ্ট্রীয় বিশ্ববিদ্যালয় পঞ্চম সেমিস্টার বাংলা মেজর)            রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের 'জীবনস্মৃতি' গ্রন্থের প্রকৃতি বিশ্লেষণ একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। যেখানে কবি নিজেই তাঁর 'উপক্রমণিকা' অংশে স্পষ্ট করেছেন যে এটি কোনো প্রথাগত বা পারম্পরিক আত্মজীবনী নয়। আসলে এটি নিছক আত্মজীবনী বনাম স্মৃতিচিত্র গ্ৰন্থ।তবে সাধারণত আত্মজীবনী বলতে আমরা বুঝি- কোনো ব্যক্তির জন্ম থেকে বর্তমান সময় পর্যন্ত জীবনের গুরুত্বপূর্ণ ঘটনাবলির কালানুক্রমিক এবং তথ্যনিষ্ঠ বিবরণ। কিন্তু রবীন্দ্রনাথের 'জীবনস্মৃতি' সেই অর্থে তথ্যবহুল 'বায়োগ্রাফি' নয়। কবি উপক্রমণিকায় লিখেছেন- " জীবনস্মৃতি জীবনের ইতিহাস নহে-তাহা কোনো একটি বিশেষের জীবনবৃত্তান্ত নহে।"       রবীন্দ্রনাথের মতে, ইতিহাস গড়া হয় বাইরের ঘটনার ঘাত-প্রতিঘাতে, কিন্তু 'জীবনস্মৃতি' রচিত হয়েছে কবির অন্তরের রঙে। তিনি বাইরের ঘটনার চেয়ে ভ...

রবীন্দ্রনাথের কৈশোরের সাহিত্যচর্চায় জ্যোতিরিন্দ্রনাথ ও কাদম্বরী দেবীর ভূমিকা আলোচনা করো।

রবীন্দ্রনাথের কৈশোরের সাহিত্যচর্চায় জ্যোতিরিন্দ্রনাথ ও কাদম্বরী দেবীর ভূমিকা আলোচনা করো (পশ্চিমবঙ্গ রাষ্ট্রীয় বিশ্ববিদ্যালয়, পঞ্চম সেমিস্টার, বাংলা মেজর )            আলোচনার শুরুতেই আমরা বলে রাখি যে,রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের সাহিত্যিক জীবনের উন্মেষলগ্নে তাঁর পরিবারের দুই সদস্য-জ্যোতিরিন্দ্রনাথ ঠাকুর এবং কাদম্বরী দেবী-অনুঘটক হিসেবে এক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিলেন। একদিকে নতুনদাদা জ্যোতিরিন্দ্রনাথের বৌদ্ধিক ও শৈল্পিক সাহচর্য এবং অন্যদিকে নতুনবৌঠান কাদম্বরী দেবীর নিবিড় মমতাপূর্ণ প্রশ্রয় ও কঠোর সমালোচনা কিশোর রবিকে বিশ্বকবি হওয়ার পথে চালিত করেছিল।আর সেখানে- ১. জ্যোতিরিন্দ্রনাথ ঠাকুর: মুক্তির কারিগর ও মেন্টর        জ্যোতিরিন্দ্রনাথ ছিলেন রবীন্দ্রনাথের চেয়ে বারো বছরের বড় হলেও তাঁদের সম্পর্ক ছিল বন্ধুর মতো। মহর্ষি দেবেন্দ্রনাথের কঠোর শাসনের বাইরে জ্যোতিরিন্দ্রনাথই ছিলেন রবির প্রথম মুক্ত আকাশ। যেখানে- জ্যোতিরিন্দ্রনাথ যখন পিয়ানোতে নতুন নতুন সুর সৃষ্টি করতেন, কিশোর রবি তখন সেই সুরের ছাঁচে শব্দ বসাতেন। এটিই ছিল তাঁর গীতিনাট্য রচনার হাতেখড়ি। ‘জীবন...

ঈশ্বর পৃথিবী ভালোবাসা' গ্রন্থে মেসবাড়ির চালচিত্র ও শিবরামের জীবনদর্শন আলোচনা করো।

' ঈশ্বর পৃথিবী ভালোবাসা' গ্রন্থে মেসবাড়ির চালচিত্র ও শিবরামের জীবনদর্শন আলোচনা করো (পশ্চিমবঙ্গ রাষ্ট্রীয় বিশ্ববিদ্যালয় পঞ্চম সেমিস্টার বাংলা মেজর)।          আলোচনার শুরুতেই আমরা বলে রাখি যে,বাংলা সাহিত্যের প্রবাদপ্রতিম রম্যরচনাকার শিবরাম চক্রবর্তীর আত্মজৈবনিক উপন্যাস 'ঈশ্বর পৃথিবী ভালোবাসা',যেটি কোনো প্রথাগত আত্মজীবনী নয়। এখানে জীবনের ধারাবাহিক ঘটনাক্রমের চেয়ে প্রাধান্য পেয়েছে লেখকের নির্মোহ জীবনদর্শন। এই দর্শনের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে উত্তর কলকাতার মুক্তারাম বাবু স্ট্রিটের সেই বিখ্যাত মেসবাড়ি। শিবরামের কাছে এই মেসবাড়ি কেবল একটি আস্তানা ছিল না, বরং তা ছিল তাঁর জগত ও জীবনকে দেখার এক অনন্য দর্পণ।আর সেখানে আমারা দেখি-         •মেসবাড়ি ও নির্লিপ্তির তপোবন। শিবরামের জীবনে পারিবারিক বন্ধনের চেয়ে মেসবাড়ির জীবন ছিল অধিক প্রিয়। প্রথাগত সাংসারিক শৃঙ্খল থেকে মুক্ত হয়ে এক চিলতে ঘরে নিজের মতো করে বাঁচার যে স্বাদ তিনি পেয়েছিলেন, তা এই গ্রন্থেই পরিস্ফুট। মেসবাড়ির সেই স্যাঁতসেঁতে দেওয়াল, তক্তপোশ আর ভাঙা জানলা তাঁর কাছে ছিল রাজপ্রাসাদের চেয়েও দামি। তিনি...

জীবনস্মৃতি' অবলম্বনে রবীন্দ্রনাথের শৈশবে ভৃত্যদের অনুশাসনের যে চিত্র ফুটে উঠেছে তা আলোচনা করো ।

জীবনস্মৃতি' অবলম্বনে রবীন্দ্রনাথের শৈশবে ভৃত্যদের অনুশাসনের যে চিত্র ফুটে উঠেছে তা আলোচনা করো পশ্চিমবঙ্গ রাষ্ট্রীয় বিশ্ববিদ্যালয় পঞ্চম সেমিস্টার বাংলা মেজর DS11        আলোচনার শুরুতেই আমরা বলে রাখি যে,রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর তাঁর আত্মজীবনীমূলক গ্রন্থ জীবনস্মৃতি-তে শৈশব জীবনের নানা অভিজ্ঞতার কথা স্মৃতিচারণ করেছেন। আসলে তিনি কলকাতার জোড়াসাঁকো ঠাকুরবাড়ির অভিজাত পরিবেশে বেড়ে উঠলেও তাঁর শৈশব ছিল ভৃত্যদের কঠোর নিয়ন্ত্রণ ও শাসনের মধ্যে আবদ্ধ। এই অনুশাসনের ফলে তাঁর শৈশবজীবনে স্বাধীনতার অভাব, ভয়ভীতি এবং মানসিক একাকিত্বের চিত্র ফুটে ওঠে।আসলে-           রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের শৈশব ছিল ভৃত্যদের কঠোর নিয়ন্ত্রণে আবদ্ধ। ভৃত্যদের অনুশাসন, শাসনপ্রণালী ও তাদের কঠোর আচরণ শিশুমনে গভীর প্রভাব ফেলেছিল।আর সেখানে আমারা দেখি-          বাইরে খেলাধুলা বা অবাধভাবে প্রকৃতির সংস্পর্শে যাওয়ার সুযোগ কম ছিল।ঘরের মধ্যে সীমাবদ্ধ জীবনযাপন করতে হতো।শৈশব অনেকটা বন্দিজীবনের মতো মনে হতো।ভৃত্যদের আচরণে মাতৃসুলভ স্নেহের পরিবর্তে কর্তৃত্ব বেশি ছিল।শিশুদে...

উদাহরণসহ মিলের ব্যাতিরেকী পদ্ধতি ব্যাখ্যা ও বিচার করো।

উদাহরণসহ মিলের ব্যাতিরেকী পদ্ধতি ব্যাখ্যা ও বিচার করো।               • সংজ্ঞা ও মূলসূত্রঃ- যদি দুটি দৃষ্টান্তের মধ্যে একটি ছাড়া বাকি সব বিষয়ে মিল থাকে এবং কেবল একটি বিশেষ অবস্থার উপস্থিতিতে একটিতে কার্যটি ঘটে ও অন্যটিতে না ঘটে, তবে ওই বিশেষ অবস্থাটিই হবে ওই কার্যের কারণ বা কার্যকারণ সম্পর্কের অংশ। সহজ সূত্রঃ  • সদর্থক দৃষ্টান্ত-যেখানে ‘ক’ আছে, সেখানে ‘খ’ আছে।  • নঞর্থক দৃষ্টান্ত-যেখানে ‘ক’ নেই, সেখানে ‘খ’ও নেই।  • সিদ্ধান্ত- অতএব, ‘ক’ হলো ‘খ’-এর কারণ। • উদাহরণঃ  দুটি একই রকমের সুস্থ চারাগাছ নেওয়া হলো।              •প্রথম গাছটি (সদর্থক)। যেখানে আলো, বাতাস, জল এবং সার দেওয়া হলো। দেখা গেল গাছটি সতেজ হয়ে বেড়ে উঠছে।       • দ্বিতীয় গাছটি (নঞর্থক): বাতাস, জল এবং সার দেওয়া হলো, কিন্তু আলো দেওয়া হলো না। দেখা গেল গাছটি মরে গেল বা বৃদ্ধি পেল না।        • সিদ্ধান্তঃ সুতরাং, আলোই হলো গাছ সতেজ থাকার কারণ।      • ব্যাতিরব্যতিরেকী পদ্ধতির সুবিধা (বিচার - গুণ) ...

উদাহরণসহ মিলের সহপরিবর্তন পদ্ধতি ব্যাখ্যা ও বিচার করো।

উদাহরণসহ মিলের সহপরিবর্তন পদ্ধতি ব্যাখ্যা ও বিচার করো (Method of Concomitant Variation) • সংজ্ঞা ও সূত্র- জে. এস. মিলের মতে, যদি দুটি ঘটনার মধ্যে একটির পরিবর্তনের সাথে সাথে অন্যটিও পরিবর্তিত হয়, তবে ওই ঘটনা দুটির মধ্যে একটি কার্যকরণ সম্পর্ক থাকবে। মিলের ভাষায়-  "যে-ঘটনাটি কোনো বিশেষ প্রকারে পরিবর্তিত হলে অন্য একটি ঘটনাও যদি কোনো বিশেষ প্রকারে পরিবর্তিত হয়, তবে ওই প্রথমোক্ত ঘটনাটি শেষোক্ত ঘটনাটির কারণ অথবা কার্য অথবা কোনো কার্যকরণ সম্পর্কে আবদ্ধ।" • আকার বা সাংকেতিক উদাহরণ- সহপরিবর্তন পদ্ধতি দুই প্রকারের হতে পারে-  সরাসরি (Direct) এবং ব্যস্তানুপাতিক (Inverse)। • দৃষ্টান্ত ১ (বৃদ্ধি)    * পূর্বগামী ঘটনা-A1BC, অনুগামী ঘটনা-a_1bc     পূর্বগামী ঘটনা- A2BC, অনুগামী ঘটনা- a_2bc     সুতরাং, A হলো a-এর কারণ।  •  দৃষ্টান্ত ২ (হ্রাস):    • পূর্বগামী ঘটনা: A⬆️  BC, অনুগামী ঘটনা: a ⬆️bc     সুতরাং, A ও a কার্যকরণ সম্পর্কে যুক্ত। • বাস্তব উদাহরণ বাজারের চাহিদার সাথে দামের সম্পর্ক হলো সহপরিবর্তন পদ্ধতির একটি প্রকৃষ্ট উদাহরণ। ...
ভূগোল বা ভূতত্ত্বের ভাষায় কারি (Corrie) বা সার্ক (Cirque) হলো হিমবাহের ক্ষয়কার্যের ফলে সৃষ্ট একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিরূপ। নিচে এর বিস্তারিত আলোচনা করা হলো: কারি বা সার্ক কাকে বলে?         •উচ্চ পার্বত্য অঞ্চলে হিমবাহের অবঘর্ষ (Abrasion) ও উৎপাটন (Plucking) প্রক্রিয়ায় পাহাড়ের গায়ে যে বিশাল আরামকেদারার (Armchair) মতো গর্ত বা খাড়া দেয়ালযুক্ত বেসিন তৈরি হয়, তাকেই সার্ক বলা হয়।  * নামকরণ: ফরাসি ভাষায় একে বলা হয় 'সার্ক' (Cirque), স্কটল্যান্ডে একে বলা হয় 'কারি' (Corrie), জার্মানিতে 'কার' (Kar) এবং ওয়েলসে একে 'কুম' (Cwm) বলা হয়। উৎপত্তি (Origin) সার্ক বা কারি মূলত তিনটি পর্যায়ের মাধ্যমে গঠিত হয়: ১. তুষার জমে গর্ত সৃষ্টি: পাহাড়ের ঢালে কোনো প্রাকৃতিক খাঁজে তুষার জমতে শুরু করে। পর্যায়ক্রমিক বরফ গলা ও জমার ফলে (Freeze-thaw action) শিলা ফেটে গিয়ে গর্তটি বড় হতে থাকে। ২. হিমবাহের ক্ষয়কার্য: গর্তটি যখন হিমবাহে পূর্ণ হয়, তখন হিমবাহের ওজনে পাহাড়ের গায়ে উৎপাটন ও অবঘর্ষ প্রক্রিয়া শুরু হয়। এতে গর্তের পিছনের দেয়াল খাড়া হয়ে যায় এবং নিচের অংশ গভীর ও অবতল হয়ে পড়ে। ৩. আরামক...

ঈশ্বর পৃথিবী ভালোবাসা’: রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট ও মেদিনীপুরের দিনলিপি আলোচনা করো।

' ঈশ্বর পৃথিবী ভালোবাসা’ গ্ৰন্থের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট ও মেদিনীপুরের দিনলিপি আলোচনা করো (পশ্চিমবঙ্গ রাষ্ট্রীয় বিশ্ববিদ্যালয় পঞ্চম সেমিস্টার বাংলা মেজর)            আমরা জানি যে,শিবরাম চক্রবর্তী মূলত তাঁর হাস্যরসের জন্য বাঙালি পাঠকের কাছে জনপ্রিয় হলেও, তাঁর আত্মজীবনীমূলক গ্রন্থ ‘ ঈশ্বর পৃথিবী ভালোবাসা ’ একটি গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহাসিক ও রাজনৈতিক দলিল। এই গ্রন্থে ১৯২০-এর দশকের উত্তাল রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং মেদিনীপুরের দিনলিপি এক অনন্য মাত্রায় প্রতিফলিত হয়েছে।         রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট অসহযোগ ও সশস্ত্র বিপ্লবের পটভূমি ঈশ্বর পৃথিবী ভালোবাসা। যে গ্রন্থটির  রচনাকাল ও প্রেক্ষাপট মূলত বিংশ শতাব্দীর প্রথম দিকের উত্তাল সময়। মহাত্মা গান্ধীর নেতৃত্বে ভারতে তখন অসহযোগ আন্দোলন শুরু হয়েছে। শিবরাম এই আন্দোলনে সক্রিয়ভাবে জড়িয়ে পড়েছিলেন। গ্রন্থে দেখা যায়, তিনি দেশবন্ধু চিত্তরঞ্জন দাসের আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে ঘর ছেড়েছিলেন। সেই সময়ের রাজনীতি কেবল মিটিং-মিছিলে সীমাবদ্ধ ছিল না, বরং তা ছিল আদর্শবাদের লড়াই।আসলে-         অসহযোগ আন্দোলনের পাশাপ...

ঈশ্বর পৃথিবী ভালোবাসা' উপন্যাসটি প্রথাগত আত্মজীবনী হিসেবে সার্থকতা ও স্বকীয়তা আলোচনা।

প্রথাগত আত্মজীবনী হিসেবে 'ঈশ্বর পৃথিবী ভালোবাসা'র সার্থকতা ও স্বকীয়তা আলোচনা কর (পশ্চিমবঙ্গ রাষ্ট্রীয় বিশ্ববিদ্যালয় পঞ্চম সেমিস্টার বাংলা মেজর)। শিবরাম চক্রবর্তীর 'ঈশ্বর পৃথিবী ভালোবাসা' গ্রন্থটি একটি ব্যতিক্রমী উপন্যাস। যেখানে তিনি প্রথাগত আত্মজীবনীর কাঠামোকে ভেঙে এক স্বকীয় গদ্যশৈলী নির্মাণ করেছেন। যেটি বাংলা সাহিত্যে আত্মজীবনী বলতেই সাধারণত জীবনের ঘটনাক্রম, বংশপরিচয় এবং সাফল্যের খতিয়ান বোঝায়। কিন্তু শিবরাম চক্রবর্তীর 'ঈশ্বর পৃথিবী ভালোবাসা' এই প্রথাগত ছাঁচকে অস্বীকার করে এক অনন্য 'অ-জীবনী' হয়ে উঠেছে।আর সেখানে আমারা দেখি-  ১. ঘটনার চেয়ে অনুভূতির প্রাধান্য প্রথাগত আত্মজীবনীতে সাল-তারিখের গুরুত্ব থাকে অপরিসীম। কিন্তু শিবরামের কাছে সময় ছিল আপেক্ষিক। তিনি নিজের জীবনকে দেখেছেন একজন নির্লিপ্ত দর্শকের চোখে। তাঁর শৈশব, কৈশোর বা রাজনৈতিক জীবনের বর্ণনা থাকলেও সেখানে কোনো 'মহিমা' প্রচারের চেষ্টা নেই। বরং আছে একধরণের কৌতুকময় উদাসীনতা। তিনি নিজেই বলেছেন: > "স্মৃতি মানেই তো কিছুটা বিস্মৃতি আর কিছুটা কল্পনা। আমি যা মনে রেখেছি, তা হয়তো ঘটেনি; আর যা ...

ঈশ্বর পৃথিবী ভালবাসা গ্রন্থ অবলম্বনে শিবরামের চক্রবর্তীর গদ্যরীতি ও হাস্যরসের অন্তরালে জীবন দর্শনের পরিচয় দাও

শিবরামের গদ্যরীতি ও হাস্যরসের অন্তরালে জীবনদর্শন আলোচনা করো 'ঈশ্বর পৃথিবী ভালবাসা' গ্রন্থ অবলম্বনে (পশ্চিমবঙ্গ রাষ্ট্রীয় বিশ্ববিদ্যালয় পঞ্চম সেমিনার বাংলা মেজর)।        আলোচনা শুরুতেই আমরা বলে রাখি যে,শিবরাম মানেই শব্দের খেলা (Pun) এবং হিউমার । কিন্তু 'ঈশ্বর পৃথিবী ভালোবাসা' গ্রন্থে হাসির আড়ালে এক গভীর একাকীত্ব ও নির্মোহ জীবনদর্শন লুকিয়ে আছে। লেখকের এই বিশিষ্ট গদ্যশৈলী এবং তাঁর জীবনবোধের মেলবন্ধনে আযরা পাই-শিবরাম চক্রবর্তীর সাহিত্য মানেই আমাদের চোখে ভেসে ওঠে চঞ্চল হর্ষবর্ধন-গোবর্ধন কিংবা মেজদা। কিন্তু তাঁর এই হাস্যকৌতুক ও শব্দের কারুকার্যের অন্তরালে লুকিয়ে আছে এক নির্মোহ, উদাসীন এবং স্থিতপ্রজ্ঞ জীবনদর্শন। বিশেষত তাঁর আত্মজৈবনিক উপন্যাস 'ঈশ্বর পৃথিবী ভালোবাসা' গ্রন্থে এই দর্শনের পূর্ণ রূপটি ফুটে ওঠে।আর সেখান আমরা দেখি-         •  শিবরামের গদ্যরীতির প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো 'স্ন্যাপশট' বা ছোট ছোট বাক্যের প্রয়োগ এবং অবিশ্বাস্য শব্দক্রীড়া। তিনি শব্দের ধ্বনিগত মিল বা দ্ব্যর্থকতার মাধ্যমে পাঠককে হাসিয়ে ছাড়েন। একে ইংরেজিতে বলা হয় 'Pun'। যেমন-" হাঁপান...

নারীশিক্ষায় ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের অবদান আলোচনা করো।

নারীশিক্ষায় ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের অবদান আলোচনা করো (পশ্চিমবঙ্গ মধ্যশিক্ষা পর্ষদ দশম শ্রেণী প্রথম সেমিস্টার ইতিহাস)।             আলোচনার শুরুতেই আমরা বলে রাখি যে,উনিশ শতকের মধ্যভাগে বাংলার সমাজ যখন কুসংস্কার আর গোঁড়ামিতে আচ্ছন্ন ছিল, তখন 'বিদ্যার সাগর' ও 'দয়ার সাগর' ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর উপলব্ধি করেছিলেন যে, নারীজাতির উন্নতি ছাড়া দেশের সার্বিক উন্নতি সম্ভব নয়। তিনি বুঝেছিলেন, কেবল উচ্চবিত্ত নয়, সাধারণ ঘরের মেয়েদের কাছেও শিক্ষার আলো পৌঁছানো প্রয়োজন।       • বেথুন স্কুল ও বিদ্যাসাগরঃ ১৮৪৯ সালে জন এলিয়ট ড্রিঙ্কওয়াটার বেথুন যখন 'ক্যালকাটা ফিমেল স্কুল' (বর্তমানে বেথুন স্কুল) প্রতিষ্ঠা করেন, তখন বিদ্যাসাগর ছিলেন তার প্রধান সহযোগী। তিনি এই স্কুলের অবৈতনিক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন এবং স্কুলের জন্য ছাত্রী সংগ্রহ ও পাঠ্যক্রম তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেন।        বালিকা বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠাঃ বিদ্যাসাগর যখন দক্ষিণবঙ্গের স্কুল পরিদর্শক (School Inspector) ছিলেন, তখন তিনি ব্যক্তিগত উদ্যোগে গ্রামবাংলার আনাচে-কানাচে স্কুল তৈরির ক...

লীলা মজুমদার এর মাকু উপন্যাসের প্রথম অধ্যায়ের মুল বিষয়বস্ত বিস্তারিত আলোচনা।

লীলা মজুমদার এর মাকু উপন্যাসের প্রথম অধ্যায়ের মুল বিষয়বস্ত বিস্তারিত আলোচনা (পশ্চিমবঙ্গ মধ্যশিক্ষা পর্ষদ সপ্তম শ্রেণীর বাংলা দ্রুত গঠনের জন্য)।           আলোচনার শুরুতেই আমরা বলে রাখি যে,লীলা মজুমদারের শিশুসাহিত্যের এক অনন্য সৃষ্টি 'মাকু'।আর এই মাকু উপন্যাসের প্রথম অধ্যায়ে আমরা পরিচিত হই দুই বোন- সোনা ও টিয়া র  সাথে এবং তাদের রোমাঞ্চকর অভিযানের সূচনার সাথে।আর সেখানে তাদের অভিযানের প্রেক্ষাপট ও কালনিবাসে দেখি-         গল্পের শুরুতে দেখা যায় সোনা ও টিয়া তাদের পিসেমশাইয়ের বাড়ি 'কালনিবাসে' যাওয়ার জন্য তৈরি হচ্ছে। এই কালনিবাস জায়গাটি বনের ধারে অবস্থিত এবং সেখানে নানা অদ্ভুত ঘটনা ঘটে। তাদের মা তাদের সাবধানে থাকার পরামর্শ দেন।কারণ সেই বনে বুনো জানোয়ারের ভয় আছে।তবে তারা সাবধানে থাকার পরেও আমরা দেখি-       মাকুর রহস্যময় আবির্ভাব। আর সেখানে   প্রথম অধ্যায়ের সবচেয়ে বড় আকর্ষণ হলো মাকু নামক একটি যন্ত্রমানুষ বা রোবট।এই মাকুকে তৈরি করেছিল এক ঘড়িওয়ালা। মাকু দেখতে অনেকটা মানুষের মতো হলেও সে আসলে কলকব্জার তৈরি। তার অদ্ভুত সব ক্ষ...

আয় আরো বেঁধে বেঁধে থাকি কবিতার মূল বিষয়বস্তু।

কবি শঙ্খ ঘোযের ' আয় আরো বেঁধে বেঁধে থাকি' কবিতার মূল বিষয়বস্তু লেখো (পশ্চিমবঙ্গ মধ্যশিক্ষা পর্ষদ দশম শ্রেণী প্রথম সেমিস্টার)।         আলোচনার শুরুতেই আমরা বলে রাখি যে,কবি শঙ্খ ঘোষের 'আয় আরো বেঁধে বেঁধে থাকি' কবিতাটি বর্তমান অস্থির সময়ের এক অনন্য দলিল ।যেখানে কবি শঙ্খ ঘোষ এই কবিতায় আধুনিক সভ্যতার চরম সংকটময় মুহূর্তকে ফুটিয়ে তুলেছেন।সেখানে সাধারণ মানুষের জীবন আজ বিপন্ন।তারা কোনো নির্দিষ্ট রাজনৈতিক আদর্শ বা বড় কোনো আশ্রয়ের ছায়ায় নেই।আসলে ঐ মানুষগুলি এক অনিশ্চিত গন্তব্যের দিকে এগিয়ে চলেছে।আর সেখানে-            কবিতার শুরুতেই কবি এক ভয়াবহ পরিস্থিতির চিত্র এঁকেছেন।আর সেই চিত্রে আমরা দেখি-ডানে ধস, বামে গিরিখাদ আর মাথার ওপর বোমারু বিমানের আতঙ্ক।এসব মিলিয়ে সাধারণ মানুষের বেঁচে থাকাটাই একটা বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। মানুষের যাওয়ার মতো কোনো নিরাপদ জায়গা নেই।অর্থাৎ আজ সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা বিপন্ন অস্তিত্বের মুখে দাঁড় করিয়েছে। যারফলে তারা আজ আশ্রয়হীন। তাই কবিকে বলতে শুনি-  " আমাদের ডান পাশে ধস / আমাদের বাঁয়ে গিরিখাদ / আমাদের মাথায় ...

পঞ্চম সেমিস্টার বাংলা মেজর ডিএস১১ সাজেশন ২০২৫-২৬

    স্বামীজীকে যেরূপ দেখিয়াছি-ভগিনী নিবেদিতা।                    • DS11/ Unit1 ••স্বামীজীকে যেরূপ দেখিয়াছি গ্রন্থে নিবেদিতার দৃষ্টিতে সারদা দেবীর পরিচয় যেভাবে উপস্থাপিত হয়েছে তার বর্ণনা দাও। •• স্বামীজীর মহাপ্রস্থান সম্পর্কে আলোচনা করো।২০২২, ••• স্বামীজিকে যেরূপ দেখিয়েছি গ্রন্থে স্বামীজীর সঙ্গে নিবেদিতার প্রথম সাক্ষাতের যে ছবি ফুটে উঠেছে তা আলোচনা করো। • স্বামীজিকে যেরূপ দেখিয়েছি গ্রন্থে ভারতবর্ষের অতীত ও ভবিষ্যৎ বিষয়ে নিবেদিতার বক্তব্য বিবৃত করো। ২০২১ ••• স্বামীজীকে যেরূপ দেখিয়াছি গ্রন্থ অবলম্বনে স্বামীজীর মহাপ্রস্থান প্রসঙ্গটির পরিচয় দাও।২০ •••• স্বামীজীকে যেরূপ দেখিয়েছি গ্রন্থের পঞ্চম পরিচ্ছদে উত্তর ভারতের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য বর্ণনা প্রসঙ্গে স্বামীজীর যে গভীর স্বদেশপ্রেমের পরিচয় পাওয়া যায় তা নিজের ভাষায় লেখো। ২০২০ ••• স্বামীজীকে যেরূপ দেখিয়েছি গ্রন্থে স্বামীজীর উদার ধর্মশিক্ষা সম্পর্কে লেখিকার মতামত ব্যক্ত করো।১৯ • স্বামীজীকে যেরূপ দেখিয়াছি গ্রন্থের পঞ্চম পরিচ্ছদে উত্তর ভারতের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য বর্ণনা প্রসঙ্গ...