Skip to main content

 

মহাশ্বেতা দেবী'হাজার চুরাশির মা' থেকে পরীক্ষার সম্ভাব্য প্রশ্নপত্র(পশ্চিমবঙ্গ রাষ্ট্রীয় বিশ্ববিদ্যালয়, ষষ্ঠ সেমিস্টার বাংলা মাইনর)।

   •চরিত্র বিশ্লেষণমূলক প্রশ্ন

      •সুজাতা চরিত্রঃ 'হাজার চুরাশির মা' উপন্যাসের কেন্দ্রীয় চরিত্র হিসেবে সুজাতার বিবর্তন আলোচনা করো। একজন সাধারণ ঘরোয়া মা থেকে কীভাবে তিনি এক বিপ্লবী সত্তার জননী হয়ে উঠলেন?

    •ব্রতী চরিত্রঃ ব্রতী এই উপন্যাসে অনুপস্থিত থেকেও কীভাবে সমস্ত কাহিনীর চালিকাশক্তি হয়ে উঠেছে?

    • বিপা বা দিব্যনাথঃ সুজাতার স্বামী দিব্যনাথের মধ্যবিত্ত মানসিকতা বা ব্রতীর প্রেমিকা বিপার আদর্শিক অবস্থান নিয়ে ছোট প্রশ্ন হতে পারে।

 •মহাশ্বেতা হাজার চুরাশির মা উপন্যাসের নামকরণের সার্থকতা ও বিষয়বস্তু

   •নামকরণের সার্থকতাঃ উপন্যাসের নাম 'হাজার চুরাশির মা' কেন রাখা হয়েছে? ১০৮৪ সংখ্যাটির তাৎপর্য কী?

  •মায়ের উপলব্ধি: "ব্রতী কোনো অন্যায় করেনি"—সুজাতার এই উপলব্ধির মধ্য দিয়ে লেখক কী বোঝাতে চেয়েছেন?

  • রাজনৈতিক ও সামাজিক প্রেক্ষাপটঃ সত্তরের দশকের নকশাল আন্দোলন কীভাবে একটি উচ্চবিত্ত পরিবারের ভিত নাড়িয়ে দিয়েছিল, তা উপন্যাসের আলোকে লেখো।

       •গুরুত্বপূর্ণ উদ্ধৃতিভিত্তিক প্রশ্ন (ব্যাখ্যামূলক)•

•"ব্রতী মরে গিয়েও বেঁচে আছে, আর আমরা যারা বেঁচে আছি তারা আসলে মৃত।"

 • উদ্ধৃতি ১: "পঁচিশ বছর আগে ব্রতী জন্মেছিল, আর দু-বছর আগে ব্রতী মরল।"—এই দুই সময়ের মাঝখানের সুজাতার মানসিক দ্বন্দ্ব ব্যাখ্যা করো।

 • উদ্ধৃতি ২: "ওরা ব্রতীকে মরে যেতে দেয়নি, ওকে মেরে ফেলেছে।"—কারা কেন ব্রতীকে হত্যা করেছিল?

শিল্পমূল্য ও আঙ্গিক•

 * লিখনশৈলী: মহাশ্বেতা দেবীর ছোট ছোট বাক্য এবং তীক্ষ্ণ শ্লেষ কীভাবে উপন্যাসটিকে সার্থক করে তুলেছে?

 * প্রতিবাদ: এই উপন্যাসটি কি কেবল একটি শোকাতুর মায়ের কাহিনী, নাকি এটি রাষ্ট্রব্যবস্থার বিরুদ্ধে এক নীরব প্রতিবাদ?

পরীক্ষার জন্য কিছু জরুরি টিপস:

 * সত্তরের দশক: উত্তর লেখার সময় তৎকালীন কলকাতার রাজনৈতিক অস্থিরতার কথা মাথায় রাখবেন।

 * সুজাতার বিবর্তন: সুজাতার ব্যক্তিজীবন বনাম সামাজিক জীবনের সংঘাত পরিষ্কারভাবে ফুটিয়ে তুলবেন।

 * শব্দ চয়ন: মহাশ্বেতা দেবীর উপন্যাসে ব্যবহৃত রূঢ় বাস্তববাদী শব্দগুলো উত্তরের ভেতরে ব্যবহার করলে নম্বর ভালো পাওয়া যায়।

আপনি কি এই উপন্যাসের নির্দিষ্ট কোনো চরিত্রের বিস্তারিত নোট বা কোনো বিশেষ অনুচ্ছেদের ব্যাখ্যা জানতে চান? আমি সাহায্য করতে পারি।


মহাশ্বেতা দেবীর 'হাজার চুরাশির মা' উপন্যাসে চরিত্রগুলোকে প্রধানত দুটি শিবিরে ভাগ করা যায়—একদিকে উচ্চবিত্ত শোষক ও সুবিধাবাদী সমাজ (চ্যাটার্জি পরিবার), অন্যদিকে আদর্শবাদী বিপ্লবী তরুণ প্রজন্ম।

নিচে উপন্যাসের প্রধান ও পার্শ্বচরিত্রগুলোর তালিকা দেওয়া হলো:

১. কেন্দ্রীয় চরিত্র

 * সুজাতা চ্যাটার্জি: উপন্যাসের নামচরিত্র বা 'হাজার চুরাশির মা'। ব্রতীর মা, যিনি ছেলের মৃত্যুর দুই বছর পর তার আদর্শ ও জীবনকে নতুন করে আবিষ্কার করেন।

 * ব্রতী চ্যাটার্জি: সুজাতার কনিষ্ঠ ও প্রিয় সন্তান। মেধাবী ছাত্র যে নকশাল আন্দোলনে যুক্ত হয়ে পুলিশের গুলিতে নিহত হয় (তার লাশের নম্বর ছিল ১০৮৪)।

২. চ্যাটার্জি পরিবারের সদস্য (বিপক্ষ শক্তি)

 * দিব্যনাথ চ্যাটার্জি: সুজাতার স্বামী। অত্যন্ত ভোগবাদী, নীতিহীন এবং আভিজাত্যের মোহে অন্ধ। ছেলের আদর্শের চেয়ে পরিবারের 'সম্মান' তার কাছে বড়।

 * জ্যোতি: সুজাতার বড় ছেলে। সেও তার বাবার মতোই সুবিধাবাদী এবং প্রতিষ্ঠিত সমাজব্যবস্থার অংশ।

 * নীপা: সুজাতার বড় মেয়ে। সে তার নিজের বৈবাহিক জীবন ও উচ্চবিত্ত আমোদ-প্রমোদ নিয়ে ব্যস্ত।

 * টনি: নীপার স্বামী (সুজাতার জামাই)।

 * সোমনাথ: সুজাতার মেজ ছেলে। সে ভোগবিলাসে মত্ত এবং ব্রতীর আদর্শের সম্পূর্ণ বিরোধী।

 * লতিকা: সোমনাথের স্ত্রী।

৩. ব্রতীর আদর্শিক জগতের চরিত্র

 * নন্দিনী: ব্রতীর প্রেমিকা এবং সহযোদ্ধা। আন্দোলনের কারণে সে কারাবরণ করে এবং অমানুষিক অত্যাচারের শিকার হয় (তার চোখ নষ্ট হয়ে যায়)। সে সুজাতাকে ব্রতীর প্রকৃত সত্তা বুঝতে সাহায্য করে।

 * সোমু, লুকু, বিজিত ও পার্থ: এরা ব্রতীর বন্ধু ও সহযোদ্ধা, যারা ব্রতীর সাথেই পুলিশের হাতে নিহত হয়েছিল।

৪. নিম্নবিত্ত ও অন্যান্য চরিত্র

 * সোমুর মা: সোমুর মা এবং সুজাতা—দুজনেই সন্তানহারা। তাদের কথোপকথনের মাধ্যমে সুজাতা সাধারণ মানুষের লড়াইয়ের কথা জানতে পারেন।

 * কাপুর সাহেব: সুজাতার অফিসের বস বা সহকর্মী।

 * হীরা সিং: পুলিশের ইনফরমার বা নিচুতলার কর্মচারী।

 * সরোজ পাল: পুলিশের উচ্চপদস্থ অফিসার, যিনি ব্রতীদের মতো বিপ্লবীদের দমনে অত্যন্ত নৃশংস ভূমিকা পালন করেছিলেন।

একটি জরুরি টিপস:

পরীক্ষায় প্রশ্ন এলে মনে রাখবেন, সুজাতা এবং ব্রতী হলো উপন্যাসের মূল স্তম্ভ। বাকি চরিত্রগুলো হয় সুজাতার একাকীত্ব বোঝাতে (দিব্যনাথ, জ্যোতি), না হয় ব্রতীর বিপ্লবকে ফুটিয়ে তুলতে (নন্দিনী, সোমুর মা) ব্যবহৃত হয়েছে।

আপনি কি এই চরিত্রগুলোর মধ্য থেকে সুজাতা বা নন্দিনীর চারিত্রিক বৈশিষ্ট্যের কোনো নোট তৈরি করতে চান?





Comments

Popular posts from this blog

দর্শন প্রথম সেমিস্টার সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন উত্তর।

দর্শন প্রথম সেমিস্টার সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর (পশ্চিমবঙ্গ রাষ্ট্রীয় বিশ্ববিদ্যালয়, মাইনর সিলেবাস)  ১)চার্বাক মতে ভূত কয়টি ও কি কি? উত্তরঃচার্বাক মতে ভূত চারটি- ক্ষিতি, অপ্ , তেজ ও মরুৎ ২) স্বভাববাদ কী? উত্তরঃ চার্বাক জড়বাদের ভিত্তি হল স্বভাববাদ। যে মতবাদ অনুসারে স্বভাব থেকেই ভূত সৃষ্টি, আবার স্বভাব থেকেই বিচ্ছেদ। যার জন্য ঈশ্বরকে স্বীকার করা প্রয়োজন নেই। ৩) অব্যাপ্যদেশ কথাটির অর্থ লেখো। উত্তরঃ অব্যাপ্যদেশ বলতে বোঝায়- অশাব্দ অর্থাৎ যাকে শব্দের দ্বারা প্রকাশ করা যায় না। ৫) জ্ঞান লক্ষণ প্রত্যক্ষ কাকে বলে?  কোন একটি ইন্দ্রিয়ের মাধ্যমে তার নিজের বিষয়ীভূত গুণ ছাড়াও যদি অপর একটি ইন্দ্রিয়ের বিষয়ীভূত গুণকে প্রত্যক্ষ করার হয়, তাহলে সেই প্রত্যক্ষকে জ্ঞানলক্ষণ প্রত্যক্ষ বলা হয়। ৬) ন্যায় মতে প্রমাণের প্রকার  উত্তরঃ ন্যায় মতে প্রমাণ চার প্রকার। প্রত্যক্ষ, অনুমান, উপমান এবং শাব্দ। ৭) সন্নিকর্ষ কাকে বলে? উত্তরঃ ন্যায় মতে ইন্দ্রিয় ও কোন বাস্তব পদার্থের মধ্যে একপ্রকার বিশেষ সম্পর্ক ঘটলে তবেই আমাদের একটি বস্তুর প্রত্যক্ষজ্ঞান ।আর ঐ বিশেষ বিশেষ সম্পর্কের পারিভাষিক নাম হলো সন...

ব্রিটিশ(3rd.Sem) পার্লামেন্টের সার্বভৌমত্ব

ব্রিটিশ পার্লামেন্টের সার্বভৌমত্ব আলোচনা করো (পশ্চিমবঙ্গ রাষ্ট্রীয় বিশ্ববিদ্যালয়, তৃতীয় সেমিস্টার, রাষ্ট্রবিজ্ঞান মাইনর সিলেবাস)।         আমরা জানি যে,ব্রিটেনের সংবিধান অলিখিত বলে বিভিন্ন ঐতিহাসিক দলিল, শাসনতান্ত্রিক রীতিনীতি, পার্লামেন্ট প্রণীত আইন প্রভৃতির মাধ্যমে পার্লামেন্টের সার্বভৌমত্ব অর্জিত হয়েছে। ব্রিটেনের পার্লামেন্ট আইনানুগ সার্বভৌমত্ব অর্জন করেছে, রাজনৈতিক সার্বভৌমত্ব নয়। আর সেখানে ব্রিটিশ পার্লামেন্টকে আইনানুগ সার্বভৌমত্ব বলা হয়, কারণ-       যেকোনো বিষয়ে পার্লামেন্ট আইন প্রণনয়নের অধিকারী। তবে ব্রিটিশ পার্লামেন্ট এককেন্দ্রিক রাষ্ট্র হওয়ায় পার্লামেন্টে কোন আইন প্রণয়নের সময় প্রতিদ্বন্দ্বিতা হয় না। আসলে সেখানে কমন্সসভা তথা নিম্নকক্ষের সার্বভৌমত্বকেই বলা হয় পার্লামেন্টের সার্বভৌমত্ব।     ••ব্রিটিশ পার্লামেন্টকে সার্বভৌমত্ব বলার কারণ- ১) পার্লামেন্টের ওপর আইনগত কোনরূপ বাধানিষেধ আরোপ করা যায় না। ২) পার্লামেন্ট প্রণীত আইনের বৈধতার ব্যাপারে আদালত কোন প্রশ্ন তুলতে পারেনা। ব্রিটেনের আদালত পার্লামেন্ট প্রণীত আইনের ওপর বিচার বি...

ইতিহাস (3rd Semester) সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর।

 তৃতীয় সেমিস্টার ইতিহাস মাইনর সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর (পশ্চিমবঙ্গ রাষ্ট্রীয় বিশ্ববিদ্যালয়, তৃতীয় সেমিস্টার ইতিহাস মাইনর)। ১)বন্দেগান-ই-চাহালগানি বলতে কী বোঝায়? •উত্তরঃবন্দেগান-ই-চাহালগান বলতে চল্লিশ জন তুর্কি ও অ-তুর্কি দাসদের সমন্বয়ে গঠিত একটি বাহিনীকে বোঝায়। এই বাহিনীকে ডাল চালিশা বা তুরকান-ই- চাহালগানি নামে ডাকা হতো। ২)আমির খসরু কে ছিলেন? •উত্তরঃ আমির খসরু ছিলেন প্রখ্যাত সুফি সাধক বা আরেফ নিজামউদ্দিন আওলিয়ার ছাত্র এবং অন্যতম প্রধান খলিফা। যাঁকে 'ভারতের তোতা' উপাধি দেওয়া হয়েছিল। ৩) মহরানা প্রতাপ কে ছিলেন?  •উত্তরঃ মেবারের শিশোদিয়া রাজবংশের একজন হিন্দু রাজপুত রাজা ছিলেন মহারানা প্রতাপ সিং। যিনি রাজপুতদের বীরত্ব ও দৃঢ় সংকল্পের প্রতীক। বহু বছর ধরে তিনি মুঘল সম্রাট আকবরের সঙ্গে লড়াই করেন। ৪) জায়গীরদারী সংকট কী? •উত্তরঃ জায়গিরদারী সংকট ছিল মোগল সাম্রাজ্যের একটি অর্থনৈতিক সংকট। এই সংকটে জমি বা জায়গিরের অভাব দেখা দিয়েছিল। যার ফলে প্রশাসনিক খরচ মেটানো এবং যুদ্ধের খরচ বহন করা সম্ভব হতো না। ৫) দাক্ষিণাত্য ক্ষত কী? •উত্তরঃ দাক্ষিণাত্য ক্ষত বলতে ঔরঙ্গজেবের দাক্ষিণাত্য নীত...