ভারতীয় রাজনীতিতে গণমাধ্যমের ভূমিকা আলোচনা কর (পশ্চিমবঙ্গ রাষ্ট্রীয় বিশ্ববিদ্যালয় পঞ্চম সেমিস্টার রাষ্ট্রবিজ্ঞান মাইনর)।
আলোচনা শুরুতেই আমরা বলে রাখি যে,ভারতীয় রাজনীতিতে গণমাধ্যমের ভূমিকা অত্যন্ত গভীর এবং বহুমুখী। আসলে গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় গণমাধ্যমকে 'চতুর্থ স্তম্ভ' হিসেবে গণ্য করা হয়। ভারতের মতো বিশাল বৈচিত্র্যময় দেশে জনমত গঠন, সরকারের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা এবং রাজনৈতিক সচেতনতা বৃদ্ধিতে গণমাধ্যম এক অপরিহার্য শক্তি।আর এই প্রেক্ষিতে ভারতীয় রাজনীতিতে গণমাধ্যমের ভূমিকার প্রধান দিকগুলো হলো-
১) জনমত গঠন ও সচেতনতা বৃদ্ধিঃগণমাধ্যম জটিল রাজনৈতিক বিষয়গুলোকে সহজভাবে সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে দেয়। নির্বাচনের সময় বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের ইশতেহার, প্রতিশ্রুতি এবং অতীত কর্মকাণ্ডের চুলচেরা বিশ্লেষণ করে ভোটারদের সিদ্ধান্ত নিতে সাহায্য করে। টক-শো, সম্পাদকীয় এবং গ্রাউন্ড রিপোর্টিংয়ের মাধ্যমে নাগরিকরা দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি সম্পর্কে অবগত হতে পারেন।
২) সরকারের নজরদারি ও জবাবদিহিতাঃগণতন্ত্রে সংবাদপত্রের অন্যতম প্রধান কাজ হলো সরকারের কাজের ওপর নজর রাখা। সরকারের কোনো নীতি যদি জনস্বার্থ বিরোধী হয়, তবে সংবাদমাধ্যম তা জনসমক্ষে নিয়ে আসে। বিভিন্ন সময়ে টু-জি স্পেকট্রাম, কয়লা ব্লক বণ্টন বা সাম্প্রতিককালের বিভিন্ন দুর্নীতির খবর গণমাধ্যমের মাধ্যমেই সামনে এসেছে, যা সরকারকে দায়বদ্ধ করতে বাধ্য করেছে।
৩)রাজনৈতিক দলের প্রচারের হাতিয়ারঃবর্তমানে ভারতের রাজনীতিতে সোশ্যাল মিডিয়া (Social Media) একটি গেম-চেঞ্জার হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। ফেসবুক, এক্স (টুইটার) এবং হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে রাজনৈতিক দলগুলো সরাসরি ভোটারদের সাথে যোগাযোগ করে। আইটি সেলের মাধ্যমে রাজনৈতিক বয়ান (Narrative) তৈরি করা এবং প্রতিপক্ষের সমালোচনা করা এখন নিয়মিত কৌশলে পরিণত হয়েছে।
৪)নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় প্রভাবঃভারতে নির্বাচনের সময় গণমাধ্যমের ভূমিকা ব্যাপক। 'এক্সিট পোল' বা বুথ ফেরত সমীক্ষা ভোটারদের মনস্তত্ত্বে প্রভাব ফেলে। এছাড়া, টেলিভিশনের বিতর্ক সভাগুলো রাজনৈতিক নেতাদের ব্যক্তিত্ব ও বাগ্মিতা তুলে ধরে, যা অনেক সময় তরুণ ভোটারদের আকৃষ্ট করে।তবে বর্তমান সময়কালে-
সীমাবদ্ধতা ও বর্তমান চ্যালেঞ্জসমূহ ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের কিছু নেতিবাচক দিকও সমালোচিত হচ্ছে। সেখানে আমরা দেখি -
পেইড নিউজ অর্থের বিনিময়ে কোনো নির্দিষ্ট প্রার্থীর পক্ষে সংবাদ পরিবেশন করা গণতান্ত্রিক কাঠামোর জন্য বড় হুমকি।পক্ষপাতদুষ্ট সাংবাদিকতায় অসময় গণমাধ্যম কোনো নির্দিষ্ট রাজনৈতিক মতাদর্শের প্রতি ঝুঁকে পড়ে, যা নিরপেক্ষতা নষ্ট করে। একে অনেক সময় 'গোদি মিডিয়া' বা কর্পোরেট নিয়ন্ত্রিত সংবাদমাধ্যম বলে কটাক্ষ করা হয়।এছাড়াও-
ফেক নিউজ সোশ্যাল মিডিয়ায় ভুল তথ্য বা প্রোপাগান্ডা ছড়িয়ে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নষ্ট করা বা রাজনৈতিক ফায়দা তোলার প্রবণতা বাড়ছে টিআরপি র জন্য সংবাদের গুণমানের চেয়ে উত্তেজনাকর খবর পরিবেশন করে দর্শক টানার প্রবণতা গঠনমূলক আলোচনাকে বাধাগ্রস্ত করছে।
পরিশেষে আমরা বলতে পারি যে, ভারতীয় রাজনীতিতে গণমাধ্যম একটি দ্বি-ধারী তলোয়ারের মতো। এটি যেমন একদিকে জনস্বার্থ রক্ষা করে এবং অন্ধকার দূর করে আলোকবর্তিকা হিসেবে কাজ করে, অন্যদিকে ভুল পথে পরিচালিত হলে তা গণতন্ত্রের মূল ভিত্তিকেই দুর্বল করে দিতে পারে। একটি সুস্থ ও সবল গণতন্ত্রের জন্য সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা বজায় রাখার পাশাপাশি সাংবাদিকদের নৈতিকতা এবং নিরপেক্ষতা বজায় রাখা একান্ত প্রয়োজন।
ঠিক এর অসংখ্য বিষয়ভিত্তিক আলোচনার ব্যাখ্যা সাজেশন এবং টিউটোরিয়াল ক্লাসের ভিডিও পেতে ভিজিট করুন আমাদের ওয়েবসাইট এবং SHESHER KABITA SUNDARBON YouTube channel SAMARESH Sir
Comments
Post a Comment