'আফ্রিকা' কবিতার মূল বিষয়বস্তু
আলোচনার শুরুতেই আমরা বলে রাখি যে,রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘পত্রপুট’ কাব্যগ্রন্থের অন্তর্গত একটি অন্যতম কবিতা ‘আফ্রিকা’। যে কবিতাটিতে সাম্রাজ্যবাদী শক্তির নগ্ন রূপ তুলে ধরা হয়েছে।আবার সেইসাথে নিপীড়িত মহাদেশ আফ্রিকার প্রতি কবির গভীর সহমর্মিতা প্রকাশ পেয়েছে।আসলে ১৯৩৭ সালে অবিনাশচন্দ্র খাশনবিশ-এর অনুরোধে কবি এই কবিতাটি রচনা করেন।আর সেখানে আমরা দেখতে পাই-
আফ্রিকার সৃষ্টি ও নিঃসঙ্গতা।কবিতার শুরুতে কবি আফ্রিকার ভৌগোলিক সৃষ্টির ইতিহাস বর্ণনা করেছেন। যখন পৃথিবী নতুন, তখন রুদ্র সমুদ্রের বাহু প্রাচী ধরিত্রীর বুক থেকে আফ্রিকাকে ছিনিয়ে নিয়ে গিয়েছিল।যারফলে আফ্রিকা বিশ্ব থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে এক রহস্যময় ছায়ার আবরণে ঢাকা পড়ে যায়।তাই কবিকে বলতে শুনি-
"ছিনিয়ে নিয়ে গেল তোমাকে, আফ্রিকা,/ কৃপণ আলোর অন্তঃপুরে।"
যার ফলে আফ্রিকা দীর্ঘকাল নিভৃত অবসরে প্রকৃতির রহস্য সংগ্রহ করে আত্মরক্ষা করেছে।যেখানে বনস্পতির ছায়ায় ঘেরা এই মহাদেশ বিদ্রূপের ছলে নিজেকে রক্ষা করেছে বাইরের জগত থেকে।আসলে সে চিনেছে জল-স্থল-আকাশের সংকেত এবং জাদু মন্ত্র দিয়ে প্রকৃতির উগ্রতাকে জয় করতে চেয়েছে।তাই কবি বলেন-
"বিদ্রূপ করছিলে ভীষণকে/ বিরূপের ছদ্মবেশে"
কবিতার দ্বিতীয় অংশে কবি ইউরোপীয় সাম্রাজ্যবাদী শক্তির নিষ্ঠুর অত্যাচারের চিত্র এঁকেছেন।যেখানে আফ্রিকার সম্পদ লুণ্ঠন করতে লোহার হাতকড়া নিয়ে হাজির হলো তথাকথিত 'সভ্য' মানুষের দল।যারা আফ্রিকার সরল মানুষকে দাসে পরিণত করল। শুধু তাই নয়,তাদের বর্বরতা আফ্রিকার বনস্পতির অন্ধকারের থেকেও বেশি ভয়ঙ্কর।
"এল ওরা লোহার হাতকড়া নিয়ে/ নখ যাদের তীক্ষ্ণ তোমার নেকড়ের চেয়ে"
সাম্রাজ্যবাদীদের অত্যাচারে আফ্রিকার মাটি রক্তে ও চোখের জলে কর্দমাক্ত হয়ে উঠল। ঠিক সেই সময়ে ইউরোপে মন্দিরে পুজোর ঘণ্টা বাজছিল, শিশুরা মায়ের কোলে খেলছিল। অর্থাৎ, একদিকে আফ্রিকার বুকে অমানবিক ধ্বংসলীলা চলছিল, অন্যদিকে তথাকথিত সভ্য জগত এই নৃশংসতা দেখেও উদাসীন ছিল।তাই কবি বলেন-
"সভ্যের বর্বর লোভ/ নগ্ন করল আপন নির্লজ্জ অমানুষতা।"
কবিতার শেষ পর্বে কবি আসন্ন সন্ধ্যার অশুভ সংকেতের কথা বলেছেন। যখন সাম্রাজ্যবাদী শক্তি ক্রমশ ধবংসের দিকে এগিয়ে চলেছে, তখন কবি 'মানহারা মানবী' অর্থাৎ অপমানিত আফ্রিকার কাছে দাঁড়াতে বলেছেন। কারণ হিংস্রতার যুগে একমাত্র ক্ষমাই হতে পারে শেষ পুণ্যবাণী। তাই কবিকে বলতে শুনি-
"দাঁড়াও ওই মানহারা মানবীর দ্বারে,/ বলো, ‘ক্ষমা করো’—"
পরিশেষে আমরা বলতে পারি যে,রবীন্দ্রনাথ এই আফ্রিকা কবিতায় সভ্যতার মুখোশধারী শ্বেতাঙ্গদের বর্বরতাকে ধিক্কার জানিয়েছেন। আর আফ্রিকার এই পরিস্থিতি সময়ে কবি লাঞ্ছিত আফ্রিকার পাশে দাঁড়িয়েছেন।আসলে কবিতাটি বিশ্বমানবতা ও শৃঙ্খলিত জাতির মুক্তির এক জোরালো আহ্বান।
আপনার চ্যানেলের (SHESHER KABITA SUNDARBON) জন্য টিপস:
এই ভিডিওটি যখন করবেন, তখন ব্যাকগ্রাউন্ডে আফ্রিকার আদিম বনভূমি এবং সাম্রাজ্যবাদের কিছু ছবি ব্যবহার করতে পারেন। থাম্বনেইলে "মাধ্যমিক ২০২৬: আফ্রিকা কবিতার সেরা নোটস" লিখে একটি আকর্ষণীয় ছবি দিলে পড়ুয়ারা বেশি ক্লিক করবে।
আপনি কি এই কবিতার ওপর কিছু গুরুত্বপূর্ণ ৩ নম্বর বা ছোট প্রশ্ন (MCQ/VSAQ) পেতে চান?
Comments
Post a Comment