ব্যাপক অর্থে শিক্ষার ধারণাটি লেখো।শিক্ষার প্রকৃতি ও পরিধি আলোচনা করো। প্রথম সেমিস্টার এডুকেশন মাইনর সিলেবাস পশ্চিমবঙ্গ রাষ্ট্রীয় বিশ্ববিদ্যালয়।
ক) ব্যাপক অর্থে শিক্ষার ধারণা (Concept of Education in Broader Sense)
আমরা জানি যে,সংকীর্ণ অর্থে শিক্ষা কেবল বিদ্যালয় বা পুঁথিগত বিদ্যার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকলেও, ব্যাপক অর্থে শিক্ষা হলো একটি জীবনব্যাপী প্রক্রিয়া (Lifelong Process)। জন্ম থেকে মৃত্যু পর্যন্ত মানুষ পরিবেশের সঙ্গে সার্থক অভিযোজনের জন্য যে নিরন্তর অভিজ্ঞতা অর্জন করে, তাকেই ব্যাপক অর্থে শিক্ষা বলা হয়।যেখানে
শিক্ষা হলো একটি নিরবচ্ছিন্ন প্রক্রিয়া। আসলে এটি মায়ের গর্ভ থেকে শুরু হয় এবং শ্মশানে বা কবরে গিয়ে শেষ হয়।সেখানে অভিজ্ঞতার পুনর্গঠন হয়।শিক্ষাবিদ জন ডিউই-র মতে- "শিক্ষা হলো অভিজ্ঞতার নিরন্তর পুনর্গঠন"।
আসলে শিক্ষা মানবজীবনে সর্বাঙ্গীণ বিকাশ ঘটায়।শিক্ষার্থীর কেবল বৌদ্ধিক নয়, বরং শারীরিক, মানসিক, সামাজিক ও প্রাক্ষোভিক—সব দিকের বিকাশই হলো ব্যাপক অর্থে শিক্ষা।মোট কথা হলো-পরিবর্তিত পরিবেশের সঙ্গে নিজেকে মানিয়ে নেওয়ার ক্ষমতাই হলো শিক্ষা।
•শিক্ষার প্রকৃতি (Nature of Education)•
আমরা শিক্ষার প্রকৃতি বিশ্লেষণ করলে নিম্নলিখিত বৈশিষ্ট্যগুলি পাই। আর সেই বৈশিষ্ট্য গুলি হলো-
• শিক্ষা একটি জীবনব্যাপী প্রক্রিয়া। যেখানে শিক্ষা কোনো নির্দিষ্ট বয়সে শেষ হয়ে যায় না। এটি একটি প্রবহমান নদীর মতো। আসলে এটি মানব জীবনে শেষ অধ্যায় পর্যন্ত চলতে থাকে। আবার-
•শিক্ষা হলো দ্বিমেরু ও ত্রিমেরু প্রক্রিয়া। জন অ্যাডামস শিক্ষাকে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীর মধ্যে একটি দ্বিমেরু প্রক্রিয়া বলেছেন। অন্যদিকে, জন ডিউই সমাজকে অন্তর্ভুক্ত করে একে ত্রিমাত্রিক প্রক্রিয়া বলেছেন। শুধু তাই নয়-
• শিক্ষা হলো আচরণ পরিবর্তনের প্রক্রিয়া। আসলে শিক্ষার মাধ্যমে ব্যক্তির অপাঙ্ক্তেয় আচরণ সংশোধিত হয় এবং কাঙ্ক্ষিত আচরণ গড়ে ওঠে। আর সেখানে-
• শিক্ষা একটি সামাজিক প্রক্রিয়া।সমাজ ছাড়া শিক্ষার অস্তিত্ব কল্পনা করা যায় না। সমাজই শিক্ষার লক্ষ্য ও আদর্শ নির্ধারণ করে।আসলে শিক্ষা হলো একটি বিকাশমূলক প্রক্রিয়া। রুশো এবং পেস্তালৎসির মতে- "শিক্ষা হলো শিশুর অন্তর্নিহিত সত্তার স্বাভাবিক ও স্বতঃস্ফূর্ত বিকাশ"।
•শিক্ষার পরিধি (Scope of Education)•
আমরা জানি যে,শিক্ষার পরিধি অত্যন্ত বিস্তৃত। এটি মানবজীবনের প্রায় প্রতিটি ক্ষেত্রকে স্পর্শ করে যায়। আর সেখানে শিক্ষার্থীর হিসেবে যে বিষয়গুলি সামনে আসে সেগুলি হলো -
১) শিক্ষা দর্শনঃশিক্ষার লক্ষ্য কী হবে, তা নির্ধারণ করে দেয় দর্শন। আসলে আদর্শবাদ, প্রকৃতিবাদ বা প্রয়োগবাদের মতো বিভিন্ন দার্শনিক মতবাদ শিক্ষার পরিধির অন্তর্ভুক্ত। আর সেখানে -
২) শিক্ষা মনোবিজ্ঞানঃশিক্ষার্থীর বুদ্ধি, আগ্রহ, বয়স এবং ব্যক্তিগত বৈষম্য অনুযায়ী শিক্ষাদানের পদ্ধতি স্থির করা হয়। শিক্ষার্থীর মানসিক বিকাশ শিক্ষার পরিধির একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ।
৩)শিক্ষা সমাজবিজ্ঞানঃসমাজ, সংস্কৃতি, মূল্যবোধ এবং রাষ্ট্রের চাহিদার সাথে শিক্ষার সম্পর্ক এই অংশে আলোচিত হয়।
৪)পাঠ্যক্রমঃশিক্ষার লক্ষ্য পূরণের জন্য কোন কোন বিষয় পড়ানো হবে এবং সহ-পাঠ্যক্রমিক কার্যাবলি কী হবে, তা শিক্ষার পরিধির অন্তর্গত।
৫) শিক্ষণ পদ্ধতি ও মূল্যায়নঃশিক্ষক কীভাবে পড়াবেন এবং শিক্ষার্থীর অগ্রগতি কীভাবে পরিমাপ করা হবে (পরীক্ষা বা মূল্যায়ন), তাও শিক্ষার একটি বড় অংশ।
পরিশেষে আমরা বলতে পারি যে,ব্যাপক অর্থে শিক্ষা হলো একটি গতিশীল ও বিকাশমান প্রক্রিয়া যা ব্যক্তিকে তার ব্যক্তিস্বাতন্ত্র্য বজায় রেখে সমাজের উপযোগী করে তোলে। যার পরিধি কেবল শ্রেণিকক্ষ নয়, বরং সমগ্র বিশ্বব্রহ্মাণ্ড।
ঠিক এরূপ অসংখ্য বিষয়ভিত্তিক আলোচনা ব্যাখ্যা সাজেশন এবং টিউটোরিয়াল ক্লাসের ভিডিও পেতে ভিজিট করুন আমাদের ওয়েবসাইট ও SHESHER KABITA SUNDARBON YouTube channel SAMARESH sir
Comments
Post a Comment