Skip to main content

কারক কাকে বলে? বিভিন্ন প্রকার কারকের উদাহরণসহ সংজ্ঞা লেখো।

কারক কাকে বলে? কারা কয় প্রকার ও কি কি? উদাহরণসহ সংজ্ঞা দাও। সহজে কারক নির্ণয়ের উপায় 

        ১)কারকঃ বাক্যে ক্রিয়াপদের সাথে বিশেষ্য ও সর্বনাম পদের যে সম্পর্ক, তাকেই কারক বলা হয়। সহজ কথায়, একটি বাক্যের কাজ (ক্রিয়া) কার দ্বারা, কার মাধ্যমে বা কোথায় সম্পন্ন হচ্ছে—এই পারস্পরিক সম্বন্ধই হলো কারক।

কারক সাধারণত ৬ প্রকার-

      ক) কর্তৃকারকঃবাক্যে যে বিশেষ্য বা সর্বনাম পদ ক্রিয়া সম্পাদন করে, তাকে কর্তৃকারক বলে। ক্রিয়াকে ‘কে’ বা ‘কারা’ দিয়ে প্রশ্ন করলে এই কারক পাওয়া যায়।

    •উদাহরণ- ছেলেরা ফুটবল খেলছে। (এখানে ‘ছেলেরা’ কাজটা করছে, তাই এটি কর্তৃকারক)

      খ) কর্মকারকঃযাকে আশ্রয় করে কর্তা ক্রিয়া সম্পন্ন করে, তাকে কর্মকারক বলে। ক্রিয়াকে ‘কী’ বা ‘কাকে’ দিয়ে প্রশ্ন করলে এই কারক পাওয়া যায়।

      • উদাহরণ-মা ভাত রাঁধছেন। (মা ‘কী’ রাঁধছেন? উত্তর: ভাত)

      গ)করণ কারকঃ‘করণ’ শব্দের অর্থ যন্ত্র, সহায়ক বা উপায়। কর্তা যার সাহায্যে ক্রিয়া সম্পাদন করে, তাকে করণ কারক বলে। ক্রিয়াকে ‘কী দিয়ে’ বা ‘কীসের দ্বারা’ প্রশ্ন করলে এটি পাওয়া যায়।

      •উদাহরণ- ছাত্রটি কলম দিয়ে লিখছে। (লেখার উপকরণ হলো ‘কলম’)

        ঘ) সম্প্রদান কারকঃযাকে স্বত্ব ত্যাগ করে (একবারে দান করে) কোনো কিছু দেওয়া হয়, তাকে সম্প্রদান কারক বলে।

     •উদাহরণ-ভিখারিকে ভিক্ষা দাও। (এখানে কোনো কিছুর বিনিময়ে নয়, বরং দান করা বোঝাচ্ছে)

       ঙ)অপাদান কারকঃযা থেকে কোনো কিছু বিচ্যুত, গৃহীত, জাত, বিরত, আরম্ভ, দূরীভূত ও রক্ষিত হয় এবং যা দেখে কেউ ভীত হয়, তাকে অপাদান কারক বলে। সাধারণত ‘কোথা হতে’ বা ‘কী হতে’ প্রশ্ন করলে এটি পাওয়া যায়।

      •উদাহরণ- গাছ থেকে পাতা পড়ে। (বিচ্যুত হওয়া বোঝাচ্ছে)

       চ)অধিকরণ কারকঃক্রিয়া সম্পাদনের কাল (সময়) এবং আধারকে (স্থান) অধিকরণ কারক বলে। ক্রিয়াকে ‘কোথায়’ বা ‘কখন’ দিয়ে প্রশ্ন করলে এই কারক পাওয়া যায়।

      • উদাহরণ-আমরা স্কুলে যাই। (স্থান বোঝাচ্ছে) অথবা, শরৎকালে পদ্ম ফোটে। (সময় বোঝাচ্ছে)


         •কারক চেনার সহজ উপায়•

           বাক্য-রাম কলমে ভাত খায়

কে / কারা? কর্তৃকারক। কে খায়? → উত্তর: রাম

কী / কাকে? কর্মকারক। কী খায়? → উত্তর: ভাত

কী দিয়ে / কীসের দ্বারা? করণ কারক।কী দিয়ে খায়? → উত্তর: কলমে

কার জন্য / কীসের নিমিত্ত? নিমিত্ত কারক। খাবার জন্য খাচ্ছে। (নিমিত্ত)

কোথা থেকে / কী হতে? অপাদান। কারক হাড়ি থেকে তুলে খায়। (অপাদান)

কোথায় / কখন / কবে? অধিকরণ কারক। দুপুরে বা ঘরে বসে খায়। (অধিকরণ)


         •মনে রাখার কিছু সহজ টিপস•

​১. কর্তাঃযে কাজটা করছে সে-ই হলো কর্তা (কে?)।

২. কর্মঃ কর্তা যা নিয়ে কাজ করছে (কী?)।

৩. করণঃ যা দিয়ে বা যে হাতিয়ার ব্যবহার করে কাজটা করা হচ্ছে।

৪. অপাদানঃ কিছু থেকে বের হওয়া, পড়ে যাওয়া, বা ভয় পাওয়া বোঝালে এটি হয় (বিচ্যুতি)।

৫. অধিকরণঃকাজটা ঠিক কোন জায়গায় বা কোন সময়ে হচ্ছে তা বোঝালে।


         সঠিক উত্তরটি নির্বাচন করো (MCQ)

​১. যে পদের সঙ্গে ক্রিয়াপদের সরাসরি সম্বন্ধ থাকে না, তাকে কী বলে?

​(ক) কারক (খ) অ-কারক (গ) কর্মকারক (ঘ) অধিকরণ কারক

উত্তর: (খ) অ-কারক

​২. "দরিদ্রকে দান করো"—এখানে 'দরিদ্রকে' কোন কারক?

​(ক) কর্মকারক (খ) নিমিত্ত কারক (গ) করণ কারক (ঘ) অপাদান কারক

​উত্তর: (খ) নিমিত্ত কারক (যেহেতু স্বত্ব ত্যাগ করে দান করা বোঝাচ্ছে)

​৩. বিভক্তি সর্বদা শব্দের—

​(ক) আগে বসে (খ) পরে বসে (গ) মাঝে বসে (ঘ) আলাদা বসে

​উত্তর: (খ) পরে যুক্ত হয়ে বসে

​        অতি সংক্ষিপ্ত উত্তরধর্মী প্রশ্ন (SAQ)

​১. কারক ও অ-কারকের প্রধান পার্থক্য কী?

​উত্তর: কারক পদের সঙ্গে বাক্যের ক্রিয়াপদের সরাসরি সম্পর্ক থাকে, কিন্তু অ-কারক পদের (সম্বন্ধ ও সম্বোধন পদ) সঙ্গে ক্রিয়াপদের কোনো সরাসরি সম্পর্ক থাকে না।

​২. শূন্য বিভক্তি কাকে বলে?

​উত্তর: যে শব্দ-বিভক্তি পদের সঙ্গে যুক্ত হয়ে নিজে অপ্রকাশিত থাকে এবং শব্দকে পদে পরিণত করে, তাকে শূন্য বিভক্তি বা 'অ' বিভক্তি বলে।

​৩. অনুসর্গ ও বিভক্তির একটি পার্থক্য লেখো।

​উত্তর: বিভক্তির নিজস্ব কোনো অর্থ নেই এবং তা শব্দের সঙ্গে মিশে থাকে। অন্যদিকে, অনুসর্গের নিজস্ব অর্থ আছে এবং তা শব্দের পরে আলাদাভাবে বসে।



Comments

Popular posts from this blog

দর্শন প্রথম সেমিস্টার সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন উত্তর।

দর্শন প্রথম সেমিস্টার সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর (পশ্চিমবঙ্গ রাষ্ট্রীয় বিশ্ববিদ্যালয়, মাইনর সিলেবাস)  ১)চার্বাক মতে ভূত কয়টি ও কি কি? উত্তরঃচার্বাক মতে ভূত চারটি- ক্ষিতি, অপ্ , তেজ ও মরুৎ ২) স্বভাববাদ কী? উত্তরঃ চার্বাক জড়বাদের ভিত্তি হল স্বভাববাদ। যে মতবাদ অনুসারে স্বভাব থেকেই ভূত সৃষ্টি, আবার স্বভাব থেকেই বিচ্ছেদ। যার জন্য ঈশ্বরকে স্বীকার করা প্রয়োজন নেই। ৩) অব্যাপ্যদেশ কথাটির অর্থ লেখো। উত্তরঃ অব্যাপ্যদেশ বলতে বোঝায়- অশাব্দ অর্থাৎ যাকে শব্দের দ্বারা প্রকাশ করা যায় না। ৫) জ্ঞান লক্ষণ প্রত্যক্ষ কাকে বলে?  কোন একটি ইন্দ্রিয়ের মাধ্যমে তার নিজের বিষয়ীভূত গুণ ছাড়াও যদি অপর একটি ইন্দ্রিয়ের বিষয়ীভূত গুণকে প্রত্যক্ষ করার হয়, তাহলে সেই প্রত্যক্ষকে জ্ঞানলক্ষণ প্রত্যক্ষ বলা হয়। ৬) ন্যায় মতে প্রমাণের প্রকার  উত্তরঃ ন্যায় মতে প্রমাণ চার প্রকার। প্রত্যক্ষ, অনুমান, উপমান এবং শাব্দ। ৭) সন্নিকর্ষ কাকে বলে? উত্তরঃ ন্যায় মতে ইন্দ্রিয় ও কোন বাস্তব পদার্থের মধ্যে একপ্রকার বিশেষ সম্পর্ক ঘটলে তবেই আমাদের একটি বস্তুর প্রত্যক্ষজ্ঞান ।আর ঐ বিশেষ বিশেষ সম্পর্কের পারিভাষিক নাম হলো সন...

ইতিহাস (3rd Semester) সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর।

 তৃতীয় সেমিস্টার ইতিহাস মাইনর সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর (পশ্চিমবঙ্গ রাষ্ট্রীয় বিশ্ববিদ্যালয়, তৃতীয় সেমিস্টার ইতিহাস মাইনর)। ১)বন্দেগান-ই-চাহালগানি বলতে কী বোঝায়? •উত্তরঃবন্দেগান-ই-চাহালগান বলতে চল্লিশ জন তুর্কি ও অ-তুর্কি দাসদের সমন্বয়ে গঠিত একটি বাহিনীকে বোঝায়। এই বাহিনীকে ডাল চালিশা বা তুরকান-ই- চাহালগানি নামে ডাকা হতো। ২)আমির খসরু কে ছিলেন? •উত্তরঃ আমির খসরু ছিলেন প্রখ্যাত সুফি সাধক বা আরেফ নিজামউদ্দিন আওলিয়ার ছাত্র এবং অন্যতম প্রধান খলিফা। যাঁকে 'ভারতের তোতা' উপাধি দেওয়া হয়েছিল। ৩) মহরানা প্রতাপ কে ছিলেন?  •উত্তরঃ মেবারের শিশোদিয়া রাজবংশের একজন হিন্দু রাজপুত রাজা ছিলেন মহারানা প্রতাপ সিং। যিনি রাজপুতদের বীরত্ব ও দৃঢ় সংকল্পের প্রতীক। বহু বছর ধরে তিনি মুঘল সম্রাট আকবরের সঙ্গে লড়াই করেন। ৪) জায়গীরদারী সংকট কী? •উত্তরঃ জায়গিরদারী সংকট ছিল মোগল সাম্রাজ্যের একটি অর্থনৈতিক সংকট। এই সংকটে জমি বা জায়গিরের অভাব দেখা দিয়েছিল। যার ফলে প্রশাসনিক খরচ মেটানো এবং যুদ্ধের খরচ বহন করা সম্ভব হতো না। ৫) দাক্ষিণাত্য ক্ষত কী? •উত্তরঃ দাক্ষিণাত্য ক্ষত বলতে ঔরঙ্গজেবের দাক্ষিণাত্য নীত...

ব্রিটিশ(3rd.Sem) পার্লামেন্টের সার্বভৌমত্ব

ব্রিটিশ পার্লামেন্টের সার্বভৌমত্ব আলোচনা করো (পশ্চিমবঙ্গ রাষ্ট্রীয় বিশ্ববিদ্যালয়, তৃতীয় সেমিস্টার, রাষ্ট্রবিজ্ঞান মাইনর সিলেবাস)।         আমরা জানি যে,ব্রিটেনের সংবিধান অলিখিত বলে বিভিন্ন ঐতিহাসিক দলিল, শাসনতান্ত্রিক রীতিনীতি, পার্লামেন্ট প্রণীত আইন প্রভৃতির মাধ্যমে পার্লামেন্টের সার্বভৌমত্ব অর্জিত হয়েছে। ব্রিটেনের পার্লামেন্ট আইনানুগ সার্বভৌমত্ব অর্জন করেছে, রাজনৈতিক সার্বভৌমত্ব নয়। আর সেখানে ব্রিটিশ পার্লামেন্টকে আইনানুগ সার্বভৌমত্ব বলা হয়, কারণ-       যেকোনো বিষয়ে পার্লামেন্ট আইন প্রণনয়নের অধিকারী। তবে ব্রিটিশ পার্লামেন্ট এককেন্দ্রিক রাষ্ট্র হওয়ায় পার্লামেন্টে কোন আইন প্রণয়নের সময় প্রতিদ্বন্দ্বিতা হয় না। আসলে সেখানে কমন্সসভা তথা নিম্নকক্ষের সার্বভৌমত্বকেই বলা হয় পার্লামেন্টের সার্বভৌমত্ব।     ••ব্রিটিশ পার্লামেন্টকে সার্বভৌমত্ব বলার কারণ- ১) পার্লামেন্টের ওপর আইনগত কোনরূপ বাধানিষেধ আরোপ করা যায় না। ২) পার্লামেন্ট প্রণীত আইনের বৈধতার ব্যাপারে আদালত কোন প্রশ্ন তুলতে পারেনা। ব্রিটেনের আদালত পার্লামেন্ট প্রণীত আইনের ওপর বিচার বি...