Skip to main content

কোনি উপন্যাসের প্রথম অধ্যায় অবলম্বনে কোনি চরিত্রের আলোচনা।

'কোনি' উপন্যাসের প্রথম অধ্যায় অবলম্বনে কোনি চরিত্রটির সংক্ষিপ্ত পরিচয় নিচে দাও (পশ্চিমবঙ্গ মধ্যশিক্ষা পর্ষদের দশম শ্রেণী)

      আলোচনার শুরুতেই আমরা বলে রাখি যে,মতি নন্দীর 'কোনি' উপন্যাসের প্রথম অধ্যায়ে বারুণীর গঙ্গা স্নানের ঘাটে আমরা প্রথম কনকচাঁপা পাল বা কোনি-কে দেখতে পাই। প্রথম দর্শনেই তার সংগ্রামী ও হার-না-মানা মানসিকতা ফুটে ওঠে।আর সেখানেই তার শারীরিক গঠন ও বেশভূষায় দেখতে পাই-

       প্রথম অধ্যায়ে কোনিকে তেরো-চৌদ্দ বছরের এক কিশোরী হিসেবে দেখা যায়। তার গায়ের রং কালো, চোখ দুটি বড় বড় এবং সে অত্যন্ত রোগা। তার পরনে ছিল একটি ময়লা ত্যানাটে শাড়ি। এই সামান্য বর্ণনা থেকেই তার দরিদ্র পরিবারের অভাব-অনটনের ছবি স্পষ্ট হয়ে ওঠে।সেই ছবিতে দেখি-

      কোনির অদম্য জেদ ও হার-না-মানা মনোভাব।গঙ্গার ঘাটে আম কুড়ানোর প্রতিযোগিতায় কোনির চারিত্রিক দৃঢ়তা লক্ষ্য করা যায়। গঙ্গার প্রবল স্রোতে পঙ্কজ ও তার বন্ধুদের সাথে পাল্লা দিয়ে সে আম সংগ্রহ করে। ঘাটের ছেলেদের সাথে টক্কর দিয়ে আম ছিনিয়ে নেওয়ার মধ্য দিয়ে তার ভেতরে লুকিয়ে থাকা এক লড়াকু মানসিকতার পরিচয় পাওয়া যায়। সেই সাথে আমরা আরো পাই-

      কোনির দারিদ্র্যের বিরুদ্ধে লড়াই।কোনির আচরণে দারিদ্র্যের ছাপ থাকলেও তার মধ্যে কোনো হীনম্মন্যতা নেই। অভাবের কারণে সে প্রথাগত সাঁতার না শিখলেও, পেটের তাগিদে বা নিছক জেদের বশে গঙ্গায় দীর্ঘক্ষণ সাঁতার কাটার ক্ষমতা সে অর্জন করেছে।সেখানে

        ক্ষিদ্দা বা ক্ষিতীশের নজরে আসে কোনি গঙ্গার ঘাটে কোনির এই লড়াই অপলক দৃষ্টিতে লক্ষ্য করেছিলেন সাঁতারের জহুরি ক্ষিতীশ সিংহ। তার চোখে কোনি ছিল এক 'কাঁচা সোনা'। ক্ষিদ্দা বুঝতে পেরেছিলেন, এই মেয়েটির মধ্যে যে জেদ আর লড়াই করার ক্ষমতা আছে, সঠিক প্রশিক্ষণ পেলে সে বিশ্বজয় করতে পারে।

      পরিশেষে আমরা বলতে পারি যে,প্রথম অধ্যায়ে কোনি কোনো পেশাদার খেলোয়াড় নয়, বরং গঙ্গার ঘাটের এক সাধারণ দরিদ্র মেয়ে। কিন্তু তার অসামান্য চপলতা, নির্ভীকতা এবং প্রতিকূল পরিস্থিতির সঙ্গে লড়াই করার ক্ষমতা তাকে সাধারণের ভিড়ে অনন্য করে তুলেছে।


Comments

Popular posts from this blog

দর্শন প্রথম সেমিস্টার সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন উত্তর।

দর্শন প্রথম সেমিস্টার সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর (পশ্চিমবঙ্গ রাষ্ট্রীয় বিশ্ববিদ্যালয়, মাইনর সিলেবাস)  ১)চার্বাক মতে ভূত কয়টি ও কি কি? উত্তরঃচার্বাক মতে ভূত চারটি- ক্ষিতি, অপ্ , তেজ ও মরুৎ ২) স্বভাববাদ কী? উত্তরঃ চার্বাক জড়বাদের ভিত্তি হল স্বভাববাদ। যে মতবাদ অনুসারে স্বভাব থেকেই ভূত সৃষ্টি, আবার স্বভাব থেকেই বিচ্ছেদ। যার জন্য ঈশ্বরকে স্বীকার করা প্রয়োজন নেই। ৩) অব্যাপ্যদেশ কথাটির অর্থ লেখো। উত্তরঃ অব্যাপ্যদেশ বলতে বোঝায়- অশাব্দ অর্থাৎ যাকে শব্দের দ্বারা প্রকাশ করা যায় না। ৫) জ্ঞান লক্ষণ প্রত্যক্ষ কাকে বলে?  কোন একটি ইন্দ্রিয়ের মাধ্যমে তার নিজের বিষয়ীভূত গুণ ছাড়াও যদি অপর একটি ইন্দ্রিয়ের বিষয়ীভূত গুণকে প্রত্যক্ষ করার হয়, তাহলে সেই প্রত্যক্ষকে জ্ঞানলক্ষণ প্রত্যক্ষ বলা হয়। ৬) ন্যায় মতে প্রমাণের প্রকার  উত্তরঃ ন্যায় মতে প্রমাণ চার প্রকার। প্রত্যক্ষ, অনুমান, উপমান এবং শাব্দ। ৭) সন্নিকর্ষ কাকে বলে? উত্তরঃ ন্যায় মতে ইন্দ্রিয় ও কোন বাস্তব পদার্থের মধ্যে একপ্রকার বিশেষ সম্পর্ক ঘটলে তবেই আমাদের একটি বস্তুর প্রত্যক্ষজ্ঞান ।আর ঐ বিশেষ বিশেষ সম্পর্কের পারিভাষিক নাম হলো সন...

ইতিহাস (3rd Semester) সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর।

 তৃতীয় সেমিস্টার ইতিহাস মাইনর সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর (পশ্চিমবঙ্গ রাষ্ট্রীয় বিশ্ববিদ্যালয়, তৃতীয় সেমিস্টার ইতিহাস মাইনর)। ১)বন্দেগান-ই-চাহালগানি বলতে কী বোঝায়? •উত্তরঃবন্দেগান-ই-চাহালগান বলতে চল্লিশ জন তুর্কি ও অ-তুর্কি দাসদের সমন্বয়ে গঠিত একটি বাহিনীকে বোঝায়। এই বাহিনীকে ডাল চালিশা বা তুরকান-ই- চাহালগানি নামে ডাকা হতো। ২)আমির খসরু কে ছিলেন? •উত্তরঃ আমির খসরু ছিলেন প্রখ্যাত সুফি সাধক বা আরেফ নিজামউদ্দিন আওলিয়ার ছাত্র এবং অন্যতম প্রধান খলিফা। যাঁকে 'ভারতের তোতা' উপাধি দেওয়া হয়েছিল। ৩) মহরানা প্রতাপ কে ছিলেন?  •উত্তরঃ মেবারের শিশোদিয়া রাজবংশের একজন হিন্দু রাজপুত রাজা ছিলেন মহারানা প্রতাপ সিং। যিনি রাজপুতদের বীরত্ব ও দৃঢ় সংকল্পের প্রতীক। বহু বছর ধরে তিনি মুঘল সম্রাট আকবরের সঙ্গে লড়াই করেন। ৪) জায়গীরদারী সংকট কী? •উত্তরঃ জায়গিরদারী সংকট ছিল মোগল সাম্রাজ্যের একটি অর্থনৈতিক সংকট। এই সংকটে জমি বা জায়গিরের অভাব দেখা দিয়েছিল। যার ফলে প্রশাসনিক খরচ মেটানো এবং যুদ্ধের খরচ বহন করা সম্ভব হতো না। ৫) দাক্ষিণাত্য ক্ষত কী? •উত্তরঃ দাক্ষিণাত্য ক্ষত বলতে ঔরঙ্গজেবের দাক্ষিণাত্য নীত...

ব্রিটিশ(3rd.Sem) পার্লামেন্টের সার্বভৌমত্ব

ব্রিটিশ পার্লামেন্টের সার্বভৌমত্ব আলোচনা করো (পশ্চিমবঙ্গ রাষ্ট্রীয় বিশ্ববিদ্যালয়, তৃতীয় সেমিস্টার, রাষ্ট্রবিজ্ঞান মাইনর সিলেবাস)।         আমরা জানি যে,ব্রিটেনের সংবিধান অলিখিত বলে বিভিন্ন ঐতিহাসিক দলিল, শাসনতান্ত্রিক রীতিনীতি, পার্লামেন্ট প্রণীত আইন প্রভৃতির মাধ্যমে পার্লামেন্টের সার্বভৌমত্ব অর্জিত হয়েছে। ব্রিটেনের পার্লামেন্ট আইনানুগ সার্বভৌমত্ব অর্জন করেছে, রাজনৈতিক সার্বভৌমত্ব নয়। আর সেখানে ব্রিটিশ পার্লামেন্টকে আইনানুগ সার্বভৌমত্ব বলা হয়, কারণ-       যেকোনো বিষয়ে পার্লামেন্ট আইন প্রণনয়নের অধিকারী। তবে ব্রিটিশ পার্লামেন্ট এককেন্দ্রিক রাষ্ট্র হওয়ায় পার্লামেন্টে কোন আইন প্রণয়নের সময় প্রতিদ্বন্দ্বিতা হয় না। আসলে সেখানে কমন্সসভা তথা নিম্নকক্ষের সার্বভৌমত্বকেই বলা হয় পার্লামেন্টের সার্বভৌমত্ব।     ••ব্রিটিশ পার্লামেন্টকে সার্বভৌমত্ব বলার কারণ- ১) পার্লামেন্টের ওপর আইনগত কোনরূপ বাধানিষেধ আরোপ করা যায় না। ২) পার্লামেন্ট প্রণীত আইনের বৈধতার ব্যাপারে আদালত কোন প্রশ্ন তুলতে পারেনা। ব্রিটেনের আদালত পার্লামেন্ট প্রণীত আইনের ওপর বিচার বি...