শিক্ষার বিভিন্ন উপাদান গুলি কি কি?শিক্ষার উপাদানগুলির মধ্যে পারস্পরিক সম্পর্ক আলোচনা করো। এডুকেশন মাইনর প্রথম সেমিস্টার পশ্চিমবঙ্গ রাষ্ট্রীয় বিশ্ববিদ্যালয়।
আমরা জানি যে, শিক্ষা বিজ্ঞানে শিক্ষার উপাদান এবং তাদের পারস্পরিক সম্পর্ক একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। আর সেখানে শিক্ষা একটি জীবনব্যাপী এবং গতিশীল প্রক্রিয়া।এই প্রক্রিয়াটি মূলত চারটি প্রধান উপাদানের ওপর ভিত্তি করে পরিচালিত হয়।যেখানে জন অ্যাডামস শিক্ষাকে 'দ্বিমেরু' প্রক্রিয়া বললেও, আধুনিক শিক্ষাবিদ জন ডিউই একে 'ত্রিমাত্রিক' প্রক্রিয়া হিসেবে বর্ণনা করেছেন। আর সেই শিক্ষার প্রধান উপাদানগুলি হলো-
১.শিক্ষার্থীঃশিক্ষাব্যবস্থার কেন্দ্রবিন্দু হলো শিক্ষার্থী। আধুনিক শিশু-কেন্দ্রিক শিক্ষায় শিক্ষার্থীর রুচি, সামর্থ্য, প্রবণতা এবং বুদ্ধিকে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়। শিক্ষার্থীর সক্রিয় অংশগ্রহণ ছাড়া শিক্ষা প্রক্রিয়া সফল হতে পারে না।
২.শিক্ষকঃশিক্ষক হলেন শিক্ষার দ্বিতীয় গুরুত্বপূর্ণ উপাদান। তিনি কেবল জ্ঞান দান করেন না, বরং শিক্ষার্থীর বন্ধু (Friend), দার্শনিক (Philosopher) ও পথপ্রদর্শক (Guide) হিসেবে কাজ করেন। তিনি উপযুক্ত পরিবেশ তৈরি করে শিক্ষার্থীর সুপ্ত প্রতিভার বিকাশ ঘটান।
৩.পাঠ্যক্রমঃশিক্ষার্থী কী শিখবে বা তার অভিজ্ঞতার পরিধি কী হবে, তা নির্ধারিত হয় পাঠ্যক্রমের মাধ্যমে। এটি কেবল পুঁথিগত বিদ্যা নয়, বরং বিদ্যালয়ের ভেতরে ও বাইরে শিক্ষার্থীর অর্জিত সমস্ত অভিজ্ঞতার সমষ্টি।
৪. বিদ্যালয়ঃশিক্ষা একটি সামাজিক প্রক্রিয়া, তাই উপযুক্ত পরিবেশ বা সামাজিক কাঠামো একান্ত প্রয়োজন। প্রাকৃতিক ও সামাজিক-এই দুই ধরনের পরিবেশই শিক্ষার্থীর শিখনে প্রভাব ফেলে। বিদ্যালয় হলো সমাজের একটি ক্ষুদ্র রূপ যেখানে নিয়ন্ত্রিত পরিবেশে শিক্ষা দেওয়া হয়।
•শিক্ষার উপাদানগুলির পারস্পরিক সম্পর্ক (Relationship between the Factors)•
আমরা জানি যে,শিক্ষার উপরিউক্ত শিক্ষার চারটি উপাদান বিচ্ছিন্ন কোনো একক নয়, বরং তারা একে অপরের সঙ্গে নিবিড়ভাবে জড়িত। এদের সম্পর্ককে একটি বৃত্তাকার বা আন্তঃক্রিয়াশীল পদ্ধতি হিসেবে দেখা হয়।আর সেখানে-
১.শিক্ষক ও শিক্ষার্থীর সম্পর্কঃশিক্ষক ও শিক্ষার্থীর সম্পর্ক হবে অত্যন্ত সহযোগিতামূলক। শিক্ষক শিক্ষার্থীর মনস্তত্ত্ব বুঝে পাঠদান করবেন এবং শিক্ষার্থী শিক্ষকের নির্দেশনায় নিজের ব্যক্তিত্বের বিকাশ ঘটাবে। একজন ছাড়া অন্যজন অর্থহীন।
২. শিক্ষার্থী ও পাঠ্যক্রমের সম্পর্কঃপাঠ্যক্রম তৈরি করা হয় শিক্ষার্থীর বয়স, মানসিক স্তর এবং সমাজের চাহিদার ওপর ভিত্তি করে। পাঠ্যক্রম যদি শিক্ষার্থীর জীবনের সঙ্গে সংগতিপূর্ণ না হয়, তবে শিখনে আগ্রহ তৈরি হয় না। অর্থাৎ, পাঠ্যক্রম হবে শিক্ষার্থী-কেন্দ্রিক।
৩. শিক্ষক ও পাঠ্যক্রমের সম্পর্কঃপাঠ্যক্রম হলো একটি খসড়া বা পরিকল্পনা, আর শিক্ষক হলেন তার রূপকার। শিক্ষক তাঁর অভিজ্ঞতা ও শিক্ষণ পদ্ধতির মাধ্যমে জটিল পাঠ্যক্রমকে শিক্ষার্থীর কাছে সহজবোধ্য করে তোলেন।
৪. বিদ্যালয়ের ভূমিকাঃউপযুক্ত পরিবেশ (বিদ্যালয় বা সমাজ) না থাকলে শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও পাঠ্যক্রমের এই মিলন মেলা সম্ভব নয়। একটি স্বাস্থ্যকর সামাজিক ও শিক্ষাগত পরিবেশই এই তিনটি উপাদানের মধ্যে সেতুবন্ধন তৈরি করে।
পরিশেষে বলা যায় যে,শিক্ষার এই উপাদানগুলি একটি যন্ত্রের বিভিন্ন অংশের মতো। কোনো একটি উপাদান দুর্বল হলে সমগ্র শিক্ষা প্রক্রিয়া ব্যাহত হয়। আধুনিক শিক্ষা বিজ্ঞানের ভাষায়, এই উপাদানগুলি একে অপরের পরিপূরক এবং এদের সার্থক সমন্বয়েই শিক্ষার্থীর সর্বাঙ্গীণ বিকাশ সম্ভব হয়।
ঠিক এরূপ অসংখ্য বিষয়ভিত্তিক আলোচনা ব্যাখ্যা সাজেশন এবং টিউটোরিয়াল ক্লাসের ভিডিও পেতে ভিজিট করুন আমাদের ওয়েবসাইট ও SHESHER KABITA SUNDARBON YouTube channel SAMARESH sir
Comments
Post a Comment