Skip to main content

সমাজ দর্শন(Social Philosophy) কাকে বলে? সমাজ দর্শনের প্রকৃতি আলোচনা করো।

সমাজ দর্শন(Social Philosophy) কাকে বলে? সমাজ দর্শনের প্রকৃতি আলোচনা করো (পশ্চিমবঙ্গ রাষ্ট্রীয় বিশ্ববিদ্যালয়, ষষ্ঠ সেমিস্টার,দর্শন মাইনর-প্রথম ইউনিট,অধ্যায় ১)

         আলোচনা শুরুতেই আমরা বলে রাখি যে,মানুষ সমাজবদ্ধ জীব। আর সেই সমাজেই মানুষের জন্ম, বৃদ্ধি এবং অস্তিত্ব রক্ষা পায়।তবে দর্শনের যে শাখা এই সমাজ জীবন, সমাজের আদর্শ, ভিত্তি এবং লক্ষ্য নিয়ে যৌক্তিক ও বিচারমূলক আলোচনা করে, তাকেই সমাজ দর্শন (Social Philosophy) বলা হয়। এটি কেবল সমাজকে বর্ণনা করে না, বরং সমাজের গভীর তাৎপর্য এবং আদর্শ রূপটি কেমন হওয়া উচিত, তা অনুসন্ধান করে।যেখানে সমাজ দর্শনের সংজ্ঞা দিতে গিয়ে বিভিন্ন দার্শনিক বিভিন্ন মত পোষণ করেছেন। আসলে-

       সমাজ দর্শন হলো সমাজের সামগ্রিক রূপ এবং মানুষের সামাজিক সম্পর্কের একটি দার্শনিক বিচার।তাই জে. এস. ম্যাকেঞ্জি  বলেন-

"সমাজ দর্শন হলো মানুষের সামাজিক জীবনের মৌলিক নীতিগুলোর একটি বিচারমূলক অধ্যয়ন।"

       আর সেই কারণেই সমাজ দর্শন সমাজের লক্ষ্য ও আদর্শের প্রেক্ষাপটে সামাজিক ঘটনাবলির বিচার করে।মোটকথা- সমাজ দর্শন হলো সমাজবিজ্ঞান এবং নীতিবিদ্যার একটি সমন্বয়, যা সামাজিক মূল্যবোধের ওপর আলোকপাত করে।

সমাজ দর্শনের প্রকৃতি (Nature of Social Philosophy)•

        • আদর্শনিষ্ঠ বিজ্ঞান হলো হমাজ দর্শন।সমাজ দর্শনের প্রধান প্রকৃতি হলো এটি একটি আদর্শনিষ্ঠ শাখা। সমাজবিজ্ঞান (Sociology) যেখানে সমাজ 'কেমন' তা নিয়ে তথ্য সংগ্রহ করে, সমাজ দর্শন সেখানে বিচার করে সমাজ 'কেমন হওয়া উচিত'। অর্থাৎ, ন্যায়বিচার, সাম্য এবং স্বাধীনতার মতো আদর্শগুলো সমাজে কতটা প্রতিফলিত হচ্ছে, তা বিচার করাই এর কাজ।

        •সামগ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি থেকে সমাজ দর্শন সমাজকে কোনো একটি নির্দিষ্ট দিক (যেমন—অর্থনীতি বা রাজনীতি) থেকে দেখে না। এটি সমাজকে একটি অখণ্ড বা সামগ্রিক সত্তা হিসেবে বিচার করে। ধর্ম, নীতি, রাষ্ট্র এবং ব্যক্তির পারস্পরিক সম্পর্কের যে সামগ্রিক জাল, তার মূল ভিত্তিটি খুঁজে বের করাই সমাজ দর্শনের লক্ষ্য।

        মূল্যবোধের মূল্যায়ন হলো সমাজ দর্শন।সামাজিক প্রথা, আইন বা প্রতিষ্ঠানগুলো (যেমন—পরিবার, বিবাহ) মানুষের নৈতিক ও আধ্যাত্মিক উন্নতির জন্য কতটা সহায়ক, সমাজ দর্শন তার মূল্যায়ন করে। এটি সামাজিক ঘটনাবলির সত্যতা বিচারের চেয়ে তার 'মূল্য' (Value) বা উপযোগিতা বিচারে বেশি আগ্রহী।

       •ব্যক্তি ও সমাজের সম্পর্ক নির্ণয় করে সমাজ দর্শন।সমাজ দর্শনের একটি প্রধান কাজ হলো ব্যক্তি এবং সমাজের মধ্যেকার সম্পর্কের স্বরূপ ব্যাখ্যা করা। ব্যক্তি কি সমাজের যান্ত্রিক অংশ, নাকি সমাজ ব্যক্তির বিকাশের মাধ্যম মাত্র? এই দ্বন্দ্বের দার্শনিক সমাধান করাই সমাজ দর্শনের অন্যতম প্রকৃতি।

       •সামাজিক বিবর্তন ও প্রগতির বিচার করে সমাজ দর্শন।আমাদের এই সমাজ প্রতিনিয়ত পরিবর্তনশীল। এই পরিবর্তন কি কেবলই একটি যান্ত্রিক প্রক্রিয়া, নাকি এর পেছনে কোনো নির্দিষ্ট লক্ষ্য বা 'প্রগতি' (Progress) আছে? সমাজ দর্শন এই সামাজিক বিবর্তনের লক্ষ্য এবং উদ্দেশ্য অনুসন্ধান করে।

      •সমন্বয়মূলক প্রকৃতি হলো সমাজ দর্শন।সমাজ দর্শন বিভিন্ন সামাজিক বিজ্ঞান (যেমন—রাষ্ট্রবিজ্ঞান, অর্থনীতি, নৃতত্ত্ব) থেকে তথ্য সংগ্রহ করে এবং সেই তথ্যগুলোকে একটি সুসংগত ও যৌক্তিক কাঠামোর মধ্যে সাজিয়ে তোলে। এটি বিচ্ছিন্ন তথ্যগুলোকে একটি অর্থবহ দর্শনে রূপান্তর করে।

          পরিশেষে আমরা বলতে পারি যে, সমাজ দর্শন কেবল তাত্ত্বিক আলোচনা নয়, বরং এটি একটি জীবনমুখী শাখা। এটি আমাদের শেখায় কীভাবে একটি সুশৃঙ্খল, ন্যায়ভিত্তিক এবং আদর্শ সমাজ গড়ে তোলা সম্ভব। পশ্চিমবঙ্গ রাষ্ট্রীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের সিলেবাস অনুযায়ী, সমাজ দর্শনের এই প্রকৃতিই একে অন্যান্য সামাজিক বিজ্ঞান থেকে পৃথক এবং মহত্তর করে তুলেছে।

 ঠিক এরূপ অসংখ্য বিষয়ভিত্তিক আলোচনা ব্যাখ্যা সাজেশন এবং টিউটোরিয়াল ক্লাসের ভিডিও পেতে ভিজিট করুন আমাদের ওয়েবসাইট এবং 𝐒𝐡𝐞𝐬𝐡𝐞𝐫 𝐊𝐚𝐛𝐢𝐭𝐬 𝐒𝐮𝐧𝐝𝐚𝐫𝐛𝐨𝐧 𝐘𝐨𝐮𝐭𝐮𝐛𝐞 𝐂𝐡𝐚𝐧𝐞𝐥 𝐒𝐀𝐌𝐒𝐑𝐄𝐒𝐇 𝐒𝐈𝐑.

Comments

Popular posts from this blog

দর্শন প্রথম সেমিস্টার সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন উত্তর।

দর্শন প্রথম সেমিস্টার সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর (পশ্চিমবঙ্গ রাষ্ট্রীয় বিশ্ববিদ্যালয়, মাইনর সিলেবাস)  ১)চার্বাক মতে ভূত কয়টি ও কি কি? উত্তরঃচার্বাক মতে ভূত চারটি- ক্ষিতি, অপ্ , তেজ ও মরুৎ ২) স্বভাববাদ কী? উত্তরঃ চার্বাক জড়বাদের ভিত্তি হল স্বভাববাদ। যে মতবাদ অনুসারে স্বভাব থেকেই ভূত সৃষ্টি, আবার স্বভাব থেকেই বিচ্ছেদ। যার জন্য ঈশ্বরকে স্বীকার করা প্রয়োজন নেই। ৩) অব্যাপ্যদেশ কথাটির অর্থ লেখো। উত্তরঃ অব্যাপ্যদেশ বলতে বোঝায়- অশাব্দ অর্থাৎ যাকে শব্দের দ্বারা প্রকাশ করা যায় না। ৫) জ্ঞান লক্ষণ প্রত্যক্ষ কাকে বলে?  কোন একটি ইন্দ্রিয়ের মাধ্যমে তার নিজের বিষয়ীভূত গুণ ছাড়াও যদি অপর একটি ইন্দ্রিয়ের বিষয়ীভূত গুণকে প্রত্যক্ষ করার হয়, তাহলে সেই প্রত্যক্ষকে জ্ঞানলক্ষণ প্রত্যক্ষ বলা হয়। ৬) ন্যায় মতে প্রমাণের প্রকার  উত্তরঃ ন্যায় মতে প্রমাণ চার প্রকার। প্রত্যক্ষ, অনুমান, উপমান এবং শাব্দ। ৭) সন্নিকর্ষ কাকে বলে? উত্তরঃ ন্যায় মতে ইন্দ্রিয় ও কোন বাস্তব পদার্থের মধ্যে একপ্রকার বিশেষ সম্পর্ক ঘটলে তবেই আমাদের একটি বস্তুর প্রত্যক্ষজ্ঞান ।আর ঐ বিশেষ বিশেষ সম্পর্কের পারিভাষিক নাম হলো সন...

ইতিহাস (3rd Semester) সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর।

 তৃতীয় সেমিস্টার ইতিহাস মাইনর সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর (পশ্চিমবঙ্গ রাষ্ট্রীয় বিশ্ববিদ্যালয়, তৃতীয় সেমিস্টার ইতিহাস মাইনর)। ১)বন্দেগান-ই-চাহালগানি বলতে কী বোঝায়? •উত্তরঃবন্দেগান-ই-চাহালগান বলতে চল্লিশ জন তুর্কি ও অ-তুর্কি দাসদের সমন্বয়ে গঠিত একটি বাহিনীকে বোঝায়। এই বাহিনীকে ডাল চালিশা বা তুরকান-ই- চাহালগানি নামে ডাকা হতো। ২)আমির খসরু কে ছিলেন? •উত্তরঃ আমির খসরু ছিলেন প্রখ্যাত সুফি সাধক বা আরেফ নিজামউদ্দিন আওলিয়ার ছাত্র এবং অন্যতম প্রধান খলিফা। যাঁকে 'ভারতের তোতা' উপাধি দেওয়া হয়েছিল। ৩) মহরানা প্রতাপ কে ছিলেন?  •উত্তরঃ মেবারের শিশোদিয়া রাজবংশের একজন হিন্দু রাজপুত রাজা ছিলেন মহারানা প্রতাপ সিং। যিনি রাজপুতদের বীরত্ব ও দৃঢ় সংকল্পের প্রতীক। বহু বছর ধরে তিনি মুঘল সম্রাট আকবরের সঙ্গে লড়াই করেন। ৪) জায়গীরদারী সংকট কী? •উত্তরঃ জায়গিরদারী সংকট ছিল মোগল সাম্রাজ্যের একটি অর্থনৈতিক সংকট। এই সংকটে জমি বা জায়গিরের অভাব দেখা দিয়েছিল। যার ফলে প্রশাসনিক খরচ মেটানো এবং যুদ্ধের খরচ বহন করা সম্ভব হতো না। ৫) দাক্ষিণাত্য ক্ষত কী? •উত্তরঃ দাক্ষিণাত্য ক্ষত বলতে ঔরঙ্গজেবের দাক্ষিণাত্য নীত...

ব্রিটিশ(3rd.Sem) পার্লামেন্টের সার্বভৌমত্ব

ব্রিটিশ পার্লামেন্টের সার্বভৌমত্ব আলোচনা করো (পশ্চিমবঙ্গ রাষ্ট্রীয় বিশ্ববিদ্যালয়, তৃতীয় সেমিস্টার, রাষ্ট্রবিজ্ঞান মাইনর সিলেবাস)।         আমরা জানি যে,ব্রিটেনের সংবিধান অলিখিত বলে বিভিন্ন ঐতিহাসিক দলিল, শাসনতান্ত্রিক রীতিনীতি, পার্লামেন্ট প্রণীত আইন প্রভৃতির মাধ্যমে পার্লামেন্টের সার্বভৌমত্ব অর্জিত হয়েছে। ব্রিটেনের পার্লামেন্ট আইনানুগ সার্বভৌমত্ব অর্জন করেছে, রাজনৈতিক সার্বভৌমত্ব নয়। আর সেখানে ব্রিটিশ পার্লামেন্টকে আইনানুগ সার্বভৌমত্ব বলা হয়, কারণ-       যেকোনো বিষয়ে পার্লামেন্ট আইন প্রণনয়নের অধিকারী। তবে ব্রিটিশ পার্লামেন্ট এককেন্দ্রিক রাষ্ট্র হওয়ায় পার্লামেন্টে কোন আইন প্রণয়নের সময় প্রতিদ্বন্দ্বিতা হয় না। আসলে সেখানে কমন্সসভা তথা নিম্নকক্ষের সার্বভৌমত্বকেই বলা হয় পার্লামেন্টের সার্বভৌমত্ব।     ••ব্রিটিশ পার্লামেন্টকে সার্বভৌমত্ব বলার কারণ- ১) পার্লামেন্টের ওপর আইনগত কোনরূপ বাধানিষেধ আরোপ করা যায় না। ২) পার্লামেন্ট প্রণীত আইনের বৈধতার ব্যাপারে আদালত কোন প্রশ্ন তুলতে পারেনা। ব্রিটেনের আদালত পার্লামেন্ট প্রণীত আইনের ওপর বিচার বি...