২০২৬ সালের পশ্চিমবঙ্গ রাষ্ট্রীয় বিশ্ববিদ্যালয় (WBSU) এর প্রথম সেমিস্টার দর্শন মাইনর (Minor) পরীক্ষার জন্য একটি সম্ভাব্য এবং গুরুত্বপূর্ণ সাজেশান নিচে দেওয়া হলো। এটি নতুন NEP 2020 সিলেবাসের কাঠামোর ওপর ভিত্তি করে তৈরি করা হয়েছে।
বিভাগ ক: ১০ নম্বরের বড় প্রশ্ন (যেকোনো ২টি বা ৩টি করতে হয়)
১. চার্বাক দর্শন: চার্বাক জ্ঞানতত্ত্ব আলোচনা করো। চার্বাকরা কেন একমাত্র প্রত্যক্ষকেই প্রমাণ বলে স্বীকার করেছেন? অনুমান ও শব্দ প্রমাণ খণ্ডনে তাঁদের যুক্তিগুলি বিশ্লেষণ করো।
২. ন্যায় দর্শন: মহর্ষি গৌতম প্রদত্ত প্রত্যক্ষের লক্ষণটি ব্যাখ্যা করো। এই লক্ষণের অন্তর্গত পদগুলির (অব্যপদেশ্য, অব্যভিচারী, ব্যবসায়াত্মক) সার্থকতা বিচার করো। (ভেরি ভেরি ইম্পর্ট্যান্ট)
৩. বৈশেষিক দর্শন: অভাব পদার্থ কাকে বলে? অভাবের বিভিন্ন প্রকারভেদগুলি (সংসর্গাভাব ও অন্যোন্যাভাব) উদাহরণসহ বিস্তারিত আলোচনা করো।
৪. অদ্বৈত বেদান্ত: অদ্বৈত বেদান্ত মতে ব্রহ্মের স্বরূপ আলোচনা করো। 'সগুণ ব্রহ্ম' ও 'নির্গুণ ব্রহ্ম'-এর মধ্যে পার্থক্য বুঝিয়ে লেখো।
৫. ন্যায় দর্শন: পরার্থানুমান কাকে বলে? পরার্থানুমানের পাঁচটি অবয়ব (পঞ্চাবয়বী ন্যায়) উদাহরণসহ ব্যাখ্যা করো।
বিভাগ খ: ৫ নম্বরের মাঝারি প্রশ্ন (যেকোনো ৪টি বা ৫টি করতে হয়)
১. চার্বাক 'দেহাত্মবাদ' বা 'ভূতচৈতন্যবাদ' সংক্ষেপে আলোচনা করো।
২. লৌকিক ও অলৌকিক সন্নিকর্ষের মধ্যে পার্থক্যগুলি কী কী?
৩. বৈশেষিক মতে 'সামান্য' পদার্থের লক্ষণ ও স্বরূপ ব্যাখ্যা করো।
৪. অদ্বৈত বেদান্তের 'বিবর্তবাদ' ও 'পরিণামবাদ'-এর মধ্যে পার্থক্য লেখো।
৫. ব্যাপ্তি বলতে কী বোঝায়? ব্যাপ্তিগ্রহের উপায়গুলি সংক্ষেপে উল্লেখ করো।
৬. মায়াকে কেন 'অনির্বচনীয়' বলা হয়? মায়ার দুটি শক্তি আলোচনা করো।
৭. বৈশেষিক মতে 'সমবায়' ও 'সংযোগ' সম্বন্ধের মধ্যে পার্থক্য করো।
বিভাগ গ: ২ নম্বরের অতি সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন (সব কটি অধ্যায় থেকে)
১. চার্বাক মতে পরম পুরুষার্থ কোনটি?
২. চার্বাকরা কেন আকাশকে (Ether) স্বীকার করেন না?
৩. সন্নিকর্ষ কাকে বলে?
৪. 'ব্যাপ্তি' শব্দের অর্থ কী?
৫. বৈশেষিক মতে কর্ম কয় প্রকার ও কী কী?
৬. 'বিশেষ' পদার্থ কাকে বলে?
৭. 'অহং ব্রহ্মাস্মি'—এই মহাবাক্যটির তাৎপর্য কী?
৮. জীব ও ব্রহ্মের সম্পর্ক বিষয়ে অদ্বৈত বেদান্তের মত কী?
৯. প্রত্যক্ষের ক্ষেত্রে লৌকিক সন্নিকর্ষ কয় প্রকার?
১০. অন্যোন্যাভাবের একটি উদাহরণ দাও।
পরীক্ষায় ভালো নম্বর পাওয়ার কিছু কৌশল:
* পয়েন্ট করে উত্তর: দর্শনশাস্ত্রে ঢালাও না লিখে পয়েন্ট করে উত্তর লিখলে নম্বর বেশি পাওয়া যায়। বিশেষ করে বড় প্রশ্নের ক্ষেত্রে উপ-শিরোনাম ব্যবহার করুন।
* উদ্ধৃতি (Quotes): উত্তরপত্রের মধ্যে মূল সংস্কৃত সূত্র বা শ্লোক (যেমন: চার্বাকদের "যাবজ্জীবেৎ সুখং জীবেৎ...") উদ্ধৃত করলে উত্তরের মান বাড়ে।
* পার্থক্য নিরূপণ: ৫ নম্বরের পার্থক্যের প্রশ্নগুলোতে একটি ছক বা টেবিল ব্যবহার করা বুদ্ধিমানের কাজ।
* উদাহরণ: ন্যায় বা বৈশেষিক দর্শনের উত্তরের ক্ষেত্রে পর্যাপ্ত উদাহরণ (যেমন: ঘট-পটের উদাহরণ) দিন।
আপনার ছাত্রদের জন্য কি এর মধ্যে কোনো একটি নির্দিষ্ট টপিকের (যেমন: প্রত্যক্ষের লক্ষণ বা মায়াবাদ) সহজ ও গোছানো নোট দরকার? আমি সেটি লিখে দিতে পারি।
Comments
Post a Comment