Skip to main content

 ভূগোল বা ভূতত্ত্বের ভাষায় ইয়ারদাঙ (Yardang) হলো মরুভূমি অঞ্চলে বায়ুর ক্ষয়কার্যের ফলে সৃষ্ট এক বিশেষ ধরনের ভূমিরূপ।

সহজ কথায়, মরুভূমিতে কঠিন ও কোমল শিলাস্তর যদি একে অপরের সঙ্গে সমান্তরালভাবে বা লম্বালম্বিভাবে অবস্থান করে, তবে বায়ুর ঘর্ষণজনিত ক্ষয়ের (Abrasion) ফলে এই ভূমিরূপ তৈরি হয়।

১. সৃষ্টির প্রক্রিয়া

যখন মরুভূমির ওপর দিয়ে প্রবল বেগে বাতাস বয়ে যায়, তখন বাতাসের সাথে থাকা বালুকণা কোমল শিলাকে দ্রুত ক্ষয় করে দেয়। কিন্তু কঠিন শিলাগুলো সহজে ক্ষয় হয় না। ফলে কোমল শিলাস্তর ক্ষয় হয়ে সরু গর্ত বা খাতের মতো তৈরি হয় এবং কঠিন শিলাস্তরগুলো খাড়াভাবে দাঁড়িয়ে থাকে। এই সমান্তরাল শৈলশিরাগুলোকেই ইয়ারদাঙ বলা হয়।

২. প্রধান বৈশিষ্ট্যসমূহ

 * আকৃতি: এগুলো দেখতে অনেকটা উল্টানো নৌকার খোলের মতো হয়।

 * উচ্চতা: এদের উচ্চতা সাধারণত ৫ মিটার থেকে ১৫ মিটার পর্যন্ত হতে পারে।

 * বিচ্ছেদ: দুটি ইয়ারদাঙের মাঝখানের যে নিচু অংশ বা করিডোর থাকে, তাকে অনেক সময় 'গ্রোভ' বলা হয়।

 * অবস্থান: এগুলি বায়ুপ্রবাহের সমান্তরালে অবস্থান করে।

জিউগেন (Zeugen) ও ইয়ারদাঙের পার্থক্য

অনেকে জিউগেন ও ইয়ারদাঙকে গুলিয়ে ফেলেন। এদের মূল পার্থক্যটি নিচে দেওয়া হলো:

| বৈশিষ্ট্য | জিউগেন (Zeugen) | ইয়ারদাঙ (Yardang) |

|---|---|---|

| শিলার বিন্যাস | শিলাস্তর অনুভূমিকভাবে (Horizontal) থাকে। | শিলাস্তর উলম্বভাবে বা খাড়াভাবে (Vertical) থাকে। |

| আকৃতি | দেখতে টেবিল বা টুপির মতো হয়। | দেখতে উল্টানো নৌকার মতো হয়। |

| ক্ষয় | ওপরে কঠিন শিলা ও নিচে কোমল শিলা থাকে। | পাশাপাশি কঠিন ও কোমল শিলা থাকে। |

একটি মজার তথ্য: মধ্য এশিয়ার তুর্কি ভাষায় 'ইয়ারদাঙ' শব্দের অর্থ হলো 'খাড়া পাড়'। বিখ্যাত পর্যটক সুইন হেডিন ১৯০৩ সালে মধ্য এশিয়ার মরুভূমিতে এই ভূমিরূপ দেখে প্রথম এর নামকরণ করেছিলেন।

আপনি কি বায়ুর ক্ষয়কার্যের ফলে সৃষ্ট অন্য কোনো ভূমিরূপ (যেমন: মাশরুম রক বা ইনসেলবার্জ) সম্পর্কে জানতে চান?


Comments

Popular posts from this blog

দর্শন প্রথম সেমিস্টার সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন উত্তর।

দর্শন প্রথম সেমিস্টার সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর (পশ্চিমবঙ্গ রাষ্ট্রীয় বিশ্ববিদ্যালয়, মাইনর সিলেবাস)  ১)চার্বাক মতে ভূত কয়টি ও কি কি? উত্তরঃচার্বাক মতে ভূত চারটি- ক্ষিতি, অপ্ , তেজ ও মরুৎ ২) স্বভাববাদ কী? উত্তরঃ চার্বাক জড়বাদের ভিত্তি হল স্বভাববাদ। যে মতবাদ অনুসারে স্বভাব থেকেই ভূত সৃষ্টি, আবার স্বভাব থেকেই বিচ্ছেদ। যার জন্য ঈশ্বরকে স্বীকার করা প্রয়োজন নেই। ৩) অব্যাপ্যদেশ কথাটির অর্থ লেখো। উত্তরঃ অব্যাপ্যদেশ বলতে বোঝায়- অশাব্দ অর্থাৎ যাকে শব্দের দ্বারা প্রকাশ করা যায় না। ৫) জ্ঞান লক্ষণ প্রত্যক্ষ কাকে বলে?  কোন একটি ইন্দ্রিয়ের মাধ্যমে তার নিজের বিষয়ীভূত গুণ ছাড়াও যদি অপর একটি ইন্দ্রিয়ের বিষয়ীভূত গুণকে প্রত্যক্ষ করার হয়, তাহলে সেই প্রত্যক্ষকে জ্ঞানলক্ষণ প্রত্যক্ষ বলা হয়। ৬) ন্যায় মতে প্রমাণের প্রকার  উত্তরঃ ন্যায় মতে প্রমাণ চার প্রকার। প্রত্যক্ষ, অনুমান, উপমান এবং শাব্দ। ৭) সন্নিকর্ষ কাকে বলে? উত্তরঃ ন্যায় মতে ইন্দ্রিয় ও কোন বাস্তব পদার্থের মধ্যে একপ্রকার বিশেষ সম্পর্ক ঘটলে তবেই আমাদের একটি বস্তুর প্রত্যক্ষজ্ঞান ।আর ঐ বিশেষ বিশেষ সম্পর্কের পারিভাষিক নাম হলো সন...

ইতিহাস (3rd Semester) সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর।

 তৃতীয় সেমিস্টার ইতিহাস মাইনর সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর (পশ্চিমবঙ্গ রাষ্ট্রীয় বিশ্ববিদ্যালয়, তৃতীয় সেমিস্টার ইতিহাস মাইনর)। ১)বন্দেগান-ই-চাহালগানি বলতে কী বোঝায়? •উত্তরঃবন্দেগান-ই-চাহালগান বলতে চল্লিশ জন তুর্কি ও অ-তুর্কি দাসদের সমন্বয়ে গঠিত একটি বাহিনীকে বোঝায়। এই বাহিনীকে ডাল চালিশা বা তুরকান-ই- চাহালগানি নামে ডাকা হতো। ২)আমির খসরু কে ছিলেন? •উত্তরঃ আমির খসরু ছিলেন প্রখ্যাত সুফি সাধক বা আরেফ নিজামউদ্দিন আওলিয়ার ছাত্র এবং অন্যতম প্রধান খলিফা। যাঁকে 'ভারতের তোতা' উপাধি দেওয়া হয়েছিল। ৩) মহরানা প্রতাপ কে ছিলেন?  •উত্তরঃ মেবারের শিশোদিয়া রাজবংশের একজন হিন্দু রাজপুত রাজা ছিলেন মহারানা প্রতাপ সিং। যিনি রাজপুতদের বীরত্ব ও দৃঢ় সংকল্পের প্রতীক। বহু বছর ধরে তিনি মুঘল সম্রাট আকবরের সঙ্গে লড়াই করেন। ৪) জায়গীরদারী সংকট কী? •উত্তরঃ জায়গিরদারী সংকট ছিল মোগল সাম্রাজ্যের একটি অর্থনৈতিক সংকট। এই সংকটে জমি বা জায়গিরের অভাব দেখা দিয়েছিল। যার ফলে প্রশাসনিক খরচ মেটানো এবং যুদ্ধের খরচ বহন করা সম্ভব হতো না। ৫) দাক্ষিণাত্য ক্ষত কী? •উত্তরঃ দাক্ষিণাত্য ক্ষত বলতে ঔরঙ্গজেবের দাক্ষিণাত্য নীত...

ব্রিটিশ(3rd.Sem) পার্লামেন্টের সার্বভৌমত্ব

ব্রিটিশ পার্লামেন্টের সার্বভৌমত্ব আলোচনা করো (পশ্চিমবঙ্গ রাষ্ট্রীয় বিশ্ববিদ্যালয়, তৃতীয় সেমিস্টার, রাষ্ট্রবিজ্ঞান মাইনর সিলেবাস)।         আমরা জানি যে,ব্রিটেনের সংবিধান অলিখিত বলে বিভিন্ন ঐতিহাসিক দলিল, শাসনতান্ত্রিক রীতিনীতি, পার্লামেন্ট প্রণীত আইন প্রভৃতির মাধ্যমে পার্লামেন্টের সার্বভৌমত্ব অর্জিত হয়েছে। ব্রিটেনের পার্লামেন্ট আইনানুগ সার্বভৌমত্ব অর্জন করেছে, রাজনৈতিক সার্বভৌমত্ব নয়। আর সেখানে ব্রিটিশ পার্লামেন্টকে আইনানুগ সার্বভৌমত্ব বলা হয়, কারণ-       যেকোনো বিষয়ে পার্লামেন্ট আইন প্রণনয়নের অধিকারী। তবে ব্রিটিশ পার্লামেন্ট এককেন্দ্রিক রাষ্ট্র হওয়ায় পার্লামেন্টে কোন আইন প্রণয়নের সময় প্রতিদ্বন্দ্বিতা হয় না। আসলে সেখানে কমন্সসভা তথা নিম্নকক্ষের সার্বভৌমত্বকেই বলা হয় পার্লামেন্টের সার্বভৌমত্ব।     ••ব্রিটিশ পার্লামেন্টকে সার্বভৌমত্ব বলার কারণ- ১) পার্লামেন্টের ওপর আইনগত কোনরূপ বাধানিষেধ আরোপ করা যায় না। ২) পার্লামেন্ট প্রণীত আইনের বৈধতার ব্যাপারে আদালত কোন প্রশ্ন তুলতে পারেনা। ব্রিটেনের আদালত পার্লামেন্ট প্রণীত আইনের ওপর বিচার বি...