Skip to main content

যাহা নাই ভারতে তাহা নাই ভারতে"-এটি বাংলা ব্যাকরণের কোন অলংকার?

 ১) "যাহা নাই ভারতে তাহা নাই ভারতে"-এটি বাংলা ব্যাকরণের কোন অলংকার?

     যখন কোনো বস্তুর তুলনা করার মতো দ্বিতীয় কোনো বস্তু খুঁজে পাওয়া যায় না, এবং সেই কারণে উপমেয়ের তুলনা উপমেয় নিজেই হয় (অর্থাৎ নিজের তুলনা নিজের সাথেই করা হয়), তখন তাকে অনন্বয় অলংকার বলে।

     এখানে প্রথম 'ভারত' শব্দটির অর্থ মহাভারত' গ্রন্থ এবং দ্বিতীয় 'ভারত' শব্দটির অর্থ 'ভারতবর্ষ'দেশ। বাক্যটির অন্তর্নিহিত অর্থ হলো: মহাভারতে যা নেই, তা পুরো ভারতবর্ষেও (বা পৃথিবীতে) কোথাও নেই।

যেহেতু মহাভারতের বিশালতা ও গভীরতার তুলনা অন্য কিছুর সাথে দেওয়া সম্ভব নয়, তাই তার তুলনা মহাভারত নিজেই।সহজ কথায়-

       কোনো কিছুর তুলনা যখন অন্য কিছুর সাথে না দিয়ে নিজের সাথেই দেওয়া হয়, তখন তা অনন্বয় অলংকার। এর আরেকটি বিখ্যাত উদাহরণ হলো: "গগন সদৃশ গগন, সাগর সদৃশ সাগর।"

২) "পূজা শেষে মেয়েটি বললো ঠাকুর আমাকে একটু ভালো বর দিয়ো"—এটি বাংলা ব্যাকরণের শব্দালংকার-এর অন্তর্গত শ্লেষ অলংকার-এর একটি উদাহরণ।

      যখন কোনো বাক্যে একটি শব্দ মাত্র একবার ব্যবহৃত হয়ে একাধিক অর্থ প্রকাশ করে এবং তার ফলে কাব্যের সৌন্দর্য বৃদ্ধি পায়, তখন তাকে শ্লেষ অলংকার বলে।

এই বাক্যে 'বর'শব্দটির মধ্যে দুটি ভিন্ন অর্থ লুকিয়ে আছে:

 1.প্রথম অর্থ (আশীর্বাদ): মেয়েটি ঠাকুরের কাছে কোনো ভালো আশীর্বাদ বা বর প্রার্থনা করছে।

 2. দ্বিতীয় অর্থ (স্বামী/জামাই): মেয়েটি ঈশ্বরের কাছে একজন ভালো জীবনসঙ্গী বা স্বামী প্রার্থনা করছে।

যেহেতু 'বর' শব্দটি একবার বসেই দুটি ভিন্ন ও চমৎকার অর্থ প্রকাশ করছে, তাই এটি একটি দ্ব্যর্থবোধক বাক্য এবং শ্লেষ অলংকার-এর (বিশেষভাবে বললে 'অভঙ্গ শ্লেষ') উদাহরণ।

৩) "আনিয়াছে তোর স্বামী বান্ধি নিজ গুণে"—এটি বাংলা ব্যাকরণের শব্দালংকার-এর অন্তর্গত শ্লেষ অলংকার-এর (বিশেষ করে অভঙ্গ শ্লেষ) একটি অত্যন্ত সুপরিচিত ও ক্লাসিক উদাহরণ।

      এটি কবি ভারতচন্দ্র রায়গুণাকরের অন্নদামঙ্গল কাব্যের অন্তর্গত 'হরিহোড় ও ভবানন্দ মিত্রের উপাখ্যান'-এর একটি বিখ্যাত লাইন। দেবী অন্নপূর্ণা যখন ছদ্মবেশে ভবানন্দের নৌকায় উঠেছিলেন, তখন তার পরিচয় দেওয়ার ছলে এই কথাটি বলেছিলেন।

         আমরা জানি, যখন কোনো বাক্যে একটি শব্দ মাত্র একবার ব্যবহৃত হয়ে দুই বা ততোধিক অর্থ প্রকাশ করে, তখন তাকে শ্লেষ অলংকার বলে।

এই লাইনে 'গুণে' শব্দটির মধ্যে দুটি সম্পূর্ণ ভিন্ন অর্থ লুকিয়ে আছে:

 প্রথম অর্থ (ধনুকের ছিলা/দড়ি) এখানে 'গুণ' মানে ধনুকের দড়ি। অর্থাৎ, "তোর স্বামী (শিব) নিজের ধনুকের ছিলা বা দড়ি দিয়ে বেঁধে আমাকে এখানে এনেছেন।" (এটি বাহ্যিক বা পৌরাণিক অর্থ)।

       দ্বিতীয় অর্থ (চরিত্রের গুণ বা মহিমা): এখানে 'গুণ' মানে গুণাবলী বা যোগ্যতা। অর্থাৎ, "তোর স্বামীর অসাধারণ গুণের (ভক্তি বা চরিত্রের মাধুর্য) কাছে বাঁধা পড়ে আমি নিজে এখানে এসেছি।"

যেহেতু 'গুণে' শব্দটিকে না ভেঙেই (অভঙ্গ রূপেই) দুটি চমৎকার অর্থ বের করা যাচ্ছে, তাই এটি শ্লেষ অলংকার।


রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের 'রাশিয়ার চিঠি'গ্রন্থের প্রথম পত্রটি রথীন্দ্রনাথ ঠাকুরকে (তাঁর পুত্র) উদ্দেশ্য করে লেখা হয়েছে।এই পত্রটি ১৯৩০ সালের ২০ সেপ্টেম্বর মস্কো থেকে লেখা হয়েছিল।




Comments