রাঢ়ী উপভাষা কি? রাঢ়ী উপভাষা প্রচলিত অঞ্চল গুলির নাম লেখো।এই উপভাষার রূপতাত্ত্বিক এবং ধ্বনিতাত্ত্বিক বৈশিষ্ট্য গুলি আলোচনা করো
রাঢ়ী উপভাষা কি? রাঢ়ী উপভাষা প্রচলিত অঞ্চল গুলির নাম লেখো।এই উপভাষার রূপতাত্ত্বিক এবং ধ্বনিতাত্ত্বিক বৈশিষ্ট্য গুলি আলোচনা করো (পশ্চিমবঙ্গ রাষ্ট্র বিশ্ববিদ্যালয় চতুর্থ সেমিস্টার বাংলা মেজর
রাঢ়ী উপভাষাঃপশ্চিমবঙ্গের মধ্য-ভাগ বা প্রাচীন রাঢ় অঞ্চলের উপভাষাই হলো রাঢ়ী উপভাষা। এই উপভাষার মার্জিত রূপটিই বর্তমানে আমাদের 'মান্য চলিত বাংলা' হিসেবে স্বীকৃত।প্রাচীন ‘রাঢ়’ অঞ্চল (অধুনা পশ্চিমবঙ্গের দক্ষিণ-পশ্চিম অংশ) থেকে এই উপভাষার নামকরণ হয়েছে।আর সেখানে-
•প্রচলিত অঞ্চলএই উপভাষাটি মূলত পশ্চিমবঙ্গের নিম্নলিখিত জেলাগুলিতে প্রচলিত। প্রচলিত সেই অঞ্চল গুলি হল-কলকাতা, উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগণা।•হাওড়া, হুগলি, নদিয়া ও মুর্শিদাবাদ।•পূর্ব বর্ধমান এবং বাঁকুড়া ও বীরভূম জেলার পূর্বাংশ।
•রাঢ়ী উপভাষার সীমা নির্ধারণ•রাঢ়ী উপভাষার চতুর্দিকের সীমানা বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়-
উত্তরেঃবরেন্দ্রী উপভাষার সীমানা (মালদহ ও দক্ষিণ দিনাজপুরের কিছু অংশ)।
দক্ষিণেঃবঙ্গোপসাগর এবং উড়িষ্যা সংলগ্ন মেদিনীপুরের কিছু অংশ (যেখানে ঝাড়খণ্ডী ও রাঢ়ীর মিশ্রণ লক্ষ্য করা যায়)।
পূর্বেঃবঙ্গীয় বা বঙ্গ উপভাষার সীমানা (বাংলাদেশ সীমান্ত)।
পশ্চিমেঃঝাড়খণ্ডী উপভাষার সীমানা (পুরুলিয়া, পশ্চিম মেদিনীপুর এবং বীরভূম-বাঁকুড়ার পশ্চিমাংশ)।
ক)ধ্বনিতাত্ত্বিক বৈশিষ্ট্যঃরাঢ়ী উপভাষার প্রধান ধ্বনিতাত্ত্বিক বৈশিষ্ট্যগুলি উদাহরণসহ নিচে দেওয়া হলো-
১) অভিশ্রুতিঃ রাঢ়ী উপভাষার সবচেয়ে প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো অভিশ্রুতি। অপিনিহিতি জাত 'ই' বা 'উ' কার পার্শ্ববর্তী স্বরধ্বনির সঙ্গে মিশে গিয়ে যে পরিবর্তন ঘটায়, তাকে অভিশ্রুতি বলে।
•উদাহরণ: করিয়া > কইর্যা > করে; রাখিয়া > রাইখ্যা > রেখে।
২) স্বরসংগতিঃশব্দের মধ্যে একটি স্বরধ্বনির প্রভাবে অন্য স্বরধ্বনির পরিবর্তন ঘটে।
• উদাহরণ: দেশি > দিশি; বিলাতি > বিলেতি; মুড়া > মুড়ো।
৩)অনুনাসিকতা: এই উপভাষায় শব্দের শুরুতে বা মধ্যে নাসিক্য ব্যঞ্জনের লোপ ঘটলে পূর্ববর্তী স্বরধ্বনি অনুনাসিক হয়ে যায়।
•উদাহরণ: চন্দ্র > চাঁদ; বংশ > বাঁশ।
৪) অ-কার ও ও-কারের রূপান্তরঃশব্দের আদিতে অবস্থিত 'অ' অনেক সময় 'ও'-তে রূপান্তরিত হয়।
•উদাহরণ: মন > মোন; জল > জোল (উচ্চারণে)।
খ)রূপতাত্ত্বিক বৈশিষ্ট্য-
১)কর্তৃকারকের বিভক্তি: রাঢ়ী উপভাষায় কর্তৃকারকে সাধারণত 'এ' বিভক্তি এবং বহুবচনে 'রা', 'এরা', 'গুলি', 'গুলা' ব্যবহৃত হয়।
•উদাহরণ: রাম ভাত খায়। ছেলেরা মাঠে খেলছে।
২)অসমাপিকা ক্রিয়াঃ অসমাপিকা ক্রিয়ায় 'লে', 'এ', 'তে' বিভক্তির প্রয়োগ দেখা যায়।
• উদাহরণ: সে খেলে যাবে। কাজটা করে নাও।
৩) ক্রিয়ার কাল (অতীত ও ভবিষ্যৎ): উত্তম পুরুষের অতীত কালে 'লাম' এবং ভবিষ্যৎ কালে 'ব' বিভক্তি যুক্ত হয়।
•উদাহরণ: আমি ভাত খেলাম (অতীত)। আমি কলকাতা যাব (ভবিষ্যৎ)।
৪)গৌণ কর্মে বিভক্তিঃকর্ম কারকে সাধারণত 'কে' বা 'রে' বিভক্তি যুক্ত হয়।
•উদাহরণ: আমাকে বইটা দাও।
ঠিক এরূপ অসংখ্য বিষয়ভিত্তিক আলোচনা ব্যাখ্যা সাজেশন পেতে ভিজিট করুন আমাদের ওয়েবসাইট এবং SHESHER KABITA SUNDARBON YouTube channel SAMARESH sir
Comments
Post a Comment