সমন্বয় কাকে বলে? সমন্বয়ের প্রয়োজনীয়তা আলোচনা কর পশ্চিমবঙ্গ রাষ্ট্র বিশ্ববিদ্যালয় ষষ্ঠ সেমিস্টার এডুকেশন মাইনর
সমন্বয়ঃসাধারণ অর্থে, কোনো নির্দিষ্ট লক্ষ্য অর্জনের জন্য একটি প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন বিভাগ, ব্যক্তি এবং তাদের কাজের মধ্যে ঐক্য ও সামঞ্জস্য বিধান করার প্রক্রিয়াকেই সমন্বয় বলা হয়।তবে-
শিক্ষা প্রশাসনের পরিভাষায়, বিদ্যালয়ের লক্ষ্য পূরণের জন্য শিক্ষক, শিক্ষাকর্মী, শিক্ষার্থী এবং উপকরণের মধ্যে যে সুশৃঙ্খল সংযোগ স্থাপন করা হয়, তাকেই শিক্ষামূলক সমন্বয় বলে। মুনিও রেইলির মতে-"সমন্বয় হলো সাধারণ লক্ষ্য অর্জনের জন্য সম্মিলিত প্রচেষ্টার সুশৃঙ্খল বিন্যাস।"
•সমন্বয়ের প্রয়োজনীয়তা
শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সুষ্ঠু পরিচালনা এবং গুণগত মান উন্নয়নের জন্য সমন্বয়ের গুরুত্ব অপরিসীম। আর সেখানে এর প্রয়োজনীয়তাগুলো হলো-
•লক্ষ্যের ঐক্য নিশ্চিতকরণঃএকটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে বিভিন্ন বিষয়ের শিক্ষক এবং অশিক্ষক কর্মচারী থাকেন। সমন্বয় না থাকলে প্রত্যেকের প্রচেষ্টা ভিন্ন দিকে চালিত হতে পারে। সমন্বয়ের মাধ্যমে সকলের কাজকে একটি নির্দিষ্ট লক্ষ্যের (শিক্ষার্থীদের উন্নয়ন) দিকে পরিচালিত করা হয়।
•কাজের পুনরাবৃত্তি রোধঃসমন্বয় থাকলে কোন ব্যক্তি কোন কাজটি করবেন তা সুনির্দিষ্ট থাকে। এর ফলে একই কাজ বারবার হওয়ার সম্ভাবনা থাকে না, যা সময় এবং শ্রম উভয়ই বাঁচায়।
•শৃঙ্খলা রক্ষাঃবিদ্যালয়ের পঠন-পাঠন, খেলাধুলা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান এবং প্রশাসনিক কাজের মধ্যে সঠিক সমন্বয় থাকলে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হয় না। এটি প্রতিষ্ঠানের একটি ইতিবাচক পরিবেশ বজায় রাখে।
•সংঘাত নিরসনঃএকটি প্রতিষ্ঠানে কাজ করতে গেলে বিভিন্ন স্তরের কর্মীদের মধ্যে মতবিরোধ দেখা দিতে পারে। সঠিক সমন্বয় ও সুষ্ঠু যোগাযোগ ব্যবস্থার মাধ্যমে এই অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব বা সংঘাত দ্রুত মিটিয়ে ফেলা সম্ভব হয়।
•উপকরণের সঠিক ব্যবহারঃশিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সীমিত সম্পদ (যেমন- লাইব্রেরি, ল্যাবরেটরি, খেলার মাঠ) যাতে অপচয় না হয়ে সর্বাধিক ব্যবহৃত হতে পারে, তার জন্য সমন্বয় একান্ত প্রয়োজন।
•দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণঃযখন প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন বিভাগের মধ্যে তথ্যের আদান-প্রদান বা সমন্বয় বজায় থাকে, তখন প্রধান শিক্ষক বা কর্তৃপক্ষ যে কোনো জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত ও সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে পারেন।
•দলগত চেতনার বিকাশঃসমন্বয় কর্মীদের মধ্যে 'আমি' নয় বরং 'আমরা'—এই বোধ জাগ্রত করে। এটি দলগত কাজের মানসিকতা তৈরি করে, যা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সামগ্রিক সাফল্যের চাবিকাঠি।
•সমন্বয়ের প্রধান মাধ্যমসমূহ•
ক)পরিকল্পনা: সেশন শুরুর আগেই বাৎসরিক ক্যালেন্ডার তৈরি করা।
খ)যোগাযোগ: নিয়মিত শিক্ষক-শিক্ষিকা সভা ও আলোচনা।
গ)তত্ত্বাবধান: প্রধান শিক্ষক কর্তৃক কাজের তদারকি।
ঘ)সহযোগিতা: একে অপরের কাজে সাহায্য করার মানসিকতা।
পরিশেষে বলা যায় যে, সমন্বয় হলো শিক্ষা প্রশাসনের হৃৎপিণ্ড। একটি বিদ্যালয়ের সমস্ত উপাদান (শিক্ষক, ছাত্র, পাঠ্যক্রম ও পরিবেশ) একটি মালার মতো গেঁথে রাখার কাজ করে এই সমন্বয়। এটি ছাড়া কোনো শিক্ষা প্রতিষ্ঠানই তার কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে পৌঁছাতে পারে না।
Comments
Post a Comment