Skip to main content

শিবতোষ মুখোপাধ্যায়ের 'কার দৌড় কদ্দুর'তথ্যমূলক বিজ্ঞানধর্মী প্রবন্ধের মূল বিষয়বস্তু আলোচনা করো। সপ্তম শ্রেণী, পশ্চিমবঙ্গ মধ্যশিক্ষা পর্ষদ।

আলোচনার শুরুতেই আমরা বলে রাখি যে, কার দৌড় কদ্দূর   গল্পের মূল কথা হলো-জীবজগতের গতির বৈচিত্র্য। লেখক এখানে দেখিয়েছেন যে, প্রতিটি প্রাণীর চলন বা দৌড়ানোর ক্ষমতা ভিন্ন ভিন্ন এবং এই গতির পেছনে সুনির্দিষ্ট বৈজ্ঞানিক কারণ রয়েছে। 

      লেখক শিবতোষ মুখোপাধ্যায় শুরুতেই জানিয়েছেন যে পৃথিবী ও মহাবিশ্বের সবকিছুই গতিশীল।এমনকি যে গাছকে আমরা স্থবির মনে করি, তার ভেতরেও রসের চলন বা গতির খেলা চলছে।

 * **এককোশী প্রাণীর গতি:** অ্যামিবা তার ক্ষণপদের সাহায্যে মন্থর গতিতে চলে। অন্যদিকে প্যারামিশিয়াম তার অসংখ্য চুলের মতো 'সিলিয়া' ব্যবহার করে জলের মধ্যে দ্রুত গতিতে এগোয়।

 * **স্থলচর প্রাণীর উদাহরণ:** লেখক মানুষের হাঁটা এবং দৌড়ানোর গতির সাথে ঘোড়া, চিতা বা ক্যাঙ্গারুর গতির তুলনা করেছেন। তিনি দেখিয়েছেন যে চিতা হলো স্থলভাগের অন্যতম দ্রুততম প্রাণী।

 * **গমন পদ্ধতির ভিন্নতা:** বিভিন্ন প্রাণী বিভিন্ন পদ্ধতিতে চলে। কেউ দু-পায়ে, কেউ চার-পায়ে, আবার কেউ ডানা মেলে আকাশে ওড়ে। ক্যাঙ্গারু যেমন তার লেজের সাহায্যে লাফিয়ে চলে, তেমনি পাখি তার শরীরের গঠন অনুযায়ী আকাশে ভেসে বেড়ায়।

 * **মানুষের 'মন'-এর দৌড়:** গল্পের শেষে লেখক এক অদ্ভুত সত্য তুলে ধরেছেন। বাহ্যিক দৌড় বা গতির বিচারে মানুষ হয়তো অনেক প্রাণীর কাছে হেরে যাবে, কিন্তু মানুষের মনের দৌড় বা বুদ্ধির দৌড় অসীম। মানুষ তার চিন্তা ও আবিষ্কারের মাধ্যমে আজ সবচেয়ে বেশি শক্তিশালী।

> **সারসংক্ষেপ:** প্রবন্ধটি আমাদের এই শিক্ষা দেয় যে, প্রাণীদের শারীরিক গঠন তাদের গতির ধরণ নির্ধারণ করে। লেখক অত্যন্ত সহজ ও সরস ভাষায় জীববিদ্যার এই কঠিন তথ্যকে সাধারণ পাঠকদের কাছে পৌঁছে দিয়েছেন।

আপনার কি এই গল্পের কোনো নির্দিষ্ট প্রশ্নের উত্তরের প্রয়োজন আছে?


Comments

Popular posts from this blog

একটি সার্থক গীতিকাব্যের পরিচয়।

  একটি সার্থক গীতিকাব্যের পরিচয়-সারদা মঙ্গল                •আলোচনার শুরুতেই আমরা বলে রাখি যে,বিহারীলাল চক্রবর্তী রচিত ' সারদা মঙ্গল' কাব্যকে বাংলা সাহিত্যের প্রথম সার্থক গীতিকাব্য হিসেবে গণ্য করা হয়। তবে উনিশ শতকে যখন বাংলা সাহিত্য মহাকাব্য ও আখ্যায়িকা কাব্যের ধারা থেকে সরে নতুন দিকে মোড় নিচ্ছিল, ঠিক সেই সময়ে 'সারদা মঙ্গল' কাব্যটি গীতিকাব্যের আঙিনায় এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করে। আর সে কারণেই হয়তো রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর এই কাব্যকে ' ভোরের পাখি ' বলে অভিহিত করেছিলেন। যেখানে সারদা মঙ্গল গীতিকাব্যটি বাংলা সাহিত্যের এই নতুন ধারার শুভ সূচনা করেছিল। আর এই প্রেক্ষিতে আমরা সারদা মঙ্গল কে গীতিকাব্য বলছি তার কারন-              • গীতিকাব্যের বৈশিষ্ট্যের নিরখে 'সারদা মঙ্গল' কাব্যের প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো এটি কবির ব্যক্তিগত অনুভূতির কাব্য। যে কাব্যটিতে কোনো নির্দিষ্ট গল্প বা কাহিনি নেই। তবে সেখানে আছে-কবি বিহারীলাল চক্রবর্তী নিজে দেবী সারদার (জ্ঞান ও বিদ্যার দেবী) প্রতি তাঁর ভক্তি ও ভালোবাসা প্রকাশ করেছেন। যে উক্তি ও ভালোবাসা ...

ষষ্ঠ সেমিস্টার বাংলা অনার্স (DSE3/4) সাজেশন ২০২৫

       West Bengal State University                                       BA Honours, 6th Semester                                         SUGGESTION 2025                                                      BNGA,DSE05T( DSE3/4)  • বাংলা কথাসাহিত্যঃ মন্বন্তর, দাঙ্গা ও দেশভাগ• একক-১(২০২১) ক) দেশভাগের ইতিহাসের বাস্তব রূপ বাংলা সাহিত্যে  কীভাবে প্রকাশ পেয়েছে কয়েকটি উপন্যাস অনুসরণে তার পরিচয় দাও। • ১৯৪৬ দাঙ্গা রাজনীতির ট্রাজেডি বাংলা ছোটগল্পের পরিসরে কিভাবে এসেছে, সংশ্লিষ্ট কয়েকটি রচনা অবলম্বনে আলোচনা করো। (২০২২) পঞ্চাশের মন্বন্তরের বাস্তব বর্ণনা করে বাংলা উপন্যাসে তার কতটা প্রতিফলন ঘটেছে, সে বিষয়ে আলোকপাত করো। •দেশভাগের ক...

ইতিহাস (3rd Semester) সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর।

 তৃতীয় সেমিস্টার ইতিহাস মাইনর সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর (পশ্চিমবঙ্গ রাষ্ট্রীয় বিশ্ববিদ্যালয়, তৃতীয় সেমিস্টার ইতিহাস মাইনর)। ১)বন্দেগান-ই-চাহালগানি বলতে কী বোঝায়? •উত্তরঃবন্দেগান-ই-চাহালগান বলতে চল্লিশ জন তুর্কি ও অ-তুর্কি দাসদের সমন্বয়ে গঠিত একটি বাহিনীকে বোঝায়। এই বাহিনীকে ডাল চালিশা বা তুরকান-ই- চাহালগানি নামে ডাকা হতো। ২)আমির খসরু কে ছিলেন? •উত্তরঃ আমির খসরু ছিলেন প্রখ্যাত সুফি সাধক বা আরেফ নিজামউদ্দিন আওলিয়ার ছাত্র এবং অন্যতম প্রধান খলিফা। যাঁকে 'ভারতের তোতা' উপাধি দেওয়া হয়েছিল। ৩) মহরানা প্রতাপ কে ছিলেন?  •উত্তরঃ মেবারের শিশোদিয়া রাজবংশের একজন হিন্দু রাজপুত রাজা ছিলেন মহারানা প্রতাপ সিং। যিনি রাজপুতদের বীরত্ব ও দৃঢ় সংকল্পের প্রতীক। বহু বছর ধরে তিনি মুঘল সম্রাট আকবরের সঙ্গে লড়াই করেন। ৪) জায়গীরদারী সংকট কী? •উত্তরঃ জায়গিরদারী সংকট ছিল মোগল সাম্রাজ্যের একটি অর্থনৈতিক সংকট। এই সংকটে জমি বা জায়গিরের অভাব দেখা দিয়েছিল। যার ফলে প্রশাসনিক খরচ মেটানো এবং যুদ্ধের খরচ বহন করা সম্ভব হতো না। ৫) দাক্ষিণাত্য ক্ষত কী? •উত্তরঃ দাক্ষিণাত্য ক্ষত বলতে ঔরঙ্গজেবের দাক্ষিণাত্য নীত...